SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-9| অসমের ভূগোল

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-9| অসমের ভূগোল প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-9| অসমের ভূগোল

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-9| অসমের ভূগোল দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় 9

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া লিখ : 

প্রশ্ন ১। নীচের কোনটি মানবসৃষ্ট সম্পদ?

(ক) নদনদী

(খ) খনিজ তেল

(গ) জলসিঞ্চন নালা 

(ঘ) অরণ্য 

উত্তর : জলসিঞ্চন নালা। 

প্রশ্ন ২। নীচের কোনটি অজীবীয় বা অজৈবিক সম্পদ?

(ক) বায়ু

(খ) উদ্ভিদ

(গ) ছত্রাক

(ঘ) শস্য 

উত্তর : বায়ু।

প্রশ্ন ৩। নীচের কোনটি অনবীকরণযোগ্য সম্পদ ? 

(ক) জল

(খ) সূর্যরশ্মি

(গ) উদ্ভিদ

(ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস 

উত্তর : প্রাকৃতিক গ্যাস।

 প্রশ্ন ৪। নীচের কোনটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী? 

(ক) এক শিং থাকা গন্ডার 

(খ) নল-শূকর

(গ) জিরাফ

(ঘ) মিথুন 

উত্তর : নল-শূকর।

প্রশ্ন ৫। IUCN সংস্থাটি কোন্ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থার অন্তর্গত? 

(ক) UNESCO

(খ) UNDP 

(গ) WWF 

(ঘ) UNEP 

উত্তর : UNESCO।

প্রশ্ন ৬। নিম্নের কোনটি অনবীকরণযোগ্য সম্পদ ? 

(ক) জল 

(খ) সূর্যরশ্মি

(গ) গাছপালা 

(ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস

উত্তর : প্রাকৃতিক গ্যাস। 

প্রশ্ন ৭। নিম্নের কোনটি প্রতিরোধক?

 (ক) বৃষ্টি

 (খ) অনুর্বর ভূমি 

 (গ) শিক্ষা

 (ঘ) জনস্বাস্থ্য

উত্তর : (খ) অনুর্বর ভূমি।

প্রশ্ন ৮। কাজিরাঙ্গা রাষ্ট্রীয় উদ্যানটি— 

(ক) অজৈবিক সম্পদ

(খ) জাতীয় সম্পদ 

(গ) ব্যক্তিগত সম্পদ

(ঘ) আন্তর্জাতিক সম্পদ 

উত্তর : জাতীয় সম্পদ। 

প্রশ্ন ৯। নিম্নের কোনটিকে বিকল্প সম্পদ বলা যায়-

(ক) সৌরশক্তি 

(খ) কৃত্রিম রবার 

(গ) কার্পাস

(ঘ) প্রাকৃতিক রবার 

উত্তর : কৃত্রিম রবার।

প্রশ্ন ১০। প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও উন্নত দেশটি হইল— 

(ক) জাপান

(খ) চীন

(গ) রাশিয়া 

(ঘ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 

উত্তর : জাপান। 

প্রশ্ন ১১। প্রতিরোধক সামগ্রীর একটি উদাহরণ হইল— 

(ক) বন্যা জর্জরিত অঞ্চল 

(খ) নিরপেক্ষ সামগ্রী 

(গ) উর্বর মাটি

(ঘ) সূর্যের রশ্মি 

উত্তর : বন্যা জর্জরিত অঞ্চল।

প্রশ্ন ১২। শিল্পের কোনটি সম্পত্তি নয়— 

(ক) যন্ত্রপাতি 

(খ) কোম্পানির শেয়ার

(গ) বাড়ি-ঘর

 ঘ) জল

উত্তর : জল। 

 প্রশ্ন ১৩। মানুষকে বলা হয়—

(ক) নিরপেক্ষ সম্পদ 

(খ) প্রাকৃতিক সম্পদ 

(গ) মানবসৃষ্ট সম্পদ

(ঘ) মানব সম্পদ

উত্তর : মানব সম্পদ।

প্রশ্ন ১৪। কোন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে দেশটির 

(ক) জনসংখ্যার উপর

(খ) যানবাহনের উপর

(গ) সম্পদের মান ও প্রচুর্যের উপর 

(ঘ) মানব সম্পদের উপর

উত্তর : সম্পদের মান ও প্রাচুর্যের উপর। 

প্রশ্ন ১৫। নিম্নের কোনগুলি জাতীয় সম্পদের অন্তর্গত— 

(ক) কর্মদক্ষতা 

(খ) অরণ্যে থাকা গাছপালা বা জীবজন্তু 

(গ) বায়ুমণ্ডল 

(ঘ) সাগর ও মহাসাগর এবং তার খনিজ সম্পদ বা জীবজন্তু

 উত্তর : অরণ্যে থাকা গাছপালা বা জীবজন্তু।

প্রশ্ন ১৬। জীবন ধারণের জন্য যে সকল বস্তুর – আছে তাহাকে সম্পত্তি বলে। 

(ক) কার্যকারিতা 

(খ) উপকারিতা 

(গ) উপযোগিতা 

(ঘ) বিনিময় মূল্য 

উত্তর : বিনিময় মূল্য। 

প্রশ্ন ১৭। রাস্তাঘাট একটি —

(ক) মানব সম্পদ 

(খ) জৈবিক সম্পদ 

(গ) মানবসৃষ্ট সম্পদ

(ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদ

 উত্তর : মানবসৃষ্ট সম্পদ। 

প্রশ্ন। ১৮। এশিয়া মহাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ বাস করে—

(ক) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে 

(খ) মৌসুমী অঞ্চলে

(গ) বিষুবীয় অঞ্চেলে

(ঘ) মাঞ্চুরীয় অঞ্চলে 

উত্তর ঃ মৌসুমী অঞ্চলে। 

প্রশ্ন ১৯। সম্পদের মাধ্যমে মানব জাতির— 

(ক) অবনতি হয় 

(খ) কল্যাণ হয় 

(গ) অকল্যাণ হয় 

(ঘ) ধ্বংস হয়

উত্তর : কল্যাণ হয়।

প্রশ্ন ২০। সূর্যরশ্মি একটি- ধ্বংস হয়

(ক) মানব সম্পদ 

(খ) মানবসৃষ্ট সম্পদ 

(গ) প্রাকৃতিক সম্পদ

(ঘ) সম্ভাবনাময় সম্পদ

উত্তর : প্রাকৃতিক সম্পদ। 

প্রশ্ন ২১। কর্মদক্ষতা-

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পদ 

(খ) ব্যক্তিগত সম্পদ 

(গ) জাতীয় সম্পদ 

(ঘ) নিরপেক্ষ সম্পদ

 উত্তর : ব্যক্তিগত সম্পদ। 

প্রশ্ন ২২। নিম্নের কোনটি সম্পদের বৈশিষ্ট্য নয়— 

(ক) কার্যকারিতা 

(খ) পরিবর্তনশীলতা

(গ) উপকারিতা 

(ঘ) প্রয়োজনীয়তা

উত্তর : প্রয়োজনীয়তা।

প্রশ্ন ২৩। নিম্নে প্রদত্ত কোনটি চির বিরাজমান সম্পদ? 

(ক) সূর্যের রশ্মি 

(খ) কয়লা

(গ) পেট্রোলিয়াম

(ঘ)উদ্ভিদ

 উত্তর : (ক) সূর্যের রশ্মি। 

প্রশ্ন ২৪। অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল উদ্দেশ্য হইল 

(ক) মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বিতরণ (খ) একটি স্থানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি এবং দিক নির্ণয় 

(গ) বৃত্তিগত উন্নয়নে পরামর্শ দান

 (ঘ) উপরের একটাও নয় 

উত্তর : (খ) একটি স্থানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি এবং দিক নির্ণয় 

প্রশ্ন ২৫। ‘কৃষিকর্ম’ নিম্নে দেওয়া কোনটি বৃত্তিতে পরে ? 

(ক) প্রাথমিক বৃত্তি 

(খ) দ্বিতীয় বৃত্তি 

(গ) তৃতীয় বৃত্তি 

(ঘ) চতুর্থ বৃত্তি

 উত্তর : (ক) প্রাথমিক বৃত্তি

প্রশ্ন ২৬। বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয় 

(ক) ৫ জুন

(খ) ২২ জুন

(গ ২১ মে’ 

(ঘ) একটাও না 

উত্তৰ : (ক) ৫ জুন

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। ভারতীয় বন গবেষণা কেন্দ্র কখন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৮৬ সনের ভারতীয় বন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। 

প্রশ্ন ২। সম্পদ কি? 

উত্তর : মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বস্তুকেই সম্পদ বলে। 

প্রশ্ন ৩। নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় সামগ্রী কাহাকে বলে? 

উত্তর : যেসকল বস্তু মানুষের কোন ধরনের উপকার বা অপকার সাধন করেন। সেইসকল বস্তুকেই নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় সম্পদ বলে। 

প্রশ্ন ৪। দুই প্রকার চির বিরাজমান সম্পদের নাম লিখ ? 

উত্তর : সূর্য রশ্মি এবং বায়ু।

প্রশ্ন ৫। একপ্রকার মানবসৃষ্ট সম্পদের উদাহরণ দাও। 

উত্তর : বাঁশ হইতে কাগজ বা তুলা হইতে কাপড়। 

প্রশ্ন ৬। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানটি অসমের কোন্ জেলায় অবস্থিত? 

উত্তর : গোলাঘাট জেলায় (বোকাখাত মহকুমায়)। 

প্রশ্ন ৭। একটি সামগ্রীর উদাহরণ দাও, যেটি সম্পদ এবং সম্পত্তি উভয়ই।

উত্তর : ঘর-বাড়ি, ভূমি।

প্রশ্ন ৮। যে সকল সামগ্ৰী বা পরিঘটনা মানুষের অপকার সাধন করে তাহাকে কি বলা হয়। 

উত্তর : প্রতিরোধক।

প্রশ্ন ১। ন্যাথা কোন্ দ্রব্য হইতে পাওয়া যায়? 

উত্তর : খনিজ তৈল।

প্রশ্ন ১০। সূর্যরশ্মি কোন্ প্রকারের সম্পদ?

 উত্তর : নবীকরণযোগ্য। 

প্রশ্ন ১১। দুইটি জৈবিক সম্পদের উদাহরণ দাও। 

উত্তর : উদ্ভিদ, মাছ। 

প্রশ্ন ১২। পৃথিবীর কোন দেশটি জনসংখ্যার দিক থেকে প্রথম ?

উত্তর : চীন দেশ।

প্রশ্ন ১৩। সম্পদের সাথে মানুষ কি কি ভাবে জড়িত? 

উত্তর : (ক) সম্পদের উৎপাদক, (খ) উপভোক্তা হিসাবে।

প্রশ্ন ১৪। মাছ কোন্ প্রকারের সম্পদ? উত্তর : জৈবিক সম্পদ।

প্রশ্ন ১৫। সোনা কোন্ প্রকারের সম্পদ ?

 উত্তর : অনবীকরণযোগ্য।

প্রশ্ন ১৬। শিক্ষানুষ্ঠান কোন প্রকারের সম্পদ ? 

উত্তর : সামাজিক সম্পদ। 

প্রশ্ন ১৭। অরণ্য কোন্ প্রকারের সম্পদ ? 

উত্তর : অনবীকরণযোগ্য। 

প্রশ্ন ১৮। অর্থনৈতিক ভূগোল কোন প্রধান বিষয়টির অন্তর্গত? 

উত্তর : ভূগোল। 

প্রশ্ন ১৯। মানুষ সম্পদের সহিত কি কি ভাবে জড়িত?

উত্তর : সম্পদের উৎপাদক এবং উপভোক্তা হিসাবে। 

প্রশ্ন ২০। দামোদর নদ কোন্ প্রদেশে অবস্থিত? 

উত্তর : পশ্চিমবঙ্গে। 

প্রশ্ন ২১। সম্পত্তির একটি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কর। 

উত্তর : ইহার বিনিময় মূল্য আছে। 

প্রশ্ন ২২। দুইটি অজৈবিক সম্পদের উদাহরণ দাও। 

উত্তর : মাটি, জল।

 প্রশ্ন ২৩। সামাজিক সম্পদ কাহাকে বলে ? 

উত্তর : সমাজের অধীনস্থ সম্পদগুলিকে সামাজিক সম্পদ বলা হয়। যথা— বিদ্যালয়, গ্রন্থাগার প্রভৃতি। 

প্রশ্ন ২৪। সম্পদের প্রতিবন্ধকতা বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : যে সমস্ত বিষয় বা বস্তুসমূহ মানুষের অপকার করে বা উন্নতিতে বাধা দান করে তাহারাই সম্পদের প্রতিবন্ধক।

প্রশ্ন ২৫। মানবিক সম্পদের উপাদানগুলি কি কি? উত্তর ঃ মানবিক সম্পদের উপাদানগুলি যথা— মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, শিক্ষা, বুদ্ধি, কর্মকুশলতা প্রভৃতি। 

প্রশ্ন ২৬। জাতীয় সম্পদ কাহাকে বলা হয় ? 

উত্তর : কোন একটি দেশের মালিকাধীন সম্পদকে সেই দেশের জাতীয় সম্পদ বলা হয়। যথা—তৈলক্ষেত্র, স্বর্ণখনি, কয়লাখনি ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ২৭। সম্পদের সংজ্ঞা লিখ।

উত্তর : মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বস্তুকে সম্পদ বলে। সম্পদের কার্যকারিতা এবং উপকারিতা এই দুইটি গুণ থাকিতে হইবে।

প্রশ্ন ২৮। নবীকরণযোগ্য ও অনবীকরণযোগ্য সম্পদের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

উত্তর : নবীকরণযোগ্য সম্পদ : যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হইয়াও পুরোপুরি নিঃশেষ হইয়া যায় না, কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে আবার পরিপূর্ণ হয়, তাহাকে নবীকরণযোগ্য সম্পদ বলা হয়। 

যেমন— সূর্যের আলো, বায়ু প্রবাহ, গাছপালা ইত্যাদি।

অনবীকরণযোগ্য সম্পদ  : যেসকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হইয়া যায় এবং ভবিষ্যতে পরিপূর্ণ হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না, তাহাকে অনবীকরণযোগ্য সম্পদ বলে। যেমন- খনিজ পদার্থ, খনিজ তেল, কয়লা ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ২৯। সমগ্র বিশ্ব জুড়িয়া পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য কোন্ কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে? 

উত্তর : সমগ্র বিশ্বজুড়িয়া পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয়, রাষ্ট্রীয়, আঞ্চলিক তথা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৩০। পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। কোন্ সংস্থা বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে? 

উত্তর : রাষ্ট্রসংঘের অন্তর্গত আন্তরাষ্ট্রীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (International Union for Conservation of Nature IUCN) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

প্রশ্ন ৩১। কাহার প্রচেষ্টায় এবং কোথায় IUCN প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল?

উত্তর : ১৯৪৮ সনে UNESCO-র সঞ্চালক প্রধান জুলিয়ান হাক্সলের (ব্রিটিশ জীব বিজ্ঞানী) প্রচেষ্টায় ফ্রান্সে IUCN প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩২। IUCN সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য কি ?

উত্তর : IUCN সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য হইল সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রকৃতিক সম্পদের সংরক্ষন তথা জৈব বৈচিত্র্য সম্পর্কে অধ্যয়ন, গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ  করা।

প্রশ্ন ৩৩। IUCN-র অধীনে কি কি সংস্থা গঠন হইয়াছে? 

উত্তর : IUCNর নেতৃত্বে WWF for Nature (World Wide Fund for Nature) ও বিশ্ব সংরক্ষণ নিরীক্ষণ কেন্দ্র (World Conservation Monitoring Centre) স্থাপিত হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৩৪। ভারতবর্ষে পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে? 

উত্তর : ভারতে পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সরকারীভাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন নামে একটি মন্ত্রণালয় (Ministry of Environment.

Forests and Climate Change) গঠন করা হইয়াছে। এই মন্ত্রণালয় প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ পরিবেশ সুরক্ষা সম্পর্কীয় আইন প্রণয়ন করে। ১৯৮৬ সনে ভারতীয় বন গবেষণা ও শিক্ষা সংস্থা (Indian Council of Forestry Research and Education) গঠিত হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৩৫। ভারতবর্ষে বেসরকারীভাবে পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষার জন্য কোন্ কোন্ সংগঠন কাজ করিয়াছে? 

উত্তর ঃ ভারতবর্ষে বেসরকারীভাবে বিজ্ঞান ও পরিবেশ কেন্দ্র (Centre for Science and Environment), গ্রীণপিস ইন্ডিয়া (Greenpeace India), ওয়াইড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (Wildlife Trust of India) অজস্র কাজ করিয়াছে। 

প্রশ্ন ৩৬। অসমে পরিবেশ সুরক্ষা ও জৈব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য কোন্ কোন্ দুইটি বেসরকারী সংস্থা কাজ করিয়াছে? 

উত্তর : অসম বিজ্ঞান সমিতি এবং আরণ্যক বেসরকারী সংগঠন। 

প্রশ্ন ৩৭। কোন্ দিনটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয় ?

 উত্তর : ৫ই জুন তারিখে। 

→ রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর ঃ

প্রশ্ন ১। অর্থনৈতিক ভূগোল কাহাকে বলে ? ইহার মূল বিষয়বস্তু কি? অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাগুলির উল্লেখ কর।

উত্তর : ভূগোলের যে শাখাতে সম্পদের উৎপাদন, বিতরণ, উপভোগ এবং বিনিময়ের সহিত জড়িত মানুষের কার্যকলাপ স্থান-কাল সাপেক্ষে অধ্যয়ন করা হয়, তাহাকে অর্থনৈতিক ভূগোল বলা হয়। 

অর্থনৈতিক ভূগোলে সম্পদ ও মানুষের ক্রিয়াকলাপের সহিত জড়িত সকল প্রকারের কথা আলোচনা করা হয়। ভূ-পৃষ্ঠে বিরাজিত প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট পরিবেশের উপাদানগুলির বিভিন্নতার ফলে মানুষের জীবন প্রণালীর ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্থান বিশেষে পৃথক পৃথক হয়। ইহার ফলে পৃথিবীর সকল স্থানই একটি অপরটির উপর নির্ভরশীল এবং একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়িয়া উঠিয়াছে। যেমন, ভূ-পৃষ্ঠের যেসকল স্থানে উর্বর সমভূমি সেইস্থানে উন্নত কৃষি তৃণভূমি অঞ্চলে পশুপালন, উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য শিকার এবং যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা আবার খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ অঞ্চলে ঔদ্যোগিক শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে।

 অর্থনৈতিক ভূগোলের বিভিন্ন প্রকারের বিশেষ শাখা-প্রশাখা গড়িয়া উঠিয়াছে। এইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল— কৃষি ভূগোল, ঔদ্যোগিক ভূগোল, সম্পদ ভূগোল, পরিবহন ভূগোল, বাজার ভূগোল, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভূগোল, পর্যটন ভূগোল ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক ভূগোল এবং ইহার শাখা-প্রশাখার অধ্যয়ন সম্পদ বৃত্তোরের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

প্রশ্ন ২। অর্থনৈতিক ভূগোলের পরিসর সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : অর্থনৈতিক ভূগোল প্রধানত মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বিবরণ ইহার সহিত জড়িত কারক ও প্রক্রিয়াসমূহ অধ্যয়ন করা হয়। অর্থনৈতিক ভূগোল মৃগয় মানুষের উৎপাদনক্ষম কার্যসমূহ এবং পারিবেশিক অবস্থার সম্পর্ক অধ্যয়ন করে।

অর্থনৈতিক ভূগোল কয়েকটি পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করা হয়। এইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ হইল— আঞ্চলিক, উপাদান, ব্যবহার, নীতি, তন্ত্র এবং প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অধ্যয়নই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক কালে অর্থনৈতিক ভূগোলের ব্যবহারিক অধ্যয়নে সাংখ্যিক প্রয়োগের সহিত ভৌগোঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও বিভিন্ন সূত্ৰ-নিদর্শ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। 

প্রশ্ন ৩। মানুষের অর্থনৈতিক বৃত্তি বলিতে কি বুঝায়? এই ধরনের অর্থনৈতিক বৃত্তি সমূহ কি কি? 

উত্তর : অর্থনৈতিক ভূগোলের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার সহিত মানুষ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যে লিপ্ত। এইসকল বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যসমূহই মানুষের অর্থনৈতিক বৃত্তি। 

মানুষের অর্থনৈতিক বৃত্তি বা কার্য চারি প্রকারের- 

(ক) প্রাথমিক বৃত্তি যে কার্যের দ্বারা মানুষ প্রকৃতি হইতে সম্পদ আহরণ করে তাহাকে প্রাথমিক বৃত্তি বলে। যেমন— কৃষিকার্য, মৎস্য শিকার, বনজ সম্পদ আহরণ, খনিজ সম্পদ আহরণ ইত্যাদি। 

(খ) দ্বিতীয় বৃত্তি ঃ যে কার্যের দ্বারা মানুষ প্রকৃতি হইতে আহরণ করা বিভিন্ন দ্রব্য নানা প্রকারের প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারোপযোগী করিয়া তুলে তাহাকে দ্বিতীয় বৃত্তি বলে। যেমন — শিল্পোৎপাদন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন নির্মাণ বা পুননির্মাণ কার্য ইত্যাদি। 

(গ) তৃতীয় বৃত্তি : যে কার্য দ্বারা প্রাথমিক ও দ্বিতীয় বৃত্তির মাধ্যমে উৎপাদিত সামগ্রীসমূহ উপভোক্তার নিকটে পৌঁছায় তাহাকে তৃতীয় বৃত্তি বলে। যেমন- যাতায়াত, পরিবহন, বাজার, পাইকারী বা ফুচরা বিক্রী, পর্যটন, যোগাযোগ ইত্যাদির সহিত জড়িত অর্থনৈতিক কার্যসমূহ। 

(ঘ) চতুর্থ বৃত্তি ঃ যে কার্যের দ্বারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃত্তিসমূহ অধিক সহজ ও ফলপ্রসূ করিয়া তুলিতে সাহায্য করে তাহাকে চতুর্থ বৃত্তি বলে। যেমন— ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য বিত্তীয় প্রতিষ্ঠান, প্রচার মাধ্যম, প্রশাসন, শিক্ষা-গবেষণা ইত্যাদির সহিত জড়িত কার্যসমূহ। 

প্রশ্ন ৪। অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাসমূহের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান শাখাসমূহ ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষেপে নিম্নে

দেওয়া হইল—

অর্থনৈতিক ভূগোেলর শাখাবিষয়বস্তু
কৃষি ভূগোলকৃষি ভূগোল অর্থনৈতিক ভূগোলের একটি অন্যতম প্রধান শাখা। “ইহাতে কৃষিকার্যের সহিত জড়িত কারকসমূহ, কৃষির প্রকার, কৃষি কার্যের বিতরণ ও পদ্ধতি, শস্যের উৎপাদন এবং ইহার সহিত জড়িত সূত্র, কৃষি সামগ্রীর বাজার তথা আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
ঔদ্যোগিক ভূগোল“ইহাতে উদ্যোগ স্থাপনের সহিত জড়িত অর্থনৈতিক তথা অন্যান্য কারকসমূহ, উদ্যোগের প্রকার ও ভৌগোলিক বিতরণ, ঔদ্যোগিক সামগ্রীর উৎপাদন, উদ্যোগ অবস্থানের সহিত জড়িত সুত্ৰ, ঔদ্যোগিক সামগ্রীর বাজার ও আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদির অধ্যয়ন করা হয়।
সম্পদ ভূগোলইহাতে সম্পদের প্রকার, আঞ্চলিক বিতরণ, সম্পদ উদ্ঘাটন ও উৎপাদনের সহিত জড়িত কারকসমূহ, সম্পদ ও উন্নয়নের সম্পর্ক, সম্পদের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
পরিবহন ভূগোলইহাতে পরিবহন ব্যবস্থার প্রকার ও ইহার সহিত জড়িত কারকসমূহ, সম্পদ বিতরণে পরিবহনের ভূমিকা, মানুষের যাতায়াত তথা অর্থনৈতিক কার্যকলাপে পরিবহনের ভূমিকা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন— ঔদ্যোগিক উন্নয়ন, কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়নে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ভূমিকা ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
বাজার ভূগোল পরিকল্পনা ওউন্নয়ন ভূগোল ইহাতে বাজার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ও ইহার কারকসমূহ, বাজারের প্রকার ও বিতরণ এবং ইহার সহিত জড়িত সূত্রসমূহ অধ্যয়ন করা হয়। ইহাতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত কারকসমূহ, পরিকল্পনা ব্যবস্থা, বহনক্ষম উন্নয়ন, অঞ্চল তথা উপাদান ভিত্তিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।
পর্যটন ভূগোলইহাতে পর্যটন ও ইহার বিকাশের সহিত জড়িত কারকসমূহ, পর্যটনের প্রকার, পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়।

প্রশ্ন ৫। সম্পদ ভূগোলকে কেন অর্থনৈতিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বলা হয় ?

উত্তর : অর্থনৈতিক ভূগোল এবং ইহার শাখা-উপশাখার অধ্যয়ন সম্পদ ভূগোলের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশটির সম্পদের মান এবং প্রাচুর্যের উপর প্রধানত নির্ভর করে। প্রখ্যাত সম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিমারম্যানের ধারণা অনুসারে “মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সহিত পরিবেশের সম্পর্ক যে শাস্ত্রে আলোচনা করা হয় তাহাকে অর্থনৈতিক ভূগোল বলে।”

কৃষি, খনিজ, শিল্প ও বাণিজ্যের কার্যকারিতা অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান ক্ষেত্র। সম্পদের অবস্থান আরোহণ অর্থনৈতিক সার্থকতার মাত্রা নির্ভর করে।

এপ্স্ ওয়ার্থ হাংন্টিংটনের মতে, মানুষের জীবন ধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন যেমন— প্রাকৃতিক সম্পদ, দ্রব্যসামগ্রী, মানুষের কার্যাবলি, রীতিনীতি, ক্ষমতা ও কর্মকুশলতা অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। 

প্রশ্ন ৬। সম্পদ বলিতে কি বুঝ? ইহার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর। 

উত্তর : মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকারের পদার্থকে সম্পন্ন ( Resource) বলা হয়। 

অর্থনৈতিক ভূগোলের ভাষায় কোন দ্রব্য বা পদার্থ সম্পদ নয়, দ্রব্যের উপযোগিতা (Utility) ও কার্যকারিতাকে (Functionability) সম্পদ বলা হয়। কোন নির্দিষ্ট স্থানে ও নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের চাহিদা মিটাইবার উপযোগী কোন পদার্থ বা দ্রব্য যে কাজ করিতে সক্ষম সেই কাজকে সম্পদ বলে। সম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিমারম্যান বলিয়াছেন, সম্পদ বলিতে কোন বস্তু বা পদার্থকে বুঝায় না; কোন বস্তু বা পদার্থ কাজ করিয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা অভাব পূরণ করিতে যে ভূমিকায় কাজ করে সেই কর্ম ক্ষমতাকেই সম্পদ বলে। 

সম্পদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হইল—(ক) উপকারিতা, (খ) কার্যকারিতা এবং (গ) পরিবর্তনশীল ধর্ম। 

(ক) উপকারিতা : উন্নততর সংস্কৃতি সম্পদের উপযোগিতা বা উপকারিতা বৃদ্ধি করে। যেমন—খনিজ তৈল একসময় জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হইত। বিজ্ঞান, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে খনিজ তৈল হইতে নতুন নতুন সম্পদ প্রস্তুত করা হয় যেমন—ডিজেল, কেরোসিন, রাসায়নিক সার ইত্যাদি।

 (খ) কার্যকারিতা : সম্পদের দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হইল কাজ করিবার ক্ষমতা বা কার্যকারিতা। যেমন—জল তৃষ্ণা মিটায়, জলকে পরিবহনের মাধ্যম, সেচের কাজ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের কাঁচা মাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

(গ) পরিবর্তনশীল ধর্ম : সম্পদের অবস্থান বা পরিবর্তনশীল ধর্ম অর্থনৈতিক সার্থকতার মাত্রা নির্ধারণ করে। যেমন— ভারতের বম্বে হাই অঞ্চলের খনিজ তৈল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার আছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত অসুবিধার জন্য ইহা পূর্বে ব্যবহার করা হয় নাই, বর্তমানে ইহা ব্যবহার করিয়া খনিজ তৈল ও প্রাকৃতিক গ্যাসকে সম্পদে পরিণত করা হইয়াছে। মানুষের জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন নতুন সম্পদের সৃষ্টি হইতেছে এবং ব্যবহারও বৃদ্ধি পাইতেছে। আবার সম্পদকে মানবসৃষ্ট সম্পদ এবং মানব সম্পন্ন এই দুইটি ভাগে ভাগ করা হইয়াছে। 

কাজেই সম্পদের অর্থ স্থান এবং সময়ভেদে পৃথক পৃথক হইতে পারে। 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ৭। সম্পদ পরিবর্তনশীল’—ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : সম্পদকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যাইতে পারে। বর্তমানে কোন সামগ্রী মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত না হইলেও অথবা মানুষের জন্য অপকারী হইলেও ভবিষ্যতে সেই একই দ্রব্যই মানব কল্যাণে ব্যবহৃত হইতে পারে। ইহাদের মধ্যে পৃথিবীতে পাওয়া দ্রব্যসমূহের যেইগুলি মানুষের কোন ধরনের উপকার বা অপকার সাধন করে না সেইগুলিকে নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় দ্রব্য (Neutral Stuff) বলা হয়। যেমন – মানুষের যতদিন পর্যন্ত শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লা বা খনিজ তৈলের ব্যবহার জানা ছিল না ততদিন পর্যন্ত মানুষের কাছে এইগুলি কেবলমাত্র নিরপেক্ষ বা অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য হিসাবে পরিগণিত হইত। 

অপরদিকে, যে সকল দ্রব্য মানুষের অপকার সাধন করে, সেইগুলিকে প্রতিরোধক ( Resistance) বলা হয়। যেমন অনুর্বর মাটি, বন্যা জর্জরিত অঞ্চল ইত্যাদি এক একটি প্রতিরোধ। 

অতএব, মানুষের জ্ঞানের প্রসার এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে পৃথিবীতে থাকা এই প্রকারের বহু নিরপেক্ষ সামগ্রী এবং প্রতিরোধক মানুষের সুপ্রচেষ্টায় সম্পদে রূপান্তরিত হইয়াছে। সম্পদের এই পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের জন্যই বর্তমানে উপকারী বলিয়া গণ্য হওয়া একটি দ্রব্য সময়ের গতিতে অপকারী বা নিষ্ক্রিয় হিসাবে রাপান্তর ঘটিতে পারে। কাজেই উন্নততর সংস্কৃতি, কার্য করিবার ক্ষমতা এবং সম্পদের আরোহণ অর্থনৈতিক সার্থকতার মাত্রা নির্ধারণ করে। মানুষের আর্থ-সামাজিক আদর্শ ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে সম্পদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। 

প্রশ্ন ৮। সম্পদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।

উত্তর ঃ মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রীকেই সম্পদ বলা হয়। পৃথিবীতে থাকা বায়ু, জল, সূর্য রশ্মি, মাটি, গাছপালা, ফলমূল, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি

মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। উষ্ণ সম্পদসমূহের প্রাচুর্যের জন্যই মানুষের মৌলিক প্রয়োজন—খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং অন্যান্য বহু চাহিদা পূরণের সাথে সাথে জীবন ধারণের মানের উন্নয়ন সম্ভব হইয়াছে। সম্পদের কার্যকারিতা ও উপকারিতা গুণ দুইটি থাকার সাথে সাথে মানব কল্যাণ এবং আর্থ-সামাজিক উৎকর্ষ সাধন সম্ভব হইয়াছে। এই জন্য সম্পদ এবং ইহার ব্যবহার মানব সমাজের উন্নয়নের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ সম্পদের সহিত দুইভাবে জড়িত— সম্পদের উৎপাদক এবং উপভোক্তা হিসাবে। মানুষের প্রয়োজনীয় বহু সম্পদ যদিও প্রকৃতি যোগান ধরে, ইহার বেশির ভাগের ব্যবহারিত দিকটি মানুষ প্রয়োজন অনুসারে প্রস্তুত করিয়া লয়। প্রকৃতিতে থাকা সামগ্রীগুলির কার্যকারিতা এবং উপকারিতা সম্পৰ্কীয় গুণগুলি মানুষের জ্ঞানের মাধ্যমে তযাতন করা হয়। মানুষের জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন নতুন সম্পদের সৃষ্টি হইয়াছে এবং ব্যবহারও হইয়াছে। এইজন্য মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদের রূপ পরিবর্ত করিয়া বা সরাসরি ব্যবহার করিয়া থাকে। সম্পদের উৎপাদক বা সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মানুষ একপ্রকার সম্পদ। প্রাকৃতিক এবং মানব সৃষ্ট সম্পদের ব্যবহারের তারতম্য নির্ভর করে। মানুষের চাহিদার পরিবর্তন ও নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নের উপর। কাজেই একটি সম্পরে অর্থ স্থান ও সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হইতে পারে।

 প্রশ্ন ৯। সম্পদ ও মানুষের মধ্যে থাকা সম্পর্কের বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর : প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবিক সম্পর্কের কার্যকারিতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ তার প্রযুক্তি জ্ঞানের বলে বিভিন্ন কৃষিজ, শিল্পজ, বনজ, সামুদ্রিক সম্পদকে ভিন্নতর প্রয়োজনভিত্তিক দ্রব্যে রূপান্তরিত করিয়া সৃষ্টি করিয়াছে বিভিন্ন প্রকারের শিল্প। নদী প্রবাহে বাঁধ নির্মাণ করিয়া একই কর্মকাণ্ডের মধ্যে জলসেচ, বল বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক পরিবহন প্রভৃতি বহুমুখী প্রকল্প গড়িয়া তুলিয়াছে। সূর্য রশ্মি, বায়ু, জল, মাটি, গাছপালা, খনিজ পদার্থ, মন নদী ইত্যাদি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হইয়াছে, এই সকল সম্পদগুলিকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। ইহা ছাড়া কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইতাদি প্রাকৃতিক সম্পদ শক্তির উৎস হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মানুষের প্রচেষ্টায় উৎপাদিত সামগ্রীগুলিকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলা হয়। মানুষের প্রচেষ্টার দ্বারা সম্পদগুলিকে কাজে লাগানো সম্ভব হইয়াছে, এইজন্য মানুষকে মানব সম্পদ বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে মানুষই সম্পদের সৃষ্টিকর্তা। মানব সম্পদের দ্রুত বিকাশের জন্যই জাপান, সুইজারল্যাণ্ড, তাইওয়ান, সিংগাপুর ইত্যাদি কাচামালের অভাব সত্ত্বেও পৃথিবীর এক একটি অগ্রণী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে পরিগণিত হইয়াছে। প্রাকৃতিক সম্পদের মত মানুষও এক মূল্যবান সম্পদ।

প্রশ্ন ১০। সম্পদ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির মধ্যে থাকা সম্পর্ক সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর ঃ কোন নির্দিষ্ট জায়গায় ও নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের চাহিদা মিটানোর উপযোগী কোন পদার্থ বা দ্রব্য যে কার্য করিতে সক্ষম সেই কার্যকে সম্পদ বলা হয়। মানুষ তার প্রযুক্তি জ্ঞানের বলে বিভিন্ন কৃষিজ শিল্পজ, বনজ, সামুদ্রিক সম্পদকে প্রয়োজনভিত্তিক দুব্যে রূপান্তরিত করিয়া সৃষ্টি করিয়াছে বিভিন্ন শিল্প। মানুষ উন্নত বুদ্ধি, শিক্ষা প্রয়োগ কৌশল এবং উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ দ্বারা জলপ্রবাহ বা বাষ্পীয় শক্তি, বায়ুপ্রবাহ বেগ, সৌরতেজ ইত্যাদি শক্তিকে নিজেদের কাজে লাগাইতেছে। খনিজ পদার্থজাত (ইউরেনিয়াম, থোরিয়ামজাত) আণবিক শক্তি, পেট্রোলিয়াম বা ডিজেল শক্তি, কয়লার দাহ্য শক্তি, প্রকৃতিগত বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক শক্তি প্রভৃতিকে সম্পদ হিসাবে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করিতেছে। কাজেই উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা কোন সামগ্রীকে সম্পদে রূপান্তরিত করিতে সাহায্য করিয়াছে।

প্রশ্ন ১১। উদাহরণসহ সম্পদের শ্রেণীবিভাজন সম্পর্কে লিখ। 

উত্তর : সম্পদের শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে সমীক্ষকদের মধ্যে নানা প্রকারের মতভেদ আছে। সৃষ্টি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পদসমূহকে প্রাকৃতিক, মানবসৃষ্ট ও মানব সম্পদ হিসাবে ভাগ করা যায়। এইগুলি ছাড়াও সম্পদসমূহকে জৈবিক ও অজৈবিক সম্পদ; নবীকরণযোগ্য ও অনবীকরণযোগ্য সম্পদ; এবং ব্যক্তিগত, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্পদ হিসাবেও বিভক্ত করা যায়। নিম্নে একটি তালিকা দেওয়া হইল— 

সম্পদ সৃষ্টি প্রক্রিয়া অনুসারে গঠন অনুসারে উপলভ্যতা/ স্থায়িত্ব অনুসারে মালিকী স্বত্ত্বকে ভিত্তি করিয়া প্রাকৃতিক মানবসৃষ্ট মানব নবীকরণযোগ্য অনবীকরণযোগ্য সম্পদ সম্পদ সম্পদ সম্পদ সম্পদ জৈবিক অজৈবিক সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদ জাতীয় সম্পদ আন্তর্জাতিক সম্পদ সৃষ্টি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পদ প্রধানত তিন প্রকারের—

(ক) প্রাকৃতিক সম্পদ : প্রাকৃতিক সম্পদ হইল জলবায়ু, মৃত্তিকা, সূর্যকিরণ, খনিজ সম্পদ, বনভূমি ইত্যাদি। এইসকল সম্পদ প্রকৃতি হইতে পাওয়া যায় বলিয়া ইহাদিগকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। 

(খ) মানবসৃষ্ট সম্পদ : যে সকল সম্পদ মানুষের প্রচেষ্টায় উৎপাদিত হয় সেই সরল সম্পদকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন- বাঁশ হইতে কাগজ, কার্পাস হইতে কাপড় ইত্যাদি।

 (গ) মানব সম্পদ : যে সমস্ত সম্পদ মানুষকে ভিত্তি করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে তাহাদিগকে মানব সম্পদ বলা হয়। যেমন— জনবসতি, বুদ্ধি, পেশাদারি, লোকসংখ্যা ইত্যাদি। 

প্রাকৃতিক গঠন অনুসারে সম্পদকে দুইভাগে ভাগ করা যায়—জৈবিক সম্পদ এবং অজৈবিক সম্পদ। 

জৈবিক সম্পদ : পৃথিবীর যে সকল সম্পদ জীবজগৎ হইতে উৎপন্ন হইয়া সেইসকল সম্পদকে জৈবিক সম্পদ বলা হয়। যেমন উদ্ভিদ, প্রাণীজগৎ, বনভূমি, মস শস্য ইত্যাদি।

 অভৈাবিক সম্পদ : পৃথিবীর যে সকল সম্পদ জীবজগৎ হইতে উৎপন্ন হয় নাই, সেই সকল সম্পদকে অজৈবিক সম্পদ বলা হয়। যেমন— জল, শিলা, মাটি, বায়ু, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি। স্থায়িত্বের দিক হইতে আবার সম্পদকে দুইভাগে ভাগ করা যায় নবীকরণযোগ্য বা প্রবহমান সম্পদ এবং অনবীকরণযোগ্য বা অপনৰ্ভৰ সম্পদ। 

নবীকরণযোগ্য বা প্রবহমান সম্পদ : যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হইলেও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়মে আবার নিজে নিজেই পূরণ হইয়া যায়, সেই সকল সম্পদকে নবীকরণযোগ্য বা প্রবহমান (Renewable । Inexhaustible Re- source) সম্পদ বলা হয়। যেমন—সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, গাছপালা, জীবজন্তু, মানুষ ইত্যাদি। কিছু কিছু নবীকরণযোগ্য সম্পদ আছে যাহা ব্যবহারের জন্য সাময়িকভাবে হ্রাস পাইলেও পুনরায় নিজে নিজেই পূরণ হইয়া যায়। যেমন—অরণ্য, সামুদ্রিক মাছ ইতালি। 

অনবীকরণযোগ্য বা অপুনৰ্ভৰ সম্পদ [HSLC 2021/22] : যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত হ্রাস পাইতে পাইতে নিঃশেষ হইয়া যায় এবং যাহা পুনরায় পূরণযোগ্য নয়, তাহাদের অনবীকরণযোগ্য বা অপুনর্ভব সম্পদ বলা হয়। যেমন—খনিজ পদার্থ, খনিয়া তৈল, কয়লা ইত্যাদি। 

পৃথিবীতে উপলব্ধ সকল সম্পদকে মালিকীস্বত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বা পার্থিব সম্পদ হিসাবে শ্রেণীবিভাগ করা যায়।

ব্যক্তিগত সম্পদ : নিজস্ব দখলে বা অধিকারে থাকা ভূমি, সা-সম্পত্তি, বাড়ি ইত্যাদি হইল ব্যক্তিগত সম্পত্তি। 

জাতীয় সম্পদ : দেশের সকল ব্যক্তির সম্পদের সমষ্টি, নদী, পাহাড়, খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, মৃত্তিকা, প্রভৃতি জাতীয় সম্পদের অন্তর্গত। 

আন্তর্জাতিক বা পার্থিব সম্পদ : সমগ্র পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মোট সম্পত্তিকে আন্তর্জাতিক বা পার্থিব সম্পদ বলা হয়। 

প্রশ্ন ১২। প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে কি বুঝ? উদাহরণসহ সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : যে সকল সম্পদ প্রকৃতি হইতে পাওয়া যায় সেইসকল সম্পদকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। যেমন— মৃত্তিকা, খনিজ দ্রব্য, উদ্ভিদ, জীবজন্তু ইত্যাদি। প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ কঠিন, গ্যাসীয় এবং অধাতবীয় অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রকৃতি হইতে আহরণ করা বহু সামগ্রীকেই প্রয়োজন সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে রূপান্তর করিয়া মানুষের ব্যবহারোপযোগী করা হয়। উদাহরণস্বরূপে, বাঁশ হইতে কাগজ, কার্পাস হইতে কাপড়, খনিজ তৈল হইতে নানা প্রকারের রং, ন্যাথা, কৃত্রিম কাপড়, রাসায়নিক সার, কীটনাশক দ্রব্য, সাবান, প্লাস্টিক, কৃত্রিম রবার, মোম ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। গাছপালা হইতে ঔষধ, কাঠ, গৃহনির্মাণ সামগ্রী ইত্যাদি প্রস্তুত করা হয়। 

প্রশ্ন ১৩। মানবসৃষ্ট সম্পদ কি? উদাহরণসহ ইহার ব্যবহার সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : যে সকল সম্পদ মানুষের প্রচেষ্টায় উৎপাদিত হয় সেই সকল সম্পদকে মানবসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন—বাঁশ হইতে কাগজ, কার্পাস হইতে কাপড়, খনিজ তৈল হইতে নানা প্রকারের রং, ন্যাথা, কৃত্রিম কাপড়, রাসায়নিক সার, কীটনাশক দ্রব্য, সাবান, প্লাস্টিক, কৃত্রিম রবার, মোম ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ১৪। নবীকরণযোগ্য এবং অনবীকরণযোগ্য সম্পদের মধ্যে পার্থক্য কি কি? উদাহরণসহ সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর : যে সমস্ত সম্পদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হইয়া যায় না অর্থাৎ পুনঃনবীকরণ বা পূর্ণীকৃত পদ্ধতিতে আবার ব্যবহার করা যায় সেইগুলিকে নবীকরণযোগ্য সম্পদ (Renewable or Inexhaustible) বলা হয়। যেমন সূর্যরশ্মি, বায়ু, জল, গাছ পালা, জীবজন্তু, মানুষ, শস্য ইত্যাদি। 

যে সমস্ত সম্পদ ব্যবহারের পরে নবীকরণ করা সম্ভব নয় এবং নিঃশেষ হইয়া যায়, তাহাদিগকে অনবীকরণযোগ্য সম্পন্ন বা ক্ষমাশীল সম্পদ (Non-renewable or Ex- haustible Resource) বলে। যেমন—কয়লা, খনিজ তৈল, খনিজ পদার্থ, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবীকরণযোগ্য সম্পদ।

প্রশ্ন ১৫। সম্পদ সংরক্ষণ বলিতে কি বুঝ ? ইহার প্রয়োজনীয়তা কি?, 

উত্তর : সাধারণত কোন প্রকারের বিনাশ এবং অপব্যবহার না করিয়া সম্পদের সম্ভাব্যপূর্ণ ব্যবহার করা কার্য বা ধারণাকে সম্পদ সংরক্ষণ বলা হয়। 

সম্পদ সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা হইল আমরা প্রকৃতি হইতে আমাদের প্রয়োজনীয় সম্পদগুলিকে এমনভাবে আহরণ করিব যাহাতে ইহার দ্বারা আমরা সকলেই দীর্ঘদিন ধরিয়া উপকৃত হইতে পারি। অবশ্য সংরক্ষণ বলিতে কেবলমাত্র সম্পদরে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করিয়া রাখাকে বুঝায় না। সম্পদ সংরক্ষণ অনবীকরণযোগ্য এবং নবীকরণযোগ্য উভয় সম্পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেখা যায় যে অনেক প্রকারের প পক্ষী, উদ্ভিদ, খনিজ পদার্থ অবলুপ্তির পথে। কাজেই ইহাদের সংরক্ষণ অতীব প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ যাহাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহার জন্য মিতব্যয়ী ব্যবহারের সহিত প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ কার্য গ্রহণ করিতে হইবে। সম্পদের সংরক্ষণ অতীব প্রয়োজন অন্যথায় মানুষ ও মানব সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটিবে। 

প্রশ্ন ১৬। সম্পদ সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।  

উত্তর : সম্পদ সংরক্ষণ করিতে কিছু পরিকল্পনা ও পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। নিম্নে বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করা হইল— 

(ক) বিকল্প সম্পদের সন্ধান : কোন একটি সম্পদের বহুল ব্যবহার চলিয়া থাকা অবস্থাতেই ইহার বিকল্প সম্পদের উদ্ভাবন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে। যেমন—কার্পাস সূতার পরিবর্তে কৃত্রিম আঁশ, প্রাকৃতিক রবারের পরিবর্তে কৃত্রিম রবার ইত্যাদি। ইহা ছাড়াও অনবীকরণযোগ্য সম্পদ, যেমন—কয়লা, খনিজ তৈল ইত্যাদির ব্যবহার কমাইবার জন্য সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ শক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব শক্তি ইত্যাদি নীবকরণযোগ্য সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি করিতে হইবে। 

(খ) পুনরাবর্তন ঃ সীমিত পরিমাণে থাকা কাঁচাসামগ্রীর ব্যবহার হ্রাস করিবার জন্য ব্যবহারের উপযোগী বর্জিত দ্রব্য পুনরাবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করিতে পারা যায়। যেমন—পুরানো পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক বোতল, কাগজ, লোহার সামগ্রী ইত্যাদিকে পুনরাবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহার করিয়া কিছু পরিমাণে কাঁচাসামগ্রী সংরক্ষণ করা যায়।

 (গ) অভিযোজন বা নব প্রচলন : অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃতি হইতে আহরণ করা সম্পদ ব্যবহারোপযোগী অবস্থাতে রূপান্তরিত করিবার জন্য অভিযোজন বা নর প্রচলন ( Innovation) প্রক্রিয়ার প্রয়োগ করিতে হইবে। যেমন— রাসায়নিক সারের প্রয়োগে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পায়। ইহার পরিবর্তে জৈবসার প্রয়োগের উপর যত্ন করিতে হইবে।

(ঘ) বর্জিত দ্রব্যের পরিমাণ হ্রাস : কাঁচাসামগ্রী হইতে প্রয়োজনীয় সম্পদে রূপান্তরিত করিবার সময় যতদূর সম্ভব বর্জিত ধব্যের পরিমাণ সীমিত করিয়া রাখিতে পারিলে যথেষ্ট পরিমাণে সম্পদ সংরক্ষিত হইবে। 

(ঙ) জ্ঞান ও শিক্ষার সম্প্রসারণ : সম্পদের উৎপাদন ও ব্যবহার কার্য সুচারুরূপে পরিচালনা করিবার জন্য জ্ঞান ও শিক্ষার সম্প্রসারণ অতি প্রয়োজন। সম্পদের অযথা অপচয় রোধ করবার জন্য জনসাধারণের মধ্যে সজাগতা আনিতে হইবে।

 (চ) সংরক্ষণ সম্পৰ্কীয় আইনের কার্যকরীকরণ সম্পদের সংরক্ষণ কার্যকরীকরণের জন্য সংরক্ষণ বিষয়ক আইনের ব্যবস্থার কড়াকড়ি করিতে হইবে এবং ইহা সঠিকভাবে রূপায়ণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

(ছ) সম্পদের ভাণ্ডারের সঠিক মূল্যায়ন : সম্পদ ব্যবহারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য কোন সম্পদের সঞ্চিত পরিমাণ সম্পর্কে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করিতে হইবে। ইহার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং বিকল্প সম্পদের সন্ধানের উপর গুরুত্ব দিতে হইবে। 

(জ) সম্পদের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন নির্ধারণ : একটি সম্পদের বর্তমানের ব্যবহারের মান এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় করা অতি প্রয়োজন। 

প্রশ্ন ১৭। সম্পদ সংরক্ষণের সহিত জড়িত সংস্থা এবং সেইগুলির ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : সমগ্র বিশ্বে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে। ইহার জন্য আন্তরাষ্ট্রীয়, রাষ্ট্রীয়, আঞ্চলিক তথা স্থানীয় পর্যায়ে বহু সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা ও সংগঠনের জন্ম হইয়াছে। রাষ্ট্রসংঘের অন্তর্গত আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (International Union for Conservation of Nature IUCN) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৮ সনে রাষ্ট্রসংঘের শৈক্ষিক বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার (UNESCO) প্রথম সঞ্চালক প্রধান জুলিয়ান হাক্সলের (ব্রিটিশ জীব বিজ্ঞানী) প্রচেষ্টায় ফ্রান্সে IUCN প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। ইহার মূল উদ্দেশ্য হইল সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ তথা জৈব বৈচিত্র্য সম্পর্কে অধ্যয়ন, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। IUCN এর নেতৃত্বে WWF for Nature (World Wide Fund for Nature) এবং বিশ্ব সংরক্ষণ নিরীক্ষণ কেন্দ্র (World Conservation Monitoring Centre) স্থাপিত হইয়াছে। 

ভারতবর্ষে এই ধরনের কাজের জন্য সরকারীভাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন নামে একটি মন্ত্রাণালয় (Ministry of Environment, Forest and Climate Change) গঠন করা হইয়াছে। এই মন্ত্রাণালয়ের অন্তর্গত স্বতন্ত্রভাবে ১৯৮৬ সনে ভারতীয় বন গবেষণা ও শিক্ষা সংস্থা (Indian Council of Forestry Research and Education) গঠন করা হইয়াছে। ইহা ছাড়াও বেসরকারীভাবে বিজ্ঞান ও পরিবেশ কেন্দ্র (Centre for Science and Environment), গ্রীণ পিস ইণ্ডিয়া (Green peace India) ওয়াইল্ড লাইফ টাস্ট অব ইণ্ডিয়া (Wildlife Trust of India) ইত্যাদির মত বহু সংগঠন পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বহু ধরনের কাজ করিয়াছে। 

অসমে বিজ্ঞান সমিতি, আরণ্যকের মত করোকটি বেসরকারী সংগঠন পরিবেশ সুরক্ষা, জৈব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইত্যাদির জন্য কাজ করিয়াছে। সমগ্র বিশ্বে প্রতি বৎসর ৫ জুন তারিখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। 

প্রশ্ন ১৮। মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পর্কে বিশদভাবে লিখ। 

উত্তর : মুখ্য বা প্রাথমিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ : 

(ক) কৃষিকার্থ : মৃত্তিকাকে কর্ষণ করিয়া বিভিন্নপ্রকার ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কৃষিকার্য বলে। কৃষিতে প্রযুক্তির প্রবেশ ও যন্ত্রের প্রয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইহাকে শিল্পের অন্তর্গত বিষয় বলিয়া অভিহিত করা হয়। 

(খ) ফলমূল সংগ্রহ :পশুশিকার : কৃষিকার্য প্রচলনের পূর্বে মানুষ পশুশিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করিত। উল্লেখযোগ্য যে, পশুশিকারই হইল মানুষের আদিমতম অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। বর্তমানে উন্নত দেশগুলিতে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য শিকার করা হয়। 

(গ) পশুপালন : যে সকল দেশের পরিবেশ কৃষিকার্যের উপযুক্ত নয়, সেই সকল দেশের অধিবাসীরা পশুপালনের উপর নির্ভর করে। পৃথিবীর বিভিন্ন তৃণভূমি অঞ্চলে অধিবাসীদের অধিকাংশই পশুপালন করিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে উন্নত প্রথায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পশুপালন করা হয়।

 (ঘ) কাষ্ঠ আহরণ : অরণ্যে নির্ভর মানুষেরা বন হইতে কাষ্ঠ সংগ্রহও প্রাথমিক পেশা। হিসাবে গ্রহণ করিয়াছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে কাষ্ঠ আহরণ একটি জনপ্রিয় অর্থনৈতিক জীবিকা। বর্তমানে কাষ্ঠ আহরণও শিল্পের পর্যায়ভুক্ত। . মাধ্যমিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপ : 

(ক) খনিজ সম্পদভিত্তিক শিল্প : খনিজ সম্পদের উপর নির্ভর করিয়া যে সকল শিল্প। পড়িয়া উঠে সেইগুলি এই শ্রেণীর অন্তর্গত। লৌহ আকর ভিত্তিক শিল্প হইল লৌহ-ইস্পাত শিল্প ইত্যাদি।

(খ) বনজ সম্পদভিত্তিক শিল্প : বনজ সম্পদের উপর নির্ভর করিয়া এই শিল্প গড়িয়া উঠে। যেমন—কাষ্ঠের সাহায্যে আসবাবপত্র নির্মাণ শিল্প; ঘাস, বেত, বাঁশ ইত্যাদির সাহায্যে কাগজ শিল্প ইত্যাদি। 

(গ) প্রাণীজ সম্পদভিত্তিক শিল্প : এই শিল্প পশুপালনের উপর নির্ভর করিয়া গড়িয়া উঠে। যেমন—মাংস উৎপাদন শিল্প, পশুর লোমের সাহায্যে পশম শিল্প দুধের সাহায্যে ডেয়ারি শিল্প ইত্যাদি। 

(ঘ) কৃষিজ সম্পদভিত্তিক শিল্প : কৃষিজ সম্পদের উপর নির্ভর করিয়া এই শিল্প পড়িয়া উঠে। যেমন—পাটশিল্প, কার্পাস বয়ন শিল্প। 

বহুমুখী অর্থনৈতিক কার্যকলাপ : মাধ্যমিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উৎপন্ন দ্রব্যের পূর্ণ সুবিধা ভোগ করিবার জন্য বহুমুখী অর্থনৈতিক কার্যকলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহুমুখী অর্থনৈতিক কার্যকলাপগুলি হইল—বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ, পরিবহন ব্যবস্থার পরিচালনা এবং বাণিজ্য ও বাজার। ইহা ছাড়া পর্যটন ভূগোল বর্তমান যুগে বিশেষ প্রাধান্য লাভ করিয়াছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রভৃত বিকাশ লাভ করিয়াছে। 

প্রশ্ন ১৯। ভারতের সম্পদ সম্বন্ধে আলোচনা কর। অথবা, টীকা লিখ— 

(ক) ভারতের ভূমিসম্পদ

(খ) ভারতের জলসম্পদ, 

(গ) ভারতের মনুষ্য সম্পদ

উত্তর : ভারতবর্ষ বিভিন্ন প্রকারের সম্পদে সমৃদ্ধ। ভারতবর্ষের সম্পদের প্রকৃতি অনুযায়ী সেইগুলিকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়

(ক) ভূমিসম্পদ, (খ) জলসম্পদ ও (গ) মনুষ্য সম্পদ। 

(ক) ভূমিসম্পদ : ভূমি একটি বিশেষ সম্পদ কারণ ভূমিতে আছে মৃত্তিকা সম্পদ ও খনিজ সম্পদ। ভূমির উর্বরাশক্তিও এক প্রকারের সম্পদ। ভূমির ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি হইল – 

(i) ভূমিতে মানুষ কৃষিকার্য করে, এইগুলি কৃষি ভূমি

(ii) ভূমিতে মানুষ বসবাস করে, এইগুলি বসবাসের ভূমি, 

(iii) ভূমির উপর অরণ্য সংরক্ষণ করা হয়, এইগুলিকে অরণ্যভূমি বলা হয়। ভারতের মালভূমি অঞ্চল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারস্বরূপ। 

(১) কৃষিভূমি : ভারতের মোট ভূমির 51% হইল চাষের জমি। ইহার প্রায় 46%

জমিতে কৃষিকার্য করা হয়। এই জমি হইতে ধান, গম, কার্পাস, ইক্ষু, রবার, চা, ক শাক-সব্জি, বিভিন্ন প্রকারের ফল ইত্যাদি পাওয়া যায়। 

(২) বনভূমি : ভারতের 19-39% ভূমি অরণ্য দ্বারা আবৃত। অরণ্য হইতে বিভিন্ন প্রকারের বনজ সম্পদ পাওয়া যায়। এইগুলি হইল—কাঠ, মধু, মোম, তার্পিন, ঔষধি ও ভেষজ দ্রব্য।

 (৩) পশুপালনের ভূমি : ভারতের 5% ভূমি পশুপালনের কাজে ব্যবহৃত হয়। পশুপালনের দিক হইতে এই ভূমির অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। 

(৪) অন্যান্য কার্যে ব্যবহৃত ভূমি : অবশিষ্ট ভূমির মধ্যে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও বসবাসের কার্যে ব্যবহৃত হয় এবং অবশিষ্ট কিছু অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। 

(খ) জলসম্পদ : ভারতবর্ষ জলসম্পদে সমৃদ্ধ। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। বৃষ্টির জলে কিছু অংশ মাটিতে প্রবেশ করে ও মাটির মধ্যে ভৌম জল হিসাবে থাকে। বৃষ্টির জলের কিছু অংশ প্রবাহিত হইয়া নদীতে যায় এবং ইহা জলসেচের কার্যে ব্যবহার করা হয় ৺. কৃষিক্ষেত্র সমৃদ্ধ হয়। জনসম্পদের প্রাচুর্যের জন্য ভারতবর্ষে মসা চাষ সম্ভব হইয়াছে এবং মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হইয়াছে। 

(গ) মনুষ্য সম্পদ : ভারতবর্ষের মত দেশে মানুষ এক মূল্যবান সম্পদ। জনসংখ্যার দিক হইতে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। জনসম্পদের সঠিক ব্যবহার ঘটিলে দেশ সমৃদ্ধিশালী হইয়া উঠে। দৃষ্টান্তস্বরূপ জাপান। প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও জনসম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাইয়া জাপান বর্তমানে পৃথিবীর প্রথম সারির দেশ হিসাবে গণ্য। ভারতে জনসম্পদের প্রাচুর্য থাকায় শিল্পের জন্য সুলভ শ্রমিক পাওয়া যায়। সস্তায় শ্রমিক উপলব্ধ হওয়ায় শিল্পজাত দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায় এবং স্বল্পমূলো শিল্পজাত দ্রব্য বিদেশে বিক্রয় করা সম্ভব হয়।

 সংক্ষিপ্ত টীকা 

(ক) সম্পদ : যাহার সাহায্যে মানুষ তাহার দৈনন্দিন অভাব দূর করে এবং যার ব্যবহারের দ্বারা মানুষ তাহার উন্নতি সাধন করে, তাহাকেই সম্পদ বলে। প্রকৃত অর্থে সম্পদ বলিতে কেবলমাত্র কোন বস্তুকে বুঝায় না, সেই বস্তুটি যে কাজ করে তাহাকেই সম্পদ বলে। অধ্যাপক জিমারম্যানের মতে সম্পদ বলিতে কোন পদার্থকে বুঝায় না। ব্যক্তিগত বা সামাজিক চাহিদা বুঝাইবার জন্য কোন পদার্থ যে কাজ করে, সেই কাজকেই সম্পদ বলে।

(খ) মানব সম্পদ : প্রাকৃতিক সম্পদসমূহকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করিবার জন্য মানুষের কার্যদক্ষতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আগ্রহের প্রয়োজন। এই সকল গুণ থাকার জন্য মানুষকে মানব সম্পদ বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে মানুষই সম্পদের সৃষ্টিকর্তা। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায় যে, জাপান প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব সত্ত্বেও মানব সম্পদকে কাজে লাগাইয়া পৃথিবীর এক প্রথম সারির দেশে পরিণত হইয়াছে। 

(গ) সম্পত্তি: অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী যে সকল বস্তুর বিনিময় মূল্য আছে, সেইগুলিকে সম্পত্তি (Wealth) বলা হয়। ব্যবহারোপযোগী হওয়া ছাড়াও সম্পত্তির যোগান তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ইহাকে মূল্যের বিনিময়ে হস্তান্তর করা যাইতে পারে। যেমন—— মাটি, ঘর-বাড়ি, যন্ত্রপাতি, কোম্পানীর অংশ ইত্যাদি। ইহার বাজার মূল্য আছে। 

(ঘ) নবীকরণযোগ্য সম্পদ : যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হইলেও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়মে আবার নিজে নিজেই পূরণ হইয়া যায়, সেই সকল সম্পদকে নবীকরণযোগ্য বা প্রবহমান (Renewable বা Inexhaustible Resource) সম্পদ বলা হয়। যেমন—সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, গাছপালা, জীবজন্ত, মানুষ ইত্যাদি। কিছু কিছু নবীকরণযোগ্য সম্পদ আছে যাহা ব্যবহারের জন্য সাময়িকভাবে হ্রাস পাইলেও পুনরায় নিজে নিজেই পূরণ হইয়া যায়। যেমন- অরণ্য, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।

 (ঙ) ব্যক্তিগত সম্পদ : মানুষের নিজ নিজ দখল বা অধিকারে থাকা ভূমি, সা-সম্পত্তি এবং নিজের ভালো গুণ, যেমন- ভালো চরিত্র, শিক্ষা, কর্মদক্ষতা ইত্যাদিকে ব্যক্তিগত সম্পদ (Individual or Personal Resource) বলা হয়। 

(চ) জাতীয় সম্পদ : একটি দেশের তত্ত্বাবধান বা দখলে থাকা সকল সম্পত্তি, যেমন—রাস্তা-ঘাট, ভূমি, নদ-নদী, সেতু, অরণ্যে থাকা গাছপালা ও জীবজন্তু, শিক্ষানুষ্ঠান, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সরকার ইত্যাদি জাতীয় সম্পদ। 

(ছ) জৈবিক সম্পদ : পৃথিবীর যে সকল সম্পদ জীবজগৎ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে সেইসকল সম্পদকে জৈবিক সম্পদ বলা হয়। যেমন—উদ্ভিদ, প্রাণীজগৎ, বনভূমি, মৎস্য, শস্য ইত্যাদি। 

(জ) সম্পদ সংরক্ষণ : কোন ধরনের বিনাশ এবং অপব্যবহার না করিয়া সম্পদের সম্ভাব্যপূর্ণ ব্যবহার করা কার্য বা ধারণাকে সম্পদ সংরক্ষণ (Conservation of Re- sources) বলা হয়। সম্পদ সংরক্ষণ বলিতে সম্পদের ব্যবহার না করিয়া কেবল ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত করিয়া রাখাকে বুঝায় না। সমগ্র বিশ্ব জুড়িয়া বহু অনবীকরণযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ হইবার অশুভ ইঙ্গিত পাওয়া যাইতেছে। এই ভয়াবহ সমস্যা হইতে রক্ষা পাইবার একমাত্র উপায় হইল সম্পদ সংরক্ষণ।

(ঝ) সম্পদের পুনরাবর্তন ঃ সীমিত পরিমাণে থাকা কাঁচাসামগ্রীর ব্যবহার হ্রাস করিবার জন্য ব্যবহারের উপযোগী বর্জিত দ্রব্য পুনরাবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করা যাইতে পারে। উদাহরণস্বরূপে, পুরনো পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক বোতল, কাগজ, লোহার সামগ্রী ইত্যাদি পুনরাবর্তনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্পদের কাঁচাসামগ্রী কিছু পরিমাণে সংরক্ষণ করা যাইতে পারে। 

(ঞ) IUCN : ১৯৪৮ সনে UNESCO অর্থাৎ রাষ্ট্রসংঘের শৈক্ষিক বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার প্রথম সঞ্চালক প্রধান জুলিয়ান হাক্সলের প্রচেষ্টায় ফ্রান্সে IUCN (Interantional Union for Conservation of Nature) প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। এই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য হইল সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ তথা জৈব বৈচিত্র্য সম্পর্কে অধ্যয়ন, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। IUCN-র নেতৃত্বে WWF for Nature (World Wide Fund for Nature) এবং বিশ্ব সংরক্ষণ নিরীক্ষণ কেন্দ্র (World Conservation Monitoring Centre) স্থাপিত হইয়াছে।

 পার্থক্য লিখ : 

(ক) সম্পদ ও সম্পত্তি : 

উত্তর :

সম্পদসম্পত্তি
১। মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বস্তুকেই সম্পদ বলা হয়। ২। সম্পদের যোগান সীমিত নয়। ৩। ইহা অ-হস্তান্তরযোগ্য।৪। প্রাকৃতিক সম্পদের কোন বাজার মূল্য নাই।৫। সকল সম্পদ সম্পত্তি নাও হইতে পারে। ৬। সম্পদের মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণ হয়।১। যে সকল বস্তুর বিনিময় মূল্য আছে, তাহাদিগকে সম্পত্তি বলা হয়।২। সম্পত্তির যোগান তূলনামূলকভাবে সীমিত।৩। ইহা হস্তান্তরযোগ্য।৪। সম্পত্তির বাজার মূল্য আছে।৫। সকল সম্পত্তিই সম্পদ।৬। সম্পত্তির দ্বারা মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ দুইটিই হইতে পারে।

(খ) অর্থনৈতিক ভূগোল এবং সম্পদ : 

উত্তর :

  ‌‌অর্থনৈতিক ভূগোল      সম্পদ ভূগোল
১। অর্থনৈতিক ভূগোলে সম্পদের উৎপাদন, বিতরণ, উপভোগ এবং বিনিময়ের সহিত জড়িত মানুষের কার্যকলাপ, স্থান ও কাল সাপেক্ষে অধ্যয়ন করাকে বুঝায়। 
২। অর্থনৈতিক ভূগোল সম্পদের অঙ্গ নয়। 
৩। অর্থনৈতিক ভূগোলের উপশাখাগুলি হইল—কৃষি ভূগোল, ঔদ্যোগিকভূগোল, সম্পদ ভূগোল, পরিবহন ভূগোল, বাজার ভূগোল ইত্যাদি।
 ৪। অর্থনৈতিক ভূগোল ইহার উপশাখাগুলি সম্বন্ধে আলোচনা করে।
১। কোন দ্রব্য বা পদার্থ সম্পদ নয়,দ্রব্যের উপযোগিতা ওকার্যকারিতাকে সম্পদ বলা হয়। ইহা অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্গত। 
২। সম্পদ অর্থনৈতিক ভূগোলের একটি অঙ্গ। .
৩। অর্থনৈতিক ভূগোলে সম্পদের শ্রেণীবিভাগগুলি হইল প্রাকৃতিক সম্পদ, মানব-সৃষ্ট সম্পদ ও মানব সম্পদ, জৈবিক সম্পদ,অজৈবিক সম্পদ, নবীকরণ ও অনবীকরণ সম্পদ, ব্যক্তিগত সম্পদ, জাতীয় সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পদেভাগ করা যায়। 
৪। সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। এই কারণে ইহা অর্থনৈতিক ভূগোলেরঅন্তর্গত।

(গ) সম্পদ এবং নিষ্ক্রিয় সামগ্রী : 

উত্তর :

    সম্পদ    নিষ্ক্রিয় সামগ্রী
১। সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। 
২। সম্পদ উপকারী বা অপকারী হইলেও ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যাইতে পারে। ৩। সম্পদ পরিবর্তনশীল।
১। নিষ্ক্রিয় সামগ্রী মানুষের কোন ধরনের উপকার বা অপকার সাধন করে না। 
২। নিষ্ক্রিয় সামগ্ৰী বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কোন কাজেই ব্যবহার করা যায় না। 
৩। ইহা অপরিবর্তনশীল ।

(ঘ) জৈবিক (জীবীয়) এবং অজৈবিক (অজীবীয়) সম্পদ :

 উত্তর :

    ‌‌জৈবিক সম্পদ    অজৈবিক সম্পদ
১। সকল সজীব বস্তুই জৈবিক সম্পদ।
২। ইহাদের মাটির উপর পাওয়া যায়।
 ৩। কোন কোন বস্তু ব্যবহারের দিক হইতে জৈবিক পদার্থ হইতে পারে।
১। প্রাণহীন জড় পদার্থ অজৈবিক সম্পদ।
২। ইহারা মাটির উপরে বা নীচেও থাকিতে পারে। 
৩। কিন্তু অজৈবিক পদার্থ অবস্থানের উপরেও নির্ভর

(ঙ) ব্যক্তিগত সম্পদ এবং জাতীয় সম্পদ

 উত্তর :

    ব্যক্তিগত সম্পদ       জাতীয় সম্পদ
১। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর কোন ব্যক্তিবিশেষের অধিকার আছে। 
২। ইহা ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকিলেও কোন বিশেষ জরুরীকালীন অবস্থায় সরকার অধিগ্রহণ করিতে পারে। 
৩। ব্যক্তিগত সম্পদ হইতে কোন লাভ হইলে ব্যক্তিবিশেষ ভোগ করিয়া থাকে। 
৪। ব্যক্তিগত সম্পদের অস্তিত্ব ভবিষ্যতে নাও থাকিতে পারে।
১। জাতীয় সম্পদে দেশের সকলনাগরিকের অধিকার আছে। 
২। জাতীয় সম্পদ সাধারণত দেশের সরকারের পরিচালনাধীন থাকে। 
৩। লভ্যাংশ পরোক্ষভাবে নাগরিকগণ উপভোগ করিয়া থাকে।
 ৪। কিন্তু জাতীয় সম্পদের অস্তিত্ব ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ণ থাকিবে।

(চ) নবীকরণযোগ্য এবং অনবীকরণযোগ্য সম্পদ: 

উত্তর :

নবীকরণযোগ্য সম্পদঅনবীকরণযোগ্য সম্পদ
১। ব্যবহারের পরেও নিঃশেষ হয় না। 
২। ইহা পুনঃ পুর্ণীকৃত সম্পদ। 
৩। ইহা পৃথিবী হইতে নিশ্চিহ্ন হইবে না।
১। ব্যবহারের পর নিঃশেষ হইয়া যায়। ইহা একবার মাত্র ব্যবহার করা যায়। 
২। ইহা ক্ষয়শীল সম্পদ।
৩। কিন্তু ইহা পৃথিবী হইতে নিশ্চিহ 
হইয়া যাইতে পারে।

(ছ) মানবসৃষ্ট সম্পদ এবং মানব সম্পদ : 

উত্তর :

মানবসৃষ্ট সম্পদমানব সম্পদ
১। মানবসৃষ্ট সম্পদ মানুয় নিজস্বসুবিধার জন্য সৃষ্টি করে। 
২। ইহার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধন হইতে পারে।
৩। ইহাতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিবর্তন ঘটাইয়া নতুন আবিষ্কার করা হয়। 
৪। ইহাতে প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। 
৫। ইহাতে প্ৰদূষণ, ভূমিক্ষয় ইত্যাদির সম্ভাবনা আছে। 
৬। মানবসৃষ্ট সম্পদ উৎপাদনের ক্ষেত্রেদেশের উপকার ও অপকার দুইটিই হইতে পারে।
১। মানুষ হইল সম্পদ সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। 
২। মানব সম্পদে কেবলমাত্র বুদ্ধির বিকাশের পরিবর্তন ঘটে। 
৩। ইহা জনসংখ্যা ও উহাদের কাজেলাগাইবার পদ্ধতি চিন্তা করা হয়।
৪। ইহাতে নাই।
৫। ইহাতে নাই। 
৬। মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহার হইলে দেশের সমৃদ্ধি ঘটে।

(জ) সম্পদের পুনরাবর্তন এবং অভিযোজন 

উত্তর :

সম্পদের পুনরাবর্তনঅভিযোজন
১। ইহার দ্বারা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। 
২। প্রদূষণের মাত্রা হ্রাস পায়। 
৩। ইহাতে সম্পদ সংরক্ষিত থাকে এবং অপচয় রোধ হয়। 
৪। ইহাতে ঋণাত্মক প্রভাব হ্রাস করিবার প্রয়োজন হয় না।
১। নতুন নতুন কলাকৌশল ও প্রযুক্তির উদ্ভাবনের জন্য ব্যয় হইতে পারে। 
২। প্রদূষণ হ্রাস নাও পাইতে পারে।
৩। ইহার দ্বারা সংরক্ষণের উপায়নির্ধারণের কৌশল উদ্ভাবন করা হয়।
 ৪। কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণাত্মক প্রভাব হ্রাস করা যায়।

Leave a Reply