Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-1| গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-1| গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-1| গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (Ass. MEDIUM)

SUBJECTSLink
EnglishClick Here
অসমীয়াClick Here
বাংলাClick Here
বিজ্ঞানClick Here
সমাজ বিজ্ঞানClick Here
हिंदी ( Elective )Click Here
ভূগোল (Elective)Click Here
বুৰঞ্জী (Elective)Click Here

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-1| গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-1| গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ ১

ক-বিভাগ পদ্যাংশ

কবির পরিচ্যামুরারি গুপ্ত : 

মুরারি গুপ্ত শ্রীহট্টের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বৈষ্ণব পণ্ডিত এবং লেখক। মুরারি গুপ্ত বাংলাদেশের সিলেটে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। পরবর্তীসময়ে মুরারি গুপ্ত নবদ্বীপে চলিয়া যান। মুরারি গুপ্ত নবদ্বীপকে চৈতন্যদেবের সঙ্গে গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে অধ্যয়ন করিতেন। যদিও চৈতন্য দেবের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। যৌবনের গোড়ার দিকে শ্রীগৌরাঙ্গ তাহার বয়োজ্যেষ্ঠ সহপাঠী বৈদ্যবংশীয় মুরারিকে প্রানাই পরিহাসে বিব্রত করিতেন। গৌরাঙ্গের বয়স তখন অনধিক ষোল বৎসর ছিল। বিদ্যাও পাণ্ডিত্যে মুরারি গুপ্ত নিমাই পণ্ডিতের সমকক্ষ ছিলেন। চৈতন্যদেব তাহাকে তর্কযুদ্ধে বড় একটা কাবু করিতে পারিতেন না। প্রথম জীবনে হয়তো মুরারি গুপ্ত অদ্বৈতপন্থী ছিলেন। পরে তিনি চৈতন্যপ্রভাবে ভক্তিপন্থা গ্রহণ করেন। মুরারি গুপ্ত ১৫১৩ সালে ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থটি মুরারি গুপ্তের ‘কড়চা’ নামে অধিকতর পরিচিত। চৈতন্য জীবনের প্রায় সমস্তটাই এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি চৈতন্য জীবনকাহিনীর আদিতম এবং আকর গ্রন্থ। মুরারি গুপ্ত পেশায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ছিলেন। মুরারি গুপ্ত মহাপ্রভুর অনুচর এবং তাঁহার নবদ্বীপ লীলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ১৬০০ সালে মুরারি গুপ্তের মহাপ্রয়াণ ঘটে। 

প্রশ্ন ১। ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ কবিতাটির সারাংশ লেখো।। 

উত্তর : কবি মুরারি গুপ্ত তাঁহার মানস পটে গ্রীগৌরাঙ্গের শিশুকালের চাঞ্চলা অংকণ করিয়া অতি সুন্দরভাবে তাহার অদ্ভুত এক বর্ণনা দিয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গ শচীমায়ের আঙিনায় ভুবনমোহন সাজে অনবরত হামাগুড়ি দিয়া বেড়াইতেছেন। গোরাচাঁদ অর্থাৎ গৌরাঙ্গের শরীর অত্যন্ত সুন্দর গৌড়বর্ণ, কাঁচা হলুদের মতো রং। বাড়ির আঙিনায় সে কখনো বা মায়ের হাতের আঙুল ধরিয়া, কখনও বা গুড়ি গুড়ি হাটিতে গিয়া আছাড় খাইয়া পড়িতেছেন। এই দৃশ্য দেখিয়া কবি অত্যন্ত মোহাবিষ্ট হইয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গের গলায় বাঘনখ দুলিতেছে এবং মুখের লালায় বুক ভাসিয়া যাইতেছে। তাঁহার চাঁদ মুখে যেন হাসির বিজুলি খেলিতেছে। ইহা দেখিয়া কবির অন্তর অতিশয় তৃপ্ততা লাভ করিয়াছে। শিশু গৌরাঙ্গের ধুলা মাখা অঙ্গ দেখিয়া মাতা শচী সহ্য করিতে না পারিয়া দ্রুত তাহাকে বুকের উপর তুলিয়া লইয়াছেন। ইহাতে শিশুটি অসন্তুষ্ট হইয়া কাঁদিয়া আকুল হইয়া কোল হইতে নামিয়া পুনরায় ভূমিতে গড়াগড়ি দিতেছে। মুগ্ধ কবি মুরারি গুপ্ত এই দৃশ্য দেখিয়া হাসিয়া উঠিয়াছেন এবং বলিয়াছেন যে গোরাচাঁদ কোন মতেই কোলে থাকিবার নহে, সে অবশ্যই একদিন গৃহত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসী হইয়া যাইবে এবং মায়ের কোল উজার করিবে।

প্রশ্ন ২। ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ অবলম্বনে শিশু গৌরাঙ্গের বাল্যলীলার বিবরণ দাও। 

উত্তর : ভক্ত কবি বৈষ্ণব পদকার মুরারি গুপ্ত গৌরাঙ্গের বাল্যলীলার কথা অতি সুন্দরভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। শচীদেবীর আঙিনায় শিশু গৌরাঙ্গ হামাগুড়ি দিতেছেন। সবে মাত্র শিশুটি হাটিতে শিখিয়াছে। এমতাবস্থায় শিশুর চাঞ্চল্য মায়ের বিশেষভাবে উৎকণ্ঠার কারণ হইয়াছে। শিশুটি মাতা শচীরাণীর হাত ধরিয়া গুরি গুরি হাটিতে গিয়া আছাড় খাইয়া পড়িয়া গিয়াছে ইহাতে স্নেহকাতর মায়ের মন অস্থির হইয়াছে। তিনি পড়িয়া যাওয়া শিশুটিকে অতি দ্রুত নিজের কোলে বুকের কাছে তুলিয়া লইয়াছেন। আদরে আদরে তাঁহার চিরন্তনী মায়ের স্নেহ ক্ষুধা শিশুটিকে ভরিয়া দিয়াছে। শিশুটির মুখের লালায় বুক ভাসিয়া যায়, গলায় বাঘনখ দোলে। তাঁহার চাঁদমুখের হাসিতে যেন বিদ্যুৎ চমকায়। ধুলামাখা অঙ্গ দেখিয়া মায়ের অস্তর সহ্য করিতে পারে না। তৎক্ষণাৎ মাতা শিশুসন্তানটি কোলে তুলিয়া বুকের মাঝে স্থান দেন। শিশুটি এই আদরে সন্তুষ্ট না হইয়া কাঁদিয়া আকুল হয়। পড়ে শিশুটি মায়ের কোল হইতে নামিয়া পুনরায় ভূমিতে পড়িয়া গড়াগড়ি দিতে থাকে। কবি জানেন যে এ ছেলে কোলের ছেলে নহে। তাহার জীবনে সন্ন্যাস যোগ আছে। সে সন্ন্যাস লইয়া কৃষ্ণপ্রেমের প্রবল আবেগের স্রোতে সকলকে ভাসাইবেন।

প্রশ্ন ৩। ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ কবিতাটির সার-সংক্ষেপ লিখ। 

উত্তর : কবি মুরারি গুপ্ত তাঁহার মানস পটে গ্রীগৌরাঙ্গের শিশুকালের চাঞ্চলা অংকণ করিয়া অতি সুন্দরভাবে তাহার অদ্ভুত এক বর্ণনা দিয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গ শচীমায়ের আঙিনায় ভুবনমোহন সাজে অনবরত হামাগুড়ি দিয়া বেড়াইতেছেন। গোরাচাঁদ অর্থাৎ গৌরাঙ্গের শরীর অত্যন্ত সুন্দর গৌড়বর্ণ, কাঁচা হলুদের মতো রং। বাড়ির আঙিনায় সে কখনো বা মায়ের হাতের আঙুল ধরিয়া, কখনও বা গুড়ি গুড়ি হাটিতে গিয়া আছাড় খাইয়া পড়িতেছেন। এই দৃশ্য দেখিয়া কবি অত্যন্ত মোহাবিষ্ট হইয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গের গলায় বাঘনখ দুলিতেছে এবং মুখের লালায় বুক ভাসিয়া যাইতেছে। তাঁহার চাঁদ মুখে যেন হাসির বিজুলি খেলিতেছে। ইহা দেখিয়া কবির অন্তর অতিশয় তৃপ্ততা লাভ করিয়াছে। শিশু গৌরাঙ্গের ধুলা মাখা অঙ্গ দেখিয়া মাতা শচী সহ্য করিতে না পারিয়া দ্রুত তাহাকে বুকের উপর তুলিয়া লইয়াছেন। ইহাতে শিশুটি অসন্তুষ্ট হইয়া কাঁদিয়া আকুল হইয়া কোল হইতে নামিয়া পুনরায় ভূমিতে গড়াগড়ি দিতেছে। মুগ্ধ কবি মুরারি গুপ্ত এই দৃশ্য দেখিয়া হাসিয়া উঠিয়াছেন এবং বলিয়াছেন যে গোরাচাঁদ কোন মতেই কোলে থাকিবার নহে, সে অবশ্যই একদিন গৃহত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসী হইয়া যাইবে এবং মায়ের কোল উজার করিবে।

 প্রশ্ন ৪। শব্দার্থ লেখো : 

লাল – মুখ হইতে নিঃসৃত লালা।

গৌরহরি– শ্রীগৌরাঙ্গ।

সন্ন্যাসী — গৃহত্যাগী। 

গোরা—গৌর বর্ণ রূপ।

ভূমে– ভূমিতে, মাটিতে।

পুন— পুনরায়। 

রামনাথ— বাঘের নখ।

ক্ষণে– সময়ে সময়ে।

হামাগুড়ি— হাটু এবং হাতের কনুইর সাহায্যে চলা। 

আশ্বিনা– উঠান। 

শচী— শচীমাতা নিমাইর মা।

মুরাবি— কবি মুরারি গুপ্ত। – 

গোরাচাঁদ — শ্রীগৌরাঙ্গ। 

বিজুলি– ক্ষণপ্রভা, বিদ্যুৎ। 

দোলে— ঝোলে।

গোৱা— গৌড়বর্ণ, ফর্সা।

 অঙ্গুলি—হাতের আঙুল।

 প্রশ্ন ৫। টীকা লেখো :

(ক) শ্রীচৈতন্যদেব অথবা গৌরাঙ্গ :গৌর অঙ্গ যাহার। গৌরাঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জিলার নদ্বীপে ১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার পিতার নাম ছিল জগন্নাথ মিশ্র এবং মাতার নাম ছিল শচীদেবী। গৌরাঙ্গের পূর্বপুরুষ শ্রীহট্ট হইতে নবদ্বীপে আসিয়াছিলেন। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের আসল নাম ছিল বিশ্বম্ভর। ছেলেবেলায় তাঁহাকে ‘নিমাই’ বলিয়া ডাকা হইত। তিনি ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারক। তিনি চৈতন্যদের নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণ-ভক্ত ধর্মের প্রবক্তা।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তাঁহারই। তিনি ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মহাপ্রয়াণ করেন। বঙ্গসাহিত্যে তাহাকে লইয়া চৈতন্য যুগ’ সৃষ্টি হইয়াছে। তাঁহার ধর্মের মূল কথা হইল ভক্তিবাদ। পরিণত বয়সে তিনি গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী ছিলেন। 

(খ) শচী দেবী : শ্রীগৌরাঙ্গের মমতাময়ী মাতা ছিলেন তিনি। তাহার স্বামীর নাম ছিল। জগন্নাথ মিশ্র। প্রথম জীবনে ইহারা শ্রীহট্ট জিলার অধিবাসী ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁহারা শ্রীহট্টের বাড়ি ত্যাগ করিয়া নবদ্বীপে চলিয়া আসেন। নিমাই ছিলেন শচী মাতার কনিষ্ঠ সন্তান। শচীদেবীর পিতার নাম ছিল নীলাম্বর চক্রবর্তী। ইতি ছিলেন নৈষ্ঠিক ব্রাহ্মণ। শচীদেবীর প্রথম সন্তানের নাম ছিল বিশ্বরূপ। শচীদেবীর কয়েকটি সন্তান জন্ম হয়েছিল। শুধু নিমাই ছাড়া আর সকল সন্তানই জন্মের পরেই মারা গিয়াছিল।

 প্রশ্ন ৬। সঠিক উত্তর নির্বাচন করো :

(ক) গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা পদটি কার রচনা ? 

(১) গোবিন্দ দাস 

(২) বলরাম দাস দোলে— 

(৩) চণ্ডীদাস 

(৪) মুরারি গুপ্ত

উত্তর : মুরারি গুপ্ত। 

(খ) গৌরাঙ্গের গলে দোলে—

(১) বাঘনখ (২) সিংহের নখ (৩) কুকুরের দাত (৪) ময়ুরের পাখা

উত্তর : বাঘনখ।

(গ) গোরাচাঁদ কার নাম—

(১) শচীর (২) শ্রীকৃষ্ণের (৩) মুরারি গুপ্তের (৪) শ্রীচৈতন্যের 

উত্তর : শ্রীচৈতন্যের।

(ঘ) গৌরাঙ্গের মায়ের নাম—

(১) সারদা (২) বিনোদ (৩) শচী (৪) রাধা 

উত্তর : শচী। 

প্রশ্ন ৭। প্রশ্নগুলির অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।

 (ক) শ্রীচৈতন্যের পিতার নাম কি? 

উত্তর : জগন্নাথ মিশ্র।

(খ) শ্রীচৈতন্যের মাতার নাম কি?

উত্তর : শচী দেবী। 

(গ) শ্রীচৈতন্যের জন্ম কোথায় কখন হইয়াছিল ? 

উত্তর : নবদ্বীপে, ১৪৮৬ সালে। 

(ঘ) শ্রীচৈতন্যের প্রকৃত নাম কি ছিল?

 উত্তর : বিশ্বস্তর।

(ঙ) শ্রীচৈতন্যের অন্য একটি নাম বলো।

উত্তর : গৌরাঙ্গ। 

৮। প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) শ্রীচৈতন্যকে গোরাচাঁদ কেন বলা হয় ? 

উত্তর : শ্রীচৈতন্যের শিশুকালের নাম ছিল গৌরাঙ্গ। তাহার ডাক নাম ছিল নিমাই। গৌরাঙ্গের শরীর ছিল গৌড় অঙ্গ অর্থাৎ কাঁচা হলুদের মত রং ফর্সা। তাহার শরীর গৌড় বা গোরা ছিল বলিয়া তাঁহার নাম গোরাচাদ বলা হইত। 

(খ) গৌরাঙ্গের সাজ-সঘার বিবরণ দাও।

উত্তর : গৌরাঙ্গের পড়নে হলুদ রঙের ধুতি, গায়ে হলুদ রঙের উত্তরীয়, কপালে চন্দন চর্চিত (শ্বেত চন্দন) এবং তিলক আঁকা। ইহাই তাঁহার সাজ সজ্জা।

(গ) গৌরহরি কে? 

উত্তর : শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু।

(ঘ) সহিতে কি পারে মায়” এখানে মা কে ? –

 উত্তর : শচী দেবী। 

প্রশ্ন ৯। দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : 

(ক) গৌড়হরি কে? তিনি কেন সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তর : শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। নিমাই পণ্ডিত ২৩ বৎসর বয়সে গয়ায় পিতৃ পিও দেওয়ার সময় ঈশ্বর পুরীর নিকট দশাক্ষর গোপামন্ত্র গ্রহণ করেন। পরে পাষণ্ডী উদ্ধারের জন্য ২৪ বৎসর বয়সে মাঘ মাসে নবদ্বীপে কেশব ভারতীর নিকট সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তখন তাহার নাম হয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।

(খ) গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা অবলম্বনে শিশু গৌরাঙ্গের বর্ণনা দাও।

উত্তর : গোরাচাদ বা গৌরাঙ্গ নিতান্ত শিশু। শচী মায়ের আতিনায় হামাগুড়ি দিয়া মাটি খেলিতেছে। কখনও সে শচী মায়ের আঙুল ধরিয়া গুটি গুটি হাটিতে গিয়া আছাড় খায়। শিশুর গলায় বাঘনখ দোলে। তাহার মুখের লালায় বুক ভাসিয়া, মা শচীদেবী ছেলেকে ভূবনমোহন রূপে সাজাইয়া দিয়াছেন। চাঁদমুখে যেন বিজুলি খেলিয়া যায়। তাহার সর্বাঙ্গ ধুলা লাগায় মাতা শচী তাহাকে বুকে তুলিয়া নেন, কিন্তু শিশুটি ইহাতে সন্তুষ্ট নয় মাটিতে নামিয়া ধূলায় খেলার জন্য আকুল কান্না জুড়িয়া দেয়।

(গ) ‘কাদিয়া আকুল’— এখানে কে এবং কেন কেঁদে আকুল হয়েছেন? 

উত্তর : এখানে গ্রীগৌরাঙ্গ কাদিয়া আকুল হইয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গ শচীর আঙিনায় কখনও হামাগুড়ি দিয়া মাটিতে খেলিতেছেন। মাঝে মাঝে দাঁড়াইয়া মায়ের হাতের আঙুन ধরিয়া গুড়ি গুড়ি পায়ে চঞ্চলভাবে হাটিতে গিয়া আছাড় খাইয়া পড়িয়া যান। মুখের লালায়

বুক ভাসিয়া যাইতেছে। এইরূপে ধূলামাখা অবস্থায় মাতা শচীদেবী ছেলেকে কোলের উপর বুকে তুলিয়া লওয়ায় শিশু গৌরাঙ্গ কাদিয়া আকুল হইয়াছেন। সে জোড় করিয়া কোল হইতে নামিয়া ভূমিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন। 

(ঘ) “এ নহে কোলের ছেলে”— ভাষ্যটি কার ? তাঁর এইরূপ ভাষণের যুক্তি দেখাও। 

উত্তর : এখানকার ভাষ্যটি ভক্ত কবি মুরারি গুপ্তের। কবির এইরূপ ভাষণের মূলকাথা হইল যে, শিশু শ্রীগৌরাঙ্গ কোনমতেই কোলে চুপচাপ থাকিবার ছেলে নহে। সে চঞ্চল সে কাহারও বন্ধন মানিতে পারে না। জীবনে তাঁহার অনেক করণীয় আছে। সে কিছু করিতে চায়। তাই তাঁহার পরবর্ত্তী জীবনে দেখা যায় তিনি সংসার ধর্ম ত্যাগ করিয়া একদিন গৃহত্যাগ করিয়া, মায়ের কোল উজার করিয়া সন্ন্যাসী হইয়া চলিয়া যান । 

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১০। গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা কবিতার ভাবার্থ তোমার নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর : বৈষ্ণব কবি মুরারি গুপ্ত ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ কবিতাটিতে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের বাল্যকালের এক অতি সুন্দর বর্ণনা দিয়াছেন। বৈষ্ণব কবিদের গৌরাঙ্গের এইরূপ বর্ণনাগুলি অতিশয় মধুর আবেগ প্রবণ ও ভক্তিরসের আকর হইলেও কাল্পনিক। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই শ্রীচৈতন্যদেব শ্রীকৃষ্ণের অবতার রূপে পূজা পাইয়া থাকেন। বৈষ্ণবভক্ত ছাড়া আরও অন্যান্য অনেকেই শ্রীচৈতন্যদেবকে শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলিয়া মনে করেন।

বৈষ্ণব সাহিত্যে পরমভক্ত বৈষ্ণব পদকারগণ শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলাকে নানাভাবে রস পরিবেশনের মধ্যদিয়া উপস্থাপন করিয়াছেন। বাংলা সাহিত্যের এক বিশাল অংশ জুড়িয়া শ্রীগৌরাঙ্গের জীবনের নানা পর্যায়ের বর্ণনায় ভরপুর হইয়া আছে।

 আলোচ্য পাঠটিতে কবি গৌরাঙ্গের শিশুকালের এক মনোজ্ঞ বর্ণনা দিয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গ হামাগুড়ি দিতেছেন, হাটিতে শিখিয়াছেন, মায়ের হাত ধরিয়া ধীরপদে হাটার অভ্যাস করিতেছেন। এই বয়সের চঞ্চল শিশুকে লইয়া মায়ের উৎকণ্ঠার শেষ নাই। হাটিতে গিয়া শিশু গৌরাঙ্গ পড়িয়া গেলে স্নেহ কাতর মা ছেলেকে কোলে তুলিয়া নেন। মায়ের চিরন্তনী স্নেহ ক্ষুধা পদকার পদটিতে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী করিয়া তুলিয়াছেন। কবি জানেন যে এই ছেলেতো কোলের ছেলে নহে। পরিণত বয়সে সে সন্ন্যাসী হইয়া লোকহিতে জীবন উৎস্বর্গ করিবেন।

 প্রশ্ন ১১। ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ কবিতা অবলম্বনে শিশু চৈতন্যের বাল্যলীলার অনুপঙ্খ বিবরণ দাও।

 উত্তর : কবি মুরারি গুপ্ত তাঁহার মানস পটে গ্রীগৌরাঙ্গের শিশুকালের চাঞ্চলা অংকণ করিয়া অতি সুন্দরভাবে তাহার অদ্ভুত এক বর্ণনা দিয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গ শচীমায়ের আঙিনায় ভুবনমোহন সাজে অনবরত হামাগুড়ি দিয়া বেড়াইতেছেন। গোরাচাঁদ অর্থাৎ গৌরাঙ্গের শরীর অত্যন্ত সুন্দর গৌড়বর্ণ, কাঁচা হলুদের মতো রং। বাড়ির আঙিনায় সে কখনো বা মায়ের হাতের আঙুল ধরিয়া, কখনও বা গুড়ি গুড়ি হাটিতে গিয়া আছাড় খাইয়া পড়িতেছেন। এই দৃশ্য দেখিয়া কবি অত্যন্ত মোহাবিষ্ট হইয়াছেন। শিশু গৌরাঙ্গের গলায় বাঘনখ দুলিতেছে এবং মুখের লালায় বুক ভাসিয়া যাইতেছে। তাঁহার চাঁদ মুখে যেন হাসির বিজুলি খেলিতেছে। ইহা দেখিয়া কবির অন্তর অতিশয় তৃপ্ততা লাভ করিয়াছে। শিশু গৌরাঙ্গের ধুলা মাখা অঙ্গ দেখিয়া মাতা শচী সহ্য করিতে না পারিয়া দ্রুত তাহাকে বুকের উপর তুলিয়া লইয়াছেন। ইহাতে শিশুটি অসন্তুষ্ট হইয়া কাঁদিয়া আকুল হইয়া কোল হইতে নামিয়া পুনরায় ভূমিতে গড়াগড়ি দিতেছে। মুগ্ধ কবি মুরারি গুপ্ত এই দৃশ্য দেখিয়া হাসিয়া উঠিয়াছেন এবং বলিয়াছেন যে গোরাচাঁদ কোন মতেই কোলে থাকিবার নহে, সে অবশ্যই একদিন গৃহত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসী হইয়া যাইবে এবং মায়ের কোল উজার করিবে।

প্রশ্ন ১২। সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি” — উক্তিটি কার এমন ধারণার কারণ সবিস্তারে – বিশ্লেষণ কর। 

উত্তর : এই উক্তিটি বৈষ্ণবভক্ত কবি মুরারি গুপ্তের। বাংলাদেশের সর্বত্রই চৈতন্যদেব শ্রীকৃষ্ণের অবতার পুরুষ হিসাবে পূজিত হন। শ্রীচৈতন্য কেবল বৈষ্ণব ভক্তরাই যে পূজা করেন তাহা নহে, আরও অনেকের নিকট শ্রীচৈতন্য পূজার পাত্র হিসাবে গণ্য ছিলেন। আলোচ্য কবিতাটির কবি মুরারি গুপ্তের কল্পনা প্রসূত কবিতা। কবি মুরারি গুপ্ত শ্রীগৌরাঙ্গের সমসাময়িক ছিলেন। মুরারি গুপ্ত এবং গৌরাঙ্গ উভয়ে গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে অধ্যয়ন করিতেন। মুরারি গুপ্ত গৌরাঙ্গের অল্প বড় ছিলেন। বিদ্যা ও পাণ্ডিত্যে উভয়ে প্রায় সমকক্ষ ছিলেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মুরারি গুপ্ত চৈতন্যদেবের পরম ভক্ত হইয়াছিলেন এবং আধ্যাত্মবাদ ত্যাগ করিয়া চৈতন্য প্রবর্তিত ভক্তিবাদের শরণ লইয়াছিলেন, এমন কি পুরীধামে গিয়া সর্বপ্রথম জগন্নাথ দর্শন না করিয়া চৈতন্যকেই সাক্ষাৎ করিতেন। মুরারি গুপ্ত মহাপ্রভুর বাল্য কৈশোর ও যৌবনের সমস্ত সংবাদ জানিতেন বলিয়া ভক্তগণ মনে করিতেন। 

‘শ্রীগৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ রচনা করিতে গিয়া ভক্ত কবি মুরারি গুপ্ত লিখিয়াছেন “এন হে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি।” এমন ধারণার কারণ হয়তো গৌরাঙ্গের বাল্য কৈশোর ও যৌবনের চাল চলন স্বচক্ষে দেখিয়া তিনি শিশু গৌরাঙ্গের লীলা বর্ণনায় হার সন্ন্যাসী হইয়া যাইবার সম্ভাবনা ব্যক্ত করিয়াছেন। কবি মুরারি গুপ্ত তাহার রচিত গ্রন্থ মুরারি। গুপ্তের কড়চা নামক গ্রন্থে মুরারি এবং গৌরাঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় পাওয়া যায়।

 প্রশ্ন ১৩। শূন্যস্থান পূরণ করো : 

(ক) _______সর্বগায় সহিতে কি পারে মায়। 

উত্তর : ধুলামাখা। 

(খ) হাসিয়া_____বোলে এ নহে কোলের ছেলে।

 উত্তর : মারারি। 

(গ) শচীর _____মাঝে ভুবনমোহন সাজে।

 উত্তর : আঙিনা।

 প্রশ্ন ১৪। শুদ্ধাশুদ্ধ নির্ণয় করো।

 (ক) বাল্যকালে গৌরাঙ্গ সিংহের নখ গলায় পরতেন।

উত্তর : বাঘনখ।

(খ) হাসিয়া মুরারি শচীর কোলে চড়লেন।

 উত্তর : গৌরাঙ্গ (গোরা)।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। শচীর আঙিনা মাঝে’ শচী কে? আঙিনা শব্দের অর্থ কী ?

 উত্তর : এইখানে শচী হইলেন গৌরাঙ্গের মাতা। ‘আঙিনা’ শব্দের অর্থ উঠান বা অঙ্গন। 

প্রশ্ন ২। চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।’ —এখানে কার মুখের হাসির কথা বলা হয়েছে? ‘বিজুলি’ শব্দের অর্থ লেখো। 

উত্তর ঃ এইখানে গৌরাঙ্গের মুখের হাসির কথা বলা হইয়াছে। ‘বিজুলি’ শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ।

প্রশ্ন ৩। সহিতে কি পারে মায়’ – এখানে কার মায়ের কথা বলা হইয়াছে? তিনি কী সইতে পারেন না?

উত্তর ঃ এইখানে গৌরাঙ্গের মায়ের কথা বলা হইয়াছে। গৌরাঙ্গের সারা গায়ে ধূলামাখা তাহা তিনি মা হইয়া সহিতে পারেন না।

 প্রশ্ন ৪। কাঁদিয়া আকুল তাতে’ – এখানে কে কেন কেঁদে আকুল হলেন বলো।

উত্তর : এইখানে গৌরাঙ্গ কাঁদিয়া আকুল হইয়াছিলেন। কারণ গৌরাঙ্গ আপন মনে ধূলা লইয়া খেলা করিতেছেন। তাঁহার সারা গায়ে ধূলা লাগিয়া গিয়াছে। তাহা দেখিয়া তাঁহার মাতা শচীদেবী গৌরাঙ্গকে টানিয়া কোলে তুলিয়া লইলে গৌরাঙ্গ কাঁদিয়া আকুল হইলেন। কারণ তিনি খেলিতে চাহেন।

 প্রশ্ন ৫। ‘এ নহে কোলের ছেলে’ —উক্তিটি কার? কার উদ্দেশ্যে এই উক্তি করা হইয়াছে? 

উত্তর : উক্তিটি কবি মুরারি গুপ্তের। তিনি শিশু গৌরাঙ্গকে লক্ষ্য করিয়া এমন উক্তি করিয়াছেন। 

পাঠভিত্তিক ব্যাকরণ

 প্রশ্ন ১। (ক) পাঁচটি তদ্ভব শব্দ লেখো। 

উত্তর : চাঁদ, রাত, রোদ, কানু, চরকা। 

(খ) ‘গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা’ কবিতাটি হইতে ক্রিয়াপদগুলি বাছিয়া লেখো।

 উত্তর : তুলি, ধরি, চলে, ভাসি, দেয়, খাইয়া, বোলে, দোলে, সহি ইত্যাদি। 

(গ) কবিতাটি হইতে বিশেষ্য বা নামবাচক শব্দগুলি বাছিয়া লেখো। 

উত্তর : আঙিনা, শচী, মুরারি, গৌরহরি, বাঘনখ, গোরাচাঁদ, অঙ্গুলি, বুক, গোরা।

(ঘ) দশটি ধনাত্মক শব্দ লেখো।

 উত্তর : গুড়িগুড়ি, খিল্‌ খিল, টিকটিক্, ঝিম্‌ঝিম্, মিট্‌মিট্, টনটন, গম, হন্‌হন, ঠক্‌ঠক্‌, গুনগুন। 

(ঙ) কবিতাটির বিশেষ্য শব্দগুলির সঙ্গে নির্দেশক প্রত্যয় যোগ করো।

 উত্তর : বুক= বকুটি, বাকখানা, বুকখানি।

ছেলে = ছেলেটি, ছেলেটা, ছেলেখানা। 

অঙ্গুলি =অঙ্গুলিটি, অঙ্গুলিখানা, অঙ্গুলিখনি, অঙ্গুলিটা। 

আঙিনা =আস্তিনা আন্তিনাটি, আঙিনাটা, আন্তিনাখানা, আঙিনাখানি। 

 সন্ন্যাসী= সন্ন্যাসীটি, সন্ন্যাসীটা।

(চ) তিনটি স্ত্রী প্রত্যয় লিখ। শব্দে তাহার ব্যবহার দেখাও। 

উত্তর : নী, নি, আনী

       পুং  ‌       স্ত্রী             

 নী— বেদে —বেদেনী। 

আনী— শিব— শিবানী।

  পুং                              স্ত্রী   

নি —-কামার —শিবানী। কামারনি ।

আনি —-চাকর —কামারনি। চাকরানি। 

প্রশ্ন ২। যেকোনো পাঁচজন বৈষ্ণব কবির বিষয়ে যাহা জান লিখ। প্রত্যেকের একটি করিয়া পদ সংযোজন কর।

মুরারি গুপ্ত: মুরারি গুপ্তের পরিবার শ্রীহট্ট হইতে আসিয়া নবদ্বীপে জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ির নিকটেই বাসস্থান স্থাপন করিয়াছিলেন। মুরারি বৈদ্যবংশ জাত ছিলেন তিনি চৈতন্য অপেক্ষা অল্প বড় ছিলেন। নিমাই, মুকুন্দ দত্ত এবং মুরারি একসঙ্গে গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে অধ্যয়ন করিতেন। ধর্মমতে মুরারি রামোপসক ছিলেন। ক্রমে ক্রমে মুরারি নিমাইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছিলেন। পরে মুরারি মহাপ্রভুর মতানুবর্তী হইয়া পরমভঙ্গে পরিণত হইয়াছিলেন। ভাগ্যবান মুরারি মহাপ্রভুর মহাবরাহ অবতার মূর্তি প্রত্যক্ষ করিয়া ধন্য হইয়াছিলেন। মুরারির কড়চায় জানা যায় তিনি বাংলা ভাষায় পদ লিখিয়াছিলেন। দামোদর পণ্ডিতের উপদেশে মুরারি মহাপ্রভুর জীবন কথাকে মহাকাব্যের আকার লিখিয়াছিলেন। 

মুরারি চৈতন্যের শৈশব-বাল্য ও কৈশোর প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন। মুরারি রচিত গা গুলির মধ্যে আমাদের পাঠ্যপদটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইহাতে ভক্তের ভক্তি মিশিয়া গিয়াছে।

 মুরারি রচিত এইরূপ উৎকৃষ্ট অপর একটি পদ হইল—

ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর। 

আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া 

বারেক করুণা কর। 

আচার্য গোঁসাই দেখিও নিতাই 

আমার আঁখির তারা। 

না জানি কি ক্ষণে নাচিতে কীর্তনে 

পরাণে হইব হারা। 

নরহরি সরকার : বৈষ্ণব সাহিত্যে দুইজন নরহরি পদ রচনা করিয়াছিলেন। পুরাতন নরহরি সরকার শ্রীখণ্ডের বৈদ্যবংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তিনি নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গের পার্শ্বচর ছিলেন। দ্বিতীয়জন নরহরি চক্রবর্তী। ইতি অষ্টাদশ শতাব্দীতে বর্তমান ছিলেন। ‘তাঁহার ‘ভক্তি রত্নাকর’ সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ। ‘পদকল্পতরুতে নরহরি সরকার ভনিতায় ২৫টি পদ আছে। ‘শ্রীখণ্ডের প্রাচীন বৈষ্ণব গ্রন্থে নরহরি সরকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাওয়া যায়। নরহরি সরকার রচিত একটি পদ— 

কিনা হইল সই মোরে কানুর পিরীতি। 

আঁখি ঝুরে পুলকেতে প্রাণ কাদে নিতি।।

খাইতে সোয়াথ নাই নিন্দ গেল দূরে।

 নিরবধি প্রাণ মোর কানু লাগি ঝুরে।। 

যদুনন্দন (চক্রবর্তী) : নিত্যানন্দ-অনুচর গদাধরের শিষ্য ছিলেন যদুনন্দন। ইনি হইলেন প্রথম যদুনন্দন। যে সকল পদে পদাধরের উল্লেখ আছে অথবা শ্রদ্ধা প্রকাশিত হইয়াছে, তাহা নিশ্চয় প্রথম যদুনন্দনের রচিত। এই অনুমান মিথ্যা নহে। কিন্তু যদুনন্দন গদাধর প্রসঙ্গ ছাড়াও পদ রচনা করিয়াছিলেন। রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদে গদাধরের উল্লেখ অল্প। কাজেই গদাধর প্রসঙ্গ না থাকিলে যে সেই পদ দ্বিতীয় যদুনন্দনের রচিত, একথা নিশ্চয় করিয়া বলা যায় না। যদুনন্দন একটি পদে গৌরাঙ্গ ও গদাধরের লীলা একত্রে অংকণ করিয়াছেন। 

গৌর-গদাধর দুই তনু সুন্দর 

অপরূপ প্রেম বিথার।

 দুই দুই হরষে পরশে সব বিশলয় 

আমিয়া বরিখে অনিবার।।

দেখ দেখ অপরূপ দুইজন নেহ। 

কো অছুভাব প্রেমময় চাতুরী

 নিমজিয়া পাওব থেহ ।।

বলরাম দাস : চণ্ডি দাসকে লইয়া যেমন সমস্যার সৃষ্টি হইয়াছে তদ্রুপ বলরাম দাস সম্বন্ধে প্রশ্ন উত্থাপন হইয়াছে। পদসাহিত্যে মোট ১৯জন বলরামের সন্ধান পাওয়া যায়। এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই যে, বৈষ্ণব সাহিত্যে একাধিক বলরাম দাস ছিলেন। ডঃ সুকুমার সেন মহাশয় নানা তথ্য সংগ্রহ করিয়া পাঁচজন বলরামের সন্ধান পাইয়াছেন। বুধরী গ্রাম নিবাসী একজন বলরাম দাস বোধহয় উৎকৃষ্ট ব্রজবুলির রচয়িতা। মিলনোৎকণ্ঠিতা ।। বলরাম দাস 

কে মোরে মিলাঞা দিবে সে চান্দ-বয়ান। 

আখি তিরপিত হব জুড়াবে পরান।।

(কাল) রাতি না পোহায় কত জাগিব বসিয়া।

গুণগুণি প্রাণ কান্দে না যায় খসিয়া।। 

বাসুদেব ঘোষ : চৈতন্যের পরম অনুরাগী ও সহচর ছিলেন বাসুদেব ঘোষ। তাঁহার তিনভাই গোবিন্দ ঘোষ, মাধব ঘোষ এবং বাসুদেব ঘোষ প্রত্যেকেই কবিত্ব শক্তির অধিকারী ছিলেন। বাসুদেব ঘোষ কনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিমাই সন্ন্যাসের পালাগান রচনা করিয়া অধিকতর খ্যাতিলাভ করিয়াছিলেন। তাহার পিতা বল্লভ ঘোষ মুর্শিদাবাদের অধিবাসী ছিলেন। বাসুদেব সহ তাহার তিনভাই নবদ্বীপে আসিয়া চৈতন্য গোষ্ঠীতে যোগ দিয়াছিলেন। বাসুদেব ঘোষ তাঁহার অনেক পদে গৌরাঙ্গ দর্শনে নারীগণের রসোগার বর্ণনা করিয়াছেন। বাসু ঘোষের রচিত পদগুলিতে স্কুল আকাঙ্ক্ষা অপেক্ষা একটি অশরীরী আবেদন অধিকতর প্রাধান্য পাইয়াছে। বাসুদেব ঘোষ বৈষ্ণব পদ সাহিত্যে স্মরণীয় হইয়াছেন চৈতন্যের বাল্য-কৈশোর ও প্রথম যৌবনের বাস্তব জীবন চিত্র সৃষ্টিতে। 

শিশু গৌরাঙ্গ বর্ণনা —

শচীর আস্তিনায় নাচে বিশ্বস্তর রায়।

 হাসি হাসি ফিরি ফিরি মায়েরে লুকায়। 

বয়াসে বয়ন দিয়া বলে লুকাইল। 

শচী বলে বিশ্বস্তর আমি না দেখিল ।।

ক্লাস 9 বাংলা প্রশ্নের উত্তর

S.L. No.Group A সূচীপত্র
পাঠ ১গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
পাঠ ২খাই খাই
পাঠ ৩ধূলামন্দির
পাঠ ৪কবর
পাঠ ৫মনসামঙ্গল
পাঠ ৬প্রত্যুপকার
পাঠ ৭ছুটি
পাঠ ৮ডাইনী
পাঠ ৯পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম
পাঠ ১০অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা
পাঠ ১১লড়াই
পাঠ ১২আমরা
পাঠ ১৩আগামী
পাঠ ১৪আত্মকথা
পাঠ ১৫ভারতবর্ষ
পাঠ ১৬ব্যাকরণ
পাঠ ১৭রচনা
S.L. No.Group B সূচীপত্র
বৈচিত্রপূর্ণ আসাম
পাঠ ১আহােমগণ
পাঠ ২কাছাড়ের জনগােষ্ঠী
পাঠ ৩কারবিগণ
পাঠ ৪কোচ রাজবংশীগণ
পাঠ ৫গড়িয়া, মরিয়া ও দেশীগণ
পাঠ ৬গারােগণ
পাঠ ৭সাঁওতালগণ
পাঠ ৮চা জনগােষ্ঠী
পাঠ ৯চুটিয়াগণ
পাঠ ১০ঠেঙাল কছারিগণ
পাঠ ১১ডিমাসাগণ

This Post Has One Comment

  1. Imran Hussain

    খুবই ভালো লাগছে

Leave a Reply