SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-10| ভারতীয় গণতন্ত্র

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-10| ভারতীয় গণতন্ত্র, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-10| ভারতীয় গণতন্ত্র

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-10| ভারতীয় গণতন্ত্র দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ১

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর :

প্রশ্ন ১। ভারতীয় সংবিধানের ১৯৭৬ সালে হওয়া ৪২নং সংশোধনী আইনের সঙ্গে কোনটি শব্দ প্রস্তাবনাতে সংযোজন করা হয়েছিল?

(ক) সার্বভৌম

(খ) গণতান্ত্রিক

(গ) গণরাজ্য

(ঘ) সমাজবাদী

 উত্তর : (ঘ) সমাজবাদী। 

প্রশ্ন ২। নীচের কোন ব্যক্তি ভারতের সংবিধান খসড়া কমিটির সদস্য ছিলেন না?

(ক) এন. গোপালস্বামী আয়েংগার 

(খ) কে.এম. মুন্সি

(গ) জওহরলাল নেহরু

(ঘ) ডি.পি. খৈতান 

উত্তর : জওহরলাল নেহরু।

প্রশ্ন ৩। সংবিধান সভার খসড়া সমিতির সভাপতি কে ছিলেন ? 

(ক) ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ

(খ) ড° বি আর আম্বেদকার

(গ) কে এম মুন্সি 

(ঘ) জওহরলাল নেহরু

 উত্তর : ড° বি আর আম্বেদকার।. 

প্রশ্ন ৪। ভারতের সংবিধান সভার প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করেছিলেন? 

(ক) ড° বি.আর. আম্বেদকর 

(খ) এন. গোপালস্বামী 

(গ) ড° সচ্চিদানন্দ সিনহাই

(ঘ) সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা

 উত্তৰ : ড° সচ্চিদানন্দ সিন্হাই

প্রশ্ন ৫। যুক্তরাষ্ট্রের ‘গৃহভূমি’ বলতে কোন রাষ্ট্রকে বলা হয়। 

(ক) ইংল্যাণ্ডকে

(খ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে

(গ) কানাডাকে 

(ঘ) ভারতকে

 উত্তর : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে।

প্রশ্ন ৬। সংবিধানের ৪২তম সংশোধনী কখন হইয়াছিল ?

(ক) ১৯৭২ সনে 

(খ) ১৯৭৪ সনে

(গ) ১৯৭৬ সনে 

(ঘ) ১৯৭৮ সনে 

উত্তর : ১৯৭৬ সনে

প্রশ্ন ৭। মৌলিক অধিকার মোট _____প্রকার। 

 (ক) দুই 

 (খ) পাঁচ

 (গ) ছয়

 ( ঘ) সাত

উত্তর ছয়।

প্রশ্ন ৮। মৌলিক কর্তব্য মোট_______ প্রকার।

 (ক) সাত

 (খ) আট

 (গ) নয়

 (ঘ) দশ 

উত্তর। দশ। 

প্রশ্ন ৯। মৌলিক কৰ্তব্যসমূহকে সংবিধানের _________ তম সংশোধন অনুসারে ভারতী সংবিধানে সংযোজন করা হয়।

 (ক) ৪৪তম

 (খ) ৪২তম

 (গ) ৪০ তম 

 (ঘ) ৩৮ তম 

উত্তর। ৪২তম। 

প্রশ্ন ১০। ভারতীয় সংবিধানে_______ বৎসর বয়সের নাগরিক দিগকে প্রাপ্তব্যাস্ত বলিয়া গণ্য করা হয়। 

(ক) ২১

(খ) ১৮

(গ) ২৫

(ঘ) ২৮

 উত্তর। ১৮। 

প্রশ্ন ১১। ভারতে _______দলীয় সরকার বর্তমান।

(ক) এক

(খ) দুই

(গ) পাঁচ 

(ঘ) বহু

উত্তর বহু। 

প্রশ্ন ১২। ব্রিটেনে ______দলীয় সরকার প্রচলিত। 

(ক) এক

(খ) দুই

(গ) তিন 

(ঘ) বহু 

উত্তৰ। দুই। 

প্রশ্ন ১৩। একদলীয় সরকার_______ দেশে দেখিতে পাওয়া যায়।

(ক) গণতান্ত্রিক

(খ) সাম্যবাদী

(গ) রাজতন্ত্র

(ঘ) ফেসিষ্ট

উত্তর। সাম্যবাদী। 

প্রশ্ন ১৪। সাহিত্য সভা, মহিলা সমিতি ইত্যাদি_______     র অন্তর্ভূক্ত।

 (ক) প্রভাবগোষ্ঠী

 (খ) স্থানীয় স্বায়ত্ত শাসন

 (গ) সংস্কার

 (ঘ) বিরোধী দল 

উত্তর। প্রভাবগোষ্ঠী। 

প্রশ্ন ১৫। আব্রাহাম লিঙ্কন_____র রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

 (ক) রাশিয়া

 (খ) ফ্রান্স 

 (গ) আমেরিকা

 (খ) জার্মান

উত্তর। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। 

প্রশ্ন ১৬। ‘ছায়া মন্ত্রীসভা’ গঠন করা হয়________সরকারে।

(ক) একদলীয়

(খ) দ্বি-দলীয় 

(গ) ত্রি-দলীয়। 

(ঘ) বহুদলীয়

উত্তর। দ্বি-দলীয়।

প্রশ্ন ১৭। পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতি প্রথমে কোথায় আরম্ভ হইয়াছিল? 

(ক) ভারতে 

(খ) সুইজারল্যাণ্ডে

(গ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে

(ঘ) ইংল্যাণ্ডে

 উত্তর : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে 

প্রশ্ন ১৮। Federation অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র কোন ভাষা হইতে উৎপত্তি হইয়াছে?

(ক) জার্মান

(খ) ল্যাটিন 

(গ) গ্রীক 

(ঘ) রোমান

 উত্তৰ : ল্যাটিন। 

প্রশ্ন ১৯। সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের প্রচলন হয়—

(ক) রাশিয়া

(খ) গ্রীসের এথেন্স

(গ) চীন 

(ঘ) ভারতবর্ষ 

উত্তর। গ্রীসের এথেন্স। 

প্রশ্ন ২০। গণতন্ত্রে কৃতকার্যতার জন্য প্রয়োজন— 

(ক) ক্ষমতার বিভাজন

(খ) সংবিধান

(গ) রাজনৈতিক সচেতনতা 

(ঘ) অধিক লোকসংখ্যা

উত্তর। রাজনৈতিক সচেতনতা।

 প্রশ্ন ২১। গণতন্ত্রের উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা দিয়াছিলেন— 

(ক) গান্ধীজি 

(খ) সক্রেটিস্

(গ) আব্রাহাম লিঙ্কন

(ঘ) প্লেটো

উত্তর। আব্রাহাম লিঙ্কন।

প্রশ্ন ২২। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কোনগুলি রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী?

(ক) বৃহৎ 

(খ) অতি ক্ষুদ্র

(গ) মাঝারি 

(ঘ) উপযোগী নহে

 প্রশ্ন ২৩। “গণতন্ত্র জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা এবং জনগণের সরকার”—এই উক্তিটি করিয়াছিলেন________।

(ক) রুজভেল্ট 

(খ) চার্চিল

(গ) আব্রাহাম লিঙ্কন

(ঘ) হিটলার

 উত্তর। আব্রাহাম লিঙ্কন। 

প্রশ্ন ২৪। ‘ডেমস’ এবং ‘ক্রাসিয়া’—শব্দ দুইটি হইতে ডেমক্রেসি শব্দটির উৎপত্তি হইয়াছে। সেই দুইটি শব্দ কোন ভাষার শব্দ? 

(ক) ল্যাটিন 

(খ) গ্রীক 

(গ) ইংরাজি 

(ঘ) ফরাসী

উত্তর। গ্রীক।

 প্রশ্ন ২৫। প্রায় — শতাব্দী ধরিয়া ভারত ইংরাজদের অধীনে ছিল।

(ক) এক

(খ) দুই 

(গ) তিন 

(ঘ) চার

উত্তর। দুই। 

প্রশ্ন ২৬। ______বর্তমান বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। 

(ক) আমেরিকা

(খ) ইংল্যাণ্ড 

(গ) ভারত

(ঘ) চীন

 উত্তর। ভারত।

প্রশ্ন ২৭। ইংল্যাণ্ডের মহিলাগণ ভোটাধিকার পাইয়াছিল— 

(ক) ১৯৩০ সালে

(খ) ১৯২৮ সালে।

(গ) ১৯২০ সালে 

(ঘ) ১৯২৫ সালে 

 উত্তর। ১৯২৮ সালে। 

প্রশ্ন ২৮। জনমত গঠনের সর্বাধিক জনপ্রিয় মাধ্যম—

 (ক) সংবাদপত্র

 (খ) সাহিত্য 

 (গ) রেডিও

 (ঘ) T. V.

উত্তর। T. V. (দূরদর্শন)।

প্রশ্ন ২৯। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মূল উৎস কি? 

(ক) দলীয় সমর্থন 

(খ) রাষ্ট্রপতি 

(গ) সংবিধান 

(ঘ) জনগণ 

উত্তর। দলীয় সমর্থন। 

প্রশ্ন ৩০। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্য সংখ্যা—

(ক) ১৫ জন

(খ) ১৩ জন।

(গ) ১২ জন

(ঘ) ১০ ল 

উত্তর। ১২ জন। 

প্রশ্ন ৩১। লোকসভার নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা-

 (ক) ৫২৫ জন

 (খ) ৫৪৫ জন

 (গ) ৫৪২ জন

 (ঘ) ২৫০ 

উত্তর। ৫৪৫ জন। 

প্রশ্ন ৩২। এককেন্দ্রিক সরকার প্রচলিত দেশ বর্তমানে—

 (ক) ইংল্যাণ্ড 

 (খ) রাশিয়া

 (গ) ভারত

 (ঘ) আমেরিকা

 উত্তর। ইংল্যান্ড। 

প্রশ্ন ৩৩। রাজনীতি বিজ্ঞানে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ— 

(ক) রুশো 

(খ) ভল্টেয়ার 

(গ) মহাত্মা গান্ধী

(ঘ) জে. এন. মিল 

উত্তর। জে. এন. মিল। 

প্রশ্ন ৩৪। বিশ্বে সর্বাধিক পুরানো সরকার হইল- 

(ক) গণতন্ত্র

(খ) রাজতন্ত্র 

(গ) স্বরতন্ত্র 

(ঘ) অভিজাতভর 

উত্তর। রাজতন্ত্র। 

প্রশ্ন ৩৫। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক জীবনের চালিকাশক্তিষ–

(ক) রাজনৈতিক দল

(খ) মন্ত্রীসভা 

(গ) সংবাদপত্র 

(ঘ) রাষ্ট্রপতি

উত্তর। রাজনৈতিক দল। 

প্রশ্ন ৩৬। বর্তমানে ভারতবর্ষে কি ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত আছে?

(ক) গণতান্ত্রিক 

(খ) রাজতান্ত্রিক

(গ) সেচ্ছাচারী

(ঘ) একনায়কত

 উত্তর। গণতান্ত্রিক। 

প্রশ্ন ৩৭। লোকসভায় রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত সদস্যসংখ্যা-

 (ক) ২ জন

 (খ) ৩ জন

 (গ) ৪ জন

 (ঘ) ৬ জন

উত্তর। ২ জন।

প্রশ্ন ৩৮। ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদের উচ্চ সদনের (স্থায়ী সদনের) নাম— 

(ক) বিধান পরিষদ 

(খ) বিধানসভা 

(গ) রাজ্যসভা

(ঘ) লোকসভা 

উত্তর। রাজ্যসভা। 

প্রশ্ন ৩৯। ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির পদ একই সঙ্গে শূন্য হইলে রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন- 

(ক) প্রধানমন্ত্রী 

(খ) মুখ্যমন্ত্রী 

(গ) সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি 

(ঘ) সংসদের স্পীকার 

উত্তর। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। 

প্রশ্ন ৪০। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নিম্নতম বয়স হইতে হইবে। 

(ক) ১৮ বছর 

(খ) ২১ বছর 

(গ) ২৫ বছর

(ঘ) ৩৫ বছর 

উত্তর। ৩৫ বছর। 

প্রশ্ন ৪১। সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণ দেন—

(ক) লোকসভার অধ্যক্ষ 

(খ) রাজ্যসভার চেয়ারম্যান 

(গ) রাষ্ট্রপতি 

(খ) প্রধানমন্ত্রী

 উত্তর। রাষ্ট্রপতি। 

প্রশ্ন ৪২। লোকসভার অধ্যক্ষকে নির্বাচন করেন— 

(ক) প্রধানমন্ত্রী

(খ) লোকসভার সদস্যগণ 

(গ) রাষ্ট্রপতি

(ঘ) ভারতের মুখ্য ন্যায়াধীশ 

উত্তর। লোকসভার সদস্যগণ। 

প্রশ্ন ৪৩। সংবিধান সভার প্রথম স্থায়ী সভাপতি ছিলেন— 

(ক) ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ

(খ) সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা 

(গ) ড° বি.আর. আম্বেদকার 

(ঘ) ড° সচ্ছিনানন্দ সিনহা 

উত্তর : ড° রাজেন্দ্র প্রসাদ 

প্রশ্ন ৪৪। ভারতের সংবিধানের আত্মা (Soul) বলা হয়-

(ক) প্রস্তাবনাকে 

(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশাত্মক নীতিগুলিকে

(গ) মৌলিক অধিকারকে 

(ঘ) মৌলিক কৰ্তব্যসমূহকে 

উত্তর : প্রস্তাবনাকে | 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। ১৯৪৫ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ইংল্যাণ্ডে কোন্ দল জয়ী হইয়াছিল? 

উত্তর : শ্রমিক দল (Labour Party)। 

প্রশ্ন ২। ‘কেবিনেট মিশন’ ভারতে কবে আসিয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে।

প্রশ্ন ৩। সংবিধান সভার প্রথম সভাপতি কে ছিল? 

উত্তর : ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ।

প্রশ্ন ৪। খসড়া সমিতির অধ্যক্ষের নাম কি?

উত্তর : ডঃ ভীমরাও আম্বেদকার (ডঃ বি আর আম্বেদকার)। 

প্রশ্ন ৫। ‘সমাজবাদী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুইটি সংবিধানের কত সংশোধনী মতে প্রস্তাবনায় সন্নিবিষ্ট হইয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯৭৬ সালে হওয়া ৪২ নং সংবিধান সংশোধনী মতে। 

প্রশ্ন ৬। ইংরাজি ‘Federation’ শব্দটি কোন্ ল্যাটিন শব্দ হইতে আসিয়াছে? 

উত্তর : ল্যাটিন শব্দ ‘FOEDUS’ হইতে। 

প্রশ্ন ৭। ‘যুক্তরাষ্ট্রের গৃহভূমি’ কাহাকে বলা হয় ? 

উত্তর : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে। 

প্রশ্ন ৮। ভারতবর্ষে “দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যবস্থা আছে কি?

উত্তর : ভারতবর্ষে দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যবস্থা নাই। 

প্রশ্ন ৯। ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারণাটি কোন দেশের সংবিধানের অনুকরণে করা হইয়াছে?

উত্তর : ইংল্যাণ্ডের সংবিধান হইতে। 

প্রশ্ন ১০। ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কখন হইতে আরম্ভ হয়?

উত্তর। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা পায়। সেই সময় হইতেই ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। 

প্রশ্ন ১১। আমাদের সংবিধানে কত প্রকারের অধিকারের কথা উল্লেখ আছে?

 উত্তর। ৬ প্রকার।

 প্রশ্ন ১২। নির্দেশাত্মক নীতি কি? 

উত্তর। রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য ভারতীয় সংবিধান সরকারকে যে সকল নীতি- নির্দেশনা দিয়াছে সেইগুলিকে রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতি বলে। 

প্রশ্ন ১৩। গণতন্ত্রের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান উল্লেখ কর। 

উত্তর। শিক্ষা। 

প্রশ্ন ১৪। “পরোক্ষ গণতন্ত্র” বলিতে কী বোঝায় ? 

উত্তা। পরোক্ষ গণতন্ত্রে বা প্রতিনিধিমূলক গণতন্ত্রে জনসাধারণ তাহাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করে। এই প্রতিনিধিরাই দেশের শাসন কার্য পরিচালনা করিয়া থাকে, সুতরাং জনসাধারণ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করে বলিয়া এই ধরনের গণতন্ত্রকে পরোক্ষ গণতন্ত্র বলা হয় ।

প্রশ্ন ১৫। পরোক্ষ নির্বাচন কি?

 উত্তর। যে নির্বাচনে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিমণ্ডলের সদস্যগণ চূড়ান্ত প্রতিনিধিদের নির্বাচন করেন তাহাকে পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। পরোক্ষ নির্বাচনে ভোটদাতা এবং প্রতিনিধিটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় না। 

প্রশ্ন ১৬। যে সরকার ব্যবস্থায় একটি মাত্র রাজনৈতিক দল থাকে তাহাকে কি সরকার বলা হয়?

উত্তর। একদলীয় সরকার। 

প্রশ্ন ১৭। একদলীয় সরকার কাহাকে বলে ? 

উত্তর। একদলীয় সরকারে শুধু একটিই দল থাকে। এখানে কোন বিরোধী দল থাকে না।

প্রশ্ন ১৮। সরকাররের বাহিরে থাকা দলকে কি দল বলে?

 উত্তর। বিরোধী দল। 

প্রশ্ন ১৯। ভারতে ভোটাধিকার পাওয়ার নিম্নতম বয়স কত ? 

উত্তর। ভারতে ভোটাধিকার পাওয়ার নিম্নতম বয়স ১৮ বৎসর।

প্রশ্ন ২০। প্রভাব (power) গোষ্ঠী কি? 

উত্তর। যে অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তি সমষ্টি নিজের স্বার্থ পূরণের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের উপরে চাপ প্রযোগ করে সেই অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তি সমষ্টিকে প্রভাবগোষ্ঠী বলে। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ব্রিটিশ সরকার ‘কেবিনেট মিশন’কে কেন ভারতে পাঠাইয়াছিল?

উত্তর : ভারতকে স্বাধীনতা প্রদান করিলে ইহার শাসন চালাইতে যে সংবিধানের আবশ্যক হইবে সেই সংবিধান রচনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও প্রস্তুতি চালাইবার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ‘কেবিনেট মিশন’কে ভারতে পাঠাইয়াছিল। 

প্রশ্ন ২। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতবর্ষের শাসন-ব্যবস্থা কি আইনের ভিত্তিতে চলিয়াছিল ও আইনটি কে প্রস্তুত করিয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করার পর হইতে ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ইহার শাসন-ব্যবস্থা ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইন অনুযায়ী চলিয়াছিল। এই আইনটি ব্রিটিশ সংসদ প্রস্তুত করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩। প্রস্তাবনায় ‘আমরা ভারতীয় জনসাধারণ’ বলিয়া কেন উল্লেখ করা হইয়াছে? 

উত্তর : প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ‘আমরা ভারতীয় জনসাধারণ’ কথাটির দ্বারা এইটি স্পষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে যে সংবিধানের রচক ভারতীয় জনগণ নিজে, সংবিধানটি ভারতীয় জনগণের ও ভারতীয় জনগণই হইল ভারতীয় সংবিধানটির আড়ালে থাকা প্রকৃত শক্তি।

প্রশ্ন ৪। সার্বভৌমত্ব মানে কি? 

উত্তর : সার্বভৌমত্ব হইল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও প্রাণস্বরূপ। ইহার অবিহনে রাষ্ট্র বাড়িয়া থাকিতে পারে না। রাষ্ট্রের এই শক্তিকে বাহ্যিকভাবে কোনো বিদেশী শক্তি ও আভ্যন্তরীণভাবে ভারতের অন্তর্গত কোনো শক্তি প্রত্যাহ্বান জানাইতে পারে না। প্রস্তাবনায়

প্রশ্ন ৫। কোন্ সালের কত সংখ্যক সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের ‘সমাজবাদী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুইটি সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে? 

উত্তর : ১৯৭৬ সালে হওয়া ৪২ নং সংবিধান সংশোধনী মতে প্রস্তাবনায় নতুন করিয়া ‘সমাজবাদী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুইটি সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে।

প্রশ্ন ৬। ‘অর্ধ যুক্তরাষ্ট্র’ কাহাকে বলে?

উত্তর : যে সংবিধান ব্যবস্থায় এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যগুলি একাত্ম হইয়া থাকে তাহাকে ‘অর্ধ যুক্তরাষ্ট্র’ বলে। ভারতের সংবিধানেও এককেন্দ্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বৈশিষ্ট্যের মিলন ঘটিয়াছে। এইজন্য বহুজনে ভারতকে অর্ধ যুক্তরাষ্ট্র বলিয়া অভিহিত করিতে চায়। 

প্রশ্ন ৭। কোন আইন পরাধীন ভারতবর্ষে সীমিত সংসদীয় পদ্ধতির প্রবর্তন করিয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সংসদ প্রবর্তন করা ভারত সরকার আইনটি ভারতে সীমিত রূপে সংসদীয় সরকারের পদ্ধতি আরম্ভ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৮। গণতন্ত্রের ইংরাজি প্রতিশব্দ “ডেমক্রেসী” কোন দুইটি শব্দ হইতে উৎপত্তি হইয়াছে? 

উত্তর। গণতন্ত্রের ইংরাজি প্রতিশব্দ ডেমক্রেসী গ্রীক ভাষার “ডেমস (Demos) এবং ক্রাসিয়া (Kratia)” এই দুইটি শব্দ হইতে উৎপত্তি হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৯। ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন কখন হইতে আরম্ভ হয়? 

উত্তর। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট হইতে ভারতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আরম্ভ হয়।

 প্রশ্ন ১০। গণতন্ত্রকে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়? 

উত্তর। গণতন্ত্রকে দুইভাগে ভাগ করা যায়- (১) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং (২) পরোক্ষ গণতন্ত্র। 

প্রশ্ন ১১। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কি ধরনের রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী? 

উত্তর। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র অতি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী।

প্রশ্ন ১২। পরোক্ষ গণতন্ত্র কোন রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী? 

উত্তর। পরোক্ষ গণতন্ত্র বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহের জন্য বেশি উপযোগী হইতে দেখা যায়। 

প্রশ্ন ১৩। “গণতন্ত্র জনসাধারণের জন্য, জনসাধারণের দ্বারা এবং জনসাধারণের সরকার” বলিয়া কে মন্তব্য করিয়াছিলেন?

 উত্তর। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন।

প্রশ্ন ১৪। ভারত গণরাজ্যে রাষ্ট্রপ্রধান কিভাবে নির্বাচিত হন? 

উত্তর। ভারত গণরাজ্যে রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ নির্বাচনের দ্বারা নির্বাচিত হন।

প্রশ্ন ১৫। ভারতে কি ধরনের সরকার প্রচলিত আছে? 

উত্তর। ভারতে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার প্রচলিত আছে। 

প্রশ্ন ১৬। সংসদীয় সরকারকে অন্য কি নামে জানা যায় ?

 উত্তর। সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকারকে 

(১) দায়িত্বশীল সরকার এবং (২) মন্ত্রীসভা পরিচালিত সরকার বলিয়া জানা যায়। 

প্রশ্ন ১৭। সংসদীয় সরকারে থাকা ভারতে সরকারের প্রধান ব্যক্তি কে? 

উত্তর। সংসদীয় সরকারে, সরকারের প্রধান ব্যক্তি হইল প্রধানমন্ত্রী। 

প্রশ্ন ১৮। সংবিধানের কত নম্বর সংশোধনের মতে মৌলিক কর্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

উত্তর। ভারতীয় সংবিধানের ৪২নং সংশোধনের দ্বারা নাগরিকের মৌলিক কর্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

প্রশ্ন ১৯। সংবিধানে কয়টি মৌলিক কর্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে? 

উত্তর। ভারতীয় সংবিধানে মোট ১০টা মৌলিক কর্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ২০। রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিগুলি কাহাকে কার্যকরী করিতে হয় ? 

উত্তর। রাষ্ট্রের নির্দেশক নীতিগুলিকে কেন্দ্ৰীয় এবং রাজ্য সরকারগুলি আইন করিয়া 

প্রশ্ন ২১। ভারতে কত বৎসর বয়সের নাগরিককে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক কার্যকরী করে। ভোটাধিকার দেওয়া হয় ?

উত্তর। ১৮ বৎসর বয়সের নাগরিকদের সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার দেওয়া হয়। 

প্রশ্ন ২২। একদলীয় সরকার থাকা দুইটি রাষ্ট্রের নাম লিখ। 

উত্তরা সাম্যবাদী দল থাকা রাশিয়া ও চীন। 

প্রশ্ন ২৩। দ্বিদলীয় সরকার থাকা দুইটি রাষ্ট্রের নাম লিখ। 

উত্তর। ইংল্যাণ্ড এবং আমেরিকা। 

প্রশ্ন ২৪। অসমে বর্তমানে সক্রিয় দুইটি প্রভাবগোষ্ঠীর নাম লিখ। 

উত্তর। “অসম সাহিত্য সভা” এবং “সদৌ অসম ছাত্র সংস্থা”। 

প্রশ্ন ২৫। আব্রাহাম লিঙ্কনের দেওয়া গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি কি? 

উত্তর। আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে গণতন্ত্র হইল, “জনগণের জন্য, জনগণের জনগণের সরকার”। 

প্রশ্ন ২৬। নাগরিকদের একপ্রকার মৌলিক কর্তব্য উল্লেখ কর। 

উত্তর। সংবিধান মানিয়া চলা, সংবিধানের লক্ষ্য এবং আদর্শ ছাড়াও জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

প্রশ্ন ২৭। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলিতে কি বুঝ?

 উত্তর। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ নির্বাচনে এবং শাসন কার্যে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। 

প্রশ্ন ২৮। গণতন্ত্রের একটি গুণ উল্লেখ কর। 

উত্তর। গণতন্ত্র একপ্রকার জনগণের সরকার হওয়ার জন্য ইহা সকল শ্রেণীর মানুষকে দেশের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার সুবিধা প্রদান করে। 

প্রশ্ন ২৯। গণতন্ত্রের একটি দোষ উল্লেখ কর। 

উত্তর। গণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষণস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গণতন্ত্রে দল অদল- বদল করিয়া সরকার ভাঙ্গা-গড়ায় সদস্যগণ লিপ্ত থাকিতে দেখা যায়।

প্রশ্ন ৩০। ছায়া মন্ত্রীসভা কি?

 উত্তর। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় শাসনে অধিষ্ঠিত না থাকা দলটি একটি ছায়া মন্ত্রীসভা গঠন করিয়া মন্ত্রীদপ্তরের যজ্ঞ-কর্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করিয়া সংসদে সেই মন্ত্রী দপ্তরের ভুল-ত্রুটিগুলি প্রকাশ করে এবং কঠোরভাবে সমালোচনা করে। 

প্রশ্ন ৩১। ভারতে গণতন্ত্র সফল হইয়াছে কি? 

উত্তর। ১৯৪৭ সনের ১৫ আগস্টে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ইহার পর হইতেই ভারতে গণতান্ত্রিক সরকার শাসনকার্য চালাইয়া আসিতেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইয়া আসিতেছে। তাহা ছাড়া ভারতের জনগণ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করিয়াছে। সুতরাং বলা যায় যে এই উন্নয়নশীল ভারতে গণতন্ত্র সফল হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৩২। প্রভাবগোষ্ঠীসমূহের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে কি?

 উত্তর। প্রভাবগোষ্ঠীসমূহের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে না।

প্রশ্ন ৩৩। গণতন্ত্রে জনমতের বিশেষ প্রয়োজন কেন? 

উত্তর। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় যেহেতু জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ শাসনকার্য চালায় সেইহেতু তাহাদিগকে জনমতের দ্বারা সর্বদা সতর্ক করিয়া রাখিলেই সুস্থ শাসন আশা করা যায়।

 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। সংসদীয় গণতন্ত্র কী? ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং ইংল্যাণ্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।

উত্তর : সংসদীয় গণতন্ত্র হইল একপ্রকার শাসন ব্যবস্থা যেখানে জন প্রতিনিধির দ্বারা গঠিত একটি সংস্থার উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। 

ইংল্যাণ্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল পার্থক্যগুলি হইল- 

(i) ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রধানতঃ প্রথমে গণরাজ্য কিন্তু ইংল্যান্ডের সংসদীয় গণতন্ত্র গণরাজ্য নয়। 

(ii) ভারতবর্ষের সংসদের উচ্চ সদন রাজ্যসভার গঠন এবং ক্ষমতা ইংল্যাণ্ডর উচ্চ সদন হাউস অব লর্ডস (House of Lords) হইতে বহু পৃথক। 

(iii) ইংল্যাণ্ডের সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদটি অতি শক্তিশালী। কিন্তু ভারতবর্ষের সংসদ তত শক্তিশালী নয়। অবশ্য আমাদের দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশটিকে বিশ্বের একটি মর্যাদাসম্পন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করিতে সফল হইয়াছে।

প্রশ্ন ২। ভারতবর্ষের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সংবিধানের আদর্শ কীভাবে প্রকাশ পাইয়াছে আলোচনা কর।

 উত্তর : ভারতের সংবিধানটির শুরুতে ‘প্রস্তাবনা’ বলিয়া একটি সূচনা সন্নিবিষ্ট করিয়াছে। ইহা সংবিধানটির অন্তর্গত নয় যদিও এই প্রস্তাবনাটির গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা দর্পণে মানুষের মুখচ্ছবি প্রতিফলিত হওয়ার মত সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতীয় সংবিধানের মূল বিষয়বস্তু, যেমন—আদর্শ ও লক্ষ্য সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হইয়াছে। এই প্রস্তাবনাটিতে ভারতের হাজার হাজার বছরের পুরোনো ভাব, চিন্তা, দর্শন, সভ্যতা, সংস্কৃতির নিকটি শুদ্ধভাবে প্রকাশ পাইয়াছে। প্রাচীন যুগ হইতে বুদ্ধের সত্য, অহিংসা, সমতা, মানবতা ‘ ইত্যাদি যেসব প্ৰমূল্যগুলিকে ভারতবর্ষ মনে-প্রাণে উচ্চ স্থান দিয়া আসিয়াছে তাহার প্রকাশ । পাইয়াছে এই প্রস্তাবনাতে। প্রস্তাবনাটি যেন ভারতীয় মূল্যবোধের পরিচায়ক ও সংবিধানটির প্রাণ, আত্মা। প্রস্তাবনাটিতে ভারতের সংবিধানের সকল বিষয়বস্তু ও আধার অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে। প্রস্তাবনাটির অবিহনে ভারতের সংবিধানটি অসম্পূর্ণ হইয়া রইবে। 

প্রশ্ন ৩। ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজবাদী’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’, ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘গণরাজ্য’ বলিতে কি বুঝ বিস্তৃতভাবে আলোচনা কর। অথবা, ভারতবর্ষকে কেন সার্বভৌম সমাজবাদী ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক গণরাজ্য বলা হয়? 

উত্তর : ভারতীয় সংবিধানের প্রথমেই সন্নিবিষ্ট করা ‘প্রস্তাবনা’ নামের সূচনাটিতেই আমাদের সংবিধানটির প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ পাইয়াছে। এই প্রস্তাবনাটিতে বিশেষভাবে উল্লেখিত কয়েকটি বিষয়বস্তু সংবিধানটিকে আলাদা মর্যাদা প্রদান করিয়াছে। উদাহরণস্বরূপে, প্রস্তাবনাতে ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক গণরাজ্য বলিয়া অভিহিত করিয়াছে। এই প্রতিটি শব্দই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ। ইহার ‘সমাজবাদী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুইটি প্রথমে প্রস্তাবনাতে সন্নিবিষ্ট হয় নাই। ১৯৭৬ সালে হওয়া সংবিধান সংশোধনী (৪২ নং সংশোধনী) মতেহে এই শব্দ দুইটি ঢোকানো হয়। অবশ্যে বাকী শব্দ কয়টি পূর্ব হইতেই ছিল। নীচে এই শব্দ কয়টির তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত অর্থ আলোচনা করা হইল।

(ক) ‘সার্বভৌম’ শব্দটি ভারতকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করিয়াছে। ইহার অর্থ হইল ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও ইহার বাহিরের বা ভিতরের কোনো শক্তি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে প্রত্যাহ্বান জানাইতে পারিবে না।

(খ) ‘সমাজবাদী’ শব্দটি এই অর্থ ও তাৎপর্য বহন করিতেছে যে ভারত সরকার কার্যতঃ সকল দেশবাসীর আয়, মর্যাদা ও জীবন-ধারণের মানদণ্ড উন্নত করিতে হইবে ও দেশ হইতে সকল ধরনের অসমতা ও বৈষম্য দূর করিতে হইবে। উৎপাদনের উপাদানগুলির জাতীয়করণ করিতে হইবে ও জাতীয় আয়ের সমবিতরণ হইতে হইবে। দেশের অর্থনীতি জনসাধারণহে, পুঁজিপতিরা নির্ধারণ করিতে পারিবে না। 

(গ) ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি বুঝাইতেছে যে ভারতের কোনো একটি ধর্মকে সরকারি মর্যাদা দেওয়া হইবে না। সরকারের দৃষ্টিতে সকল ধর্ম সমান ও প্রতিটি ধর্মের মানুষ নির্ভয়ে নিজের ধর্ম পালন করিতে পারিবে। সরকারি শিক্ষানুষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হইবে না।

 (ঘ) ‘গণতান্ত্রিক’ শব্দটি এই অর্থ বুঝাইতেছে যে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি দেশের শাসন-ব্যবস্থা পরিচালিত করিবে। এছাড়াও দেশের সরকার সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনসাধারণের কাছে দায়বদ্ধ থাকিবে। গণতান্ত্রিক প্রমূলাগুলি কার্যে রূপায়ণ করিতে সরকার সকল ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর হইবে।

 (ঙ) ‘গণরাজ্য’ শব্দটি ভারতকে একটি গণরাজ্যের মর্যাদা প্রদান করিয়াছে কারণ ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ‘রাষ্ট্রপতি’ জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত ব্যক্তি, ইংল্যাণ্ডের রাণীর মত বংশানুক্রমিক নয়।

 উপর্যুক্ত আলোচনা সংবিধানের সূচনাতে থাকা বিশেষ শব্দকরটির অর্থ ও তাৎপর্য বুঝিতে সাহায্য করিবে। 

প্রশ্ন ৪। পণ্ডিত নেহরুর উদ্দেশ্য সম্পর্কিত প্রস্তাবকয়টি আলোচনা কর। 

উত্তর : ভারত স্বাধীন হওয়ার পূর্বেই কেবিনেট মিশনের পদক্ষেপে ভারতের শাসন ব্যবস্থা চালাইতে সুবিধা হওয়ার জন্য একটি সংবিধান রচনা করিতে সংবিধান সভা গঠিত হইয়াছিল। ইহার বৈঠক ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বরে ডঃ সচ্চিদানন্দ সিনহার সভাপতিত্বে প্রথম অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ও সেই সালের ১৩ ডিসেম্বরে পণ্ডিত নেহরু কয়েকটি উদ্দেশ্য সম্পর্কিত প্রস্তাব সংবিধান সভায় আলোচনা করিবার জন্য উত্থাপন করিয়াছিল। সেই কয়টি নীচে আলোচনা করা হইল। 

(ক) ভারতবর্ষকে স্বাধীন, সার্বভৌম, প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করিতে পণ্ডিত নেহরু সংবিধান সভাকে আলোচনা করিতে এই প্রস্তাবের দ্বারা আহ্বান জানাইয়াছিল।

(খ) ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল ও ভারতবর্ষের অন্তর্গত দেশীয় রাজ্যগুলির যেসব স্বাধীন ভারতে অন্তর্ভুক্ত হইতে চায় সেইগুলিকে লইয়া রাজ্যসমূহের একটি সংঘ-রাষ্ট্র (Union of States) গঠন করার প্রস্তাব পণ্ডিত নেহরু সংবিধান সভাকে প্রস্তাব নিয়াছিল।

(গ) স্বাধীন ভারতের জনসাধারণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়, সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা, এছাড়াও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ান প্রস্তাব নেহরু দিয়াছিল। 

(ঘ) অনুসূচিত জাতি, জনজাতি তথা অনুন্নত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য নেহরু প্রস্তাব দিয়াছিল। 

(ঙ) রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার্থে ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ নেহরু দিয়াছিল। 

(চ) বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সু-সম্পর্ক ও বিশ্ববাসীর কল্যাণার্থে ভারতের পূর্ণ সহযোগিতার কথা পণ্ডিত নেহরু তাহার পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছিল।

(ছ) ভারতের জনসাধারণই সকল ক্ষমতার উৎস হওয়া ও সার্বভৌম ভারতের সরকার জনসাধারণ হইতে ক্ষমতা আহরণ করা পণ্ডিত নেহরু প্রস্তাবের আকারে প্রকাশ করিয়াছিল।

(জ) যেসব দেশীয় রাজ্য সংঘে যোগ দেয় সেই রাজ্যগুলি সংবিধান প্রদত্ত অবশিষ্ট ক্ষমতার অধিকারী হিসাবে অঙ্গরাজ্যের স্বীকৃতি লাভ করিয়া স্বায়ত্ত শাসন চালাইতে পারিবে। 

নেহরুর এই প্রস্তাবকয়টিকে গুরুত্ব সহকারে সংবিধান সভা গ্রহণ করিয়া সংবিধানের মূল আধার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে।

 প্রশ্ন ৫। ভারতবর্ষের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা কর।

উত্তর : ভারত স্বাধীন হওয়ার পর যে নতুন সংবিধান রচনা করিয়া ভারতবাসী জনসাধারণ নিজেকে প্রদান করে সেখানে একটি যুক্তরাষ্ট্র হিসাবে পরিচয় প্রদান করিয়াছে। নীচে সংবিধান মতে প্রবর্তন হওয়া ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হইল। 

(ক) ভারত একটি ব্যতিক্রমী যুক্তরাষ্ট্র যাহাকে পণ্ডিতসকল অর্ধ যুক্তরাষ্ট্র বলিয়া আখ্যা দিয়াছে যেহেতু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মত প্রকৃত যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে নাই।

(খ) ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাতে এককেন্দ্রিক ব্যবস্থারো কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন- একক নাগরিকত্ব, সমগ্র রাষ্ট্রের জন্য একটি সংবিধান, জরুরীকালীন অবস্থাতে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া ইত্যাদি। 

(গ) ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৈশিষ্ট্য হইল এই যে এখানে দুই ধরনের সরকার আছে— কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রদেশগুলিতে প্রাদেশিক বা রাজ্যিক সরকার ।

(ঘ) সংবিধানে কেন্দ্রীয় সরকার শাসন চালাইবার জন্য আবশ্যক হওয়া ক্ষমতা কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত করিয়াছে ও রাজ্যগুলি শাসন চালাইবার জন্য একটি আলাদা রাজ্যিক তালিকা সন্নিবিষ্ট করিয়াছে।

(ঙ) ভারত রাষ্ট্রটি নতুন করিয়া প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য ইহার ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার অর্থে তথা সার্বভৌমত্ব বজায় রাখিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করিতে রাজ্যিক সরকার হইতে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছে।

 সংবিধান প্রণেতাসকল ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করিতে যুক্তরাষ্ট্রে’র ‘গৃহভূমি’রূপে খ্যাত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানটি সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ না করিয়া কানাডার সংবিধান ও ইংল্যাণ্ডের সংবিধানেরও কিছু নীতি গ্রহণ করার জন্য ভারতের সংবিধানটি একটি আলাদা রূপ ও মর্যাদা পাইয়াছে। ভারতকে একটি অর্থ যুক্তরাষ্ট্র বলার ইহাও একটি কারণ।। 

প্রশ্ন ৬। ভারতবর্ষের সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহের উপরে ব্যাখ্যা কর। 

অথবা, 

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মত ভারতবর্ষ একটি যুক্তরাষ্ট্র হয় কি? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভারতের নতুন সংবিধানে দেশটিকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আধারে গঠন করিলেও এখানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থারও কিছু লক্ষণ প্রত্যক্ষ করা দেখা যায়। সেইজন্য ভারতের সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলিয়া আখ্যা দেওয়া দেখা যায় না। বহুজনে এমনকি ইহাকে অর্থ-যুক্তরাষ্ট্র ও ব্যতিক্রমী যুক্তরাষ্ট্র বলিয়াও আখ্যা প্রদান করিয়াছে। নীচে ভারতীয় সংবিধানের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হইল। 

(ক) ইংল্যাণ্ডে থাকা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার মতই ভারতের রাজনৈতিক কার্যপালিকা (মন্ত্রী পরিষদ) সংসদের নিম্ন সদনের কাছে দায়বদ্ধ। 

(খ) ইংল্যাণ্ডের সংসদীয় ব্যবস্থার মতই নির্দিষ্ট কার্যকাল পূর্ণ করার পূর্বেই ভারতের সংসদের নিম্ন সদনে কেন্দ্রীয় সরকারকে (মন্ত্রী পরিষদ) ক্ষমতাচ্যুত করিতে পারে। 

(গ) ভারত যুক্তরাষ্ট্র হইলেও ভারতীয় নাগরিক ইংল্যাণ্ডের মত মাত্র একক নাগরিকত্ব পায়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মত দ্বৈত নাগরিকত্ব পায়না।

 (ঘ) ইংল্যাণ্ডের মত ভারতেও কেবল একটি সংবিধান আছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মত সদস্য রাজ্যগুলিকে নিজস্ব সংবিধান দেওয়া হয় নাই। 

(ঙ) ভারত যুক্তরাষ্ট্র হইলেও এখানে ইংল্যাণ্ডের এককেন্দ্রিক সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার মতই জরুরীকালীন অবস্থাতে ভারতের শাসন এককেন্দ্রিক হইয়া পরে, রাজ্য সরকারের ক্ষমতা লোপ পায়। 

(চ) অবশ্যে ইংল্যাণ্ডের সংসদের মত ভারতের সংসদটি বিশেষ করিয়া নিম্ন সদনটি সমপর্যায়ের শক্তিশালী নয়।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের মত নতুন সংবিধানটি। ভারতকেও একটি যুক্তরাষ্ট্রের শারিতে দাঁড় করাইয়াছে যদিও এখানে ইংল্যাণ্ডের সংসদীয় এককেন্দ্রিক সরকারের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপরে আলোচনা করার মত দেখিতে পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৭। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা আলোচনা কর। 

উত্তর। বিরোধী দল গণতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনপুষ্ট দল সরকার গঠন করে ও অন্যান্য দল বিরোধী দল হিসাবে কাজ করে।

 সরকারী নীতির সমালোচনা করাই বিরোধী দলের একমাত্র কাজ নহে। গঠনমূলক সমালোচনা করিয়া বিরোধী দল সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন প্রশাসন চালাইতে সরকারকে সাহায্য করিতে পারে। বর্তমানের বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকার গঠন করিতে পারে। সেইজনা সরকারকে সমালোচনা করার সময় বিরোধী দলের যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করা উচিত। সংবাদপত্র, সভা-সমিতি ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে বিরোধী দল দেশের সমস্যার প্রকৃত রূপ ও সেই সকল সমস্যা সমাধানের উপায়গুলি সম্বন্ধে জনসাধারণকে সচেতন করিয়া তুলিতে পারে। বিরোধী দলকে নিজের সপক্ষে জনমত সৃষ্টি করার জন্য সচেষ্ট হইতে হয়। দলীয় আদর্শ, কর্মপন্থা ইত্যাদি জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করিয়া ও গ্রাম ভিত্তিতে দলীয় সংগঠনের ব্যবস্থা করিয়া দলকে নিজের স্থিতি সুদৃঢ় করিবার চেষ্টা করিতে হয়। বিরোধী দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কবিয়া সরকার গঠন করিতে চেষ্টা করে ও সরকার গঠনের সুযোগ পাইলে দলীয় আদর্শ ও নীতি কার্যকরী করিতে চেষ্টা করে। 

সরকারের গৃহীত নীতি ও কাজের দোষগুলি দেখাইয়া দিয়া বিরোধী দল সরকারকে স্বেচ্ছাচারী হইয়া উঠা হইতে বিরত রাখিতে পারে। বিরোধী দলের অভাবে গণতন্ত্রের নামে দলীয় একনায়কত্ববাদের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরকারের দোষ-ত্রুটি দেখাইয়া দিয়া ও সরকারী নীতির গঠনমূলক সমালোচনা করিয়া সুস্থ প্রশাসন চালাইতে বিরোধী দল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করিতে পারে। 

প্রশ্ন ৮। মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতির মধ্যে পার্থক্যগুলি লিখ।

উত্তর ভারতের সংবিধানে মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতি নামক নুইটি অধ্যায় আছে। এই দুইটির মধ্যে পার্থক্যগুলি হইল : 

(ক) মৌলিক অধিকারগুলি সংবিধানের ৩য় অধ্যায়ে এবং রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিগুলি সংবিধানের ৪র্থ অধ্যায়ে সন্নিবিষ্ট করা হইয়াছে। 

(খ) মৌলিক অধিকারগুলি ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া কয়েকটি অধিকার। অপরপক্ষে রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিগুলি রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেওয়া কিছু নির্দেশ মাত্র।

(গ) মৌলিক অধিকার হইতে বঞ্চিত ব্যক্তি অধিকার চাহিয়া আদালতের কাছে আবেদন করিতে পারে কিন্তু নির্দেশাত্মক নীতি কার্যকরী না হইলে আদালতে যাওয়া যায় না। 

(ঘ) মৌলিক অধিকারসমূহ জনসাধারণের সুস্থ জীবন নির্বাহের সুবিধার্থে দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিগুলি কার্যকরী হইলে কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠিত হইতে পারে। 

(ঙ) মৌলিক অধিকারগুলি নিজে নিজে কার্যকরী হইতে পারে কিন্তু রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিগুলি নিজে নিজে কার্যকরী হয় না, রাষ্ট্রের সরকারকে কার্যকরী করিতে হয়। 

প্রশ্ন ৯। একদলীয় ও বহুদলীয় সরকারের মধ্যে পার্থক্য লিখ। 

উত্তর। (ক) একদলীয় সরকার ব্যবস্থায় কোন বিরোধী দল থাকে না। কিন্তু বহুদলীয় সরকার ব্যবস্থায় শাসনের গদীতে না থাকা দলগুলি সম্মিলিতভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। 

(খ) একদলীয় সরকার ব্যবস্থায় অন্য দলের উপস্থিতি না থাকার জন্য একদলীয় সরকারটি স্বেচ্ছাচারী হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বহুদলীয় সরকারে ইহার সম্ভাবনা থাকে না। 

(গ) একদলীয় সরকার ব্যবস্থায় একটাই রাজনৈতিক দল থাকার জন্য সরকারের স্থায়িত্ব থাকে। কিন্তু বহুদলীয় সরকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন দলের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটির জন্য সরকার ভাঙ্গা-গড়া হইতে দেখা যায়।

(ঘ) একদলীয় সরকার ব্যবস্থায় জনসাধারণের মধ্যে কোন বিকল্প রাজনীতির সুবিধা থাকে না। কিন্তু বহুদলীয় সরকার ব্যবস্থায় জনসাধারণ বিকল্প রাজনীতির সুবিধা পায়। 

(ঙ) একদলীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকারটি সুস্থির হওয়ার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে না। কিন্তু বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থায় সরকারের সুস্থিরতা না থাকিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। 

প্রশ্ন ১০। নাগরিকের চারি প্রকার মৌলিক কর্তব্যের বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর। ভারতীয় সংবিধানের ৪২নং সংশোধন অনুসারে নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্য রহিয়াছে। নীচে চারিটি কর্তব্য সম্বন্ধে আলোচনা করা হইল।

(ক) সংবিধান মানিয়া চলা, এবং ইহার সকল আদর্শ, রাষ্ট্রীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় চিহ্ন এবং রাষ্ট্রীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। সুতরাং প্রতিটি ভারতীয় নাগরিককে সেই মতে চলাটি প্রধান কর্তব্য।

(খ) ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং অক্ষুণ্ণ রাখা নাগরিকদের অপর একটি প্রধান কর্তব্য। 

(গ) ভারতের সকল লোকের মধ্যে ধর্মীয়, ভাষিক, আঞ্চলিক তথ্য সাম্প্রদায়িক অনৈক্য অতিক্রম করিয়া সামগ্রিকভাবে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করা এবং নারীর মর্যাদা হানিকর আচরণ ত্যাগ করা নাগরিকের এক উল্লেখযোগ্য কর্তব্য।

(ঘ) সরকারী সম্পত্তি রক্ষা করা, হিংসাত্মক কার্য পরিহার করা তথা ভারতের মিশ্রিত সংস্কৃতির পরম্পরা রক্ষা করা নাগরিকের একটি অন্যতম প্রধান কর্তব্য।

প্রশ্ন ১১। গণতন্ত্রের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় চারিটি শর্ত সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর। গণতন্ত্রের সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় চারিটি শর্ত হইল : 

(ক) জনসাধারণের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক ইচ্ছা এবং দায়িত্ববোধ থাকিতে হইবে। কারণ গণতন্ত্রের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ না থাকিলে অথবা দায়িত্ব সহকারে নিজের রাজনৈতিক কর্তব্যগুলি পালন না করিলে গণতন্ত্র কখনও সফল হইতে পারে না। 

(খ) গণতন্ত্র সফল হওয়ার জন্য অপর একটি শর্ত হইল জনসাধারণের সুশিক্ষা। কারণ, জনসাধারণের সুশিক্ষা না থাকিলে তাহারা গণতন্ত্রের আদর্শগুলির মর্যাদা উপলব্ধি করিতে পারে না।

(গ) গণতন্ত্রকে সফল করিতে হইলে প্রথমে সংবিধানটিকে গণতান্ত্রিক আদর্শের আধারে প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে এবং কোন অবস্থাতে গণতান্ত্রিক সংবিধানের ধারা বা বিধিগুলি পরিবর্তন করিতে পারিবে না। 

(ঘ) গণতন্ত্রের সফলতার জন্য অপর একটি শর্ত হইল জনসাধারণকে প্রদান করা সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকারসমূহ। তাহারা এই অধিকারগুলি উপভোগ করিতে পারিলেই গণতন্ত্র সফল হইবে।

 প্রশ্ন ১২। গণতন্ত্রে নির্বাচন ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন? 

উত্তর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধির দ্বারা গঠিত সরকার শাসনকার্য চালায়। সেইজন্য বলা হয় যে গণতান্ত্রিক সরকার হইল জনসাধারণের দ্বারা, জনসাধারণের জন্য এবং জনসাধারণের সরকার। এই ধরনের সরকার গঠন করা সম্ভব হয় একমাত্র নির্বাচনের দ্বারা। নির্বাচন না করিয়া গণতন্ত্র সম্ভবপর হয় না অথবা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা সম্ভবপর হয় না। সেইজন্য সামরিক একনায়কত্ববাদ এবং রাজতন্ত্র প্রচলিত রাষ্ট্রে নির্বাচনের কোন অস্তিত্ব নাই। কারণ এই সকল রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের কোন পরিবেশ নাই। 

সুতরাং দেখা যায় যে, যেখানে গণতন্ত্র আছে, সেখানে নির্বাচন রহিয়াছে। এক কথায় বলিতে গেলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করিতে হইলে নির্বাচন করিতে হইবেই। কারণ গণতন্ত্র এবং নির্বাচনের মধ্যে ওতঃপ্রোতভাবে সম্পর্ক রহিয়াছে।

Leave a Reply