SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-6| বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-6| বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ASSAMESE MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (BANGLA MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ENGLISH MEDIUM)

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-6| বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-6| বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

পাঠ ৬

অতিরিক্ত পাঠ

-ডিমচাদ বরদলৈ

প্রশ্ন ১। অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :

(ক) “বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ” অতিরিক্ত পাঠটির লেখকের নাম কি? 

উত্তর : “বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ” অতিরিক্ত পাঠটির লেখকের নাম ডিমচাদ বৰদলৈ। 

(খ) “বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ” পাঠটি পাঠ্য পুস্তকে সন্নিবিষ্ট করার উদ্দেশ্য কি ? 

উত্তর : শোণিতপুরের শহীদদের বিষয়ে নবপ্রজন্মকে একটি মোটামুটি আভাস দিয়া দেশপ্রেমের অমর কাহিনি স্মরণ করিয়া দেওয়ার জন্য উক্ত পাঠটি পাঠ্য পুস্তকে সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে।

(গ) কখন, কাহার উদ্যোগে অসম কংগ্রেস কমিটি গঠিত হয়? 

উত্তর : কর্মবীর চন্দ্রনাথ শর্মার উদ্যোগে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ১৯২১ সালের ৫ জুনে গঠিত হয়।

(ঘ) মহাত্মা গান্ধী প্রথমবার কখন, কত দিনের জন্য অসম ভ্রমণ করিয়াছিলেন? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ১৯২১ সনের ১৮ আগষ্ট হইতে ১২ দিন ধরিয়া অসমের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করিয়াছিলেন। 

(ঙ) তেজপুরের পলো ফিল্ডে কোন তারিখে মহাত্মা গান্ধী বিশাল জনসভায় অংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ১৯২১ সনে ২২ আগষ্টে তেজপুরের পলো ফিল্ডে জনসভায় অংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন।

(চ) গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনের বার্তা কখন অসমের গ্রাম-গঞ্জে ছড়াইয়া পরে? 

উত্তর : ১৯২১ সনের ২২ আগষ্ট মহাত্মা গান্ধী তেজপুরের পলো ফিল্ডে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় অংশ গ্রহণ করার দিনটি হইতেই গান্ধীজীর অসহযোগ বার্তা অসমের গ্রামে-গঞ্জে ছড়াইয়া পরে।

(ছ) কখন, কোন অধিবেশনে ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন প্রস্তাব গৃহীত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৪২ সনের ৮ আগষ্ট বোম্বাই অধিবেশনে ভারত ত্যাগ আন্দোলন গৃহীত হইয়াছিল।

(জ) তেজপুর জেলা কংগ্রেসের নির্দেশে কোনদিন ঢেকিয়াজুলি হইতে হাওয়াজান পর্যন্ত যাওয়ার প্রধান পথটি লোকে লোকারণ্য হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর তেজপুর জেলা কংগ্রেসের নির্দেশে ঢেকিয়াজুলি হইতে হাওয়াজান পর্যন্ত প্রধান পথটি লোকে লোকারণ্য হইয়াছিল। 

(ঝ) ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বরের শোভাযাত্রীদের মধ্যে কে বিহালী থানায় পতাকা উত্তোলন করিয়া সুখ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর শোভাযাত্রীদের মধ্যে তিলেশ্বর মহন্ত বিহালী থানায় পতাকা উত্তোলন করিয়া সুখ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ২। সংক্ষিপ্ত উত্তর লিখা :

(ক) ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর গহপুর থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া জনতার সন্মুখ ভাগে থাকা দুইজন আন্দোলনকারীর নাম লিখ।

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর গহপুর থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া জনতার সম্মুখভাগে থাকা যে দুইজন আন্দোলনকারী বি পতাকা নিয়া অগ্রসর হইয়াছিলেন তাহারা হইলেন (ক) কনকলতা বরুয়া এবং (খ) মুকুন্দ কাকতী। 

(খ) কনকলতা এবং মুকুন্দ কাকতী কিভাবে শহীদ হইয়াছিলেন?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বরে জেলা কংগ্রেসের নির্দেশক্রমে গহপুর থানাতে পতাকা উত্তোলন করিবার জন্য হাজার হাজার লোক সমবেত হইয়াছিলেন। এই সমাবেশে কিশোরী কনকলতা বরুয়া গহপুর থানায় পতাকা উত্তোলন করিতে গিয়া ব্রিটিশ পুলিশের গুলীতে আহত হইয়া মাটিতে ঢলিয়া পড়িতেছিলেন। তৎক্ষণাৎ তাহার হাত হইতে পতাকাটি নিয়া মুকুন্দ কাকতী উত্তোলন করার জন্য সন্মুখে অগ্রসর হইতেছিলেন। সেই মুহুর্তেই পুলিশের গুলীতে মুকুন্দ কাকতী মৃত্যু বরণ করেন। এইভাবেই কনকলতা বরুয়া এবং মুকুন্দ কাকতী শহীদ হন।

(গ) ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানার দিকে অগ্রসর হওয়া আন্দোলনকারী জনতার নেতৃত্ব কে কে বহন করিয়াছিল?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানার দিকে অগ্রসর হওয়া প্রায় পাঁচ হাজার জনতার নেতৃত্ব দিয়াছিলেন কার্যসূচীর প্রধান পরিচালক কমলাকান্ত দাস, ঘটুয়া শিবিরের নায়ক ফর্মীধর দাম এবং বরগাঁও শিবিরের নায়ক বাপুরাম গগৈ। 

(ঘ) ১৯৪২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কে তেজপুর জেলাধিপতির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করিয়াছিলেন?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২১ সেপ্টেম্বর হাজার হাজার জনতা তেজপুর জেলাধিপতির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। এই সময় ব্রিটিশ বন্দুকধারী পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করিয়া জিতেন্দ্র কুমার ভূঞা জেলাধিপতির কার্যালয়ের ছাদে পতাকা উত্তোলন করেন। 

(ঙ) কনকলতার জন্ম কোথায় হইয়াছিল এবং তাঁহার পিতা-মাতার নাম কি ছিল ?

উত্তর : কনকলতা বরুয়ার গহপুরের বরঙ্গাবারীতে ১৯২৪ সালের ২২ ডিসেম্বরে জন্ম হইয়াছিল। তাঁহার পিতার নাম কৃষ্ণকান্ত বরুয়া এবং মাতার নাম কর্ণেশ্বরী বরুয়া ছিল। 

(চ) শহীদ মুকুন্দ কাকতীর জন্ম কোথায় হইয়াছিল এবং তাহার পিতা-মাতার নাম কি ছিল?

উত্তর : শহীদ মুকুন্দ কাকতীর জন্ম হইয়াছিল নলবাড়ি জেলার বরভাগ মৌজার সোণকানি গ্রামে এবং তাহার পিতা-মাতার নাম ছিল যথাক্রমে মধুরাম কাকতী এবং দীনবালা কাকতী।

(ছ) শহীদ মনবর নাথের জন্ম কোথায় হইয়াছিল এবং তিনি কিভাবে শহীদ হন? 

উত্তর : শহীদ মনবর নাথের নগাঁও জেলার হাতীচোং মৌজার জামুগুড়ি গ্রামে জন্ম হইয়াছিল। ঢেকিয়াজুলি থানার অন্তর্গত বরগাঁও মৌজার মৃত্যু বাহিনীর প্রথম সৈনিক হিসাবে তিনি ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর শোভাযাত্রা করিয়া ঢেকিয়াজুলি থানার ছাদে স্বরাজের পতাকা উড়াইয়া পুলিশের গুলীতে থানাতেই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়া জাতীয় শহীদ হইয়াছিলেন।

(জ) ঢেকিয়াজুলি থানায় কুমলী দেবী কিভাবে শহীদ হইয়াছিলেন? 

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানা পর্যন্ত শোভাযাত্রা করিয়া অগ্রসর হওয়া দলটিতে কুমলী দেবী এবং তাঁহার পুত্র গোলক নেওগ মৃত্যু বাহিনীর সৈনিক হিসাবে শোভাযাত্রাটির দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। প্রথম স্থানে থাকা মনবর নাথ পুলিশের গুলীতে আঘাত পাইয়া, পরিয়া যাওয়ার পর গোলক নেওগ তাঁহার হাত হইতে স্বরাজের পতাকা নিয়া অগ্রসর হইতে ছিলেন। এমন সময় যখন পুলিশ তাহাকে লক্ষ্য করিয়া গুলী ছড়িতে ছিল তখন মাত্রা কুমলী দেবী অগ্রসর হইয়া ছেলেকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের গুলী নিজের বুকে ধারণ করিয়া ঐ স্থানেই শহীদ হন।

(ঝ) বহুলী দেবী কি অবস্থায় শহীদ হইয়াছিলেন?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া শোভাযাত্রাকারীর মধ্যে লী দেবী এবং তাহার স্বামী পোনাই নাথও ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী, চার এবং দুই বৎসরের দুই কন্যা সন্তানকে ঘরে রাখিয়া শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন। সেই সময় লী দেবী গর্ভবর্তী ছিলেন এবং এই অবস্থায় ঢেকিয়াজুলি থানায় ব্রিটিশ সৈন্যের গুলীতে বহুলী দেবী দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ আগ করিয়া শহীদ হইয়াছিলেন। 

(ঞ) শহীদ হওয়ার সময় তিলেশ্বরী বরুয়ার বয়স কত ছিল এবং তিনি কিভাবে শহীদ হইয়াছিলেন?

উত্তর : শহীদ হওয়ার সময় তিলেশ্বরী বরুয়া ১২ বৎসরের কিশোরী ছিলেন। ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া শোভাযাত্রায় তিলেশ্বরী বরুয়া অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাকারীর উপর ব্রিটিশ বাহিনী গুলী চালানোর ফলে সেই গুলীর আঘাতে শোভাযাত্রাকারী মহীরাম কোচ মাটির উপর ঢলিয়া পরেন। এই সময় তিলেশ্বরী বরুয়া স্বাধীনতার পতাকা নিয়া বন্দে মাতরম ধ্বনিতে অগ্রসর হইয়া পুলিশের গুলীতে শহীদ হন।

(ট) ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলি থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া শোভাযাত্রাকারীর মধ্যে সেইদিন কতজন শোভাযাত্রাকারী শহীদ হইয়াছিলেন এবং তাহাতে কতজন মহিলা শহীদ ছিলেন?

উত্তর : ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকীয়াজুলি থানা পর্যন্ত শোভাযাত্রাকারীদের মধ্যে ১৩ জন লোক শহীদ হইয়াছিলেন। তাহাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা শহীদ ছিলেন। 

(ঠ) মণিরাম কছারী কে ছিলেন? তিনি কিভাবে শহীদ হইয়াছিলেন?

উত্তর : মণিরাম কছারী ১৯২১ সনে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করিয়াছিলেন। তিনি লোকনায়ক অমিয় কুমার দাসের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের গয়া এবং কানপুর অধিবেশনে যোগদানকারী একজন একনিষ্ট কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। ১৯৪২ সালে ২০ সেপ্টেম্বরে ঢেকীয়াজুলি থানা পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করার সময় ব্রিটিশ সেনার গুলীতে তিনি আঘাত প্রাপ্ত হন। তিনদিন পর তাহার মৃতদেহ ধান ক্ষেতে উদ্ধার হয়।

প্রশ্ন ১। বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা কর।

উত্তর : ১৯৪২ সনের ভারত ত্যাগ’ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময়রে অবিভক্ত দৰং জেলা তথা বর্তমান শোণিতপুর জেলার ক্রমে গহপুর, তেজপুর এবং ঢেকিয়াজুলিতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের জন্য কয়েকজন দেশপ্রেমিক ব্রিটিশ শাসকের পুলিশের গুলীতে প্রাণ বিসর্জন দিয়া জাতীয় শহীদ হইয়াছিলেন। ১৯৪২ সনের ৮ আগষ্ট বোম্বাই অধিবেশনে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ শাসককে দেশ ছাড়িয়া যাওয়ার জন্য দাবী। তুলিয়া ভারত ত্যাগ প্রস্তাব গ্রহণ করিয়াছিল এবং আগষ্ট মাস হইতে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এই আন্দোলন যথাসময়ে চলিয়াছিল কিন্তু অসমে বন্যা এবং কৃষকদের সেই সময়ে ব্যস্ততার পরিপ্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাস হইতে অসমে ভারত ত্যাগ আন্দোলন আরম্ভ হয়।

১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর গহপুর থানার অন্তর্গত কলাবারী, কলংপুর, ধোপাবর, বরঙ্গাবারী, বরানী প্রথার ইত্যাদি গ্রামের হাজার হাজার লোক থানায় স্বৰাজের পতাকা উত্তোলন করার উদ্দেশ্যে শোভাযাত্রা করিয়া গহপুর থানায় উপস্থিত হইয়াছিল। সেই শোভাযাত্রার সন্মুখে ছিলেন কিশোরী কনকলতা বরুয়া এবং মুকুন্দ কাকতী। কনকলতা বরুয়া পতাকা উত্তোলন করার জন্য উদ্যত হওয়ার সময় ব্রিটিশ শাসকের পুলিশের গুলীতে চলিয়া পরিতেছিলেন। এমন সময় পতাকাটি মাটিতে পরার পূর্বেই মুকুন্দ কাকতী পতাকাটি নিয়া অগ্রসর হন। সেই মুহূর্তেই মুকুল কাকতীও পুলিশের গুলীতে মাটিতে ঢলিয়া পরেন। এর মধ্যে কলাবারী অঞ্চলের কংগ্রেস কর্মী রামপতি রাজখোয়া গহপুর থানায় পতাকা উত্তোলন করেন। বিয়াল্লিশ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকীয়াজুলি থানার অন্তর্গত বরগাঁও, নাহরবারী, মিডামারী মৌজার পাঁচ হাজারের অধিক জনতা বিরঙ্গা পতাকা নিয়া ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপাইয়া সেইদিনের আন্দোলনের প্রধান পরিচালক কমলাকান্ত দাস, ঘাটুয়া শিবিরের নায়ক ফণীধর দাস এবং বরগাও শিবিরের নায়ক বাপুরাম গগৈর নেতৃত্বে ঢেকীয়াজুলি থানায় উপস্থিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বাহিনী আন্দোলনকারী জনতাকে বাঁধা দেওয়ার জন্য চরম ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া গুলীচালনা করায় ঢেকিয়াজুলী থানায় তের জন আন্দোলনকারী দেশের জন্য প্রাণ ত্যাগ করিয়া জাতীয় শহীদ হন। 

১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর বিহালী এবং চতিয়া থানার অন্তর্গত হাজার হাজার শোভাযাত্রাকারী থানা অভিমুখে অগ্রসর হইয়া ব্রিটিশ বাহিনীর বাঁধা ভাঙ্গিয়া থানায় উপস্থিত হন এবং তিলেশ্বর মহস্ত বিহালী থানার ছাদে পতাকা উত্তোলন করিতে সক্ষম হন।

১৯৪২ সনের ২১ সেপ্টেম্বর তেজপুরের হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা দেশ প্রেমের গান গাহিয়া এবং দেশপ্রেমের ধ্বনি তুলিয়া তেজপুর জেলা শাসকের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করিতে অগ্রসর হয়। ব্রিটিশ সরকারের পুলিশ আন্দোলনকারী জনতাকে যদিও ছত্রভঙ্গ করে তথাপি অসীম সাহসী জিতেন্দ্র কুমার ভূঞা জেলা শাসকের কার্যালয়ের ছাদে স্বরাজের পতাকা উত্তোলন করিতে সক্ষম হন। 

এইভাবেই বিয়াল্লিশের ভারত ত্যাগ আন্দোলনে শোণিতপুরবাসী বুকের রক্ত ঢালিয়া গৌরবময় ইতিহাস রচনা করিয়া দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুগান্তকারী সুখ্যাতি অর্জন করিতে সক্ষম হন।

প্রশ্ন ২। শহীদ কনকলতা বরুয়ার বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ।

উত্তর : ১৯৪২ সনের ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলনে অসমের প্রখ্যাত শহীদ হইলেন কনকলতা বরুয়া। ১৯২৪ সনের ২২ ডিসেম্বর গহপুরের বরঙ্গাবারীতে কনকলতা বরুয়ার জন্ম হয়। জন্মসূত্রে তিনি দোলাকাষরীয়া বংশে জন্মগ্রহণ করেন। কনকলতা বরুয়ার পিতা- মাতা ছিলেন ক্রমে কৃষ্ণকান্ত বরুয়া এবং কর্ণেশ্বরী বরুয়া। ছোটকাল হইতেই তিনি দৃঢ়মনা এবং অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পঢ়া-শুনা করিয়া শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেন।

১৯৪২ সালের ভারত ত্যাগ আন্দোলনের সময় কনকলতা বরুয়া ১৭ বৎসর অতিক্রম করিয়া ছিলেন। জেলা কংগ্রেসের নির্দেশে ভারত ত্যাগ আন্দোলনের কার্যসূচী অনুযায়ী ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর গহপুর থানায় স্বরাজের পতাকা উত্তোলন করিতে থানার অন্তর্গত গ্রামসমূহ হইতে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী থানা অভিমুখে যাত্রা করে। হাতে ত্রিরঙ্গা পতাকা নিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে কনকলতা শোভাযাত্রার সম্মুখে ছিলেন। শোভাযাত্রাটি এক সময়ে থানায় উপস্থিত হয় এবং কনকলতা পতাকা উত্তোলন করিতে উদ্যত হওয়া অবস্থাতে ব্রিটিশ বাহিনী তাঁহাকে লক্ষ্য করিয়া গুলী চালনা করে। যে সময়ে কনকলতা গুলীর আঘাতে মাটিতে ঢলিয়া পরিতেছিলেন সেই মুহূর্তে তাঁহার হাত হইতে পতাকাটি নিয়া মুকুন্দ কাকতী থানার দিকে অগ্রসর হন। এইভাবেই সাহসী কনকলতা দেশের জন্য মৃত্যুবরণ করিয়া জাতীয় শহীদ হন।

প্রশ্ন ৩। শহীদ মুকুন্দ কাকতীর জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা কর।

উত্তর : শহীদ মুকুন্দ কাকতীর জন্ম হইয়াছিল নলবারী জেলার বরভাগ মৌজার সোণকানি নামক একটি গ্রামে। ১৯১৯ সালের মার্চ মাসে পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান রূপে জন্ম গ্রহণ করিয়া ছিলেন। পিতার নাম মধুরাম কাকতী এবং মাতার নাম দীনবালা কাকতী। শৈশব কাল হইতেই মুকুন্দ কাকতী রোগে ভুগিতে ছিলেন। সেইজন্য তাঁহার পিতা-মাতা তাঁহাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন নাই। নয় বৎসর বয়সে তাঁহাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হইল। তিনি যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়া ছিলেন সেই বিদ্যালয়ের নাম ছিল পতারা প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করিয়া তিনি বরশালা মধ্য ইংরাজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু ঘরের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি পড়া-শুনা ছাড়িয়া শোণিতপুর জেলায় ধোপবর গ্রামে থাকা জ্যেষ্ঠ ভাই লোহিত কাকতীর সঙ্গে মুদিখানার দোকান বুলিয়া ব্যবসায় আরম্ভ করেন। এই সময়ে ভারত ত্যাগ আন্দোলন ১৯৪২ সনের সেপ্টেম্বর মাসে অসমে ছড়াইয়া পরে। ভারত ত্যাগ আন্দোলনের হাওয়া মুকুন্দ কাকতীর গায়ে লাগে। ফলশ্রুতিতে তিনি ১৯৪২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গহপুর থানায় স্বরাজের পতাকা উঠাইবার জন্য হাজার হাজার লোকের শোভাযাত্রায় অগ্রসর হইতেছিল। সেই গণসমাবেশের সম্মুখভাগে ছিলেন। কনকলতা বরুয়া এবং মুকুন্দ কাকতী। থানায় পতাকা উত্তোলন করিতে গিয়া কনকলতা যখন পুলিশের গুলীতে মাটিতে পরিয়া যাইতে ছিলেন তখন মুকুন্দ কাকতী কনকলতার হাত হইতে পতাকাটি নিয়া অগ্রসর হইতেছিলেন। এই সময়ে তিনি পুলিশের গুলীতে আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁহাকে গহপুর চা বাগানের চিকিৎসালয়ে নেওয়া হয় কিন্তু রাত্রিতে তিনি মৃত্যু বরণ করিয়া দেশের শহীদ হন।

প্রশ্ন ৪। বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের মহিলা শহীদদের বিষয়ে একটি টাকা প্রস্তুত কর। 

উত্তর : ১৯৪২ সনের ভারত ত্যাগ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সনের ২০ সেপ্টেম্বর সেই সময়ের অবিভক্ত দরং জেলা এবং বর্তমানের শোণিতপুর জেলার বিভিন্ন থামাতে সেই থানাসমূহের অন্তর্গত গ্রামসমূহ হইতে হাজার হাজার লোক জাতীয় কংগ্রেসের স্থানীয় নির্দেশক্রমে স্থানীয় থানায় স্বরাজ পতাকা উত্তোলন করিতে শোভাযাত্রা করিয়াছিল। এই শোভাযাত্রায় প্রত্যেক গ্রামের পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সকলেই অংশ গ্রহণ করিয়াছিল। এই শোভাযাত্রাকারীদের প্রত্যেক থানাতে ব্রিটিশ বাহিনী বাঁধা দিতে গিয়া নানা ভাবে নির্যাতন এবং গুলী চালনা করিয়াছিল। ইহার ফলে বিয়াল্লিশের ২০ সেপ্টেম্বর শোণিতপুর জেলায় তিনজন মহিলা এবং একজন কিশোরী বৃটিশ পুলিশের গুলীতে জাতীয় শহীদ হন। এই কয়েকজন শহীদ হইলেন গহপুর থানায় শহীদ হওয়া বীরাঙ্গনা কনকলতা বরুয়া, ঢেকীয়াজুলি থানায় নিহত হওয়া শহীদ কুমলী দেবী, শহীদ হুলী দেবী এবং কিশোরী শহীন ছিলেন ভিলেশ্বরী বরুয়া। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে তিলেশ্বরী বরুয়াই হইলেন সর্বকনিষ্ঠ শহীদ। সেই সময় তাঁহার বয়স ছিল মাত্র ১২ বৎসর।

Sl.No.Chapters name
ইতিহাস
Chapter 1ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন
Chapter 2ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষণ
Chapter 3মোয়ামারীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter 4মানের অসম আক্ৰমণ
Chapter 5আসামে ব্রিটিশ প্রশাসনের আরম্ভণি
Chapter 6বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ
ভূগোল
Chapter 1ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
Chapter 2বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ
Chapter 3ভারতবর্ষের ভূগোল
Chapter 4অসমের ভূগোল
রাজনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1ভারতের রাজনৈতিক দল
Chapter 2সরকারের প্রকার বা শ্রেণিবিভাগ
অর্থনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহ
Chapter 2মূল অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ

প্রশ্ন ৫। সংক্ষিপ্ত টীকা লিখা :

(ক) ক্রিপস প্রস্তাব

(খ) শহীদ দয়াল পাণিকা

(গ) শহীদ মহীরাম কোচ

উত্তর : (ক) ক্রিপস প্রস্তাব : ১৯৩৯ সনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হয়। এই যুদ্ধে ভারতীয়দের সমর্থন ইংরাজদের কাছে প্রয়োজনীয় হইয়া পরে। এই উদ্দেশ্যে স্যার রেকর্ড ক্রিপসকে ইংরেজ সরকার ভারতে পাঠায়। ক্রিপস ভারতীয় জাতীয় নেতাদের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইংরাজদের সমর্থন করার প্রস্তাব জানান। কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতাগণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ক্রিপসের নিকট হইতে না পাওয়ায় তাঁহারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

(খ) শহীদ দয়াল পাণিকা : শহীদ দয়াল পাণিকা মিজিকা চা বাগানের একজন প্রাক্তন চা শ্রমিক ছিলেন। পরে তিনি কৃষিকে জিবিকা হিসাবে গ্রহণ করেন। নাহরবারী মৌজার কাঠনিবারী গ্রামে তাঁহার জন্ম হয়। একজন সরল প্রাণ কৃষক দয়াল পাণিকা ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকিয়াজুলী থানা অভিমুখে যাত্রা করা শোভাযাত্রাকারীর দলে সামিল হইয়া ব্রিটিশ পুলিশের গুলীতে প্রাণ ত্যাগ করিয়া জাতীয় শহীদ রূপে খ্যাত হন। পরে তাঁহার পরিবারটি ওদালগুড়ি জেলার ১নং রৌতা গ্রামে স্থানান্তরিত হয়।

(গ) শহীদ মহীরাম কোচ : অল্প বয়সেই পিতার মৃত্যু হওয়ায় শহীদ মহীরাম কোচের বাল্যকালের জীবন খুবই সংঘাতপূর্ণ ছিল। খুব কষ্টের মধ্যে তিনি বড় হন। বরছলা মৌজার কেহেরুখন্দা গ্রামে তাঁহার জন্ম হইয়াছিল। তাঁহার পিতার নাম গেরোলা কোচ। ১৯২১ সন হইতেই দেশের স্বাধীনতা মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া কংগ্রেসের সান্নিধ্যে আসিয়া প্রত্যেকটি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন। ১৯৪২ সনের ২০ সেপ্টেম্বর ঢেকীয়াজুলি থানা পর্যন্ত যাওয়া শোভাযাত্রাকারী দলের অন্যতম শহীদ কুমলী দেবী পুলিশের গুলীতে মাটিতে পরিয়া যাওয়া অবস্থায় মহীরাম কোচ স্বরাজের পতাকা হাতে তুলিয়া থানায় উত্তোলন করিতে অগ্রসর হন। এই অবসরে পুলিশের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করিয়া শহীদ হন।

Leave a Reply