SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-1| ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-1| ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 9 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ASSAMESE MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (BANGLA MEDIUM)

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (ENGLISH MEDIUM)

SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-1| ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-9 Social Science Question Answer| Geography| Chapter-1| ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

পাঠ ১

পাঠ্যভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ভূ-পৃষ্ঠে মহাদেশ ও মহাসাগরের বিতরণের একটি আভাষ দাও। 

উত্তর : সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত মণ্ডল। ইহার পরবর্তী সময়ে ক্রমশঃ শীতল ও ঘনীভূত হইয়া তরল অবস্থায় আসে। অবিরাম তাপ বিকিরণ করিয়া পৃথিবী ক্রমশঃ শীতল ও সংকুচিত হয়। সংকোচনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের গায়ে উচ্চ-নীচ আবরণের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে আদিম পৃথিবীতে গ্যাস ও বাষ্প শীতল ও ঘনীভূত হইয়া অবিশ্রান্তভাবে বৃষ্টি আরম্ভ হয়। উচ্চ অংশগুলি স্থলভাগ ও নীচু অংশগুলিতে সাগর, মহাসাগর ইত্যাদির সৃষ্টি হইয়াছে।

ভূ-পৃষ্ঠের সমগ্র আয়তনের ৭১ ভাগ জলভাগ এবং ২৯ ভাগ স্থলভূমি। স্থলভাগের মহাদেশগুলির অভ্যন্তরভাগ সমভূমি, মালভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদী-উপত্যকা, মরুভূমি,

উপকূলীয় সমভূমি ইত্যাদি দেখা যায়। একইভাবে মহাসাগরের তলদেশেও মহীসোপান, মহীঢাল, মহাসাগরীয় দ্বীপ, শৈলশিরা, সমতল, গভীর খাত, প্রবাল প্রাচীর ইত্যাদি দেখা যায়।

সময়ের গতিতে ভূ-পৃষ্ঠ ও মহাসাগরের নিম্নভাগের অবয়বের পরিবর্তন ঘটে। পৃথিবীর স্থলভাগ ও জলভাগের ক্রিয়াশীল কারকসমূহের কিছু সংখ্যক বাহ্যিক (Exogenic) ও কিছুসংখ্যক আভ্যন্তরীণ (Endogenic)। বাহ্যিক কারকগুলি হইল— সূর্যের উত্তাপ, বায়ু, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ, সাগরের ঢেউ ইত্যাদি প্রধান। অপরদিকে আভ্যন্তরীণ কারকগুলি হইল—ভূমিকম্প, আগ্নেয় উদ্‌গীরণ প্রধান। উল্লেখ করা কারকগুলি ভূ-পৃষ্ঠের সাথে সাথে মহাসাগরের তলদেশেও পরিবর্তন সাধন করে। ভূমিকম্প সংঘটিত হইলে মহাদেশ বা মহাসাগরের কোন অংশ উঠিয়া আসিতে পারে বা বসিয়া যাইতে পারে। অগ্ন্যুৎপাত সংঘটিত হইলে ভূমিকম্পের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আগ্নেয়গিরিরও সৃষ্টি হয়। আভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে একটি অন্যতম কারক হইল ফলক-বির্তন (Plate tectonic)। ফলকগুলি গতিশীল এবং ইহার ফলে প্রধানতঃ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ২। ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন কেন ঘটে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক কারকগুলি বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। এই কারকগুলি হইল সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ, নদী, হিমবাহ এবং সাগরের ঢেউ প্রধান। ইহা ব্যতীত ভূ-পৃষ্ঠে থাকা গাছ-পালা, জীব-জন্তু ইত্যাদি জৈবিক কারক (or- ganic agents) ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনে কম-বেশি পরিমাণে সাহায্য করে।

ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনে বাহ্যিক কারকসমূহের ধর্ম ও শক্তিগুলি স্থান ও সরকালে একই হয় না। দুই নিযুত পূর্বে হিম যুগে পৃথিবীর উপরিভাগের তুষারে ঢাকা ছিল। সেই সময় হিমবাহের কার্য বর্তমানের অপেক্ষা ব্যাপক ছিল। ভবিষ্যতে গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধির ফলে হিমবাহের কার্যের লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা প্রবল। সাধারণতঃ বেশি বৃষ্টিপাত অঞ্চলে নদীর কার্য, মরুভূমিতে বায়র কার্য, দুই মেরু অঞ্চল ও অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমাবাহের কার্য এবং উপকূল অঞ্চলের ঢেউয়ের কার্য প্রধান

ভূমিকা পালন করে। এই কারকসমূহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধন করিয়া কিছু সংখ্যক স্থলাকৃতির (landform) সৃষ্টি করে। 

উপরিউক্ত সকল কারকই ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তনকারী বাহ্যিক কারক।

প্রশ্ন ৩। বাহ্যিক কারকের অর্থ কি? কয়েকটি বাহ্যিক কারকের নাম লিখ।

উত্তর ঃ ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে অবস্থিত যে সকল শক্তির দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধিত হয় সেইগুলিকে বাহ্যিক কারক বলা হয় । 

বাহ্যিক কারকগুলি হইল–সূর্যের তাপ, বায়ু, বৃষ্টিপাত, নদ-নদী, হিমবাহ, সাগরের ঢেউ ইত্যাদি ইহা ছাড়াও ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের গাছ-পালা, জীব-জন্তু, অনুজীব জৈবিক কারকগুলি কম-বেশী পরিমাণে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটায়।

প্রশ্ন ৪। ভূমিকম্প ও আগ্নেয় উদ্‌গীরণকে কেন আভ্যন্তরীণ কারক বলা হয় ?

উত্তর : ভূমিকম্প ও আগ্নেয় উদ্‌গীরণ আভ্যন্তরীণ কারকগুলির মধ্যে প্রধান। ভূমিকম্প এবং আগ্নেয় উদ্‌গীরণ মহাদেশের অন্তর্ভাগের সহিত মহাসাগরের তলার অন্তর্ভাগেও ক্রিয়া করিতে পারে। এই কারক দুইটি ভূ-পৃষ্ঠের সাথে মহাসাগরের তলার ভাগকেও অসমান করিয়া রাখাতে সাহায্য করে। ভূমিকম্প হইলে মহাদেশ বা মহাসাগরের নিম্নভাগের কোন অংশ উঠিয়া আসে অথবা বসিয়া যায়। আগ্নেয় উদ্‌গীরণ সংঘটিত হইলে ভূমিকম্প হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে আগ্নেয়গিরিরও সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্প ও আগ্নেয় উদ্‌গীরণ ভূ-পৃষ্ঠ এবং মহাসাগরের নিম্নভাগে ক্রিয়া করে বলিয়া এই দুইটিকে আভ্যন্তরীণ কারক বলা হয়।

প্রশ্ন ৫। নদী অববাহিকা বলিতে কি বুঝায়? নদী অববাহিকার একটি চিত্র অঙ্কন কর।

উত্তর : ছোট-বড় সকল নদীই উপনদী, শাখানদী ইত্যাদির মাধ্যমে একেকটি অববাহিকার সৃষ্টি করে। অর্থাৎ অববাহিকা হইল

একেকটি অঞ্চল যেস্থান বা অঞ্চল হইতে নদী ছোট-বড় উপনদীর মাধ্যমে বৃষ্টির জল বা অন্য কোন উৎস হইতে জল সংগ্রহ করে।

প্রশ্ন ৬। উপনদী কি? ব্রহ্মপুত্রের দুইটি প্রধান উপনদীর নাম লিখ। 

উত্তর : পাহাড়-পর্বতের উচ্চাংশের জমাকৃত বরফগলা জল, বৃষ্টির জল, ভূ-গর্ভ হইতে নির্গত জল ছোট ছোট জলধারা অববাহিকা অঞ্চলে আসিয়া জমা হয় এবং একত্রে নদীর সৃষ্টি করে। মূল নদীকে জল যোগান ধরা এইসকল জলধারাই হইল উপনদী। ব্রহ্মপুত্রের দুইটি প্রধান উপনদী হইল পাগলাদিয়া, সুবনশিরি।

প্রশ্ন ৭। নদীর খনন কার্যের একটি আভাষ দাও।

উত্তর : সাধারণতঃ নদীর উৎপত্তি পর্বতেই হয়। পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চ গতিতে নদীর স্রোত খুব বেশি হয়। প্রবাহ পথে নদী প্রবল জলস্রোতের সাহায্যে শিলাখণ্ডকে ক্ষয়িত এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করিয়া স্থানচ্যুত করে। ইহাকে নদীর খনন কার্য বা ক্ষন কার্য বলা হয়। নদী মধ্য গতিতে অর্থাৎ সমভূমিতে খনন কার্য অতি কম এবং নিম্নগতি বা মোহনার কাছে খনন কার্য থাকে না বলিলেই চলে।

নদী চারটি প্রক্রিয়াতে খনন কার্য সাধন করে। যেমন—

(ক) জলপ্রবাহজনিত ক্ষয় :নদীর জলপ্রবাহ যখন নদীখাতের পাশে ও তলদেশে প্রবল বেগে আঘাত করে তখন অপেক্ষাকৃত নরম শিলাকে ভাঙ্গিয়া নদীপ্রবাহ ক্ষয় করে। এইরূপ প্রক্রিয়াকে জলপ্রবাহজনিত ক্ষয়কার্য বলে।

(খ) অবর্ষণ ক্ষমা : নদীবাহিত বৃহদাকারের শিলাখণ্ড নদীর তলদেশ ও পার্শ্বদেশে ঘর্ষণ করিতে করিতে অগ্রসর হয় এবং ইহার ফলে যে ক্ষয়কাজ হয় তাহাকে অবর্ষণ বলে।

(গ) সংঘর্ষজনিত ক্ষয় :নদীবাহিত বড় বড় শিলাখণ্ডগুলি একটি অপরটির সহিত সংঘর্ষের ফলে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ডে ও পরে ক্রমশঃ বালুকণায় পরিণত হয়। ইহাকে শিলাখণ্ডের সংঘর্ষজনিত ক্ষয় বা ঘর্ষণ বলে।

(ঘ) প্ৰবণজনিত ক্ষমা : যে সকল বস্তু জলে দ্রবীভূত হয়, উহারা জলস্রোতে নিজে নিজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নদীর গতিপথে চূণাপাথর, লবণ প্রভৃতি দ্রবীভূত হয়। এই প্রকার ক্ষয়কার্যকে প্রবণজনিত ক্ষয়কার্য বলা হয়।

প্রশ্ন ৮। নদীর পার্শ্বখনন বলিতে কি বুঝায়?

উত্তর ঃ নদী উচ্চভূমির খাড়া ঢাল হইতে নিম্নভূমি অঞ্চলে প্রবেশ করিবার পর ইহার খননকার্যের পরিবর্তন ঘটে। সমভূমি অঞ্চলে নদীর গতিবেগ হ্রাস পায় এবং স্রোত বাহিত পলি ক্রমশ জমা হইতে থাকে। ইহার ফলে নদীর গভীরতা কমিয়া আসে। গভীরতা কমিয়া আসার ফলে জলবাহিত হইবার জন্য নদী দুই তীরে খননকার্য চালাইয়া গতিপথ প্রশস্ত করিতে চেষ্টা করে। এই প্রকারের খননকার্যকে পাড়-খনন বা পার্শ্বখনন বলে।

প্রশ্ন ৯। অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কি? চিত্রের সাহায্যে ইহার সৃষ্টি কিভাবে হয় বুঝাইয়া লিখ।

উত্তর : নদীর মধ্যগতির শেষের দিকে অসংখ্য বাকের সৃষ্টি হয়। কোন কোন সময় দুইটি বাঁক খুব কাছাকাছি আসিয়া পড়ে। এইরূপ ক্ষেত্রে বাঁক দুইটির মধ্যর ী অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া জোড়া লাগিয়া যায় এবং মূলধারা ঐ অংশ দিয়া প্রবাহিত হইতে আরম্ভ করে ফলে দুইটি বাঁকের বিপরীত অংশটি মূল নদী হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদে পরিণত হয় ।

প্রশ্ন ১০। প্লাবনভূমি কি এবং ইহার সৃষ্টি কিভাবে হয় লিখ । 

উত্তর : সমভূমি অঞ্চলে নদীর গভীরতা ক্রমশ হ্রাস পায়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত জলরাশি নদীতে আসিয়া পড়িলে নদী তাহা ধরিয়া রাখিতে পারে না। নদীর জল উপছাইয়া দুই তীরে ছড়াইয়া পড়ে এবং বন্যার সৃষ্টি করে। বন্যার জলে বাহিত পলি নদী দুই পাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে থিতাইয়া পড়ে এবং ধীরে ধীরে প্লাবনভূমি গঠন করে। যেমন—নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা অঞ্চলে এইরূপ প্লাবন সমভূমি দেখা যায়।

প্রশ্ন ১১। নদীর গতিপথে কোথায় কিভাবে বালিচরের সৃষ্টি হয় লিখ।

উত্তর : সমতলভূমিতে নদীর স্রোত ক্রমশ মন্থর হইয়া পড়িলে নদী বাহিত বালি, কদম ও পলি নদীর বুকে জমা হয়। নদী দ্বারা পরিবহন করা এই সকল পদার্থ নদী। উপত্যকা ও মোহনা অঞ্চলে বিভিন্ন অবয়বের সৃষ্টি করে। ইহাদের মধ্যে বালিচর অন্যতম। নদীর বালিচরগুলি কখনও বা নদীর মধ্যে আবার কখনও নদীর আশেপাশে গড়িয়া উঠে। এই বালিচরগুলি অস্থায়ী। বর্ষার প্রবল স্রোত বালিচরগুলিকে ভাসাইয়া লইয়া যায়, আবার কখনও বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করে।

প্রশ্ন ১২। ব-দ্বীপ কিভাবে সৃষ্টি হয় লিখ। 

উত্তর : নিম্নগতিতে নদীর প্রধান কাজ সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ। এই সময় নদীর গতিবেগ থাকে খুবই কম। নদী বাহিত কাকর, বালি, পলি প্রভৃতি মোহনার কাছে সমুদ্রে বা হ্রদে জমিতে থাকে। ফলে নদীমোহনার কাছে মাত্রাহীন ‘ব’-এর মত এক ত্রিকোণাকৃতি দ্বীপের সৃষ্টি হয়, ইহাকে ব-দ্বীপ বলে।

যেমন—পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী গঠিত সুন্দরবনের ব-দ্বীপ এবং নীল, মিসিসিপি প্রভৃতি নদীর ব-দ্বীপ পৃথিবী বিখ্যাত ব-দ্বীপ। 

প্রশ্ন ১৩। মরুভূমিতে বায়ুর ক্রিয়া কেন প্রবল লিখ।

উত্তর ঃ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর ক্রিয়া প্রবল হইবার কারণসমূহ হইল— 

(ক) মরুভূমি অঞ্চলে প্রবলবেগে বায়ু প্রবাহিত হয়। এই অঞ্চলে কোন বনভূমি বা গাছ-পালা থাকে না ।

(খ) মরুভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং গাছ-পালার অভাবের কারণে আলগা মাটি ও বালির বায়ু সহজেই ক্ষয়কার্য চালাইতে পারে।

(গ) মরুভূমি অঞ্চলে দিন ও রাত্রি এবং শীত ও গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি থাকায় অধিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রভাবে শিলা সহজেউ চূর্ণ-বিচূর্ণ হইয়া বালিতে পরিণত হয়। ফলে বায়ুর ক্ষয়কার্যে সুবিধা হয়। বায়ু এক স্থান হইতে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।

প্রশ্ন ১৪। অবনমন বলিতে কি বুঝায় ?

উত্তর ঃ মরুপৃষ্ঠে উদ্ভিদের আবরণ অতিশয় কম হওয়ায় বাতাস সহজেই ধূলা-বালি একস্থান হইতে অন্যস্থানে উড়াইয়া নিয়া যায়। এই প্রকার কোন অংশ হইতে ধূলা-বালি উড়াইয়া নেওয়া কার্যকে অবনমন বলা হয়। অবনমনের ফলে ধূলি ঝড়ের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ১৫। বালিয়ারির সৃষ্টি কিভাবে হয়?

উত্তর : অবনমনের ফলে মরুভূমিতে ধূলা ঝড়ের সৃষ্টি হয়। ধূলাবালি যে স্থানে জমা হয় সেই স্থানের মরুপৃষ্ঠ ক্রমে উঁচু হইয়া উঠে এবং ছোট ছোট পাহাড়ের রূপ ধারণ করে। এইগুলিকে বালিয়াড়ি বলে।

প্রশ্ন ১৬। ইনসেলবার্গ কি ?

উত্তর : ইনসেলবার্গ শব্দ জার্মান শব্দ হইতে আসিয়াছে। ইহার অর্থ ‘দ্বীপশৈল’। অনেক সময় মরুভূমির মধ্যে মধ্যে কঠিন শিলায় গঠিত অনুচ্চ পাহাড় টিলার মত দাঁড়াইয়া থাকে এবং দীর্ঘদিন ধরিয়া ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া গোলাকৃতি আকার ধারণ করে, ইহাদের ইনসেলবার্গ বলে। ভারতের দাক্ষিণাত্যের অঞ্চলে, দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমি এবং অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে ইনসেলবার্গ দেখা যায়।

প্রশ্ন ১৭। হিমবাহের সংজ্ঞা দাও এবং নদীর সহিত ইহার পার্থক্য কি লিখ। 

উত্তর ঃ হিমরেখার ঊর্ধ্বে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার ফলে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প সমস্ত বৎসর ধরিয়া জমা হইয়া বরফের স্তূপের সৃষ্টি হয়। মেরু অঞ্চল বা পর্বতের শিখরদেশে এই ধীরগতিসম্পন্ন বরফের স্তূপকে হিমবাহ বলে।

নদী ও হিমবাহের পার্থক্য :

নদী হিমবাহ
১। বৃষ্টির জল ও অন্যান্য উৎসের জল দ্বারা পুষ্ট।
২। নদী সাধারণত পর্বত, মালভূমি, এবং নিম্নভূমি অঞ্চলেও দেখা যায়।
৩। নদীর জল পার্বত্য অঞ্চল হইতে  প্রবল বেগে নামিয়া আসে।
১। জলীয় বাষ্প দ্বারা গঠিত।
২। হিমবাহ কেবলমাত্র মেরু অঞ্চলে ও সীমিত কয়েকটি পর্বতে দেখা যায়। 
৩। হিমবাহ পর্বতগাত্র বাহিয়া অতি ধীর গতিতে নামে।

প্রশ্ন ১৮। গ্রাব কি? চিত্রের সাহায্যে বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাবগুলি দেখাও।

উত্তর : গ্রাব তিন প্রকারের। (ক) পার্শ্বগ্রাব, (খ) মধ্যপ্রার, (গ) তলদেশ গ্রাব।

(ক) পার্শ্বগ্রাৰ : হিমবাহের দুই পাশে যে প্রাব

সঞ্চিত হয় তাহাকে পার্শ্বগ্রাব বলে।

(খ) মধ্যগ্রাব : যখন দুইটি হিমবাহ দুই দিক হইতে মিলিত হয় তখন উভয়ের মধ্যবর্তী অংশে যে গ্রাবের সৃষ্টি হয় তাহাকে মধ্যগ্রাব বলে।

(গ) তলদেশ গ্রাৰ হিমবাহের তলদেশে সঞ্চিত হইয়া যে গ্রাব তৈরী হয় তাহাকে তলদেশ গ্রাব বলে।

প্রশ্ন ১৯। হিমবাহের ক্রিয়ার ফলে শম্ভু আকৃতির শৃংগের সৃষ্টি কিভাবে হয় লিখ। 

উত্তর: হিমবাহ দ্বারা বাহিত পদার্থের দ্বারা ঘটা প্রবল ঘর্ষণের ফলে গতিপথ গভীর ও খাড়া হয়। কোন কোন পর্বতের গাত্র বাহিয়া পৃথক পৃথকভাবে একাধিক হিমবাহ নামিয়া আসিতে পারে। তখন সকল দিক হইতে চলা খনন কার্যের ফলে পর্বতের শীর্ষাংশ শম্ভু আকৃতির হয়। এইগুলিকে হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট শৃংগ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপে ইউরোপের আল্পস্, আমেরিকার রকি এবং এশিয়ার হিমালয় পর্বতে দেখা যায়।

প্রশ্ন ২০। উপকূল কাহাকে বলে ?

উত্তর ঃ পৃথিবীর উপরিভাগের এক বৃহৎ অংশ (৭১ শতাংশ) সাগর-মহাসাগর দ্বারা আবেষ্টিত আছে। সাগর-মহাসাগরের পার বা তীরকে উপকূল বলা হয়। 

প্রশ্ন ২১। বালিতট কি ?

উত্তর : অবিরত ক্রিয়া করিয়া থাকা ঢেউ উপকূলের তটীয় অংশে বালি জমা হইয়া যে ঢালযুক্ত অবয়বের সৃষ্টি হয় তাহাকে বালিতট বলা হয়। সাধারণতঃ সাগরের উত্তাল তরংগ এবং ফিরিয়া আসা ডেউয়ের মিলিত ক্রিয়ার ফলে এই প্রকারের অবয়ব গড়িয়া উঠে।

প্রশ্ন ২২। সাগর-মহাসাগরের ঢেউ উপকূল ভাগের কি ধরণে পরিবর্তন সাধন করে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : উপকূল অঞ্চলে একাধিক বাহ্যিক কারক ক্রিয়া করে। এই কারকসমূহের মধ্যে বৃষ্টিপাত, বায়ু এবং সাগরের ঢেউ প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে। সাগরের ঢেউ অহরহ ক্রিয়া করিয়া উপকূল অঞ্চলের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে। অবশ্য ঢেউয়ের প্রভাব উপকূলের ভূ- তাত্ত্বিক গঠন, নিকটবর্তী সাগরের গভীরতা,

নদীর উপস্থিতি, বাতাসের ক্রিয়া, উপকূলীয় উদ্ভিদের আবরণ ইত্যাদির উপর ঢেউয়ের ধর্ম ও প্রাবল্য নির্ভর করে। ঢেউয়ের ক্রিয়ার ফলে সাগর-মহাসাগরের উপকূলে বিশেষ কিছু সংখ্যক অবয়বের সৃষ্টি হইয়াছে। উপকূল ভাগ গ্রেনাইট, ব্যাসাল্ট ইত্যাদি কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত হইলে সাগরের ঢেউ সেই স্থানে খাড়া দেওয়ালের সৃষ্টি করে। এই ধরণের উপকূল সাধারণতঃ অমসৃণ হয়। অবিরত ঢেউয়ের কার্যের ফলে উপকূলরেখা, সমুদ্রতট ও খাড়া উপকূলের সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ২৩। নিম্নের তালিকাতে দেওয়া কারক এবং অবয়বগুলির কোটি কাহার সৃষ্টি তীর চিহ্ন দ্বারা দেখাও :

কারক অবয়ব
নদী বালির তট
প্লাবন ভূমি
ইয়ারডাং
হিমবাহ U উপত্যকা
V উপত্যকা
বালির চর
বাতাস বালির পাহাড়
অববাহিকা
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
সাগরের ঢেউ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
ব-দ্বীপ
পার্শ্বগ্রাব
ড্রামলিন

উত্তর

প্রশ্ন ২৪। ভূ-পৃষ্ঠে ভবিষ্যতে কি ধরণের পরিবর্তন ঘটিতে পারে চিন্তা করিয়া লিখ।

উত্তরঃ ভবিষ্যতে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন প্রকারে পরিবর্তন সাধিত হইতে পারে। ইহাদের মধ্যে প্রধান হইল প্রাকৃতিক কারণ এবং মানবসৃষ্ট কারণ।

(ক) প্রাকৃতিক কারণ ঃ ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, সুনামি, ঘূর্ণীবায়ু, প্লাবন, অতিবেগুণী রঞ্জন রশ্মি ইত্যাদি।

(খ) মানবসৃষ্ট কারণ : যুদ্ধ-বিগ্রহ, জলদূষণ, ভূমি দূষণ, বায়ু দূষণ, নিবনানিকরণ ইত্যাদি। আণবিক ও রাসায়নিক যুদ্ধ বিশেষ ক্ষতিকারক।

উপরোক্ত কারকগুলি ভূ-পৃষ্ঠে অহরহ পরিবর্তন ঘটিতেছে। আলোচিত কারকগুলির প্রভাবে পরিবেশ মণ্ডলের ভৌত, রাসায়নিক অথবা জৈব গুণাগুণের অবাঞ্ছিত পরিবর্তন মনুষ্য, জীব-জন্তু ও উদ্ভিদ জগতের ক্ষতিকারক প্রভাব বিস্তার করে।

Sl.No.Chapters name
ইতিহাস
Chapter 1ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন
Chapter 2ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষণ
Chapter 3মোয়ামারীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter 4মানের অসম আক্ৰমণ
Chapter 5আসামে ব্রিটিশ প্রশাসনের আরম্ভণি
Chapter 6বিয়াল্লিশের শোণিতপুরের শহীদ
ভূগোল
Chapter 1ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন
Chapter 2বায়ুমণ্ডল : গঠন, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ
Chapter 3ভারতবর্ষের ভূগোল
Chapter 4অসমের ভূগোল
রাজনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1ভারতের রাজনৈতিক দল
Chapter 2সরকারের প্রকার বা শ্রেণিবিভাগ
অর্থনীতি বিজ্ঞান
Chapter 1অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহ
Chapter 2মূল অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহ

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। নদী কি প্রকারে পলি আহরণ করে লিখ।

উত্তর ঃ নদী পার্বত্যভূমি ছাড়িয়া সমভূমির উপর দিয়া প্রবাহিত হয় তখন নদী উপত্যকার পরিবর্তন ঘটে। নদী মধ্যগতি ও নিম্নগতিতে নিম্ন ও পার্শ্বক্ষয় কমিয়া সঞ্চয় বেশী হয়। এই অবস্থায় নদীর গভীরতা কমিয়া যায়।

নিম্নলিখিত উপায়ে নদী পলি আহরণ করে :

(ক) পলিশ বা পলল ব্যজনী (Alluvial Conor বা Alluvial Fan) যখন পার্বত্য অঞ্চল ছাড়িয়া সমভূমিতে আসিয়া পড়ে তখন সমভূমিতে নদীস্রোত কমিয়া যায়। ইহার ফলে, নদী উপত্যকার মুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি জমিয়া শঙ্কু আকৃতির তিনকোনা পলল ভূমির সৃষ্টি করে। ইহা দেখিতে পাখীর পাথার মত হয় বলিয়া পল বাজনী বলা হয়।

(খ) নদীমঞ্চ (River Terrace ) : নদীর পার্বত্য প্রবাহে এবং সমভূমি প্রবাহে এই প্রকার ভূমিরূপ দেখা যায়। নদী উপত্যকার দুই পাশে নদীর জলবাহিত বিভিন্ন পদার্থ সঞ্চিত হইয়া কয়েকটি ভাসমান ধাপের সৃষ্টি করে এই ধাপকে নদীমঞ্চ বলে।

(গ) নদী-চর ও বিনুনী নদী (Sand Bank and Broided River) : সমভূমি অঞ্চলে নদীর গতিবেগ কম থাকায় প্রচুর পরিমাণে নুড়ি, বালি, পলি প্রভৃতি নদীবক্ষে সঞ্চিত হয়। এই অবস্থায় নদীবক্ষে চর বা দ্বীপের সৃষ্টি হয়। নদীখাত বিশাল চওড়া অগভীর হইয়া পড়ায় চরের পার্শ্ব দিয়া নদী অনেক শাখায় বিভক্ত হইয়া বিনুনীর মত হইয়া পড়ে ও বহিতে আরম্ভ করে। শাখাগুলি কিছুদূরে আবার মিলিত হয়, আবার বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়। ইহাকে বিনুনী নদী বলে।

(ঘ) নদী বাঁক (Meander) : নিম্ন ও মধ্যগতিতে নদীর গতিশক্তি কমিয়া যায়। এই অবস্থায় নদী কোন বাধা পাইলে তাহা অতিক্রান্ত করার জন্য আঁকিয়া বাঁকিয়া প্রবাহিত হইতে থাকে। তুরস্কের বাঁকবহুল মিনড্রেস নদীর নাম অনুসারে আঁকাবাঁকা নদীপ্রবাহকে নদী বাঁক বা মিয়েণ্ডার বলা হয়।

(ঙ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Horse Shoe Lake) : সমতল ভূমিতে উপস্থিত হইলে নদীর জলস্রোতের বেগ কমিয়া যায়। নদী তখন আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয় এবং অসংখ্য বাঁকের সৃষ্টি করে। দুইটি পাশাপাশি আসিলে মাঝের একটি ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া পুরানো গতিপথের মুখে চর পড়িয়া বন্ধ হইয়া যায় এবং হ্রদের সৃষ্টি করে। অর্থের ক্ষুরের মত আকৃতি হয় বলিয়া ইহাক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়।

(চ) প্লাবন সমভূমি (Flood Plain) : নদী সমভূমি প্রবাহের শেষ অংশে বন্যার জল দ্বারা প্লাবিত হইলে দুই তীরের নীচু অঞ্চলগুলিতে পলি সঞ্চিত হইয়া যে ভূমির সৃষ্টি করে তাহাকে প্লাবন সমভূমি বলে।

(ছ) স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক বাঁধ (Levee) : প্রতি বৎসর পাবনের ফলে নতন পলি সঞ্চিত হইয়া নদীর দুই তীরের প্লাবনভূমি বাঁধের মত উঁচু হইতে থাকে। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তৈরী হয় বলিয়া ইহাকে স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক বাঁধ বলা হয়। 

(জ) ব-দ্বীপ (Delta) : নিম্নগতিতে নদীর প্রধান কাজ সঞ্চয় বা অবক্ষেপণ। এই সময় নদীর গতিবেগ থাকে খুবই কম। নদী বাহিত কাকর, বালি, পলি প্রভৃতি মোহনার কাছে সমুদ্রে বা হ্রদে জমিতে থাকে। ফলে নদীমোহনার কাছে মাত্রাহীন ‘ব’-এর মত এক ত্রিকোণাকৃতি দ্বীপের সৃষ্টি হয়, ইহাকে ব-দ্বীপ বলে।

যেমন—পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদী গঠিত সুন্দরবনের ব-দ্বীপ পৃথিবী বিখ্যাত ব-দ্বীপ।

প্রশ্ন ২। টীকা লিখ :

(ক) গৌর ঃ প্রবাহিত বায়ু ক্ষয়কার্যের একটি শক্তি হইলেও ভূ-পৃষ্ঠ হইতে বিভিন্ন উচ্চতায় ইহার কার্যক্ষমতা ভিন্ন। আবার যে যে অংশে কোমলতর শিলা থাকে সেই স্থান। বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া অন্য বৈচিত্র্যময় ভূ-বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়। সেই কারণে মরু অঞ্চলে। উচ্চভূমির নিম্ন প্রদেশ অধিক ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া স্তম্ভাকৃতি পাদভূমির সৃষ্টি করে। ইহাকে গৌর বলে।

(খ) ইনসেলবার্গ ঃ পর্বতের প্রশস্ত পাদভূমি অবঘর্ষণের জন্য ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়া যায়। তখন পর্বত গাত্রের ঢাল ভূ-পৃষ্ঠ হইতে হঠাৎ খাড়া দেখায়। এরূপ হঠাৎ খাড়া ঢালযুক্ত নিচু পাহাড়কে ইনসেলবার্গ বলে। মরু অঞ্চলে ক্ষয়চক্রের শেষ অবস্থায় এইগুলি গড়িয়া উঠে।

(গ) ভুগেন ঃ যখন কঠিন ও কোমল শিলা পর পর অনুভূমিকভাবে সজ্জিত থাকে তখন বায়ুর অসম ক্ষয়ের জন্য এক বিশেষ ভূ-বৈচিত্র্য গড়িয়া উঠে। ইহাকে জুগেন বলে।

(ঘ) বারখান : বায়ুতাড়িত হইয়া বালিয়াড়ির প্রান্ত দুইটি বায়ুপ্রবাহের দিকে ক্রমশঃ মহিষের শিঙের মতো বাঁকিয়া যায়। ঐ প্রান্ত দুইটিকে হর্ণ বলে। কালক্রমে হর্ণ দুইটি বাঁকিয়া গিয়া অর্ধচন্দ্রাকৃতি হইয়া যায়। এই অবস্থায় ঐ বালিয়াড়িকে বারখান বলে। 

(খ) ইয়ারডাং ঃ মরুভূমির ভূ-পৃষ্ঠে কোমল ও কঠিন শিলাস্তরের লম্বালম্বি সাজানোর মধ্যে সামঞ্জসা না থাকিলে ফাটলের মধ্যে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে অনিয়মিত আকৃতির ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। ইহাদের ইয়ারডাং বলে।

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

প্রশ্ন ১। ভূ-পৃষ্ঠে কত অংশ জলভাগ এবং কত অংশ স্থলভাগ?

উত্তর : ৭১ শতাংশ জলভাগ ও ২৯ শতাংশ স্থলভাগ ।

প্রশ্ন ২। ভূ-পৃষ্ঠ পরিবর্তনের দুইটি কারকের নাম লিখ।

উত্তর ঃ বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ কারক।

প্রশ্ন ৩। কিসের দ্বারা নদী অববাহিকার সৃষ্টি হয়?

উত্তর : ছোট বড় সকল ধরনের উপনদী, শাখানদী ইত্যাদির দ্বারা। 

প্রশ্ন ৪। নদীর কার্যকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় এবং কি কি?

উত্তর : নদীর কার্যকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—(ক) খনন বা ক্ষয় কার্য,(খ) পরিবহন এবং (গ) অবক্ষেপণ।

প্রশ্ন ৫। জলচালিত কার্য কাহাকে বলে?

উত্তর : জল প্রবাহিত হইবার সময় নদীর গতিপথে যে বল প্রয়োগ হয়, ফলে জলের সংস্পর্শে আসা শিলা-বালির উপরে ক্রিয়া করে। ইহাকে জলচালিত কার্য বলা হয়। 

প্রশ্ন ৬। উচ্চভূমিতে নদী কিরূপ থাকে?

উত্তর : উচ্চভূমি অঞ্চলে নদীর গতিবেগ প্রবল থাকে, নদীর গতিপথ সংকীর্ণ ও গভীর থাকে।

প্রশ্ন ৭। নদী কি কি পদার্থ পরিবহন করে ?

উত্তর : নানা প্রকারের লবণ, বালি, কদম, পলিমাটি,

প্রশ্ন ৮। নদীর গতি কয়টি এবং কি কি?গাছপালা ইত্যাদি।

উত্তর : নদীর গতি তিনটি। প্রাথমিক গতি, মধ্যগতি, নিম্নগতি।

প্রশ্ন ৯। নদীর প্রধান কার্য তিনটি কি কি? 

উত্তর : খনন, পরিবহন এবং অবক্ষেপণ ।

প্রশ্ন ১০। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হইবার প্রধান কারণ কি? 

উত্তর ঃ পৃথিবীর খোলাটি গঠিত হওয়া ফলকগুলি গতিশীল হইবার জন্য ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ১১। প্লাবনভূমি সৃষ্টি করা কয়েকটি নদীর নাম লিখ।

উত্তর : ব্রহ্মপুত্র, গংগা, সিন্ধু, মিসিসিপি, নীল নদ, আমাজান, হোয়াংহো ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১২। পৃথিবীবিখ্যাত কয়েকটি ব-দ্বীপ সৃষ্টিকারী নদীর নাম লিখ।

উত্তর : গংগা-ব্রহ্মপুত্র, নীল, মিসিসিপি ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ১৩। কি প্রক্রিয়ার দ্বারা ঘন ঘন বালির ঝড়ের উদ্ভব হয়?

উত্তর : অবনমন প্রক্রিয়ার ফলে। 

প্রশ্ন ১৪। পার্বত্য বা উপত্যকা হিমবাহ প্রধানতঃ কোন কোন পর্বতে দেখা যায়?

উত্তর : ইউরোপের আল্পস্, উত্তর আমেরিকার রকি এবং এশিয়ার হিমালয় পর্বতে। 

প্রশ্ন ১৫। হিমবাহ ক্রিয়া করা পার্বত্য অঞ্চলগুলিকে কি কি ধরণের অবক্ষেপনজনিত অবয়ব দেখা যাম ?

উত্তর : ড্রামলিন, এস্কার, কেম ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন ১৬। শুদ্ধ উত্তরটি লেখো :

(ক) পৃথিবীর উপরিভাগে জলের পরিমাণ – ৭১%/৭০%/72%/৭৩%।

উত্তর : ৭১%।

(খ) পৃথিবীর উপরিভাগে মাটির পরিমাণ— ২০%/২৫%/২১%/২২%।

উত্তর : ২১%।

(গ) নদীর খনন কার্য্য সংঘটিত হয়—উচ্চ গতিতে/মধ্য গতিতে/নিম্ন গতিতে। 

উত্তর : উচ্চ গতিতে।

(ঘ) বালিচর দেখা যায়—মরুভূমিতে / পর্বতে/নদীতে। 

উত্তর : নদীতে।

(ঙ) হিমবাহ প্রধানত – ২/৩/৪/৫ প্রকারের।

উত্তর : ২ প্রকারের।

(চ) পৃথিবীর উপকূল রেখার সর্বমোট দৈর্ঘ্য- ৫ নিযুত /০১ নিযুত / ০-৫ নিযুত / ৬ নিযুত কিলোমিটার।

উত্তর : ০-৫ নিযুত কিলোমিটার।

প্রশ্ন ১৭। শূন্যস্থান পূর্ণ কর :

(ক) বাহ্যিক কারকগুলি মূলতঃ____ হইতে ক্রিয়া করে।

উত্তর : বাহির।

(খ) নদীর গতিপথ বলিতে____হইতে____পর্যন্ত বুঝায়।

উত্তর : উৎস, মোহনা।

(গ) ঘোড়ার খুরের আকৃতির মত হ্রদকে_____ হ্রদ বলে।

উত্তর : অশ্বক্ষুরাকৃতি।

(ঘ)______সারযুক্ত এবং কৃষির জন্য উপযোগী।

উত্তর : প্লাবনভূমি।

(ঙ) বায়ুর দ্বারা কোন অংশের ধূলি-বালি উড়াইয়া নেওয়া কার্যকে বলা হয়।

উত্তর : অবনমন।

(চ) অবনমনের ফলে মরুভূমিতে প্রায়ই_____সৃষ্টি হয়।

উত্তর : ধুলিঝড়।

(ছ) হিমবাহ প্রধানত দুই প্রকারের : – – হিমবাহ এবং পার্বত্য বা_____হিমবাহ।

উত্তর : মহাদেশীয়, উপত্যকা।

(জ) মহাসাগরের তীর বা পাড়কে____বলা হয়।

উত্তর : উপকূল।

(ঝ) কোন কোন সময় সাগরের নীচে ভূ-আন্দোলন সংঘটিত হইলে তাহাকে ______বলে।

উত্তর : সুনামি।

পারদর্শিতামূলক প্রশ্ন :

প্রশ্ন ১৮। অসমের মানচিত্র অংকন কর এবং নিম্নলিখিত বিষয়গুলি দেখাও : 

ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ, কিছুসংখ্যক তৈল উৎপাদন অঞ্চল, চা উৎপাদন অঞ্চল, রিফাইনারী, অসমের রাজধানী ইত্যাদি।

Leave a Reply