SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-4| অসমের ভূগোল

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-4| অসমের ভূগোল, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ASSAMESE MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (BANGLA MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ENGLISH MEDIUM)

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-4| অসমের ভূগোল

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-4| অসমের ভূগোল দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

পাঠ ৪

পাঠ্যভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। অসমের ভূ-প্রাকৃতিক ভাগ কয়টি কি কি ? 

উত্তর : অসমের ভূ-প্রকৃতিকে চারিটি ভাগে ভাগ করা হয় – (ক) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা (খ) বরাক উপত্যকা (গ) কার্বি মালভূমি এবং (ঘ) বরাইল ও দক্ষিণের পর্বতমালা। 

প্রশ্ন ২। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলি কি কি?

উত্তর : সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে চারিটি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়— (ক) উত্তরের পাদদেশ অঞ্চল, (খ) ব্রহ্মপুত্রের উত্তর ও অক্ষিণ পারের সমভূমি অঞ্চল, (গ) ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমি এবং (ঘ) দক্ষিণের পাদদেশ অঞ্চল।

প্রশ্ন ৩। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর ও দক্ষিণ পারের চারিটি প্রধান উপনদীর নাম লিখ।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্রের উত্তর পারের চারিটি নদীর নাম হইল—সুবনশিরি, ডিক্রং, রঙানদী এবং বুরৈ। 

ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ পারের চারিটি নদীর নাম হইল–বুড়িদিহিং, দিছাং, দিখৌ এবং বুরৈ।

প্রশ্ন ৪। ব্রহ্মপুত্র সমভূমির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর : অসমের উত্তরাংশে ভূটান এবং অরুণাচল হিমালয়ের পাদদেশে ব্রহ্মপুত্র- সমতল ভূমি অবস্থিত। পূর্বে তিনসুকীয়া জেলার শদিয়া মহকুমা হইতে পশ্চিমে ধুবড়ি জিলার ধুবড়িমহকুমা পর্যন্ত এই সমতলটিতে ১৮টি প্রশাসনিক জিলা আছে। ইহার মোট জমির কালি প্রায় ৫৪,৪০০ বর্গ কিলোমিটার। বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদী যুগ যুগ ধরিয়া পূর্বের অবয়বের পরিবর্তন ঘটাইয়া এবং স্থানে স্থানে নূতন অবক্ষেপ ঘটাইয়া এই বিস্তীর্ণ সমতল গড়িয়া উঠিয়াছে।

ইহা একটি বৃহৎ সমতল। পূর্বদিক হইতে পশ্চিম দিক পর্যন্ত ইহার দৈর্ঘ্য १ কিমি এবং উচ্চতা দক্ষিণ দিকে গড়ে ৯০ কিমি হইবে। সমতলটিতে দেখার মত ভূ- প্রকৃতি এই যে পূর্ব হইতে পশ্চিম ইহার ঢাল অতিক্রম। সেইজন্য একসঙ্গে দুইদিন বৃষ্টি হইলেই বন্যা দেখা দেয়। এই সমতলের ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় ৪০টি বড় নদী আছে। এই উপনদীগুলির সঙ্গে আরও বহু নূতন-পুরানো নদীর সুতি, খাল, ডোবা, বিল এবং জলাভূমি ইত্যাদি দেখিতে পাওয়া যায়।

ব্রহ্মপুত্র সমতলের উত্তর পারের প্রধান প্রধান উপনদীগুলি হইতেছে—সুবর্ণশিরি, রঙ্গনদী, ডিব্রু, বরগাং, জীয়াভরালী, বরনদী, জিয়া ধানশিরি, পাগলাদিয়া, মানস, চম্পাবতী, সোনকোশ ইত্যাদি।

অপরদিকে এই সমতলের দক্ষিণ পারের প্রধান প্রধান উপনদীগুলি হইল ডিব্ৰু, বুড়িদিহিং, দিছাং, দিখৌ, জাঁজী, ভোগদৈ, ধনশিরি, কলং, কপিলী, ডিগারু, কুলসী, দুধনৈ, কৃষ্ণাই, জিনারী এবং জিঞ্জিরাম ইত্যাদি।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভূ-প্রকৃতির অপর একটি মনে রাখার মত চরিত্র হইল যে

ইহার নদীগুলিতে বেশ ভাঙন হয়। এইরূপ ভাঙনে কৃষিজ শস্যের যথেষ্ট ক্ষতি হয়,ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট জলে ডুবিয়া যায় এবং বিস্তর পরিমাণ ক্ষতিসাধন হইয়া থাকে। ব্রহ্মপুত্রের উচ্চভাগে জোড়হাট জিলার উত্তরাংশে মাজুলী নদীদ্বীপ আছে। বর্তমানে ইহার কালি কমিয়া গিয়া ৮০০ বর্গ কিলোমিটার দাঁড়াইয়াছে। পূর্বে ইহার কালি ছিল ১২০০ বর্গ কিমি। ক্ষয়ীভবনের ফলে এই অঞ্চলটির অন্য একটি ভূ-প্রকৃতির অবয়ব হইয়াছে ব্রহ্মপুত্রের পারে অবস্থিত টিলাগুলি। ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে স্থানে স্থানে কিছু কিছু অতি প্রাচীন টিলা ও পাহাড় দেখা যায়। এই টিলাগুলিই আসলে মেঘালয় উত্তর দিকে আগাইয়া আসা অংশবিশেষ।

ইহার অন্য একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হইতেছে, ইহার উত্তরাংশের হিমালয়ের পাদদেশে যুক্ত হইয়া থাকা গভীর অরণ্য অঞ্চল। এই অরণ্য অঞ্চলকে তরাই অঞ্চল বলা হয়। 

প্রশ্ন ৫। ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমি অঞ্চলটির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্রের নদী অঞ্চল ও চর অঞ্চল লইয়া যে ভূমিভাগ গঠিত হইয়াছে তাহাকে প্লাবনভূমি বলে। ব্রহ্মপুত্র নদী অসমে প্রায় ৬ হইতে ৮ কি.মি. প্রশস্ত। ইহা জল পরিবহণ ও প্ল পরিবহনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নদী। ইহা মাঝে মাঝে গতিপথ পরিবর্তন করিয়া থাকে। ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা সৃষ্ট নদীর তীরের ভাঙ্গন ও বন্যা অসমের জ্বলন্ত সমস্যারূপে পরিগণিত হইয়াছে। এই নদীর বিশেষত্ব হইল যে ইহার বুকে প্রায় ৬০০-র অধিক ছোট-বড় আকারের বালির চর আছে। খনন, পরিবহন ও অধঃক্ষেপনের প্রক্রিয়া ছাড়াও বন্যার প্রভাবে নদী চরগুলির আকার, আকৃতি এবং অবস্থানের পরিবর্তন হইয়া থাকে। যোরহাট জেলার অন্তর্গত মাজুলী, ব্রহ্মপুত্রের বুকে একটি নদীদ্বীপের সৃষ্টি করিয়াছে। ইহা পৃথিবীর ভিতরে একটি অন্যতম বৃহৎ নদীদ্বীপ। বন্যা ও নদীতীর ভাঙ্গনের সমস্যা মাজুলীর জনজীবন বিপর্যস্ত করিয়া তুলিয়াছে। 

প্রশ্ন ৬। মাজুলীর ভৌগোলিক অবস্থান ও সৃষ্টি সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্রের বুকে মাজুলী নদীদ্বীপের সৃষ্টি হইয়াছে। ইহা যোরহাট জেলায় অবস্থিত। ইহা পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহৎ নদীদ্বীপ। ২০০১-এর জনগণনা অনুযায়ী এই দ্বীপ অঞ্চলের জনসংখ্যা ১,৫৩,৩৬২ জন। ইহার ভূমিভাগের কালি ৪২১.৬৫ বর্গ কি.মি.। ইহা যোরহাট জেলার মহকুমা। এই অঞ্চলে বন্যা ও নদীর ভাঙ্গন একটি অন্যতম সমস্যা। নদী ভাঙ্গনের ফলে মাটির আয়তন ধীরে ধীরে কমিয়া আসিয়াছে।

প্রশ্ন ৭। বরাক উপত্যকার চারিসীমা ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : অসমের দক্ষিণ অংশের বরাক উপত্যকায় বরাক সমতল অবস্থিত। ইহার পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৭০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মোটের উপর ৬৯৬২ বর্গ কিলোমিটারের একটি মাঝারি আকারের সমতল ভূমি। এখানে তিনটি প্রশাসনীয় জিলা আছে। জিলাগুলি হইল কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জ জিলা। অঞ্চলটির উত্তরে উত্তর কাছাড় পাহাড়, পূর্বে মণিপুরের পাহাড়গুলি, দক্ষিণে মিজোরামের পাহাড়গুলি এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের সুরমা উপত্যকার সহিত সংলগ্ন।

তিন দিকে পাহাড় দ্বারা ঘেরা বরাক সমতল আসলে একটি নিম্নভূমি। পূর্বের জিরিবামের নিকট সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে সমতলটির উচ্চতা ৭৫ মিটার এবং পশ্চিমে করিমগঞ্জের নিকট ইহার উচ্চতা ৫১ মিটার। ইহার মধ্য দিয়া আঁকিয়া- বাঁকিয়া মন্থর গতিতে প্রবাহিত হইয়া গিয়াছে বরাক নদী। উত্তরে মণিপুর এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল হইতে প্রবাহিত জিরি, লাবাক, মাধুরা, দালু, জাটিংগা, লাবাং ইত্যাদি উপনদীগুলি হইতেছে সোনাই, কাটাখাল, ধরেশ্বরী, শিংলা এবং লংগাই। বরাক এবং ইহার উপনদীগুলিতে বহু স্মৃতি এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বরাক সমতলটিতে দেখা যায়।

অপরদিকে বরাক সমতলটিতে উত্তর-দক্ষিণ দিকে বহু টিলা ছড়াইয়া আছে। ইহার শিলাময় অঞ্চলগুলি গভীর অরণ্যে ভরা। এই অঞ্চলটির উপত্যকা ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত।

প্রশ্ন ৭। কার্বি মালভূমির চারিসীমা ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র-সমতল এবং বরাক সমতলের মধ্যে মালভূমি এবং পার্বত্যভূমির একটি উচ্চ অঞ্চল আছে। এই উচ্চভূমির উত্তরাংশ হইল কার্বি মালভূমি এবং দক্ষিণাংশ হইল উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল। দুইটি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির উৎপত্তির সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা হইলেও দুইটি অংশই একটি অপরটির সহিত যুক্ত হইয়া অবস্থিত এবং দুইটিকেই একসঙ্গে এক অভিন্ন পার্বত্যভূমি বলিয়া মনে হয়।

কাৰ্বি উচ্চভূমি অঞ্চল আসলে মেঘালয় মালভূমির পূর্বতম অংশ। এই মালভূমি আবার ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমির অংশ বিশেষ। ইহা প্রাক্ কেন্দ্রিয়ান যুগ হইতেই প্রতিষ্ঠিত আছে। কালক্রমে ইহার উপরের অংশগুলি অবক্ষয় ও নগীভবনের ফলে এবং পরবিহন প্রক্রিয়ায় বিচ্ছিন্ন হইয়া এখন সেইগুলি কঠিনতম অংশাকারে পর্বত ও পাহাড় হিসাবে দাঁড়াইয়া আছে।

প্রশ্ন ৯। বৰাইল ও দক্ষিণের পর্বতরাশির বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

উত্তর : নাগাল্যাঙ্গের টুয়েনমাও হইতে পশ্চিমের দিকে বিস্তৃত হওয়া বরাইল পর্বতের একাংশ অসমের ডিমা হাছাও জেলায় প্রসারিত হইয়াছে। বরাইল পর্বত পূর্বের নাগা পর্বত ও পশ্চিমের মেঘালয় মালভূমিকে সংযোগ করিয়াছে এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চলকে দুইটি অংশে ভাগ করিয়াছে। ইহার উত্তরের দিকের ঢালু অংশটি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অন্তর্গত এবং দক্ষিণের দিকের ঢালু অংশটি বরাক উপত্যকার অন্তর্গত।

প্রশ্ন ১০। অসমের জলবায়ু কোন প্রকারের জলবায়ুর অন্তর্গত ?

উত্তর : অসমের জলবায়ু উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। 

প্রশ্ন ১১। গ্রীষ্মকালে অসমে বৃষ্টি হইবার মূল কারণ কি?

উত্তর : উত্তর-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। ইহা ব্যতীত স্থানীয়ভাবে প্রবাহিত পার্বত্য বায়ু, উপত্যকা বায়ু ও অন্যনৈা জলাভূমি জলবায়ু বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলের বায়ু কিছুটা উষ্ণ হইয়া থাকে। ইহার ফলস্বরূপে গ্রীষ্মকালে সমভূমি অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে নিম্নচাপের সৃষ্টি হইয়া বৃষ্টিপাত ঘটায়। 

প্রশ্ন ১২। অসমের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : অসম উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। অসমে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও শীতকালে শুষ্ক অবস্থা এবং প্রায় সকল সময় অত্যধিক আর্দ্রতা ও কিছুটা পরিমাণে নিম্ন উজ্ঞতা বিরাজ করে। অসমের জলবায়ু ভৌগোলিক বৈচিত্রের জন্য যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের জলভাগ ও দক্ষিণ-পশ্চিম আর্দ্র মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির ফলে অসমের জলবায়ুর তারতম্য দেখা যায়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবর্তিত বায়ুর চাপের প্রভাব অসমের জলবায়ুতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মকালে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলের বায়ু ইহার নিকটবর্তী পাহাড়ীয়া অঞ্চলের বায়ু অপেক্ষা কিছুটা উষ্ণ। এই জন্যই সমভূমি অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী

বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল তথা মেঘালয় অঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। অসমে শীতকালে তাপমাত্রা প্রায় ৭° সেন্টিগ্রেড ও গ্রীষ্মকালে প্রায় ৩৫° সেন্টিগ্রেড বা কিছুটা অধিকও পরিলক্ষিত হয়।

প্রশ্ন ১৩। অসমের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত হওয়া স্থান দুইটির নাম ও

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ লিখ। উত্তর : অসমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হওয়া স্থানটি হইল উত্তর লখিমপুর। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৩৫ সে.মি. এবং সর্বনিম্ন বৃষ্টি হওয়া স্থানটি হইল লামডিং এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৯ সে.মি.।

প্রশ্ন ১৪। অসমের চারিটি জলবায়বীয় ঋতু কয়টি ও কি কি? ইহাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ। 

উত্তর : অসমের চারিটি জলবায়বীয় ঋতু কয়টি হইল – প্রাক্-মৌসুমী, মৌসুমী,প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী এবং শুষ্ক শীতকাল।

(ক) প্রাক্-মৌসুমী কাল : প্রাক্-মৌসুমী কালের সময়সীমা হইল মার্চ মাসের আরম্ভ হইতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। শীতকালের পর হইতেই ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাইতে থাকে। এই সময়ে প্রাতঃকালে উষ্ণতা কম থাকে, দিবাভাগে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং সন্ধ্যার পর হইতে কখনও কখনও বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়। বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে মাঝে মাঝে ধূলির ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিপাত ধান, পাট ও চাষীদের উপকার সাধন করে। এই সময়ে অসমে বসন্ত ঋতু বিরাজ করে। এপ্রিলের মধ্যভাগে বিহু উৎসব পালন করা হয়।

(খ) মৌসুমী কাল : অসমে মৌসুমী কালের সময়সীমা জুন মাসের আরম্ভ হইতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত বিরাজ করে। এই সময়সীমাকেই অসমে বর্ষাকাল বলা হয়। এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় (গড়ে প্রায় ২০০ সে.মি.)। এই ঋতুতে অসমের প্রধান ফসল শালিধান রোপণ করা হয়। সমগ্র অসম ও তৎসহ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে অত্যধিক বৃষ্টি হইবার ফলে ব্রহ্মপত্র ও বরাক নদী এবং উপনদীর জলপৃষ্ঠ বৃদ্ধি পাইয়া বন্যার সৃষ্টি করে।

(গ) প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল : সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ হইতে দক্ষিণ-পশ্চিম বিপরীত দিকে প্রবাহিত হইতে আরম্ভ করে। ধীরে ধীরে উষ্ণতা ও বায়ুর চাপ বৃদ্ধি বায়ু পাইতে থাকে এবং উত্তর-পূর্ব দিক হইতে বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকে। সাধারণতঃ ইহাকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী প্রবাহ বা প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী বায়ু বলা হয়। সাধারণতঃ অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাসকে প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল বলা হয়। এই সময়ে ভোরের বেলাতে কুয়াশা পড়ে।

(ঘ) শুষ্ক শীতকাল : অসমে নভেম্বর মাসের শেষ বা ডিসেম্বর মাসের আরম্ভ হইতে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ পর্যন্ত শীতকাল। অসমে শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল নিম্ন উষ্ণতা (১০ ডিগ্রীর নীচ পর্যন্ত)। শুষ্ক শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল সকালের দিকে ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির অভাবে অতিশয় শুষ্ক অবস্থা। এই সময়ে ধান কাটা হয় এবং ভোগালী বিহু উদযাপিত হয়।

প্রশ্ন ১৫। অসমের সকল স্থানে সম পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়না কেন?

উত্তর : অসমের সকল স্থানে সম পরিমাণে বৃষ্টিপাত না হইবার কারণ— 

(ক) তাপমাত্রার পার্থক্য : শীত ও গ্রীষ্ম কালের উষ্ণতার পার্থক্য অতিমাত্রায় বেশি। শীতকালে উষ্ণতার পরিমাণ প্রায় ৭০ সেন্টিগ্রেড এবং গ্রীষ্মকালে ৩৫০ সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত হয়। এই তাপমাত্রার পার্থক্যের জন্য বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।

(খ) ভূ-প্রকৃতি ঃ অসম রাজ্যটির ভূ-প্রকৃতি তথা অবস্থিতি ও নিকটবর্তী পার্বত্যভূমির প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের তারতম্য দেখা যায়। 

প্রশ্ন ১৬। অসমের বৃষ্টিপাতের স্থানিক বিতরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : অসমের এক পৃথক ধরণের ভূ-প্রকৃতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণের তারতম্য ঘটায়। সাধারণত দেখা যায় পার্বত্য অঞ্চল ও পাদদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী হয়। উপরি অসমের ভিন্নসুকীয়া, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর ও শিবসাগর জেলা; নিম্ন অসমের কোকরাঝার, ধুবুরী জেলা; দক্ষিণ অসমের কাছাড়, কমিরমগঞ্জ ও হাইলা জেলায় বৎসরে ২৫০ সে.মি.রও অধিক বৃষ্টিপাত হয়। আবার অন্যদিকে মধ্য অসমের নগাও ও কাৰ্বি আংলং জেলাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্ট কম। উল্লেখনীয় যে লংকা-লামডিং অঞ্চলে বৎসরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কেবলমাত্র ১২৯ সে.মি. পর্যন্ত হয়। নিম্নে বৃষ্টিপাতের স্থানিক বিতরণ সম্পর্কে একটি তালিকা দেওয়া হইল :

স্থানের নামবৃষ্টিপাত (সে. মি.)
১। গুয়াহাটী
২। ধুবরী
৩। বরপেটা
৪। গোয়ালপারা
৫। নলবারী
৬। মংগলদৈ
৭। রঙিয়া
৮। তেজপুর
৯ । নগাওঁ
১০। উত্তর লখিমপুর
১১। ডিব্ৰুগড
১২। শিবসাগর
১৩। হাফলং
১৪। যোরহাট
১৫। লামডিং
১৬। শিলচর
১৬৬
২৫৬
২২৯
২৪২
২৪২
১৮১
১৯০
১৮২
২০৩
৩৩৫
২৭৩
২৫০
২২৭
২২৭
১২৯
৩২৩

প্রশ্ন ১৭। অসমে পাওয়া মৃত্তিকার প্রকারসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। 

উত্তর : অসমে প্রাপ্ত মৃত্তিকাগুলিকে চারিভাগে ভাগ করা যায়— পলিযুক্ত মৃত্তিকা,গিরিপদ মৃত্তিকা, পর্বত মৃত্তিকা এবং কংকর মৃত্তিকা। 

(ক) পলিযুক্ত মৃত্তিকা (Allurial Soil) : ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলে বিস্তৃতভাবে পলিযুক্ত মৃত্তিকা পাওয়া যায়। নদী ও উপ নদীসমূহ দ্বারা বহন করিয়া আনা সারযুক্ত পলিমাটি বৎসর জমা হইয়া পলিযুক্ত মৃত্তিকা গঠিত হইয়াছে। পলিযুক্ত মৃত্তিকা দুইপ্রকারের—(ক) নতুন পলিযুক্ত মৃত্তিকা, (খ) প্রাচীন পলিযুক্ত মৃত্তিকা। নতুন পলিযুক্ত ধোঁয়া বর্ণের অম্লযুক্ত মৃত্তিকা সাধারণত ব্ৰহ্মপুত্র ও বরাক নদী সহ উপনদী গুলীর নিকটবর্তী অঞ্চলের সমভূমিতে পাওয়া যায়। এই মাটিতে ফসফরিক অ্যাসিড, নাইট্রোজেন ও হিমউমাস প্রায় থাকেনা।

(খ) গিরিপদ মৃত্তিকা (Piedmont Soil) : গিরিপদ মৃত্তিকা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উত্তর হিমালয়ের পাদদেশর সংকীর্ণ পর্বতের পাদদেশে পাওয়া যায়। অরুণচাল প্রদেশের সীমাতে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত হইয়া থাকা ঘন অরণ্য অঞ্চল শিলা ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

(গ) পাহাড়ীয়া মৃত্তিকা (Hill Soil) : পাহাড়ীয়া মৃত্তিকা সাধারণত অসমের দক্ষিণ- অংশের পাহাড়ীয়া অঞ্চলে দেখা যায়। এই মৃত্তিকাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় – লাল কলিযুক্ত মাটী ও লাল পলিযুক্ত মাটী। এই মৃত্তিকা সাধারণত শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া উৎপত্তি হইয়াছে এবং ইহার স্তরও পুরু। ইহা অম্ল যুক্ত।

লাল পলিযুক্ত মাটী অসম-অরুণাচল প্রদশের সীমার দক্ষিণ সংকীর্ণ অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই মাটী কার্বি ও বরাইল পর্বতের দক্ষিণাংশে, অসম-মিজোরামের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই মাটী অম্লীয় এবং ইহাতে নাইট্রোজেন, ফসফরিক অ্যাসিড, হিউমাস ও চূণ অতি কম পরিমাণে থাকে।

(ঘ) লেটেরাইট বা কংকর মৃত্তিকা (Laterite Soil) : প্রায় সমগ্র উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলা ও কার্বি সমভূমির দক্ষিণরে কিছু কিছু স্থানে পাওয়া যায়। ইহা ব্যতীত কাৰ্বি আংলং জেলার হামরেণ মহকুমার পূর্ব সীমান্ত, গোলাঘাট জেলার দক্ষিণ সীমান্তে ও বরাক ভুমির বরাইল পর্বতের পাদদেশ এই মৃত্তিকা পাওয়া যায়। এই মাটী কৃষ্ণ বর্ণের। এই মাটীতে নাইট্রোজেন, পটাস, ফসফরিক অ্যাসিড ও চূণ কম পরিমাণে থাকে।

প্রশ্ন ১৮। অসমের মৃত্তিকার অবক্ষয়ের কারণসমূহ কি কি ?

উত্তর : অসমের মৃত্তিকা কিছু সংখ্যক প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারক দ্বারা আক্রান্ত। ইহার ফলে মৃত্তিকার ভৌতিক ও রাসায়নিক গুণ গুলি নষ্ট হইয়া মৃত্তিকার অবক্ষয় ঘটিয়াছে। পাহাড়ের ঢালে প্রাকৃতিক কারণে ভূমি ক্ষয়, সমভূমি ও নিম্নভূমিতে সৃষ্টি হওয়া জলবন্ধন (Water logging) সমস্যাই প্রধান। মানব সৃষ্ট কারকগুলি হইল—(ক) বৃক্ষ কাটার ফলে ভূ-পৃষ্ঠের মৃত্তিকার ক্ষয় সাধন, (খ) ঢালু অঞ্চলে অবৈজ্ঞানিকভাবে কৃষিজাত করা,

(গ) পাহাড়ীয়া অচলে করা ঝুম চাষ, (খ) কৃত্রিম জলবন্ধন সমস্যা এবং (ঙ) অতি রাসায়নিক সার প্রয়োগ ইত্যাদি প্রধান।

প্রশ্ন ১৯। বর্তমান অসমের জনসংখ্যা কত? 

উত্তর ঃ ২০১১ সনের জনগণনা অনুযায়ী অসমের জনসংখ্যা ৩১.১৬ নিযুত।

প্রশ্ন ২০। অসমের অরণ্য সমূহকে কি কি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর : অসমের অরণ্যকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়— (ক) ক্রান্তীয় সবুজ অরণ্য (Tropical evergreen forest), (খ) ক্রান্তীয় অর্ধচিরসবুজ অরণ্য (Tropical Semia Evergreen forest), (গ) ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী অরণ্য (Tropical moist deciduons) (ঘ) নদী তীরবর্তী অরণা (Riverine forest) এবং (৫) ক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণপাতী অরণ্য (Tropical dry deciduous) |

প্রশ্ন ২১। বর্ষারণ্য কাহাকে বলে? অসমের বর্ষারণ্যের বৈশিষ্ট্য লিখ। 

উত্তর ঃ অসমের অতি বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হওয়া অঞ্চল গুলিতে এই অরণ্য দেখা যায়। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০০ সে.মি. বা ততোধিক বৃষ্টি হওয়া অঞ্চলগুলিকে এই অরণ্য দেখিতে পাওয়া যায়। ইহাকে বর্ষারণ্য (Rain Forest) বলে। অরুণাচল প্রদেশের পর্বতের নিম্নাংশের পাদদেশীয় অঞ্চল, তিনসুকীয়া ও ডিব্ৰুগড় জেলার দক্ষিণ অংশ ও বরাক উপত্যকার পাহাড়ীয়া অঞ্চলে এই প্রকার অরণ্য দেখা যায়।

চির সবুজ অরণ্য তিন ধরণের বৃক্ষ দেখিতে পাওয়া যায়। প্রথম স্তরে অতি উচ্চ বৃক্ষ। অসমের এই অরণ্যে হোলোং, শলখ, মেকাই ইত্যাতি উচ্চ বৃক্ষ দেখিতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় স্তরে কিছুটা স্তরে কম উচ্চ বৃক্ষ থাকে। নাহর, সিয়া নাহর, আমারি ইত্যাদি বৃক্ষ এই স্তরে দেখা যায়। নিম্নস্তরে দেখা যায় অতিশয় ক্ষুদ্র বৃক্ষের অরণ্য। ইহা বিভিন্ন ধরণের লতা-পাতা, বাঁশ-বেত কপৌ ফুল ইত্যাদিও দেখিতে পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২২। নদী তীরবর্তী অরণ্যের গুরুত্ব ও বর্তমান সঙ্কট সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : অসমের প্রাকৃতিক পরিবেশ বহু পরিমাণে নদী, বিল ইত্যাদি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নদী বিলের নিকটবর্তী অঞ্চলের জলাভূমিতে এক বিশেষ ধরণের অরণ্য দেখা যায়। নদী তীরবর্তী অরণ্য বলে। এই অঞ্চল কিছু সংখ্যক উচ্চ বৃক্ষ ছাড়াও ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ দেখিতে পাওয়া যায়। নদী তীরবর্তী অঞ্চল গুলি হইল – কাজিরঙা, ডিএসৈখোয়া, পবিতরা, ওরাং ইত্যাদি।

বর্তমান জনবসতি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে সম্প্রসারিত হইবার ফলে এই অরণ্য অতি দ্রুতগতিতে সঙ্কুচিত হইতেছে।

প্রশ্ন ২৩। কাজিরঙা রাষ্ট্রীয় উদ্যানের অবস্থান ও মাটির কালির পরিমাণ লিখ । 

উত্তর : কাজিরঙা ৰাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের অবস্থান হইল গোলাঘাট, নগাঁও ও শোণিতপুর অঞ্চল। ইহার মাটির কালি হইল ৮৫৮.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২৪। অসমের রাষ্ট্রীয় উদ্যানগুলির নাম ও অবস্থান লিখ।

উত্তর :

রাষ্ট্রীয় উদ্যানের নামঅবস্থান (জেলা)
কাজিরঙা রাষ্ট্রীয় উদ্যান্য
মানস রাষ্ট্রীয় উদ্যান
ওরাং রাষ্ট্রীয় উদ্যান
নামেরী রাষ্ট্রীয় উদ্যান 
ডিব্রুসৈখোয়া রাষ্ট্রীয় উদ্যান
গোলাঘাট, নগাঁও ও শোণিতপুর
চিরাং ও বাসা
ওদালগুরি ও শোণিতপুর
শোণিতপুর
ডিব্ৰুগড় ও তিনসুকীয়া

প্রশ্ন ২৪। অভয়ারণ্য সমূহ কি ভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে ? 

উত্তর : প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে অভয়ারণ্য ও রাষ্ট্রীয় উদ্যান সমূহের ভূমিকা অপরিসীম। এইসকল অরণ্যে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ফলে মানুষের ধ্বংসাত্মক কার্য হইতে এই অরণ্যগুলি মুক্ত। অসমে মোট ৫ টি রাষ্ট্রীয় উদ্যান ও ১৮ টি অভয়ারণ্য আছে। ইহা ব্যতীত দুইটি প্রস্তাবিত অভয়ারণ্য আছে। এই সুরক্ষিথ বনাঞ্চলগুলিতে হাতী, বাঘ, গন্ডার, বন্য মহিষ, নানা প্রকারের হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, বিভিন্ন প্রকারের পাখী ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রকারের জীব জন্তু দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ কেন্দ্র। এইসকল বনাঞ্চল ও জীবজন্তু রাজ্যটি জৈব-বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করিতেছে।

প্রশ্ন ২৬। স্বাধীনতার পরবর্তী কালের অসমের প্রশানিক বিভাগের পরিবর্তন সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : স্বাধীনতার পূর্বে অসমে ১১ টি জেলা ছিল এবং শিলং অসমের রাজধানী ছিল। কিন্তু ১৯৬৩ সনে নাগালেন্ড, ১৯৭০ সনে মেঘালয় ও ১৯৭১ সনে মিজোরাম

অসম হইতে পৃথক রাজ্য হইয়া যায়। ১৯৭৩ সনে দিসপুরে অসমের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিছু সংখ্যক প্রশাসনিক সুবিধা-অসুবিধা ও রাজ্যটিতে বসবাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীয় আশা-আকাংক্ষা পূরণের জন্য নতুন নতুন জেলা গঠন করা হইয়াছে। বর্তমানে অসমে মোট ২৭ টি জেলা আছে। ২০০৩ সনে বি.টি.এ.ডি. (Bodoland Teritorial Area Districts) গঠন করা হইয়াছে। ২৭ টি জেলার মধ্যে ৪ টি যেমন-কোকরাঝার, চিরাং, বাক্সা, ওদালগুড়ি অন্তভূক্ত।

প্রশ্ন ২৭। অসমের জেলাগুলি ও তাহাদের সদর স্থানসমূহের নাম লিখ।

উত্তর :

জেলার নামজেলা সদর
১। ধুবুরী
২। কোকরাঝার
৩। গোয়ালপাড়া
৪। বঙাইগাওঁ
৫। চিরাং
৬। বরপেটা
৭। নলবারী
৮। বাক্সা
৯। কামরূপ
১০। কামরূপ মহানগর
১১। দরং
১২। ওদালগুরি
১৩। শোণিতপুর
১৪। লখিমপুর
১৫। ধেমাজি
১৬। নগাওঁ
১৭। মরিগাওঁ
১৮। গোলাঘাট
১৯। যোরহাট
২০। শিবসাগর
২১। ডিব্ৰুগড়
২২। তিনসুকীয়া
২৩। কাৰ্বি আংলং
২৪। ডিমা হাসাওঁ
২৫। করিমগঞ্জ
২৬। কাছার
২৭। হাইলাকান্দি
ধুবরী
কোকরাঝার
গোয়ালপারা
বঙাইগাওঁ
কাজলগাওঁ
বরপেটা
নলবারী
মসলপুর
আমিনগাওঁ
গুয়াহাটী
মঙলদৈ
ওদালগুরি
তেজপুর
লখিমপুর
ধেমাজি
নগাওঁ
মরিগাওঁ
গোলাঘাট
যোরহাট
শিবসাগর
ডিব্ৰুগড়
তিনসুকীয়া
ডিফু
ডিফু
করিমগঞ্জ
শিলচর
হাইলাকান্দি

প্রশ্ন ২৮। অসমের মাটির কালি কত? রাজ্যটির রাজধানী কোথায় অবস্থিত? মাটির কালি হিসাবে সবচাইতে বড় ও সবচাইতে ছোট জেলাটির নাম লিখ। 

উত্তর : অসমের মাটিকালির পরিমাণ ৭৮.৪৩৮ বর্গ কিলোমিটার। অসমের রাজধানী দিসপুর। মাটিকালি হিসাবে সর্ববৃহৎ জেলা কার্বি আংলং এবং সবচাইতে ছোট কামরূপ মহানগর।

প্রশ্ন-২৯। ২০১১ সনের জনগণনা অনুসারে অসমের জনসংখ্যা কত? জনসংখ্যা অনুসারে রাজ্যটির সর্ববৃহৎ ও ক্ষুদ্রতম জেলার নাম লিখ। 

উত্তরঃ ২০১১ সনের জনগণনা অনুসারে অসমের জনসংখ্যা ৩১.১৬ নিযুত। সর্ববৃহৎ জেলা নগাওঁ (২.৬২,০০৬) ক্ষুদ্রতম জেলার নাম ডিমা হাসাওঁ (২১৩৫২৯)। 

প্রশ্ন ৩০। সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ :

(ক) অসম ও মৌসুমী জলবায়ু।

উত্তর ঃ অসম উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। অসমে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও শীতকালে শুষ্ক অবস্থা এবং প্রায় সকল সময় অত্যধিক আর্দ্রতা ও কিছুটা পরিমাণে নিম্ন উজ্ঞতা বিরাজ করে। অসমের জলবায়ু ভৌগোলিক বৈচিত্রের জন্য যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের জলভাগ ও দক্ষিণ-পশ্চিম আর্দ্র মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির ফলে অসমের জলবায়ুর তারতম্য দেখা যায়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবর্তিত বায়ুর চাপের প্রভাব অসমের জলবায়ুতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মকালে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলের বায়ু ইহার নিকটবর্তী পাহাড়ীয়া অঞ্চলের বায়ু অপেক্ষা কিছুটা উষ্ণ। এই জন্যই সমভূমি অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী

বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল তথা মেঘালয় অঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। অসমে শীতকালে তাপমাত্রা প্রায় ৭° সেন্টিগ্রেড ও গ্রীষ্মকালে প্রায় ৩৫° সেন্টিগ্রেড বা কিছুটা অধিকও পরিলক্ষিত হয়।

(খ) দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু 

উত্তর ঃ অসম উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। অসমে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও শীতকালে শুষ্ক অবস্থা এবং প্রায় সকল সময় অত্যধিক আর্দ্রতা ও কিছুটা পরিমাণে নিম্ন উজ্ঞতা বিরাজ করে। অসমের জলবায়ু ভৌগোলিক বৈচিত্রের জন্য যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়। ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের জলভাগ ও দক্ষিণ-পশ্চিম আর্দ্র মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতির ফলে অসমের জলবায়ুর তারতম্য দেখা যায়। উত্তর-পশ্চিম ভারতের পরিবর্তিত বায়ুর চাপের প্রভাব অসমের জলবায়ুতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মকালে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার সমভূমি অঞ্চলের বায়ু ইহার নিকটবর্তী পাহাড়ীয়া অঞ্চলের বায়ু অপেক্ষা কিছুটা উষ্ণ। এই জন্যই সমভূমি অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী

বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল তথা মেঘালয় অঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। অসমে শীতকালে তাপমাত্রা প্রায় ৭° সেন্টিগ্রেড ও গ্রীষ্মকালে প্রায় ৩৫° সেন্টিগ্রেড বা কিছুটা অধিকও পরিলক্ষিত হয়।

(গ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমী লিখ ।

উত্তর ঃ অসমের চারিটি জলবায়বীয় ঋতু কয়টি হইল – প্রাক্-মৌসুমী, মৌসুমী,প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী এবং শুষ্ক শীতকাল।

(ক) প্রাক্-মৌসুমী কাল : প্রাক্-মৌসুমী কালের সময়সীমা হইল মার্চ মাসের আরম্ভ হইতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। শীতকালের পর হইতেই ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাইতে থাকে। এই সময়ে প্রাতঃকালে উষ্ণতা কম থাকে, দিবাভাগে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং সন্ধ্যার পর হইতে কখনও কখনও বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়। বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে মাঝে মাঝে ধূলির ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিপাত ধান, পাট ও চাষীদের উপকার সাধন করে। এই সময়ে অসমে বসন্ত ঋতু বিরাজ করে। এপ্রিলের মধ্যভাগে বিহু উৎসব পালন করা হয়।

(খ) মৌসুমী কাল : অসমে মৌসুমী কালের সময়সীমা জুন মাসের আরম্ভ হইতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত বিরাজ করে। এই সময়সীমাকেই অসমে বর্ষাকাল বলা হয়। এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় (গড়ে প্রায় ২০০ সে.মি.)। এই ঋতুতে অসমের প্রধান ফসল শালিধান রোপণ করা হয়। সমগ্র অসম ও তৎসহ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে অত্যধিক বৃষ্টি হইবার ফলে ব্রহ্মপত্র ও বরাক নদী এবং উপনদীর জলপৃষ্ঠ বৃদ্ধি পাইয়া বন্যার সৃষ্টি করে।

(গ) প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল : সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ হইতে দক্ষিণ-পশ্চিম বিপরীত দিকে প্রবাহিত হইতে আরম্ভ করে। ধীরে ধীরে উষ্ণতা ও বায়ুর চাপ বৃদ্ধি বায়ু পাইতে থাকে এবং উত্তর-পূর্ব দিক হইতে বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকে। সাধারণতঃ ইহাকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী প্রবাহ বা প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী বায়ু বলা হয়। সাধারণতঃ অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাসকে প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল বলা হয়। এই সময়ে ভোরের বেলাতে কুয়াশা পড়ে।

(ঘ) শুষ্ক শীতকাল : অসমে নভেম্বর মাসের শেষ বা ডিসেম্বর মাসের আরম্ভ হইতে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ পর্যন্ত শীতকাল। অসমে শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল নিম্ন উষ্ণতা (১০ ডিগ্রীর নীচ পর্যন্ত)। শুষ্ক শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল সকালের দিকে ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির অভাবে অতিশয় শুষ্ক অবস্থা। এই সময়ে ধান কাটা হয় এবং ভোগালী বিহু উদযাপিত হয়।

(ঘ) অসমের বর্ষাকাল ।

উত্তর ঃ অসমের এক পৃথক ধরণের ভূ-প্রকৃতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণের তারতম্য ঘটায়। সাধারণত দেখা যায় পার্বত্য অঞ্চল ও পাদদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী হয়। উপরি অসমের ভিন্নসুকীয়া, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর ও শিবসাগর জেলা; নিম্ন অসমের কোকরাঝার, ধুবুরী জেলা; দক্ষিণ অসমের কাছাড়, কমিরমগঞ্জ ও হাইলা জেলায় বৎসরে ২৫০ সে.মি.রও অধিক বৃষ্টিপাত হয়। আবার অন্যদিকে মধ্য অসমের নগাও ও কাৰ্বি আংলং জেলাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্ট কম। উল্লেখনীয় যে লংকা-লামডিং অঞ্চলে বৎসরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কেবলমাত্র ১২৯ সে.মি. পর্যন্ত হয়। নিম্নে বৃষ্টিপাতের স্থানিক বিতরণ সম্পর্কে একটি তালিকা দেওয়া হইল :

স্থানের নামবৃষ্টিপাত (সে. মি.)
১। গুয়াহাটী
২। ধুবরী
৩। বরপেটা
৪। গোয়ালপারা
৫। নলবারী
৬। মংগলদৈ
৭। রঙিয়া
৮। তেজপুর
৯ । নগাওঁ
১০। উত্তর লখিমপুর
১১। ডিব্ৰুগড
১২। শিবসাগর
১৩। হাফলং
১৪। যোরহাট
১৫। লামডিং
১৬। শিলচর
১৬৬
২৫৬
২২৯
২৪২
২৪২
১৮১
১৯০
১৮২
২০৩
৩৩৫
২৭৩
২৫০
২২৭
২২৭
১২৯
৩২৩

(ঙ) অসমের প্রাক্-মৌসুমীকাল।

উত্তর :অসমের চারিটি জলবায়বীয় ঋতু কয়টি হইল – প্রাক্-মৌসুমী, মৌসুমী,প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী এবং শুষ্ক শীতকাল।

(ক) প্রাক্-মৌসুমী কাল : প্রাক্-মৌসুমী কালের সময়সীমা হইল মার্চ মাসের আরম্ভ হইতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। শীতকালের পর হইতেই ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাইতে থাকে। এই সময়ে প্রাতঃকালে উষ্ণতা কম থাকে, দিবাভাগে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং সন্ধ্যার পর হইতে কখনও কখনও বজ্রপাতসহ বৃষ্টিপাত হয়। বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে মাঝে মাঝে ধূলির ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিপাত ধান, পাট ও চাষীদের উপকার সাধন করে। এই সময়ে অসমে বসন্ত ঋতু বিরাজ করে। এপ্রিলের মধ্যভাগে বিহু উৎসব পালন করা হয়।

(খ) মৌসুমী কাল : অসমে মৌসুমী কালের সময়সীমা জুন মাসের আরম্ভ হইতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত বিরাজ করে। এই সময়সীমাকেই অসমে বর্ষাকাল বলা হয়। এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় (গড়ে প্রায় ২০০ সে.মি.)। এই ঋতুতে অসমের প্রধান ফসল শালিধান রোপণ করা হয়। সমগ্র অসম ও তৎসহ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে অত্যধিক বৃষ্টি হইবার ফলে ব্রহ্মপত্র ও বরাক নদী এবং উপনদীর জলপৃষ্ঠ বৃদ্ধি পাইয়া বন্যার সৃষ্টি করে।

(গ) প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল : সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগ হইতে দক্ষিণ-পশ্চিম বিপরীত দিকে প্রবাহিত হইতে আরম্ভ করে। ধীরে ধীরে উষ্ণতা ও বায়ুর চাপ বৃদ্ধি বায়ু পাইতে থাকে এবং উত্তর-পূর্ব দিক হইতে বায়ু প্রবাহিত হইতে থাকে। সাধারণতঃ ইহাকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী প্রবাহ বা প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী বায়ু বলা হয়। সাধারণতঃ অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাসকে প্রত্যাবর্তিত মৌসুমী কাল বলা হয়। এই সময়ে ভোরের বেলাতে কুয়াশা পড়ে।

(ঘ) শুষ্ক শীতকাল : অসমে নভেম্বর মাসের শেষ বা ডিসেম্বর মাসের আরম্ভ হইতে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগ পর্যন্ত শীতকাল। অসমে শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল নিম্ন উষ্ণতা (১০ ডিগ্রীর নীচ পর্যন্ত)। শুষ্ক শীতকালের বৈশিষ্ট্য হইল সকালের দিকে ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির অভাবে অতিশয় শুষ্ক অবস্থা। এই সময়ে ধান কাটা হয় এবং ভোগালী বিহু উদযাপিত হয়।

(চ) অসমের বৃষ্টিপাতের স্থানিক বিতরণ।

উত্তর ঃ অসমের এক পৃথক ধরণের ভূ-প্রকৃতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণের তারতম্য ঘটায়। সাধারণত দেখা যায় পার্বত্য অঞ্চল ও পাদদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশী হয়। উপরি অসমের ভিন্নসুকীয়া, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর ও শিবসাগর জেলা; নিম্ন অসমের কোকরাঝার, ধুবুরী জেলা; দক্ষিণ অসমের কাছাড়, কমিরমগঞ্জ ও হাইলা জেলায় বৎসরে ২৫০ সে.মি.রও অধিক বৃষ্টিপাত হয়। আবার অন্যদিকে মধ্য অসমের নগাও ও কাৰ্বি আংলং জেলাতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্ট কম। উল্লেখনীয় যে লংকা-লামডিং অঞ্চলে বৎসরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কেবলমাত্র ১২৯ সে.মি. পর্যন্ত হয়। নিম্নে বৃষ্টিপাতের স্থানিক বিতরণ সম্পর্কে একটি তালিকা দেওয়া হইল :

স্থানের নামবৃষ্টিপাত (সে. মি.)
১। গুয়াহাটী
২। ধুবরী
৩। বরপেটা
৪। গোয়ালপারা
৫। নলবারী
৬। মংগলদৈ
৭। রঙিয়া
৮। তেজপুর
৯ । নগাওঁ
১০। উত্তর লখিমপুর
১১। ডিব্ৰুগড
১২। শিবসাগর
১৩। হাফলং
১৪। যোরহাট
১৫। লামডিং
১৬। শিলচর
১৬৬
২৫৬
২২৯
২৪২
২৪২
১৮১
১৯০
১৮২
২০৩
৩৩৫
২৭৩
২৫০
২২৭
২২৭
১২৯
৩২৩

(ছ) অসমের প্রশাসনিক বিভাগ।

উত্তর : স্বাধীনতার পূর্বে অসমে ১১ টি জেলা ছিল এবং শিলং অসমের রাজধানী ছিল। কিন্তু ১৯৬৩ সনে নাগালেন্ড, ১৯৭০ সনে মেঘালয় ও ১৯৭১ সনে মিজোরাম

অসম হইতে পৃথক রাজ্য হইয়া যায়। ১৯৭৩ সনে দিসপুরে অসমের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিছু সংখ্যক প্রশাসনিক সুবিধা-অসুবিধা ও রাজ্যটিতে বসবাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীয় আশা-আকাংক্ষা পূরণের জন্য নতুন নতুন জেলা গঠন করা হইয়াছে। বর্তমানে অসমে মোট ২৭ টি জেলা আছে। ২০০৩ সনে বি.টি.এ.ডি. (Bodoland Teritorial Area Districts) গঠন করা হইয়াছে। ২৭ টি জেলার মধ্যে ৪ টি যেমন-কোকরাঝার, চিরাং, বাক্সা, ওদালগুড়ি অন্তভূক্ত।

(জ) জেলা পর্যায়ে অসমের জনসংখ্যা।

উত্তর :

(ঘ) প্ৰব্ৰজন সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে বহিরাগতদের আগমন খুব বেশী. (ঙ) বৃষ্টিপাত – কোন কোন অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হইবার ফলে কৃষিকার্য্যের সুবিধা আছে, অপরানিকে অনাবৃষ্টি অঞ্চলে কৃষিকার্যের সুবিধা আছে, অপরদিকে অনাবৃষ্টি অঞ্চলে কৃষিকার্যের জন্য জলের অভাব এমনাকি পানীয় জলেরও অভাব ঘটে। সেই অঞ্চলগুলিতে লোকসংখ্যা কম। 

উপরিউক্ত কারণসমূহর জন্য বিভিন্ন জেলার জনসংখ্যার পার্থক্য যথেষ্ট। 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ব্রহ্মপুত্র সমতলের কোথায় ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য দেখা যায় ? 

উত্তর : নাগা পাহাড় এবং অরুণাচল প্রদেশে। 

প্রশ্ন ২। অসমের কোন স্থানে বাঘ সংরক্ষণের প্রকল্প আছে? 

উত্তর : মানস অভয়ারণ্যে। 

প্রশ্ন ৩। ব্রহ্মপুত্র সমতলটি কোন অঞ্চলে অবস্থিত ? 

উত্তর : ক্রান্তীয় মৌসুমী অঞ্চলে। 

প্রশ্ন ৪। বি.টি.এ.ডি. কবে গঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবরে। 

প্রশ্ন ৫। অসম সরকার বন বিভাগ হইতে বৎসরে কি পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করে।

উত্তর : প্রায় ১৬ কোটি টাকা। 

প্রশ্ন ৬। ব্রহ্মপুত্র সমতল অঞ্চলে অবস্থিত উঁচু উঁচু ঘাসযুক্ত অঞ্চলটিকে কি বলা হয়? 

উত্তর : তরাই অঞ্চল। 

প্রশ্ন ৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার কি পরিমাণ এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে। 

উত্তর : ১২,৫১২ বর্গ কিলোমিটার স্থান ব্যাপিয়া। 

প্রশ্ন ৮। মাজুলী দ্বীপের বর্তমান কালি কত? 

উত্তর : ৮০০ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশ্ন ৯। ব্রহ্মপুত্র সমতলে কতটি চা বাগান আছে? 

উত্তর : প্রায় ৭০০টি। 

প্রশ্ন ১০। এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম তৈল শোধনাগার কোনটি ? 

উত্তর : ডিগবয় তৈল শোধনাগার। 

প্রশ্ন ১১। অসমে কোথায় চিনি কল আছে?

উত্তর : গোলাঘাট জিলার বরুয়াবামুনগাঁও ।

প্রশ্ন ১২। জাগীরোডের কাগজ কারখানায় বার্ষিক কি পরিমাণ কাগজ প্রস্তুত হয় ? 

উত্তর : ৮০,০০০ টন। 

প্রশ্ন ১৩। কোন দ্রব্য উৎপাদনে অসম পৃথিবী বিখ্যাত ? 

উত্তর : ‘এড়ি’ এবং ‘মুগা’ বস্তু। 

প্রশ্ন ১৪। অসমের কোথায় কাঁসার বাসন তৈরীর কারখানা 

উত্তর : বরপেটা জিলার সার্থেবাড়ি। 

প্রশ্ন ১৫। অসমের কোথায় পার্টের কল আছে? 

উত্তর : নগাঁও জিলার ‘শিলঘাটে’। 

প্রশ্ন ১৬। অসমের এপ্‌ল (APOL) নামে বস্ত্র কারখানাটি কোথায় আছে? 

উত্তর : রঙ্গিয়ার নিকট ‘তুলসীবাড়ি’। 

প্রশ্ন ১৭। অসমে ‘রন্ধন গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি করার কারখানা কোথায় অবস্থিত ? 

উত্তর : দুলিয়াজান এবং উত্তর ওয়াহাটীতে। 

প্রশ্ন ১৮। ২০১১ সনের জনগণনা অনুযায়ী ভারতবর্ষের জনসংখ্যা কত? 

উত্তর : ১২১,০১,৯৩,৪২২ জন। 

প্রশ্ন ১৯। ব্রহ্মপুত্র সমতলের দৈর্ঘ্য কত? 

উত্তর : প্রায় ৭২০ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২০। অসমে কয়টি অভয়ারণ্য আছে? 

উত্তর : ১০টি। 

প্রশ্ন ২১। ব্রহ্মপুত্র সমতলের একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কি? 

উত্তর : ইহার গভীর এবং ঘন অরণ্য অঞ্চল।

প্রশ্ন ২২। পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম নদীদ্বীপ কোনটি? 

উত্তর : মাজুলী দ্বীপ। 

প্রশ্ন ২৩। অসমের কোন্ উদ্যানকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলী’ হিসাবে ঘোষণা করা হইয়াছে? 

উত্তর : কাজিরাঙ্গা রাষ্ট্রীয় উদ্যানকে। 

প্রশ্ন ২৪। অসমের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরটির নাম কি? 

উত্তর : গোপীনাথ বরদলৈ বিমানঘাটী। 

প্রশ্ন ২৫। অসম সরকারের নৌ-পরিবহন বিভাগের অন্তর্গত কতটি যন্ত্রচালিত নৌকা ও জাহাজ আছে? 

উত্তর : ১৭০টি। 

প্রশ্ন ২৬। কখন হইতে অসমের রেল সেবা আরম্ভ হয় ? 

উত্তর : ১৮৮৪ সাল হইতে। 

প্রশ্ন ২৭। ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলে রাষ্ট্রীয় প্রধান পথের দৈর্ঘ্য কত? 

উত্তর : ১৭,০০০ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২৮। কখন হইতে অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর দিয়া জাহাজ চলাচল শুরু হয় ? 

উত্তর : ১৮৪৯ সাল হইতে। 

প্রশ্ন ২৯। অসমের মোট বিমানঘাটির সংখ্যা কত? 

উত্তর : মোট ছয়টি। 

প্রশ্ন ৩০। অসমের মোট নগরের সংখ্যা কত এবং ইহার কতটি ব্রহ্মপুত্র সমতলে অবস্থিত? 

উত্তর : ১০৩টি এবং ৮৫টি। 

প্রশ্ন ৩১। অসমের কোন নগরটিকে হয়?

উত্তর : গুয়াহাটী নগর।

প্রশ্ন ৩২। বরাক সমতলের কত শতাংশ স্থান বন, জঙ্গল ও পাহাড়-টিলায় ভর্তি আছে? 

উত্তর : ৩৫% শতাংশ।

প্রশ্ন ৩৩। বরাক উপত্যকার প্রধান কৃষিজাত শস্য কি? 

উত্তর : ধান 

প্রশ্ন ৩৪। বরাক সমতলে মোট কতটি চা-বাগান আছে? 

উত্তর : ১১৫টি। 

প্রশ্ন ৩৫। অসমের কোন্ স্থান ‘কলা’ উৎপাদনে ভারত বিখ্যাত? 

উত্তর : গোয়ালপাড়া জিলার দরংগিরি, নুধনৈ ও কৃষ্ণাই অঞ্চলে। 

প্রশ্ন ৩৬। অসমের কোথায় পৃথিবীর নানা ধরনের পাখী আত্মহনন করিতে আসে ? 

উত্তর : হাফলং শহরের কাছে ‘জাটিংগা’ নামক স্থানে। 

প্রশ্ন ৩৭। অসমের উচ্চভূমি অঞ্চলে রেলপথের জন্য কতটি পাহাড়ীয়া সুড়ঙ্গ আছে? 

উত্তর : ৩৭টি। 

প্রশ্ন ৩৮। উমরাংসুতে কপিলী নদীতে বাঁধ দিয়া কি পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হইতেছে? 

উত্তর : ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ শক্তি। 

প্রশ্ন ৩৯। অসমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বৎসরে কত টন কফি উৎপন্ন হয়? 

উত্তর : ১২০ টন। 

প্রশ্ন ৪০। অসমের উচ্চভূমি অঞ্চলের প্রধান জিলা কয়টি ও কি কি? 

উত্তর : দুইটি। কার্বি আংলং এবং ডিমা হাসাও (উত্তর কাছাড়) জিলা। 

প্রশ্ন ৪১। অসমের উচ্চভূমি অঞ্চলে মোট কতটি চা বাগান আছে ? 

উত্তর : ১৫টি। 

প্রশ্ন ৪২। অসমের কোন্ স্থানে সার কারখানা আছে? 

উত্তর : নামরূপে। 

প্রশ্ন ৪৩। বরাক সমতলে কোথায় কাগজের কল আছে? 

উত্তর : পাঁচ গ্রাম (হিন্দুস্থান পেপার মিলস্)। 

প্রশ্ন ৪৪। বরাক উপত্যকার বিমানবন্দরটির কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : কাছাড় জিলার শিলচর শহরের নিকটে “কৃষীর গ্রামে। 

প্রশ্ন ৪৫। বরাক উপত্যকায় সর্বপ্রথম কখন রেলপথ স্থাপিত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯০৩ সালে। 

প্রশ্ন ৪৬। বরাক সমতলের চা বাগানগুলিতে বৎসরে কি পরিমাণ চা পাওয়া যায়? 

উত্তর : প্রায় ৪০,০০০,০০০ কিলোগ্রাম। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। অসমের শোণিতপুর, মরিগাঁও এবং শিবসাগর জেলায় অবস্থিত তিনটি অভয়ারণ্যের নাম উল্লেখ কর। 

উত্তর : জেলাভিত্তিক অভয়ারণা তিনটির নাম- 

(ক) শোণিতপুর —সোনাই-রূপাই

(খ) মরিগাঁও— পতিরা।

(গ) শিবসাগর—- পানিদিহিং । 

প্রশ্ন ২। বনাঞ্চল হ্রাসের কুফল কি কি? 

উত্তর : (ক) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমিয়া যায়। 

(খ) দেশের আয়ের পরিমাণ কমিয়া যায়। 

(গ) বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিক্ষয় রোধ করা অসুবিধাজনক হইয়া পড়ে। 

(ঘ) বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষতি সাধন হয়। 

প্রশ্ন ৩। অসমের অর্থনীতিতে তৈল শিল্পের দুইটি অবদান উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) এই শিল্পের রাজ্যটির বহু শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়োগ ও উপার্জনের সুবিধা পাইয়াছে। 

(খ) তৈল শিল্পের ভিত্তিতে রাজ্যটিতে দুটি পেট্রো-রাসায়নিক শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে। 

প্রশ্ন ৪। অসমে কৃষি সম্পর্কীয় তিনটি প্রধান সমস্যা নিখ। 

উত্তর : (ক) বন্যা, (খ) কৃষিভাণ্ডারের অভাব, (গ) নিম্নমানের জলসেচ ব্যবস্থা।

প্রশ্ন ৫। অসমের বিমানঘাঁটিগুলির নাম লিখ। 

উত্তর : গুয়াহাটীর বরঝার (গোপীনাথ বরদলৈ), শালনিবাড়ি (তেজপুর), লীলাবাড়ি (লক্ষীমপুর), ররৈয়া (জোরহাট), মোহনবাড়ি (ডিব্ৰুগড়), কুম্ভীর গ্রাম (শিলচর) ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৬। কার্বি এবং উত্তর কাছাড় জিলায় কি কি জনজাতীয় লোক বাস করে ? 

উত্তর : ডিমাছা, কার্বি, মার, কুকি ও রেংমা জনজাতীয় লোক বাস করে। 

প্রশ্ন ৭। ডিমা হাসাও (উত্তর কাছাড়) পার্বত্য জিলায় কি কি দামী কাঠ পাওয়া যায় ? 

উত্তর : মাকরি শাল, পদ্মা, শলখ, চাম, গামারি, ভেলকর, ওদাল, আহৈ করে, চন্দন, সিধা, আজার এবং অগরা, কোকা ইত্যাদি মূল্যবান কাঠ পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৮। অসমের কোথায় কোথায় বেশী পরিমাণে পাটের চাষ হয় ? 

উত্তর ঃ গোয়ালপাড়া, নগাঁও, বরপেটা, মরিগাঁও, দরং, নলবাড়ি, বঙ্গাইগাঁও, ধুবড়ি জিলায় বেশি পাট উৎপন্ন হয়। 

প্রশ্ন ৯। অসমের উচ্চ অঞ্চলে প্রবাহিত নদীগুলির নাম লিখ। 

উত্তর : কপিলী, নামবর, কলিয়ণী, দৈগুরুং, ডিফ, মিছা, ভিজু চাপনালা, যমুনা, ধনশিরি নদী প্রবাহিত হইয়া আছে। 

প্রশ্ন ১০। অসমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কি কি জীবজন্তু দেখা যায় ? 

উত্তর : এই অঞ্চলের হাতী, বাঘ, ভালুক, হরিণ, বনরৌ, হলু বান্দর, বন্য নানা জাতীয় পাখী, ধনেশ, রয়েল বেঙ্গল বাঘ ইত্যাদি নানাধরনের জীবজন্তুই প্রধান। 

প্রশ্ন ১১। অসমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কি কি কৃষিজ শস্যের চাষ হয় ? 

উত্তর : এই অঞ্চলে কৃষিজ শস্যের মধ্যে ধান, মাকে, রাগি, মিষ্টি আলু, কচু, কাঁচালঙ্কা, আলু, আদা, তিল, সরিষা ইত্যাদি প্রধান কৃষিজ শস্য। 

প্রশ্ন ১২। বরাক নদীর উত্তর দিকের উপনদীগুলির নাম কি? 

উত্তর : জিরি, লাবাক, মাধুরা, দালু, জাটিংগা, লাকং ইত্যাদি উপনদী। 

প্রশ্ন ১৩। বরাকের দক্ষিণ দিকের উপনদীগুলির নাম কি? 

উত্তর : সেনাই, কাটাখাল, ধলেশ্বরী, শিংরা এবং লংগাই উপনদী।

প্রশ্ন ১৪। অসমের কোথায় কোথায় কয়লা পাওয়া যায় ? 

উত্তর : লিডু, বরগোলা, মাকুম। 

প্রশ্ন ১৫। অসমের প্রধান দুইটি ট্রাংক রোডের নাম লিখ। 

উত্তর : (ক) অসম ট্রাংক রোড, (খ) নর্থ ট্রাংক রোড। 

প্রশ্ন ১৬। অসমে কি কি ধরনের ফল পাওয়া যায়? 

উত্তর ঃ কলা, আনারস, পেঁপে, নারিকেল, কমলালেবু, লিচু, বাতাপী, নাশপাতী, আম ইত্যাদি ফল পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ১৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় কোথায় কোথায় দিয়াশলাই-এর (মেচ্) কারখানা আছে? 

উত্তর : ধুবড়ি, বিজনী এবং গুয়াহাটীতে দিয়াশলাই (মেচ্) কারখানা আছে। 

প্রশ্ন ১৮। ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ পারের উপনদীগুলির নাম কি? 

উত্তর : ডিব্রু, বুড়িদিহিং, দিদাং, দিখৌ, জাঁজী, ভোগদৈ, কাকডোঙ্গা, কলং, কপিলী, ডিগারু, কুলসী, দুধনৈ, কৃষ্ণাই, জিনারী এবং জিঞ্জিরাম ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ১৯। অসমের প্রধান নদী কি? ইহার উত্তর পারের উপনদীগুলির নাম লিখ।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র নদী। ইহার উত্তর পারের উপনদীগুলি হইল—সুবর্ণশিরি, রাঙ্গনদী, ডিব্ৰুং, বুরৈ, বরগাং, জীয়াভলু, গাভরু, জীয়া ধনশিরি, বরনদী, পাগলাদিয়া, মানস, চম্পাবতী, গদাধর, সোণকোষ ইত্যাদি। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। অসম কিভাবে পর্যটনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হইয়া উঠিতে পারে ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : পৃথিবীর সকল দেশের মত অসমেও পর্যটন শিল্প গড়িয়া তোলার বহু সম্ভাবনা আছে। 

(ক) ইহার নদী, পাহাড়-অরণ্য, বিল-চর ইত্যাদি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। ইহার শিলাময় নদী এবং নিম্নগামী নদীর ঢালুতে খেলাধূলা করার সুবিধা রহিয়াছে। 

(খ) অসমের গুয়াহাটী, শ্রীসূর্য, তেজপুর, শিবসাগর ইত্যাদি স্থানে প্রাচীন এবং মধ্যযুগের মঠ-মন্দির, প্রত্নতাত্ত্বিক ভগ্নাবশেষ ইত্যাদি আছে।

(গ) অসমে কামাখ্যা, উমানন্দ, বশিষ্ঠাশ্ৰম, নবগ্রহ হয়গ্রীব, মাধব, পোয়ামকা ইত্যাদির মত বহু পবিত্র তীর্থস্থান আছে। 

(ঘ) ইহাতে পাঁচটি রাষ্ট্রীয় উদ্যান, ২২টি অভয়ারণ্য এবং বহু সংরক্ষিত বনাঞ্চল আছে। এই সকল স্থানে গণ্ডার, কালো রঙের লেজহীন বানর, দেও হাঁস, শূয়র, সোনালী বানর ইত্যাদি বহু দুর্লভ জন্তু এবং গাছপালা পাওয়া যায়। 

(ঙ) বহু জনগোষ্ঠীর বাসভূমি এই অসম। ইহার প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরম্পরাগত কলা, সংস্কৃতি, গীত, নৃত্য-নাট্য ইত্যাদি আছে। 

এই সকল তথ্যের আধারে যদি অসমে হোটেল, অতিথিশালা ইত্যাদি তৈয়ার করা হয়, যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি করা হয় এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয় তবে অসমে এই সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ দেখিবার জন্য বহু দেশ-বিদেশের পর্যটক আসিয়া ভিড় করিবে। ফলে অসমে পর্যটন শিল্পের দ্রুত উন্নতি হইবে। 

প্রশ্ন ২। নিম্নলিখিত উদ্ভিদগুলিকে পর্ণমোচী এবং চিরসবুজ এই দুই ভাগে ভাগ কর : শিমুল, আম, হরিতকী, হলং, নাহর, গামারি, তিতা-চাপা, অগরু, উরিয়াম, এবং মাকরি শাল।

উত্তর :

পর্ণমোচী উদ্ভিদচিরসবুজ উদ্ভিদ
গামারি, 
হরিতকী
হলং, আম, তিতা-চাঁপা, অগরু, নাহর, মাকরি শাল।

প্রশ্ন ৩। পর্ণমোচী উদ্ভিদ কাহাকে বলে? কিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে ইহাদের পাওয়া যায়? চারপ্রকার পর্ণমোচী উদ্ভিদের নাম লিখ। 

উত্তর : ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতল ক্রান্তীয় মৌসুমী অঞ্চলে এপ্রিল ও মে মাস হইতে দুই-এক পশলা বৃষ্টিপাত হয়। এখানে জুন, জুলাই, আগষ্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়িয়া যায়। অপরদিকে আবার অক্টোবর মাস হইতে মার্চ মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কম হয়। সেইজন্য এই সমতল অঞ্চলে পর্ণমোচী উদ্ভিদ যথেষ্ট দেখা যায়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই সকল উদ্ভিদের পাতা করিয়া যায় বলিয়া এই প্রকার উদ্ভিদকে পর্ণমোচী উদ্ভিদ বলে। চার প্রকার পর্ণমোচী উদ্ভিদ হইল : শাল, শেগুন, বনসোম, গামারি ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৪। অসমের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলির নাম লিখ এবং সেইগুলিতে প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীর নামের তালিকা দাও। 

উত্তর : অসমের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নাম এবং ঐগুলিতে প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীর নামের তালিকা নীচে দেওয়া হইল : 

(ক) উত্তর কাছাড় সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(খ) বরাইল সংরক্ষিত বনাঞ্চল, 

(গ) উজানীজির সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(ঘ) নিম্নজিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, 

(ঙ) বরাক সংরক্ষিত বনাঞ্চল 

(চ) হোলোংগাপার সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(ছ) সোনাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(জ) কাটাখাল সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(ঝ) ছিংলা সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(এ) লংগাই সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(ট) বাদসাহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল,

(ঠ) টিলারাম পাহাড় সংরক্ষিতবনাঞ্চল,

(ড) দোহালীয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইত্যাদি। 

এই সকল সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলিতে প্রধান প্রধান বন্যপ্রাণীগুলি হইল—হাতী, গণ্ডার, বান্দর, হুলুবান্দুর, বাঘ-ই প্রধান। ইহা ছাড়া নানা প্রকারের মাছ, কচ্ছপ, উদ্‌ পাওয়া যায়। 

Sl.No.Chapters name
ইতিহাস
Chapter 1ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন
Chapter 2ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষণ
Chapter 3মোয়ামারীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter 4মানের অসম আক্ৰমণ
Chapter 5আসামে ব্রিটিশ প্রশাসনের আরম্ভণি
Chapter 6বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ
ভূগোল
Chapter 1ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
Chapter 2বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ
Chapter 3ভারতবর্ষের ভূগোল
Chapter 4অসমের ভূগোল
রাজনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1ভারতের রাজনৈতিক দল
Chapter 2সরকারের প্রকার বা শ্রেণিবিভাগ
অর্থনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহ
Chapter 2মূল অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ

প্রশ্ন ৫। নিম্নোক্ত বনাঞ্চলগুলির কোনটিতে কি কি বণ্যপ্রাণী পাওয়া যায় তাহা যথাযথ উল্লেখ কর। 

উত্তর ঃ কাজিরাঙ্গা, ডিব্রু সৈখোয়া, হোলোঙাপার, সোনাই-রূপাই, মানস, নামেরি এবং ওরাং। 

(ক) কাজিরাঙ্গা : ইহা গোলাঘাট জেলার ব্রহ্মাপুত্র নদের পারে অবস্থিত। এখানে এক খড়াযুক্ত গণ্ডার, হাতী, হুলুবান্দর, বনমহিষ পাওয়া যায়। 

(খ) ডিব্ৰু-সৈখোয়া : এখানে হাতী এবং বাঘ ছাড়াও বন্য ঘোড়া ও দেও হাঁস পাওয়া যায়। 

(গ) সোনাই-রূপাই : এই অভয়ারণ্যের প্রধান বন্য জন্তুগুলি হইল সোনালী বান্দর, মিথুন, বন্য মহিষ, শূকর, ভালুক ইত্যাদি। 

(ঘ) হোলোঙাপার : এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পৃথিবীতে দুষ্প্রাপ্য হুলুবান্দর সংরক্ষিত করিয়া রাখিতে যত্ন করা হইতেছে।

(ঙ) মানস রাষ্ট্রীয় উদ্যান : এখানে রয়েল বেঙ্গল বাঘ এবং হরিণ পাওয়া যায়। 

(চ) নামেরি বনাঞ্চল : ইহা একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যান। এখানে বাঘ, হাতী, ভানুল হরিণ এবং কয়েক প্রকার লুপ্তপ্রায় জন্তু পাওয়া যায়। 

(ছ) ওরাং ঃ ইহা একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যান। এখানে এক হুলাযুক্ত গণ্ডার, পরিশ্রমী পাখি, বাঘ এবং হরিণ পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৬। অসমের রাষ্ট্রীয় উদ্যানগুলির নাম এবং সেইগুলিতে প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীগুলির নাম লিখ। 

উত্তর : অসমের রাষ্ট্রীয় উদ্যানগুলির নাম হইতে প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীর তালিকা দেওয়া হইল। 

(ক) কাজিরাঙ্গা রাষ্ট্রীয় উদ্যান : একখড়া যুক্ত গণ্ডার, হাতী, হুলুবান্দর, বন্যমহিষ ইত্যাদি। 

(খ) গুরাং রাষ্ট্রীয় উদ্যান : ইহার বন্যপ্রাণীগুলি হইল পরিশ্রমী পাখী, বাঘ, হরিণ, একছড়া যুক্ত গণ্ডার। 

(গ) মানস রাষ্ট্রীয় উদ্যান : ইহার বন্যপ্রাণীগুলি হইল রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ), হরিণ ইত্যাদি। 

(ঘ) ডিব্ৰু-চৈখোয়া রাষ্ট্রীয় উদ্যান : ইহার বন্যপ্রাণী হইল : হাতী, বাঘ, বনা ঘোড়া, দেওহাস ইত্যাদি। 

(ঙ) নামেরী রাষ্ট্রীয় উদ্যান : ইহার বন্যপ্রাণী হইল : বাঘ, হাতী, ভালুক, হরিণ এবং কয়েক প্রকার লুপ্তপ্রায় জন্তু এখানে পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৭। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পরিবহন ও যাতায়াতের একটি বিবরণ দাও। 

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় সমতল অঞ্চলের যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলগুলির যাতায়াত ব্যবস্থার তুলনায় যথেষ্ট উন্নত। কিন্তু ভারতের অন্যান্য সমতল অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার তুলনায় ইহাকে উন্নত বলা যায় না। 

পথঘাট ঃ প্রাচীনকালে আহোম, কোচ্, কছাড়ী রাজাদের দ্বারা তৈরি রাস্তাঘাটের কিছু অংশ অসমে এখনও কিছু স্থানে দুই-একটা দেখা যায়। রাস্তাঘাট ছাড়াও মানুষ ব্রহ্মপুত্র এবং ইহার উপনদীগুলির মাধ্যমে নৌপথে যাতায়াত ও বাণিজ্য করিয়াছিল।

বর্তমানে ব্রহ্মাপুত্র উপত্যকায় পথঘাট পাকা রাস্তা, রেলপথ ছাড়াও কিছু কিছু জল পরিবহন এবং বিমান পরিবহনেরও ব্যবস্থা হইয়াছে। ব্রিটিশ শাসনের কাল হইতে এই অঞ্চলে পাকা রাস্তার কিছু কিছু পরিবর্তন হয়। সমতল অঞ্চল হইতে কতগুলি পাকা রাস্তা চারিদিকে পাহাড়ীয়া অঞ্চলে প্রসারিত হইয়াছিল। সেই সময় ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ পারে মেঘালয়ের তুরা হইতে গোয়ালপাড়া, গুয়াহাটী, নগাঁও, জোড়হাট, শিবসাগর এবং ডিব্ৰুগড় হইয়া পূর্বের চৌকাঘাট পর্যন্ত ‘অসম ট্রাংক রোড্‌ বলিয়া একটা রাস্তা ধুবড়ি হইতে বাইহাটা চারিআলি, মঙ্গলদৈ, তেজপুর, বালিপারা, বিশ্বনাথ চারিআলি হইয়া লক্ষীমপুর পর্যন্ত নর্থ ট্রাংক রোড’ নামে একটা। রাস্তা আছে। 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই সমতলের যাতায়াত ব্যবস্থা যথেষ্ট পরিমাণে উন্নত হইয়াছে। 

বর্তমানে ৩১ নং রাষ্ট্রীয় প্রধান পথ ব্রহ্মাপুত্র সমতলের পশ্চিম সীমান্ত হইতে অর্থাৎ শ্রীরামপুর হইতে আমিনাগাঁও পর্যন্ত আসিয়াছে। ৫২ নং রাষ্ট্রীয় প্রধান পথটি বাইহাটা চারিআলি হইতে পূর্বদিকে মঙ্গলদৈ, তেজপুর, লক্ষীমপুর এবং ধেমাজী হইয়া জোনাই পর্যন্ত গিয়াছে। 

৩৭-নং রাষ্ট্রীয় প্রধান পথটি দক্ষিণ পারে পঞ্চরত্ন হইতে গুয়াহাটী, নগাঁও, জোড়হাট, শিবসাগর এবং ডিব্ৰুগড় হইয়া ডাঙরি পর্যন্ত গিয়াছে। এই ৩৭ নং পথ হইতে আবার গুয়াহাটীর নিকট জোড়হাট হইতে শিলং হইয়া শিলচর যাওয়ার রাষ্ট্রীয় পথটির নাম ৪০-নং রাষ্ট্রীয় প্রধান পথ। ৩৯ নং রাষ্ট্রীয় পথটি নুমলীগড় হইতে ডিমাপুর, কোহিমা, ইম্ফল হইয়া মোরে পর্যন্ত গিয়াছে। ৩৮ নং রাষ্ট্রীয় পথ তিনসুকীয়া হইতে ডিগবয় হইয়া বরগোলা পর্যন্ত এবং ৩৮নং রাষ্ট্রীয় পথটি নগাঁও হইতে ডবকা হইয়া ডিমাপুরে গিয়াছে। 

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমতলটিতে বর্তমানে ১৭,০০০ কিলোমিটার রাষ্ট্রীয় প্রধান পথ এবং ২৪,০০০ হাজার কিলোমিটার রাজ্যিক পি. ডব্লিউ পথ আছে। 

রেলপথ ও ১৮৮৪ সাল হইতে ব্রহ্মপুত্র সমতল অঞ্চলে রেল সেবা আরম্ভ হইয়াছে। এখানে প্রথমে ডিব্ৰুগড় এবং জোড়হাট অঞ্চলের চা-বাগানের চা-পাতা পরিবহন করার জন্য ছোট ছোট রেলপথ স্থাপন করা হইয়াছিল। এই পথের সহিত ব্রহ্মপুত্রের জাহাজঘাটগুলি সংযোগ করিয়া অসমের চা-পাতা কলিকাতা এবং গ্রেট ব্রিটেইনে নেওয়া হইত। 

বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র সমতলে ২০০০ কিমি দৈর্ঘ্যের রেলপথ আছে। শ্রীরামপুর হাট হইতে গুয়াহাটী হইয়া পূর্ব-দক্ষিণ পারে লিডু বরগোলা পর্যন্ত উত্তর পারে রঙিয়া হইয়া পূর্বে মুৰ্কংচেলেক পর্যন্ত রেলপথ আছে। নিউ বঙ্গাইগাঁও হইতে নরনারায়ণ সেতুর উপর দিয়া দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এবং দক্ষিণ কামরূপ হইয়া ওয়াহাটী পর্যন্ত একটি নূতন পথ হইয়াছে। গুয়াহাটী তিনসুকীয়া রেলপথ হইতে চাপারমুখ জংশনে নগাঁও শহর পর্যন্ত, লামডিং জংশনে উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলার মধ্য দিয়া বরাক উপত্যকা পর্যন্ত গোলাঘাট জেলার ফরকাটিং জংশন হইতে জোরহাট হইয়া মরিয়ানি পর্যন্ত রেলপথ আছে। ইহার প্রধান রেলপথের শেষে তিনসুকীয়া হইতে পশ্চিমে ডিব্রুগড় পর্যন্ত উত্তর-পূর্বে মাকুম হইয়া দক্ষিণ-পূর্বে ডিগবয় মার্কারিটা এবং লিডু হইয়া বরগোলা পর্যন্ত রেলপথ প্রসারিত। 

জল পরিবহন : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার যথেষ্ট নদী দিয়া নৌকায় মানুষ যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য করিয়াছিল। ১৮৪৯ সালে তখনকার কলিকাতা হইতে ব্রহ্মপুত্র নদী দিয়া ইহার সমতলে প্রথম জাহাজ পথ চালু হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পরে ব্রহ্মপুত্রের জল পরিবহন সেবা এবং ইহার কার্যকারিতা যথেষ্ট কমিয়া যায়। বর্তমানে ইহার অন্তর্দেশীয় জল পরিবহন বিভাগ নৌ-পরিবহন সেবা চালু করিয়াছে। ব্রহ্মপুত্রের উত্তর পারে এবং দক্ষিণ পারের সহিত সংযুক্ত প্রায় ৩০টি স্থানে পারঘাট (খেয়াঘাট) আছে। এই খেয়াঘাটগুলিকে যন্ত্রচালিত নৌকায় মানুষ এবং মালপত্র পরিবহন করে। বর্তমানে সরকার পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য বেশ কয়েকটি জাহাজ সুসজ্জিত করিয়া নৌকা বিহারের ব্যবস্থা করিয়াছে। সরকারী নৌ-পরিবহন বিভাগ বর্তমানে ১৭০টি বিভিন্ন প্রকারে জাহাজ এবং যন্ত্রচালিত নৌকা কাজে লাগাইয়াছে। 

বিমান পরিবহন : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হইতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বিমান পরিবহন আরম্ভ হইয়াছে। তখন বিমানগুলি সৈন্য, রসদপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, ঔষধপত্র ইত্যাদি পরিবহন করার কাজে ব্যবহার হইত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিমানবন্দর গুলি মেরামতি করিয়া অসামরিক বিমান পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা শুরু হয়। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় মোট পাঁচটি বিমান বন্দর হইতে বিভিন্ন মহানগরে বিমান চলাচল করিয়া থাকে। গুয়াহাটীর বিমান বন্দরটি গোপীনাথ বরদলৈ বিমান বন্দর নামে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করা হইয়াছে। বিমান সেবা এই অঞ্চলটির যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা অনেক সুগম করিয়াছে। 

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় অবস্থিত পাঁচটি বিমান বন্দর হইল—(ক) গোপীনাথ বরণলৈ বিমানঘাটি (গুয়াহাটী)। (খ) শালনিবাড়ি (তেজপুর), (গ) লীলাবাড়ি (লক্ষীমপুর), (ঘ) ররৈয়া (জোড়হাট), (ঙ) মোহনবাড়ি (ডিব্ৰুগড়) ইত্যাদি। 

গুয়াহাটী বিমান বন্দরটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উন্নীত করা হইয়াছে। এই পরিবহন এখন অঞ্চলটির যাতায়াতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদন যোগাইয়াছে। সমগ্র অঞ্চলটির যাতায়াত পরিবহন উন্নত না হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ আছে। তাহাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : 

(ক) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চারদিকে পাহাড়ীয়া হওয়ার জন্য এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার জন্য নদীগুলি দুইকুল ছাপাইয়া বন্যার সৃষ্টি করে। বিধ্বংসী বন্যা প্রতি বৎসর রাস্তাঘাটের অতিশয় ক্ষতিসাধন করে। 

(খ) বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণের ফলে কখনও কখনও রাস্তাঘাট, রেলপথ ডুবাইয়া ফেলে এর বিস্তর ক্ষতিসাধন করে। 

(গ) ব্রহ্মাপুত্ৰ সমতল অঞ্চল ভারতের মূল ভূ-ভাগ হইতে প্রায় বিচ্ছিন্ন এবং অনেক দূরে হওয়ায় ইহার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যথোপযুক্ত মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারে না। 

(ঘ) অঞ্চলটি যথেষ্ট পরিমাণে শিল্পউদ্যোগ এবং কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুন্নত হওয়ার জন্য এখানকার যাতায়াত ও পরিবহনের যথাযথ বিকাশ হয় নাই। 

প্রশ্ন ৮। কি কি প্রাকৃতিক কারক অসমের যাতায়াত ও পরিবহনের উন্নতিতে বাধা দিতেছে? বিস্তারিত আলোচনা কর। 

উত্তর : (ক) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চারিদিকে পাহাড় দ্বারা ঢাকা বলিয়া এবং অঞ্চলটিতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় বলিয়া ইহার অন্তর্গত স্থানগুলিতে যথেষ্ট বন্যার সৃষ্টি হয় এবং পথ-ঘাট ডুবাইয়া রাস্তাঘাট ভাঙ্গিয়া যাতায়াতের অনুপযোগী করিয়া তোলে। 

(খ) বর্ষাকালের অপর্যাপ্ত এবং প্রবল বর্ষণের ফলে প্রতি বৎসরই এই অঞ্চলের পথঘাট, রেলপথ, সেতু নষ্ট করিয়া যাতায়াতের বাধার সৃষ্টি করে। 

প্রশ্ন ৯। পার্বত্য অঞ্চলের যাতায়াত ও পরিবহনের বিষয়ে আলোচনা কর। 

উত্তর : সড়ক পরিবহন ও কার্বি-উত্তর কাছাড়ের উচ্চভূমির যাতায়াত ব্যবস্থা বিশেষ উন্নত নয়। দুইটি জেলা মিলিয়া ৪,৮৬১ কিলোমিটার গড়কাপ্তানী বিভাগের অধীনস্ত রাস্তা আছে। ইহার ভিতরে ১,৭০২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং বাকি ৩,১৫৯ কিলোমিটার কেবলমাত্র পাথর দ্বারা বানানো হইয়াছে। কাৰ্বি আংলঙের মধ্য দিয়া নগাঁও হইতে ডগমকা, মাঞ্জা ইত্যাদি হইয়া ডিমাপুর পর্যন্ত ৩৬ নং জাতীয় সড়ক গিয়াছে। পূর্বদিকে পাথরের রাস্তা দিয়া উত্তর-দক্ষিণে নুমলীগড় হইতে ডিমাপুর পর্যন্ত ৩৯-নং জাতীয় সড়ক গিয়াছে। লামডিং-এর কাছ দিয়া উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলার মধ্য দিয়া ৫৪ নং জাতীয় সড়ক মাইবং এবং মাছর হইয়া দক্ষিণের বরাক সমতল পর্যন্ত গিয়াছে। এই জাতীয় এবং গড়কাপ্তানী পথগুলি ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত জিলা পরিষদের অনেক ছোট ছোট পথ আছে। গড়কাপ্তানী পথের মধ্যে (১) আমচৈ হইয়া বৈঠালাংশু এবং হামরেন পর্যন্ত, (২) হোজাই হইতে ডনকামোকাম পর্যন্ত, (৩) লংকা হইতে দক্ষিণদিকে উমরাংশু হইয়া হাফলও পর্যন্ত এবং (৪) কাৰ্বি আংলঙ জেলার ডিফু হইতে লামডিং পর্যন্ত যাইবার পথই প্রধান। 

রেল পরিবহন : বরাক উপত্যকার বদরপুর হইতে উত্তর-কাছাড় পার্বত্য জেলার উত্তরে লামডিং পর্যন্ত ৩৭টি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়া পাহাড়ীয়া রেলপথটি ১৯০৩ সালে স্থাপিত হইয়াছিল। ১৯০২-১৯০৩ সালে লামডিং হইতে পশ্চিম ওয়াহাটী এবং ১৯০৪ সালে ডিব্রুগড়ের রেলপথ স্থাপন করা হইয়াছিল। 

জল পরিবহন ও বিমান পরিবহন ঃ এই অঞ্চলটি পাহাড়ীয়া হইবার ফলে এই অঞ্চলে জল পরিবহন ও বিমান পরিবহনের ব্যবস্থা গড়িয়া উঠিতে পারে নাই। অবশ্য ধনশিরি, কপিলী, দিয়ুং এবং মাহুর নদীতে ছোট ছোট নৌকা অনেকদিন পূর্ব হইতেই ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করা হইতেছে।

প্রশ্ন ১০। অসমের পাঁচটি তৈল ক্ষেত্রের নাম লিখ। এই স্থানগুলি অসমের কোন্ কোন্ জেলায় অবস্থিত তাহা উল্লেখ কর।

উত্তর :

তৈলক্ষেত্রের নামজেলা
(১) ডিগবয় 
(২) লাকুয়া 
(৩) আমগুরি 
(৪) মরাণ 
(৫) দুলিয়াজান 
(৬) টেঙ্গাঘাট
তিনসুকীয়া । 
শিবসাগর। 
শিবসাগর । 
শিবসাগর। 
ডিব্ৰুগড়। 
ডিব্ৰুগড়।

প্রশ্ন ১১। অসমের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর। 

উত্তর। অসম একটি কৃষি প্রধান রাজ্য। ইহার জলবায়ু মৌসুমী শস্যের জন্য উপকারী। ব্রহ্মপুত্রের সমতলে প্রধান শস্য ধান। এখানে শালি, আউস এবং বোরো ধানের চাষ হয়। অসমে সমগ্র প্রজাতির ধানের মোট বার্ষিক উৎপাদন ২,৬০০,০০০ টন। ধানের পর এখানে প্রচুর পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। নগাঁও, নলবাড়ি, মরিগাঁও, দরং, বরপেটা, ধুবড়ি ইত্যাদি জেলায় ৭০, ০০০ হেক্টর জমিতে মোট ৭,০০,০০০ গাঁট-পাট উৎপাদন করা হয়। অর্থশস্যে যেমন—পাট, আখ, চা ইত্যাদি অসমে প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এখানে কিছু পরিমাণে ভুট্টা এবং গম উৎপাদন করা হয়। চর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি ওলকপি ইত্যাদি উৎপন্ন হয়। গোলাঘাটের সরু পাথার, বড়পেটা জেলা, বঙ্গাইগাঁও জেলা ও ধুবুড়ি জেলার শাক-সব্জী উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। 

অসমে প্রচুর পরিমাণে ফল উৎপন্ন হয়। কলা, আনারস, কমলা, পেঁপে এবং নারিকেল যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন হয়। 

অসমের বিখ্যাত অর্থশসা হইল চা। এখানে প্রায় ১০০টি চা বাগান আছে। এই বাগানগুলিতে ৪ কোটি কিলোগ্রামের উপরে চা উৎপন্ন হয়। অসমের চা বিশ্বের বাজার দখল করিয়াছে। ইহা ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে যথেষ্ট কফি উৎপন্ন হয়।

সুতরাং দেখা যাইতেছে যে কৃষির অবদান যথেষ্ট রাখিয়াছে। কৃষি হইতে উৎপাদিত পণ্য রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধিতে খুব সহায়ক। আসাম হইতে উৎপাদিত পণ্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এমনকি বাংলাদেশেও পাঠানো হয়। 

প্রশ্ন ১২। বরাক-সমতলের কৃমির বিষয়ে একটি ভৌগোলিক বর্ণনা দাও। 

উত্তর ঃ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মতই বরাক সমতলেও মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি উৎপাদন। অঞ্চলটির প্রায় ৩৫ শতাংশ জমিই জুড়িয়া আছে বন-জঙ্গল, ডোবা, টিলা ইত্যাদি। এখানকার ৩০ শতাংশ জমি কৃষির উপযোগী। এই অঞ্চলে প্রধানতঃ ধান, কলাই, মাকৈ, আখ, সরিষা, পাট এবং চা-ই প্রধান কৃষিজাত শস্য। ফলমূলের মধ্যে কমলা, আনারস, পেঁপে প্রধান। ইহা ছাড়া এখানে প্রচুর পরিমাণে আলু এবং শাক- সব্জী উৎপন্ন হয়। 

বরাক উপত্যকার প্রধান ফসল হইল ধান। ইহার প্রায় ২,৪০,০০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়। এখানে আমন, আউস এবং বরো তিন প্রকার ধানের চাষই হয়। ধানের পর এখানে ডাইল জাতীয় শস্য এবং সরিষা উৎপাদন হয়। এখানে ১৭০০ হেক্টর জমিতে ডাল এবং ২০০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়। বরাক সমতলের অর্থকরী শস্যের মধ্যে পাট, আখ এবং চা-ই প্রধান। পাট বরাক নদীর পারের নীচু স্থানগুলিতে করা হয়। কাছাড় জেলায় আখের চাষ করা হয় করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দিতে। চা-চাষ এই অঞ্চলটির একটি প্রধান অর্থকরী ফসল। এই সমতালের টিলাগুলিতে এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাহাড়ের অঞ্চলগুলিতে চা-চাষ করা হয়। এখানে মোট ১১৫টি চা বাগান আছে। ইহা প্রায় ৩০,০০০ হেক্টর জমি জুড়িয়া আছে। চায়ের বাগানগুলিতে মোট প্রায় ৪০,০০০,০০ কিলোগ্রাম চা-পাতা উৎপাদন হয়। 

প্রশ্ন ১৩। অসম নগরীকরণে কেন অনুন্নত — বিস্তারিত আলোচনা কর। 

উত্তর : ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অসমের নগরের সংখ্যা যথেষ্ট পরিমাণে কম। ২০০১ সালের গণনা অনুসারে অসমে নগরের সংখ্যা ১০৩টি। ইহার গ্রামের সংখ্যা হইল ২৬, ২৪৭টি। অসমের মোট ১০৩টি নগরের মধ্যে ৮৫টি-ই হইল ব্রহ্মপুত্র-সমতল উপত্যকায় অবস্থিত।

অসম নগরীকরণে অনুন্নত হওয়ার কারণগুলি হইল :

(ক) অনুন্নত শিল্প-বাণিজ্য। অসাম শিল্প-বাণিজ্যের বিশেষ বিকাশ হয় নাই। ইহার জন্য বেশি বড় আকারের হইয়া উঠিতে পারে নাই। 

(খ) পুরানো পদ্ধতিতে কৃষিকাজ : অসমের কৃষিকাজ বহুকাল হইতেই প্রাচীন পদ্ধতিতে করা হয়। সেইজন্য অসমের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন বিশেষ কোন ব্যবসায়- বাণিজ্যে অগ্রসর হইতে পারে নাই। ইহা ছাড়া অসমে কোন কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ গড়িয়া উঠিতে না পারায় অসম নগরীকরণে যথেষ্ট পিছনে পড়িয়া আছে। 

(গ) অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা : অসমের যাতায়াত ব্যবস্থা ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলি হইতে বিশেষভাবে পশ্চাদপদ। অসমের বিভিন্ন কেন্দ্রস্থানে যাতায়াত করিতে যথোপযুক্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা নাই। অসমের সড়কপথ, রেলপথের এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও বিশেষভাবে অনুন্নত অবস্থায় আছে। দ্রুত যাতায়াতের অভাবে অসমের নগর-উন্নয়ন ক্ষেত্রে বিশেষ বাধার সৃষ্টি হইয়াছে। 

প্রশ্ন ১৪। অসমের নগরগুলি কি কি ভিত্তিতে গড়িয়া উঠিয়াছে? 

উত্তর : অসমের নগরগুলি গাড়িয়া উঠার ভিত্তিগুলি হইল : 

(ক) প্রশাসনীয় কেন্দ্রভিত্তিক : অসমের কিছু কিছু নগর প্রশাসনীয় কেন্দ্র হিসাবে অর্থাৎ জিলা বা মহকুমার সদর কার্যালয় হিসাবে গড়িয়া উঠিয়াছে। গুয়াহাটী, নগাও, নলবারী, মঙ্গলদৈ ইত্যাদি নগর ইহার উদাহরণ। 

(খ) চা শিল্পের কেন্দ্রভিত্তিক : অসমের চা শিল্পের কেন্দ্র হিসাবে কিছু কিছু নগরের সৃষ্টি হইয়াছে। ডুমডুমা, চাবুয়া, নাজিরা, দেরগাঁও, বিশ্বনাথ, চারিআলি, ঢেকিয়াজুলি, ওদালগুড়ি, টংলা ইত্যাদি নগরগুলি চা-শিল্পকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে। 

(গ) কুটির এবং লঘু শিল্পের কেন্দ্রভিত্তিক : অসমের স্থানীয় কুটির শিল্প এবং লঘু শিল্প কারখানাকে ভিত্তি করিয়া বেশ কয়েকটি নগর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমন : সার্থে বাড়ি, শোয়ালকুচি, বঙ্গাইগাঁও ইত্যাদি নগর ইহার উদাহরণ। 

(ঘ) যাতায়াত এবং পরিবহনের কেন্দ্রভিত্তিক : অসমের কিছু নগর যাতায়াত এবং পরিবহনকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে। বিশেষ করিয়া রেল জংশন এবং দুইটি-তিনটি বা ততোধিক প্রধান রাস্তার সংযোগস্থলে নগর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমন : লামডিং, মরিয়ানি, ভিনসুকীয়া ইত্যাদি এই ধরনের নগর। 

(ঙ) অপরিশোধিত তেলের কেন্দ্রভিত্তিক : অসমের খনিগুলির অপরিশোধিত তেলের উদ্যোগের ভিত্তিকে কয়েকটি নগর গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমন : ডিগবয়, সুলীয়াজান, নাহারকাটিয়া, নুমলীগড় বসাইগাঁও, ইত্যাদি তৈল নগরী। সেইরূপ কয়লাখনিকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠা নগরগুলি হইল লিতু, বরগোলাই, মার্গারিটা, মাকুম ইত্যাদি নগর। 

(চ) কৃষি উৎপাদক কেন্দ্রভিত্তিক :কৃষিজ উৎপাদকে ভিত্তি করিয়া গড়িয়া উঠা * ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য পাঠশালা, টিং, কৃষ্ণাই, থারুপেটিয়া ইত্যাদি নগর গড়িয়া উঠিয়াছে। 

(ছ) নদীকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠা : অসমের অনেক নগর গড়িয়া উঠিয়াছে নদীকে কেন্দ্র করিয়া। কারণ ব্যবসায়-বাণিজ্যের জন্য নদী খুব প্রয়োজনীয় মাধ্যম। নদীর পারে নৌকা, জাহাজ ইত্যাদির সাহায্যে ব্যবসায় করা সহজ। নদীকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে গোয়ালপাড়া, তেজপুর, পাণ্ডু, শিলচর, ধুবরি ইত্যাদি নগরগুলি। 

প্রশ্ন ১৫। অসমের কুটির শিল্পের উদ্যোগের বিষয়ে বর্ণনা দাও। 

উত্তর : অসমের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প হইল তাঁতশিল্প। অতীতকাল হইতে তাঁতে উৎপাদিত বস্তু ঐতিহ্যপূর্ণ ব্যবসায়ে পরিণত হইয়াছে। বয়ন শিল্পে কাপাস, এরী, মুগা এবং পাটের কাপড় বোনা হয়। প্রকৃতপক্ষে এরী এবং মুগা উৎপাদনে অসম পৃথিবী বিখ্যাত। বয়ন শিল্প ছাড়া অসমের পরম্পরাগত কুটির শিল্প হইল কাঁসা এবং পিতলের বাসন তৈয়ার করা। বরপেটা জেলায় স্বার্থেবাড়িতে কাসার বাসন এবং ইহার নিকট হালদিবাড়িতে এবং কামরূপ জেলার হাজোতে পিতলের বাসন উৎপন্ন করা হয়। এইগুলি ছাড়া কুটির শিল্পের মধ্যো সোনা-রূপার অলঙ্কার নির্মাণ, বাঁশ বেতের সামগ্রী নির্মাণ, আসবাবপত্র নির্মাণ করা, মাটির বাসন, প্রদীপ ইত্যাদি তৈয়ার করা হয়। বরাক নদীর তীরে বহু স্থানে মাটির কলসী, ঘট ইত্যাদি মাটির বাসন তৈয়ার করা হয়। 

প্রশ্ন ১৬। ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলের একটি সংক্ষিপ্ত ভূ-প্রকৃতির বিবরণ দাও। অথবা, ব্রহ্মপুত্র সমতলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

উত্তর : অসমের উত্তরাংশে ভূটান এবং অরুণাচল হিমালয়ের পাদদেশে ব্রহ্মপুত্র-সমতল ভূমি অবস্থিত। পূর্বে তিনসুকীয়া জেলার শদিয়া মহকুমা হইতে পশ্চিমে ধুবড়ি জিলার ধুবড়ি মহকুমা পর্যন্ত এই সমতলটিতে ১৮টি প্রশাসনিক জিলা আছে। ইহার মোট জমির কালি প্রায় ৫৪,৪০০ বর্গ কিলোমিটার। বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদী যুগ যুগ ধরিয়া পূর্বের অবয়বের পরিবর্তন ঘটাইয়া এবং স্থানে স্থানে নূতন অবক্ষেপ ঘটাইয়া এই বিস্তীর্ণ সমতল গড়িয়া উঠিয়াছে। 

ইহা একটি বৃহৎ সমতল। পূর্বদিক হইতে পশ্চিম দিক পর্যন্ত ইহার দৈর্ঘ্য ৭২ কিমি এবং উচ্চতা দক্ষিণ দিকে গড়ে ১০ কিমি হইবে। সমতলটিতে দেখার মত ভূ-প্রকৃতি এই যে পূর্ব হইতে পশ্চিম ইহার ঢাল অতিক্রম। সেইজন্য একসঙ্গে দুইদিন বৃষ্টি হইলেই বন্যা দেখা দেয়। এই সমতলের ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় ৪০টি বড় নদী আছে। এই উপনদীগুলির সঙ্গে আরও বহু নূতন-পুরানো নদীর সুতি, খাল, ডোবা, বিল এবং জলাভূমি ইত্যাদি দেখিতে পাওয়া যায়। 

ব্রহ্মপুত্র সমতলের উত্তর পারের প্রধান প্রধান উপনদীগুলি হইতেছে—সুবর্ণশিরি, রঙ্গনদী, ডিব্রু, বরগাং, জীয়াভরালী, বরনদী, জিয়া ধানশিরি, পাগলাদিয়া, মানস, চম্পাবতী, সোনকোশ ইত্যাদি। 

অপরদিকে এই সমতলের দক্ষিণ পারের প্রধান প্রধান উপনদীগুলি হইল ডিক্স, বুড়িদিহিং, দিছাং, দিখৌ, জাজী, ভোগদৈ, ধনশিরি, কলং, কপিলী, ডিগারু, কুলসী, দুধনৈ, কৃষ্ণাই, জিনারী এবং জিঞ্জিরাম ইত্যাদি। 

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ভূ-প্রকৃতির অপর একটি মনে রাখার মত চরিত্র হইল যে ইহার নদীগুলিতে বেশ ভাঙন হয়। এইরূপ ভাঙনে কৃষিজ শস্যের যথেষ্ট ক্ষতি হয়, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট জলে ডুবিয়া যায় এবং বিস্তর পরিমাণ ক্ষতিসাধন হইয়া থাকে। 

ব্রহ্মপুত্রের উচ্চভাগে জোড়হাট জিলার উত্তরাংশে মাজুলী নদীদ্বীপ আছে। বর্তমানে ইহার কালি কমিয়া গিয়া ৮০০ বর্গ কিলোমিটার দাঁড়াইয়াছে। পূর্বে ইহার কালি ছিল ১২০০ বর্গ কিমি। ক্ষয়ীভবনের ফলে এই অঞ্চলটির অন্য একটি ভূ- প্রকৃতির অবয়ব হইয়াছে ব্রহ্মপুত্রের পারে অবস্থিত টিলাগুলি। ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে স্থানে স্থানে কিছু কিছু অতি প্রাচীন টিলা ও পাহাড় দেখা যায়। এই টিলাগুলিই আসলে মেঘালয় উত্তর দিকে আগাইয়া আসা অংশবিশেষ।

ইহার অন্য একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হইতেছে, ইহার উত্তরাংশের হিমালয়ের পাদদেশে যুক্ত হইয়া থাকা গভীর অরণ্য অঞ্চল। এই অরণ্য অঞ্চলকে তরাই অঞ্চল বলা হয়। 

পশ্ন ১৭। বরাক সমতলের একটি সংক্ষিপ্ত ভূ-প্রকৃতির বিবরণ দাও। 

উত্তর : অসমের দক্ষিণ অংশের বরাক উপত্যকায় বরাক সমতল অবস্থিত। ইহার পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৭০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মোটের উপর ৬৯৬২ বর্গ কিলোমিটারের একটি মাঝারি আকারের সমতল ভূমি। এখানে তিনটি প্রশাসনীয় জিলা আছে। জিলাগুলি হইল কাছাড়, হাইলাকালি এবং করিমগঞ্জ জিলা। অঞ্চলটির উত্তরে উত্তর কাছাড় পাহাড়, পূর্বে মণিপুরের পাহাড়গুলি, দক্ষিণে মিজোরামের পাহাড়গুলি এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের সুরমা উপত্যকার সহিত সংলগ্ন। 

তিন দিকে পাহাড় দ্বারা ঘেরা বরাক সমতল আসলে একটি নিম্নভূমি। পূর্বের জিরিবামের নিকট সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে সমতলটির উচ্চতা ৭৫ মিটার এবং পশ্চিমে করিমগঞ্জের নিকট ইহার উচ্চতা ৫১ মিটার। ইহার মধ্য দিয়া আঁকিয়া বাকিয়া মন্থর গতিতে প্রবাহিত হইয়া গিয়াছে বরাক নদী। উত্তরে মণিপুর এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল হইতে প্রবাহিত ভিরি, লাবাক, মাধুরা, দাল, জাটিংগা, লাবাং ইত্যাদি উপনদীগুলি হইতেছে সোনাই, কাটাখাল, ধরেশ্বরী, শিংলা এবং লংগাই। বরাক এবং ইহার উপনদীগুলিতে বহু স্মৃতি এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বরাক সমতলটিতে দেখা যায়। 

অপরদিকে বরাক সমতলটিতে উত্তর-দক্ষিণ দিকে বহু টিলা ছড়াইয়া আছে। ইহার শিলাময় অঞ্চলগুলি গভীর অরণ্যে ভরা। এই অঞ্চলটির উপত্যকা ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর অন্তর্গত। 

পদ্ম ১৮। পার্বত্য অঞ্চলের একটি সংক্ষিপ্ত ভূপ্রকৃতির বিবরণ দাও। 

উত্তর ঃ ব্রহ্মপুত্র-সমতল এবং বরাক সমতলের মধ্যে মালভূমি এবং পার্বত্যভূমির একটি উচ্চ অঞ্চল আছে। এই উচ্চভূমির উত্তরাংশ হইল কার্বি মালভূমি এবং দক্ষিণাংশ হইল উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল। দুইটি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির উৎপত্তির

সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা হইলেও দুইটি অংশই একটি অপরটির সহিত যুক্ত হওয়া অবস্থিত এবং দুইটিকেই একসঙ্গে এক অভিন্ন পার্বত্যভূমি বলিয়া মনে হয়। কাৰ্বি উচ্চভূমি অঞ্চল আসলে মেঘালয় মালভূমির পূর্বতম অংশ। এই মালভূমি আবার ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমির অংশ বিশেষ। ইহা প্রাপ্ত কেন্দ্রিয়ান যুগ হইতেই প্রতিষ্ঠিত আছে। কালক্রমে ইহার উপরের অংশগুলি অবক্ষয় ও নগীভবনের ফলে এবং পরবিহন প্রক্রিয়ায় বিচ্ছিন্ন হইয়া এখন সেইগুলি কঠিনতম অংশাকারে পর্বত ও পাহাড় হিসাবে দাঁড়াইয়া আছে। 

কার্বি মালভূমির পশ্চিমাংশের নাম হাসরেণ। ইহা জয়ন্তিয়া মালভূমির অংশ বিশেষ। হামরেণের উত্তর-পূর্বে কপিলী নদীর ও উত্তর-পূর্বে কার্বি মালভূমি অবস্থিত। ইহার মাঝের অংশ কিছুটা উঁচু পাহাড়ে ভরা। মালভূমিটি মধ্যভাগ হইতে চারিদিকে কিছুটা নামিয়া আসিয়াছে। মালভূমিটির মধ্যভাগের উচ্চ খণ্ডে যে পাহাড় শ্রেণী আছে তাহাকে রেংমা পাহাড় শ্রেণী বলে। এখানকার কার্বি মালভূমির উচ্চতম শৃঙ্গ দুইটির নাম হইল সিংহাসন (১৩৫৯ মিটার) এবং দাম্বুকছো (১৩৬৩ মিটার) । ইহার মধ্য অংশ হইতে উত্তর এবং পূর্ব দিকে নামবর, কলিয়ণী, দৈগুরুং, ডিফলু ইত্যাদি নদীগুলি এবং পশ্চিমদিকে মিছা, ভিজু, চাপানলা, ননৈ, যমুনা ইত্যাদি নদী। প্রবাহিত হইয়াছে। মূল কার্বি মালভূমির দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্বদিকে ধনশিরি নদী এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কপিলী এবং তাহার উপনদী দিয়ুং বহিয়া গিয়াছে। 

উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলার পর্বত-পাহাড়গুলি আসলে হিমালয়ের দক্ষিণদিকে অবস্থিত পর্বত ও পাহাড়গুলির অংশ বিশেষ। এই জিলার-ই মধ্যভাগের দক্ষিণ- পশ্চিম হইতে উত্তর-পূর্ব দিকে ‘বরাইল’ নামে একটি পর্বতশ্রেণী আছে। ইহা ১০০০ মিটার হইতে ১৯০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু। অসমের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলি বরাইল পাহাড় শ্রেণীর অন্তর্গত। সেইগুলির মধ্যে অসম এবং নাগালেণ্ড সীমানায় অবস্থিত লাইকেই (১৯৫৯ মিটার)। দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত থেইপিবুং (১৮৬৬ মিটার), হেমপ্ৰপেট (১৮৫০ মিটার), মহাদেব (১৭৩৯ মিটার), কাউকাহা (১৭৩৬ মিটার) ইত্যাদি প্রধান পর্বতশৃঙ্গ। এই উচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলির সঙ্গে বরাইল পর্বতশ্রেণী একটি তাৎপর্যপূর্ণ জল বিভাজিকার সৃষ্টি করিয়াছে।

প্রশ্ন ১৯। শিল্পের ক্ষেত্রে অসন মন্থর গতিসম্পন্ন হইবার কারণগুলি কি কি? 

উত্তর : অসম শিল্পের ক্ষেত্রে মন্থর গতি সম্পন্ন হইবার কারণগুলি হইল –

(ক) মূলধনের অভাব। আমাদের দেশবাসীর সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব কম, ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মূলধন গঠিত হয় না। এর ফলে অসমে বৃহৎ কোন শিল্প গড়ে উঠতে পারে নাই। 

(খ) অতি প্রাচীন কাল হইতেই অসমে বিভিন্ন এজেন্ট ও বিদেশীয়গণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করিয়া থাকে। ফলে লভ্যাংশ বিদেশে চলিয়া যায়। 

(গ) অসমের আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবহনের অনুন্নত ব্যবস্থাও শিল্প গড়িয়া উঠিতে সাহায্য করে না। 

(ঘ) সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসাবে বিদেশী আক্রমণের সম্ভাবনা এবং দেশটির অন্যান্য অঞ্চলসমূহ হইতে ভৌগোলিক দূরত্বের জন্য শিল্পপতিগণ অসমে শিল্প স্থাপনে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। 

(ঙ) কারিগরী জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের অভাব। ফলে, সুদক্ষ শ্রমিক রাজ্যের বাহির হইতে অধিক পারিশ্রমিক দ্বারা আনিতে হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত সামগ্রীসমূহ অধিক দামে বিক্রয় করিতে হয়। অতিরিক্ত মূল্যের জন্য উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রী বিদেশী বাজারে টিকিয়ে থাকিতে পারে না। 

(চ) শিল্পায়নের অর্থে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যিক সরকারের শিল্প উন্নয়নের বিফলতা। 

প্রশ্ন ২০। আসামের পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিকার্যের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা দাও। 

উত্তর : আসামের পার্বত্য অঞ্চলটি কৃষি উৎপাদনে বিশেষ অগ্রসর নহে। এই অঞ্চলের কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুম চাষ করা হয়। ইহার স্থানীয় জনজাতীয় কৃষকগণ অতি প্রাচীন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে। ইহার ফলে এখানে কৃষি উৎপাদন কম হয়। তাহারা পাহাড়ের ঢালে বনজঙ্গল কাটিয়া তাহাতে আগুন দিয়া মুক্ত করিয়া জমিতে কোদাল দ্বারা কুপাইয়া শস্যের বীজ রোপণ এবং বপন করে। সাধারণতঃ তাহারা আউস ধান, মাকৈ, মিষ্টি আলু, কচু, মরিচ (লম্বা), আদা, তিল, সরিষা ইত্যাদি শসা ঝুম চাষের মাধ্যমে করিয়া থাকে। এইরূপ কৃষিকাজ একটুকরা জমিতে দুই বা তিন বৎসরের বেশি হয় না কারণ জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট হইয়া যায়। তবে কার্বি আংলং-এর মালভূমিতে যথেষ্ট সমতল ভূমি আছে। এখানে কিছু কিছু শালি ধান, বোর ধান চাষ হইয়া থাকে।

যমুনা নদীর উপরে বকুলীয়া ঘাটে বা দিয়া জল সিঞ্চনের মাধ্যমে কিছু কিছু কৃষিকাজ করা হয়। কার্বি আংলং এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলা দুহারে মানুষেরই ভাত প্রধান খাদ্য। তাই এখানে ধান চাষের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাৰ্বি আংলং জিলায় ১,২২,৩৫১ হেক্টর এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য জিলায় ১৪,৯০৮ হেক্টর জমিতে শালি ধানের চাষ করা হয়। কার্বি আংলং-এর প্রায় ৭০ শতাংশ এবং উত্তর কাছাড়ের ৪৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়। এই দুইটি জিলার দ্বিতীয় প্রধান শস্য হইল মাকৈ বা গোম ধান। এখানকার ২০০০ হেক্টর জমিতে কার্পাসের চাষ করা হয়। সরিষাও এই পার্বত্য অঞ্চলটির একটি প্রধান ফসল। ঝুম চাষের মাধ্যমে এখানে ‘সরিষা’ ও কিছু ডালের চাষও করা হয়।। 

প্রশ্ন ২১। ব্রহ্মপুত্র সমতলের কৃষির বিষয়ে একটি ভৌগোলিক বর্ণনা দাও। 

উত্তর : অসম একটি কৃষিপ্রধান রাজা। ইহার ব্রহ্মপুত্র সমতলের প্রায় ৩০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জমিতে চাষাবাদ করা হয়। ইহার মধ্যে ২১ হাজার বর্ণ কিলোমিটার জমিতে ধান চাষ করা হয়। 

ব্রহ্মপুত্র সমতলের ধান-ই হইল প্রধান শস্য। এখানে বংশানুযায়ী এবং ঐতিহ্যগতভাবেই আমন ধানের চাষ এবং আউস ধানের চাষ করা হয়। অসমের কৃষিতে খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজকাল ব্ৰহ্মপুত্র সমতেল প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার জন্য জল জমিয়া থাকা স্থানগুলিতে ‘বরো” নামের এক প্রকার ধানের চাষ করা হয়। এই সমতল ভূমিতে মাজারি ধরনের ধান উৎপন্ন হয়। সমগ্র সমতলটিতে প্রত্যেক প্রকার ধানের মোট বার্ষিক উৎপাদন ২,৬০০,০০০ টন। 

পাট উৎপাদন : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মধ্য এবং নিম্নভাগে বর্ষার জল আবদ্ধ হইয়া থাকা স্থানগুলিতে পাটের চাষ করা হয়। পাট হইল এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রধান শস্য। নগাঁও, মরিগাঁও, দরং, নলবাড়ি, বরপেটা, গোয়ালপাড়া, বঙ্গাইগাঁও এবং ধুবড়ি জিলার প্রচুর পরিমাণে পাট চাষ করা হয়। পাট চাষ মোট ৭০,০০০ হেক্টর জমিতে করা হয় এবং মোট পাট উৎপাদন হয় ৭০০,০০০ গাঁইট। 

আখ চাষ : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় অপর প্রধান শস্য হইল আখ চাষ। গোলাঘাট নগাঁও, শোণিতপুর, কামরূপ, বরপেটা জিলায় কিছু পরিমাণে আখ চাষ করা হয়।

ইহার জন্য উঁচু জল না জমা জমির দরকার হয়। এই অঞ্চলে বৎসরে ১২,০০০ হেক্টর জমিতে ১,০০০ – ১০,০০০ টন আখ উৎপাদন করা হয়। 

গম উৎপাদন ঃ ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতল অঞ্চলে কিছু কিছু গমের চাষ করা হয়। প্রধানতঃ তুলনামূলকভাবে উঁচু জমিতে শালি ধান কাটার পর গমের বীজ ছিটানো হয়। পশ্চিম অসমের জিলাগুলিতে বৎসরে প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমিতে চাষ করিয়া ১,১০,০০০ টন গম উৎপাদন করা হয়। 

আলু এবং অন্যান্য সব্জী চাষ : ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলটিতে চরা জমিতে প্রচুর পরিমাণে অলু, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি এবং অন্যান্য শাক-সব্জীর চাষ করা হয়। এখানে বৎসরে ৬০০,০০০ টন আলু উৎপন্ন হয়। গোলাঘাটের সরুপাথার, নগাঁও জিলা, দরং জিলার দলগাঁও, খারুপেটিয়া, ধুবড়ি জিলা, বরপেটা, বঙ্গাইগাঁও জিলাতে প্রচুর পরিমাণে শাক-সব্জী উৎপাদন করা হয়। 

ফলমূল চাষ : ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় কলা, আনারস, কমলা, পেঁপে, নারিকেল যথেষ্ট। পরিমাণে উৎপন্ন হয়। তিনসুকীয়া, গোলাঘাট, কামরূপ, গোয়ালপাড়া জিলায় কমলা এবং আনারস চাষ ভাল হয়। বকো, ধূপধরা, দুধনৈ, কৃষ্ণাই অঞ্চলের কলার চাষ ভারত বিখ্যাত। পেঁপে এই অঞ্চলের প্রায় সবস্থানেই উৎপন্ন হয়। 

নগদী বা অর্থকরী ফসল : ব্রহ্মাপুত্ৰ সমতল উপত্যকায় নগদী ফসল এবং অর্থকরী শস্যের চাষ করা হয়। ইহার মধ্যে চা-চাষ উল্লেখযোগ্য। শতাধিক হেক্টর জমি জুড়িয়া যেখানে পাহাড়ীয়া ঢালু অথচ প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় কিন্তু জল জমিয়া থাকে না এইরূপ জমিতে চা চাষ ভাল হয়। এই অঞ্চলে প্রায় ৭০০টির মত চা- বাগান আছে। এইগুলি বিশেষ করিয়া তিনসুকীয়া, ডিব্ৰুগড়, শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, নগাঁও, শোণিতপুর, বরং জিলায় ছড়াইয়া আছে। এইগুলিতে প্রায় ১৯০,০০০ হেক্টর জমিতে চা চাষ করিয়া বৎসরে ৩৬৬ নিযুত কিলোগ্রাম চা-পাতা উৎপাদন করা হয়। 

প্রশ্ন ২২। অসমের (ব্রহ্মপুত্র সমতলের) খনিজ সম্পদের ভিত্তিতে শিল্পোদ্যোগের একটি আলোচনা কর। 

উত্তর : ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতল শিল্পোদ্যোগে বিশেষ উন্নতি করিতে পারে নাই। শিল্প কারখানা গড়িয়া উঠিতে যে সকল সম্পদের প্রয়োজন তাহাদের কিছু কিছু সম্পদ যেমন অপরিশোধিত তৈল, কয়লা ইত্যাদির মত খনিজ পদার্থ ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলে পাওয়া যায়। কিন্তু শিল্প কারখানা গড়িয়া উঠার ক্ষেত্রে যে সকল আন্তঃগঠন দরকার সেইগুলির অভাব এবং অঞ্চলটির মানুষ। সম্পদের অভাবের জন্য আশানুরূপভাবে শিল্পোদ্যোগে গড়িয়া উঠিতে পারে নাই। খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠা শিল্পগুলির মধ্যে চারটি তেল শোধনাগারের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখানকার ডিগবয় তেল শোধনাগার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথম তেল শোধনাগার। অপর তিনটি তেল শোধনাগার হইল নুনমাটি (গুয়াহাটী) তেল শোধনাগার, বঙ্গাইগাঁও পেট্রো কেমিকেল কমপ্লেক্স, এবং নুমুলীগড় তেল শোধনাগার। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পূর্বে ডিগবয়, টেঙ্গাঘাট, দুলীয়াজান, নাহারকাটিয়া, মরাণ, লাকুয়া, লংচাই, গেলেকি, আমগুড়ি, রুদ্রসাগর, বরহোলা ইত্যাদি স্থানে অপরিশোধিত তেল এবং নাহারকারিয়া, রুদ্রসাগর, লাকুয়া ইত্যাদি স্থানে তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এই ক্ষেত্রগুলি হইতে উত্তোলিত তেল বিহারের বারাউনী তেল শোধনাগারে পাইপ লাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পাঠানো ছাড়াও অসমের চারিটি তেল শোধনাগারে তেল পরিশোধন করিয়া কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রোল, মোমবাতি ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। নমুলীগড় এবং বঙ্গাইগাঁও তেল শোধনাগার হইতে পেট্রোল, ডিজেল ছাড়াও নেপৃথা, মেঘালন, ফরমেলিন ইত্যাদি বিভিন্ন পেট্রো-রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। নামরূপে অসম সরকার মেথানল, ফার্মেলিন, পেট্রোলাইট ইত্যাদি তৈরি করার একটি কারখানা স্থাপন করিয়াছে। এখানেই ভারতীয় সার কোম্পানীর একটি কারখানাও আছে। 

কামরূপ, নলবাড়ি এবং বঙ্গাইগাঁও কৃত্রিম সূতা প্রস্তুত করিয়া তাহার দ্বারা বস্তু তৈরি করার কারখানও গড়িয়া উঠিয়াছে। এইগুলির মধ্যে রঙ্গিয়ার নিকটে তুলসীবাড়িতে এপল (APOL) বস্ত্র কারখানা প্রধান। নলবাড়ি জিলার নাথকুচি এবং দরং জিলাব বিজুলীবাড়িতে এইরূপ কৃত্রিম সূতার আরও দুইটি কারখানা আছে। 

অপরিশোধিত তেল হইতে রন্ধন গ্যাস প্রস্তুত করা হয়। এই গ্যাস ঘরে ঘরে সরবরাহ করিবার জন্য সিলিন্ডার ভর্তি করিয়া নানাস্থানে পাঠানো হয়। দুলীয়াজান এবং গুয়াহাটীতে রন্ধন গ্যাস ভর্তি করার কারখানা (Boottling Plant) স্থাপন করা হইয়াছে।

গুয়াহাটী ‘অসম কার্বন’ এবং ‘ইন্ডিয়া কার্বন’ নামে প্রতিষ্ঠান দুইটি তেল শোধনাগার হইতে কাঁচা পণ্য সংগ্রহ করিয়া বিভিন্ন প্রকারের কার্বনভিত্তিক শিল্প দ্রব্য প্রস্তুত করিতেছে। 

বঙ্গাইগাঁও অ্যালুমিনিয়ামের বাসন প্রস্তুত করার সাহসী ঔষধ ও প্রসাধন সামগ্রী প্রস্তুত করার এবং তিনসুকীয়া ও গুয়াহাটী লোহার রড, তার, পাইপ ইত্যাদি প্রস্তুত করার কারখানা স্থাপন করা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ২৩। ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলের বনজ সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা কর। 

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র সমতল ক্রান্তীয় মৌসুমী অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে এপ্রিল- মে মাসে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি আরম্ভ হয় কিন্তু জুন হইতে সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অধিক হয়। আবার অক্টোবর হইতে মার্চ মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কমিয়া যায়। এই সমতলভূমিতে বেশিরভাগই পর্ণমোচী উদ্ভিদ দেখা যায়। এইগুলির মধ্যে শাল, সেগুন, শিংরি, বনসম, উরিয়াম, আজার, পমা, গামারি, শিমুল, কাঁঠাল, হরিতকী, খয়ের, শিরিষ, চালতা, কদম ইত্যাদিই প্রধান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহদাকারের অরণ্য ধ্বংসপ্রাপ্ত হইতেছে। 

নাগা পাহাড়, অরুণাচল এবং হিমালয়ের পাদদেশে ক্রান্তীয় চিরসবুজ বৃক্ষরাজির অরণ্য দেখা যায়। তিনসুকীয়া জেলার জয়পুর ও বুড়ীডিহিং সংরক্ষিত বন, লক্ষীমপুর জেলার দুলুং সংরক্ষিত বন এবং শোণিতপুর জেলার সোনাই-রূপাই সংরক্ষিত বনে চিরসবুজ বৃক্ষ অধিক পরিমাণে দেখা যায়। এই সকল অরণ্যে হলং, নাহর, হলক, মাঝরি শাল, শিশু, তিতা চাপা, বন্য আম, অর্জুন, অগরু ইত্যাদিই প্রধান। ক্রান্তীয় চিরসবুজ বনাঞ্চলে ঘন তৃণজাতীয় ঘাস জন্মে। ইহা ছাড়া উচ্চ বৃক্ষগুলিতে অর্কিড ও রঘুমালা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।। 

ব্রহ্মপুত্র সমতলের তৃতীয় প্রকারের উদ্ভিদ হইল ঘাস-বন। এই ঘাস-বন দুই শ্রেণীর। প্রথমটি হইল— ব্রহ্মপুত্রের উত্তর সমতলের তরাই অঞ্চলের বড়, খাগড়া, কাঁশ ইত্যাদির মত উচ্চ ঘাস-বন এবং দ্বিতীয়টি হইল— ব্রহ্মপুত্র এবং ইহার উপনদীগুলির সমীপবর্তী অঞ্চলের জলাভূমি, খল, ল র ল প্রভৃতিতে ঝাউ, নল, খাগরা, ইকরা, বেত, পাটি, কংশ ইত্যাদির জলাভূমি।

উদ্ভিদ প্রকৃতি প্রদত্ত এক মহামূল্যবান সম্পদ। উদ্ভিদ ছাড়া আমরা খাদ্যসামগ্রী আশ্রয়স্থল, আসবাবপত্র, সাজ-সরগ্রাম ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে বর্তমানে ১২,৫১২ বর্গ কিলোমিটার পরিমাণ অঞ্চলে সংরক্ষিত বন আছে। ইহার পরিমাণ সমতলটির প্রায় ২২ শতাংশ। ব্রহ্মপুত্র সমতলের মূল্যবান গাছপালার মধ্যে শাল, সেগুন, গামারি, শিশু, তিতাচাপা, চম্পা, আজার, বনসম, অগরু গাছ বাঁশ, বেত এবং ইকরাই প্রধান। এইগুলি দ্বারা, বাড়ি-ঘর, কাঠের পুল, রেলপথের শিপার, গৃহকার্যে ব্যবহৃত আসবাব পত্র, নানা প্রকারের সাজ-সরঞ্জাম ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। ইহা ছাড়া পদ্মা, শিমুল, পূজা, হলক, হলং ইত্যাদি কোমল কাঠ প্লাইউড প্রস্তুত কার্যে ব্যবহৃত হয়। ব্রহ্মপুত্র সমতলের তিনসুকীয়া, ডিব্ৰুগড়, জোড়হাট ও কামরূপ জেলায় অনেক কাঠচেরাই করার কারখানা ও প্লাইউড কারখানা আছে। অসম সরকারের বনবিভাগ বৎসরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা উপার্জন করে। ইহা ছাড়াও নিম, তুলসী, দ্রোণ, সর্পগন্ধা, অপরাজিতা, নয়নতারা, অশোক, অর্জুন ইত্যাদি বনৌষধি গাছ পাওয়া যায়। 

বন্যপ্রাণীর মধ্যে কাজিরাঙ্গার একখড়া যুক্ত গণ্ডার, উচ্চ অসমের হলু বান্দর, বন্য মহিষ, হাতী, বাঘ, ভালুক, নল শুকর, শূকর ইত্যাদি প্রধান। এইগুলি ছাড়াও বিভিন্ন প্রকারের সাপ, কুমীর, সজারু, খরগোস ইত্যাদি পাওয়া যায়। বিল, জলাশয় ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে নানা প্রকারের পাখি দেখা যায়। বিল, জলাশয় ও নদীগুলিতে নানা প্রকারের মাছ, কচ্ছপ, কুমীর, শিশু ও উদ্ ইত্যাদি পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ২৪। অসমের অবস্থান সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : অসম ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। এই রাজ্যের সীমায় ভারতের ৭টি রাজ্যে ও ২টি বিদেশ রাষ্ট্র ভুটান ও বাংলাদেশ অবস্থিত। উত্তরে ভুটান ও অরুণাচল প্রদেশ, পূর্বে অরুণাচল প্রদশে নাগাল্যান্ড ও মণিপুর, দক্ষিণে মিজোরাম ও মেঘালয় এবং পশ্চিমে ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবংগ।

অসম ২৪ ০১ উত্তর অক্ষাংশ হইতে ২৭°৫৮ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং ৮১ ৪২ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হইতে ১৬০১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তারিত। 

প্রশ্ন ২৫। গুয়াহাটীকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার কেন বলা হয়? 

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় অবস্থিত ওয়াহাটী মহানগরকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশ জ্বর (Gateway of North East) বলা হয়। ইহার কারণ হইল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি—অরুণাচল প্রদশে, নাগাল্যাণ্ড, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা প্রভৃতি রাজ্যের রাজধানী শহর গুলিতে স্থলপথ ও বিমান পথে যাইতে হইলে গুয়াহাটীর মধ্য দিয়া যাইতে হইবে। 

প্রশ্ন ২৬। ব্রহ্মপুত্রের উত্তরপারের ও দক্ষিণ পারের উপ নদীগুলির নাম লিখ । 

উত্তর : ব্রহ্মপুত্রের উত্তর পারের প্রধান প্রধান উপ নদীগুলি হইল— অবনশিরি, ডিক্রং,

রঙানদী, বুরৈ, বরগাং, জীয়া ভরলী, গাভরু, বেলশিরি, ধনশিরি, নোরানদী, ননৈ, বরনদী, পুঠিমারী, পাগলাসিয়াস মানস, আই, বেকী, চম্পাবতী, গৌরাংগ, টিপকাই ও গদাধর। দক্ষিণপারের প্রধান উপনদীগুলি হইল— বুঢ়ীদিহিং, দিসাং, দিখৌ, জাঁজী, ভোগদৈ, ধনশ্রী, কপিলী, কুলশী, কৃষ্ণাই ও জিনারী।

প্রশ্ন ২৭। অসমের অভয়ারণ্য গুলির নাম ও ইহাদের অবস্থান সম্বন্ধে লিখ। 

 উত্তর :

অভয়ারণ্যের নামঅবস্থান (জেলা)
নামবর-দৈগুরুং অভয়ারণ্য 
গিবন অভয়ারণ্য 
গরমপানী অভয়ারণ্য 
 নামবর অভয়ারণ্য 
পূব কার্বি আংলং অভয়ারণ্য 
মারাট লংরি অভয়ারণ্য 
বুঢ়া চাপরি অভয়ারণ্য 
লাওখোয়া অভয়ারণ্য 
সোনাই-রূপাই অভয়াণ্য 
দিহিং-পাটকাই অভয়ারণ্য 
বরনদী অভয়ারণ্য 
চক্রশিলা অভয়ারণ্য 
বরাইল অভয়ারণ্য 
আমছাং অভয়ারণ্য 
দিপরবিল অভয়ারণ্য
গোলাঘাট 
যোরহাট 
কাৰ্বি আংলং 
কাৰ্বি আংলং 
কাৰ্বি আংলং 
কাৰ্বি আংলং 
শোণিতপুর 
মরিগাঁও 
শোণিতপুর 
ওদালগুরি 
কোকরাঝার 
ডিব্ৰুগড় ও তিনসুকীয়া 
কাছাড় 
কামরূপ (মহানগর 
কামরূপ (মহানগর)
প্রস্তাবিত অভয়ারণ্যের নামঅবস্থান (জেলা)
উত্তর কার্বি আংলং অভয়ারণ্য 
বরদৈবাম বিলমুখ অভয়ারণ্য
কাৰ্বি আংলং 
লখিমপুর

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া লিখ : 

প্রশ্ন ১। অসমে রেলসেবা আরম্ভ হয় 

(ক) ১৮৮২ সালে 

(খ) ১৮৮৩ সালে 

(গ) ১৮৮৪ সালে 

(ঘ) ১৮৮৫ সালে 

উত্তর : ১৮৮৪ সালে। 

প্রশ্ন ২। অ্যাপোল বস্ত্র কারখানাটি অবস্থিত— 

(ক) বঙ্গাইগাঁও 

(খ) তুলসীবাড়ী 

(গ) সার্থেবাড়ি 

(ঘ) হাজো 

উত্তর ঃ তুলসীবাড়ী। 

প্রশ্ন ৩। পাখির আত্মহনন’ কেন্দ্রটি অবস্থিত- 

(ক) মাইবং 

(খ) হাওড়াঘাট 

(গ) ডবকা 

(ঘ) জাটিংগা 

উত্তর : জাতিংগা 

প্রশ্ন ৪। অসমের মোট কালি— 

(ক) ৭৮,২৩৮ বর্গ কি.মি. 

(খ) ৭৪,৩৩৮ বর্গ কি.মি. 

(গ) ৭৮,৮৩৮ বর্গ কি.মি. 

(ঘ) ৭৮,৫৩৮ বর্গ কি.মি.

উত্তর : ৭৮,৪৩৮ বর্গ কি.মি. 

প্রশ্ন ৫। ২০১১ সনের জনগণনা অনুসারে অসমের মোট জনসংখ্যা- 

(ক) ২৬,৫৫,৫২৮ 

(খ) ২৬,৭৫৫,৫২৮ 

(গ) ৩১,১৬৯, ২৭ 

(ঘ) ২৬,৯৫৫,৫২৮ 

উত্তর : ৩১,১৬৯,২৭২জন

প্রশ্ন ৬। ব্ৰহ্মপুত্র উপত্যকার নগদী ফসল বা অর্থ শস্য হইল— 

(ক) ধান 

(খ) চা 

(গ) পাট 

(ঘ) আখ

উত্তর : চা 

প্রশ্ন ৭। অসমর ডিমা হাছাও জেলায় থাকা পাহাড় পর্বতসমূহ— 

(ক) পাটকাই পৰ্বত শ্ৰেণীৰ অন্তর্গত (খ) বরাইল পর্বত শ্রেণীর অন্তর্গত 

(গ) মেঘালয় মালভূমি অন্তর্গত 

(ঘ) লুসাই পৰ্বত শ্ৰেণীৰ অন্তৰ্গত 

উত্তর : বরাইল পর্বত শ্রেণীর অন্তর্গত। 

প্রশ্ন ৮। আয়তন হিসাবে অসমের সর্ববৃহৎ জেলাটি হইল- 

(ক) কোকরাঝার 

(খ) ডিমা হাসাও 

(গ) কার্বি আংলং 

(ঘ) কাছাড় 

উত্তর : কার্বি আংলং 

প্রশ্ন ৯। ব্ৰহ্মপুত্ৰ সমতলের মোট কালি— 

(ক) ৫৪,৩০০ বর্গ কি.মি. 

(খ) ৫৪,৬০০ বর্গ কি.মি. 

(গ) ৫৪,৪০০ বর্গ কি.মি. 

(ঘ) ৫৪,৫০০ বর্গ কি.মি. 

উত্তর : ৫৪,৪০০ বর্গ কি.মি. 

প্রশ্ন ১০। বর্তমানে অসমে জেলার সংখ্যা- 

(ক) ২৫ টি 

(খ) ২৬ টি 

(গ) ২৭ টি 

(ঘ) ২৮ টি 

উত্তর ঃ ২৭ টি। 

প্রশ্ন ১১। বরাক সমতলের মোট কালি— 

(ক) ৩৯৬২ বর্গ কি.মি. 

(খ) ৪৯৬২ বর্গ কি.মি.

(গ) ৫৯৬২ বর্গ কি.মি. 

(ঘ) ৬৯৬২ বর্গ কি.মি. 

উত্তর : ৬৯৬২ বর্গ কি.মি. 

প্রশ্ন ১২। হাজোত অবস্থিত তীর্থ স্থানটি— 

(ক) উমানন্দ 

(খ) দোলগোবিন্দ

(গ) পোয়ামক্কা 

(ঘ) নবগ্রহ 

উত্তর:পোয়ামক্কা

প্রশ্ন ১৩। হিন্দুস্থান পেপার কর্পোরেশন অবস্থিত- 

(ক) জাগীরোডে 

(খ) নামরূপে 

(গ) শিলঘাটে 

(ঘ) গোলাঘাটে 

উত্তর : জাগীরোডে 

প্রশ্ন ১৪। অসমের সর্বোচ্চ পর্বত শৃংগটির নাম— 

(ক) সিংহাসন 

(খ) ডামবুসকু 

(গ) লেইকেই 

(ঘ) মহাদেব 

উত্তর : লেইকেই (১৯৫৯ মি.) 

Leave a Reply