SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-8| পৃথিবীর ভূগোল

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-8| পৃথিবীর ভূগোল, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-8| পৃথিবীর ভূগোল

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-8| পৃথিবীর ভূগোল দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় 8

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর : 

প্রশ্ন ১। এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে কোন্ সাগর পৃথক করিয়াছে?] 

(ক) ভূমধ্য সাগর

(খ) লোহিত সাগর

(গ) কাস্পিয়ান সাগর 

(ঘ) আরব সাগর

উত্তর : লোহিত সাগর। 

প্রশ্ন ২। এশিয়া ও ইউরোপকে প্রাকৃতিকভাবে কিসের দ্বারা পৃথক হইয়াছে ? 

(ক) ইউরাল পর্বতমালা

(খ) ককেশাস পর্বত 

(গ) কাস্পিয়ান সাগর 

(ঘ) ভরা নদী 

উত্তর : ইউরাল পর্বতমালা। 

প্রশ্ন ৩। ইকুয়েডর কোন মহাদেশে অবস্থিত ? 

(ক.) উত্তর আমেরিকা 

(খ) দক্ষিণ আমেরিকা

(গ) আফ্রিকা 

(ঘ) এশিয়া

উত্তর : দক্ষিণ আমেরিকা।

প্রশ্ন ৪। ব্রাজিলের রাজধানী কি?

 (ক) রিও ডি জেনেইরো

 (খ) সাওপাওলো 

 (গ) ব্রাসিলিয়া

 (ঘ) লিমা 

উত্তর : ব্রাসিলিয়া 

প্রশ্ন ৫। ২০১৫ সনের আনুমানিক তথ্য অনুসারে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা হইল— 

(ক) ৫২০ কোটি 

(খ) ৭৩০ কোটি 

(গ) ৭০০ কোটি

(ঘ) ৮০০ কোটি 

উত্তর : (খ) ৭৩০ কোটি। 

প্রশ্ন ৬। নীচের কোন মহাসাগরটি পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম ?

 (ক) ভারত মহাসাগর

 (খ) আটলান্টিক মহাসাগর

 (গ) প্রশান্ত মহাসাগর

 (ঘ) দক্ষিণ মহাসাগর 

উত্তর : (গ) প্রশান্ত মহাসাগর 

প্রশ্ন ৭। কোন মহাসাগরের আকৃতি ইংরাজী ‘S’ অক্ষরের মত? 

(ক) প্রশান্ত মহাসাগর 

(খ) আটলান্টিক মহাসাগর 

(গ) উত্তৰ মহাসাগর 

(ঘ) দক্ষিণ মহাসাগর 

উত্তর : (খ) আটলান্টিক মহাসাগর। 

প্রশ্ন ৮। এশিয়া মহাদেশে মোট কয়টি দেশ আছে?

(ক) ২০টি

(খ) ৫০ টি 

(গ) ৫১ টি

(ঘ) ৬১ টি 

উত্তর : (গ) ৫১ টি। 

প্রশ্ন ৯। ‘ইউরাল’ নদী নিম্নের কোন মহাদেশে আছে? 

(ক) এশিয়া 

(খ) ইউরোপ

(গ) উত্তর আমেরিকা, 

(ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা 

উত্তর : (খ) ইউরোপ। 

প্রশ্ন ১০। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটি হইল- 

 (ক) ভারত

 (খ) ইজরাইল

 (গ) স্পেইন

 (ঘ) কানাডা

 উত্তর : (ঘ) কানাডা। 

প্রশ্ন ১১। পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণীটি হইল— 

(ক) আল্পস পর্বতমালা

(খ) হিমালয় পর্বতমালা

(গ) এণ্ডিজ পর্বতমালা 

(ঘ) মুরে পর্বতমালা 

উত্তর : (গ) এণ্ডিজ পর্বতমালা। 

প্রশ্ন ১২। পৃথিবীর উচ্চতম স্থানে অবস্থিত হ্রদটি হইল—

(ক) বৈকাল, 

(খ) কাম্পিয়ান 

(গ) লক্‌টক্‌ 

(ঘ) টিটিকাকা 

উত্তর : (ঘ) টিটিকাকা। 

প্রশ্ন ১৩। জর্ডানের রাজধানী- 

(ক) আম্মান

(খ) টকিঅ’ 

(গ) কলম্বো 

(ঘ) বেইরুট

উত্তর : (ক) আস্থান।

 প্রশ্ন ১৪। ইরানের রাজধানী— 

(ক) বাগদাদ 

(খ) তেহরাণ 

(গ) বাকু 

(ঘ) মানামা 

উত্তর : (খ) তেহরাণ। 

প্রশ্ন ১৫। মরিশাশের রাজধানী— 

 (ক) মালাবো 

 (খ) জকর

 (গ) পোর্ট লুইস

 (ঘ) ভিক্টোরিয়া 

উত্তর : (গ) পোর্ট লুইস। 

প্রশ্ন ১৬। প্রাকৃতিকভাবে ইউরোপ মহাদেশকে এশিয়া মহাদেশ থেকে পৃথক করে রেখেছে

(ক) কারাকোরাম পর্বতমালা এবং কৃষ্ণ সাগর 

(খ) হিমালয় পর্বতমালা এবং আমুর নদী 

(গ) উরাল পর্বতমালা এবং উরাল নদী। 

(ঘ) রকি পর্বতমালা এবং লেনা নদী 

উত্তর : (গ) উরাল পর্বতমালা এবং উরাল নদী 

প্রশ্ন ১৭। ভূ-পৃষ্ঠের মোট কত অংশ স্থলমণ্ডলে আবৃত আছে? 

(ক) ৩০ শতাংশ 

(খ) ২৯ শতাংশ 

(গ) ২৫ শতাংশ

(ঘ) ৩২ শতাংশ 

উত্তর : (খ) ২৯ শতাংশ

প্রশ্ন ১৮। বায়ুমণ্ডল প্রদূষিত হওয়ার অন্যতম ভয়াবহ পরিণতি হইল- 

(ক) অ্যাসিড বৃষ্টিপাত 

(খ) মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়া 

(গ) সামুদ্রিক প্রাণীর বিপদাপন্ন হওয়া 

(ঘ) একটাও না 

উত্তর : (ক) অ্যাসিড বৃষ্টিপাত 

প্রশ্ন ১৯। বায়ুমণ্ডলের সবুজ গৃহ গ্যাসের পরিমাণ বাড়িলে সাধারণত্তে বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ- 

(ক) বাড়ে 

(খ) কমে 

(গ) একই থাকে 

(ঘ) কোন পরিবর্তন হয় না 

উত্তর : (ক) বাড়ে 

প্রশ্ন ২০। বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে থাকা গ্যাস হইল— 

(ক) কার্বন-ডাই-অক্সাইড 

(খ) অক্সিজেন 

(গ) নাইট্রোজেন 

(ঘ) মিথেন 

উত্তৰ : (গ) নাইট্রোজেন 

প্রশ্ন ২১। ইয়াংসি নদী নিম্নের কোন দেশে প্রবাহমান ? 

(ক) ভারত 

(খ) পাকিস্তান

(গ) জাপান

(ঘ) চীন

 উত্তর : চীন

প্রশ্ন ২২। ভূ-পৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের চিরন্তন উৎস হইল—

 (ক) সৌরশক্তি

 (খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড

 (গ) ভূ-কেন্দ্রের উত্তাপ 

(খ) সবুজ গৃহ গ্যাস

উত্তর : (ক) সৌরশক্তি 

প্রশ্ন ২৩। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি? 

(ক) প্রশান্ত মহাসাগর 

(খ) ভারত মহাসাগর 

(গ) আটলান্টিক মহাসাগর

(ঘ) দক্ষিণ মহাসাগর 

উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগর।

প্রশ্ন ২৪। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি ?

(ক) উত্তর আমেরিকা মহাদেশ 

(খ) ইউরোপ মহাদেশ

(গ) এন্টার্কটিকা মহাদেশ

(ঘ) ওশেনিয়া মহাদেশ 

উত্তর : ওশেনিয়া মহাদেশ। 

প্রশ্ন ২৫। ফকল্যাও দ্বীপটি কোন মহাসাগরে অবস্থিত ?

(ক) আটলান্টিক মহাসাগরে 

(খ) উত্তর মহাসাগরে 

(গ) প্রশান্ত মহাসাগরে 

(ঘ) ভারত মহাসাগরে গৃহ গ্যাস 

উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরে।

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। পৃথিবীতে সর্বমোট কতটি দেশ আছে? মাটির কালি ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্রতম দেশ দুইটির নাম লিখ। [

উত্তর : পৃথিবীতে সর্বমোট ১৯৭টি দেশ আছে। 

পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ – রাশিয়া 

পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ – ভেটিকান সিটি। 

প্রশ্ন ২। এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সীমা কিসের দ্বারা সৃষ্টি [হইয়াছে? 

উত্তর : ইউরাল পর্বতমালা এবং ইউরাল নদী দ্বারা। 

প্রশ্ন ৩। পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা কোনটি এবং কোথায় অবস্থিত ? আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। ওশেনিয়া। 

উত্তর : আন্দিজ পৃথিবীর দীর্ঘতম (প্রায় ৮০০০ কিলোমিটার) পর্বতশ্রেণী। ইহা দক্ষিণ 

আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।

প্রশ্ন ৪। মাটির আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম লিখ। 

উত্তর : পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশটি হইল এশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশটি হইল ওশেনিয়া

প্রশ্ন ৫। পৃথিবীর কোন দেশটি কোন্ দুইটি মহাদেশে বিস্তৃত ? 

উত্তর : রাশিয়া।

প্রশ্ন ৬। মাটির আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ এবং ক্ষুদ্রতম দেশের নাম লিখ।

উত্তর ঃ বৃহত্তম দেশ রাশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম দেশ ভেটিকান সিটি।

প্রশ্ন ৭। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রধান পর্বত শ্রেণীটির নাম কি? এই পর্বতমালার দৈর্ঘ্য কত এবং ইহা মহাদেশের কোন্ অংশে অবস্থিত ?  

উত্তর : উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রধান পর্বত শ্রেণীটির নাম রকি পর্বতশ্রেণী। ইহা মহাদেশটির পশ্চিম অংশে অবস্থিত। ইহার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৮০০ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ৮। পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি এবং ইহা কোথায় অবস্থিত? . 

উত্তর ঃ পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হইল সাহারা মরুভূমি। ইহা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। 

প্রশ্ন ৯। এশিয়া মহাদেশের দুইটি উত্তর দিকে প্রবাহিত এবং পূর্ব দিকে প্রবাহিত নদীর নাম লিখ। 

উত্তর ঃ উত্তর দিকে প্রবাহিত দুইটি নদীর নাম লেনা ও ইনিসি এবং পূর্ব দিকে প্রবাহিত নদীর নাম হোয়াংহো ও ইয়াংসি কিয়াং ।

প্রশ্ন ১০। অস্ট্রেলিয়ান একটি করিয়া প্রধান পর্বতশ্রেণী, নদী ও মরুভূমির নাম লিখ। 

উত্তর ঃ একটি প্রধান পর্বতশ্রেণী হইল গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ, একটি প্রধান নদী মারে ডার্লিং এবং একটি মরুভূমি হইল প্লেট ভিক্টোরিয়া। 

প্রশ্ন ১১। ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্গত তথা ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি দেশের নাম লিখ। 

উত্তর : ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, গ্রীস ও মাল্টা। 

প্রশ্ন ১২। পৃথিবীর মোট কালি কত? 

উত্তর : প্রায় ৫১০ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ১৩। ভূ-পৃষ্ঠের স্থলভাগ ও জলভাগের পরিমাণ কত?

উত্তর : স্থলভাগের পরিমাণ ১৪৯ নিযুত বর্গ কিলোমিটার ও জলভাগের পরিমাণ ৩৬১ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ১৪। পৃথিবীর স্থলভাগ কোন্ কোন্ মহাদেশ দ্বারা গঠিত ? 

উত্তর ঃ পৃথিবীর স্থলভাগ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত। 

প্রশ্ন ১৫। পৃথিবীর জলভাগ কোন্ কোন্ মহাসাগর দ্বারা গঠিত? 

উত্তর : পৃথিবীর জলভাগ প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর দ্বারা গঠিত।

 প্রশ্ন ১৬। ২০১৫ বর্ষের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা কত ? 

উত্তর : প্রায় ৭৩০ কোটি। 

প্রশ্ন ১৭। টেথিস সাগরের সৃষ্টি পেঞ্জিয়াটিকে দুইটি ভাগে ভাগ করিয়াছে ভাগ দুইটি কি ? 

উত্তর : ভাগ দুইটি হইল— লরেশিয়া এবং গণ্ডোয়ানাল্যান্ড। 

প্রশ্ন ১৮। স্থলমণ্ডলটিকে কি কি ভাগে ভাগ করা হইয়াছে? 

উত্তর : স্থলমণ্ডলের প্রথম অংশটি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা; দ্বিতীয় অংশটি উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা; তৃতীয় অংশটি বুশেনিয়া এবং চতুর্থ অংশটি এন্টার্কটিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত। 

প্রশ্ন ১৯। কোন্ কোন্ মহাসাগর দুইটি গোলার্ধেই বিস্তৃত ? 

উত্তর : প্রশান্ত মহাসগার, আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর। 

প্রশ্ন ২০। উপকূল হইতে সাগর-মহাসাগরের মধ্যভাগ পর্যন্ত কি কি অবয়ব দেখিতে পাওয়া যায়? 

উত্তর ঃ মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রতল, সমুদ্রতলীয় দ্রোণী, সামুদ্রিক শৈলশিরা ও দ্বীপ এবং গভীর সমুদ্রখাত।

প্রশ্ন ২১। পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি ? এই মহাসাগরের মোট আয়তন কর উল্লেখ কর।

 উত্তৰ : পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর। মোট আয়তন প্রায় ১৬৫ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২২। টেথিস সাগরের উত্তর এবং দক্ষিণে অবস্থিত মহাদেশীয় ভূখণ্ডের নাম লেখো।

উত্তর : টেথিস সাগরের উত্তর অংশকে আঙ্গারল্যাণ্ড অথবা লরেসিয়া এবং দক্ষিণ অংশকে গণ্ডোয়ানাল্যাণ্ড বলা হয়। 

প্রশ্ন ২৩। প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তৃতির বর্ণনা দাও। 

উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা, সাইবেরিয়ার পূর্ব অংশ এবং উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড ও দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল ও পশ্চিমে এশিয়া মহাদেশের পূর্ব উপকূল ও জাপান, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

 প্রশ্ন ২৪। প্রশান্ত মহাসাগরের কয়টি সামুদ্রিক দ্বীপ আছে? 

উত্তর : ২০,০০০ টি ।

প্রশ্ন ২৫। প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দ্বীপের নাম লিখ। 

উত্তর : জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যাণ্ড, ইন্দোনেশিয়া, হাওয়াই ইত্যাদি।

 প্রশ্ন ২৬। প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি সামুদ্রিক খাতের নাম লিখ। 

উত্তর : মেরিয়ানা, এলিউসিয়ান, কিউরাইল, ফিলিপাইন, টোংগো, পেরু চিলি ইত্যাদি খাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন ২৭। প্রশান্ত মহাসাগরের অন্তর্গত কয়েকটি সাগরের নাম লিখ। 

উত্তর : বেরিং সাগর, ওখটস্ক, জাপান, দক্ষিণ চীন, ফিলিপাইন, আলাস্কা সাগর ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ২৮। আটলান্টিক মহাসাগরের বিস্তৃতি কত? 

উত্তর : প্রায় ৮২ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২৯। আটলান্টিক মহাসাগরের চারিদিকের সীমা বর্ণনা কর। 

উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তরে গ্রীনল্যাণ্ড ও উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ, পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। 

প্রশ্ন ৩০। আটলান্টিক মহাসাগরের অন্তর্গত কয়েকটি দ্বীপের নাম লিখ। 

উত্তর : আইসল্যাণ্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, ক্যানেরি, ফকল্যাণ্ড, বারমুডা ইত্যাদি।

 প্রশ্ন ৩১। আটলান্টিক মহাসাগরের কয়েকটি প্রধান সামুদ্রিক খাতের নাম লিখ। 

উত্তর : পুয়ারটোরিক, রোমাঞ্চ ও দক্ষিণ স্যাণ্ডউইচ খাত ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৩২। আটলান্টিক মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাগরের নাম লিখ। 

উত্তর : ভূমধ্য সাগর, বাল্টিক সাগর, ক্যারিবিয়ান, মেক্সিকো উপসাগর, লাব্রাডার সাগর, হাড়সন সাগর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

প্রশ্ন ৩৩। ভারত মহাসাগরের আয়তন কত ?

 উত্তর : প্রায় ৭৩ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ৩৪। ভারত মহাসাগরের চারিদিকে সীমার বর্ণনা দাও। 

উত্তর : ভারত মহাসাগরের উত্তরে ভারত উপ মহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপসমূহ এবং পশ্চিমে আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার। 

প্রশ্ন ৩৫। ভারত মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খাতের নাম লিখ।

 উত্তর ঃ সোকোত্রা-সাগোস, সিসিলিজ, মাদাগাস্কার, ক্রোজেট ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৩৬। ভারত মহাসাগরের অবস্থিত কয়েকটি সাগর ও উপসাগরের নাম লিখ। 

উত্তর : আরব সাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর, সাগর ইত্যাদি। লোহিত

প্রশ্ন ৩৭। ভারত মহাসাগরের অবস্থিত কয়েকটি সাগর ও উপসাগরের নাম লিখ। 

উত্তর : আরব সাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর, লোহিত সাগর ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৩৮। ভারত মহাসাগরের কয়েকটি সামুদ্রিক দ্বীপের নাম লিখ।

উত্তর : ভারত মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক দ্বীপ হইল শ্রীল আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া, মালদীত, মরিসাস, সিসিলিজ, মাদাগাস্কার ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৩৯। দক্ষিণ মহাসাগরের আয়তন কত ? 

উত্তর : প্রায় ২০ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ৪০। দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান নির্ণয় কর। 

উত্তর : দক্ষিণ মহাসাগর এন্টার্কটিকা মহাদেশকে চতুর্দিকে বেস্টন করিয়া আছে।

প্রশ্ন ৪১। দক্ষিণ মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য কি? বেষ্টন করিয়া আছে। 

উত্তর : দক্ষিণ মহাসাগরের বৎসরের বেশির ভাগ সময় বরফাচ্ছাদিত থাকে।

 প্রশ্ন ৪২। উত্তর মহাসাগরের আয়তন কত ? 

উত্তর : প্রায় ১৪ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ৪৩। উত্তর মহাসাগর গোলাকৃতি হইবার কারণ কি? 

উত্তর : উত্তর মহাসাগর উত্তর মেরুর চতুর্দিকে ঘিরিয়া থাকিবার জন্য। 

প্রশ্ন ৪৪। সম্পূর্ণভাবে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত মহাদেশগুলির নাম লিখ।

 উত্তর : উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া।

প্রশ্ন ৪৫। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর গোলার্ধে জমা হইয়া আছে কেন? 

উত্তর : জলমণ্ডলের বৃহৎ অংশই (৫৭ শতাংশ) দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। অপরদিকে স্থলভাগের বৃহৎ অংশ (৬৭ শতাংশ) উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এই কারণে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর গোলার্ধে জমা হইয়া আছে অর্থাৎ অধিক জনসংখ্যা। 

প্রশ্ন ৪৬। এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু বৈচিত্র্যময় কেন ? 

উত্তর : এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই মহাদেশটির জলবায়ুর ভিন্নতা অধিক। এই মহাদেশটিকে জলবায়ুর তারতম্য অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়- (১) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল, (২) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল, (৩) ক্রান্তীয় উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চল, (৪) নাতিশীতোষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চল, (৫) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল, (৫) স্টেপ জলবায়ু অঞ্চল, (৭) মাঞ্চুরীয় জলবায়ু অঞ্চল, (৮) টাইগা জলবায়ু অঞ্চল, (৯) তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল, (১০) আলপাইন জলবায়ু অঞ্চল, (১১) চীন জলবায়ু অঞ্চল। 

প্রত্যেকটি ভাগের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বজায় থাকার ফলে এশিয়ার জলবায়ু বৈচিত্র্যামন হইয়া উঠিয়াছে। 

প্রশ্ন ৪৭। এন্টার্কটিকা মহাদেশে মানুষের স্থায়ী বসতি নাই কেন?

 উত্তর : এন্টার্কটিকা মহাদেশে স্থায়ী বসবাস করা কোন মানুষ নাই কারণ এন্টার্কটিকা মহাদেশে সারা বৎসরই বরফাচ্ছাদিত থাকে। ফলে সেই মহাদেশে কোন বৃক্ষও জন্মায় না এবং মানুষও স্থায়ীভাবে থাকে না। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। পৃথিবীর স্থলমণ্ডল ও জলমণ্ডলের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ।

 উত্তর : সাগরপৃষ্ঠের কিছু উপরে মাটি দ্বারা আবৃত হইয়া থাকা ভূ-পৃষ্ঠের একটি বৃহৎ অংশকে স্থলমণ্ডল (Lithosphere) বলা হয়। স্থলমণ্ডলটি জল দ্বারা ঘিরিয়া থাকা চারিটি বৃহৎ অংশে আবৃত। স্থলমণ্ডলের প্রথম অংশটি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত। দ্বিতীয় অংশটি উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত। তৃতীয় অংশটি অস্ট্রেলিয়া ও বহু দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা গঠিত ওশেনিয়া মহাদেশ গঠিত এবং চতুর্থ অংশটি এন্টার্কটিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত।

ভূ-পৃষ্ঠের সাগর-মহাসাগরসহ নদ-নদী, হ্রদ ইত্যাদির জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বৃহৎ অংশকে জনমণ্ডল (Hydrosphere) বলা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, পৃথিবীর এই বৃহৎ জলমণ্ডল ও স্থলমণ্ডল দুইটি পৃথক পৃথকভাবে একসাথে অখণ্ড অবস্থায় নাই। জলমণ্ডল ও স্থলমণ্ডল দুইটিই একটি অপরটিকে বিভাজিত করিয়া মাঝে মাঝে ঢুকিয়া আছে। অবশ্য । কাস্পিয়ান, মরু এবং আরল সাগরকে বাদ দিয়া পৃথিবীর সবগুলি মহাসাগর একটি অপরটির সহিত সংযোগ স্থাপন করিয়া আছে। অন্যদিকে সংযোজিত হইয়া থাকা এবং মহাদেশগুলিকে

বেস্টন করিয়া থাকা মহাসাগরগুলি হইল – প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর। এইগুলির মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম। উল্লেখযোগ্য যে জলমণ্ডলের বৃহৎ অংশই (৫৭ শতাংশ) দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত এবং স্থলভাগের বৃহৎ অংশ (৬৭ শতাংশ) উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ লোক উত্তর গোলার্ধে বসবাস করে। 

প্রশ্ন ২। মহাদেশীয় বিস্থাপন বা সঞ্চারনের সূত্র অনুযায়ী পৃথিবীর অবস্থা আদিতে কিরূপ ছিল? 

অথবা,

 মহাদেশীয় বিস্থাপন সূত্র সংক্ষেপে বর্ণনা করো।Drift Theory) অনুসারে 

 উত্তর : মহাদেশীয় বিস্থাপন বা সঞ্চারণ সূত্র (Continental আদিতে, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ নিযুত বৎসর পূর্বে পৃথিবীর স্থলমণ্ডল একত্রিত হইয়াছিল এবং ইংর চতুর্দিকে ডালমণ্ডলে বেষ্টিত ছিল। পৃথিবীর এই অবস্থায় থাকা স্থলমণ্ডলটিকে পেঞ্জিয়া (Pengaea) এবং পেঞ্জিয়ার চারিদিকে বেষ্টন করিয়া থাকা জলমণ্ডলটিকে পাছালাসা (Panthaassa) বলা হয়। কিছুকাল পরে পেশিয়ার প্রায় মধ্যভাগ নিয়া পূর্ব-পশ্চিমে একটি সংকীর্ণ ও দীর্ঘ সাগরের সৃষ্টি হইয়াছিল। ইহার নাম টেথিস সাগর। এই টেথিস সাগর পেঞ্জিঘাটিকে উত্তর-দক্ষিণে দুইটি ভাগে বিভক্ত করিয়াছিল। উত্তর অংশটির নাম পরেসিয়া (Laurasia) এবং দক্ষিণ অংশটির নাম গণ্ডোয়ানাল্যান্ড (Gondowana Land)। মহাদেশীয় সঞ্চারণ সূত্র অনুসারে লরেসির বিভাজিত হইয়া উত্তর আমেরিকা, গ্রীনল্যান্ড ও ভারত উপ মহাদেশের উত্তরে থাকা ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশর সৃষ্টি হইয়াছিল। অপরদিকে, গণ্ডোয়ানা ল্যাণ্ড বিভাজিত হইয়া দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, ভারতবর্ষ, আরব অঞ্চল, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দ্বীপসমূহ, অস্ট্রেলিয়া, এন্টার্কটিকা ইত্যাদির সৃষ্টি হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩। মহাসাগরের আদেশের ভূ-অবয়ব সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।

 উত্তর : মহাসাগরের তলদেশের ভূ-প্রকৃতি অসমান। সাগর-মহাসাগরের তলদেশ শৈল- শিরা, রোগী, সামুদ্রিক টিলা, খাত ইত্যাদি উচ্চ-নীচ করিয়া রাখিয়াছে। গড় হিসাবে

মহাসাগরের গভীরতা প্রায় ৪০০০ মিটার। উপকূল হইতে সাগর-মহাসাগরের মধ্যভাগ পর্যন্ত যথাক্রমে মহীসোপান (Continental Shelf), মহীঢাল (Continental Slope গভীর সমুদ্রতল (Deep Sea Plain), সমুদ্রতলীয় দ্রোণী (Oceanic Floor), সামুদ্রিক শৈলশিরা ও দ্বীপ (Oceanic Ridge and tland) এবং গভীর সমুদ্রখাত (Deep Sea Trench)। উপকূলে চারিদিকে থাকা সাগর-মহাসাগরের অগভীর (২০০০ মিটার পর্যন্ত) অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের পরের যথেষ্ট গভীর (প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত) অংশকে মহীঢাল বলা হয়। সাগর-মহাসাগরের মধ্যভাগে অতি গভীর সমুদ্রতলীয় দ্রোণী (৪০০০ মিটার পর্যন্ত গভীর), গভীরতম সামুদ্রিক খাত (গড় হিসাবে ৮০০০ মিটার পর্যন্ত গভীর) এবং বিচ্ছিন্নভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উপর পর্যন্ত বহু শৈলশিরা, দ্বীপ ইত্যাদি দেখা যায়। সমুদ্রখাত সমূহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে থাকা মেরিয়ানর বা চ্যালেঞ্জার খাতই পৃথিবীর গভীরতম খাত (১১,০২২ মিটার গভীর)। 

প্রশ্ন ৪। পৃথিবীতে মহাসাগর এবং মহাদেশসমূহের বিতরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : নিম্ন মহাসাগরগুলির বিতরণ সম্পর্কে বিবরণ দেওয়া হইল : 

(১) প্রশান্ত মহাসাগর : প্রায় ১৬৫ নিযুত বর্গ কিলোমিটার আয়তন সহ এই মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর। ইহার বিস্তৃতি-উত্তরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা, সাইবেরিয়ার পূর্ব অংশ ও উত্তর সাগর; দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড ও দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল, পশ্চিমে এশিয়া মহাদেশের পূর্ব উপকূল ও জাপান, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদিকে বেষ্টন করিয়া আছে। প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ৫০০০ মিটার। 

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট-বড় সামুদ্রিক দ্বীপ পায় ২০,০০০টি আছে। এই দ্বীপসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বীপ হইল জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যাণ্ড, ইন্দোনেশিয়া, হাওয়াই ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক খাত হইল— মেরিয়ানা, এলিউশিয়ান, কিউরাইল, ফিলিপাইন, টোংগা, পেরু চিলি ইত্যাদি। 

প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাগর হইল বেরিং সাগর, ওখটস্ক, জাপান, দক্ষিণ চীন, ফিলিপাইন, আলাস্কা সাগর ইত্যাদি।

 (২) আটলান্টিক মহাসাগর : প্রায় ৮২ নিযুত বর্গ কিলোমিটার আয়তনযুক্ত আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। ইহার বিস্তৃতি প্রশান্ত মহাসাগরের অর্ধেক। আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তরে গ্রীণল্যাণ্ড ও উত্তর মহাসাগর; দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। আটলান্টিক মহাসাগরের গড় গভীরতা ৩০০০ মিটার। আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে উত্তর দক্ষিণে একটি লম্বা মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা আছে। ইহার উত্তর অংশকে ডলফিন উত্থান ও দক্ষিণ অংশকে চ্যালেঞ্জার উত্থান বলে।

কোটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ আটলান্টিক মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য দ্বীপগুলি হইল— আইসল্যাণ্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, ক্যানারি, ফকল্যাণ্ড, বারমুণ্ডা ইত্যাদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আটলান্টিক মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য খাতগুলি হইল—- পুয়াটোরিক, রোমার ও দক্ষিণ স্যান্ডউইচ খাত। 

আটলান্টিক মহাসাগরের অন্তর্গত উল্লেখযোগ্য সাগরগুলি হইল— ভূমধ্য সাগর, বাল্টিক সাগর- ক্যারিবিয়ান, মেক্সিকো উপসাগর, লাব্রাডার সাগর, হাডসন সাগর ইত্যাদি। 

(৩) ভারত মহাসাগর : প্রায় ৭৩ নিযুত বর্গ কিলোমিটার আয়তনযুক্ত ভারত মহাসাগর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। 

ইহার বিস্তৃতি প্রশান্ত মহাসাগরের অর্ধেকেরও কম। ইহার চারিসীমার উত্তরে ভারত উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর, পূর্বে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার দ্বীপসমূহ; এবং পশ্চিমে আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার। ভারত মহাসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ৪০০০ মিটার। এই মহাসাগরে চোকোত্রা-সাগোস, সিসিলিজ, মাদাগাস্কার, ফ্রোজেট ইত্যাদি নামের কয়েকটি সামুদ্রিক গিরিখাত আছে। 

ভারত মহাসাগরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাগর হইল— আরব সাগর, পারস্য উপসাগর, বংগোপসাগর, আন্দামান সাগর, লোহিত সাগর ইত্যাদি। ভারত মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য দ্বীপসমূহ হইল— শ্রীলঙ্কা, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া, মালদীভ, মরিসাস, সিসিলিজ, মাদাগাস্কার ইত্যাদি। 

(৪) দক্ষিণ মহাসাগর: দক্ষিণ মহাসাগর প্রায় ২০ নিযুত বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পৃথিবীর চতুর্থ মহাসাগর। এই মহাসাগর এন্টার্কটিকা মহাদেশের চতুর্দিক বেষ্টন করিয়া আছে। প্রকৃতপক্ষে ইহা প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের বর্ধিতাংশ। বৎসরের বেশিরভাগ সময় ইহা বরফে আবৃত থাকে।

(৫) উত্তর মহাসাগর : প্রায় ১৪ নিযুত বর্গ কিলোমিটার আয়তনযুক্ত উত্তর মহাসাগর পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর। ইহার আকার ভারত মহাসাগরের এক পঞ্চমাংশ। ইহা এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা মহাদেশের উত্তরাংশ এই মহাসাগর ঘিরিয়া রাখিয়াছে। ইহার গভীরতা প্রায় ৩৫০০ মিটার। বৎসরের বেশিরভাগ সময় পুরু বরফে ঢাকা থাকে।

 মহাদেশসমূহের বিতরণ : পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৬৭ শতাংশই উত্তর গোলার্ধে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশ সম্পূর্ণভাবে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। অপরদিকে পূর্ব-পশ্চিম ভাবে ধরিলে উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা পশ্চিম গোলার্ধে এবং বাকী বেশিরভাগ অংশ পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত। মহাদেশগুলির মধ্যের সীমা মূলতঃ প্রাকৃতিক উপাদান যেমন, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর ইত্যাদি নির্ধারণ করে। উদাহরণ স্বরূপ ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যেকার সীমা ইউরাল পর্বতমালা নির্ধারণ করে। আবার উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যেকার সীমা পানামা খাল নির্ধারণ করে।

প্রশ্ন ৫। পৃথিবীর স্থলভাগের উপরিভাগে থাকা ভূ-অবয়বসমূহের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : পাহাড়-পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, উপকূলীয় সমভূমি ইত্যাদির উপস্থিতি ঘুমগুলের ভূ-অবয়ব অসমান করিয়া রাখিয়াছে। মহাদেশগুলির ভূ-অবয়ব একই নয়। ইহা ছাড়া অবস্থান অনুযায়ী পৃথিবীর সকল স্থানের জলবায়ু এক প্রকারের নয়। এন্টার্কটিকা মহাদেশে কোন স্থায়ী জনবসতি নাই। এই কারণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া অন্যান্য মহাদেশের ভূঅবয়ব সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হইল।

(ক) এশিয়া মহাদেশ : এশিয়া মহাদেশটি সুউচ্চ পর্বত শ্রেণী, মালভূমি, নদী উপত্যকা, নিম্নভূমি, উপকূলীয় সমভূমি, মহাসাগরীয় দ্বীপ, মরুভূমি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত। মহাদেশটির মধ্য অংশত পর্বত ও মালভূমিতে ভরা। পর্বতশ্রেণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল—- ইউরাল পর্বতমালা, হিমালয় পর্বতশ্রেণী, কারাকোরাম পর্বতমালা, কুনলুন পর্বতমালা, অলটাইন পর্বতমালা, তিয়েনসান পর্বতমালা, অলাতাই পর্বত, আরাবদ্রী পর্বত ইত্যাদি পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্ট হিমালয় পর্বত শ্রেণীর অন্তর্গত। পাহাড়-পর্বত ও মালভূমি হইতে সৃষ্টি করা উচ্চভূতি হইতে অনেক বড় বড় নদীর সৃষ্টি হইয়াছে। এইগুলি ছাড়াও গোৰি, থর ও আরব মরুভূমিও এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। 

(খ) ইউরোপ মহাদেশ : ইউরোপ মহাদেশের ভূঅবয়ব অতি জটিল ও বৈচিত্র্যময়। ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী ইউরোপ মহাদেশকে দুইভাগে ভাগ করা যায় উত্তর অংশটি পশ্চিমের ফ্রান্স উপকূল হইতে পূর্বে ইউরাল পর্বতশ্রেণী পর্যন্ত প্রায় সমতল ভূমি এবং দক্ষিণ অংশটি স্পেন হইতে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত পাহাড়-পর্বত, মালভূমি দ্বারা উচ্চ-নীচ। পর্বত শ্রেণীর মধ্যে আত্মস, পিরেনিজ, কার্থেশিয়ান ও ককেসাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

(গ) আফ্রিকা মহাদেশ :আফ্রিকা মহাদেশের সংকীর্ণ সমতল ভূমি ছাড়া মহাদেশটির বেশি অংশই একটি বৃহৎ মালভূমি। আফ্রিকা মহাদেশে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী নাই। ইহার ছোট ছোট উচ্চভূমি ভূ-অবয়কে বন্ধুর করিয়া রাখিয়াছে। কিলিমাঞ্জারো শৃঙ্গ মহাদেশটির উচ্চতম স্থান। আফ্রিকার উচ্চভূমিগুলির মধ্যে এটলাস, ইথিওপিয়ান উচ্চভূমি, এডামাওয়া উচ্চভূমি, ড্রাকেন্স বার্গ উচ্চভূমি উল্লেখযোগ্য। মহাদেশটি বহু নদ-নদী ও হ্রদে ভরা। পৃথিবীর বৃহত্তম সাহারা মরুভূমি ছাড়াও কালাহারি ও নামিবিয়া মরুভূমি এই মহাদেশে অবস্থিত।

 (ঘ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশ :উত্তর আমেরিকা মহাদেশটির ভূ-অবয়ব বৈচিত্র্যময়। ইহার উচ্চতম স্থান মেকিনলে শৃঙ্গ এবং নিম্নতম স্থান ডেথভ্যালী বা মৃত্যু উপত্যকা। এই মহাদেশের পশ্চিম ও পূর্ব অংশ দুইটি উত্তর-দক্ষিণে পাহাড়-পর্বতময়। বাকী অংশ উচ্চ ও নিম্ন সমতলভূমিতে গঠিত। ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী মহাদেশটিকে চারিভাগে ভাগ করা যায়- (১) রকি পার্বত্য অঞ্চল, (২) বিশাল উচ্চ সমভূমি অঞ্চল, (৩) আপালেসিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল ও (৪) উপকূলীয় নিম্ন সমতলভূমি অঞ্চল, আলাস্কা হইতে মেক্সিকো পর্যন্ত উত্তর-

দক্ষিণে সুউচ্চ রকি পার্বত্য অঞ্চল দ্বারা গঠিত। ইহা ছাড়াও পশ্চিম উপকূলবর্তী কাস্কেড, সিয়েরা নেভেড়া ও কোষ্টরেঞ্জ পর্বতশ্রেণী এবং নিউফাউন্ডল্যাও হইতে ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়-পর্বত ও সংকীর্ণ উপত্যকা ও ভগ্ন মালভূমি দ্বারা গঠিত আপালেশিয়ান উচ্চ ভূমি আছে। এই অঞ্চলের দক্ষিণ অংশে এলিখেনি ও রবিজ পর্বতশ্রেণী আছে। আপালেশিয়ান উচ্চভূমির পূর্বে উপকূলীয় সমতলভূমি আছে। ইহা ছাড়া মহাদেশটির উত্তর, দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিম অংশে অজস্র ছোট-বড় দ্বীপ আছে। উত্তর আমেরিকায় অনেক নদ-নদী ও হ্রদ আছে। 

(ঙ) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ : দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-অবয়ব বৈচিত্র্যপূর্ণ। এই মহাদেশ, উচ্চ পার্বত্য ভূমি, নদী গঠিত সমভূমি, মালভূমি, উপকূলী সমভূমি, দ্বীপ, কেভূমি ইত্যাদি প্রায় সকল ভূ-অবয়বেই আছে। দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমে সুউচ্চ আন্দিজ পর্বতমালা অবস্থিত। ইহা পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী। মহাদেশটির মধ্য-পূর্বে বিস্তীর্ণ ব্রাজিল মালভূমি অবস্থিত। পৃথিবীর উচ্চতম স্থানে অবস্থিত বৃহৎ হ্রদ টিটিকাকা এই মহাদেশে আছে। এই মহাদেশে আটাকামা ও পাটাগোনিয়া মরুভূমি আছে। 

(চ) ওশেনিয়া মহাদেশ : অস্ট্রেলিয়া মহাদ্বীপকে কেন্দ্র করিয়া দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত নিউজিল্যাণ্ড, তাসমানিয়া, নিউগিনি ইত্যাদি অনেক ছোট বড় দ্বীপসমূহকে লইয়া ওশেনিয়া মহাদেশটি গঠিত। ওশেনিয়া মহাদেশের মূল ভূখণ্ড অস্ট্রেলিয়া একটি প্রাচীন মালভূমি। ইহার চারিদিকে সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব অংশে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ ও গ্লোয়ি মাউন্ট সৃষ্টি করা উচ্চভূমি অঞ্চল। এই অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ান মাস বলা হয়। মারে এবং ডার্লিং নদী একটি বৃহৎ সমতলভূমির সৃষ্টি করিয়াছে। 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ৬। এশিয়া মহাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : এশিয়া মহাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ : (১) উত্তরের বিশাল নিম্নভূমি অঞ্চল : এশিয়ার উত্তরভাগে পূর্বে সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বের এনাভির ভাঞ্চল হইতে পশ্চিমে ইউরাল পর্বত ও কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত একটি বিশাল ত্রিভুজাকার সমতল আছে। এই সমতলভূমি মধ্য এশিয়ার পর্বতমালা হুইতে ক্রমশ উত্তর মহাসাগরের নিকে নামিয়া গিয়াছে। এই নদীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে ওব, ইনিসি এবং লেনা। এইগুলি, উত্তরবাহিনী। এই বৃহৎ সমতলটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় : (ক) ক্ষয়জাত নিম্নভূমি। এই অঞ্চল উঁচুনীচু। এই অঞ্চলটি শীতল তুন্দ্রা। (খ) লেনা য়েনিসি এবং ওব নদীর সংযুক্ত সমতল। এই অঞ্চলটিও শীতল তুমা। শীতকালে নদীর মুখগুলি বন্ধ হইয়া বন্যার সৃষ্টি করে। (গ) কাস্পিয়ান সাগর হইতে পূর্ব দিকে বিস্তার হওয়া তুরান নিম্নভূমি। ইহা অর্ধ-শুষ্ক মরুভূমি। কাজাৰস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান এই নিম্নভূমির অন্তর্গত। 

২। মধ্য এশিয়ার পার্বত্য এবং মালভূমি অঞ্চল পশ্চিমে ইজিয়ান সাগর হইতে পূর্বে বেরিং প্রণালী পর্যন্ত অঞ্চল জুড়িয়া রহিয়াছে বিশাল উচ্চ মালভূমি ও তুষারমণ্ডিত ভঙ্গিল পর্বতমালা।

মধ্য এশিয়ার মালভূমিতে পূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়— (১) পূর্ব মালভূমি এবং (২) পশ্চিম মালভূমি। এই মালভূমির মধ্যভাগে আছে পামীর মালভূমি। পামীর পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি। ইহার গড় উচ্চতা ৩,৬০০ মিটার। ইহাকে এইজনা পৃথিবীর ছাদ বলা হয়। এই মালভূমিতে মধ্য এশিয়ার প্রায় সকল পর্বতমালা মিলিত হইয়াছে, এইজন্য ইহাকে পামীর গ্রন্থি (Pamir Knot) বলা হয়। পামীর গ্রন্থি হইতে উত্তর- পূর্ব দিকে গিয়াছে তিয়েনশান, আলতাই, স্তানোভয় পর্বতমালা, পূর্বদিকে গিয়াছে কারাকোরাম ও হিমালয় পর্বতমালা ও তাহাদের শাখা-প্রশাখা এবং পশ্চিম দিকে গিয়াছে হিন্দুকুশ ও সুলেমান পবর্তমালা। হিন্দুকুশ ও সুলেমান পর্বতমালা পশ্চিমে বিস্তৃত হইয়া আর্মেনিয়ান গ্রন্থি নামে এক পার্বত্য গ্রন্থি রচনা করিয়াছে। ইহাদের পশ্চিমে রহিয়াছে এলবুর্জ, পন্টিক, জাগ্রোস, টরাস প্রভৃতি পর্বতমালা। 

পামীর গ্রন্থি হইতে দক্ষিণ-পূর্বদিকে নির্গত হইয়াছে হিমালয়, পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশ্রেণী। ইহার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মিটার)। হিমালয়ের উত্তর-পশ্চিমভাগে রহিয়াছে কারাকোরাম ও কৈলাস পর্বতশ্রেণী। কারাকোরামের গডউইন অস্টিন (৮,৬১১ মিটার) বা K. (King of Karakoram) পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। হিমালয়ের পূর্বপ্রান্তে প্রসারিত শাখা-প্রশাখা পূর্বাঞ্চলে পাটকাই, নাগা ও লুসাই নামে এবং মায়ানমারে আরাকানইয়োমা, পেগুইয়োমা, টেনাসেরিম ইয়োমা নামে পরিচিত। 

হিমালয় ও কুয়েনলুন পর্বতমালার মধ্যে আছে তিব্বতের মালভূমি এবং তিয়েনশান ও আলতিনতাগ পর্বতমালার মধ্যে টাকলামাকান মরুভূমি অবস্থিত। আলতাই ও আলতিনতাগের মধ্যে আছে গোবি মরুভূমি। ইরানের মালভূমি এলবুর্জ ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়া ঘেরা। একেবারে পশ্চিমে পন্টিক ও টরাস পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত আনাতোলিয়ার মালভূমি। মানস সরোবর তিব্বতের মালভূমির পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত। 

৩। পশ্চিম এশিয়ার মালভূমি অঞ্চল : এশিয়ার পশ্চিমাংশের মালভূমি অঞ্চলটি আফগানিস্তান, ইরান ও তুর্কী পর্যন্ত বিস্তৃত হইয়া আছে। এই অঞ্চলের প্রধান মালভূমিগুলি হইল ইরান মালভূমি, কুরদিস্তান মালভূমি, আর্মেনিয়া মালভূমি ও আনাতোলীয় মালভূমি। আর্মেনিয়া মালভূমি কাম্পিয়ান হ্রদ ও কৃষ্ণ সাগরের মধ্যে অবস্থিত। পামীর গ্রন্থি হইতে হিন্দুকুশ পর্বতমালা নির্গত হইয়া এই আর্মেনিয়া মালভূমিতে মিলিত হইয়াছে। আর্মেনিয়া মালভূমিতে দক্ষিণ-পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক হইতে প্রসারিত হইয়া কয়েকটি পর্বতমালা মিলিত হইয়া আর্মেনিয়ান গ্রন্থির সৃষ্টি করিয়াছে।

 ৪। দক্ষিণ এশিয়ার মালভূমি অঞ্চল : আরব মালভূমি, ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি এবং ইন্দো-চীনের মালভূমি লইয়া এই অঞ্চল গঠিত। আরব মালভূমি প্রকৃতপক্ষে একটি মরুভূমি। ইন্দো-চীন এবং দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু সংখ্যক গাছপালা দেখা যায় এবং কৃষিকার্যও হয়।

৫। সমতলভূমি এবং উপত্যকা : এশিয়া মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক উপত্যকা, ব-দ্বীপ এবং সমতলভূমি আছে। এশিয়ার উত্তর অঞ্চলে আছে ওব, ইনিসি এবং লেনা নদীর সমতলভূমি। পূর্ব অংশে আছে আমুর, হোয়াংহো ইয়াংসিকিয়াং, সিকিয়াং এবং মেকং নদীর সমতলভূমি। এশিয়ার দক্ষিণে মেনাম, সালুয়িন, ইরাবতী, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা, মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা ও সিন্ধু নদের সৃষ্টি করা সমতলভূমি। সিরিয়া এবং ইরাকে আছে ইউফ্রেটিস এবং টাইগ্রীস নদীর সমতলভূমি।

 ৬। দ্বীপসমূহ ঃ এশিয়া মহাদেশের উত্তর উপকূলে জেমল্যা, সেওয়ারনায়া এবং নিউ সাইবেরিয়ান আইল্যাণ্ডস আছে। এশিয়ার পূর্ব উপকূলে ধনুকাকৃতির কয়েক সারি দ্বীপপুঞ্জ আছে। এই দ্বীপগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল কিউরাইল, শাখালিন, জাপান, রিউকিড বা লুসু, টাইওয়ান বা ফরমোজা, ফিলিপিন্‌স এবং হাইনান । মহাদেশটির দক্ষিণ-পূর্বে সুমাত্রা, জাভা, বোর্ণিও, সিলিরিসসহ আরও প্রায় ৩০০০ ছোট ছোট দ্বীপ লইয়া ইন্দোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জা গড়িয়া উঠিয়াছে। এশিয়ার দক্ষিণের উল্লেখযোগ্য দ্বীপপুঞ্জ হইল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা, লাক্ষারীপপুঞ্জ, মালদ্বীপ, বাহরেইন ও সকোয়া দ্বীপপুঞ্জ।

 প্রশ্ন ৭। এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর বিভিন্নতার কারণগুলো আলোচনা করো।  

উত্তৰ : এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ। এই মহাদেশে ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর অবস্থান পরিলক্ষিত হয় অর্থাৎ এশিয়া মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্য আছে বলিয়া ধরা যায়। এই মহাদেশের জলবায়ুর বিভিন্নতার কারণগুলি হইল- (ক) মহাদেশটির অবস্থান (খ) আকার (গ) সুউচ্চ পর্বতমালা এবং মালভূমিগুলির অবস্থান (ঘ) সমুদ্রের প্রভাব, (৫) মৌসুমী এবং অন্যান্য বায়ুর প্রভাব। এই বিশাল মহাদেশটির অবস্থান বিষুবীয় অঞ্চল হইতে মেরু অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তারিত হইয়া রহিয়াছে। ফলে এশিয়া মহাদেশে নিরক্ষীয় জলবায়ু হইতে আরম্ভ করিয়া তুন্দ্রা অঞ্চলের শীতল জলবায়ু পর্যন্ত অনুভূত হয়। বৃহৎ আকারের মহাদেশের জন্য ইহার মধ্যভাগ সমুদ্র হইতে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত। সেইজন্য মধ্যভাগের জলবায়ু চরম ভাবাপন্ন। উচ্চ পর্বতমালা এবং মালভূমিগুলির অবস্থান মহাদেশটির বাহুর দিক এবং গতি বৃষ্টির পরিমাণ, উত্তাপ, আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করিয়া মহাদেশের জলবায়ুকে ভিন্নতা প্রদান করিয়াছে। মৌসুমী বায়ুও ইহার প্রভাবিত অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চল হইতে পৃথকভাবে একটি নিজস্ব জলবায়ুর উদ্ভব ঘটিয়াছে। এইসকল কারণগুলির একত্রিত হইয়া এশিয়ার ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর প্রভাব পরিয়া মহাদেশটির জলবায়ুকে বিচিত্রতা প্রদান করিয়াছে বা ভিন্নতর করিয়া তুলিয়াছে। 

প্রশ্ন ৮। সংক্ষিপ্ত টীকা 

(ক) পেঞ্জিয়া প্রায় ৩০০ নিযুত বৎসর পূর্বে পৃথিবীটির স্থলমণ্ডল একত্রিত হইয়াছিল এবং ইহার চারিপাশে অলমণ্ডল বেষ্টন করিয়াছিল পৃথিবীর এই অবস্থান থাকা স্থলমণ্ডলটিকে পেঞ্জিয়া (Pangaea) বলে।

(খ) এশিয়া মহাদেশের নদ-নদী : এশিয়া মহাদেশের নদীসমূহকে চারিভাগে ভাগ করা যায়— (১) উত্তর মহাসাগরে পতিত নদী, (২) প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবাহিত নদী, (৩) ভারত মহাসাগরে পতিত নদী এবং (৪) অন্তর্বাহী নদী। 

উত্তর মহাসাগরে পতিত নদী : উত্তর মহাসাগরে পতিত নদীসমূহ হইল— ওবি, ইনিসি ও লেনা। ওবি আলতাই পর্বতের নিকট হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। ইহার উপনদীর নাম ইরটিশ। ইনিসি নদী সক্ষম পর্বত হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। ইহার প্রধান উপনদীগুলি হইল উচ্চ তুঙ্গস্কা, স্টোনি তুঙ্গস্কা এবং নিম্ন তুঙ্গস্কা। লেনা নদী উৎপন্ন হইয়াছে বৈকাল হ্রদ, ইয়ারোনয় ও স্তানোভয় পার্বত্য অঞ্চল হইতে। সেনা নদীর প্রধান দুইটি উপদলী হইল ভিটিম এবং অল্ডান। 

প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত নদী ঃ প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত নদীগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হইল— আমুর, হোয়াংহো, ইয়াংসি কিয়াং, সিকিয়াং, মেকং মেনাম প্রভৃতি প্রধান। আমুর (২,৮২৪ কিমি) নদী ইয়ারোনভয় পর্বত হইতে উৎপন্ন হইয়া ওখটম সাগরে পড়িয়াছে। এই নদী বৎসরে ছয়মাস বরফে ঢাকা থাকে। হোয়াংহো (৪,৩৪৪ কিমি) তিব্বতের কুনলুনশান পর্বত হইতে প্রবাহিত হইয়া পূর্বে পো-হাই বা চিহেলী উপসাগরে পড়িয়াছে। ইহার জল পীতবর্ণের বলিয়া ইহাকে পীত নদীও বলা হইয়া থাকে। এই নদীকে চীনের দুঃখ বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছিল। এইজন্য ইহাকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়। ইয়াংসিকিয়াং (৫,৪৯৪ কিমি) বিশ্বের চতুর্থ দীর্ঘতম নদী। তিব্বতের মালভূমি হইতে নির্গত হইয়া পূর্বদিকে চীন সাগরে পড়িয়াছে। চীনের বেশিরভাগ লোক এই নদীর অববাহিকায় বসবাস করে। এই নদীর অববাহিকায় বালির মধ্যে স্বর্ণরেণু পাওয়া যায়। এইজন্য ইহাকে ‘স্বর্ণরেণুর নদী’ বা ইয়াংসি কিয়াং বলে। সিকিয়াং ইউনান মালভূমি হইতে বাহির হইয়া চীন সাগরে পতিত হইয়াছে। এই নদীর দক্ষিণ অংশের নাম ক্যান্টন নদী। মেকং ইন্দো-চীন উপদ্বীপের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইয়া দক্ষিণ চীনাসাগরে পড়িয়াছে। মেনাম থাইল্যাণ্ডের মধ্য দিয়া দক্ষিণে শ্যাম উপসাগরে পড়িয়াছে। 

ভারত মহাসাগরে পতিত নদী : সালউইন, ইরাবতী, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, গঙ্গা, গোদাবরী, কৃষ্ণা, ইউফ্রেটিস, টাইগ্রিস প্রভৃতি নদীগুলি প্রধান। সিন্ধু নদ আরব সাগরে, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র বঙ্গোপসাগরে, সালুইন ও ইরাবতী মার্তাবান উপসাগরে, ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস একত্রে মিলিয়া সাত-এল-আরব নামে পারস্য উপসাগরে পড়িয়াছে।

 অন্তর্বাহী নদী ঃ যে সকল নদ-নদী মহাদেশের অভ্যন্তরভাগে একস্থান হইতে নির্গত হইয়া মহাদেশের অভ্যন্তরস্থ কোন হ্রদ বা জলাশয়ে পতিত হয় অথবা মরুভূমির বালির উপর দিয়া হইয়া সেই মরুভূমির বালির মধ্যেই হারাইয়া যায়, তাহাদের অন্তর্বাহী বা অন্তর্বাহিনী নদী বলে। আমুদরিয়া, সিরদরিয়া, ইউরাল, তারিম, হেলমণ্ড ই-লি, চু এবং জর্ডান নদী উল্লেখযোগ্য। আমুদরিয়া-ও-সিরদরিয়া আরল সাগরে (প্রকর্তৃপক্ষে হ্রদ) ও ইলি বলখাস হ্রদে পড়িয়াছে।

(গ) আফ্রিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ : আফ্রিকা মহাদেশের হ্রদসমূহের ভিতর ভিক্টোরিয়া, এলবার্ট টাঙ্গানিকা, সাড় ভোল্টা, নিয়াসা, কেঁরোরাবাচ্চা, মালা ওই টুকানা, কিন্তু, কোটো, একে ইতাদি উল্লেখযোগ্য। 

(ঘ) ইউরোপ মহাদেশের নদনদী : ইউরোপের উত্তরবাহিনী নদীগুলির মধ্যে লজের, সিয়েন, রাইন, ওয়েলার, এখ, ওডার, বিটুলা, দক্ষিণ দ্বীপ, উত্তর দ্বীপ, পিনোরা ইত্যাদি। দক্ষিণবাহিনী নদীগুলি হইল এব্রো, রোন, পো, দানিয়ুব, নিস্তর, নিপর, ডন, ভগ্না এবং ইউরাল।

 (ঙ) আপালেশিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল : উত্তরে নিউফাউণ্ডাল্যাণ্ড হইতে দক্ষিণে ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়-পর্বত, সংকীর্ণ উপত্যকা ও ভগ্ন মালভূমি দ্বারা আপোলেশিয়ান উচ্চভূমি আছে। ইহা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ক্ষয়ীভূত ভঙ্গিল পর্বত। এই অঞ্চলের দক্ষিণে এলিঘেণী ও ব্লুরিজ পর্বত আছে।

 (চ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ : উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অনেক নদ- নদী আছে। এইগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হইল— মিসৌরী, মিসিসিপি, ইউকুয়া, মেকেঞ্জি, রিওগ্রাপ্তি, রেড, আরকানসাস, কলোরাডো, কলম্বিয়া, স্নেক, ওহিও, টেনেসি, হাডসন, সেন্টলরেন্স ইত্যাদি। 

মিসিসিপি নদীর উপনদীগুলি হইল— মিসৌরী, আরকানসাস, ওহিও এবং টেনিসি। উত্তর আমেরিকার দুইটি উত্তরবাহিনী নদী হইল— ইউকুয়া এবং ফ্লেক্সিয়ার। 

প্রশ্ন ৯। পার্থক্য লিখ :

(ক) মহীসোপান এবং মহীঢাল

উত্তর

            মহীসোপান            মহীঢাল
(১) উপকূলের চারিদিকে থাকা সাগর- মহাসাগরের অংশকে মহীসোপান বলে। 
(২) ইহা অগভীর।
(৩) মহীসোপান প্রায় ২০০০ মিটার পর্যন্তবিস্তৃত হইতে পারে। 
(৪) ইহার জলোচ্ছাস উপকূল ভাগকে পারে এবং প্লাবনের সৃষ্টি করিতে পারে।
(১) মহীসোপানের পরবর্তী অংশকে মহীঢাল বলে।
(২) ইহা তুলনামূলকভাবে গভীর।
(৩) ইহা ২০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হইতে পারে।
 (৪) ইহা পারে না

(খ) এভারেষ্ট শৃঙ্গ এবং গডউইন অষ্টিন শৃঙ্গ

 উত্তর :

            এভারেষ্ট শৃঙ্গ          গডউইন অষ্টিন শৃঙ্গ
(১) ইহা পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ। 
(২) ইহার উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার।
(১) ইহা পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ ৷
(২) ইহার উচ্চতা ৮৬০৪ মিটার।

(গ) ওশেনিয়া মহাদেশ ও এন্টার্কটিকা মহাদেশ 

উত্তর :

          ওশেনিয়া মহাদেশ        এন্টার্কটিকা মহাদেশ
(১) এই মহাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ নিযুত। 
(২) এই মহাদেশ বরফে ঢাকা নয়।
(৩) এই মহাদেশের চতুর্দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর আছে।
(৪) এই মহাদেশের দ্বীপগুলিতে বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা ও তৃণাঞ্চল দেখা যায়।
(৫) মহাদেশে নানা প্রকারের জীবজন্তু দেখা যায়।
(৬) এই মহাদেশের আয়তন ৮.১ নিযুত বর্গ কিলোমিটার।
(১) এই মহাদেশে কোন স্থায়ী বসতি নাই ৷
(২) এই মহাদেশ সারাবৎসরই পুরু বরফে আবৃত থাকে।
(৩) ইহা সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ মহাসাগরে অবস্থিত । 
(৪) এই মহাদেশে কোন গাছপালা নাই ৷ 
(৫) এই মহাদেশে জীবন্ত দেখা যায়না। এই মহাদেশে পেঙ্গুইন, শীল ইত্যাদি দেখা যায় । 
(৬) এই মহাদেশের আয়তন ১৩:২ নিযুত বর্গ কিলোমিটার।

(ঘ) গোবি মরুভূমি ও আটাকামা মরুভূমি 

উত্তর :

        গোবি মরুভূমি            আটাকামা মরুভূমি
(১) এই মরুভূমি এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত। 
(২) এই মরুভূমির বালির রং পীত বর্ণ।
 (৩) ইহা তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত। 
(৪) ইহা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। 
(৫) ইহা নীতিশীতোষ্ণ মরুভূমি।
(১) এই মরুভূমি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত। 
(২) ইহার নয়। 
(৩) এই মরুভূমি পশ্চিম উপকূলভাগে অবস্থিত। 
(৪) ইহা দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
 (৫) ইহা উষ্ণ মরুভূমি।

→ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাদেশ কোনটি?

 উত্তর : এশিয়া মহাদেশ। 

প্রশ্ন ২। সর্ববৃহৎ স্থলভাগ অঞ্চল কোনটি? 

উত্তর : এশিয়া-ইউরোপ-আফ্রিকা।

প্রশ্ন ৩। ইউরেশিয়া কোন্ কোন্ মহাদেশ লইয়া গঠিত হইয়াছে?

 উত্তর : ইউরোপ ও এশিয়া। 

প্রশ্ন ৪। এশিয়া মহাদেশ কোন গোলার্ধে অবস্থিত ? 

উত্তর : উত্তর গোলার্ধে। 

প্রশ্ন ৫। এশিয়া মহাদেশ ভারতবর্ষের কতগুণ? 

উত্তর : ১৪ গুণ। 

প্রশ্ন ৬। পৃথিবীর ছাদ কাহাকে বলে? 

উত্তর : পামীর মালভূমিকে। 

প্রশ্ন ৭। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গটির নাম কি ও উচ্চতা কত? 

উত্তর : এভারেস্ট। ৮৮৫০ মিটার। 

প্রশ্ন ৮। পামীর মালভূমির উচ্চতা কত ?

 উত্তর : ৪৯০০ মিটার।

প্রশ্ন ৯। পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গটির নাম কি? 

উত্তর : গডউইন অস্টিন (K২)। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। এশিয়ার চারিসীমা বর্ণনা কর। 

 উত্তর : এশিয়ার উত্তরে উত্তর মহাসাগর। পূর্বে বেরিং প্রণালী ও প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও পশ্চিমে লোহিত সাগর, সুরোজখাল, ভূমধ্যসাগর, ককেসাস পর্বত, কাস্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বতমালা। 

প্রশ্ন ২। এশিয়া মহাদেশের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পর্বতমালাসমূহের নাম লেখো।

উত্তর ঃ এশিয়া মহাদেশের উল্লেখযোগ্য পর্বতমালাসমূহ হইল— ইউরাল পর্বতমালা হিমালয় পর্বতশ্রেণী, কারাকোরাম পর্বতমালা, কুনলুন পর্বতমালা, আলটাইন পর্বতমালা, ভিয়েনসান পর্বতমালা, আলটাই পর্বত, আরাবল্লী পর্বত ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৩। এশিয়ার কয়েকটি ধর্মের নাম লিখ। 

উত্তর : ভারতের হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখ। পশ্চিম এশিয়ার ইহুদী, পার্সী, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্ম। চীন দেশের কনফুসিয়াস ও তাও এবং জাপানের শিন্টো। 

প্রশ্ন ৪। এশিয়ার কোন্ স্থানটিকে প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলা হয় এবং কেন? 

উত্তর : জাপানের ওসাকাকে প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার বলা হয়। এই স্থানে জাপানের বৃহত্তম কার্পাস বয়ন শিল্পকেন্দ্র। এই স্থানে টেরিলিন, নাইলন, পলিয়েস্টার, রেয়ন প্রভৃতি কৃত্রিম তন্তুজাত বস্ত্রবয়ন শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে।

প্রশ্ন ৫। ইয়াংসিকিয়াং-এর ব-দ্বীপ অঞ্চলকে চীনের হল্যান্ড’ বলা হয় কেন? 

উত্তর ঃ ইয়াংসিকিয়াং-এর বিশাল ব-দ্বীপ অঞ্চলের অনেক স্থান সমুদ্রতল হইতে নীচু হওয়ায় বাঁধ দিয়া সমুদ্রজল হইতে রক্ষা করা হয়। ইহাকে এইজন্য চীনের হল্যাণ্ড বা ‘এশিয়ার হল্যাণ্ড’ বলা হয়। 

প্রশ্ন ৬। সংযুক্ত আরব আমীরশাহী বলিতে কি বুঝায় ? 

উত্তর : এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণদিকে সাতটি ছোট ছোট আমীরশাহীকে সংযুক্ত করিয়া আমীরশাহী গঠিত হইয়াছে। আমীরশাহীগুলি হইল- দুবাই, শারেজা, আবুধাবি, আজমন, থুজরাই, রাস-আলখাইমা এবং উম্মা-আল-কাইওয়াইন। 

প্রশ্ন ৭। এশিয়ার উষ্ণতম ও শীতলতম স্থান দুইটি কি কি? এই স্থান দুইটি কোন কোন্ দেশে অবস্থিত? 

উত্তর : এশিয়ার উষ্ণতম স্থান জেকোকাবাদ এবং শীতলতম স্থান ভারখয়ানস্ক। জেকোকাবাদ পাকিস্তানে অবস্থিত। এই স্থানের গড় উষ্ণতা ৫৫° সেন্টিগ্রেড এবং ভারখয়ানস্ক রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের সাইবেরিয়ার অন্তর্গত। 

প্রশ্ন ৮। ভারত মহাসাগরে পতিত হওয়া নদীসমূহ কি কি ? 

উত্তর ঃ ভারত মহাসাগরে পতিত হওয়া প্রধান নদীগুলি হইল—সালুইন, ইরাবতী, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা, সিন্ধু, নর্মদা, তাপ্তী, মহানদী, ইউফ্রেটিস এবং টাইগ্রিস। 

প্রশ্ন ৯। এশিয়া মহাদেশকে বৈচিত্র্যময় মহাদেশ বলা হয় কেন, সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : পৃথিবীর নানা প্রকারের চরম অবস্থাগুলি এশিয়া মহাদেশে বিরাজ করিতেছে। —যেমন, আকৃতিতে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতমালা (হিমালয়), উচ্চতা শৃঙ্গ (মাউন্ট এভারেস্ট), সর্বোচ্চ মালভূমি (পামীর), সর্বাধিক বৃহৎ =সমভূমি (সাইবেরিয়া), সর্বাধিক নিম্ন ভূ-ভাগ (মরুসাগর), বৃহত্তম হ্রদ (কাস্পিয়ান সাগর) গভীরতম হ্রদ (বৈকাল), শীতলতম বসতিযুক্ত স্থান (ভারখয়ানস্ক), উষ্ণতম স্থান। (জেকোবাবাদ), শুষ্কতম স্থান (আরব মরুভূমি), সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল (মৌসিনরাম)

এবং সর্বাধিক আগ্নেয়গিরি এই এশিয়া মহাদেশে বিরাজিত। এশিয়াই পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার লীলাভূমি এবং সর্বধর্মের (হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, পার্শী, খ্রীস্ট ও ইসলাম) জন্মভূমি। 

পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি লোক (প্রায় ৩৫৫ কোটি ৭০ লক্ষ) এশিয়া মহাদেশে বাস করে। বর্তমানে এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের অনুর্বর দেশগুলি খনিজ তৈলের অর্থনীতিতে নির্ভরশীল। এশিয়ার ভারত মহাসাগর এবং উপদ্বীপ ও দ্বীপসমূহ পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের বাণিজ্যিক নৌপথকে সুগম করিয়া এশিয়ার কৃষিজ, বনজ এবং খনিজ ও শিল্পসম্পদের চাহিদাকে বিশ্ববাজারে উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছে। ইহা ছাড়া সামরিক নিরাপত্তা রক্ষা করিতেও সক্ষম হইয়াছে। 

কাজেই এশিয়া মহাদেশটিতে কেবলমাত্র প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যও সুস্পষ্ট। অতএব উপরোক্ত কারণসমূহের জন্য এশিয়াকে বৈচিত্র্যময় মহাদেশ (Continent of Contrasts) বলা হয় ।

 ইউরোপ → 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর প্রশ্ন 

১। ইউরোপ মহাদেশটি এশিয়ার কোন দিকে অবস্থিত ? 

উত্তর : এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমাতে। 

প্রশ্ন ২। ইউরোপের অন্তর্গত কয়েকটি দ্বীপের নাম লিখ। 

উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, আয়ারল্যাণ্ড, আইসল্যাণ্ড ও শেতল্যান্ড, ভূমধ্য সাগরে থাকা ক্রিট, সিসিলি, মাল্টা, সর্তিনিয়া, কর্সিকা, বেলারিক দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর মহাসাগরে থাকা গটল্যাণ্ড, এলাডু, নভয়াজেমল্যা, স্যাডল বার্ড ও শ্রীণল্যাণ্ড । 

প্রশ্ন ৩। ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যা কত? 

উত্তর : প্রায় ৭৪ কোটি। 

প্রশ্ন ৪। ইউরোপ মহাদেশে মোট কয়টি দেশ আছে? 

উত্তর : ৪৭টি। 

প্রশ্ন ৫। আল্পস পর্বতের উচ্চতম শৃঙ্গটির নাম কি? 

উত্তর : মাউন্ট ব্ল্যাঙ্ক ( ৪,৮০৭ মিটার)। 

প্রশ্ন ৬। ইউরোপের উত্তর উপকূলের সর্ববৃহৎ দ্বীপপুঞ্জ কোনগুলি? 

উত্তর : নভয়া, জামল্যা ও বলওয়েভ দ্বীপপুঞ্জ। 

প্রশ্ন ৭। সর্ববৃহৎ দক্ষিণ-ान নদী।

 উত্তর : রাইন নদী।

প্রশ্ন ৮। সর্বোচ্চ পর্বতশ্রেণী। 

উত্তর : আল্পস পর্বতশ্রেণী। 

প্রশ্ন ৯। পূর্ব-সীমার পর্বতসারী। 

উত্তর : ডিনারিক আল্লস্ (পিএস) কাথেপিয়ান ও ককেসাস। 

প্রশ্ন ১০। মহাদেশটির ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। 

উত্তর : মাল্টা।

প্রশ্ন ১১। ইউরোপের চারিদিকের সীমা লিখ। 

উত্তর : ইউরোপের পূর্বে এশিয়া, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক স এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত। 

প্রশ্ন ১২। ইউরোপ পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর-দক্ষিণের দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর : ইউরোপের পূর্ব-পশ্চিমে ৫৭৬০ কিমি. এবং উত্তর-দক্ষিণে ৩৮৪০ কিমি। 

প্রশ্ন ১৩। ইউরোপের উপকূলভাগের দৈর্ঘ্য কত? উত্তর : প্রায় ৩৮,৪০০ কি.মি.। 

প্রশ্ন ১৪। ইউরোপের আটলান্টিক উপকূলের কয়েকটি দ্বীপের নাম লিখ। 

উত্তর : ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, আয়ারল্যাণ্ড, আইসল্যাণ্ড এবং শ্বেতল্যাণ্ড দ্বীপসমূহ। 

প্রশ্ন ১৫। ইউরোপের মেরুদণ্ড কাহাকে 

উত্তর : আল্পস পর্বতমালাকে। বলা হয় ? 

প্রশ্ন ১৬। ইউরোপের কোন স্থানে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়? 

উত্তর : ফ্রান্স ও ইতালিতে।

প্রশ্ন ১৭। ইউরোপের কয়েকটি আগ্নেয়গিরির নাম লিখ। 

উত্তর : ইতালির ভিসুভিয়াস, সিসিলির এটনা, লিপরি দ্বীপের টুম্বলি। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। ইউরোপ শিল্পে উন্নত কেন? 

উত্তর : ইউরোপ মহাদেশ শিল্প-উদ্যোগে অগ্রগতি লাভ করিবার জন্য বিভিন্ন কারণগুলি হইল ঃ (১) এই মহাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় মানুষগুলি কর্মঠ। (২) উপকূলভাগ ভগ্ন হওয়ায় নৌবিদ্যায় অতিশয় পারদর্শী। ইহার ফলে মধ্যযুগে বিভিন্ন নাবিকগণ সমস্ত পৃথিবী ঘুরিয়া ধন-সম্পদ ও জ্ঞান আহরণ করিয়াছিল। (৩) ইউরোপে কয়লা ও লৌহ আকর প্রচুর পরিমাণে সহজলব্ধ। ইহার ফলস্বরূপ পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশ অপেক্ষা ইউরোপে পূর্ব হইতেই অগ্রগতি লাভ করিয়াছে।

প্রশ্ন ২। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে জনবসতির ঘনত্ব বেশী কেন?

 উত্তর : ইউরোপের দক্ষিণাংশে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এই অঞ্চলে তুলা, আলু ও তামাকের চাষ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফল; যেমন—আঙ্গুর, আপেল, কমলালেবু, লেবু, পিচফল, মোসাম্বি, জলপাই ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলের রসভিত্তিক বহু কারখানা গড়িয়া উঠিয়াছে। ইহার জলবায়ু স্বাস্থ্যের অনুকূল বলিয়া এই অঞ্চলের জনবসতি অতি ঘন। 

প্রশ্ন ৩। ইউরোপের বিস্তৃতি লিখ। 

উত্তর ঃ ইহা দক্ষিণে ৩৬° উত্তর অক্ষরেখা হইতে উত্তরে ৭১° উত্তর অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। পূর্ব-পশ্চিমে এই মহাদেশ ১০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা হইতে পূর্বে ইউরাল পর্বতশ্রেণী: পর্যন্ত ৬৫° পূর্বদ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। 

আফ্রিকা মহাদেশ 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। মানচিত্র দেখিয়া আফ্রিকার উপকূলের একটি দ্বীপের নাম লিখ। 

উত্তর। মালাগাসি। 

প্রশ্ন ২। যাহা স্বাভাবিকভাবে অন্য মহাদেশে পাওয়া যায় না এরূপ পাঁচটি জীবজন্তু ও পশুপক্ষীর নাম লিখ। 

উত্তর। জিরাফ, জেব্রা, শিম্পাঞ্জী, উটপাখি এবং গরিলা।

প্রশ্ন ৩। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি ? 

উত্তর। আফ্রিকা মহাদেশ। 

প্রশ্ন ৪। আফ্রিকা মহাদেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নদীর নাম লিখ। 

উত্তর : নীল নদ, জাম্বেসি, অরেঞ্জ, কঙ্গো, নাইজার, ভোল্টা, সেনিগাল, লিম্পোপো লুরিও, কেলেজেন ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৫। আফ্রিকা মহাদেশের কয়েকটি উদ্ভিদের নাম লিখ। 

উত্তর : মেহগণি, আবলুস, ওক, রবার, কর্পূর ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৬। দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি খনিজ সম্পদের নাম লিখ। 

উত্তর : ইউরেনিয়াম, সোনা, রূপা, হীরা, কয়লা এবং লৌহ। 

প্রশ্ন ৭। আফ্রিকার কোন্ কোন্ স্থানে পেট্রোলিয়াম পাওয়া যায়? 

উত্তর : নাইজিরিয়া, লিবিয়া, আলজিরিয়া প্রভৃতি স্থানে। 

প্রশ্ন ৮। আফ্রিকাতে কি কি জীবজন্তু পাওয়া যায়? 

উত্তর : হাতি, দুই খড়গযুক্ত গণ্ডার, সিংহ, বাঘ, হরিণ, জিরাফ, জেব্রা, গরিলা, শিম্পাঞ্জী, উটপাখি ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৯। আফ্রিকা মহাদেশের প্রধান প্রধান শহর ও নগরের নাম লিখ ।

উত্তর : ক্যারো, মোম্বাস, দার এস সালাম, ডারবান, কেপটাউন, লাগোস, জোহেলবার্গ।

প্রশ্ন ১০। আফ্রিকার স্থানীয় অধিবাসীদের কি কি ভাগে ভাগ করা যায়? 

উত্তর : ককেশীয় (শেতাঙ্গ) এবং নিগ্রো (কৃষ্ণাঙ্গ)। 

প্রশ্ন ১১। ইজিপ্তকে নীল নদের দান বলা হয় কেন? 

উত্তর : নীল নদে প্রতি বৎসরই ব্যাপক আকারের বন্যা হয়। বন্যার জলে দুই কূল প্লাবিত হয়। পলি পড়িয়া কৃষি জমি উর্বর হয়। যদিও ইহা মরুভূমি অঞ্চল তথাপি নীল। নদের বাঁধ হইতে খাল কাটিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিকার্য সম্ভব হইয়াছে। এইজন্য ইজিপ্টরে নীল নদরে দান বলা হয়।

 প্রশ্ন ১২। নীল নদ কোন স্থান হইতে উৎপত্তি হইয়া কোথায় শেষ হইয়াছে? 

উত্তর : নীল নদের উপনদী হুনীল ভিক্টোরিয়া হ্রদ হইতে উৎপন্ন হইয়া সুদানের রাজধানী মাধুম শহরের নিকটে হোয়াইট নীলের সহিত সংযুক্ত হইয়া ভূমধ্যসাগরে পড়িয়াছে। 

প্রশ্ন ১৩। নাইজেরিয়াতে জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণ কি?

উত্তর : আফ্রিকার সকল দেশের জনসংখ্যা অপেক্ষা নাইজেরিয়াতে অধিক। ইহার কারণ হইল নাইজার ও বেনিউ নদীর উপত্যকায় গম, ভুট্টা, ধান, কার্পাস, চীনা বাদাম ইত্যাদি পাওয়া যায়। ইহাছাড়া কয়লা, পেট্রোলিয়াম, লৌহ আকরও যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। নাইজেরিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় সমতল কিছুটা প্রশস্ত হওয়ায় ভুট্টা, কার্পাস, কোকো এবং কফির চাষ করা হয়। এই সকল কারণে এই স্থানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর :

প্রশ্ন ১। আফ্রিকা মহাদেশের অভ্যন্তর দীর্ঘদিন অনাবিস্তৃত থাকার কারণগুলি কি কি? 

উত্তর : আফ্রিকা মহাদেশের অভ্যন্তর দীর্ঘদিন বহিরাগতদের নিকট রহস্যজনক ছিল কারণ অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করা অসাধ্য ছিল ইহার কারণগুলি নিম্নরূপ :

(১) আফ্রিকার উত্তরে বিশাল সাহারা মরুভূমি এবং দক্ষিণে কালাহারি মরুভূমি থাকায় এই দুইদিক দিয়া প্রবেশ করা অসম্ভব ছিল। 

(২) উপকূলভাগ অভগ্ন হওয়ায় জাহাজ অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করিতে পারিত না। অভ্যন্তরভাগ মালভূমি এবং জলপ্রপাত ও দ্রুতবেগী নদী থাকার প্রবেশ করা যাইত না। নদীগুলি নাবা ছিল না। 

(৩) বিষুবীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলগুলি ঘন অরণ্যে পরিপূর্ণ এবং এই অঞ্চলগুলি অসাস্থ্যকর ছিল। অরণ্যগুলি এত ঘন ছিল যে প্রবেশ করা অসম্ভব ছিল। 

(৪) ঘন অরণ্যগুলিতে ছিল হিংস্র জন্তু ও বিষাক্ত কীটপতঙ্গে পূর্ণ ফলে বহিরাগতরা প্রবেশ করিতে পারিত না।

পরবর্তীকালে মঙ্গোপার্ক, লিভিংস্টোন, স্ট্যানলি, ব্রুশ, বার্টন প্রমুখ অভিযানকারীদের প্রচেষ্টায় আফ্রিকা মহাদেশের নদ-নদী, পর্বত, খনি ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়।

প্রশ্ন ২। আফ্রিকার প্রাকৃতিক গঠন সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : সংকীর্ণ উপকূলভাগ এবং আটলাস পার্বত্য অঞ্চল ছাড়া সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশ বিভিন্ন মালভূমি অঞ্চল দ্বারা গঠিত। প্রকাণ্ড মালভূমির উপর দিয়া কঙ্গো নদীর মোহনা হইতে উত্তর-পূর্বের লোহিত সাগরের সুদান পর্যন্ত কাল্পনিক রেখা টানা হয়, দেখা যাইবে ইহার পশ্চিমের অংশটি তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতার সাহারা মরু মালভূমি এবং নাইজার ও কঙ্গো নদীর অববাহিকার গাছ-পালায় ভরা একটি মালভূমি অঞ্চল। রেখাটির দক্ষিণ পূর্বে পড়িবে কয়েকটি উচ্চমালভূমির সমষ্টি। এই মালভূমিগুলির উত্তরে আছে আগ্নেয়জাত ইথিওপিয়ান উচ্চভূমি, ইহার দক্ষিণে কেনিয়ান মালভূমি, ইহারও দক্ষিণে মধ্যটাঙ্গানিকা মালভূমি, মাপাতো পার্বত্য অঞ্চল, ড্রেকেন্সবার্গ পার্বত্য অঞ্চল। কেনিয়া মালভূমির মাউন্ট কেনিয়া এবং কিলিমাঞ্জারো আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। দক্ষিণ পূর্বের উচ্চতর ইথিওপিয়ার মালভূমি হইতে রুডলফ হ্রদ দিয়া ন্যাসা হ্রদ পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে- এক সারী হ্রদ আছে। এইগুলির মধ্যে রুডলফ, ভিক্টোরিয়া, অ্যালবার্ট, এডওয়ার্ড, কিভু, টাঙ্গানিকা ও ন্যাসা প্রধান। ভিক্টোরিয়া পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বাদু জলের হ্রদ। রুবেনজারি পাহাড়ে কিটাঙ্গা নামের একটি জাগ্রত আগ্নেয়গিরি আছে। আফ্রিকার উত্তরভাগের প্রায় অংশ জুড়িয়া পৃথিবীর বৃহত্তম সাহারা মরুভূমি অবস্থিত। অবশ্য এই মরুভূমির মাঝে মাঝে মরূদ্যান দেখা যায়। সাহারা মরুভূমির উত্তর-পশ্চিম কোণে মরক্কোতে আটলাস পর্বতমালা অবস্থিত। ভল্টা, নাইজার ও কঙ্গো নদীর অববাহিকা অঞ্চল সবুজ অরণ্যে পরিপূর্ণ। এই অঞ্চলটি বিষুবমণ্ডলের অন্তর্গত বলিয়া এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। কঙ্গো অববাহিকার দক্ষিণে নামিবিয়া, বৎসোয়ানা ও দক্ষিণ আফ্রিকা গণতন্ত্রের কিছু কিছু অংশ জুড়িয়া কালাহারি মরুভূমির সৃষ্টি হইয়াছে। 

উত্তর আমেরিকা মহাদেশ → 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। উত্তর আমেরিকার পূর্ব-পশ্চিমের সর্বাধিক বিস্তৃতি হইল— 

(ক) ৯৬০০ কিমি,

(খ) ৫০০০ কিমি,

(গ) ৪৯৬০ কিমি, 

(ঘ) ৪০,০০০ কিমি 

উত্তর : ৪৯৬০ কিমি।

প্রশ্ন ২। পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলের বৃহত্তম হ্রদ হইল— 

(ক) উইনিপেগ, 

(খ) সুপিরিয়র, 

(গ) ইরি, 

(ঘ) গ্রেট সল্টলেক।

 উত্তর : গ্রেট সল্টলেক ।

প্রশ্ন ৩। পৃথিবীর বৃহত্তম নগর— 

(ক) বোস্টন, 

(খ) নিউইয়র্ক,

(গ) ফিলাডেলফিয়া, 

(ঘ) ওয়াশিংটন। 

উত্তর : নিউইয়র্ক। 

প্রশ্ন ৪। উত্তর আমেরিকার মূল ভূ-ভাগে দেশের সংখ্যা— 

(ক) ১৫টি, 

(খ) ২৩টি, 

(গ) ২০টি 

(ঘ) ১০টি 

উত্তর : ২৩টি। 

প্রশ্ন ৫। কিউবার রাজধানীর নাম— 

(ক) হাভানা, 

(খ) কিংস্টন, 

(গ) অটোয়া, 

(ঘ) সানজোস 

উত্তর : হাভানা। 

প্রশ্ন ৬। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর নাম— 

(ক) নিউইয়র্ক, 

(খ) ওয়াশিংটন, 

(গ) হাভানা, 

(ঘ) নুউক 

উত্তর : ওয়াশিংটন। 

প্রশ্ন ৭। রায় গ্রেন্ডি নদী কোন্ জলভাগে পড়িয়াছে?

উত্তর : মেক্সিকো উপসাগরে পড়িয়াছে। 

প্রশ্ন ৮। উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গটি কি? 

উত্তর : ম্যাকেনলি (৬১৯৪) মিটার। 

প্রশ্ন ৯। আমেরিকার কোন্ অঞ্চলে সর্বাধিক গো-পালন করা হয় ? 

উত্তর : কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যভাগে। 

প্রশ্ন ১০। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকা মরুভূমিটির নাম কি? 

উত্তর : সোনোরা। 

প্রশ্ন ১১। উত্তর আমেরিকার আয়তন কত? 

উত্তর : ২৪-৩ নিযুত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ১২। উত্তর আমেরিকার উপকূলভাগের দৈর্ঘ্য কত? 

উত্তর : প্রায় ৪০,০০০ কিমি.।

প্রশ্ন ১৩। উত্তর আমেরিকার দুইটি আগ্নেয়গিরির নাম লিখ। 

উত্তর : ওরিজাবা (৫,৫৭৪ মি.), পপোকাটিপেটেল (৫,৪৪৪ মি.)।

প্রশ্ন ১৪। পৃথিবীর বৃহত্তম পের্ জলের হ্রদ কোনটি? 

উত্তর : সুপিরিয়র। 

প্রশ্ন ১৫। উত্তর আমেরিকার কোন্ কোন্ নদী উত্তর মহাসাগরে পতিত হইয়াছে? 

উত্তর : ইউকন, ম্যাকেঞ্জি এবং বেলসন।

প্রশ্ন ১৬। উত্তর আমেরিকার একটি বিখ্যাত জলপ্রপাতের নাম লিখ। 

উত্তর : নায়াগ্রা জলপ্রপাত। 

প্রশ্ন ১৭। উত্তর আমেরিকার আদিম অধিবাসীদের কি বলা হয় ?

উত্তৰ : আমেরিকান-ইণ্ডিয়ান বা রেড ইন্ডিয়ান। 

প্রশ্ন ১৮। উত্তর আমেরিকার কোন অংশে এস্কিমোদের দেখা যায় ? 

উত্তর : উত্তর কানাডা অঞ্চলে। 

প্রশ্ন ১৯। কানাডাতে অবস্থিত বৃহৎ হ্রদগুলির নাম লিখ। 

উত্তর : গ্রেট বেয়ার, গ্রেট স্লেভ, আথাবাস্কা, রেইন ডিয়ার ইত্যাদি।

প্রশ্ন ২০। আমেরিকার বৃহৎ হ্রদ গোষ্ঠীর নাম লিখ। 

উত্তর : সুপিরিয়র, মিসিগান, হিউরন, ইরি এবং অন্টেরিও।

প্রশ্ন ২১। উত্তর আমেরিকার কয়েকটি বিখ্যাত নগর ও শহরের নাম লিখ। 

উত্তর ঃ বোস্টন, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, বাল্টিমোর, ওয়াশিংটন, রেলি, আটলান্টা, মন্টেগোমারি ইত্যাদি।

প্রশ্ন ২২। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ঘন জনবসতি গড়িয়া উঠার কারণ কি? 

উত্তর ঃ ক্যালিফোর্নিয়াতে ঘন জনবসতি গড়িয়া উঠার কারণ হইল এখানে ফলমূল উৎপাদন, পেট্রোলিয়াম, সোনা প্রভৃতি খনিজ পাওয়া যায়। ইহাছাড়া সুষম ও স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধা আছে। 

প্রশ্ন ২৩। শীতকালে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ভাগ অপেক্ষা অধিক শীতল হয় কেন? 

উত্তর : উত্তর আমেরিকায় পূর্ব-পশ্চিমমুখী কোন পর্বত না থাকায় শীতকালে মেরুদেশীয় বায়ু বিনা বাধায় যুক্তরাষ্ট্রে আসিতে পারে ফলে এই স্থানে দক্ষিণাঞ্চল অপেক্ষা অধিক শীত অনুভূত হয়। 

প্রশ্ন ২৪। উত্তর আমেরিকার একটি মানচিত্র আঁকিয়া বৃহৎ হ্রদগোষ্ঠী, মিসিসিপি ও মিসৌরী নদী, লস এঞ্জেলস্ ও ওয়াশিংটন নগর এবং কিউবা দ্বীপ দেখাও। 

উত্তর : মানচিত্রের সাহায্য লইয়া নিজে চেষ্টা কর। 

প্রশ্ন ২৫। উত্তর আমেরিকার চারিদিকের সীমা লিখ। 

উত্তর : উত্তরে উত্তর সাগর, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর, দক্ষিণ আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর, বেরিং প্রণালী ও বেরিং সাগর। 

 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর :

প্রশ্ন ১। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তর : আমেরিকা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। এই মহাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক গঠন বৈচিত্র্যময়।

(i) ইহার উচ্চতম স্থান মেকিনলে শৃংগ (সাগর পৃষ্ঠ হইতে ৮৬মি. নীচে)। (৬১৯৪ মি.) এবং নিম্নতম স্থান ডেথ ভেল 

(ii) মহাদেশের পশ্চিম এবং পূর্ব অংশ হইতে উত্তর-দক্ষিণ অপেক্ষা পরত-পা পাহারময়। অন্যদিকে, বাকী অংশ উচ্চ এবং নিম্ন সমতল ভূমিতে আবৃত। 

ভূ-প্রাকৃতিক ভাবে মহাদেশটিকে চার ভাগে ভাগ করা যায় (ক) রকি পার্বত্য অঞ্চল (খ) বিশাল উচ্চ সমভূমি অঞ্চল (গ) আপেলেসিয়ান উচ্চ ভূমি অঞ্চল (ঘ) উপকূলীয় নিম্ন সমতল ভূমি অঞ্চল। 

মহাদেশটির পশ্চিম অংশে আলস্কার হইতে মেক্সিকো পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে থাকা সুউচ্চ পর্বত শ্রেণীতে রকি পার্বত্য অঞ্চল গঠিত। তাহাছাড়া, পশ্চিম অংশে উপকূলবর্তী কাছে সিয়েরা, লেভাডা এবং কোষ্টরেঞ্জ পর্বতশ্রেণী এবং পূর্ব অংশে উত্তরে নিউফাউগুলে হইতে দক্ষিণে ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিস্তৃত পর্বত পাহার, সংকীর্ণ উপত্যকা এবং ভগ্ন মালভূমি দ্বারা গঠিত উচ্চ-নীচ আপেলেসিয়াম উচ্চ ভূমি আছে। আপেলেসিয়াম উচ্চ ভূমির পূর্বে এক বিস্তৃত উপকূলীয় সমতল আছে। মহাদেশটির পশ্চিম উপকূলে সংকীর্ণ ক্যালিফোর্ণিয় উপকূল। তাহাছাড়া, মহাদেশটির চারিদিকে অনেক ছোট বড় দ্বীপ আছে। 

মহাদেশটিতে বহু নদী, হ্রদ আছে এবং মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে কোলেরাডো নামক একটি মরুভূমি সদৃশ অঞ্চল আছে। 

প্রশ্ন ২। উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক সম্পদের একটি বিবরণ দাও। 

উত্তর : উত্তর আমেরিকার বিশাল সমভূমি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কৃষিজ সামগ্রী উৎপাদিত হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল—গম, তামাক, ভুট্টা, তুলা, আলু, ধান, ইদু ও আঙ্গুর ইত্যাদি। 

উত্তর আমেরিকা খনিজ পদার্থে ধনী মহাদেশ। কয়লা, লৌহ, পেট্রোলিয়াম, তামা, রূপা, সোনা, দস্তা, অ্যাসবেসটস, নিকেল, কোবাল্ট এবং খনিজ পদার্থ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। অভ্রও পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৩। উত্তর আমেরিকার ভূ-প্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর : ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী উত্তর আমেরিকাকে চারিটি ভাগে ভাগ করা যায়। (ক) পশ্চিমীয় পার্বত্য অঞ্চল বা প্রশান্ত কর্ডিলেরা বা শৃঙ্খল। পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলটি আলাস্কা হইতে মহাদেশটির পশ্চিম উপকূলের সমান্তরাল হইয়া মেক্সিকোসহ মধ্য আমেরিকা পার হইয়া দক্ষিণ আমেরিকাতে যাইয়া এপ্রিল নাম ধারণ করিয়াছে। এই পার্বত্যভূমির পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চলে আলাস্কা পর্বতশ্রেণী, কোস্টরেঞ্জ, সিয়েরা নেভেড়া ইত্যাদি কয়েকটি পর্বতশ্রেণী আছে। এই পর্বতশ্রেণী ও সেলকার্ক রেঞ্জ পূর্বে রকি পর্বতমালার সহিত মিলিত হইয়াছে। দক্ষিণে ক্রমশ প্রশস্ত পর্বতশ্রেণী সমূহের মধ্যে বড় বড় মালভূমি আছে। এই অঞ্চল হইতে কাসকেড রেঞ্জ এবং সিয়েরা নেভেডা বাহির হইয়াছে। আলাস্কার

উত্তরভাগে এণ্ডিকট নামে আরম্ভ হইয়া দক্ষিণে রকি নাম লইয়া যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য আমেরিকা পার হইয়া দক্ষিণ আমেরিকায় এন্ডিজ নামে খ্যাত। মেক্সিকোর পশ্চিমাংশে এই পার্বত্য অঞ্চল ওরিজাবা, পপোকাটিপেটেল ইত্যাদি কয়েকটি সুউচ্চ আগ্নেয়গিরি আছে। আলাস্কা রেঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মেকেনলি। 

(খ) পশ্চিমের সুদীর্ঘ ও সুপ্রশস্ত পার্বত্যভূমির পূর্বে কানাডার উত্তরাংশ হইতে মেক্সিকো উপদ্বীপের উপকূল পর্যন্ত একটি ক্ষয়জাত মালভূমি এবং উর্বর সমভূমি আছে। উত্তরের কানাডাতে যুগ যুগ ধরিয়া তুষারপাত হওয়ায় এই ক্ষয়জাত মালভূমি, প্রায় সমতল হইয়াছে, দক্ষিণে মিসিসিপি ও মিসৌরী নদীর বিধৌত সমভূমি আছে। উত্তরে গ্রীনল্যাণ্ড (দ্বীপ) মালভূমি হইতে দক্ষিণে বেফিন দ্বীপ, লাব্রাডর লরেন্সিয়ান উপদ্বীপ আছে। 

(গ) এই মহাদেশের পূর্বের উচ্চভূমি অঞ্চল তিনটি উচ্চভূমি দ্বারা গঠিত। 

(ক) গ্রীনল্যাণ্ডের উচ্চভূমি, 

(খ) প্রাচীন ক্যানাডীয় ঢাল,

(গ) অ্যাপালেশিয়ান পর্বতশ্রেণী। অ্যাপালেশিয়ান পর্বতের পশ্চিমাংশের নাম এলিখেনি।

(ঘ) উপরের পার্বত্যভূমির পূর্বের আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চল সমতল। ইহা উত্তরের নভাস্কাসিয়া হইতে পানামা পর্যন্ত বিস্তৃত। 

মধ্য আমেরিকার মেস্কিকো হইতে পানামা পর্যন্ত সব দেশেরই পশ্চিমাংশ পার্বত্যভূমি। এই মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে কোন সমভূমি নাই। অপর দিকে আলাস্কা হইতে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের সীমা পর্যন্ত উপকূলভাগ ভগ্ন এবং ছোট বড় দ্বীপ-উপদ্বীপে পূর্ণ।

 দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ → 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর :

 সঠিক উত্তরটি লিখ : 

প্রশ্ন ১। পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণীটি হলো- 

 (ক) হিমালয় পর্বতমালা

 (খ) এণ্ডিজ পর্বতমালা

 (গ) রকি পর্বতমালা

 (ঘ) ইউরাল পর্বতমালা

 উত্তর : এণ্ডিজ পর্বতমালা। 

প্রশ্ন ২। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশটি উত্তর আমেরিকার— 

(ক) পূর্বে, 

(খ) উত্তরে, 

(গ) দক্ষিণ-পূর্বে

 (ঘ) পশ্চিমে 

উত্তর : দক্ষিণ-পূর্বে। 

প্রশ্ন ৩। টিটিকাকা হ্রদটি অবস্থিত- 

(ক) ব্রাজিলে, 

(খ) পেরুতে 

(গ) আর্জেন্টিনায় 

(ঘ) উরুগুয়েতে 

উত্তর : পেরুতে।

প্রশ্ন ৪। প্লাটিনাম পাওয়া যায়— 

(ক) বলিভিয়ায় 

(খ) ব্রাজিলে 

(গ) পেরুতে 

(ঘ) চিলিতে 

উত্তর : বলিভিয়ায়। 

প্রশ্ন ৫। দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাধীন দেশের সংখ্যা— 

(ক) ১০

(খ) ১৫ 

(গ) ২০ 

(ঘ) ১২ 

উত্তর : ১২। 

প্রশ্ন ৬। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম্ দেশ কি? 

উত্তর : ব্রাজিল। 

প্রশ্ন ৭। দক্ষিণ আমেরিকা ভারত অপেক্ষা কতগুণ বড়? 

উত্তর : ৫-৭ গুণ। 

প্রশ্ন ৮। পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ আমেরিকার কোন্ দিকে অবস্থিত? 

উত্তর : উত্তর-পূর্বে।

প্রশ্ন ৯। আমাজন অববাহিকার অরণ্য অঞ্চলটিকে কি বলা হয় ?

উত্তর : সেলভা।

প্রশ্ন ১০। আন্দিজ পর্বতমালার দৈর্ঘ্য কত?

উত্তর : ৮০০০ কিমি.।

প্রশ্ন ১১। কোন্ স্থানে চির বসন্ত বিরাজ করে ? 

উত্তর : ইকোয়েডরের রাজধানী কুইটোতে।

 প্রশ্ন ১২। ফকল্যাণ্ড দ্বীপটি কাহার অধীনে? 

উত্তর : ব্রিটিশের।

প্রশ্ন ১৩। দক্ষিণ আমেরিকার কোন কোন স্থানে পেট্রোলিয়াম পাওয়া য 

উত্তর : ভেনেজুয়েলা, পেরু ও কলম্বিয়াতে।

প্রশ্ন ১৪। দক্ষিণ আমেরিকার আদিম অধিবাসীদের কি বলে ?

 উত্তর : রেড ইন্ডিয়ান। 

প্রশ্ন ১৫। মহাদেশটির আয়তন কত? 

উত্তর : প্রায় ১৮ নিখুঁত বর্গ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ১৬। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশটিতে মোট কয়টি দেশ আছে? 

উত্তর : ১২ টি। 

প্রশ্ন ১৭। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের জনসংখ্যা কত? 

উত্তর : ২০১৪ সনের তথ্য অনুযায়ী আনুমাণিক ৪০৭ নিযুত। 

প্রশ্ন ১৮। পৃথিবীর উচ্চতম স্থানে অবস্থিত হ্রদটির নাম কি? 

উত্তর : দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত টিটিকাকা হন।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। দক্ষিণ আমেরিকার চারিটি কৃষিজাত সম্পদ, চারিটি খনিজ সম্পদ এবং তিনটি সর্ববৃহৎ শহরের নাম লিখ। 

উত্তর : চারিটি কৃষিজাত সম্পদ হইল কফি, তামাক, তুলা, আলু। চারিটি খনিজ সম্পদ হইল—টিন, কয়লা, হীরা, গ্রাফাইট। তিনটি সর্ববৃহৎ শহর—রিও-ডি-জেনেরো, সাওপাওলো, বুয়েনস আয়ার্স। 

প্রশ্ন ২। নিম্নলিখিত দেশগুলির রাজধানীর নাম লিখ। 

গায়েনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি ।

উত্তর

          দেশ।                    রাজধানীদেশ                                 রাজধানী
গায়েনা                          প্যারাসারিবো 
কলম্বিয়া                       বোগোটা
বলিভিয়া                     লা-পাজ 
আর্জেন্টিনা                   বুয়েনস্ আয়ার্স
ব্রাজিল                             ব্রাসিলিয়া 
পেরু                                লিমা 
প্যারাগুয়ে                        আসুনসিয়ন 
চিলি                                সান্টিয়াগো

প্রশ্ন ৩। দক্ষিণ আমেরিকার নদ-নদীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর। দক্ষিণ আমেরিকার নদ-নদীর সংখ্যা কম হইলেও ইহাদের শাখা নদী ও উপনদী অনেক আছে। নদীগুলির মধ্যে অরিনকো, আমাজন এবং লা-প্লাটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম নদী। ইহা আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপত্তি হইয়া আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হইয়াছে। অরিনকো গায়েনা মালভূমি হইতে উৎপন্ন হইয়া আটলান্টিক মহাসাগরে পড়িয়াছে। পানামা ও প্যারাগুয়ে নদী দুইটি ব্রাজিল মালভূমি হইতে উৎপন্ন হইয়া এবং পরে সংযুক্ত হইয়া লা-প্লাটা নাম ধারণ করিয়া আটলান্টিক মহাসাগরে পড়িয়াছে। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-প্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর : ভূ-প্রকৃতি গঠন অনুযায়ী দক্ষিণ আমেরিকাকে চারিটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা যায়। 

(ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় সংকীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চল। এই অঞ্চলটি আন্দিজ পর্বতশ্রেণী ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলের মধ্যে একটি সংকীর্ণ সমভূমি অঞ্চল। 

(খ) আন্দিজ পর্বতমালার বৃহৎ ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চল : এই ভঙ্গিল পর্বতমালা উত্তরে প্রশস্ত কিন্তু দক্ষিণে ক্রমশ সংকীর্ণ হইয়াছে। আন্দিজ পর্বতমালায় অনেকগুলি সমান্তরাল

পর্বতশ্রেণী আছে এবং এইগুলির মধ্যে কিছু সংখ্যক মালভূমি আছে। আন্দিজ পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী। আন্দিজ পর্বতমালায় কতকগুলি পর্বত শ্রেণী আছে; সেইগুলির নাম হইল—একানকাগুয়া, চিম্বোরাজো, কোটো পাক্সি। বলিভিয়ার মালভূমিতে টিটিকাকা হ্রদ অবস্থিত। 

(গ) মধ্যভাগের সমভূমি : মধ্যভাগের সমতল অঞ্চলটিকে উত্তর হইতে দক্ষিণে চারিটি ভাগে ভাগ করা যায়— (১) ওরিনকো উপত্যকা অঞ্চল, (২) লানোজ তৃণভূমি অঞ্চল, (৩) পারানা-প্যারাগুয়ে নদী উপত্যকা অঞ্চল এবং (৪) আর্জেন্টিনার পাম্পাস ও পাটাগোনিয়ার মালভূমি অঞ্চল। 

(ঘ) পূর্বাংশের উচ্চভূমি অঞ্চল : দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশের উচ্চভূমি অঞ্চলে দুইটি মালভূমি আছে। এই দুইটি মালভূমিকে আমাজন নদী বিভক্ত করিয়াছে। এই দুইটি মালভূমি হইল উত্তরের গিনি উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ ব্রাজিলের উচ্চভূমি। 

প্রশ্ন ২। দক্ষিণ আমেরিকার জলবায়ুর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর : বিষুবরেখা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশের মধ্য দিয়া গিয়াছে। কাজেই দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ ও দক্ষিণে ২৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত ক্রান্তীয় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দেখা যায়। সম্পূর্ণ আমাজন উপত্যকা নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত। বাণিজ্য বায়ুর প্রভাবে উত্তরে এবং পূর্ব দিকে বৃষ্টিপাত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যভাগে আন্দিজ পর্বতের পশ্চিম ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল। ফলে এই অংশে আটাকামা মরুভূমির সৃষ্টি হইয়াছে। আন্দিজ পর্বতের উপরে উষ্ণতা সর্বদাই কম। চিলির উপকূলে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং এই অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বিরাজিত। আদিজ পর্বতের পূর্ব ঢালে দক্ষিণ দিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হইবার ফ আর্জেন্টিনার দক্ষিণে পাটাগোনিয়া মরুভূমির সৃষ্টি হইয়াছে। এই মহাদেশের দক্ষিণে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিরাজিত। 

প্রশ্ন ৩। দক্ষিণ আমেরিকার লোকবসতির একটি বিবরণ দাও। 

উত্তর : দক্ষিণ আমেরিকাতে ২০০৫ সনের তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ছিল ৩৭৯৫ নিযুত। এই মহাদেশের অধিকাংশ লোকই রেড ইন্ডিয়ান, আফ্রিকীয় এবং ইউরোপীয় রক্তের মিশ্রণ। স্থায়ী আদিম রেড ইন্ডিয়ান লোকেরা আর্থ-সামাজিক দিক দিয়া আদিম অবস্থাতেই আছে। ইহারা আমাজান অববাহিকার গভীর অরণ্যে বসবাস করে এবং শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে জনবসতি ঘন। পূর্ব উপকূলে এবং পশ্চিম উপকূলে অনেক বন্দর ও শিল্পোদ্যোগ গড়িয়া উঠিয়াছে। পূর্ব উপকূলের প্রধান জনবহুল স্থানগুলি হইল রিজাইফ, সালভাদোর, রিও-ডি-জেনেরো, সাওপাওলো, পোর্ট এলেগ্রি, মন্টিভিডিও, বুয়েনস আয়ার্স, বাহিয়ারেঙ্কা ইত্যাদি। পশ্চিম উপকূলের জনবহুল স্থানগুলি হইল গুওয়াকুল, ট্রজিলো, লিমা, মস্টাকান, এন্টোফাগাস্টা, ভালপারাইসো, সান্টিয়োগা, কোনসেপ্‌সিয়ান, ভালদিভিয়া ইত্যাদি। সাওপাওলো পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।

ওশেনিয়া মহাদেশ

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। শূন্যস্থান পূরণ কর। 

(ক) ________ওশেনিয়া মহাদেশটির বৃহত্তম দ্বীপ। 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়া।

 (খ) অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর_______ দ্বীপ।

উত্তর ঃ বৃহত্তম দ্বীপ।

(গ) মধ্য অস্ট্রেলিয়ার _____হ্রদ একটি মরু হ্রদ।

উত্তর : আয়ার।

(ঘ) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম______।

 উত্তর : ক্যানবেরা।

(ঙ) নিউজিল্যাণ্ডের রাজধানীর নাম ______।

উত্তর : ওয়েলিংটন।

প্রশ্ন ২। ওশেনিয়া মহাদেশ কোন্ কোন্ দ্বীপ লইয়া গঠিত হইয়াছে?

উত্তর : অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড, ফিজি, টুভালু, ভানুআটু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পপুয়া নিউগিনি, টঙ্গা, নাউরু ইত্যাদি দ্বীপপুঞ্জ লইয়া ওশেনিয়া মহাদেশ গঠিত হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৩। ওশেনিয়া মহাদেশের বিস্তৃতি লিখ। 

উত্তর : উত্তরে নিরক্ষরেখা হইতে দক্ষিণে ৪৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা পর্যন্ত এবং ১১৩° পূর্ব দ্রাঘিমা হইতে পূর্বে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। 

প্রশ্ন ৪। ওশেনিয়া মহাদেশ কোন গোলার্ধে অবস্থিত ?

উত্তর : দক্ষিণ গোলার্ধে। প্রশ্ন ৫। ওশেনিয়া মহাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ কোনটি ? উত্তর : অস্ট্রেলিয়া। 

প্রশ্ন ৬। অস্ট্রেলিয়াকে মহাদ্বীপ বলা হয় কেন? 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়াকে মহাদ্বীপ বলা হয় কারণ এই দ্বীপটি পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ।

প্রশ্ন ৭। অস্ট্রেলিয়ার উপকূলভাগের দৈর্ঘ্য কত? 

উত্তর ঃ প্রায় ১০,০০০ কিমি.। 

প্রশ্ন ৮। অস্ট্রেলিয়ান আল্পস কাহাকে বলা হয় ? 

উত্তর : গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণীর দক্ষিণ ভাগকে অস্ট্রেলিয়ান আরস বলা হয়।

প্রশ্ন ৯। অস্ট্রেলিয়াতে শীতকাল কখন? 

উত্তর : মে মাস হইতে আগস্ট মাস পর্যন্ত।

প্রশ্ন ১০। অস্ট্রেলিয়ার দুইটি বিশিষ্ট গাছের নাম লিখ। 

উত্তর : ইউক্যালিপটাস এবং ব্লুগাম। 

প্রশ্ন ১১। অস্ট্রেলিয়ায় কি কি ধরনের জীবন্ত দেখা যায়? 

উত্তর : ক্যাঙ্গার, ওয়াঘাট, ওপোসাম প্রভৃতি জন্তু এবং কোয়ালা, প্লেটিপাস, একিডনা, পেঙ্গুইন ও এমু পাখি দেখা যায়। 

প্রশ্ন ১২। অস্ট্রেলিয়ায় কি কি কৃষিজাত দ্রব্য পাওয়া যায়? 

উত্তর : গম, আখ, ভুট্টা, ধান, আলু ও তামাক। ইহাছাড়া শাক-সবজি ও ফলমূলও হয়।

প্রশ্ন ১৩। অস্ট্রেলিয়ায় কি কি প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায়? 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়াতে কয়লা, লৌহ আকর, বক্সাইট, সোনা, রূপা, সীসা, নিকেল, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। 

প্রশ্ন ১৪। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা কত ? 

উত্তর : ২০১৪ সালের জনগণনা মতে প্রায় ৩৮ নিযুত। 

প্রশ্ন ১৫। অস্ট্রেলিয়ার কোন্ কোন্ স্থানে সোনা ও রূপা পাওয়া যায় ? 

উত্তর : এলিসঞ্জিং, কুলগার্ডি, কালগুলি ইত্যাদি স্থানে সোনা ও রূপা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ১৬। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীর নাম কি?

 উত্তর : ক্যানবেরা। 

প্রশ্ন ১৭। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রধান নগর-শহরের নাম লিখ? 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার প্রধান প্রধান নগর শহরের নামগুলি হইল রকহাম্পটন, ব্রিসবেন, সিডনি, বার্থাস্ট, ক্যানবেরা, মেলবোর্ণ, অ্যাডিলেড, এলবেনি, পার্থ, ডারউইন ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ১৮। ওশেনিয়া মহাদেশের অস্ট্রেলিয়া ব্যতীত অপর উল্লেখযোগ্য দুইটি দ্বীপের নাম লিখ।

 উত্তর : পপুয়া নিউগিনি ও নিউজিল্যাণ্ড।

প্রশ্ন ১৯। পপুয়া নিউগিনির অধিবাসীদের কি বলা হয়? 

উত্তর : মেলানেশীয় বা কৃষ্ণবর্ণ। 

প্রশ্ন ২০। অস্ট্রেলিয়ার কোন্ কোন্ অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বিরাজ করে? সেই সকল স্থানের তিনটি নগরের নাম উল্লেখ কর। 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এই অঞ্চলের তিনটি নগরের নাম হইল—এলবেনি, পার্থ এবং হোবার্ট। 

প্রশ্ন ২১। নিউজিল্যাণ্ড কিসের জন্য বিখ্যাত ? 

উত্তর : ভেড়া ও গোপালনের জন্য বিখ্যাত।

প্রশ্ন ২২। নিউজিল্যাণ্ডের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নগর ও শহরের নাম লিখ। 

উত্তর ঃ অল্যাণ্ড, হ্যামিল্টন, গিসবর্ণ, নেপিয়ার, নিউপ্লাইমাউথ, ওয়েলিংটন, ক্রাইস্টচার্চ, ডানেডিন ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ২৩। ওশেনিয়া মহাদেশের অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জগুলিতে কি কি কৃষিজাত সামগ্রী পাওয়া যায় ? 

উত্তর : নারিকেল, কফি ও কোকো। 

প্রশ্ন ২৪। নিউজিল্যাণ্ড কি কি দ্বীপ লইয়া গঠিত? 

উত্তর : নিউজিল্যাণ্ড উত্তর আইল্যাণ্ড দক্ষিণ আইল্যাণ্ড, স্টুয়ার্ট আইল্যাণ্ড ও অন্যান্য ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা গঠিত।

প্রশ্ন ২৫। নিউজিল্যাণ্ডের রাজধানীর নাম লিখ। 

উত্তর : ওয়েলিংটন।

প্রশ্ন ২৬। অস্ট্রেলিয়ার একটি হ্রদের নাম লিখ। 

উত্তর: আয়ার হ্রদ । 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : 

প্রশ্ন ১। অস্ট্রেলিয়ার নদ-নদীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার নদ-নদীর সংখ্যা অতি কম। ইহার পূর্ব-উপকূলের প্রধান নদী। হইল–বেলিয়াণ্ডো ও ফিজয়, উত্তর উপকূলের প্রধান নদী ফ্লিণ্ডার্স, পশ্চিম উপকূলের বড় নদী হইল—ফিট্জরয় ও সোয়ান। অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ নদী হইল ডার্লিং ও মারে।

প্রশ্ন ২। রাজধানীসহ ওশেনিয়ার দেশগুলির নাম লিখ। 

উত্তর : পাঠ্যপুস্তক হইতে লিখ। 

প্রশ্ন ৩। অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুর একটি বিবরণ দাও। 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার মহাদ্বীপটি সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় নভেম্বর মাস হইতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল এবং মে মাস হইতে আগস্ট পর্যন্ত শীতকাল। আবার সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বসন্তকাল ও মার্চ-এপ্রিল মাসে শরৎকাল। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। কাজেই এই অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় অলবায়ু বিরাজ করে। পূর্ব-উপকূলে প্রায় সমস্ত বৎসরই বৃষ্টিপাত হইয়া থাকে কিন্তু ইহার পশ্চিমে থাকা গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ থাকায় এই পর্বতশ্রেণীর পশ্চিমাঞ্চল বৃষ্টিচ্ছায় অবস্থা উপভোগ করে। সমগ্র মধ্য অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিহীন মরু অবস্থা বিরাজ করে। উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় সমস্ত বৎসরই বৃষ্টিপাত হয়। 

প্রশ্ন ৪। অস্ট্রেলিয়া প্রচুর পরিমাণে ঊল রপ্তানি করার কারণ কি? 

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার সর্বাধিক মূল্যবান কৃষিজ সামগ্রী হইল ভেড়া চরাইবার জন্য বিশেষ ধরনের ঘাস। পূর্বের তৃণভূমি অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভেড়ার খাদ্য হিসাবে পুষ্টিকর ঘাসের চাষ করা হয়। অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় ২০০ নিযুত ভেড়া পোষা হয়। এই সকল ভেড়ার লোম দ্বারা প্রচুর পরিমাণে ঊল তৈরী করা হয়। এই জন্য বিদেশে প্রচুর পরিমাণে ঊল রপ্তানি করা হয়। উল রপ্তানিতে অস্ট্রেলিয়ার স্থান পৃথিবীর মধ্যে প্রথম। 

প্রশ্ন ৫। অস্ট্রেলিয়ার জনবসতি দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অধিক কেন ? 

উত্তর : পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীগণ শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করিয়া জীবনধারণ করিত। কিন্তু ১৭৮৮ সন হইতে ব্রিটিশগণ স্বামীভাবে বাস করিতে আরম্ভ করে। ইহারা প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বে বৃষ্টিসিক্ত অঞ্চলে বসবাস আরম্ভ করিয়াছিল। পূর্ব উপকূলের উপকূলভাগ ভগ্ন হওয়ায় বন্দর পোতাশ্রয়ের মধ্য দিয়া জাহাজ অনেকদূর পর্যন্ত প্রবেশ করিত। ঘাসযুক্ত অঞ্চলে ভেড়া পালন করিত। এই কারণে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ঘন বসতি স্থাপিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৬। বৃহৎ প্রবালদ্বীপ বা Great Berrier Reef বলিতে কি বুঝ ?

উত্তরঃ পূর্ব উপকূলের মধ্যভাগ হইতে উত্তর উপকূলের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত সমান্তরালভাবে অগভীর সাগরে ১৯০০ কিমি. দীর্ঘ বহু সংখ্যক প্রবালদ্বীপ শ্রেণীবদ্ধ ভাবে আছে। ইহার নাম বৃহৎ প্রবাল প্রাচীর। উপকূলভাগ হইতে মাত্র ৫০ কিমি. হইতে ১৫০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। ইহা পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। ওশেনিয়া মহাদেশটির ধারণাটি বুঝাইয়া লিখ এবং ইহার অন্তর্গত অন্ততঃ ৮টি দেশের নাম লিখ। 

উত্তর : পূর্বে ওশেনিয়া মহাদেশ বলিতে কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়া মহাদ্বীপ ও তাহার নিকটবর্তী তাসমেনিয়া, নিউজিল্যাণ্ড ও নিউগিনি দ্বীপকে লইয়া স্থলভাগ ও জলভাগ ধরা হইয়াছিল। কিন্তু বর্তমানে জলপথ, বিমানপথ ও ইলেক্‌ট্রনিকের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হইয়া উঠায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড এবং ইহার আশে পাশে থাকা অনেক দ্বীপপুঞ্জর মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মিত্রতা সুদৃঢ় হইয়াছে। এই জন্য এই সমস্ত দ্বীপগুলিকে লইয়া ওশেনিয়া মহাদেশের ধারণা জনপ্রিয় হইয়াছে। 

ওশেনিয়া মহাদেশের অন্তর্গত ৮টি মহাদেশের নাম হইল— অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড, ফিজি, টুভালু, ভানুআটু, সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পপুয়া নিউগিনি ও টঙ্গা। 

প্রশ্ন ২। অস্ট্রেলিয়ার মূল প্রাকৃতিক বিভাগগুলিকে ভাগ করিয়া প্রত্যেকটির বৈশিষ্ট্য লিখ।

উত্তর : অস্ট্রেলিয়ার মূল প্রাকৃতিক বিভাগগুলি চারিটি ভাগে ভাগ করা যায়। নিম্নে বর্ণনা করা হইল—

(ক) সংকীর্ণ উপকূলীয় সমতল : এই সমতল ভূমি পূর্বে সংকীর্ণ হইলেও এই স্থানে বন্দর পোতাশ্রয়, নগর শহর অধিক। কিন্তু উত্তর উপকূলে ক্রান্তীয় জলবায়ুর জন্য অনেক নদ-নদী আছে। ইহার ফলে এই সমতল ভূমিটি প্রশস্ত। পশ্চিম উপকূল সংকীর্ণ ও মরুময়। ইহার দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু কৃষিকাজ সম্ভব হইয়াছে। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলটি মরুভূমি ও অস্বাস্থ্যকর। 

(খ) পূর্বের অর্ধমেরু ও সমতলভূমি : ইহা উত্তরের কার্পেন্টেরিয়া সমতল হইতে দক্ষিণে সিম্পসন মরুভূমি ও স্টুয়ার্ট মরুভূমি এবং ইহারও দক্ষিণে ডার্লিং ও মারে সমতল দক্ষিণ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। কার্পেন্টেরিয়া অঞ্চল বৃষ্টিবহুল অরণ্যময় সমতলভূমি। 

(গ) পূর্বের পার্বত্য অঞ্চল : ইহা সম্পূর্ণ পূর্ব উপকূল জুড়িয়া আছে। এই ভঙ্গিল পর্বতমালাকে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ বলিলেও দক্ষিণে ইহাকে স্নোয়ি মাউন্টেইন বা অস্ট্রেলিয়ান আল্পও বলা হয়। 

(ঘ) মধ্য ও পশ্চিমভাগের মরুভূমি অঞ্চল : এইগুলি প্রকৃতপক্ষে ১২৫ মিটার হইতে ৯০০ মিটার উচ্চ মরু মালভূমি। এইগুলির মধ্যে মধ্যে লবণাক্ত জলের হ্রদ আছে। অস্ট্রেলিয়ার একেবারে মধ্যভাগে মরু মালভূমিগুলি পাহাড়ের আকৃতি ধারণ করিয়াছে।

Leave a Reply