SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-13| অর্থনৈতিক উন্নয়ন

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-13| অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-13| অর্থনৈতিক উন্নয়ন

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-13| অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ৪

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া লও 

প্রশ্ন ১। ভারতীয় ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এর মুখ্য কার্যালয় কোথায় অবস্থিত ? 

(ক) মুম্বাইতে

(খ) কলকাতায় 

(গ) চেন্নাইতে 

(ঘ) লক্ষ্ণৌতে 

উত্তর : (ঘ) লক্ষ্ণৌতে 

প্রশ্ন ২। NITI আয়োগের বর্তমান অধ্যক্ষ কে ? 

(ক) অমিত শাহ 

(খ) অরুণ জেটলী 

(গ) রাজনাথ সিং 

(ঘ) নরেন্দ্র মোদী

উত্তর : (ঘ) নরেন্দ্র মোদী 

প্রশ্ন ৩। ভারতে সবুজ বিপ্লব কখন সংঘটিত হয়? 

(ক) ৬০ দশকের মাঝ ভাগে 

(গ) ৭০ দশকে 

(খ) ৬০ দশকের শেষ ভাগে। 

(ঘ) ৮০ দশকে 

উত্তর : (ক) ৬০ দশকের মাঝ ভাগে 

প্রশ্ন ৪। ভারতে নতুন শিল্প নীতি গ্রহণ করা হয় ? 

(ক) ১৯৮৯ সনে 

(খ) ১৯৯০ সনে

(গ) ১৯৯১ সনে 

(ঘ) ১৯৯৫ সনে

উত্তর : (গ) ১৯৯১ সনে

প্রশ্ন ৫। ভারতে শেষ পর্যন্ত চালিয়া যাওয়া পরিকল্পনাটি কত সংখ্যক ? 

(ক) একাদশ

(খ) দ্বাদশ 

(গ) ত্রয়োদশ 

(ঘ) চতুর্দশ 

উত্তর : (খ) দ্বাদশ 

প্রশ্ন ৬। HDIএর সম্পূর্ণ নাম কি?

(ক) Human Development Index

(খ) Human Development Input

(গ) Human Determination Index

(ঘ) Human Development Indentity 

 উত্তর : (ক) Human Develipment Index

প্রশ্ন ৭। একটি অর্থ বৎসর কত তারিখ হইতে আরম্ভ হয় ? 

(ক) ৩১ শে মার্চ হইতে 

(খ) ১ জানুয়ারি হইতে 

(গ) ১ সেপ্টেম্বর হইতে

(ঘ) ১ এপ্রিল হইতে 

উত্তর : (ঘ) ১ এপ্রিল হইতে

প্রশ্ন ৮। অসমে দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার লাভ করা খণ্ডটি হইল 

(ক) কৃষিখণ্ড

(খ) শিল্প 

(গ) শিক্ষা 

(ঘ) গ্রাম্য অর্থনীতি 

উত্তর : (ঘ) গ্রাম্য অর্থনীতি 

প্রশ্ন ৯। দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কখন শেষ হইয়াছিল ?

(ক) ২০১৭ সনে 

(খ) ২০১৬ সনে 

(গ) ২০১৫ সনে

(ঘ) ২০১৪ সনে 

উত্তর : (ক) ২০১৭ সনে 

প্রশ্ন ১০। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুসারে পৃথিবীর মধ্যে মাথাপিছু মোট রাষ্ট্রীয় উৎপাদনে সর্বোচ্চ স্থান অধিকারী-

(ক) আমেরিকা 

(খ) জাপান 

(গ) সুইজারল্যাণ্ড

(ঘ) জাপান 

 উত্তর। সুইজারল্যাণ্ড। 

প্রশ্ন ১১। ‘দরিদ্র হওয়ার জন্যই দেশটি দরিদ্র’—এই উক্তিটি করিয়াছিলেন—

 (ক) কার্ল মাক্স

 (খ) রেগনার নারসে

 (গ) জি. এম. মেয়ার 

 (ঘ) অর্মত্য সেন

 উত্তর। রেগনার নারসে। 

প্রশ্ন ১২। দারিদ্র্য্যচক্রের মূল কারণ— 

(ক) মূলধন গঠন

(খ) বেকারত্ব

(গ) মূলধন বিনিয়োগের অভাব 

(ঘ) সঞ্চয় 

উত্তর। মূলধন বিনিয়োগের অভাব। 

প্রশ্ন ১৩। অর্থনৈতিকভাবে অন্যাসর অঞ্চলে বসবাসকারী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার _______শতাংশ। 

(ক) ৫০

(খ) ৬০ 

(গ) ৭০ 

(ঘ) ৮০

উত্তর। ৬০ শতাংশ।

প্রশ্ন ১৪। মূলধনের উৎস- 

(ক) সঞ্চয় 

(খ) আয় 

(গ) বিনিয়োগ 

(ঘ) ইচ্ছাশক্তি 

উত্তর। সঞ্চয়। 

প্রশ্ন ১৫। উন্নয়নশীল দেশের জনসংখ্যার প্রায়     ________শতাংশ কৃষিজীবী।

 (ক) ৪০ 

 (খ) ৫০

 (গ) ৬০

 (ঘ) ৭০

উত্তর। ৭০

পশ্ন ১৬। উত্তর-পূর্ব পরিষদের অধ্যক্ষ হিসাবে কাজ করেন রাজ্যগুলির কোনও একজন—

(ক) বিধানসভার অধ্যক্ষ

(খ) মুখ্যমন্ত্রী

(গ) রাজ্যপাল 

(ঘ) উপ-মুখ্যমন্ত্রী

উত্তর। রাজ্যপাল। 

প্রশ্ন ১৭। অসমের একাদশ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হইয়াছে— 

(ক) বন্যা ও খরা প্রতিরোধের উপর

(খ) স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উপর 

(গ) কৃষি ও গ্রামোন্নয়নের উপর 

(ঘ) উন্নতমানের পরিবহন ও যোগাযোগের উপর 

উত্তর। কৃষি ও গ্রামোন্নয়নের উপর। 

প্রশ্ন ১৮। ভারতের একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সমাপ্ত হয়–

(ক) ২০০৯ সালের ৩১শে মার্চ 

(খ) ২০১০ সালের ৩১শে মার্চ

(গ) ২০১১ সালের ৩১শে মার্চ 

(ঘ) ২০১২ সালের ৩১ মার্চ

উত্তর। ২০১২ সালের ৩১শে মার্চ। 

প্রশ্ন ১৯। ভারতের জাতীয় পরিকল্পনা আয়োগ গঠন করা হয়

 (ক) ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে 

 (খ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে

 (গ) ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে

 (ঘ) ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে

উত্তর। ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে। 

প্রশ্ন ২০। ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কার্যকরী করা হয়— 

(ক) ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে 

(গ) ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে 

(খ) ১৯৫১ সালের এপ্রিল মাসে। 

(ঘ) ১৯৫৩ সালের এপ্রিল মাসে

উত্তর। ১৯৫১ সালের এপ্রিল মাসে।

প্রশ্ন ২১। সর্বপ্রথম দরিদ্রতা দূরীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়-

(ক) আর পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় 

(খ) ৪র্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় 

(গ) ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়

(ঘ) ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় 

উত্তর। ৫ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। 

প্রশ্ন ২২। ২০০২ সালের ১ এপ্রিল আরম্ভ হওয়া ভারতের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটির নাম— 

(ক) সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

(খ) অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

(গ) নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা 

(ঘ) দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা 

উত্তর। দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা।

প্রশ্ন ২৩। অসমের দশম পরিকল্পনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খণ্ডসমূহের মধ্যে প্রধান স্থানপ্রাপ্ত খণ্ডটি— 

 (ক) কৃষিখণ্ড 

 (খ) সামাজিক সেবাখণ্ড

 (গ) শক্তি খণ্ড

 (ঘ) পরিবহন খণ্ড

 উত্তর। সামাজিক সেবাখণ্ড ।

 প্রশ্ন ২৪। ভারতবর্ষে জি.এস.টি. (GST) প্রবর্তন করা হয়— 

(ক) ১৯৪৭ সনের ১৫ আগস্ট 

(গ) ২০১৭ সনের ১ জুলাই 

(খ) ১৯৫০ সনের ২৬ জানুয়ারি 

(ঘ) ২০১৬ সনের ১ জুলাই 

উত্তর ঃ (গ) ২০১৭ সনের ১ জুলাই 

সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। ব্যাখ্যা কর (একটি বাক্যে) : 

(ক) অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কি? : এক নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হইতে করা ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বলে। 

(খ) অর্থনৈতিক বিকাশ : অর্থনৈতিক বিকাশ বলিতে একটি দেশের জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হওয়া বুঝায়।

 (গ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন : অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলিতে দেশের সকল জনসাধারণের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির বিকাশ ও উন্নতি হওয়া বুঝায়, শুধু মুষ্টিমেয় এক শ্রেণীর উন্নয়ন হওয়া বুঝায় না। 

(ঘ) মানব উন্নয়ন : মানব উন্নয়ন বলিতে মানব সমাজের সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাইয়া সকলের জীবনযাত্রার মানদণ্ড বৃদ্ধি হওয়া বুঝায় । 

(ঙ) গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা : যে পরিকল্পনাতে শুধু সরকারি পরিকল্পনা দপ্তরই পরিকল্পনার বিভিন্ন স্তরে সীমাবদ্ধ নাথাকিয়া সমূহ জনসাধারণের ভূমিকা সুনিশ্চিত করা হয় তাহাকে গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা বলা হয়।

 (চ) উদারীকরণ : সমাজবাদী রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপরে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ একটি স্বাভাবিক কথা। তাই উদারীকরণ বলিতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের এমন নিয়ন্ত্রণের শিথিলকরণের করা বুঝায়।

 (ছ) ব্যক্তিগতকরণ ঃ ভারতের মত মিশ্র অর্থনীতির ব্যবস্থা থাকা রাষ্ট্রে সরকারি বা সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত—এই দুইটি খণ্ডে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়িয়া উঠা দেখা

যায়। তাই ব্যক্তিগতকরণ বলিতে সরকারি বা সার্বজনীন খণ্ডের কোন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বা ব্যক্তিগত খণ্ডে পরিবর্তন করা কার্যকে ব্যক্তিগতকরণ বলা হয়।

 (জ) গোলকীকরণ বা বিশ্বায়ন : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভূত উন্নয়নের ফলে বিশাল বিশ্বটি সঙ্কুচিত হইয়া পরিল ও বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়িয়া উঠিল। এই সমন্বিত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াটিকে গোলকীকরণ বা বিশ্বায়ন বলে। 

প্রশ্ন ২। বিত্তীয় বৎসর বলিতে কি বোঝায়?

 উত্তর : ১ এপ্রিল হইতে ৩১ মার্চের সময়কালকে একটি বিত্তীয় বৎসর বলিয়া ধরা 

প্রশ্ন ৩। জাতীয় আয় কাহাকে বলে? 

উত্তর : একটি বিত্তীয় বৎসরে দেশে উৎপাদিত হওয়া সর্বমোট সামগ্রীর মুদ্রাগত মূল্যই জাতীয় আয়। 

প্রশ্ন ৪। মাথাপিছু আয় কাহাকে বলে? 

উত্তর : জাতীয় আয়কে দেশটির মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করিলে যে ফল পাওয়া যায় তাহাকে মাথাপিছু আয় বলে। 

প্রশ্ন ৫। প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন করে প্রকাশ হয়? 

উত্তর : ১৯৯০ সালে। 

প্রশ্ন ৬। মানব উন্নয়নের তিনটি সূচক কী কী ? 

উত্তর : (ক) প্রত্যাশিত আয়ু (খ) শিক্ষা ও (গ) জীবন নির্বাহের মান।

 প্রশ্ন ৭। ২০১০ সালের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে মানব উন্নয়নের কোন তিনটি নতুন সূচকাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে?

উত্তর : (ক) বৈষম্য সাপেক্ষে মানব উন্নয়ন সূচকা (খ) লিঙ্গ বৈষম্য সূচকাঙ্ক ও (গ) বহুমাত্রীয় দারিদ্র সুচকা। 

প্রশ্ন ৮। মানৰ দরিদ্রতা সূচকান্ত (Human Poverty Index) কি প্রতিফলিত করে ? 

উত্তর : গড় ভিত্তিতে ইহা দরিদ্রতার সামগ্রিক ছবি একটি প্রতিফলিত করে। 

প্রশ্ন ৯। দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কার্যকাল কত? 

উত্তর : ২০১২ সালের ১ এপ্রিল হইতে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। 

প্রশ্ন ১০। কোন কোন সালে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পরিবর্তে বার্ষিক পরিকল্পনা করা হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৬৭, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৯১ ও ১৯৯২।

প্রশ্ন ১১। NITI আয়োগের কথা কে এবং কবে ঘোষণা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : ২০১৫ সালে স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী NITI আয়োগের কথা ঘোষণা করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ১২। NITI আয়োগের প্রথম বৈঠক করে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : NITI আয়োগের প্রথম বৈঠক ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে নির্মাতে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৩। NITI (নিটি) আয়োগ কি? NITI র সম্পূর্ণ নাম কি?

 উত্তর : ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারিতে পূর্বের পরিকল্পনা আয়োগের স্থানে নির্দি (NITI) আয়োগ গঠিত হয়। National Institute for Transforming India. 

প্রশ্ন ১৪। NITI আয়োগের অধ্যক্ষ কে ? 

উত্তর : প্রধানমন্ত্রী। 

প্রশ্ন ১৫। জিএসটি (GST)র সম্পূর্ণ নাম কি? 

উত্তর : জিএসটি (GST)র সম্পূর্ণ নাম হইল পণ্য ও পরিসেবা কর (Goods and Service Tax)। 

প্রশ্ন ১৬। পণ্য এবং পরিসেবা কর (GST) আমাদের দেশে কবে শুরু হইয়াছে।

 উত্তর : আমাদের দেশে ২০১৭ সালের ১ জুলাই হইতে পণ্য ও পরিসেবা কর (GST) শুরু করা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ১৭। সিজিএসটি (CGST) বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : রাজ্যের ভিতরে পণ্য ও পরিসেবার জোগানের জন্য কেন্দ্র আরোপ করা ‘কর’ই হচ্ছে কেন্দ্রীয় পণ্য এবং সেবা কর (CGST)।

প্রশ্ন ১৮। এসজিএসটি (SGST) অর্থ কি?

 উত্তর : রাজ্যের ভিতরে পণ্য ও পরিসেবা জোগানের জন্য রাজ্য সরকারে আরোপ করা ‘করই হচ্ছে রাজ্যিক পণ্য ও পরিসেবা কর (SGST)।

প্রশ্ন ১৯। জিএসটি (GST)র স্তর বা শ্রেণী কত প্রকারের। 

উত্তর : জিএসটি (GST)র স্তর বা শ্রেণী চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ২০। ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কবে শুরু হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৫১ সালের ১ এপ্রিলে। 

প্রশ্ন ২১। ১৯৫০-৫১ সাল হইতে ১৯৯০-৯১ সালের ভিতরে ভারতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন যও প্রাধান্য পাইয়াছিল ? 

উত্তর : সরকারি বা ব্যক্তিগত খণ্ড । 

প্রশ্ন ২২। ১৯৫০-৫১ ও ১৯৯০-৯১ সালের সময়কালে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার দ্বারা ভারতকে কি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করিতে চাওয়া হইয়াছিল ?

 উত্তর : সমাজবাদী রাষ্ট্রে।”

প্রশ্ন ২৩। বর্তমান ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কে কত বৈদেশিক বিনিময় মুদ্রা জমা আছে ?

 উত্তর : প্রায় ৩২৮.৭ বিলিয়ন ডলার। 

প্রশ্ন ২৪। ১৯৯১ সালে নতুন ঔদ্যোগিক নীতির ফলে কয়টি ব্যক্তিগত খণ্ডের উদ্যোগ ব্যক্তিগতকরণ করা হয় ? 

উত্তর : ৯ টি সরকারি বা ব্যক্তিগত খণ্ডের উদ্যোগ ব্যক্তিগত বা বেসরকারি খণ্ডে 

পরিবর্তন করা হয়। 

প্রশ্ন ২৫ । কি আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার ব্যবহারে গোলকীকরণ দ্রুত করিয়াছে?

 উত্তর : ইন্টারনেটের ব্যবহার।

প্রশ্ন ২৬। চলিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে অসমে উন্নয়নের হার কত বৃদ্ধি করিতে চেষ্টা করা হইয়াছে? 

উত্তর : ১০ শতাংশ। 

প্রশ্ন ২৭। চলিত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে অসমে কৃষির ক্ষেত্রে উন্নয়নের হার কত ধার্য করা হইয়াছে? 

উত্তর : ৬ থেকে ৮ শতাংশ।

 প্রশ্ন ২৮। অনুন্নত রাষ্ট্রের নিম্ন মূলধন গঠনের একটি কারণ নির্দেশ কর।।

 উত্তর। অনুন্নত রাষ্ট্রে প্রাকৃতিক সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার করিতে হয় না। 

প্রশ্ন ২৯। ভারতের ‘প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার’ সময়টি উল্লেখ কর। 

উত্তর। ১৯৫০ সনের ১ এপ্রিল থেকে ১৯৫৬ সনের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। 

প্রশ্ন ৩০। ভারতের দশম পঞ্চবার্ষিকী কত সনে আরম্ভ হইয়াছিল?

উত্তর। ২০০২ সনের ১লা এপ্রিল। 

প্রশ্ন ৩১। ভারতের দশম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কত সনে সমাপ্ত হইয়াছিল ? 

উত্তর। ২০০৭ সনের ৩১শে মার্চ। 

প্রশ্ন ৩২। ভারতের একাদশ পরিকল্পনার আরম্ভ কত সনে?

 উত্তর। ২০০৭ সনের ১লা এপ্রিল।

প্রশ্ন ৩৩। ভারতের কোন্ পরিকল্পনাতে দারিদ্র্য দূরীকরণের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হইয়াছিল? 

উত্তর। নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দারিদ্র্য দূরীকরণের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩৪। সরকারি খণ্ড বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর। সরকারি খণ্ড বলিতে সরকার কিছু সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংরক্ষিত করিয়া রাখে। সরকার এইগুলি নিজ তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করে। সরকারি খণ্ডে কিছু কিছ জিনিসের উৎপাদন ও বিতরণ রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্রশ্ন ৩৫। মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশসমূহকে কিভাবে ভাগ করা হইয়াছে?

 উত্তর। মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশসমূহকে নিম্ন আয়, মধ্যম আয় এবং উচ্চ আয় এই তিনটি ভাগে ভাগ করা হইয়াছে।

প্রশ্ন ৩৬। উন্নয়নশীল অর্থনীতির তিনটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কর। 

উত্তর। (ক) নিম্ন মাথাপিছু আয়, (খ) কৃষির উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা, (গ) দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। 

প্রশ্ন ৩৭। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কৃষি উৎপাদনের সহিত জড়িত দুইটি বেকার সমস্যার উল্লেখ কর। 

উত্তর। ঋতুগত বেকার এবং ছদ্মবেশী বেকার। 

প্রশ্ন ৩৮। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার যে কোন তিনটি লক্ষ্যের উল্লেখ কর। 

উত্তর। (ক) উন্নয়নের বাধা দূরীকরণ, (খ) প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার (গ) কৃষিখণ্ডের উন্নয়ন। 

প্রশ্ন ৩৯। অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে কোন দুইটি বাধার উল্লেখ কর। 

উত্তর। (ক) নিম্ন মাথাপিছু আয়, (খ) দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। 

প্রশ্ন ৪০। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনসমূহ কি কি? 

উত্তর। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান এবং তৎসহ শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয় জল ইত্যাদি।। 

প্রশ্ন ৪১। GST কোনো ধরনের কর চালু (আরোপ না করা সামগ্রীসমূহর নাম লিখ ? 

উত্তর : কোনো ধরনের কর চালু না করা সামগ্রীসমূহের নাম হইল— চাল, গম, মাছ, ডিম, দুধ, দৈ, প্রাকৃতিক মধু, পাট, ফল-মূল ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৪২। জিএসটি (GST) চালু করা কিছু প্রকার দ্রব্যের নাম লিখ। 

উত্তৰ : জিএসটি (GST) চালু (আরোপ) করা কিছু প্রকার দ্রব্যের নাম হইল— ঔষর, চা, কফি, মাংস, বিস্কুট, পানমশলা, সাবান, এটিএম, মোটর সাইকেল, রং কাগজ ইত্যাদি। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর কর। 

প্রশ্ন ১। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কাকে বলে? এর দুটি প্রধান প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর।

উত্তর : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হইতে একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা দেশের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং দিক দর্শনই হইল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।

ইহার কয়েকটি প্রধান প্রয়োজন হইল– (ক) অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার ক্ষিপ্রতর করা। । আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূর করা। (গ) দরিদ্রতা নির্মূল করা। (ঘ) নিয়োগের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ২। অর্থনৈতিক বিকাশ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুইটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) অর্থনৈতিক বিকাশ বলিতে দেশটির জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হওয়া বুঝায়। কিন্তু জাতীয় আয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক বিকাশ হইলেও ইহার সম-বিতরণ না হইলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

(খ) জাতীয় আয় বৃদ্ধির মূলে যদি বিলাসের সামগ্রী অথবা নেশাযুক্ত সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি জড়িত হইয়া থাকে ও নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী বৃদ্ধি হওয়ার জন্য এই বিকাশ না হয় তাহা হইলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

প্রশ্ন ৩। মানব উন্নয়ন সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।

উত্তর : প্রতিটি দেশের উন্নয়নের সামগ্রিক ছবিটি মানব উন্নয়ন সূচাঙ্কে দেখানো হয়। মানব উন্নয়নের চারটি স্তর আছে। এই চারটি স্তর হইল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তিতে মানুষের উন্নত জীবন-যাপনের জন্য প্রত্যাশিত আয়ু, শিক্ষা এবং জনপ্রতি গড় আয় এই তিনটি সূচকের সম্মিলিত পরিসংখ্যাই মানব উন্নয়নের সূচাঙ্ক। মানব উন্নয়নে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়ুর উন্নত অবস্থাকে বুঝানোর সঙ্গে উন্নত জীবন-যাপন করাকেই বুঝায়। 

প্রশ্ন ৪। মানব উন্নয়নের তিনটি সূচক কী কী ?

উত্তর : মানব উন্নয়নের তিনটি সূচক হইল—(ক) প্রত্যাশিক আয়ু (খ) শিক্ষা ও (গ) জীবন-যাত্রার মান। যেমন—উন্নত দেশে মানুষের আয়ু বেশি ও অনুন্নত দেশে এই আয়ু কম। কারণ উন্নত দেশে শিক্ষা ও খাদ্য তথা স্বাস্থ্য-সেবা ব্যবস্থা বেশি উন্নত হওয়ার জন্য মানুষের জীবন-নির্বাহের মান উন্নত হওয়া দেখা যায়। 

প্রশ্ন ৫। ভারতবর্ষের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তিনটি মূল লক্ষ্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : ভারতবর্ষের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তিনটি মূল লক্ষ্য হইল— (ক) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার ক্ষিপ্ত করিয়া তোলা, (খ) আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগের উপরে গুরুত্ব প্রদান করা ও (গ) দেশের জনসাধারণের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করিয়া সকলকে স্বাবলম্বী করিয়া তোলা। 

প্রশ্ন ৬। NITI আয়োগ কি? [HSLC 2020] NITI আয়োগের সদস্যসকল কে কে?

উত্তর : ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারিতে পূর্বের পরিকল্পনা আয়োগের জায়গাতে NITI আয়োগ গঠিত হয়। এই আয়োগের অধ্যক্ষ হইল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে। আয়োগের অন্যান্য সদস্য হইল একজন উপাধ্যক্ষ, রাজ্যসমূহের মুখ্যমন্ত্রীসকল, কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলসমূহের উপ-রাজ্যপালসকল, ৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্য কাৰ্যবাহী বিষয়া বিশেষজ্ঞসকল। 

প্রশ্ন ৭। ঋতুগত বেকার কি?

উত্তর। যে সকল লোক কোন একটি নির্দিষ্ট সময় বা ঋতুতে ইচ্ছা বা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাজ করিবার সুবিধা না পাইয়া বেকার অবস্থায় থাকে, সেই সমস্ত লোকেদের ঋতুগত বেকার বলা হয়। কৃষিখণ্ডে, চা-শিল্পে, চিনি শিল্পে বৎসরের কিছু কিছু সময় কিছু সংখ্যক লোক বেকার হইয়া থাকে। ইহারা ঋতুগত বেকার।

প্রশ্ন ৮। বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে সরকারের ভূমিকা কি ধরনের? 

উত্তর। বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে সরকারের প্রত্যক্ষ এবং সক্রিয় অংশ গ্রহণ অপরিহার্য এবং অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। বাজার মূল্য সর্বদা স্থির থাকে না। এই ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। সরকার অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করিয়া বাজার মূল্যকে স্থির রাখিতে পারে। সরকার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করিয়া উৎপাদন ও বিক্রেতা উভয়কেই অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করিয়া থাকে। 

প্রশ্ন ৯। বাজার অর্থনীতি কি?

 উত্তর। বাজার সম্পর্কীয় সকলপ্রকার আলোচনা করাই হইল বাজার অর্থনীতি। ক্রেতা- বিক্রেতা, লেন-দেন, মূল্যমানের গতি-প্রকৃতি ইত্যাদি নানা প্রকারের বিষয় সন্নিবেশিত থাকে। বাজার অর্থনীতিতে সরকারি খণ্ড এবং বেসরকারি খণ্ড উভয়েই অংশগ্রহণ করে। 

প্রশ্ন ১০। দারিদ্র্য চক্রের মূল কারণ কি?

উত্তর। অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, অতিনিম্ন আয় ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দরিদ্রতার প্রধান কারণ। কৃষির উপর নির্ভর করিয়া থাকা এই দেশগুলির জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ কম হইবার জন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় না। ফলে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ দরিদ্রতার এক ভয়াবহ চক্রে আবর্তিত হইয়া থাকে। দারিদ্র্য চক্রের মূল কারণ মূলধন বিনিয়োগের অভাব। 

প্রশ্ন ১১। মিশ্র অর্থনীতি কি? 

উত্তর। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমগ্র উৎপাদন ব্যবস্থার জাতীয়করণ করিতে পারে না। কিছু সংখ্যক উৎপাদন সরকারের হাতে থাকে এবং অবশিষ্ট অংশ ব্যক্তিগত খণ্ডে ছাড়িয়া দেওয়া হয়। এই ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মিশ্র অর্থনীতি বলে। মিশ্র অর্থনীতত্বে সরকারি খণ্ড এবং ব্যক্তিগত যত পরস্পর অবস্থান করে।

প্রশ্ন ১২। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র বলিতে কি বুঝ?

উত্তর। যে সকল অনুন্নত দেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টায় কিছু সংখ্যক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে, সেইগুলিকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের মাথাপিছু আয় অতি নিম্নমানের, মূলধন গঠন মন্থর, কৃষি ব্যবস্থা নিম্ন উৎপাদনশীল ও পরম্পরাগত, উদ্যোগ খণ্ড অনগ্রসর, চেনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক এবং জীবনধারণের মান নিম্ন। 

প্রশ্ন ১৩। ভারতের আর্থিক পরিকল্পনার প্রধান বিফলতাগুলি কি? 

উত্তর ভারতের আর্থিক পরিকল্পনার প্রধান বিফলতাগুলি হইল : (ক) বেকার সমস্যা বৃদ্ধি, (খ) আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি, (গ) কৃষিখণ্ডের সামগ্রিক অব উন্নয়ন, (খ) গ্রাম্য জনসাধারণের মৌলিক সহায়-সুবিধার অভাব। 

প্রশ্ন ১৪। ভারতের নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কখন আরম্ভ হইয়া কখন শেষ হইয়াছে?

 উত্তর। ভারতের নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ১৯৯৭ সালের ১লা এপ্রিল হইতে আরম্ভ হইয়া ২০০২ সালের ৩১শে মার্চ সমাপ্ত হইয়াছে।

 প্রশ্ন ১৫ মর সীমারেখা কি? 

উত্তর। আমাদের দেশের দারিদ্র্যতার সমস্যার দৈনদিন ভোগের পরিমাণ সম্পর্কীয় সরকারিভাবে নির্ধারিত সীমারেখাই হইল দারিদ্র্য সীমারেখা। সেই রেখার নীচে বাস করা লোকদের দারিদ্র্য সীমারেখার নীচে বলিয়া সনাক্ত করা হয়। 

প্রশ্ন ১৬। উন্নত ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দুইটি পার্থক্য লিখ। 

উত্তর। (১) উন্নত অর্থনীতিসমূহের মাথাপিছু প্রকৃত আয় উচ্চমানের, উন্নয়নশীল অর্থনীতিসমূহের মাথাপিছু প্রকৃত আয় অতি নিম্নমানের। (২) উন্নত অর্থনীতি মূলধন সমৃদ্ধ, উন্নয়নশীল অর্থনীতি মূলধনের ক্ষেত্রে দুর্বল। 

প্রশ্ন ১৭। উন্নয়নের মূল আন্তঃগাঁথনিসমূহ উল্লেখ কর। 

উত্তর। উন্নয়নের মূল আন্তঃগাঁথনিসমূহ হইল – উদ্যোগ স্থাপন, উৎপাদনক্ষম কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের উদ্ঘাটন ও উন্নত ব্যবহার, রাস্তাঘাট পুল নির্মাণ, বাজার ব্যবস্থার বিস্তার, বিদ্যুৎ শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও কাশ্মিরী শিক্ষার বিস্তার, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ, ব্যাঙ্ক ইত্যাদি বিত্তীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তার, মানুষের বস্তুগত ও গুণগত ভোগের মান বৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১৮। বেকার ও অর্ধবেকারের পার্থক্য নির্ণয় কর। 

উত্তর। দেশের যে সকল লোকের কাজ করিবার ইচ্ছা এবং ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিম্নতম প্রচলিত মজুরির হারে বা তাহার সমান আয় উপার্জন করিতে কাজ পায় না সেই সকল লোকেদের বেকার বলা হয়। 

কম উন্নত দেশে কৃষি, হস্তশিল্প, খুচরা ব্যবসায় ইত্যাদিতে প্রয়োজনাতিরিক্ত শ্রমিক । কাজ করিয়া থাকে। বিশেষত গ্রাম অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অপর কোন সুযোগ না থাকায় পরিবারের সকল মানুষ নিজের কৃষি জমিকেই অবলম্বন করিয়া কৃষিকার্যে যোগদান করে। কিন্তু পরিবারের সকল মানুষ কৃষিকার্যে যোগদান করিলেও উৎপাদনের হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না। এই অবস্থায় পরিবারের অতিরিক্ত শ্রমিকের অতিরিক্ত উৎপাদনের পরিমাণ শূন্যের সমান। এই অতিরিক্ত শ্রমিক হইল অর্ধবেকার। 

প্রশ্ন ১৯। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কি? ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় উল্লেখ কর। 

উত্তর। রাষ্ট্রের দ্বারা নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করিয়া জীবন-ধারণের মান উন্নয়নের জন্য যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয় তাহাকেই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বলা হয়।

ভারতের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় হইল— ১৯৫১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১৯৫৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

 প্রশ্ন ২০। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে মানব সম্পদের অপচয়ের উপর সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ। 

উত্তর। উন্নয়নশীল জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ অশিক্ষিত। উপযুক্ত শিক্ষা, দক্ষতা ও কারিগরী প্রশিক্ষণের অভাবে মানব সম্পদের বিকাশ এবং উৎপাদনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। কর্মসংস্থানের সুবিধা না থাকায় মানব সম্পদের অপচয় ঘটে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই অপচয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাইতে থাকে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অনুন্নত কৃষি, উদ্যোগ ও সেবাখণ্ড জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে মানব সম্পদের ব্যবহার বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করিতে পারে না। এইজন্য মানব সম্পদের অপচয় ঘটে।

 প্রশ্ন ২১। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে জনসংখ্যা নীতি কি হওয়া উচিত সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর। অত্যধিক জনসংখ্যা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের এক গভীর সমস্যা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য এক সুস্পষ্ট জনসংখ্যা নীতি প্রবর্তন করিতে হইবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দ্বারা মানব সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার, ক্ষিপ্র গতিতে বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার সম্প্রসারণ, স্ত্রী শিক্ষার বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্য সেবার উন্নতির উপর পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। 

প্রশ্ন ২২। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে মানব শক্তি পরিকল্পনার গুরুত্ব কি?

উত্তর। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানব সম্পদের অপচয়া একটি গভীর সমস্যা। সুপরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া, উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদের বিকাশ সাধন করিয়া বিভিন্ন প্রকল্প ও উৎপাদন কার্যে এই সম্পদের প্রয়োগ করিয়া অপচয় রোধ করা যায়। একমাত্র পরিকল্পনার মাধ্যমে মানব সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব।

 প্রশ্ন ২৩। সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা বলিতে কি বুঝ ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর। সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান উদ্দেশ্য। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য দেখিতে পাওয়া যায়। সামাজিক শোষণ সমাজ জীবনের মূল ভিত্তি দুর্বল করিয়া দেয়। গণতান্ত্রিক সরকারের মানুষের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারসমূহের সংরক্ষণ করা ছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধনের উপরেও যত্ন নেওয়া উচিত। সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আয়ের বৈষম্যতা দূর করা, সমাজের দুর্বল এবং অনগ্রসর শ্রেণীর জীবন নির্বাহের মানদণ্ড উন্নত করা, ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে থাকা আয়ের বৈষম্য হ্রাস করিয়া উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করিতে পারে।

 প্রশ্ন ২৪। ভারতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার যে কোন তিনটি লক্ষ্য উল্লেখ কর।

 উত্তর। (১) সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার, (২) অর্থব্যবস্থার গঠনগত পরিবর্তন ঘটানো, (৩) জনসাধারণের মৌলিক প্রয়োজন পূর্ণ করা। 

প্রশ্ন ২৫। ভারতবর্ষে সরকারি খণ্ডের যে কোন তিনটি সুবিধা লিখ। 

উত্তর। (১) বৃহৎ উদ্যোগ স্থাপন, (২) শিক্ষার বিস্তার, (৩) সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি।

 প্রশ্ন ২৬। ভারতবর্ষে ১৯৯১ সনের উদারীকরণ নীতির দুইটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কর। 

উত্তর। (ক) ব্যক্তিগত খণ্ডে উদ্যোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ঔদ্যোগিক অনুজ্ঞাপত্ৰ প্ৰদান ব্যবস্থার বিলুপ্তি সাধন করা, (খ) বৈদেশিক মূলধন ও প্রযুক্তির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা- নিষেধ শিথিল করা। 

প্রশ্ন ২৭। ভারতবর্ষের দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যে কোন চারটি উদ্দেশ্য লিখ।

 উত্তর। (ক) বার্ষিক ৮ শতাংশ মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা। (খ) দরিদ্রতার অনুপাত ২০০৭ সনের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং ২০১২ সনের মধ্যে ১৫ শতাংশতে হ্রাস করা। (গ) জনসংখ্যা বৃদ্ধির উপর লক্ষ্য রাখিয়া লাভজনক ও উচ্চমানের কর্মসংস্থানের উপায় সৃষ্টি করা। (ঘ) স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে থাকা পঞ্চবার্ষিক পার্থক্য কমপক্ষেও ৫০ শতাংশ হ্রাস করা। 

প্রশ্ন ২৮। ভারতবর্ষের একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যে কোন তিনটি উদ্দেশ্য লিখ।

 উত্তর। (ক) অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বার্ষিক ৮ শতাংশ হইতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা।

(খ) কৃষিখণ্ডের উন্নতি বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা। 

(গ) অতিরিক্ত ৭ কোটি লোকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন ২৯। অসমের দশম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যে কোন চারটি উদ্দেশ্য লিখ।

উত্তর: (ক) দ্রুত মূলধন গঠন ও অর্থনৈতিক আন্তঃগাথনির উন্নয়ন।

(খ) জীবনের গুণগত মান উন্নয়ন। 

(গ) মানব সম্পদ উন্নয়ন (শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচালনা) ।

(ঘ) ঔদ্যোগিক উন্নয়ন (তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং ব্যবসায়, হস্ততাঁত ও হস্ত শিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং বনভিত্তিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব)। 

প্রশ্ন ৩০। অসমের একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার যে কোন তিনটি উদ্দেশ্য লিখ।

উত্তর। (ক) অর্থনৈতিক উন্নতির হার পরিকল্পনার শেষে ৮ ৫ শতাংশতে বৃদ্ধি করা। 

(খ) কৃষিখণ্ডের উন্নয়ন বৎসরে ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা। 

(গ) পরিবহন, যোগাযোগ, শক্তি ও উদ্যোগের সম্পদ আহরণ ও উন্নতমানের প্রযুক্তিবিদ্যা ব্যবহারের জন্য সেরকারি খণ্ডকে গ্রহণের স্বীকৃতি দেওয়া। 

প্রশ্ন ৩১। অসমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের তিনটি সমস্যা উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) অসমের অর্থনীতি মূলতঃ কৃষির উপর নির্ভরশীল, কিন্তু রাজ্যটিতে এখনও কৃষি খণ্ডের বিশেষ উন্নতি হয় নাই। (খ) অসমে শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিল্পের প্রক্রিয়া এখনও মন্থর হইয়া আছে। (গ) উপযুক্ত ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত হয় নাই। 

প্রশ্ন ৩২। উন্নয়নশীল দেশসমূহের দুইটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

 উত্তর। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনুন্নত অর্থনীতির প্রায় বৈশিষ্ট্যগুলিই দেখা যায়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনুন্নত অর্থনীতিতে থাকার মত প্রকৃত মাথাপিছু আয় কম, মূলধনের অভাব, কৃষির প্রাধান্য, শিল্পের ক্ষেত্রে অনুন্নত, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনগ্রসর উৎপাদন পদ্ধতি পরম্পরাগত ভোগ এবং জীবনধারণের মানদণ্ড নিম্নস্তরের। 

কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে অনুন্নত অর্থনীতির এই অসুবিধাগুলির দূরীকরণের জন্য সরকারি এবং ব্যক্তিগত উভয় ক্ষেত্রে এর নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। বৈদেশিক ঋণ এবং সাহায্যের দ্বারা ও প্রাকৃতিক সম্পদসমূহকে আহরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। 

প্রশ্ন ৩৩। একাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কালে অসমে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছিল ?

 উত্তর। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বিশুদ্ধ পানীয় জল যোগান, পুষ্টিকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অধিক নিয়োগের ব্যবস্থা করিয়া মানব উন্নয়নের মান বৃদ্ধি করা হইয়াছিল। মানব সম্পদের প্রয়নের জন্য যুবক-যুবতীদের যোগ্যতার স্তর উন্নত করা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৩৪। আর্থিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা কি সংক্ষেপে লিখ।

 উত্তর। একটি দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে বিস্তৃত আকারে পরিকল্পনা করার প্রয়োজন হয়। ভারতের মতো কম উন্নত দেশে নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য আর্থিক পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।

 (ক) আর্থিক উন্নয়নের বাধাগুলি দূর করা, 

(খ) আর্থিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মোলিক সহায়-সহযোগিতা বা আন্তঃগঠন প্রতিষ্ঠা করা, (গ) সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার করা, 

(ঘ) অর্থব্যবস্থার গঠনগত পরিবর্তন সাধন,

(ঙ) জনসাধারণের মৌলিক প্রয়োজনসমূহ পূরণ করা, (চ) মানব সম্পদ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধন করা। 

প্রশ্ন ৩৫। ভারতের আর্থিক পরিকল্পনার প্রধান সফলতাসমূহ উল্লেখ কর। 

উত্তর। ভারতের আর্থিক পরিকল্পনার প্রধান সফলতাগুলি হইল : 

(ক) স্থবিরতার পরিবর্তে কিছু উন্নয়ন। (খ) কিছু আধুনিকীকরণ। (গ) আর্থিক ব্যবস্থার কিছু কিছু পরিবর্তন। (ঘ) কিছু আত্মনির্ভরশীলতা। (ঙ) আন্তঃগাঁথনির কিছু উন্নতি। (চ) কৃষি এবং শিল্পের উন্নয়ন। (ছ) দারিদ্রতা হ্রাস। 

পরিকল্পনার সময় আর্থিক এবং সামাজিক স্থবিরতা কিছু পরিমাণে দূর হইয়াছে। রাষ্ট্রীয় আয় এবং মাথাপিছু আয় ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইয়াছে। পরিকল্পনার সময় রপ্তানি বৃদ্ধি, কৃষির উন্নতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, যাতায়াত, পরিবহন, বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিদ্যা আধুনিকীকরণে সহায় করিয়াছে। কৃষি এবং শিল্পের উন্নতিতে নুতন দিকের সঞ্চার করিয়াছে। আন্তঃগাঁথনির অন্তর্ভুক্ত পথ, রেল, বিমান, জলপথ ইত্যাদির যাতায়াত ব্যবস্থায় উন্নতি হইয়াছে । 

প্রশ্ন ৩৬। সমষ্টিগত পছন্দের বিস্তার সাধন হইয়াছে বলিতে কি বোঝায় ? 

উত্তর : মানব উন্নয়ন দেশের জনসাধারণের সমষ্টিগত বা সামূহিক পছন্দের বিস্তার সাধন হওয়া বোঝায়। বিভিন্ন ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ ও ভাল-খারাপের উপরে ভিত্তি করিয়া সমষ্টিগত বা সামুহিক পছন্দ নির্ণয় করা হয়। মানব উন্নয়নের মধ্যবিন্দু হইল জনসাধারণ। তাই মানব উন্নয়ন হইতে হইলে জনসাধারণের সামুহিক পছন্দের বিস্তার সাধন হইতে হইবে। এই সমষ্টিগত পছন্দ জনসাধারণের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পছন্দকে ঢুকাইয়া লইয়াছে। 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ৩৭। কোন সংস্থা পৃথিবীর মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে? মানব উন্নয়ন সূচকাংক গণনাত কোনগুলো সূচক ব্যবহার করা হয় ?

উত্তর : ১৯৯০ সনে প্রথম মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্র সংঘের উন্নয়ন কার্যসূচী (United Nations Development programme) বা (UNDP) ই মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রতি বছরে প্রকাশ করে। 

মানব উন্নয়ন সুচাঙ্ক গণনায় (i) প্রত্যাশিত আয়ু, (ii) শিক্ষা এবং, (iii) জীবন যাত্রার মান ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন ৩৮। গণতান্ত্রিক পরিকল্পনার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : যে পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে জনসাধারণের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হয় সেই ধরনের পরিকল্পনাই হইল গণতান্ত্রিক পরিকল্পনা। ইহার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হইল— 

(ক) এই পরিকল্পনাতে সিদ্ধান্তসমূহ অন্যের উপর চাপাইয়া দেওয়া হয় না।

 (খ) এই পরিকল্পনা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের সঙ্গে জড়িত, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসক (যেমন— পঞ্চায়ত এবং নগরপালিকা) এই তিনিটি স্তরই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ এবং পরিকল্পনাসমূহ সনাক্ত করা হয়। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ভারতবর্ষের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম পর্ব (১৯৫১-১৯৯১) ও দ্বিতীয় পর্ব (১৯৯১র বর্তমান পর্যন্ত)র মধ্যে থাকা একটি মূল পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর ঃ ভারতবর্ষের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম পর্ব (১৯৫১-১৯৯১) ও দ্বিতীয় পর্ব (১৯৯১ বর্তমান)-এর মধ্যে থাকা একটি মূল পার্থক্য হইল এই যে প্রথম পর্বে ভারতর মিশ্র অর্থনীতির অংশ হিসাবে সরকারি বা সার্বজনীন খণ্ডের বিশেষ ভূমিকা ছিল। ও ইহার বিপরীতে ব্যক্তিগত বা বেসরকারি খণ্ডের ভূমিকা ছিল নগণ্য। এই সময়কালে ভারতে সমাজবাদ প্রতিষ্ঠা করিতে সরকার বিশেষ উদ্যম লইয়াছিল ও সেইজন্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করিতে সরকারি বা সার্বজনীন খণ্ডকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়া দেশের অর্থনীতি স্বাবলম্বী করার সঙ্গে দেশবাসীকে স্বাবলম্বীরূপে গড়িয়া তোলায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করিয়াছিল।

 ইহার বিপরীতে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্বে প্রথম পর্বের বিপরীত ছবি একটি দেখিতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় পর্বে সরকারি বা সার্বজনীন খণ্ডের প্রাধান্য কমাইয়া ব্যক্তিগত বা বেসরকারি খণ্ডকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছিল। এই পর্বের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হইল অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও গোলকীকরণ বা বিশ্বায়ন, যেটা প্রথম পর্বে আরম্ভ হয় নাই। 

প্রশ্ন ২। ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রবর্তনের তিনটি মূল কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : ১৯৯০-৯১ সালে ভারতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিল বিশেষ করিয়া মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দুর্বল অবস্থার জন্য। তাই প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও ও বিত্তমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিঙের নেতৃত্বে সর্বপ্রথমবারের জন্য ভারতীয় অর্থনীতির সংস্কার সাধন করা হয়। এইক্ষেত্রে বিশ্ব বেঙ্কও বিশেষ পরামর্শ প্রদান করে। ভারতীয় অর্থনীতির খারাপ অবস্থার মূলে তিনটি কারণ জড়িত ছিল।

(ক) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির হার হইতে সরকারি আয় বৃদ্ধি কম হওয়ার জন্য বৃহৎ বিত্তীয় ঘাটি দেখা দিয়াছিল। সার্বজনীন খণ্ডের উদ্যোগে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করিলেও তাহা হইতে লাভ না হইয়া লোকসানহে হইয়াছিল। 

(খ) উৎপাদন কমিয়া যাওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতির জন্য সামগ্রীর অবাধ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ জনতা ও দুর্বল শ্রেণির লোককে দুর্বল করিয়াছিল।

(গ) ১৯৯০-৯১ সালে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের শোকাবহ অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছিল। ভারতীয় অর্থনীতিতে বিদেশী মূলধন কমিয়া গিয়াছিল।

 এইসব কারণে ভারতের অর্থনীতির সংস্কার সাধন করিতে উদারীকরণ, ব্যক্তিগতকরণ ও গোলকীকরণ অথবা বিশ্বায়নের মত অর্থনৈতিক কার্যসূচী হাতে লইয়া নরসিংহ সরকার। ভারতীয় অর্থনীতি আবার স্বাবলম্বী করিল। 

প্রশ্ন ৩। ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে উদারীকরণ, ব্যক্তিগতকরণ (বেসরকারিকরণ) এবং বিশ্বায়ন কিভাবে প্রভাব ফেলিয়াছে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে উদারীকরণ, ব্যক্তিগতকরণ এবং বিশ্বায়ন যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করিয়াছে। উদারীকরণের দ্বারা ভারতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধি পাইয়াছে। ব্যবসায়িক ব্যাঙ্ক, বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক, শেয়ার বাজার এবং বৈদেশিক বিনিময়যোগ্য মুদ্রার বাজারের সমষ্টিই হইল বিত্তীয় খণ্ড। উদারীকরণ নীতি এই বিত্তীয় খণ্ডকে সম্প্রসারিত করিয়াছে। ইহার ফলে ভারতীয় ব্যাঙ্ক খণ্ডে বৈদেশিক ব্যাঙ্কের আগমন ঘটিয়াছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরকারিখও সরকারি অনুদানের পরিমাণ কমিয়া যায়। তাহা ছাড়া বৈদেশিক বিনিময়যোগ্য মুদ্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 

ব্যক্তিগতকরণের ফলে ১৯৯১ সালে সরকারি খণ্ডের ১টি উদ্যোগ ব্যক্তিগত খণ্ডের জন্য মুক্ত করিয়া দেওয়া হয়। ব্যাঙ্ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কারণের প্রভাব লক্ষ্যণীয়। নিবিনিয়োজন ব্যক্তিগতকরণের ফলস্বরূপ। ইহাতে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত টাকা সরকার বিনিয়োগ করে না। ব্যক্তিগত খণ্ড হইতেও বিনিয়োগ করা হয়।

বিশ্বায়নের ফলে এক দেশ হইতে অন্য দেশের দূরত্ব কমিয়া গিয়াছে। বিশ্বের মানুষ সীমান্তহীন বিশ্বের দিকে ধাবিত হইতেছে এবং বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ মানুষের মধ্যে আসিয়াছে। প্রযুক্তি বিদ্যার (বিশেষ করিয়া ইন্টারনেট সেবা) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার দিন দিন উন্নত হইতেছে। দেশে দেশে প্রতিযোগিতার একটি বাতাবরণ সৃষ্টি হইয়াছে। বিশ্বায়ন শুধু আর্থিক অবস্থাকে সুদৃঢ় করেনা, দেশের সংস্কৃতি এবং ভাষা সাহিত্যের উন্নতিও সাধন করে।

প্রশ্ন ৪। অর্থনৈতিক সংস্কারের তিনটি সুফল উল্লেখ কর। 

উত্তর : ১৯৯১ সালের ভারতের অর্থনৈতিক দুর্যোগের পর বিশ্ব ব্যাঙ্কের পরামর্শমতে প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও ও বিত্তমন্ত্রী ডাঃ মনমোহন সিঙের নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা হইল তার সুফলকয়টি নীচে উল্লেখ করা হইল।

(ক) অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধি পাইয়াছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল পরের পর্বে ধীরে ধীরে দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল। ২০০৬-০৭ সালে বার্ষিক উন্নয়নের হার ১.৭ শতাংশ ছিল যে উন্নয়নের হার পূর্বের তুলনায় যথেষ্ট উচ্চ হার বলিয়া পরিগণিত হইয়াছে।

 (খ) পাইকারী মূল্যসূচী পূর্বের তুলনায় যথেষ্ট হ্রাস পাইয়াছে। 

(গ) ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা হওয়া বৈদেশিক বিনিময়যোগ্য মুদ্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহা ভারতের শেষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাস্তব ছবিটি প্রতিফলিত করা দেখা যায়।

প্রশ্ন ৫। অর্থনৈতিক সংস্কার প্রবর্তনের ফলে সৃষ্টি হওয়া দুইটি অসুবিধা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : অর্থনৈতিক সংস্কার প্রবর্তনের ফলে সৃষ্টি হওয়া অসুবিধাগুলি হইল নিম্নরূপ— 

(ক) সংস্কারের ফলে উদারীকরণ, গোলকীকরণ ও  নীতির ফলশ্রুতিতে বাজারের অর্থনীতিতে মুক্ত প্রতিযোগিতার প্রসার ও তীব্রতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করিল।

 (খ) মুক্ত প্রতিযোগিতার প্রসারণ বাজারে পণ্য সামগ্রীর দ্বারা ভর্তি করিয়া জনসাধারণকে ভোগবাদী করিয়া তুলিল। 

(গ) গোলকীকরণের ফলে কিছু দেশ নিজের পরিচয় হারাইয়া বিদেশী পণ্যের শিকার হইয়াছে। 

(ঘ) বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতি গরিব ও দুর্বল শ্রেণির লোককে ক্ষতিগ্রস্ত করিয়াছে। 

প্রশ্ন ৬। অসমের দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ছয়টি প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ কর। 

উত্তর ঃ অসমের চলিত দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যগুলি নীচে উল্লেখ করা হইল।

(ক) দেশের উন্নত রাজ্যগুলির সম-পর্যায়ে আসিতে আগামী দুই-তিনটি দশকের ভিতরে অসমের উন্নয়নের হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

(খ) দারিদ্র ও অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করার জন্য বিভিন্ন যোজনা গ্রহণ করা।

(গ) প্রযুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনার দ্বারা বন্যা ও ভূমিস্খলন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।

(ঘ) কৃষিখণ্ডের বার্ষিক উন্নয়নের হার ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। 

(ঙ) শক্তি উৎপাদনে আত্ম-নির্ভরশীলতা অর্জন করা ও বিজুলী পরিবহন ও বিতরণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যা প্রয়োগ করা।

(চ) অসমের মানব উন্নয়নের সূচাঙ্কের মান বৃদ্ধি করা ও তার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখণ্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করিতে পুঁজির যোগান ধরা। 

(ছ) দক্ষতা বৃদ্ধির যোজনার দ্বারা আত্ম-নিয়োগের রাস্তা মুক্ত করিতে কুটির শিল্পের উন্নয়ন করা। 

(জ) জৈব বৈচিত্র্য রক্ষা করিয়া জলবায়ুর পরিবর্তন রোধ করা। ভারতবর্ষের পরিকল্পনার সময়কালের তালিকা

পরিকল্পনাসময়কাল
প্রথম
দ্বিতীয় 
তৃতীয় 
তিনটি বার্ষিক পরিকল্পনা 
চতুর্থ 
পঞ্চম 
দুইটি বার্ষিক পরিকল্পনা 
ষষ্ঠ 
সপ্তম 
দুইটি বার্ষিক পরিকল্পনা
অষ্টম 
নবম
 দশম 
একাদশ 
দ্বাদশ
১ এপ্রিল, ১৯৫১ – ৩১ মার্চ, ১৯৫৬ 
১ এপ্রিল, ১৯৫৬ – ৩১ মার্চ, ১৯৬১
 ১এপ্রিল, ১৯৬১ ৩১ মার্চ, ১৯৬৬ 
১এপ্রিল, ১৯৬৬ – ৩১ মার্চ, ১৯৬৯
১ এপ্রিল, ১৯৬৯ ৩১ মার্চ, ১৯৭৪
১ এপ্রিল, ১৯৭৪ ৩১ মার্চ, ১৯৭৮
১ এপ্রিল, ১৯৭৮ – ৩১ মার্চ, ১৯৮০
১ এপ্রিল, ১৯৮০ – ৩১ মার্চ, ১৯৮৫
১ এপ্রিল, ১৯৮৫ – ৩১ মার্চ, ১৯৯০
১ এপ্রিল, ১৯৯০ ৩১ মার্চ, ১৯৯২ 
১ এপ্রিল, ১৯৯২ – ৩১ মার্চ, ১৯৯৭ 
১ এপ্রিল, ১৯৯৭ ৩১ মার্চ, ২০০২
১ এপ্রিল, ২০০২ – ৩১ মার্চ, ২০০৭ 
১ এপ্রিল, ২০০৭ ৩১ মার্চ, ২০১২ 
১ এপ্রিল, ২০১২ – ৩১ মার্চ, ২০১৭

আমাদের অধিকার আমাদের দায়িত্ব সমাজ বিজ্ঞান বিষয়টিতে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের (Internal Assessment) জন্য একটি নতুন অধ্যায় সংযোজন করিয়াছে। অধ্যায়টির নামাকরণ করা হইয়াছে ‘আমাদের অধিকার আমাদের দায়িত্ব’। ইহাতে পাঁচটি খণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে। প্রতিটি খণ্ডের আলোচনার উপর কিছু প্রশ্ন যুক্ত করা হইয়াছে এবং সেইগুলির উত্তর বা সমাধান সরলভাবে দেওয়া হইয়াছে। এই আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বিদ্যালয়ে করিয়া SEBA য় নির্দিষ্ট নম্বর তালিকায় পাঠাইতে হইবে এবং লাভ করা নম্বর ইহার জন্য থাকা ১০ নম্বরের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী যে নম্বর পাইবে, তাহা হাইস্কুল শিক্ষান্ত পরীক্ষায় পাওয়া মূল নম্বরের সঙ্গে যোগ করিয়া ফলাফল ঘোষণা করার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। ‘আমাদের অধিকার আমাদের দায়িত্ব’ পাঠটি ছাত্র-ছাত্রীরা ভালভাবে বুঝিয়া লইয়া কয়েকটি প্রশ্ন ব্যক্তিগতভাবে বা দলগতভাৱে করিয়া শ্রেণীতে পাঠদান করা শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর হাতে জমা দিতে হইবে। জমা দেওয়ার সময় বিদ্যালয় নির্দিষ্ট করিয়া দিবে এবং সেইভাবে ছাত্র-ছাত্রীগণ সময় মত প্রকল্পের খাতাটি সাজাইয়া নাম, রোল নম্বর লিখিয়া জমা করিবে। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী বা দলগতভাবে প্রস্তুত করা খাতাগুলি বিষয়টি পাঠদান করা শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী পরীক্ষা করিয়া নম্বর দিবে। প্রকল্পগুলি এইধরণের হইবে ছাত্র-ছাত্রীগণ ভারতের একটি নক্সা চিত্র অংকন করিয়া তাহার প্রতিটি রাজ্যের জন্য নির্ধারণ করিয়া রাখা লোকসভার আসনের সংখ্যা, রাজ্যসভার আসনের সংখ্যা এবং রাজ্যগুলির বিধানসভার আসনের সংখ্যা লিখিয়া একটি প্রকল্প তৈয়ার করিবে (নিজে সুন্দরভাবে বাঁধিয়া রাখিবে)। অপর একটি প্রকল্প – নিজের বিদ্যালয়ের অঞ্চলের ভিতরে আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে গড়িয়া তোলার জন্য কি কি ব্যবস্থা হাতে নিতে হইবে তাহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিয়া প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করিতে হইবে। যেমন অঞ্চলটির ভিতরে আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে গড়িয়া তুলিতে হইলে প্রথমে বিদ্যালয়টির চারিসীমা তথা আশে-পাশে থাকা স্থানসমূহ পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন করিয়া রাখিতে হইবে। দ্বিতীয়তে, বিদ্যালয়ে একটি ফুলের বাগান করিতে হইবে। তৃতীয়তে, নিজে পাঠ গ্রহণ করা শ্রেণীকোঠা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়া রাখিতে হইবে এবং ডেক্স-বেঞ্চগুলি সুন্দরভাবে সাজাইয়া রাখিতে হইবে। চতুর্থতে, বিদ্যালয়ে সকলে ব্যবহার করিতে পারে এমন বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে। পঞ্চমতে, বিদ্যালয়ে সময় মত উপস্থিত থাকার সঙ্গে নিয়মিত উপস্থিত বাঞ্ছনীয়, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মিলামিশা এবং  জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা-ধূলা, আকস্মিক বক্তৃতা, নাটক পরিবেশন, বৎসরের বিভিন্ন দিবস, যেমন – শিশু দিবস, গান্ধী জয়ন্তী, স্বাধীনতা দিবস, গণতন্ত্র দিবস, – শিল্পী দিবস, রবীন্দ্র জয়ন্তী ইত্যাদি আয়োজন করিয়া স্থানীয় শিক্ষাপ্রেমী ব্যক্তিদের ডাকিয়া আনিয়া দিবসগুলি পালন করিতে হইবে। বিদ্যালয়ে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের ব্যবস্থা করিতে হইবে – তবে ইহা প্রতি বৎসর প্রকাশ করিতে হইবে। ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষা লাভের জন্য একটি ছাত্র ঐক্য সভার ব্যবস্থা করিতে হইবে। ছাত্র ঐক্য সভাটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করিতে হইবে। অপর একটি প্রকল্পের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের দলগতভাবে শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর নেতৃত্বে প্ৰদূষিত অঞ্চলে লইয়া সেই প্রদূষণের কারণগুলি দেখাইয়া একটি বিবরণ প্রস্তুত করার জন্য বলিতে হইবে। সেইভাবে বিদ্যালয়ের আশে-পাশে কোথাও শিশু শ্রমিক আছে কিনা তাহা জরিপ করিয়া, তথ্যাদি যুক্ত করিতে হইবে। আর একটি প্রকল্পের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের স্থানীয় চিকিৎসালয়ে নিয়া চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয় করিয়া সেই অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব হওয়া রোগগুলির বিষয়ে জানিয়া তাহার একটি তালিকা প্রস্তুত করিতে হইবে এবং এই রোগের জন্য কি কি প্রতিষেধক নেওয়ার প্রয়োজন তাহারও একটি তালিকা প্রস্তুত করিয়া প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করিতে হইবে। অপর একটি প্রকল্পের জন্য পথ সুরক্ষার প্রতি সজাগতা আনিতে ছাত্র-ছাত্রীদের যদি সুবিধা থাকে তাহা হইলে বিদ্যালয়ের নিকটবর্তীতে যান-বাহন নিয়ন্ত্রণ করার একটি স্থানে গিয়া ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিতগুলি দেখাইয়া দেওয়ার পর সেই ইঙ্গিতগুলির তালিকা প্রস্তুত করিয়া প্রকল্পে যুক্ত করিতে হইবে। States of India No. of Members of Lok Sabha, Rajya Sabha & Legislative Assembly. (6) Goa, (7) Gujrat, (8) Hariyana, (9) Himachal Pradesh, (10) Jharkhand, (1) Andhra Pradesh, (2) Arunachal, (3) Assam, (4) Bihar, (5) Chhattisgarh, (11) Karnataka, (12) Kerala, (13) Madhya Pradesh, (14) Maharastra, (15) Manipur. (16) Meghalaya, (17) Mizoram (18) Nagaland, (19) Odhisha, (20) Punjab, (21) Rajasthan. (22) Sikkim, (23) Tamilnadu, (24) Telengana, ( 25 ) Tripura, (26) Uttar Pradesh (27) Uttarakhand, (28) West Bengal. Union Teritories of India 1. Andaman and Nichobar, (2) Chandigarh, (3) Dadra, Nagar Haveli, Daman and Diu, (4) Lakshadweep, (5) Delhi, ( 6 ) Puducharry, (7) Jammu and Kashmir and Ladakh. HM Sugg. সমাজ-X (B) – 10

চমু প্রশ্নোত্তৰ 

প্রশ্ন ১। (ক) রাষ্ট্রসংঘ কোন সনে শিশুর অধিকার আঁচনি (পরিকল্পনা) গ্রহণ করে ? 

উত্তর : ১৯৫৯ সনে রাষ্ট্রসংঘ শিশুর অধিকার আঁচনি গ্রহণ করে। 

(খ) ভারতবর্ষ ‘শিশুর জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি’ কোন সনে প্রবর্তন করে ?

 উত্তর ঃ শিশুর জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি ভারতবর্ষ ১৯৭৪ সনে প্রবর্তন করে। 

(গ) ‘শিশুর অধিকার আইন’ ভারতবর্ষ কোন সনের কত তারিখে গ্রহণ করে?

উত্তর : ‘শিশুর অধিকার আইন’ ভারতবর্ষ ১৯৯২ সনের ১১ ডিসেম্বর গ্রহণ করে। 

(ঘ) কন্যাদের (মেয়ে) বিবাহ দেওয়ার নিম্নতম বয়স কত?

 উত্তর : কন্যাদের (মেয়ে) বিবাহ দেওয়ার নিম্নতম বয়স ১৮ বৎসর। 

(ঙ) কোন রাষ্ট্রকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক গণরাজ্য বলা হয়? 

উত্তর : বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক গণরাজ্য হইল ভারতবর্ষ।

(চ) অভিভাবক এবং নাগরিকের প্রাথমিক দায়িত্ব কি কি? 

উত্তর ঃ শিশুর শারীরিক, মানসিক এবং বৌদ্ধিক পরিপুষ্টি এবং বিকাশের জন্য চেষ্টা করা অভিভাবক এবং নাগরিকের প্রাথমিক দায়িত্ব। 

(ছ) ‘এইচ আই ভি ভাইরাস’ একজন মানুষের দেহ হইতে অপর একজন মানুষের দেহে কি ভাবে যাইতে পারে ?

উত্তর : এইচ আই ভি পজেটিভ ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ, এই ধরণের ব্যক্তির ব্যবহার করা সিরিঞ্জ, সূচ ব্যবহার করা, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক ইত্যাদির দ্বারা একজন লোক হইতে অন্য একজনের দেহে এইচ আই ভি ভাইরাস যাইতে পারে। 

(জ) ১৮ বৎসরের নিচে লোককে কোন সনের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে তামাক জাতীয় সামগ্রীর বিক্রী নিষিদ্ধ করা হইয়াছে? 

উত্তর : ২০০৩ সনের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬নং ধারা মতে ১৮ বৎসরের নিজে লোকের কাছে তামাক জাতীয় সামগ্রী বিক্রী করা নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। 

(ঝ) আন্তর্জাতিক যোগ দিবস কোন তারিখে পালন করা হয়?

 উত্তর : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস প্রত্যেক বছরের ২১ জুনে পালন 

(ঞ) কোন কোন জনবহুল স্থানে ধূমপান করা নিষিদ্ধ ? করা হয়।

উত্তরঃ সরকারী পেক্ষাগৃহ, বিশ্রামাগার, বিনোদন কেন্দ্র, চিকিৎসালয়, রেলওয়ে প্লেটফর্ম, রেষ্টুরেন্ট, সভাগৃহ, সরকারী কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, রেল আস্থান, বাস আস্থান ইত্যাদি স্থানে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। 

(ট) নগর-মহানগরে করিম বন্যা হওয়ার কারণ কি?

 উত্তর : প্রান্তিক এবং অন্যান্য আবর্জনা নলা-নর্দমা বন্ধ করে। ফলে জলে নির্গমনে বাঁধ জন্মে। ইহার ফলে বৃষ্টির জল নলা-নর্দমা দিয়া যাইতে পারে না বলিয়া নিকটবর্তী স্থানে বিস্তারিত হইয়া কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে।

 (ঠ) তামাক সেবনের দুইটি অপকারিতা উল্লেখ কর। 

উত্তর ঃ তামাক সেবনের দুইটি অপকারিতা হইল। –

(১) তামাক সেবনে রক্তচাপ বৃদ্ধি গ্রহণে কষ্ট হয়। করে এবং রক্ত চলাচলে বাধা জন্মায়; 

(২) তামাক সেবনে কেন্সার হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস 

(ড) বায়ুতে কি কি মিশ্রিত হইয়া থাকে?

 উত্তর ঃ বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্ৰ’জেন, অক্সিজেন ইত্যাদি গ্যাস, কল-কারখানার ধোঁয়া, গাড়ী মোটরের ধোঁয়া, জলীয় বাষ্প, ধূলা ইত্যাদি মিশ্রিত হইয়া থাকে। 

(ঢ) পরিবেশ কাহাকে বলে ? 

উত্তর ঃ আমাদের চারিদিকে পরিবেষ্টিত গাছ-পালা, জীব-জন্তু, পাহার-পর্বত, নদী- ইত্যাদির সমাহারে আমরা যে পরিবেশে বাস করি তাহাই হইল আমাদের পরিবেশ।

(ণ) যোগাসনের দুইটি উপকারিতার কথা লিখ।

 উত্তর : (১) যোগাসন দেহ-মন সুস্থ এবং সবল করিয়া রাখে। (২) যোগাসন শরীরের রোগ নিরাময় করে। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। শিশুর অধিকার বিষয়ে একটি টীকা লিখ। 

উত্তর : বয়স্ক লোকের মত শিশুদেরও কিছু নিজের অধিকার উপভোগ করার অধিকার আছে। প্রত্যেকটি শিশুকে তাহার অধিকার সম্পর্কে জানা উচিত। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৫৯ সনে শিশুর অধিকার আঁচনি গ্রহণ করে। ভারতবর্ষ ১৯৭৪ সনে শিশুর রাষ্ট্রীয় নীতি প্রবর্তন। করিয়া ১৯৯২ সনের ১১ ডিসেম্বরে শিশুর অধিকার আইন গ্রহণ করা হয়।

 শিশুর অধিকার আইন মতে, ১৮ বৎসর বয়স পর্যন্ত শিশুর শারীরিক, মানসিক এবং বৌদ্ধিক পরিপুষ্টি এবং বিকাশের জন্য প্রত্যেক অভিভাবক এবং নাগরিক চেষ্টা করা- তাহাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। রাজ্য সরকারগুলিতেও শিশুর অধিকার সুরক্ষিত হওয়াটা নিশ্চিত করিতে হইবে। নিচে শিশুর অধিকারসমূহ উল্লেখ করা হইল। 

শিশুর প্রথম অধিকার হইল সম্মান প্রাপ্তি এবং প্রকাশের অধিকার। নাগরিকদের মত শিশুদের ও সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। এইভাবে শিশুরও তাহার অধিকার জানার অধিকার আছে। প্রত্যেক শিশুর সু-স্বাস্থ্যের জন্য সকল সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। বড়দের শিশুকে এই রূপ পরিবেশ দেওয়া উচিত। অভিভাবক এবং সমাজ তথা রাষ্ট্র হইতে শিশুরা যত্ন এবং স্নেহ ভালবাসা পাওয়ার অধিকার আছে। কোন লোক শিশুকে আর্থিকভাবে শোষণ, যৌন নির্যাতন এবং শিশুর নিজেরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে নিয়োগ করিতে পারিবেনা বা জোর-জুলুম করিতে পারিবেনা। ১৮ বৎসরের নিচে মেয়েদের বিবাহ দেওয়া যাইবে না। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, আর্থিক অবস্থা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে শিশুকে বৈষম্যের বলি করিতে পারিবে না এবং সকল শিশুকে সম ব্যবহার প্রদান করিতে হইবে অর্থাৎ সকল শিশু সম অধিকার লাভ করিবে। 

প্রশ্ন ২। শিক্ষানুষ্ঠানের ছাত্র-ঐক্য-সভা কি ভাবে গঠিত হয় সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : প্রত্যেক শিক্ষানুষ্ঠানে কাজ-কর্ম সুস্থভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি ছাত্র ঐক্য-সভা গঠিত হয়। ছাত্র ঐক্য সভা বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়। ইহার জন্য একটা দিন ধার্য করিয়া নির্বাচন করা হয়। নির্বাচন সুস্থভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচনী নিয়মাৱলী থাকে। এই নিয়মাবলীতে

ঘোষিত পদসমূহের জন্য উচ্চ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়া প্রার্থীকে নির্বাচনের প্র-পত্র পূরণ করিতে হয়। এই নির্বাচনের প্র-পত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থী বয়সের প্রমাণ-পত্র, শ্রেণী শিক্ষকের প্রমাণ-পত্র ইত্যাদি নির্বাচনের “প্র-পত্রের সঙ্গে গাঁথিয়া নির্বাচনের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়। নির্বাচনের কর্তৃপক্ষ ও পত্র সমূহ পরীক্ষা করিয়া ভুল করিয়া পূরণ করা প্রমাণ-পত্র বা তথ্যাদির ভুল থাকা ৪. পত্র নাকচ করা হয়। শুদ্ধ হিসাবে বিবেচিত প্র-পত্রের অধিকারীদের নির্বাচনে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অনুমতি প্রদান করিবে এবং তাহাদের নামের বিপরীতে একটি প্রতীক চিহ্ন এ প্রদান ঘটিবে। নির্বাচনের দিন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রতিটি পদের বিপরীতে যাহারা অধিক ভোট লাভ করে, তাহারাই নিজ নিজ পদে জয়ী বলিয়া ঘোষিত হয় এবং জয়ী হওয়া সকলকে নিয়া ছাত্র ঐক্য সভা গঠিত হয়। সমাজ সেবা, সাহিত্য, সংগীত, খেলা-ধূলা ইত্যাদি শিক্ষানুষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে-কর্মে আগন্তুক বৎসরের জন্য শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর তত্ত্বাবধানে এই ছাত্র ঐক্য সভার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়। 

প্রশ্ন ৩। আমরা গণরাজ্য দিবস কোন তারিখে পালন করি? গণরাজ্য দিবস কেন পালন করি বুজাইয়া লিখ। 

উত্তর : আমরা প্রত্যেক বৎসর ২৬ জানুয়ারী তারিখে গণরাজ্য দিবস পালন করি।। *১৯৫০ সনের ২৫ জানুয়ারী হইতে আমাদের দেশের সংবিধান বলবৎ করা হয় এবং সেই। ” তারিখ হইতে আমাদের দেশটি সমাজতন্ত্রবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক গণরাজ্য হিসাবে “পরিচালিত হইতে থাকে। এই জন্যই আমাদের দেশে প্রত্যেক বৎসর ২৬ জানুয়ারী তারিখটি গণরাজ্য নিস হিসাবে পালিত হয়। এই দিবসটি আমাদের দেশে সরকারের পক্ষ হইতে মহা ধূমধামের সঙ্গে পালন করা হয়। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়কে ধরিয়া সকল শিক্ষানুষ্ঠান, জনসাধারণের অনুষ্ঠান, সংঘ তথা বিভিন্ন সংস্থা এই দিবস পালন করে। দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন শাখাও এই দিবসের ব্যাপক আয়োজন করিয়া নানা কলা-কৌশল প্রদর্শন করে। এইভাবে গণরাজ্য দিবসটি আমাদের দেশের জনসাধারণের কাছে একটি স্মরণীয় দিন হিসাবে পরিগণিত হইয়া আসিতেছে। 

প্রশ্ন ৪। নাগরিকের কর্তব্য বলিতে কি বুঝা ? 

আমাদের সংবিধানে ‘নির্দেশাত্মক নীতি’ অধ্যায়ে উল্লেখিত নাগরিকের কর্তব্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। উত্তর : রাষ্ট্রর নাগরিকদের করণীয় কাজকে সাধারণ অর্থে নাগরিকের কর্তব্য বলিয়া গণ্য করা হয়। এই কর্তব্যর সঙ্গে নিজের প্রতি ও রাষ্ট্রর প্রতি কর্তব্যও জড়াইয়া আছে।

নাগরিকদের প্রধান কর্তব্য হইল রাষ্ট্রীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়া দেশের নীতি-আদর্শ এবং ত্যাগের ভিত্তি স্থাপিত হইয়াছে। সেই জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের নীতি-আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ এবং দেশ সেবার প্রতি আমাদের সর্বদা শ্রদ্ধাশীল হইতে হইবে। আমাদের প্রত্যেকেই দেশ সেবার মনোভাব পোষণ করিতে হইবে এবং দেশের জন্য স্বার্থ ত্যাগ করিতে প্রস্তুত হইতে হইবে। দেশের ঐক্য, সংহতি এবং অখণ্ডতা রক্ষার জন্য নিজেকে সর্বদা প্রস্তুত করিয়া রাখিতে হইবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল লোকের সঙ্গে ভাতৃত্ব ভাব রাখিতে হইবে। সকল লোকের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করিয়া সম্প্রীতি রক্ষা করিতে হইবে। দেশের সম্পদ, বন-জংঘল, নদ-নদী, জীব-জন্তুর সংরক্ষণ করার প্রতি যত্নবান হইতে হইবে। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সুরক্ষা প্রদান করিতে হইবে। হিংসাত্মক কার্য হইতে নিজেকে দুরে রাখিয়া দেশের সরকারী সম্পদের সুরক্ষা, প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষাও বাঞ্ছনীয়। নিজের উন্নতির জন্য চেষ্টা করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের উন্নতি ও বিকাশের জন্য চেষ্টা করিতে হইবে। যাহাতে আমরা প্রত্যেকেই উন্নত দেশের সুনাগরিক হিসাবে স্বদেশে গৌরবান্বিত জীবন-যাপন করিতে পারি। 

প্রশ্ন ৫। মানব জীবনে কৈশোর কাল বা বয়ঃসন্ধির কালের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা কর।

 উত্তর : মানব জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় হইল কৈশোর বা বয়ঃসন্ধির কাল। কারণ এই সময় হইতে মানব জীবন গঠিত হইতে থাকে। এই সময়ে ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সন্মুখীন হয় এবং তাহাদের মনের মধ্যে নানা কৌতূহল জন্মে। এই সময়ে ভাল -মন্দ বিচার না করিয়া ছেলে-মেয়েরা কৌতূহলবশতঃ সকল প্রকার অভিজ্ঞতা অর্জন করিতে তৎপর হইয়া উঠে। এই সময়ে খারাপ বন্ধুর কবলে পরিয়া কেউ কেউ কুকর্মে লিপ্ত হয়। ফলে জীবন ধ্বংসের প্রথম ধাপে পা বাড়াইয়া জীবনের উন্নতিকে বিনাশ করে। 

বয়ঃসন্ধির সময়ে দেহ-মনের পরিবর্তন ঘটে। জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা করা কাজের প্রতি অনুরাগ জন্মে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অধিক আকর্ষণ অনুভব করে। কল্পনা প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। নিজেকে সিনেমার নায়ক-নায়িকার রূপে পাইতে চায়। অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতি সজাগ হয়। ঘন ঘন আয়নার দিকে তাকায়। এই সময়ে কেউ কেউ উত্তেজক বস্তু সেবন করে। সিগারেট, সাধা, তামাক, গুটখা, পাণ-মসলা, ড্রাগস, মদ ইত্যাদিতে আসত হইয়া পরে। ভাল-মন্দ বিচার করিতে পারার শক্তি হারাইয়া কখনও কখনও অসহায় অবস্থায় পতিত হয় এবং, কেউ কেউ অকালে জীবন ধ্বংস করে। এই সকল কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের এই সময়ে সাবধানে চলিতে হয়। অভিভাবক, শিক্ষকদের এই সময়ে ছেলে-মেয়েরা যেন বিপথগামী না হয়, সেই দিকে দৃষ্টি রাখিতে হইবে।

 প্রশ্ন ৬। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০০ এর ৬ ধারার কথাগুলি নিজের ভাষায় লিখ। 

উত্তর : তামাক উত্তেজক বস্তু । ইহা সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। ইহার ক্ষতিকার দিকটি চিন্তা করিয়া সরকার তামাক জাতীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বলবৎ করিয়া ইহার প্রকোপ হ্রাস করার প্রাস করিতেছে। ২০০৩ সনের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬ ধারা মতে ১৮ বৎসরের নিচে কিশোর-কিশোরীদের নিকট তামাক জাতীয় দ্রব্য বিক্রয় করাটো নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। উল্লেখিত বয়সের কিশোর কিশোরী তামাক জাতীয় সামগ্রী বিক্রয় করিতে পারিতে না। তাহা ছাড়া উল্লেখিত আইনের ৬নং ধারা মতে, কোন শিক্ষানুষ্ঠানের ১০০ গ পরিসীমার ভিতরে তামাক জাতীয় সামগ্রী বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইয়াছে। ইহা ছাড়া তামাক জাতীয় সামগ্রী বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হইয়াছে। ইহা ছাড়া তামাক জাতীয় সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্রসমূহে বাহির হইতে দেখিতে পাওয়া তামাক রাখা নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। প্রকাশ্য স্থানে যেমন চিকিৎসালয়, রেলওয়ে প্লেটফর্ম, রেলওয়ে আস্থান, বাস আস্থান, সরকারী কার্যালয়, প্রেক্ষাগৃহ, সরকারী বিশ্রামাগার, বিনোদন কেন্দ্র, সভাগৃহ, আদালত কক্ষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিনেমা গৃহ, গ্রন্থাগার, শ্বপিং মল ইত্যাদি স্থানে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। ইহা ছাড়া তামাক সেবনে উৎসাহিত করা বিজ্ঞাপন ২০০৩ সনের ৬ ধারার মতে নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। উল্লেখযোগ্য যে ২০০৩ সনের ৬ ধারায় সন্নিবিষ্ট আইন ভঙ্গকারীকে দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতাও আইনটিতে দেওয়া আছে। 

প্রশ্ন ৭। তামাকের ক্ষতিকারক দিকগুলি বুজাইয়া লিখ। 

উত্তর ঃ তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকারক উত্তেজক বস্তু । ইহার বেশীর ভাগ ক্ষতিকারক দিকগুলি দৃষ্টিপাত করিয়াই সরকার জনসাধারণের হিতার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন। বলবৎ করিতে বাধ্য হইয়াছে। নিচে তামাকের ক্ষতিকারক দিকগুলি উল্লেখ করা হইল। 

তামাকের ক্ষতিকারক দিকগুলি বিচার করিয়া ইহাকে মৃত্যুদূত বলিয়াও অভিহিত করা হয়। তামাক সেবনকারী লোকের স্বাস্থ্য ভাঙ্গিয়া যায়। তামাক অনেক রোগের উৎপত্তির কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বৎসরে তামাক সেবন করিয়া বহু লোকের মৃত্যু হয়। তামাকে প্রায় চার হাজার রাসায়নিক পদার্থ সংযুক্ত হইয়া থাকে। যেগুলি স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এমনকি ভারতে বৎসরে ৮/৯ লাখ লোক তামাক সেবন করিয়া মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তামাক সেবনের অশুভ ফল হইল ইহা রক্তচাপ বৃদ্ধি করার সঙ্গে রক্তের

চলাচলের স্বাভাবিক ক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট হইতে নির্গত ধোঁয়া বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ, টার, নিকোটিন, কার্বন-মনোক্সাইড ইত্যাদি থাকে। ইহার ধোঁয়া ফুসফুসে ঢুকিয়া হৃদযন্ত্রের কোমল অংশগুলিকে নষ্ট করে। বিড়ি, সিগারেটর ধোঁয়া যাহারা ধূমপান করে না তাহাদের ক্ষতিসাধন করে। বিড়ি, সিগারেটের ধোঁয়া শিশুদিগকে অতি সহজেই আক্রান্ত করে। ইহার ফলে শিশুর ব্রংকাইটিশ, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হয়। শ্বাস- প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তামাক সেবনের এই সব ক্ষতিকারক দিক বিচার করিয়া সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তামাক সেবন হইতে বিরত থাকাই মঙ্গলজনক। 

প্রশ্ন ৮। ড্রাগসের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ। 

উত্তর ঃ বর্তমানে বিশ্বে ড্রাগসের ভয়াবহতা এক মারাত্মক সমস্যা হইয়া উঠিয়াছে। ড্রাগস মানব জাতিকে ধ্বংসের পথে আগাইয়া নিয়া যাইতেছে। ড্রাগস মানুষকে শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিকেই স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। ড্রাগস আসক্ত লোকের কর্ম শক্তি এবং স্মৃতিশক্তি উভয়ই হ্রাস পায়। কাজের প্রতি আগ্রহ কমিয়া যায়। এবং চিন্তা শক্তি থাকেনা। ফলে কর্মহীনতার কবলে পরিয়া কোন এক সময়ে উপার্জনহীন হইয়া পরে। এই অবস্থাতে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। অধিক ড্রাগস আসক্ত লোকের মস্তিষ্কের কোষ মরিয়া যাইতে থাকে। ঘন ঘন অন্যের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হইয়া সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য ভাঙ্গিয়া পরে। দেহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়। লিভার, হৃদযন্ত্রের রোগে ভুগে। মুখ এবং খাদ্যনলীতে কেন্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কিডনী নষ্ট হয়। সময়ে কপর্দকহীন হইয়া অকালে মৃত্যুবরণ করে। 

প্রশ্ন ৯। বায়ু প্রদোষণ সম্পর্কে তোমার জানা কথাগুলি নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : বায়ুছাড়া প্রাণী বাচিয়া থাকিতে পারে না। শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রাণী বাচিয়া থাকে। মানুষ নিঃশ্বাসের সহিত বায়ু বাহির করিয়া দেয় এবং প্রশ্বাসের সহিত বায়ু গ্রহণ করে। গ্রহণ করা বায়ু বিশুদ্ধ হইতে হইবে। সম্প্রতি মানুষের কার্যকলাপের জন্য এবং নানা প্রাকৃতিক কারণে বায়ু প্রদুষিত হইতেছে। এই বায়ু প্রদূষণের মূল কারণ হইল বায়ুমণ্ডলে মিশ্রিত হইয়া থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন, কার্বন-মনোক্সাইড ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের গ্যাস, ধোঁয়া, কল-কারখানা, শিল্প উদ্যোগ হইতে নির্গত ধোঁয়া, আগ্নেয়গিরি উদগীরণজনিত ছাই-ধোঁয়া ইত্যাদি বায়ুমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্ৰদূষণ বৃদ্ধি করিতেছে। ইহার ফলে জীব জগতে ব্রাসের সৃষ্টি করিয়াছে। প্লাষ্টিক আবর্জনায় দহন কার্যের দ্বারাও বায়ুমণ্ডল ব্যাপকভাবে প্রদূষিত হয়। সেইজন্য প্রাণী জগতের জীবনের প্রতি হ্রাসের সৃষ্টি করা বায়ু গুদূষণ হ্রাস করার জন্য প্রত্যেক লোককে নিজ নিজ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সঙ্গে নিজের। কর্ম যাহাতে বায়ু দূষণ করিতে না পারে তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে।

প্রশ্ন ১০। রাস্তায় বা পথে হাটার সময় কি কি নিয়ম পালন করিতে হয় ? 

উত্তর : রাস্তায় বা পথে মানুষের সঙ্গে দুইচাকা, চারি চাকা, রিক্সা, ই-রিক্সা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের বাহন চলাচল করে। এইগুলির চলাচলে যাহাতে ব্যাঘাত না জন্মে তাহার জন্য কিছু “নিয়ম লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে। এইরূপ নিয়মসমূহকে যাতায়াতের নিয়ম বলা হয়। প্রত্যেকে যাতায়াতের নিয়মসমূহ মানিয়া চলিলে আমরা দুর্ঘটনা হইতে রক্ষা পাইতে পারি এবং নিরাপদ যাত্রাও সুনিশ্চিত করিতে পারি। নিম্নে নিয়মগুলি দেওয়া হইল —— 

হাটার সময় সর্বদা রাস্তার বাঁ দিকে হাটা উচিত। মোটরসাইকেল, স্কুটী চালককে হেলমেট পরিধান করাটা বাধ্যতামূলক। মোটর গাড়ীরচালক সিট বেল্ট লাগাইবে। ট্রাফিক সিগনাল মানিয়া সকলকে রাস্তায় চলাচল করিতে হয়। জেব্রা ক্রসিং থাকা স্থানে রাস্তা অতি করিতে হয়। গাড়ীচালকরা যান-বাহন অতিক্রম করিতে কখনো প্রতিযোগিতামূলক মনোভারে বশবর্তী হওয়া উচিত না। সতর্কতা অবলম্বন করিয়া যান-বাহন অতিক্রম করা বাঞ্ছনীয়। এই নিয়মসমূহ মানিয়া চলিলে আমরা নিরাপদ যাত্রা সুনিশ্চিত করিতে পারি। 

প্রশ্ন ১১। সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তরঃ ফেচবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি সোসিয়েল মিডিয়া, যেমন – ইন্টারনেটো অপপ্রয়োগ ঘটাইয়া অপরাধ সংঘটিত করা কার্যকে সাইবার অপরাধ বলে। এই অপরাধসমূহ হইল – ফেচবুক, হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে মিথ্যা খবর প্রচার করা, সমাজে উত্তেজনা বিস্তার করিয়া অশান্তি সৃষ্টি করা এবং আইন শৃংখলাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করা, অনুমতি ছাড়া অন্যের কম্পিউটারের তথ্য চুরি করিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা, কৌশলে অন্যের ব্যাঙ্ক কার্ড নম্বর চুরি করিয়া একাউন্ট হইতে টাকা উঠাইয়া নেওয়া, অন্যের ই-মেল চুরি করিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার, মোবাইল ফোনের সাহায্যে অশ্লীল ফটো তুলিয়া ফটো বিকৃত করিয়া ভাইরেল করা, অশ্লীল ফটো তুলিয়া ব্লেকমেইলিং করা ইত্যাদি কাজই হইল সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ। তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০০ এর ৬৯ (ক) এবং ৭১ ধারা মতে এই রূপ অপরাধ প্রতিরোধ করিতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানাইয়া অশ্লীল ফটোর প্রচার এবং ব্লেকমেইলিং ইত্যাদি কার্য বন্ধ করা যায়।। 

প্রশ্ন ১২। শিশু শ্রমিক নিরোধক এবং নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৬ র সাধারণ নিয়মটি লিখ।

 উত্তৰ : শিশু শ্রমিক নিরোধক এবং নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৬র নিয়মাবলী মতে, ১৪ বৎসরের নিচে শিশুকে উদ্যোগ, খনি বা শিল্প উদ্যোগে নিয়োগ করা বা কোন বিপদজনক কর্মে নিয়োগ করা যাইবে না। 

ভারত সরকারও শ্রম মন্ত্রালয়সহ এই আইনের সাহায্য নিয়া ২০০৬ সনের ১০ জুলাইতে এক অধিসূচনা জারি করিয়া শিশুকে ঘরোয়া কাজে নিয়োগ করা, হোটেল, চায়ের দোকান, ধাবা, বিনোদন ক্ষেত্র ইত্যাদিতে কাজ করা কার্যকে বিপদসংকুল হিসাবে গণ্য করিয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করিয়াছে। এই আইন ভঙ্গকারীকে অর্থদণ্ড বা কারাবাস অথবা দুই প্রকারের শাস্তিই প্রদান করা যায়। ভারতের সংবিধানে যে ২১ (ক) দফা মতে ৬-১৪ বৎসর বয়সের শিশু স্বাধীনভাবে সুস্থ পরিবেশে বসবাস করার অধিকার প্রদান করিয়াছে এবং অভিভাবক বা পিতা-মাতা এই বয়সের শিশুদের প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার ব্যবস্থা করিয়াছে যাহাতে তাহাদের শৈশব সুরক্ষিত হইতে পারে। 

 প্রশ্ন ১৩। শিক্ষার সর্বাঙ্গীন বিকাশের সার্থকতা বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : শিক্ষার সর্বাঙ্গীন বিকাশের সার্থকতাই ছাত্র-ছাত্রীদের সুস্থ আদর্শযুক্ত পরিবেশে বড় হইয়া পড়া-শুনা করার পরিবেশ পাওয়ার সংগে আনুষংগিক দায়িত্ব এবং কর্তব্যসমূহ সুচারুরূপে পালন করিতে হয়। বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং মূল্যবোধের শিক্ষার দ্বারা সামাজিক সমতা রক্ষা করিয়া চলিতে হইবে এবং জীবনের লক্ষ্যে উপনীত হইতে হইবে। সামাজিক সমতা রক্ষা না করা লোক, মানবীয় গুণসম্পন্ন হইতে পারে না। সেইজন্য ছাত্রাবস্থা হইতে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, ধৈর্য ইত্যাদি গুণ আয়ত্ত করিতে হইবে। নেতৃত্ব দেওয়া গুণের অধিকারী হইতে হইবে। সুচরিত্র গঠন করিতে হইবে। চরিত্রবান লোকই দেশের এবং দশের উন্নয়ন সাধন করিয়া শিক্ষার সর্বাঙ্গীন বিকাশ সার্থক করিয়া তুলিতে পারে। 

প্রশ্ন ১৪। বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি আমাদের কি রূপে আচরণ করা সমীচীন তাহা বুঝাইয়া লিখ।

 উত্তর : বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি আমাদের আচরণ সৌহার্দ্যপূর্ণ বা সহানুভূতিসূচক হইতে হইবে। আমাদের কার্যকলাপ তাহাদের যেন কোন প্রকারে আঘাত না দেয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখিতে হইবে। তাহাদিগকে আবশ্যকীয় ক্ষেত্রে, যেখন আসা-যাওয়া, রাস্তা পার হওয়া ইত্যাদি কার্য সাহায্য করিতে হইবে। তাহারা যাহাতে নিজেকে অবহেলিত অনুভব না করে সেই দিকে নজর রাখিতে হইবে। চোখের অসুবিধা থাকা ব্যক্তিকে সম্মুখের বেঞ্চে বসার সুবিধা দিতে হয়। সঙ্গীদের নিকট হইতে সাহায্য পাইলেই তাহাদের মনোবল বৃদ্ধি করিবে। এবং পড়াশুনায় উন্নতি ঘটাইতে সহায়ক হইবে। সেই জন্য বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতি প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর উচিত তাহাদের উন্নতির জন্য আবশ্যকীয় সহযোগিতা করা।

Leave a Reply