SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-1| ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-1| ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ASSAMESE MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (BANGLA MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ENGLISH MEDIUM)

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-1| ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-9 Social Science Question Answer| History| Chapter-1| ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

পাঠ ১

পাঠ্যভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ভারত এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে সাগরীয় পথ আবিষ্কার করা প্রথম পর্তুগীজ নাবিক কে? তিনি কবে এবং ভারতের কোথায় সর্বপ্রথম উপস্থিত হইয়াছিলেন?

উত্তর : ভারত এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে সাগরীয় পথ আবিষ্কার করা প্রথম পর্তুগীজ নাবিক ছিলেন ভাস্কো-দা-গামা। তিনি ১৪৯৮ সালে এবং ভারতের কালিকট বন্দরে সর্বপ্রথম উপস্থিত হইয়াছিলেন । 

প্রশ্ন ২। কোন ইংরাজ নাবিক জলপথে প্রথম পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন?

উত্তর : ফ্রান্সিস ড্রেক নামক একজন ইংরাজ নাবিক জলপথে প্রথম পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৩। কোন ইংরাজ নাবিক ভারতের মাটিতে সর্বপ্রথম কবে প্রবেশ করিয়াছিলেন?

উত্তর ঃ ১৫৯৯ সালে জেমস্ মিলড্রেন হল নামক একজন ইংরাজ নাবিক ইংলেণ্ডের রাণী এলিজাবেথের নিকট হইতে অনুমতি পত্র লইয়া সর্বপ্রথম ভারতের মাটিতে প্রবেশ করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৪। ইংরাজ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি কবে এবং কোথায় গঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : ইংরাজ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে এবং লণ্ডনে গঠিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৫। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ভারতে অবস্থান করার দুইটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো। 

উত্তর : ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ভারতে অবস্থান করার দুইটি উদ্দেশ্য হইল—

(ক) ব্যবসায়-বাণিজ্য করিয়া প্রচুর লাভ অর্জন করা।

(খ) ইংরাজ কোম্পানিটি ভারতবর্ষে ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি করার পর সুযোগ বুঝিয়া ভারতবর্ষে রাজ্য শাসনের স্বপ্ন দেখিয়াছিল। এই স্বার্থ পূরণের জন্য তাঁহারা যখন দেখিল ভারতীয় রাজাদের মধ্যে ক্রমাগত শত্রুতা, দুর্বলতার সেই সুযোগ লইয়া ইংরাজগণ ভারতবর্ষে ইংরাজ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করিবার প্রয়াস করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৬। ইংরাজদের প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্রটি ভারতের কোথায় এবং কৰে স্থাপিত হইয়াছিল ?

উত্তর : মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে ১৬১৫ সালে সুরাটে প্রথম ইংরাজদের বাণিজ্য কেন্দ্রটি স্থাপিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৭। “ফর্ট উইলিয়াম’ কি?

উত্তর : ফর্ট উইলিয়াম হইল ইংরাজদের কলিকাতা নগরে প্রতিষ্ঠিত একটি বাণিজ্য কেন্দ্র। ইংলেন্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের সন্মানার্থে প্রতিষ্ঠিত কলিকাতাস্থিত একটি বাণিজ্য কেন্দ্র। পরে ইহা একটি সামরিক দুর্গে পরিণত হয়।

প্রশ্ন ৮। পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ শাসনের সময়কালকে কি কি দুইটি মূল ভাগে ভাগ করা যায়? সময় উল্লেখ করিয়া লেখো। 

উত্তর ঃ পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ শাসনের সময়কালকে কি কি দুইটি মূল ভাগে ভাগ করা যায়-

(ক) মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পর হইতে আরম্ভ করিয়া ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ পর্যন্ত।

(খ) ১৮৫৮ সাল হইতে ১৯৪৭ সালে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত।

প্রশ্ন ৯। ‘ভারত সরকার আইন’ কে, কবে এবং কি উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করিয়াছিলেন? 

উত্তর : সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সংসদ ১৮৫৮ সালের ২ আগষ্ট তারিখে ইংলেণ্ডের সরকারকে সরাসরি ভারত শাসন করার ক্ষমতা দেওয়ার জন্য ‘ভারত শাসন আইন’ প্রণয়ন করিয়াছিলেন।

এই নতুন আইনের দ্বারা ভারত শাসন সম্বন্ধীয় সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার একজন সদস্যের হাতে অর্পণ করা হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৯। ‘ভারতীয় পরিষদ আইন’ করে এবং কি উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সংসদে ভারতীয় পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হইয়াছিল। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থার সহিত শিক্ষিত ভারতীয়দের পরিচয় করাইয়া দেওয়া। শিক্ষিত ভারতবাসীদের অসন্তুষ্টির কারণ উপলব্ধি করার জন্য পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হইয়াছিল।

সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ইংরাজগণ ভারতের সহিত বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টা কখন সম্পূর্ণ হইয়াছিল ? ইহার পদক্ষেপগুলি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : ১৬৯০ সালে জব চার্নক নামে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির একজন অফিসার বংগের নবাবের সহিত একটি চুক্তির মাধ্যমে ১২০০ টাকার খাজনার বিনিময়ে কালিকট, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারীস্বত্ব লাভ করিয়া এখানে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করিয়াছিল। ইহাই ছিল ইংরাজদের ভারতের সহিত বাণিজ্য চুক্তি করার শেষ প্রচেষ্টা।

ভারতের সহিত বাণিজ্য করার জন্য ইংরাজদের পদক্ষেপগুলি হইল— 

(ক) ১৬০৮ সালে ইংলেণ্ডের রাজা প্রথম জেমস্ ভারতের সহিত বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কেপ্টেইন উইলিয়াম হকিন্স নামে এক বণিকের মাধ্যমে ভারতের মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট একটি আবেদনপত্র প্রেরণ করেন। ইহাই ছিল ইংরাজদের প্রথম পদার্পণ। কেপ্টেইন হকিন্স প্রায় দুই বৎসর থাকিয়া পরে বাণিজ্য চুক্তির আবেদনের মঞ্জুরি না পাইয়া চলিয়া যায়।

(খ) ১৬১৫ সালে ইংলেন্ডের রাজা প্রথম জেমস্ স্যার টমাস রো নামের অন্য একজন ইংরাজকে পুনরায় জাহাঙ্গীরের নিকট প্রেরণ করেন। টমাস রো আজমীরে সম্রাটের সহিত দেখা করেন। টমাস রো কোন প্রকার বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন না পাইয়া সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে ইংরাজ বণিকদের সুরাটে বাণিজ্যিক কুঠি নির্মাণের অনুমতি আদায় করেন।

(গ) ১৬১৫ সালে জন সারমানের নেতৃত্বে ইংরাজদের একটি দল মোগল সম্রাট ফারুকশিয়ারের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া পুনরায় বাণিজ্যিক চুক্তির প্রস্তাব দেয়। সেই সময় ফারুকশিয়ার অসুস্থ ছিলেন। ইংরাজ দলটির একজন চিকিৎসক ডাঃ হেমিল্টন সম্রাটকে চিকিৎসা করিয়া সুস্থ করিলে ইংরাজ বণিকগণ সম্রাটের নিকট হইতে তিনটি আদায় করিয়া লয়। ইহার দ্বারা ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুমতি লাভ করে। এইভাবে ইংরাজগণ ভারতের মাটিতে তাহাদের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করিতে সমর্থ হয়।

(ঘ) এইভাবে ইংরাজগণ গোলকুণ্ডা রাজ্যের সুলতানের নিকট হইতে অনুমতি লইয়া মছলিপট্টমে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। ১৬৩৬ সালে ইংরাজ কোম্পানি আরমাগাঁয়ে তাহাদের দ্বিতীয় বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। পরে ১৬৩৯ সালে চন্দ্রগিরির রাজার সহিত চুক্তি করিয়া ইংরাজগণ মাদ্রাজের নিকটে আরমা গ্রামের বাণিজ্য কেন্দ্র তুলিয়া নিয়া কেন্দ্রটির নতুন নাম দেয় ফোর্ট সেন্ট জর্জ।

(ঙ) ১৬৬১ সালে ইংলেণ্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস্ পর্তুগীজ রাজকন্যাকে বিবাহ করিয়া ভারতের বোম্বাই শহরটি যৌতুক হিসাবে লাভ করেন। রাজা চার্লস্ ১৬৬৮ সালে পঞ্চাশ হাজার পাউণ্ড ঋণের বিনিময়ে বোম্বাই শহরটি ইংরাজ কোম্পানিকে হস্তান্তর করেন। তখন হইতে বোম্বাই কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে পরিণত হয়।

প্রশ্ন ২। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি কেমন করিয়া ভারতের তিনটি প্রধান স্থানে বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করিয়াছিল তার তিনটি মূল কৌশল সম্পর্কে লেখো।

উত্তর : ১৬১১ সালে ইংরাজ কোম্পানি গোলকুণ্ডা রাজ্যের সুলতানের নিকট হইতে অনুমতি লইয়া মছলিপট্টমে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে।

১৬০৬ সালে ইংরাজ কোম্পানি আরমা গ্রামে দ্বিতীয় বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। ১৬৩৯ সালে চন্দ্রগিরির রাজার সহিত চুক্তি করিয়া মাদ্রাজের নিকটে আরমা গ্রামের বাণিজ্য কেন্দ্ৰ তুলিয়া লইয়া কেন্দ্রটির নতুন নাম দেওয়া হয় ফোর্ট সেন্ট জর্জ। ১৬৬১ সালে ইংলেন্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস্ পর্তুগীজ রাজকন্যা কেথারিনকে বিবাহ করিয়া বোম্বাই নগর যৌতুক হিসাবে লাভ করে। রাজা চার্লস্ ১৬৬৮ সালে পঞ্চাশ হাজার পাউণ্ড ধনের বিনিময়ে বোম্বাই নগরটি ইংরাজ কোম্পানিকে হস্তান্তর করে।

১৬৯০ সালে জব চার্নক নামে কোম্পানির এক উর্ধতন কর্মচারি বংগ বিহার উরিষ্যার নবাব সিরাজ উদ্দৌলার সহিত একটি চুক্তি করিয়া বসবে বারশ টাকার খাজনার বিনিময়ে কলিকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারিস্বত্ব লাভ করিয়া এখানে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র আরম্ভ করে। এই তিনটি স্থানের সমষ্টিই পরে কলিকাতা নগরের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে রাজা উইলিয়ামের সন্মানার্থে কলিকাতা বাণিজ্য কেন্দ্রটির নাম ফোর্ট উইলিয়াম রাখা হয়।

প্রশ্ন ৩। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কোন ব্যক্তি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করিয়া তুলিয়াছিলেন? তিনি কী কী কৌশলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন তাহার চারিটি যুক্তি দাও।

উত্তর : ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি রবার্ট ক্লাইভ ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করিয়া তুলিয়াছিলেন। 

রবার্ট ক্লাইভ ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়িয়া তোলার কূটনৈতিক কলা-কৌশল অতি কম সময়ের মধ্যেই আয়ত্ব করিতে সক্ষম হইয়াছিল।

(ক) রবার্ট ক্লাভ তাঁহার কোম্পানির স্বার্থে অন্যান্য বিদেশী ইউরোপীয় কোম্পানিকে ভারত হইতে বহিষ্কার করার উদ্যোগ লইয়াছিলেন।

(খ) তিনি যুদ্ধ অথবা মিত্রতার হলে দেশীয় রাজাদের কোম্পানির পক্ষ অবলম্বন করিতে প্রচেষ্টা চালাইয়াছিলেন। ইহাতে বঙ্গের নবাব, হায়গরাবাদের নিজাম, অযোধ্যার নবাব, রাজপুতনার রাজাগণ কোম্পানির সহিত মিত্রতা করিয়া প্রত্যেকেই নিজের নিজের কর্তৃত্ব হারাইতে বাধ্য হইয়াছিল।

(গ) বঙ্গ-বিহার-উরিষ্যার নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে ছল-চাতুরির দ্বারা রবার্ট ক্লাইভ পরাস্ত করিয়া ভারতব,ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করিয়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সুদৃঢ় করিয়া তুলিয়াছিলেন।

(ঘ) রবার্ট ক্লাইভের হাত হইতে লর্ড ডালহৌসি শাসনের সময় পর্যন্ত ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি কালক্রমে সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৪। সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার চারিটি কারণ লেখো।

উত্তর ঃ সিপাহি বিদ্রোহের প্রধান কারণগুলি হইল— 

(ক) ব্রিটিশের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব দেশীয় রাজাদের অধিকার হরণ। দিল্লির সম্রাট বাহাদুর শাহকে দিল্লির সিংহাসন হইতে বিতাড়ন, নানা সাহেবের বার্ষিক বৃত্তি বন্ধ করা, দেশীয় রাজ্যের সৈনা ও কর্মচারিদের বেকারত্ব এবং সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি সিপাহি বিদ্রোহের প্রধান রাজনৈতিক কারণ।

(খ) সাম্রাজ্যবাদী শোশণ, দেশীয় কুটির শিল্পের ধ্বংস, উদ্ভূত বেকার সমস্যা, উচ্চ হারে কর, দুর্বিক্ষ, ভূমি ব্যবস্থা, কোম্পানির মুদ্রা হইতে মোগল সম্রাটের নাম বাদ দেওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন-যাত্রা অসহনীয় করিয়া তুলিয়াছিল। এইসকল অর্থনৈতিক কারণে সিপাহি বিদ্ৰোহ হইয়াছিল।

(গ) রাজকীয় পার্শি ভাষার উচ্ছেদ, শাসনযন্ত্রে ইংরাজি ভাষার প্রচলন, সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার, ইংরাজদের ধর্ম প্রচার ইত্যাদি সামাজিক কারণে সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হইয়াছিল।

(ঘ) দেশীয় সিপাহিদের পদোন্নতির সুযোগ বন্ধকরণ। সেবাভুক্তি আইন, প্রবর্তন,এনফিল্ড রাইফলের প্রবর্তন। ভারতীয় সিপাহিদের মধ্যে অসন্তুষ্টির সামরিক কারণে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৫। সিপাহি বিদ্রোহের চারিটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল উল্লেখ করো। 

উত্তর: (ক) ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নবযুগের সূচনা হইয়াছিল। কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।

(খ) ইংরাজ শাসকের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই বিদ্রোহ ভারত সম্বন্ধে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির অনেক পরিবর্তন হইয়াছিল। ভারতের শাসনভার ইংলেণ্ডের সম্রাটের হাতে চলিয়া যায়।

(গ) ক্ষুব্ধ ভারতীয়দের সন্তুষ্ট করিতে ভারতে ইংরাজ শাসন টিকিয়া থাকিবার স্বর্তে ভারতের শাসন ব্যবস্থায় কিছু কিছু নতুন বিধি-বিধান প্রবর্তন করা হয়।

(ঘ) দেশীয় রাজ্য অধিকার না করিয়া যোগ্যতা অনুসারে ভারতীয়দের উচ্চ পদে নিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের সঞ্চার হয়।

প্রশ্ন ৬। ‘ভারত সরকার আইন’-এর মাধ্যমে প্রবর্তিত চারিটি প্রশাসনীয় পরিবর্তন উল্লেখ করো।

উত্তর ঃ ১৮৫৮ সালের ২রা আগষ্ট ব্রিটিশ সংসদে ভারত সরকার আইন প্রণয়ন করা প্টহয়।

(ক) এই আইনের মাধ্যমে ইংলেণ্ডের সরকারকে সোজাসুজি ভারত শাসন করার ক্ষমতা দিয়াছিল।

(খ) ভারত শাসনের সকল প্রকার দায়িত্ব ইংলেণ্ডের সরকারের হাতে ন্যস্ত করার ফলে কোম্পানির আমলে ভারতের সহিত জড়িত থাকা নিয়ন্ত্রণ পরিষদ (Board of Control) এবং সঞ্চালক সভা (Court of Directors) কর্তৃত্বে অবসান ঘটিয়াছিল।

(গ) নতুন আইন অনুসারে ভারত শাসন সম্বন্ধীয় সকল প্রকার দায়িত্ব ও ক্ষমতা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার একজন সদস্যের হাতে অর্পণ করা হয়। প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এই মন্ত্রীকে ‘ভারত সচিব’ বলা হইত। ভারত সচিবকে সাহায্য করার জন্য ১৫ জন সদস্যের এক পরিষদ গঠিত হয়। পরিষদের মোট সদস্যের ৮ জন ইংরাজ সরকারের এবং বাকী ৭ জন কোম্পানির পক্ষের। সচিব প্রধানকে বৎসরে একবার করিয়া ভারত শাসন সংক্রান্ত সকল তথ্য-পাতি প্রতিবেদনের আকারে ব্রিটিশ সংসদে জমা দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়।

(ঘ) ‘ভারত শাসন আইন’ অনুসারে ভারতের সর্বোচ্চ শাসনকর্তা হিসাবে গভর্নর জেনারেল থাকিলেও তাহাকে ভাইসরয় উপাধি প্রদান করা হয়।

প্রশ্ন ৭। লর্ড কেনিঙের দুইটি প্রধান সংস্কারের বিষয়ে লেখো।

উত্তর : ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর এলাহাবাদ দরবারে ভাইসরয় কেনিও নিজেকে মহারাণীর প্রতিনিধি বলিয়া ঘোশণা করিয়া সরাসরি ভারত শাসনের প্রথম ঘোশণা- পত্রটি পাঠ করেন।

(ক) প্রথমত ঘোষণার মধ্য দিয়া ভারতীয় প্রজা এবং দেশীয় শাসকের মনে সৃষ্টি হওয়া অশান্তি সন্দেহ দূর করিতে চাহিয়াছেন। লর্ড কেনিও এই ঘোষণার মাধ্যমে ধর্মের ক্ষেত্রে উদারতা ও সহিষ্ণুতা, আর্থিক সমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্বত্ব বিলোপ নীতি বর্জন করেন।

(খ) তিনি ভারতীয় রাজাদের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করিয়া ভারতবর্ষে ইংরাজ শক্তির ভবিষ্যতে রাজ্যবিস্তার না করার আশ্বাস প্রদান করেন। বিদ্রোহের সময় । কোম্পানি সরকারকে সাহায্য করা দেশীয় রাজাদের এবং কয়েকজন ব্রিটিশভক্ত ভারতীয় নেতাকে নিমন্ত্রণ করিয়া তাহাদের পুরস্কৃত করেন।

প্রশ্ন ৮। ‘ভারতীয় পরিষদ আইন’-এর দুইটি গুণ এবং দুইটি দোষ লেখো।

উত্তর : ১৮৬১ সালে ভারতীয় পরিষদ আইন’ ব্রিটিশ সংসদে প্রণয়ন করা হইয়াছিল। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষিত ভারতীয়দের পরিচয় করাইয়া দেওয়া।

ভারতীয় পরিষদ আইনের গুণ ঃ

(ক) ১৮৬১ সালের পরিষদ আইন কেন্দ্র এবং প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন করিয়া প্রাদেশিক সরকারগুলিকে শক্তিশালীরূপে গঢ়িয়া তুলিয়াছিল। ইহা ছাড়া এই আইন বোম্বাই এবং মাদ্রাজের গভর্নর দুইজনকে সর্বনিম্ন চারিজন এবং সর্বোচ্চ ৮ জন মনোনীত সদস্যের দ্বারা বিধান পরিষদ গঠন করার অনুমতি দিয়াছিল। সদস্যদের অর্ধেক অংশ ছিলেন বেসরকারি। ইহাদের কার্যকাল দুই বৎসর ধার্য করা হইয়াছিল।

(খ) ১৮৬১ সালের পরিষদ আইন বঙ্গ, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং পাঞ্জাবে বিধান পরিষদ গঠনের নির্দেশ জারি করিয়াছিল। এই নির্দেশের ভিত্তিতে ১৮৬২ সালে বঙ্গ এবং ১৮৯৮ সালে পাঞ্জাবে বিধান পরিষদ গঠন করা হইয়াছিল।

ভারতীয় পরিষদ আইনের দোষ :

(ক) ১৮৬১ সালে প্রবর্তিত পরিষদ আইনকে ত্রুটিহীন আইন বলা যায় না। এই আইন নবগঠিত প্রাদেশিক বিধান পরিষদগুলিকে নিজস্ব করিয়া কিছু আইনী ক্ষমতা যদিও দিয়াছিল প্রকৃতপক্ষে এই ক্ষমতাগুলি ছিল কেবল নামমাত্র। এই আইনের দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে অধিক ক্ষমতার অধিকাখি করিয়াছিল। ফলে প্রাদেশিক পরিষদের আইনী ক্ষমতা বহু ক্ষেত্রে সংকুচিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৯। ইংরাজদের সময়ে স্থানীয় স্বায়ত্ব শাসনের মাধ্যমে হওয়া পরিবর্তনগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর : (ক) (১৮৬৯-৭২) সময়ে লর্ড মেয়োর কার্যকালে গ্রহণ করা ‘বিত্তীয় বিকেন্দ্রীকরণ প্রস্তাব’-এ ভারতবর্ষের স্থানীয় স্বায়ত্ব শাসন ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত হইয়াছিল। ১৮৭০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হইতে কার্যকরী বিত্তীয় বিকেন্দ্রীকরণ প্রস্তাবের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণনা (পঞ্জীয়ন), জেল, পুলিশ ইত্যাদি বিভাগের দায়িত্ব প্রদেশগুলিকে দেওয়া হইয়াছিল।

(খ) বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিভাগগুলি আভ্যন্তরিণ প্রাদেশিক কাজকর্মের জন্য কেন্দ্রের নিকট হইতে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ যোগান ধরার নিয়ম করা হয়। কেন্দ্রের নির্দেশনায় প্রাদেশিক সরকারেও বিভাগ পরিচালনার নামে স্থানীয় কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করিতে হইয়াছিল।

(গ) লর্ড রিপণ (১৮৮০-৮৪) সালে ভারতবর্ষের স্বায়ত্ব শাসনের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিলেন।

লর্ড রিপণের স্বায়ত্ব শাসনের বিশেষ কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তনের প্রস্তাব করিয়াছিলেন যে যেখানে প্রশাসনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থানীয় শাসনকে রাজনৈতিক শিক্ষার এক মাধ্যম হিসাবেও গ্রহণ করার সুবিধা থাকে।

(ঘ) লর্ড রিপণ তাঁহার কার্যকালে গণতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত একদল ভারতীয়দের সাক্ষাৎ পাইয়াছিলেন যাহারা প্রশাসনীয় দক্ষতা আহরণ করার জন্য প্রথমাবস্থায় প্রশাসনে অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন অনুভব করিয়াছিলেন।

(ঙ) ভারতীয়দের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার এবং ভারতীয়দের আধুনিক প্রশাসনে সঙ্গে পরিচিতি করিয়া দেওয়ার সঙ্গে সমাজের বুদ্ধিমান লোকদের প্রাথমিক কাজগুলি তাহাদের দ্বারা সম্পন্ন করার উপরে গুরুত্ব দিয়াছিল। এইভাবে নির্বাচিত সদস্যদের নিযুক্তির মাধ্যমে প্রশাসনীয় দলগুলিকে কেন্দ্রীয় শাসনের কবল হইতে মুক্ত রাখার ইচ্ছা করিয়াছিল।

প্রশ্ন ১০। ভারতীয়গণ কেমন করিয়া অসামরিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত হইয়াছিল? এই সেবার বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর : ১৮৫৮ সালের পর ভারতীয় শিক্ষিত ব্যক্তিদের লোকসেবার পদবিতে দেশীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্রিটিশ সরকার আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছিলেন। শিক্ষিত ভারতীয়দের মনে গড়িয়া উঠা মনোভাবের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া ঊনবিংশ শতাব্দীর সত্তর দশক হইতে ভারতীয়দেরকে লোকসেবার পদবিতে নিযুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হইয়াছিল।

তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ (১৭৮৬-৯৩) ভারতীয়দের প্রশাসনের প্রধান পদে নিযুক্তি না দেওয়ার স্বপক্ষে ইংলেণ্ডের সরকারের কাছে যুক্তি উত্থাপন করিয়াছিলেন। তাঁহার অভিমত এই ছিল যে ভারতীয়গণ আধুনিক প্রশাসনের সঙ্গে একেবারেই অভ্যস্ত নহে এবং ভারতীয়দের হাতে শাসনের দায়িত্ব চাপাইয়া দিলে সেই প্রশাসন ইংরাজদের স্বার্থের বিপরীতে পরিচালিত হইবে। কিন্তু উদারমনা ইংরাজ চিন্তাবিদ স্যার থমাস্ মনরো এবং স্যার জন মেল্‌কম কর্ণওয়ালিশের এই যুক্তি মানিয়া লইতে পারেন নাই।

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দের সনদে ভারতীয় প্রার্থীকে শাসনের উচ্চ পদবিতে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়াছিল তবে এই আইনে বলা হইয়াছিল ভারতীয়দের লোকসেবার পদবিতে নিযুক্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু কোম্পানির ডাইরেক্টরদের বিরোধিতার জন্য তাহা সম্ভব হইয়া উঠে নাই। ইহার পর ১৮৩৩ সালে ডেপুটি মেজিষ্ট্রেট এবং ১৮৪৩ সালে ডেপুটি কালেক্টর নামে দুইটি পদের সৃষ্টি করিয়া এই পদগুলির জন্য ভারতীয় ব্যক্তি উপযুক্ত হইবে বলিয়া জানাইয়াছিল।

১৮৫৩ সালের সনদে লোকসেবার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল এবং ভারতীয়দের এই পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু ১৮৬২ সালের সিভিল সার্ভিস আইনে সন্নিবিষ্ট ধারা অনুসারে লোকসেবার পদবি অংগীকারাবদ্ধ ইংরাজ ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত হওয়ার জন্য কমিটির উপদেশ কার্যকরী হয় নাই। ১৮৬৫ সালে লোকসেবা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হইতে সর্বোচ্চ বয়স ছিল ২২ বৎসর। ইহা ১৮৬৬ সালে ২১ বৎসর কমাইয়া আনা হয়। ভাইসরয় লর্ড লিটানের কার্যকালে লোকসেবার পরীক্ষার্থীর বয়স ২১ বৎসর হইতে ১৯ বৎসরে হ্রাস করা হইয়াছিল। ইহার বিরুদ্ধে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র জনডাগরণ গড়িয়া তোলায় ইংলেণ্ড সরকার আইনবিদ লালমোহন ঘোষের যুক্তি মানিয়া লইয়া লোকসেবার পারীক্ষার্থীর বয়স পুনরায় ২২ বৎসর করিতে বাধ্য হইয়াছিল। কিন্তু ভাইসরয় লর্ড লিটন নিজে লোকসেবা পদের নিযুক্তির জন্য ভারতীয়দের উচ্চবংশজাত ভারতীয় ব্যক্তিকে নিযুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইহাতে উচ্চশ্রেণীভূক্ত ভারতীয়গণ আকর্ষণ না দেখানোর ফলে এই ব্যবস্থাটি কার্যকরী হইতে পারে নাই।

প্রশ্ন ১১। ব্রিটিশ অধীন ভারত এবং স্বাধীন ভারতের অসামরিক লোকসেবা সম্পর্কে তিনটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তর : (ক) ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে ভারতের লোকসেবার পদবিগুলি কেবল ইংরাজদের দ্বারাই পূরণ করা হইয়াছিল। কিন্তু ১৮৫৮ সালের মহারাণীর ঘোষণাপত্রের দ্বারা দেশীয় লোকদের নিরপেক্ষভাবে লোকসেবা পদবিতে নিয়োগ করার আশ্বাস দিয়াছিল সত্য কিন্তু এই আশ্বাসের ভিত্তিতে ভারত সচিব কমিটি গঠন করা সত্ত্বেও তাহা কার্যকরি হয় নাই। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পরে লোকসেবায় নিয়োগের পুরান পদ্ধতি অবলুপ্ত হইয়াছিল।

(খ) ১৮৯৩ সালে দুইজন ব্রিটিশ সংসদে ইংলেণ্ড এবং ভারতে এক সময়ে লোকসেবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার প্রস্তাব গ্রহণ করিলেও তাহা কার্যকরি হয় নাই। স্বাধীন ভারতে সর্বভারতীয় পর্যায়ে মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করা হয়।

(গ) ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সংসদে এক আইনযোগে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় লোকসেবা আয়োগ এবং ‘প্রাদেশিক লোকসেবা আয়োগ’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও প্রস্তাবিত সেবার নতুন ব্যবস্থাপনার প্রতি শিক্ষিত ভারতীয়দের মনে কোন আগ্রহ দেখা দেয় নাই। ইহাতে ভারতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয়দের নিরপেক্ষভাবে লোকসেবায় নিযুক্তি দেওয়া হয় নাই। বলিয়া আপত্তি তুলিয়াছিল। কিন্তু স্বাধীন ভারতবর্ষে সর্বভারতীয় সোকসেবা কমিশন। এবং প্রাদেশিক পর্যায়ে রাজ্যিক লোকসেবা কমিশন গঠন করা হয়।

Sl.No.Chapters name
ইতিহাস
Chapter 1ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন
Chapter 2ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষণ
Chapter 3মোয়ামারীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter 4মানের অসম আক্ৰমণ
Chapter 5আসামে ব্রিটিশ প্রশাসনের আরম্ভণি
Chapter 6বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ
ভূগোল
Chapter 1ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
Chapter 2বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ
Chapter 3ভারতবর্ষের ভূগোল
Chapter 4অসমের ভূগোল
রাজনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1ভারতের রাজনৈতিক দল
Chapter 2সরকারের প্রকার বা শ্রেণিবিভাগ
অর্থনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহ
Chapter 2মূল অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির করো :

(ক) ইংরাজ নাবিক ফ্রান্সিস ড্রেক জলপথে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন—

(অ) ১৪৯৮ সালে

(ই) ১৪৫৩ সালে

(আ) ১৫৮০ সালে

(ঈ) ১৫৫২ সালে

উত্তর ঃ (আ) ১৫৮০ সালে।

(খ) ইংরাজ বণিকগণ লণ্ডনে প্রাচ্যের সহিত ব্যবসায় করার উদ্দেশ্যে ইষ্ট ইণ্ডিয়া নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করিয়াছিলেন—

(অ) ১৫৯৯ সালে 

(আ) ১৬২৭ সালে

(ই) ১৬০০ সালে

(ঈ) ১৭১৫ সালে

উত্তর : (ই) ১৬০০ সালে।

(গ) ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করিয়াছিল-

(অ) কোলকাতায়

(আ) আগ্রায়

(ই) মাদ্রাজে 

(ঈ) সুরাটে

উত্তর ঃ (ঈ) সুরাটে।

(ঘ) ভারতের সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছে স্যার টমাস রো-কে পাঠাইয়াছিলেন-

(অ) রাণী এলিজাবেথ,

(আ) দ্বিতীয় জেমস্

(ই) প্রথম জেমস্

(ঈ) দ্বিতীয় চার্লস্

উত্তর : (ই) প্রথম জেমস্।

(ঙ) ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি প্রধানতঃ ভারতে আসার উদ্দেশ্য ছিল—

(অ) ব্যবসা-বাণিজ্য

(আ) রাজ্য শাসন

(ই) দস্যুবৃত্তি

(ঈ) ধর্ম প্রচার

উত্তর : (অ) ব্যবসা-বাণিজ্য।

প্রশ্ন ২। কখন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন সৃষ্টি হয় ?

উত্তর : ১৮৫৯ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ৩। কোন বড়লাট উডের শিক্ষাসংস্কার প্রকল্প ভারতে প্রবর্তন করিয়াছিলেন?

উত্তর : লর্ড কেনিঙ উডের শিক্ষাসংস্কার প্রকল্প ভারতে প্রবর্তন করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৪। কোন সালের কি আইন বঙ্গ, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং পাঞ্জাবে বিধান পরিষদ গঠনের নির্দেশ জারি করিয়াছিল ?

উত্তর ঃ ১৮৫৯ সালের ‘ভারতীয় পরিষদ আইন’ বঙ্গ, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং পাঞ্জাবে বিধান পরিষদ গঠনের নির্দেশ জারি করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৫। ভারতে স্বায়ত্ত শাসনের ভিত্তি কে প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন ?

উত্তর : লর্ড রিপণ ভারতে স্বায়ত্ত শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৬। কত সালে ভারতে নিয়ন্ত্রণকারী আইন বলবৎ করা হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৭৯৩ সালে ভারতে নিয়ন্ত্রণকারী আইন (Regulating Act) বলবৎ করা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৭। কোন ব্যক্তি প্রথম ভারতীয় হিসাবে ভারতীয় লোকসেবার পদবি লাভ করিয়াছিলেন?

উত্তর : সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ভারতীয় হিসাবে ভারতীয় লোকসেবার পদবি লাভ করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৮। আসামের কোন ব্যক্তি ভারতীয় লোকসেবার পরীক্ষায় কৃতকার্য হইতে পারিয়াছিলেন?

উত্তর : আনন্দরাম বরুয়া ভারতীয় লোকসেবার পরীক্ষায় কৃতকার্য হইতে পারিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৮। কত সালে পাব্লিক সার্ভিস কমিশন গঠিত হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৮৮৬ সালে পাব্লিক সার্ভিস কমিশন গঠিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৯। কত সালে ব্রিটিশ সংসদে ভারতবর্ষে যুক্তরাষ্ট্র গঠন হইবে বলিয়া ঘোষণা করা হয় ?

উত্তর : ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সংসদে ভারতবর্ষে যুক্তরাষ্ট্র গঠন হইবে বলিয়া ঘোষণা করা হয়। 

প্রশ্ন ১০। ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত লোকসেবা পরীক্ষার পরীক্ষার্থীর বয়সসীমা কত ছিল ?

উত্তর : ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত লোকসেবা পরীক্ষার পরীক্ষার্থীর বয়সসীমা ছিল ২২বৎসর।

প্রশ্ন ১১। কোন সময় ভারতে কোম্পানি শাসনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ?

উত্তর : রবার্ট ক্লাইভের দ্বিতীয়বার ভারতে আগমন (১৭৬৫-৬৭) সাল ভারতে কোম্পানি শাসনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

প্রশ্ন ১২। কোন আইনের দ্বারা ভারতে দুইটি পর্যায়ের সরকারের সৃষ্টি হয় ?

উত্তর ঃ ১৭৮৪ সালে পিটের ভারত আইনের (Pin’s India Act) দ্বারা ভারতে দুইটি পর্যায়ের সরকারের সৃষ্টি হয়। 

প্রশ্ন ১৩। বিদ্রোহের সময় ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ চেতনা ধ্বংস করার জন্য ইংরাজ শাসক কী নীতি গ্রহণ করিয়াছিলেন?

উত্তর : বিদ্রোহের সময় ভারতীয়দের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ চেতনা ধ্বংস করার জন্য ইংরাজ শাসক ‘ভাগ করা এবং শাসন করা (Divide and Rule)’ নীতি গ্রহণ করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ১৪। কোন বড়লাটের সময়ে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ভারতের একমাত্র শক্তিরূপে‌ পরিগণিত হয় ?

উত্তর : লর্ড ওয়ারেন হেষ্টিংসের সময়ে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ভারতের একমাত্র শক্তিরূপে পরিগণিত হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। কত সালে এবং কোথায় ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হইয়াছিল?

উত্তর : ১৬০০ সালে লণ্ডনে প্রথম ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ২। কোন বণিক দল কাহার অনুমতি লইয়া কোথায় কত বৎসরের জন্য ব্যবসায় করার অধিকার লাভ করিয়াছিল ?

উত্তর ঃ ইংলেণ্ডের ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ইংলেণ্ডের রাণী এলিজাবেথের অনুমতি লইয়া দক্ষিণদিকে উত্তমাশা অন্তরীপ হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণ আমেরিকার ম্যাগালান প্রণালি পর্যন্ত সাগরীয় পথে ১৫ বৎসরের জন্য ব্যবসায় করার অধিকার লাভ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩। কে এবং কত সালে কলিকাতা নগর প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল ?

উত্তর : জব চার্নক ১৬৯০ সালে কলিকাতা নগর প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৪। কে, কত সালে এবং কোথায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিল ? 

উত্তর : ১৭৫৭ সালে রবার্ট ক্লাইভ বঙ্গদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৫। কোন বড়লাটের শাসনকালে ভারতে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হইয়াছিল এবং এই বিদ্রোহের প্রধান বিদ্রোহী কে ছিলেন?

উত্তর : লর্ড কেনিঙের শাসনকালে ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ তারিখে ভারতে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হইয়াছিল। এই বিদ্রোহের প্রধান বিদ্রোহি ছিলেন ৩৪নং দেশীয় পদাতিক বাহিনীর সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডে।

প্রশ্ন ৬। সিপাহি বিদ্রোহের তিনটি কারণ উল্লেখ করো। 

উত্তর : (ক) ১৮৩৫ সালে কোম্পানির মুদ্রা হইতে মোগল সম্রাটের নাম উঠাইয়া দেওয়া।

(খ) লর্ড ডালহৌসির স্বত্ত্ব বিলোপ নীতি প্রবর্তন। 

(গ) ভারতীয় সিপাহিদের ধর্মনাশের চেষ্টা (এনফিল্ড রাইফলের প্রবর্তন)।

Leave a Reply