SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-3| ভারতবর্ষের ভূগোল

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-3| ভারতবর্ষের ভূগোল, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ASSAMESE MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (BANGLA MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ENGLISH MEDIUM)

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-3| ভারতবর্ষের ভূগোল

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-3| ভারতবর্ষের ভূগোল দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

পাঠ ৩

পাঠ্যভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থান লিখ।

উত্তর : পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে এবং এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণভাগে ভারত অবস্থিত। উত্তরদিকে কাশ্মীরের উত্তর সীমা ৩৭৬’ উত্তর অক্ষাংশ হইতে দক্ষিণদিকে কন্যা কুমারিকা অন্তরীপ ৮৪’ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ সীমা ৬°৪৫′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। দ্রাঘিমা অনুযায়ী ভারত পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত। পূর্ব দিকে অরুণাচলের পূর্ব সীমা ৯৭ ২৫´ পূর্ব দ্রাঘিমা হইতে পশ্চিমে গুজরাটের পশ্চিম সীমা ৬৮’ পূর্বে দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত।

প্রশ্ন ২। ভারতের উপকূলভাগের দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর : ভারতের উপকূলভাগের দৈর্ঘ্য ৬,১০০ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ৩। ভারতের মোট স্থল সীমার দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর : ভারতের স্থলসীমার মোট দৈর্ঘ্য ১৫,২০০ কি.মি.। 

প্রশ্ন ৪। ভারতের ভূ-খণ্ড সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ।

উত্তর : ভারত এশিয়া মহাদেশর দক্ষিণে অবস্থিত একটি দেশ। ভারতের উত্তরে কাশ্মীরের উত্তর সীমা হইতে দক্ষিণে কন্যা কুমারিকা পর্যন্ত বিস্তৃতি ৩,২১৪ কিলোমিটার এবং পূর্বে অরুণাচল হইতে পশ্চিমে গুজরাটের পশ্চিম সীমা পর্যন্ত ২,৯৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ভারতের আয়তন প্রায় ৩২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৩ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনে ভারত সপ্তম স্থান অধিকার করিয়া আছে। রাশিয়ান কমনওয়েলথ চীন, কানাডা, ব্রাজিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পরেই ভারতের স্থান। ভারতীয় শাসনতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রীয়। এই দেশ ২৯ টি রাজ্য ও ৭টি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল দ্বারা গঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

প্রশ্ন ৫। উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের নদীসমূহের চারিটি মূল পার্থক্য লিখ। 

উত্তর : উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের নদীসমূহের মূল পার্থক্য দেওয়া হইল

উত্তর ভারতের নদীদক্ষিণ ভারতের নদী
১। নদীগুলি বরফগলা জল ও বৃষ্টির জলে পুষ্ট বলিয়া সারা বৎসরই জল থাকে
২। নদীগুলি সমভূমির উপর দিয়া প্রবাহিত বলিয়া নৌ চলাচলের উপযোগী।
৩। নদীগুলির তিনটি গতি উচ্চ, মধ্য ও নিম্নগতি দেখা যায়।
৪। নদীগুলির দীর্ঘ হইবার জন্য ইহাদের তীরে বড় বড় নগর গড়িয়া উঠিয়াছে।
১। নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট বলিয়া সারা বৎসর জল থাকে না।
২। নদীগুলি বন্ধুর মালভূমির উপর দিয়া। প্রবাহিত বলিয়া নৌ চলাচলের উপযোগী নয় ।
৩। নদীগুলির তিনটি গতি সুস্পষ্ট নয়।
৪। নদীগুলি কম দৈর্ঘ্যর হইবার জন্য বেশি নগর গড়িয়া উঠে নাই ।

প্রশ্ন ৬। ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক ভাগগুলি কি কি?

উত্তর : ভারতবর্ষের ভূ-প্রাকৃতিক ভাগ গুলি হইল—

(ক) উত্তর ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল

(খ) উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।

(গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চল।

(খ) উত্তর পূর্বদিকে পার্বত্য অঞ্চল ও মেঘালয় মালভূমি।

(ঙ) ভারতীয় মরুভূমি অঞ্চল।

(চ) মধ্য ও পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি।

(ছ) উপকূলবর্তী সমভূমি।

(জ) ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ।

প্রশ্ন। উত্তর ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লিখ। 

উত্তর : ভারতের উত্তর ভাগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভঙ্গিল পর্বত হিমালয় বিশাল এক প্রাচীরের মত অবস্থিত। ভারতের উত্তর-পশ্চিমভাগে অবস্থিত পামীরগ্রন্থি বা পামীর মালভূমি হইতে হিমালয় পর্বত ভারতের উত্তর হইতে পশ্চিমে অবস্থিত নাঙ্গা পর্বত হইতে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নামচাবারওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পূর্ব-পশ্চিমে ইহার দৈর্ঘ্য ২৫০০ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তার প্রায় ১৫০-৪০০ কিলোমিটার। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের আয়তন প্রায় ৫,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। ইহার মধ্যে ২/৩ অংশ ভারতে এবং নেপাল ও ভূটানে ১/ অংশ অবস্থিত। বারো মাস বরফে ঢাকা থাকে বলিয়া ইহার নাম হিমালয়। ইহার উচ্চতা সাগর পৃষ্ঠ হইতে প্রায় ৮০০০ মিটারেরও অধিক। উচ্চতা অনুসারে হিমালয় পর্বত শ্রেণীকে চাতটি ভাগ ভাগ করা যায় (ক) শিবালিক বা বহিহিমালয় (খ) হিমাচল হিমালয় বা অবহিমালয় (গ) হিমানি হিমালয় বা উচ্চ হিমালয় এবং (ঘ) টেথিস বা তিব্বতীয় হিমালয়।

প্রশ্ন ৮। উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত উত্তর ভারতের সুবিশাল সমভূমি এই সমভূমির উপর দিয়া সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তাহাদের অসংখ্য উপনদী ও শাখা নদী প্রবাহিত। পূর্ব হইতে পশ্চিমে এই সমভূমি প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও উত্তর দক্ষিণে ২৪০ হইতে ৪০০ কিলোমিটার প্রশস্ত।

নদীর অববাহিকা হিসাবে উত্তর ভারতের সমভূমিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। (ক) সিন্ধু গঠিত পাঞ্জাব সমভূমি (খ) গঙ্গা গঠিত গাঙ্গের সমভূমি এবং (গ) ব্ৰহ্মপুত্র গঠিত ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা।

এই সমভূমি উর্বর হওয়ায় জনবসতি ঘন। এই সমভূমি অঞ্চলটি ১.৫ লক্ষ কিলোমিটার বিস্তৃত। জলপথ, স্থলপথ ও বিমান পথে যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা থাকায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় বড় বড় শহর ও নগর গড়িয়া উঠিয়াছে। ইহাদের মধ্যে অনেক তীর্থ নগরীও আছে। 

প্রশ্ন ৯। দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : মধ্য ও পূর্ব ভারতের মালভূমি ও উচ্চভূমির দক্ষিণে ত্রিভূজের মত যে মালভূমি আছে তাহাকে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি বলা হয়। সাতপুরা পর্বতের দক্ষিণ হইতে কন্যাকুমারিকা অন্তৰীপ পর্যন্ত এই মালভূমি বিস্তৃত।

দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমদিকে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্ব দিকে পূর্বঘাট পর্বত মালা অবস্থিত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা উত্তর হইতে দক্ষিণে উপকূল অঞ্চল পর্যন্ত একভাবে চলিয়াছে। এই পর্বতের সর্বোচ্চ শুরু কাল সুবাই মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। ইহার উচ্চতা ১,৬৪২ মিটার। পশ্চিমঘাট পর্বতে পলঘাট ও ভোরঘাট নামে দুইটি গিরিপথ আছে।

পূর্বঘাট পর্বতমালা একটি ক্ষনাজাত পর্বত। পূর্বঘাট পর্বতমালা উত্তর হইতে দক্ষিণ বিস্তৃত। অবশ্যে এই পর্বতমালায় ছোট ছোট পাহাড় বিচ্ছিন্ন ভাবে পর পর আছে। মহেন্দ্রগিরি (১,৫০০ মিটার) পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। চিন্তা হ্রদের দক্ষিণে উড়িষ্যা ও অন্তপ্রদেশে সীমান্ত দেশে এই শৃঙ্গটি অবস্থিত।

পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট মিলিত হইয়া একটি পর্বতগ্রস্থির সৃষ্টি করিয়াছে। ইহার নাম নীলগিরি। নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শুরু দোদাবেতা (২,৬৩৭ মিটার)

দাক্ষিণাত্য মালভূমি পশ্চিম ঘাট হইতে পূর্বঘাট পর্বতমালার দিকে ঢালু। পূর্ব দিকে ঢালু হইবার ফলে বেশীর নদী বঙ্গোপ সাগরে পড়িয়াছে ইহাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হইল— মহানদী, গোদাবনী, কৃষ্ণা, পেনার ও কাবেরী। বিদ্যা ও সাতপুরা পর্বতমালার মধ্যে অংশ পূর্ব হইতে পশ্চিম দিকে ঢালু হওয়ায় দুইটি নদী নর্মদা ও তাণ্ডী পশ্চিমে কাছে উপ সাগরে পতিত হইয়াছে।

প্রশ্ন ১০। উপকূল অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : (ক) ত্রিভুজাকার দক্ষিণ ভারতের সাগরের পারে পারে উপকূল অঞ্চল অবস্থিত। তাই বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর পর্যন্ত এই উপকূল অঞ্চল বিস্তৃত। 

(খ) সাগরপৃষ্ঠ হইতে এই অঞ্চলের উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার হইতে ৫০ মিটারের মধ্যে।

(গ) এই উপকূল অঞ্চল দীর্ঘ কিন্তু যথেষ্ট সরু। 

(ঘ) অবস্থিতির দিক হইতে ইহাকে পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিম উপকূল এই দুই ভাবে ভাগ করিতে পারি।

(ঙ)পূর্ব উপকূল অঞ্চলটি একদিকে বঙ্গোপসাগর এবং অন্যদিকে পূর্বঘাট পর্বতশ্রেণির মধ্যে অবস্থিত এবং ইহা ১,১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রস্থ গড়ে ১২০ কিলোমিটার।

(চ) এই অঞ্চল পশ্চিম উপকূল হইতে বেশি চওড়া এবং সারযুক্ত।

(ছ) এই উপকূলে চিলকা কোলার এবং পলিকট নামে তিনটি হ্রদ আছে। 

(জ) পূর্ব উপকূলের উত্তর এবং দক্ষিণ অংশ দুইটি ভিন্ন নামে পরিচিত। উত্তর অংশটির নাম উত্তর সরকার উপকূল এবং দক্ষিণের অংশটি করমণ্ডল উপকূল নামে বিখ্যাত।

(ঝ) পশ্চিম উপকূলটি কাছে উপসাগর হইতে দক্ষিণে কুমারীকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উপকূলটি দীর্ঘ কিন্তু সরু। ইহার দৈর্ঘ্য যদিও প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার কিন্তু প্রস্থ ১০ কিলোমিটার হইতে ১০ কিলোমিটারহে মাত্র।

(ঞ) এই উপকূল অঞ্চলের উত্তর অংশটির নাম কক্ষণ উপকূল এবং দক্ষিণ অংশটি মালাবার উপকূল নামে জানা যায়।

প্রশ্ন ১১। ভারতীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : ভারতবর্ষের ভূ-প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন। অঞ্চলভেদে জলবায়ুর প্রধান উপাদন, যেমন— উত্তাপ, বায়ুর চাপ, বাতাস ও আর্দ্রতার তারতম্য। ইহার ফলে ভারতে নানা প্রকারের জলবায়ু অনুভূত হয়। ভারতের জলবায়ু মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রভাবিত। এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হইল : (১) আর্দ্র ও শীতকাল ও (২) আ মৌসুমী বায়ু যে দিক হইতে প্রবাহিত হয়, শুষ্ক শীতকালে ঠিক ইহার বিপরীত হইতে আছে (৩) বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত অবিরত হয় না। মাঝে ইহার বিরতি ঘটে। (৪) দেশের মধ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক উপর নির্ভর করে। (৫) ভারতবে বৃষ্টিপাত অনিশ্চিত। মৌসুমী বায়ুর আগমণ কখনো আগে হয়, আবার কোন বার দেবীতে হয়। কোন বৎসর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়, কোন বৎসর অতিবৃষ্টি হন, আব কোন বৎসর অনাবৃষ্টি ঘটে। ইহার ফলস্বরূপে ঘরা ও বন্যার প্রকোপ জলবায়ুর অপর এক বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ১২। মৌসুমী বায়ুর প্রভাব সম্পর্কে একটি টীকা লিখ । 

উত্তর : ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাব যথেষ্ট। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ও শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরব সাগরের উপর দিয়া আসার ফলে যথেষ্ট পরিমাণে জলীয় বাষ্প লইয়া আসে। এই বায়ু প্রথমে পশ্চিম ঘাট পর্বতে বাধা পায় এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। পশ্চিম উপকূলের কংকন ও মালাবার উপকূলে বৎসরে ৩০০ সে.মি.র অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বায়ুর একটি অংশ পশ্চিমঘাট পর্বত পার হইয়া বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হয় এবং জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করিয়া এই বায়ু অসম তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে এবং মেঘালয় মালভূমিতে বাধা প্রাপ্ত হইয়া প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে অসম ও হিমালয়ের পাদদেশে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়।

আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ণ মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু মধ্য এশিয়া হইছে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হইয়া ভারতে প্রবেশ করে। ইহাকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে। এই শীতল বায়ু হিমালয় পর্বত পার হইয়া ভারতে প্রবেশ করে। স্থলভাগ হইতে আসার ফলে এই বায়ু শুষ্ক হয়। এই কারণে এই বায়ুর প্রবাহে বৃষ্টিপাত হয় না। কিন্তু এই ব বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়া প্রবাহিত এইবার সময়ে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে। জলীয় বাল পূর্ণ এই বায়ু পূর্বঘাট পর্বতে বাধা পাইয়া পূর্ব উপকূলে বিশেষত করমণ্ডল উপকূলে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। 

প্রশ্ন ১৩। ভারতের বৃষ্টিপাত সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আভায় দাও। 

উত্তর : ভারতে মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ খুবই অনিশ্চিত। প্রতি বৎসর একই সময়ে মৌসুমী বায়ু আসার ফলে অনাবৃষ্টি বা খরাং হয়। আবার কোন বৎসর মৌসুমী বায়ু দেরীতে

প্রত্যাবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি বা বন্যা হয়। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র ও ভারতম্য অনুসারে ভারতকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়—

(ক) অত্যধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল : উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল, মেঘালয় মালভূমি, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিমাংশ, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ ও পূর্বাংশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ সে.মি. এর অধিক।

(খ) অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল : এই অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০- ২০০ সে.মি. এর মত। হিমালয়ের পাদদেশ, উত্তর ভারতের সমভূমি, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্রের পূর্বাংশ, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট অংশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

(গ) মধ্যম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল : এই অঞ্চলে ৫০-১০০ সে.মি. এর মধ্যে বৃষ্টিপাত হয়। পাঞ্জাব, হারিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাঞ্চল, দাক্ষিণাত্যের মালভূমির মধ্যভাগ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

(ঘ) স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল : এই অঞ্চলে ২৫-৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়। দাক্ষিণাত্যের মালভূমির বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল, গুজরাট ও রাজস্থানের পূর্বাংশ এই অঞ্চলে অবস্থিত। 

(ঙ) শুষ্ক অঞ্চল : এই অঞ্চলে ২৫ সে.মির কম বৃষ্টিপাত হয়। জম্মু ও কাশ্মীর এবং রাজস্থানের সরু অঞ্চলে এই প্রকারের বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়।

প্রশ্ন ১৪। ভারতের উদ্ভিদসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা হইয়াছে লিখ।

উত্তর : ভারতের উদ্ভিদ সমূহকে ৬ ভাগে ভাগ করা হইয়াছে। (ক) চির হরিৎ বৃক্ষ, মৌসুমীয় উদ্ভিদ, কাঁটাযুক্ত মরু উদ্ভিদ, তৃণ জাতীয় উদ্ভিদ, ব-দ্বীপীয় উদ্ভিদ এবং পার্ব্বতা উদ্ভিদ।

প্রশ্ন ১৫। ভারতের চির হরিৎ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : ভারতের যে সকল অঞ্চলে ১০০ সে.মি.র বেশি বৃষ্টিপাত হয়, সেই সকল স্থানে চির হরিৎ উদ্ভিদের বনভূমি দেখা যায়। হিমালয়ের পাদদেশের তরাই অঞ্চল, ভাবর অঞ্চল, পূর্বঘাট ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, পূর্বাঞ্চল, অসম, অরুণাচল, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, আদামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি স্থানে এই উদ্ভিদের কনভূমি দেখা যায়। বৃষ্টিপাতের জন্য গাছের পাতা সারাবৎসর সবুজ থাকে। এই বনাঞ্চলে গর্জন, তৃণ, বাঁশ, ধূপ, চাপলাস, রোজেটড, হলুদ, কুসুম, চাপ, আবলুস, শিশু, মেহগনি, রবার ইত্যাদি উদ্ভিদ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ১৬। ভারতের পার্বত্য উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লিখ। 

উত্তর: হিমালয়ের পাদদেশে প্রায় ১৫০০ মিটার পর্যন্ত শাল, সেগুন, বাঁশ, বেত প্রভৃতি চির হরিৎ ও পর্ণমোচী উদ্ভিদ জন্মায়। ১৫০০ হইতে ৩৫০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পাইন, ফার, এবং ম্যাপেল, লরেল প্রভৃতি নাতিশীতোষ্ণ সরল বর্ণীয় উদ্ভিদ দেখা যায়। প্রায় ৪০০০ মিটার উপরে রোডোড্রেনডন জুনিপার প্রভৃতি পার্বত্য উদ্ভিদ জন্মায়। তার উপরে পার্বত্য তৃণদেখা যায়।

প্রশ্ন ১৭। ভারতের বর্তমান জনসংখ্যা কত? ইহার ঘনত্ব কত?

উত্তর : ২০১১ সনের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের লোক সংখ্যা ১,২১,০১ ৯৩ 422 জন।জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৮২ জন। (২০১১ সনের জনগণনা অনুযায়ী।) 

প্রশ্ন ১৮। জনপ্ৰব্ৰজন কয়প্রকার ও কি কি ?

উত্তর : জনপ্রব্রজন দুই প্রকারর – বাহ্যিক প্রব্রজন ও আভ্যন্তরীণ প্রব্রজন। আভ্যন্তরীণ প্রব্রজনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়— আন্তরাজ্যিক প্রব্রজন ও রাজ্যের ভিতরে হওয়া প্রব্রজন। এই প্রকারের প্ররজনের ক্ষেত্রে চারিটি প্রব্রজন স্রোত চিনাক্ত করা হইয়াছে, সেইগুলি হইল— একগ্রাম হইতে অন্য গ্রামে, গ্রাম হইতে শহরে, শহর হইতে গ্রামে এবং এক শহর হইতে অন্য শহরে। 

প্রশ্ন ১৯। ভারতের অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখ।

উত্তর : ভারতীয় অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ হইল—- (ক) নিম্ন মাথাপিছু আয়,(খ) মাথাপিছু আয়ের মন্থর গতি বৃদ্ধি, (গ) অত্যাধিক জনসংখ্যার চাপ, (ঘ) দরিদ্রতা, (3) কৃষি নির্ভরশীলতা, (চ) বর্ধিত বেকার সমস্যা এবং (ছ) পরিকল্পনা ভিত্তিক উন্নয়ন।

প্রশ্ন ২০। ভারতের কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল কয়টি ও কি কি ? 

উত্তর : ভারতের কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল ৭ টি।

(১) আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, (২) চণ্ডীগড়, (৩) দাদরা ও নগর হাভেলী, (৪) দিল্লী, (৫) দমন ও দিউ, (৬) লাক্ষাদ্বীপ এবং (৭) পন্ডিচেরী।

প্রশ্ন ২১। ভারতের বর্তমান রাজ্য কয়টি? 

উত্তর : ভারতের বর্তমান রাজ্য ২৯ টি।

প্রশ্ন ২২। ভারতের সর্বশেষ গঠিত রাজ্যটির নাম কি?

উত্তর : তেলেংগানা।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর:

প্রশ্ন ১। ভারতবর্ষের কোন স্থানে শুষ্ক মরুভূমি দেখিতে পাওয়া যায়?

উত্তর : রাজস্থানে।

প্রশ্ন ২। ভারতবর্ষের শাসন ব্যবস্থা কি ধরণের ?

উত্তর : গণতান্ত্রিক।

প্রশ্ন ৩। পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি? 

উত্তর ঃ এশিয়া মহাদেশ।

প্রশ্ন ৪। ভারতবর্ষের মধ্যভাগ দিয়া কোন ক্রান্তীয় রেখা অতিক্রম করিয়াছে।

উত্তর : কর্কটক্রান্তি রেখা।

প্রশ্ন ৫। আকারগত দিক দিয়া ভারতবর্ষের স্থান কত?

উত্তর : সপ্তম।

প্রশ্ন ৬। ভারতবর্ষ ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা কতগুণ বড়?

উত্তর : ১৩ গুণ। 

প্রশ্ন ৭। ভারতবর্ষ জাপানের আয়তন অপেক্ষ কতগুণ বড়?

উত্তর : ৪ গুণ বড়।

প্রশ্ন ৮। ভারতবর্ষের মোট কালি কত?

উত্তর : ৩,২৮৭,২৬৩ বর্গ কি.মি.। 

প্রশ্ন ৯। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত কোনটি?

উত্তর : হিমালয়।

প্রশ্ন ১০। হিমালয় পর্বতমালা কোন যুগে সৃষ্টি হইয়াছিল?

উত্তর : টারসিয়েরি যুগে।

প্রশ্ন ১১। হিমালয় পর্বতের একটি সাগরের গর্ভ হইতে নির্গত হইয়াছে, সেই সাগরটির নাম কি?

উত্তর : টেথিস সাগর।

প্রশ্ন ১২। একটি ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণীর উদাহরণ দাও।

উত্তর: হিমালয়।

প্রশ্ন ১৩। থর মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : পশ্চিম ভারতের পশ্চিমে রাজস্থানে।

প্রশ্ন ১৪। ভারতবর্ষের জলবায়ুর প্রধান উপাদানগুলি কি কি? 

উত্তর : উত্তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ু প্রবাহ এবং আর্দ্রতা।

প্রশ্ন ১৫। মৌসুমী শব্দটির উৎপত্তি কিভাবে হইয়াছে এবং ইহার অর্থ কি?

উত্তর : মৌসুমী শব্দটি আরবি শব্দ ‘মৌসিম’ হইতে আসিয়াছে। ইহার অর্থ ঋতু।

প্রশ্ন ১৬। কোন বায়ু প্রবাহ ভারতবর্ষে বৃষ্টিপাত ঘটায় ? 

উত্তর : দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু।

প্রশ্ন ১৭। মরু অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ গুলি কি কি?

উত্তর : ক্যাকটাস, খেজুর, কুলগাছ ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ১৮। সুন্দরী বৃক্ষ ভারতবর্ষের কোথায় পাওয়া যায়?

উত্তর : ভারতবর্ষের সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলে।

প্রশ্ন ১৯। ভারতীয় জনসমাজ কোন কোন জনগোষ্ঠী লোকের সংমিশ্রণ ?

উত্তর : অষ্ট-এশিয়া, মংগোলীয়, আর্য ও দ্রাবিড়ীয়।

প্রশ্ন ২০। জনসংখ্যার দিক হইতে কোন দেশ প্রথম।

উত্তর : চীনদেশ।

প্রশ্ন ২১। ভারতবর্ষ করে স্বাধীনতা লাভ করে ?

উত্তর : ১৯৪৭ সনের ১৫ই আগষ্ট।

প্রশ্ন ২২। মাথাপিছু আয় বলিতে কি বুঝায়?

উত্তর : কোন একজন ব্যক্তি গড় হিসাবে বৎসরে লাভ করা আয়ের পরিমাণ।

প্রশ্ন ২৩। ১৯৪৭ সনে ভারতের জনসংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : ৩৫০ নিযুত।

Sl.No.Chapters name
ইতিহাস
Chapter 1ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন
Chapter 2ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষণ
Chapter 3মোয়ামারীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter 4মানের অসম আক্ৰমণ
Chapter 5আসামে ব্রিটিশ প্রশাসনের আরম্ভণি
Chapter 6বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ
ভূগোল
Chapter 1ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
Chapter 2বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ
Chapter 3ভারতবর্ষের ভূগোল
Chapter 4অসমের ভূগোল
রাজনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1ভারতের রাজনৈতিক দল
Chapter 2সরকারের প্রকার বা শ্রেণিবিভাগ
অর্থনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহ
Chapter 2মূল অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ

প্রশ্ন ২৪। ভারতীয় অর্থনীতিতে কৃষিখণ্ডের গুরুত্ব অপরিসীম — ইহার কারণগুলি লিখ।

উত্তর : (ক) দেশের জনগণের খাদ্য আহরণের জন্য কৃষি খন্ডের উপর নির্ভর করিতে হয়।

(খ) দেশের কর্মক্ষম লোকের ৬০ শতাংশর অধিক লোকে কৃষি খন্ডে নিয়োজিত হইয়া আছে।

(গ) দেশীয় আয়ের সর্বাধিক অংশ কৃষিখণ্ড হইতে আসে। 

(ঘ)কৃষি হইতে লাভ করা কাঁচা মালের ভিত্তিতে দেশে অনেক সংখ্যক উদ্যোগ গড়িয়া উঠিয়াছে, এবং ইহার কৃষিকার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক জিনিষ তৈরী করার জন্য ও বহু উদ্যোগ গড়িয়া উঠিয়াছে।

প্রশ্ন ২৫। ভারতীয় অর্থনীতিতে উদ্যোগ খণ্ডের গুরুত্ব আছে— আলোচনা কর। 

উত্তর : লঘু ও গুরু সকল ধরণের উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ সাহায্য প্রদান করিয়াছে। ভারতীয় অর্থনীতিতে উদ্যোগখন্ডের সহায়তার জন্যই ভারতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহু পরিমানে সফল হইয়াছে। ইহার কারণসমূহ হইল—

(ক) স্বাধীনতার পর হইতে ভারতের অর্থনীতির উদ্যোগ খন্ডের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতেছে। গত ২০০৯-১০ বৎসরে ভারতের নিজস্ব উৎপাদনের ২৮ শতাংশ কেবল উদ্যোগ খন্ডই যোগান নিয়াছে। স্বাধীনতার সময়ে উদ্যোগ খন্ডের এই যোগান ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। উদ্যোগের সংখ্যা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই বিকাশের মূল কারণ। 

(খ) ভারতবর্ষের মত বেকার সমস্যা বহুল একটি দেশের জন্য উদ্যোগ খন্ডের সাহায্য অপরিসীম। উদ্যোগ খন্ডই দেশের বহু সংখ্যক লোককে কর্ম সংস্থান দিতে সক্ষম হইয়াছে। দেশের লঘু ও গুরু উদ্যোগ সমূহতে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ লোক নিয়োজিত আছে। 

(গ) আন্তঃগাথনি উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এই ক্ষেত্রে উদ্যোগখ ওই দেশের আস্তাগাথনি উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা করিয়াছে। অবশ্যে এই ক্ষেত্রে গুরু উদ্যোগসমূহের ভূমিকা অপরিসীম।

(ঘ) দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য সামগ্রীর চাহিদাও বুদ্ধি পাইতেছে। ঔদ্যোগিক বিকাশ এই সামগ্ৰীসমূহ তৈরী করিবার ক্ষেত্রে সাহায্য করিয়াছে। বর্তমানে বাজারে আমরা খাদ্য, বস্ত্র, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নাবিলাসী সামগ্রী লাভ করিতে সক্ষম হইয়াছে কেবল উদ্যোগীকরণের মাধ্যমে।

প্রশ্ন ২৬। যাতায়াত খণ্ডের গুরুত্ব সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : ভারতীয় অর্থনীতির প্রধান অর্থনৈতিক খণ্ডসমূহের অন্যতম হইল যাতায়াত পণ্ড। স্থলপথ, জলপথ ও বিমান পথের সুষ্ঠু যাতায়ত ব্যবস্থা হইল দেশের জীবন রেখা।

কৃষি, উদ্যোগ, বাণিজ্য, যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রসমূহের বিকাশের জন্য দক্ষ যাতায়াত ব্যবস্থা অপরিহার্য। অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ছাড়াও দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রের বিকাশের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করিয়াছে।

প্রশ্ন ২৭। জন প্রব্রজন বলিতে কি বুঝায়? 

উত্তর : মানুষ স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করিয়া একস্থান হইতে অন্য স্থানে গমন করাকে জনপ্রব্রজন বলে।

প্রশ্ন ২৮। বাহ্যিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রব্রজন বলিতে কি বুঝায় ? 

উত্তর : ভারতবর্ষ বা নিকটবর্তী দেশসমূহের মধ্যে হওয়া প্রব্রজনকে বাহ্যিক বা আন্তরাষ্ট্রীয় প্রব্রজন বলা হয়।

প্রশ্ন ২৯। প্রব্রজনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব উল্লেখ কর :

উত্তর : (ক) ব্রজনের ফলে দেশর জাতি, ধর্ম ও ভাষার ভিন্নতা বৃদ্ধি পাইয়াছে এবং ইহার ফলে বিভিন্ন ধরণের সংস্কৃতি গড়িয়া উঠিয়াছে। 

(খ) প্রব্রজনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক খন্ডের পরিবর্তন হইতেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিতেছে।

(গ) প্রব্রজনের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ঘনত্ব, শিক্ষিতের হারের পরিবর্তন হইয়াছে। কোন কোন অঞ্চলে প্ৰব্ৰজনকারীর সংখ্যা স্থানীয় নাগরিকের সংখ্যা হইতে অধিক হইবার ফলে ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সমস্যার উদ্ভব হইয়াছে।

(ঘ) প্রব্রজন প্রত্যক্ষভাবে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করিতেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দেশে নানা সমস্যার সৃষ্টি হইয়াছে। দেশের ভূমি সম্পদের উপরে অত্যধিক চাপ পড়িয়াছে, অরণ্য ও আর্দ্রভূমি পরিবেশতন্ত্র বিঘ্নিত হইয়াছে এবং নিয়োগের সমস্যা সহ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খন্ডতে সমস্যার সৃষ্টি হইয়াছে।

(ঙ) প্রব্রজনের ফলে কখনো কখনো উদ্ভব হওয়া ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাত সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করিতে পারে। 

(চ) প্রব্রজনকারীসকল নতুন স্থান ও সমাজে কখনো কখনো মিশিয়া যাইতে পারো এবং মানসিক চাপে ভূগিয়া থাকে। 

(ছ) প্রব্রজনের ফলে বিশেষত নগর অঞ্চলে কিছু সংখ্যক বক্তি অঞ্চল (Slum) গড়িয়া উঠিয়াছে। এই সকল বক্তি অঞ্চলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করিবার ফলে শহর অঞ্চলের পরিবেশ প্রদূষিত হইয়াছে।

(জ) প্ররজনের ফলে দেশটির বা রাজ্যসমূহের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পট পরিবর্তন হইবার উপক্রম হইয়াছে।

প্রশ্ন ৩০। কৃষিজীবী লোকের সংখ্যা হ্রাস পাইবার কারণ কি?

উত্তর : শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি ও অন্যান্য খন্ড সমূহের প্রসার ও উন্নয়ণের ফলে কৃষিজীবী লোকের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাইতেছে।

প্রশ্ন ৩১। ভারতবর্ষের রাজ্যগুলির নাম, রাজধানী, জনসংখ্যা ও মোটকালির পরিমাণের একটি তালিকা প্রস্তুত কর।

রাজ্যের নামরাজধানীজনসংখ্যামাটিকালি
উত্তর প্রদেশ
মহারাষ্ট্র
বিহার
পশ্চিমবংগ
অন্ধ্রপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশ
তামিলনাড়ু
রাজস্থান
কর্ণাটক
গুজরাট
উড়িষ্যা
কেরেলা
ঝারখণ্ড
অসম
পাঞ্জাব
ছত্তিশগড়
লক্ষ্ণৌ
মুম্বাই
পাটনা
কলকাতা
হায়দ্রাবাদ
ভূপাল
চেন্নাই
জয়পুর
বাঙ্গালোর
গান্ধীনগর
ভুবনেশ্বর
থিরুবাস্থপুরম
রাচী
দিসপুর (গুয়াহাটী)
চণ্ডীগড়
রায়পুর
১৯,৯৫,৮১,৪৭৭
১১,২৩,৭২,৯৭২
১০,৩৮,০৪,৬৩৭
৯,১৩,৪৭,৭৩৬
৮,৪৬,৬৫,৫৩৩
7,25,97,565
৭,২১,৩৮,958
৬,৮৬,২১,০১২
৬,১১,৩০,৭০৪
৬,০৩,৮৩,৬২৮
৪,১৯,৪৭,৩৫৮
৩,৩৩,৮৭,৬৭৭
৩,২৯,৬৬,২৩৮
৩,১১,৬৯,২৭২
২,৭৭,০৪,২৩৬
২,৫৫,৪০,১৯৬
২,৪০,৯২৮
৩,০৭,৭১৩
৯৪,১৬৩
৮৮,৭৫২
১,৬০,২০৫
৩,০৮,245
১,৩০,০৫৮
৩,৪২,২৩৯
১,৯৬,৭৯১
১,৯৬,০২৪
১,৫৫,৭০৭
৩৮,৮৬৩
৭৯,৭১৪
৭৮, ৪৩৮
50,362
১,৩৫,১৯১
রাজ্যের নামরাজধানীজনসংখ্যামাটিকালি (বর্গ কি.মি.)
হারিয়ানা দিল্লী
জম্মু ও কাশ্মীর
উত্তরাখণ্ড
হিমাচল প্রদেশ
ত্রিপুরা
মেঘালয়
মণিপুর
নগালেণ্ড
গোয়া
অরুণাচল প্রদেশ
তেলেঙ্গানা
পণ্ডিচেরী
মিজোরাম
চণ্ডীগড়
সিকিম
আন্দামান ও নিকোবর
দ্বীপপুঞ্জ
দাদরা ও নগর হাভেলী
দমন ও ডিউ
লাক্ষাদ্বীপ
চণ্ডীগড়
দিল্লী
শ্রীনগর (গ্রীষ্মকাল)
জম্মু (শীতকাল)
দেরাদুন
সিমলা
আগরতলা
শিলং
ইম্ফল
কোহিমা
পানাজী
ইটানগর
হায়দ্রাবাদ
পণ্ডিচেরী
আইজল চণ্ডীগড় গ্যাংটক
পোর্টব্লেয়ার
সিলভাসা দমন কারারটী
২,৫৩,৫৩,০৮১
১,৬৭,53,235
১,২৫,৪৮,926
১,০১,১৬,৭৫২
২৯,৬৪,০০৭
২৭,২১,৭৫৬
১৯,৮০,৬০২
১৪,৫৭,৭২৩
১৩,৮২,৬১১
১,১৪,৮৪০
১২,৪৪,৪৬৪
১০,৯১,০১৪
১০,৫৪,৬৮৬
৬,০৭,৬৮৮
৩,৭৯,৯৪৪
৩,৪২,৮৫৩
২,৪২,৯১১
৬৪,৪২৯
E
৪৪,২১২
১,৪৮৩
২,২২,২৩৬
৫৩,৪৮৩
৫৫,৬৭৩
১০,৪৮৬
২২,৪২১
২২,৩২৭
১৬,৫৭৯
৩,৭০২
60,980
১,১৪,৮৪০
৪৭১
২১,০৮১
১১৪
৭,০১৬
৮,২৪১
৪১১
১১২
৩২

Leave a Reply