SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-5| ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-5| ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-5| ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-5| ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ৫ 

ভারত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য 

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর 

প্রশ্ন ১। নীচে দেওয়া জনগোষ্ঠীর কোনটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী? [[HSLC 2020] 

 (ক) খাসী 

 (খ) খামতি

 (গ) আদি

 (ঘ) কাৰ্বি

উত্তর : (খ) খামতি 

প্রশ্ন ২। ‘ওডিসি’ কোন রাজ্যের লোকনৃত্য ?

(ক) ওড়িয়া 

(খ) তামিলনাডু

(গ) কেরালা 

(ঘ) অসম

উত্তর : (ক) ওড়িষা। 

প্রশ্ন ৩। নীচের কোনটি ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্য অন্ধ্রপ্রদেশের?  

(ক) কথাকলি

(খ) কুচিপুড়ী 

(গ) ভারতনাট্যম]

(ঘ) ওডিসি 

উত্তর : (খ) কুচিপুড়ী। 

প্রশ্ন ৪। আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগ দিবস কখন পালন করা হয়? 

(ক) ২১ জুন 

(খ) ২১ চেপ্টেম্বর

(গ) ২০ জুন 

(ঘ) ২১ মার্চ 

উত্তর : (ক) ২১ জুন। 

প্রশ্ন ৫। কথা-গীতা কে রচনা করিয়াছিলেন ? 

(ক) অনন্ত কন্দলি 

(খ) রাম সরস্বতী 

(গ) ভট্টদেব 

(ঘ) গোবিন্দ মিশ্র

উত্তর : (গ) ভট্টদেব। 

প্রশ্ন ৬। কোন আহোম রাজা বহুতলবিশিষ্ট তলাতল ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন? 

(ক) সুকুমার বরকাইথ

(খ) স্বৰ্গদের কর সিংহ 

(গ) গদাধর সিংহ

(ঘ) চুহুং মুঙে 

উত্তর : (খ) স্বর্গদেব রুদ্র সিংহ।

প্রশ্ন ৭। ‘বহাগ বিহুর’ সমান্তরালভাবে দরং জেলায় কি উৎসব পালন করা হয় ? 

(ক) ভঠেলি 

(খ) দেউল

(গ) বার গোপাল ওলিওয়া 

(ঘ) বাঁহপূজা

 উত্তর : (খ) দেউল।

প্রশ্ন ৮। ‘চপছর কূট’ নিম্নে কোন রাজ্যের পরম্পরাগত উৎসব?

(ক) মেঘালয় 

(খ) নাগাল্যাণ্ড 

(গ) মণিপুর 

(ঘ) মিজোরাম 

উত্তর : (গ) মণিপুর।

প্রশ্ন ৯। ইক্ষু থেকে গুড় তৈরি করার কৌশল ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদান 

জুগিয়েছিল—

(ক) অধিকরা

(খ) নিগ্রোরা

(গ) দ্রাবিড়রা

(ঘ) মঙ্গোলীয়রা

উত্তর : অষ্ট্রিকরা

প্রশ্ন ১০। মহাপুরুষ শ্রীশঙ্করদেব_____-খ্রিস্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন।

(ক) ১৪৫০-১৫৭০ 

(খ) ১৪৪০-১৫৫০ 

(গ) ১৪৪৯-১৫৬৯

(ঘ) ১৫৪৯-১৬৬১

উত্তর : ১৪৪৯-১৫৬৯। 

প্রশ্ন ১১। মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব_____

 হইতে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করিয়াছিলেন।

(ক) আহোম রাজা শিব সিংহ – 

(খ) আহোম রাজা রুদ্র সিংহ 

(গ) কোচ রাজা মহারাজ নরনারায়ণ 

(ঘ) দুর্লভ নারায়ণ 

উত্তর : কোচ রাজা মহারাজ নরনারায়ণ । 

প্রশ্ন ১২। শ্রীমন্ত শঙ্করদের কতটি বরগীত রচনা করিয়াছিলেন?

(ক) ৬৩টি

(খ) ৩৬টি

(গ) ১৩৯টি

(ঘ) ১২৫টি

 উত্তর : ৩৬টি। 

প্রশ্ন ১৩। মহাপুরুষ শ্রীশ্রীমাধবদেব কতটি বরগীত রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) ১৫৭টি 

(খ) ১৩৬টি

(গ) ১৬৯টি

(ঘ) ১৪০টি

 উত্তর : ১৫৭টি। 

প্রশ্ন ১৪। ‘নামঘোষা’ কে রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) মহাপুরুষ শ্রীশ্রীশঙ্করদেব।

(খ) মহাপুরুষ শ্রীশ্রীমাধবদের

(গ) মহাপুরুষ শ্রীশ্রীদামোদরদের 

 (ঘ) মহাপুরুষ হরিদের

উত্তর : মহাপুরুষ শ্ৰীশ্ৰীমাধবদের।

প্রশ্ন ১৫। ‘কথা ভাগবত কে রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) অনন্ত কন্দলী

(খ) শ্রীরাম সরস্বতী 

(গ) বৈকুণ্ঠনাথ ভট্টাচার্য,

(ঘ) দৈতারী ঠাকুর 

 উত্তর : বৈকুণ্ঠনাথ ভট্টাচার্য। 

প্রশ্ন ১৬। পৃথিবীর প্রাচীনতম লিখিত ধর্মগ্রন্থখন টি কি?

(ক) ঋকবেদ

(খ) যজুবেদ 

(গ) রামায়ণ 

(ঘ) মহাভারত 

উত্তর : ঋকবেদ

পশ্ন ১৭। ‘অজন্তা গুহা কোন রাজ্যে অবস্থিত ? 

(ক) তামিলনাডুত

(খ) মহারাষ্ট্রে 

(গ) অন্ধ্রপ্রদেশে 

(ঘ) পশ্চিমবঙ্গে 

উত্তর : মহারাষ্ট্রে 

প্রশ্ন ১৮। ‘কথাকলি’ কোন রাজ্যের লোকনৃত্য ? 

(ক) কেরালা 

(খ) তামিলনাড়ু 

(গ) অন্ধ্রপ্রদেশ

(ঘ) ওড়িশা

উত্তৰ : কেরালা 

প্রশ্ন ১৯। ‘হর্ণবিল’ (Hornbill) উৎসব নিম্নে দেওয়া কোনটি রাজ্যে উদযাপিত হয়? 

(ক) অসমে

(খ) ত্রিপুরায়

(গ) নাগাল্যাণ্ডে 

(ঘ) অরুণাচল প্রদেশে

 উত্তর : নাগাল্যাণ্ডে 

প্রশ্ন ২০। ভারতীয় সংবিধানে সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃত ভাষার সংখ্যা হইল—

(ক) ১২২ টা 

(খ) ১০ টা

(গ) ৭০৫ টা

(ঘ) ২২ টা

উত্তর : ২২টা 

প্রশ্ন ২১। ‘বসুধৈব কুটুম্বম ৰাণীটি কোন মহান পৌরাণিক গ্রন্থ হইতে উদ্ধৃত? 

(ক) ঋকবেদ 

(খ) মহাভারত

(গ) রামায়ণ 

(ঘ) মহাপনিষদ 

উত্তর : মহাপনিষদ 

প্রশ্ন ২২। মেঘালয়ের খাসিয়াগণ নিম্নে দেওয়া কোন গোষ্ঠীর লোক? 

(ক) মংগোলীয় 

(খ)অষ্ট্রিক

(গ) অগ্নিক 

(ঘ) একটাও না 

উত্তর :  অষ্ট্রিক

প্রশ্ন ২৩। রাণী গাইডাল ছিলেন—

 (ক) অসমের

 (খ) অরুণাচলে প্রদেশের

 (গ) মেঘালয়ের

 (ঘ) নাগাল্যাণ্ডের 

উত্তর : নাগাল্যাণ্ডের 

প্রশ্ন ২৪। গীত গোবিন্দের লেখক হইলেন—

(ক) জয়দেব 

(খ) সুকুমার বরকাইত

(গ) শংকরদেব 

(ঘ) হরিনারায়ণ দেব 

উত্তর : জয়দেব 

প্রশ্ন ২৫। ‘হস্তীবিদ্যার্থত গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

(ক) শংকরদেব

(গ) সুকুমার বরকাইত

(খ) মাধবদের 

(ঘ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া

উত্তর : সুকুমার বরকাইত 

প্রশ্ন ২৬। ঊষা পরিণয় কে রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) দৈতারী ঠাকুর 

(খ) পীতাম্বর কবি 

(গ) রামচরণ ঠাকুর

(ঘ) শ্রীধর কন্দলঈ 

উত্তর : পীতাম্বর কবি।

প্রশ্ন ২৭। ‘হস্তীবিদ্যার্ণব কোন্ রাজার সময়ে রচিত হইয়াছিল?

(ক) আহোম রাজা শিবসিংহ

(খ) আহোম রাজা রুদ্রসিংহ 

(গ) কোচ রাজা মহারাজা নরনারায়ণ 

(ঘ) আহোম রাজা লক্ষ্মী সিংহ

 উত্তর : আহোম রাজা শিবসিংহ।

 প্রশ্ন ২৮। ‘গীত গোবিন্দ’কে রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) রামনারায়ণ চক্রবর্তী 

(গ) দৈতারী ঠাকুর

(খ) অনন্ত কন্দলী 

(ঘ) শ্রীধর কন্দলী 

উত্তর : রামনারায়ণ চক্রবর্তী।

প্রশ্ন ২৯। সম্ভবতঃ অসমে আগমন ঘটা প্রথম জনস্রোতটি ছিল- 

(ক) আহোমেরা

(খ) কাকেশিয় গোষ্ঠীর লোক

(গ) অধিক জনগোষ্ঠী

(ঘ) মোংগলীয়ারা 

উত্তৰ : অন্তিক জনগোষ্ঠী 

প্রশ্ন ৩০। সুকবি নারায়ণ দেব কোন দরতী রাজার রাজত্বকালে ‘পদ্ম পুরাণ’ রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) রাজা ধালনারায়ণ 

(খ) ধর্মনারায়ণ

(গ) আদিত্যনারায়ণ

(ঘ) রামনারায়ণ 

উত্তর : ধর্মনারায়ণ। 

প্রশ্ন ৩১। ভারতের স্থাপত্য শিল্পের মধ্যে মধ্যমণিস্বরূপ স্থাপত্যটি হইল — 

(ক) সাঁচীরস্তূপ 

(খ) অজন্তা গুহার মন্দিরসমূহ 

(গ) আগ্রার তাজমহল

ঘ) অশোক স্তম্ভ

উত্তর : আগ্রার তাজমহল 

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। সিন্ধু সভ্যতার পূর্ব সীমা গাংগেয় উপত্যকার কোন জায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল? 

উত্তর : মিরাট পর্যন্ত এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল। 

প্রশ্ন ২। সিন্দু সভ্যতাতে নাগরিক সংস্কৃতির বিকাশ কখন হইয়াছিল ?

 উত্তর : খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে। 

প্রশ্ন ৩। ঋকবেদের আনুমানিক রচনাকাল কি? 

উত্তর : আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে।

প্রশ্ন ৪। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতীকে থাকা ‘সত্যমেব জয়তে’ এই বাক্যটি মূলতঃ কোন গ্রন্থ হইতে লওয়া হইয়াছে ?

 উত্তর : মুণ্ডক উপনিষদ।

প্রশ্ন ৫। প্রাচীন ভারতে রচিত রাজনীতি বিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কি?

 উত্তর : কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র। 

প্রশ্ন ৬। ‘বিবিধতার মাঝে একতা’—এই বাক্যাংশটি কোন গ্রন্থের দ্বারা স্থায়িত্ব লাভ করিয়াছিল ?

উত্তর : জওহরলাল নেহরুর ভারত সম্ভেদ’ গ্রন্থের দ্বারা।

প্রশ্ন ৭। ভারতের ভাস্কর্য শিল্পকলার কোন শৈলীতে গ্রীক রোমান কলা-কৌশলের প্রয়োগ হইয়াছিল ? 

উত্তর : গান্ধার শিল্পকলাতে। 

প্রশ্ন ৮। ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র করে রচিত হইয়াছিল?

উত্তর : খ্রিস্টপূর্ব ২০০ হইতে খ্রিস্টিয় ২০০-এর ভিতরে।

প্রশ্ন ৯। ভরতের নাট্যশাস্ত্রে কতটি শ্লোক আছে? 

উত্তর : ৬০০০ টি শ্লোক।

প্রশ্ন ১০। হেরাকা আন্দোলন কি?

উত্তর ঃ নাগাল্যাণ্ডের রাণী গাইডালু নাগাল্যাণ্ডের পরম্পরাগত ধর্ম-বিশ্বাস তথা সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পুনঃ-প্রবর্তন করার উদ্দেশ্যে ‘হেরাকা’ নামের একটি আন্দোলন গড়িয়া তুলিয়াছিল।

প্রশ্ন ১১। নাগাল্যাণ্ডের ‘হর্ণবিল’ উৎসব কোন জীবের নামে উৎসর্গিত ?

উত্তর : ধনেশ পক্ষীর নামে।

প্রশ্ন ১২। ‘চপছের কূট কোন রাজ্যের পরম্পরাগত উৎসব? 

উত্তর : মিজোরাজ্যের। 

প্রশ্ন ১৩। মিজো শব্দের অর্থ কি?

 উত্তর : পাহাড়ের বাসিন্দা।

প্রশ্ন ১৪। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোন রাজ্যে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রচলিত? 

উত্তর : মেঘালয়ের।

প্রশ্ন ১৫। মণিপুরি নৃত্য কি মূল বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে? 

উত্তর : চৈতন্য মহাপ্রভুর শৈশব, কৃষ্ণলীলা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠিয়াছে। 

প্রশ্ন ১৬। অসমের প্রাচীন নাম কি?

 উত্তর : প্রাগজ্যোতিষ এবং কামরূপ। 

প্রশ্ন ১৭। কোন বড়োমূলীয় শব্দ হইতে অসম নামটির উৎপত্তি হওয়া বলিয়া অনুমান করা হয়? 

উত্তর : ‘আ-চাম’ ‘হা-ডোম’ শব্দ হইতে।

প্রশ্ন ১৮। চর্যাপদ মানে কি?

 উত্তর : সহজযান পন্থীয় গীত ।

প্রশ্ন ১৯। চর্যাপদ কবে রচিত হইয়াছিল ?

 উত্তর : খ্রিস্টিয় দশম শতিকা হইতে চতুর্দশ শতিকার সময়কালের ভিতরে রচিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ২০। মাধব কন্দলি কাহার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করিয়া সপ্তকাণ্ড রামায়ণ আছিল। করিয়াছিল ? 

উত্তর ঃ বরাহী রাজা মহামাণিক্যের পৃষ্ঠপোষকতায় ।

প্রশ্ন ২১। অসমের গদ্য সাহিত্যের সূচনা কে করিয়াছিল? 

উত্তর : বৈকুণ্ঠনাথ ভট্টাচার্য। 

প্রশ্ন ২২। জিকির ও জারি কে রচনা করিয়াছিল? 

উত্তর : শ্বাহ মিলান।

প্রশ্ন ২৩। আজান পীর কে?

উত্তর : আজানপীর একজন সুফি সাধক ছিল। তাঁহার প্রকৃত নাম শাহ মিলান। 

প্রশ্ন ২৪। আজনপীর কবে অসমে আসিয়াছিল ? 

উত্তর : ১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে গদাধর সিংহের রাজত্বকালে। 

প্রশ্ন ২৫। দ-পর্বতীয়ার শিলের স্তম্ভটি কবে নির্মিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : খ্রিস্টিয় ষষ্ঠ শতিকাতে। 

প্রশ্ন ২৬। চাংরুং ফুকন কি দায়িত্বে ন্যস্ত ছিল? 

উত্তর : আহোম শাসন ব্যবস্থাতে চাংরুং ফুকন মঠ-মন্দির, রাস্তা-ঘাট ইত্যাদির নির্মাণের দেখা-শোনা করিত। 

প্রশ্ন ২৭। লোকসংগীতের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অসমের কোন শিল্পীকে পদ্মশ্রী সন্মান প্রদান করা হইয়াছিল?

 উত্তর : প্রতিমা পাণ্ডে বরুয়াকে।

প্রশ্ন ২৮। অসমের প্রথম বার্তালোচনীটির নাম কি? 

উত্তর : অরুণোদয়।

প্রশ্ন ২৯। কামাখ্যা মন্দির কে পুনঃনির্মাণ করিয়াছিল? 

উত্তর : চিলারায়।

প্রশ্ন ৩০। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অষ্ট্রিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত জনজাতিটি কি?

 উত্তর : খাসিয়া লোকসকল।

 প্রশ্ন ৩১। রচয়িতাসকলের নাম লিখ : (ক) অর্থশাস্ত্র (খ) হস্তীবিদ্যার্ণব (গ) কীৰ্ত্তন ঘ) নামঘোষা (ঙ) চোরধরা, পিম্পরা ওচোয়া (চ) কালিয় দমন  (ছ) রাম বিজয়জ) কথাগীতা (ঝ) রাজতরঙ্গিনী (ঞ) ভারত সম্ভেদ 

উত্তর : 

(ক) কৌটিল্য 
(গ) শ্রীমন্ত শংকরদেব
(ঙ) শ্রীশ্রীমাধবদেব 
(ছ) শ্রীমন্ত শংকরদেব 
(ঝ) কলহন
(খ) সুকুমার বরকাইথ
(ঘ) শ্রীশ্রীমাধবদেব
(চ) শ্রীমন্ত শঙ্করদেব 
(জ) বৈকুণ্ঠনাথ ভট্টাচার্য 
(ঝ) জওহরলাল নেহরু

 ৩২। আহোমগণ সর্বপ্রথমে কোন্ ভাষায় ইতিহাস (বুরজী) রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : টাই-আহোম ভাষায় সর্বপ্রথম ইতিহাস রচনা করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৩৩। অসমিয়া ভাষায় লিখিত প্রথম ইতিহাস (বুরজী) গ্রন্থটির নাম কি?

উত্তর : “স্বর্গনারায়ণ মহারাজের আখ্যান”।

প্রশ্ন ৩৪। ‘স্বর্গনারায়ণ মহারাজের আখ্যান’ কোন সনে রচনা করা হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৫২৬ সনে। 

প্রশ্ন ৩৫। মহাপুরুষ শঙ্করদেব সাহিত্য রচনা করার ক্ষেত্রে কোন্ রাজার নিকট হইতে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করিয়াছিলেন?

 উত্তর : কামরূপ-কামতাপুরের কোচ রাজা মহারাজ নারায়ণদের ষ্ঠপোষকতা লাভ করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৩৬। মহাপুরুষ শ্রীশ্রীমাধবদের মোট কতটি বরগীত লিখিয়াছিলেন?

 উত্তর : ১৫৭টি বরগীত লিখিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৩৭। বরগীতগুলি কোন্ ভাষায় রচনা করা হইয়াছিল? 

উত্তর : ব্রজবলী ভাষায়।

প্রশ্ন ৩৮। ‘নামঘোষা’ কে রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : মহাপুরুষ শ্রীশ্রীমাধবদের ‘নামঘোষা’ রচনা করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৩৯। কথা ভাগবত’, ‘কথা গীতা’, ‘কথা ভক্তি রত্নাবলী’ কে রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : বৈকুণ্ঠনাথ ভাগবত ভট্টাচার্য বা ভট্টদের। 

প্রশ্ন ৪০। সাহিত্যিক পীতাম্বর কবির রচিত কাব্যটির নাম কি? 

উত্তর : “ঊষা পরিণয়”।

প্রশ্ন ৪১। হস্তীবিদ্যার্ণব’ কাহার রচনা? 

উত্তর : সুকুমার বরকাইথ।

প্রশ্ন ৪২। কোন্ রাজার আদেশে ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ রচিত হইয়াছিল ?.

উত্তর : আহোম রাজা শিবসিংহ এবং রানী অম্বিকার আদেশ অনুসারে। 

প্রশ্ন ৪৩। ‘গীত গোবিন্দ’, ‘ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ’, ‘শকুন্তলা কাব্য’ ইত্যাদি কাব্য কে রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : কবি রামনারায়ণ চক্রবর্তী।

প্রশ্ন ৪৪। কবি রামনারায়ণ চক্রবর্তীকে কাব্য রচনা করিতে কোন আহোম রাজা পৃষ্ঠপোষকতা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : আহোম রাজা রুদ্র সিংহ।

প্রশ্ন ৪৫। ‘পদ্মপুরাণ’ কে রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : সুকবি নারায়ণদেব। 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষেত্র হিসাবে তালিকাভুক্ত হওয়া ভারতের দুটি স্থাপত্যের নাম লেখো।  

উত্তর : তাজমহল এবং সাঁচীস্তুপ। 

প্রশ্ন ২। খ্রিষ্টিয় ষষ্ঠ শতিকার পরে ভারতে আসা দুইটি বিদেশী জাতির নাম লিখ। 

উত্তর : গ্রীক, শক ন আদি।

প্রশ্ন ৩। সিন্ধু উপত্যতাতে আবিষ্কৃত হওয়া ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত দুইটি মূর্তির নাম লিখ।

 উত্তর : পপতি সদৃশ মূর্তি, শিবলিংগ। 

প্রশ্ন ৪। ভারতীয় সংস্কৃতিতে অগ্নিকদের দুইটি অবদান উল্লেখ কর। 

উত্তর : সিন্দুরের ব্যবহার, কার্পাস হইতে সুতা বাহির করিয়া কাপড় বানানো কৌশল। 

প্রশ্ন ৫। ভারতীয় সংস্কৃতিতে বর্ণাঢ্যতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভৌগোলিক পরিস্থিতি কীভাবে ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে? 

উত্তর : ভারতবর্ষের বিশালতা ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি, যেমন উপযোগী উর্বর ভূমি, যাতায়াত যোগাযোগের জন্য সূচলতা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতীয় সংস্কৃতিতে এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছে।

প্রশ্ন ৬। অসমীয়া ভাষার মূল কি? আধুনিক অসমীয়া ভাষা কিভাবে বিকাশ লাভ করিয়াছিল ? 

উত্তর : অসমীয়া ভাষার মূল সংস্কৃত। সংস্কৃত ভাষা হইতে উদ্ভূত  অসমীয়া ভাষার রূপটি বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করিয়া সুদীর্ঘ সময়ের পর সৃষ্টি হইয়াছিল। আহোমগণ প্রথম অবস্থাতে টাই ভাষায় কথা বলিতেন। অবশ্যে অমসীয়া ভাষার আধুনিক রূপটি ‘অরুণোদয়’ 

প্রশ্ন ৭। ভট্টদেবের দুটি জনপ্রিয় সাহিত্য রচনার নাম উল্লেখ করো। পত্রিকার মাধ্যমে বিকশিত হইতে থাকে।

উত্তর : ভট্টদেবের দুইটি জনপ্রিয় সাহিত্য রচনার নাম হইল— (১) কথাগীতা, (২) রত্নাবলী কথা (৩) ভাগবত কথা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৮। বেদের চারটি সংহিতার নাম লিখ।

 উত্তর : ঋকবেদ, যজুঃ বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ।

প্রশ্ন ৯। সম্রাট অশোকের ধর্মীয় উদারতার সাক্ষ্য বহন করা শিলালিপি কোনটি? ইহাতে ধর্মীয় উদারতার বিষয়ে কি বলা হইয়াছে? 

উত্তর : সারনাথে অশোকের সিংহমূর্তি অংকিত স্তম্ভ। সত্যমেব জয়তে, ত্যাগই শান্তি, সকল জীবকে ভালবাসা এবং অহিংসা পরম ধর্ম। লেখা আছে?

প্রশ্ন ১০। অশোকের দ্বাদশ মুখ্য শিলালিপিতে ধর্মীয় উদারতার বিষয়ে কী 

উত্তর : শুধু নিজের ধর্মকে প্রশংসা ও অন্যের ধর্মকে হীন বলা উচিত নয়। বরং সকল ধর্মের সার গ্রহণ করিয়া সমন্বয়ের রাস্তা অনুসরণ করা উচিত। 

প্রশ্ন ১১। সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ মানে কি?

উত্তর : কোন একটি সমাজের সাংস্কৃতিক বিবিধতা ও ইহার প্রতি থাকা শ্রদ্ধার মনোভাবকে সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ বলে। 

প্রশ্ন ১২। ভারতের প্রাচীন যুগের দুইজন বিজ্ঞানীর নাম লিখ। 

উত্তর : মহর্ষি ভরদ্বাজ, ব্রহ্মগুপ্ত। 

প্রশ্ন ১৩। প্রাচীন ভারতের দুইটি চিকিৎসা শাস্ত্রের নাম লিখ।

 উত্তর : চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা।

প্রশ্ন ১৪। ভারতীয় চিত্রকলাকে কী কী ভাগে ভাগ করিতে পারি ?

উত্তর ঃ ভারতীয় চিত্রকলাকে দুইটি ভাগে ভাগ করিতে পারি—বৃহদাকার দেয়াল চিত্র ও ক্ষুদ্রাকার চিত্র। 

প্রশ্ন ১৫। চিত্রকলার পৃষ্ঠপোষকতা করা দুইজন মোগল বাদশাহের নাম লিখ। 

উত্তর : আকবর, সাহজাহান। 

প্রশ্ন ১৬। ক্ষুদ্রাকার চিত্রযুক্ত অসমের দুইটি সাঁচিপতীয়া গ্রন্থের নাম লিখ 

 উত্তর : শংখচূড় বধ ও লব-কুশের যুদ্ধ।

প্রশ্ন ১৭। ঝুম চাষ মানে কি? 

উত্তর : গারো, খাসি, জয়ন্তীয়া ইত্যাদি পাহাড়ি জনজাতিসকলে করা এক প্রকার চাষ। 

প্রশ্ন ১৮। জেং বিহু মানে কি?

 উত্তর : উজনি অসমের মহিলারা নির্জন স্থানে পুরুষ লোকের আড়ালে অনুষ্ঠিত করা। বিছকে জেং বিহু বলে। 

প্রশ্ন ১৯। ওজাপালির দুইটি ভাগের নাম লেখো এবং উদাহরণ দাও। 

উত্তর : ব্যাসের ওজা, সুকনারী ওজা।

উদাহরণ— ব্যাসের ওজা : রামায়ণ, মহাভারতের গীত গায়। 

সুকনারী ওজা : পদ্মার গীত গায় 

প্রশ্ন ২০। প্রাচীন ভারতবর্ষের দুইজন দার্শনিকের নাম লিখ।

 উত্তর : জৈমিনি, রামানুজ । 

প্রশ্ন ২১। আহোম রাজত্বকালে রচিত দুইটি বুরঞ্জীর নাম লিখ। 

উত্তর : দেওধাই বুরজী, তুংমুঙ্গীয়া বুরজী। 

প্রশ্ন ২২। বিহুর সমধর্মী হিসাবে নামনি অসমে উদ্যাপিত হওয়া দুইটি স্থানীয় উৎসল উল্লেখ কর। 

উত্তর : দরং জেলার দেউল, পুরোনো কামরূপের ভঠেলি উৎসব। 

প্রশ্ন ২৩। দরঙের দুইটি লোকনৃত্যের নাম লিখ । 

উত্তর : দেওধনি নৃত্য, ঢেপাঢুলীয়া। 

প্রশ্ন ২৪। ভারতে থাকা মূল নৃগোষ্ঠী কয়টি কী কী? 

উত্তৰ নিগ্রো গোষ্ঠী, এট’-অষ্ট্ৰলয়ড, মংগোলীয় গোষ্ঠী, প্রশস্ত মস্তিকী। 

প্রশ্ন ২৫। ভারতীয় সংস্কৃতিতে অনৈক্যের মধ্যে একতা সৃষ্টিকারী তিনটি কারক উল্লেখ কর। 

উত্তর : (১) হিন্দু ধর্মের স্বকীয় বহুত্ববাদিতা তথা উদারতা। (২) বিভিন্ন সময়ে গড়িয়া উঠা সাম্রাজ্যসমূহে সৃষ্টি করা রাজনৈতিক একতার ইতিহাস। (৩) বিভিন্ন যুগের শাসকসকলের ধর্মীয় তথা সাংস্কৃতিক উদারতা। 

প্রশ্ন ২৬। প্রাচীন ভারতের স্থাপত্য নিদর্শনগুলিকে প্রধানতঃ কী কী ভাগে ভাগ করা হইয়াছে ? 

উত্তর : প্রাচীন ভারতের স্থাপত্য নিদর্শনগুলিকে প্রধানতঃ তিনটি ভাগে ভাগ করিতে পারি- – (১) উত্তর ভারতীয় নগর (২) দক্ষিণ ভারতীয় দ্রাবিড়, (৩) বিন্ধা ও কৃষ্ণ নদীর মধ্য ভাগ। 

প্রশ্ন ২৭। ‘ভারত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ পাঠটিতে ‘সাংস্কৃতিক একতার জালিকা’ বলিতে কি বোঝানো হইয়াছে? 

উত্তর : ভারতীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ। 

প্রশ্ন ২৮। UNESCO র দ্বারা বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষেত্র হিসাবে তালিকাভুক্ত হওয়া ভারতের তিনটি স্থাপত্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : সাঁচির স্তূপ, অজন্তার গুহাসমূহ, তাজমহল। 

পশ্ন ২৯। ভারতের ভাস্কর্য শিল্পে কী কী মূর্তি নির্মাণ করা হইয়াছিল ? 

উত্তর : গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর, হিন্দু দেব-দেবী, যক্ষ, যক্ষিনী, অপেশ্বরী আনির মূর্তি নির্মাণ করা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৩০। ভারতের ভাস্কর্য শিল্পকলার তিনটি প্রধান শৈলী কী কী?

উত্তর : ভারতের ভাস্কর্য শিল্প কলার প্রদান তিনটি শৈলী হইল (ক) গান্ধার শিল্প কলা (খ) মথুরা শিল্পকলা এবং (গ) অমরাবতী শিল্পকলা।..

ভারতের ভাস্কর্য শিল্প সম্পর্কে বলিতে গেলে প্রথমে সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার ভাস্কর্য শিল্পকে উল্লেখ করিতে হইবে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পোষাক অলংকার নির্মিত মূর্তি ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। এই মূর্তিগুলিতে মানুষের সুখ, দুঃখ, শান্তি ইত্যাদির অনুভূতি প্রকাশিত হইয়াছে। গৌতম বুদ্ধ মহাবীর, হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি ইত্যাদি ভারতীয় ভাস্কর্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন বলা যায়। 

প্রশ্ন ৩১। দেয়াল চিত্রের নিদর্শন থাকা ভারতের তিনটি জায়গার নাম উল্লেখ কর। 

উত্তর : অজন্তা (মহারাষ্ট্র), বাঘ (মধ্য প্রদেশ), আরমামলাই (তামিলনাড়ু)। 

প্রশ্ন ৩২। মোগল যুগের ক্ষুদ্রাকার চিত্র সম্বলিত তিনটি গ্রন্থের নাম লিখ। 

উত্তর ও পাদসাহনামা, তুতিনামা, জাহাংগীরনামা, দাস্তান-ই- আমির। 

প্রশ্ন ৩০। চিত্রকলার ষড়াংগ মানে কী বোঝ ? 

উত্তর : খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতিকাতে চিত্র অংকনের জন্য প্রয়োজনীয়। (১) আকৃতি (২) মাপ-জোখ (৩) আবেগ-অনুভূতি প্রকাশক কৌশল (৪) কলাত্মক উপস্থাপন (৫) সাদৃশ্য জ্ঞান এবং (৬) তুলিকা ব্যবহারের নিয়ম—এই ছয়প্রকার চর্চাকে ষড়াংগ চর্চা বলিত।

প্রশ্ন ৩৪। ভারতের যোগবিদ্যার বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : যোগবিদ্যা চর্চা ভারতে অতীত কাল হইতেই চলিতেছিল। খ্রিস্টিয় দ্বিতীয়। শতিকাতে মহর্ষি পতঞ্জলি যোগসূত্র নামের একটি গ্রন্থ সংকলন করিয়া ইহার সুসংহত রূপ দিয়াছিল। এই যোগবিদ্যা ভারতের সাংস্কৃতিক জগতে এবং সমগ্র মানব সমাজে ইহা এক অনবদ্য অবদান যোগাইয়াছে। পতঞ্জলির যোগবিদ্যাতে যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি নামে অষ্টাংগ যোগের ব্যবস্থা আছে। 

প্রশ্ন ৩৫। ভারতের স্থাপত্য কলার তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : ভারতে স্থাপত্য কলার নিদর্শন খুব পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে নির্মাণ করা স্থাপত্য কলার তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। 

(ক) উত্তর ভারতের মন্দিরসমূহের উপর অংশ অর্ধবৃত্তাকার। 

(খ) দক্ষিণ ভারতের মন্দিরসমূহের উপর অংশ আয়তাকারে ক্রমে উপরে ছোট হইয়া যাওয়া ধরনের। 

(গ) বেসর শৈলীর মন্দিরগুলিতে নাগর ও দ্রাবিড় শৈলীর মিশ্রণ ঘটা দেখা যায়। 

প্রশ্ন ৩৬। রঙালী বিহুর সাতদিনকে কী কী নামে জানা যায়? 

উত্তর : রঙালী বিহু সাতদিনকে ক্রমে গরু বিহু, মানুষ বিহু, গোঁসাই বিহু, কুটুম বিহু, চেনেহী বিহু, মেলা বিহু ও চেরা বিহু বলা হয়।

প্রশ্ন ৩৭। কামরূপী লোকগীত ও গোয়ালপৰীয়া লোকগীতের মূল বিষয়বস্তু কি?

উত্তর : জীবনের সুখ-দুখ, দেহের ক্ষণভঙ্গুরতা, জীবনে ঈশ্বর চিন্তার গুরুত্ব, দেব- দেবীর প্রশস্তি আদি গীতসমূহ কামরূপী লোকগীত ও গোৱালপৰীয়া লোকগীতের মূল বিষয়বস্তু। এছাড়াও গোয়াল পরীয়া লোকগীত হাতীধরা ও পোষ মানা বিষয় লইয়া গাওয়া হয়। 

প্রশ্ন ৩৮। অসমের প্রাচীন নাম কামরূপ ও প্রাগজ্যোতিষ উল্লেখ থাকা তিনটি গ্রন্থের নাম লিখ। 

উত্তর : রামায়ণ, মহাভারত, কালিকাপুরাণ। 

প্রশ্ন ৩৯। ভারতীয় চিত্রকলার প্রধান ভাগ দুইটি কি? উদাহরণ দাও।

 উত্তর : ভারতীয় চিত্রকলার প্রধান ভাগ দুইটি — 

(ক) বৃহদাকার দেওয়াল চিত্র (খ) ক্ষুদ্রাকার দেওয়াল চিত্র। উদাহরণ : (ক) বৃহদাকার দেওয়াল চিত্রগুলি অজন্তার দেওয়ালে দেখা যায়।

(খ) ক্ষুদ্রাকার চিত্র সন্নিবিষ্ট হয় গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সচিত্র বিবরণ দেওয়ার জন্য। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর প্রশ্ন

১। ভারতের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের উৎপত্তি ও বিকাশের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : ভারতবর্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হইতে আসা বিভিন্ন লোকের সংমিশ্রিত সংস্কৃতি এক ঐতিহ্য বহন করিয়াছে। বিভিন্ন লোকের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ ভারতীয় সংস্কৃতির অন্য এক বৈশিষ্ট্য। সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদে আনিয়া দিয়াছে বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা। ভারতবর্ষের একটি বিশাল উপ-মহাদেশ। বিভিন্ন জাতি-জনজাতির মধ্যে থাকা তাঁহাদের স্বকীয় সংস্কৃতির সঙ্গে অন্যের কৃষ্টি-সংস্কৃতির প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা দেখা যায়। 

ভারতীয় সংস্কৃতির বিবিধতার মধ্যে একতা বলা বাক্যটিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চন্দ্র বসু আদি নেতারা জনপ্রিয় করিয়া তুলিয়াছে। জওহরলাল নেহরুর ‘ভারত সম্ভেদ’ নামের গ্রন্থটি ইহাকে সুদৃঢ় করিয়াছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, আদি বহু ভিন্নতা থাকা স্বত্ত্বেও এক ঐক্যবদ্ধ অনুভূতির দ্বারা জড়াইয়া আছে। বিভিন্ন যুগের শাসকসকলের ধর্মীয় তথা সাংস্কৃতিক উদারতা ইহাকে অবদান যোগানোর সঙ্গে রামায়ণ ও মহাভারত গ্রন্থ দুইটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তকে মূল সাংস্কৃতিক স্রোতের সঙ্গে জড়াইয়া এইক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করা দেখা গিয়াছে। 

প্রশ্ন ২। ভারতের প্রাচীন যুগে রচিত সংস্কৃত সাহিত্যগুলিতে ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির আত্মা নিহিত হইয়া আছে বলিলে সম্ভবতঃ অতিরঞ্জিত করা হইবে না— বাক্যটির ভাবার্থ আলোচনা কর।

উত্তর : প্রাচীন ভারত সংস্কৃত সাহিত্যের ভাণ্ডার। এই সংস্কৃত সাহিত্য ভারতীয় সভ্যতা সংস্কৃতিকে ধনী করাতে যথেষ্ট অবদান যোগাইয়াছে। বেদের সংহিতা, ব্রাহ্মণ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা পুরাণসমূহ, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, বিভিন্ন চিকিৎসা বিষয়ক চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা, কালিদাস, বাণভট্ট আদির লিখনিসমূহ ভারতীয় সাহিত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। কপিল, পতগুলি, গৌতম, রামানুজ আদি দার্শনিকের গ্রন্থসমূহ, কলহনের রাজতরংগিনী, আর্যভট্ট, বরামিহির, ব্রহ্মগুপ্ত, ভরদ্বাজ আদি বিজ্ঞানীর বিভিন্ন গ্রন্থ, দক্ষিণ ভারতের সংগম সাহিত্য ইত্যাদি গ্রন্থসমূহ ভারতীয় লোকের সাহিত্য-রুচি ও জ্ঞান-পিপাসার পরিচয় প্রদান করে। উক্ত গ্রন্থগুলি মানবের জীবন ও জগত সম্পর্কে প্রাচীন ভারতীয় লোকেরা আহরণ করা আনের পরিচয় দেয়। আবার এই গ্রন্থগুলি ভারতীয়সকলের সমাজ-ব্যবস্থা, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তথা জাতির মধ্যে থাকা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিবিধতার ঐক্য বজায় রাখিতে বিশেষ অবদান আছে। হিন্দু ধর্মের চার বর্ণাশ্রম, গুরুসেবা, পিতৃ-মাতৃর প্রতি ভক্তি, অতিথি সেবার কথা এই গ্রন্থগুলি প্রসার করিয়া আসিয়াছে। এই অমূল্য গ্রন্থসমূহ জন্মান্তরবাদ, অবতারবাদ পাপ-পুণ্য, স্বর্গ-নরক ইত্যাদির ধারণা, অসত্যের বিপরীতে সত্যের প্রতি, অজ্ঞান-অন্ধকারের বিপরীতে জ্ঞানী লোকের প্রতি আদি অমোঘ বাণীসমূহও সামগ্রিকভাবে ভারতীয় মনস্তত্ত্বকে প্রেরণা প্রদান করিয়া আসিয়াছে। সংস্কৃত ভাষাতে রচিত এই গ্রন্থসমূহ .. পরবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তীয় ভাষাতে অনুদিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৩। ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিষয়ে লিখ। 

উত্তর : ভারতবর্ষে অতি পুরোনো কাল হইতেই ধর্ম মানুষের সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করিয়া আসিয়াছে। অতি পুরোনো কাল হইতেই হিন্দু ধর্মের উত্থানের কথার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে। সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন স্থানে পাওয়া পশুপতি মন্দির, শিবলিংগ, মাতৃদেবীর মূর্তি ইত্যাদি ভারতবর্ষে পৌরাণিক হিন্দু ধর্মের প্রমাণ। পৃথিবীর সকল দেশের ভিতরে ভারত ধর্মীয় দিকে উন্নত।

 খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সাল হইতে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সাল সময়কালে ঋকবেদ ও খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সাল হইতে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালের ভিতরে তিনটি যজু, অথর্ব ও সামবেদ, আরণ্যক ইত্যাদি রচিত হইয়াছিল। এই সময়কালকে ক্রমে আদি-বৈদিক যুগ ও বৈদিক যুগ বলা হয়। ইহার পরবর্তী সময়ে রামায়ণ-মহাভারত মহাকাব্যদ্বয় রচিত হইয়াছিল। রামায়ণ ও মহাভারত ভারতবাসীর সাংস্কৃতিক জীবনে প্রভাব ফেলিয়াছিল। এই কাব্য দুইটি পৃথিবীর বৃহত্তম কাব্য। মহাকাব্য দুইটির চরিত্রসমূহ ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতীক বলিতে পারি। 

ভারতের প্রাচীনতম ধর্মীয় পরম্পরাতে উপাস্য দেবতার বিবিধতা দেখা যায়। ধর্মীয় পরম্পরা নতুন নতুন বিশ্বাস, রীতি-নীতির ক্ষেত্রে সহবর্তিতা, সংযোজন ও সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে এক দ্বিধাহীন নীতি গ্রহণ করিয়াছিল। এই সময়কালে কতগুলি পরস্পরবিরোধী মূল দর্শন উদ্ভাবন হওয়া সত্ত্বেও বৌদ্ধ-জৈন ধর্মের সঙ্গে বৈদিক হিন্দু ধর্মের সংঘর্ষ হয় নাই। আবার হিন্দু ধর্মের মধ্যেও অনেক পন্থার উদ্ভব হইয়াছিল। 

আবার পরবর্তী কালের রাজবংশ ধর্মীয় রীতি-নীতির পৃষ্ঠপোষকতা করা দেখা যায়। অশোকে দেওয়ালে ধর্মীয় বাণীসমূহ লিখিয়া ধর্মের বাণী প্রচার করিয়াছিল। পরবর্তী কালে আবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত হইতে ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি আদি ধর্মীয় লোক ভারতে আসিয়াছিল। ভারতের বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসী জনজাতীয় লোক দেখা যায়। 

প্রশ্ন ৪। অসমের চিত্রকলার বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : চিত্রকলাতে অসম অতীত কাল হইতেই উন্নত। খ্রিস্টিয় সপ্তদশ শকিতা হইতে অসমিয়া চিত্রকলার উন্নতি হওয়া দেখা যায়। মধ্যযুগে সাঁচিপাতায় অংকিত নানা চিত্রকলার নিদর্শন পাওয়া যায়। মধ্যযুগে বিশেষ করিয়া বিভিন্ন গ্রন্থ সাঁচিপাতায় রচনা করা দেখা গিয়াছে। গ্রন্থসমূহের সঙ্গে সাঁচিপাতায় নানা ধরণের চিত্রও অংকন করা দেখা যায়। মধ্যযুগে রচিত তেমন চিত্র অংকিত গ্রন্থসমূহের ভিতরে হস্তীবিদ্যার্ণব, চিত্র-ভাগবত আদি উল্লেখযোগ্য। চিত্রসমূহ অংকন করিতে নানা ধরণের রং ব্যবহার করিয়াছিল। স্বৰ্গদেউ শিবসিংহের দিনে সুকুমার বড়কাইথে দিলবর ও দোসাই নামের দুইজন চিত্রকর অপূর্ব রঙের সমাহার ঘটাইয়া গ্রন্থটি মনোরম করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৫। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক সাধারণ আলাদা পরিচয় কীভাবে সৃষ্টি হইয়াছে? 

উত্তর : ভারতবর্ষের উত্তর-পূর্বে থাকা অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মেঘালয়কে লইয়া উত্তর-পূর্বাঞ্চল গঠিত হইয়াছে। এই সমগ্র অঞ্চলটির কতগুলি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের জন্য অঞ্চলটি এক অসাধারণ পরিচয় লাভ করিয়াছে।

 উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক অসাধারণ পরিচয় লাভ করার মূলেই হইল ইহার ভৌগোলিক পরিস্থিতি। অসমের চারিদিকে কয়েকটি রাজ্য আছে। আবার অসমকে ধরিয়া সবকয়টি রাজ্যের চারিদিকে আছে চীন, ম্যানমার ও বাংলাদেশ। অসমের চারিদিকে থাকা রাজ্য কয়টির কেন্দ্রস্থল হইল অসম। অসমের দুইটি নদী ক্রমে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদীর উপকূল অঞ্চল উর্বর। খ্রিস্টিয় চতুর্থ শতিকাতে বর্মন বংশের প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর হইতেই প্রাচীন অসমের রাজনৈতিক ইতিহাস উদ্ধার হইয়াছে। অসমে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাশালী রাজার রাজত্বকালে আশে-পাশের রাজ্যের রাজাসকল আনুগত্য স্বীকার করিয়াছিল। 

এই অঞ্চলের রাজপরিবারের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হইয়াছিল, বিপদের সময়ে সামরিক সাহায্য আদান-প্রদান হইয়াছিল, সামগ্রীর আদান-প্রদান হইয়াছিল। এইভাবে অঞ্চলটির ঐক্যবোধ গঢ়িয়া উঠিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৬। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যসমূহের ধর্মীয় বাতাবরণের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ।

উত্তর : ব্রিটিশসকলের আগমনের পর হইতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশেষ করিয়া পাহাড়ি রাজাকাটিতে খৃষ্টান ধর্মের প্রভাব পরা দেখা যায়। 

আর্য সংস্কৃতি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে হিন্দু ধর্মের সংস্পর্শে আসিয়া অসমের ধর্মীয় পরম্পরার সঙ্গে সংমিশ্রিত হইয়াছিল। ফলস্বরূপে অসমে ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্ম হইতে হিন্দু ধর্ম অতি প্রাচীনকাল হইতে গা করিয়া উঠিয়াছিল। অবশ্যে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের লোকের সংখ্যাও না থাকা নয়। বিশেষ করিয়া জনজাতিসকলের মধ্যে খ্রিস্টান লোকের সংখ্যা অধিক। অরুণাচলের বহু লোক এখন খ্রিস্টান, হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের লোক। ত্রিপুরাতেও প্রাচীন কালে হিন্দু ধর্মের প্রসার ঘটিয়াছিল যদিও খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকও না থাকা নয়। নাগাল্যাণ্ডের অধিক সংখ্যক লোক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী, ইহারা ডিসেম্বর মাসের প্রথম দশটি দিনে ‘হর্ণবিল’ উৎসব পালন করে ও ধনেশ পক্ষীর নামে এই উৎসবটি পালন করে। মণিপুর রাজ্যে চৈতন্যপন্থী লোক অধিক ত্রিপুরার অধিক সংখ্যক লোক হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীয় উপাদানের দ্বারা ত্রিপুরাতে এক সংমিশ্রিত সংস্কৃতি দেখা যায়। মেঘালয়ে প্রায় সত্তর শতাংশই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী লোক।

প্রশ্ন ৭। “অসমে আর্য-অনার্য সকলের সমন্বিত অবদানের দ্বারা এক সংমিশ্রিত সংস্কৃতির উৎপত্তি হইয়াছে”— এই প্রসংগটি সংক্ষেপে আলোচনা কর। 

উত্তর : ভারতবর্ষে যেভাবে বিশ্বের নানা জাতি – প্রজাতির লোক আসিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করিতেছিল, ঠিক তেমনি অসমেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতি জনজাতির লোক আসিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করিতেছিল ও ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর রীতি-নীতি, সমাজ- ব্যবস্থা, কৃষ্টি-সভ্যতা ইত্যাদির এক মিশ্রিত রূপ গড়িয়া উঠিয়াছিল। ভারতবর্ষে বসবাস করা প্রধান নৃ-গোষ্ঠীকয়টির নৃ-গোষ্ঠীয় লোক অসমেও দেখা যায়। ফলস্বরূপে অসমে আর্য-অনার্য সকলের সমন্বিত অবদানে এক মিশ্রিত সংস্কৃতির উৎপত্তি হইয়াছিল। আর্য ও অনার্য লোকের মিশ্রিত সাংস্কৃতিক সম্ভারেই হইল অসমিয়া সমাজ ও সংস্কৃতির মূল ভিত্তি। 

প্রশ্ন ৮। অসমের ধর্মীয় বিবিধতা ও সংহতির বিষয়ে লিখ।

উত্তর : উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যকরটির তুলনায় অসম একটি ধর্মীয় তথা সংস্কৃতির বিবিধতা দ্বারা পরিপূর্ণ দেশ। এখানে হিন্দু ধর্মের পরিপূর্ণ সংখ্যা অধিক। ইহার পরে আছে ইসলাম, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ ও জনজাতীয় ধর্মাবলম্বী লোক। এখানে মুখ্যতঃ শাক্ত ও বৈষ্ণবপন্থী লোকের সংখ্যা অধিক। অসমে কয়েক জায়গাতে শক্তিপীঠ আছে। ইহার ভিতরে কামাখ্যা মন্দির পৃথিবী বিখ্যাত। থ্রিস্তিয় চতুৰ্দশ শতিকাতে বৈষ্ণব আন্দোলন, হইতে বৈষ্ণবী ভক্তিমার্গে অনুগামী করিয়াছিল। ত্রয়োদশ শতিকাতে ইসলাম ধর্মের আগমন হওয়ার পর হইতে এই ধর্মের লোকের সংখ্যা ক্রমে বাড়িতে আরম্ভ করে। মানের আক্রমণের পর হইতে কিছু সংখ্যক শিখ ধর্মের লোকও অসমে স্থায়ীভাবে থাকিতে নওয়ায় এই ধর্মের লোকের সংখ্যা এখানে দেখা যায়।

বিভিন্ন সময়ে অসমে আসা ইসলাম, খ্রিস্টান, শিখ আদি ধর্মাবলম্বী লোক অসমে স্থায়ীভাবে থাকিতে আরম্ভ করার পর হইতে অসমের ভাষা-সংস্কৃতি গ্রহণ করিয়া জাতীয় জীবনের অংগীভূত হইয়া পরিয়াছে। মধ্যযুগের রাজ-পরিবারের উদার ধর্মনীতির ফলে অসমের পূর্ব অংশে টাই, নাগা, খামটি আদি জাতির লোক বসবাস করিয়া অসমের ভাষা- সংস্কৃতির সঙ্গে সংমিশ্রিত হইয়াছে।

প্রশ্ন ৯। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যকয়টির তুলনায় অসমে সাংস্কৃতিক বিবিধতার সংমিশ্রণ ও বিবর্তন প্রশস্ত কেন ?]

 উত্তর : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যকয়টির তুলনায় অসমে সাংস্কৃতিক বিবিধতার সংমিশ্রণ ও বিবর্তন অধিক প্রশস্ত হওয়া দেখা যায়। ইহার মূলে হইল অসমের প্রাকৃতিক সম্পদ তথা অসমের যাতায়াত, উর্বর ভূমি আদির সুচল ব্যবস্থা। কোন একটি জাতি বা জনগোষ্ঠী স্বতন্ত্ররূপে গড়িয়া উঠিতে পারে না। ঠিক তেমনি অসমিয়া সমাজটিও একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর লোকের দ্বারা গঠিত হয় নাই। অসমে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন সময়ে অসমে প্রব্রজন ঘটিয়াছিল, যার ফলে অসমিয়া সমাজে মিশ্রিত সংস্কৃতি গড়িয়া উঠিয়াছে।

 অসম প্রকৃতির লীলাভূমি। অসমের প্রাকৃতিক সম্পদরাজি ইহার চারিদিকের লোককে আকর্ষণ করিয়াছে। অসমের মধ্য দিয়া বহিয়া যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদী উপত্যকার বিশাল উর্বর ভূমিতে অসমের লোক ছাড়াও বিভিন্ন জাতি-জনজাতির লোক জীবিকার জন্য অতীত হইতে প্ৰব্ৰজন হইয়াছে। অসমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্ভারে আপ্লুত হইয়া সুদূর অতীত হইতে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর লোক বিভিন্ন উদ্দেশ্যে (প্রব্রজনকারী হিসাবে, আক্রমণকারী, তীর্থ ভ্রমণকারী) অসমে আসিয়া স্থায়ীভাবে বসতি করিতে লইয়াছে। ভারতবর্ষের প্রায় সবকয়টি নৃ-গোষ্ঠীর লোক অসমে আসার ফলস্বরূপে সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের প্রক্রিয়াতেও অসমে সুদূর অতীত হইতে ঘটিয়াছিল। 

অন্যদিকে অসমের চারিদিকে থাকা পাহাড়ি জনজাতীয় লোকের মধ্যে তেমন অন্য জাতি-জনজাতির লোকের রীতি-নীতি প্রতিটি রাজ্যে অনেক গোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। পাহাড়ি অঞ্চলের কষ্টসাধ্য জীবিকা ও জীবনযাত্রার জন্য ইহারা নিজ নিজ রাজ্যে কঠোর পরিশ্রম করিয়া জীবন নির্বাহ করে। 

প্রশ্ন ১০। ‘লোক-সংস্কৃতি অধ্যয়নের জন্য সমগ্র সমাজটিই একটি গ্রন্থের মত’- এই প্রসঙ্গে তোমার মন্তব্য দাও।

উত্তর : লোক-সংস্কৃতি হইল একটি জাতির জাতীয় জীবনের চলমান নদীর স্রোত। নদীর জল বহিয়া থাকার মত একটি সমাজের লোক সংস্কৃতি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলিতে থাকে। নদীর গতিপথের পরিবর্তনের মত সমাজ জীবনের লোক-সংস্কৃতিও পরিবর্তিত হয়। সমাজ প্রগতিশীল। আজকের সমাজ ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের লোক-সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হইবে। সমাজের আচার-ব্যবহার, খাওয়া-লওয়া, ধর্ম, খেলা-ধূলা, সাজ-পোশাক আদি লোক সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। লোক-সংস্কৃতি একটি জাতির নিজস্ব সম্পদ। লোক-সংস্কৃতি প্রধানতঃ জনসাধারণের জীবনের সহজ-সরল কৃষিজীবী লোকের জীবনের বহিঃপ্রকাশ। ইহা একটি জাতির সমগ্র সৃষ্টি প্রতিভাকে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথমে মানুষেরা পশুত্বের জীবনযাপন করিয়াছিল। কিন্তু সময়ের স্রোতে মানুষ উন্নত জীবনযাপন করিতে লাগিল। সঙ্গে সঙ্গে মানুষের লোক-সংস্কৃতিরও উন্নতি হইতে আরম্ভ করে। মানুষের মনে খেলা-ধূলা, সাজ- পোশাক ইত্যাদির উন্নত ভাবের উদয় হইল। মানুষ সমাজ পাতিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস করিতে লাগিল। মানুষের সামাজিক জীবনের মানদণ্ড উন্নতি হওয়ার সঙ্গে লোক-সংস্কৃতিও উন্নত হইতে আরম্ভ করিল। বলিতে হইবে যে লোক-সংস্কৃতি একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি।

 প্রশ্ন ১১। অসমিয়া সংস্কৃতিতে বিহুর অবদান সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : অসমীয়া সংস্কৃতিতে বিষ্ণুর অবদান অপরিসীম। এই উৎসব বর্তমানে শুধু হিন্দু অসমীয়াদের উৎসব হিসাবে বিবেচিত হয় না। হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান সকল জাতির প্রাণ বিহুর গান এবং নৃত্যে নাচিয়া উঠে। কারণ এই বিহুর মধ্যেই লুকাইয়া আছে। অসমের মানুষের আচার-আচরণ-বিশ্বাস এবং কৃষ্টি বা সংস্কৃতি। 

বিছ অসমের এক প্রিয় উৎসব। বৈশাখ, কার্তিক এবং মাঘ মাসে যথাক্রমে রঙ্গালী বিহু, কাঙালী বিহু এবং ভোগালী বিহু এই নামে পৃথক নীতি-নিয়ম সহকারে বিশ্বর উৎসবগুলি পালিত হয়। 

রঙালী বিহু চৈত্র মাসের শেষ দিন হইতে আরম্ভ হয়। এই দিনটিতে গরু বিহু পালন করা হয়। কৃষিজীবী মানুষের কাছে গরু একটি অপরিহার্য প্রাণী। কৃষিক্ষেত্রে গরুর উপকারিতা যথেষ্ট পরিমাণে রহিয়াছে। গরু শুধু কৃষি কাজের জন্য অসমিয়াদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র নহে, হিন্দুরা ইহাকে দেবতা হিসাবেও পূজা করে। সুতরাং চৈত্র সংক্রান্তির দিন হিন্দুরা গরুকে শ্রদ্ধা করিয়া গরু বিহু হিসাবে ঐ দিনটি পালন করে। তারপর ছয় দিন ধরিয়া বিহু নাচ, গান ইত্যাদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলিতে থাকে।

 কার্তিক মাসে কাতি বিহু বা কঙালী বিহু ধর্মীয় আচার বিধি মানিয়া অনারম্বরে পালিত হয় এবং মাঘ মাসে মাঘ বিহু বা ভোগালী বিহু ধর্মীয় প্রথায় পালন করা হয়। এই বিহু পিঠা, পায়েস, মাছ, মাংস ইত্যাদি খাদ্যের মাধ্যমে খুব আনন্দে পালিত হয়।

তিনটি বির সঙ্গে বিষুবীয় আবহাওয়ার সম্বন্ধ আছে। তিনটি বিহু সূর্যের তিনিটা বিশেষ অবস্থান কালে পালিত হয়। তবে বহু পণ্ডিতের মতে বিহু ‘বিষুব’ শব্দ হইতেই উৎপত্তি হইয়াছে। এই উৎসবের আচার-অনুষ্ঠান, নাচ-গান ইত্যাদি বিচার করিয়া দেখিলে বলা যায় যে বিহু মূলতঃ কৃষি উৎসব। কারণ কৃষিকে কেন্দ্র করিয়া এই উৎসবের সৃষ্টি হইয়াছে।

 বিহু গান এবং বিহু নাচ অসমীয়া সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ। বিহু অনুষ্ঠানের মধ্যে। যুবক-যুবতীর দ্বারা অনুষ্ঠিত নৃত্য-গীত শক্তি এবং মুক্তির বাণী বহন করে। বিহু যেন অসমীয়া সমাজে এক শান্তির দূত। 

সং2ক্ষিপ্ত টীকা

(ক) প্রাচীন ভারতের ভাস্কর্য শিল্প : ভারতের ভাস্কর্য শিল্প খুবই পুরোনো। ভারতের ভাস্কর্য শিল্প বলিতে সিন্ধু সভ্যতার ভাস্কর্য শিল্পের কথাই প্রথমে বলিতে হইবে। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে নানা দেব-দেবীর মূর্তি, পোশাক, অলংকার দ্বারা নির্মিত মূর্তি দেখিতে পাওয়া যায়। আবার এই মূর্তিগুলিতে মানুষের সুখ-দুখ, শান্তি আদি . অনুভূতিপূর্ণ মুখার আবৃত বিভিন্ন মূর্তি দেখা যায়। গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর, হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি ভাস্কর্যসমূহের ভিতরে দেখা যায়। গান্ধার শিল্পকলা মথুরা শিল্পকলা, অমরাবতী শিল্পকলা পুরোনো ভারতীয় ভাস্কর্য-শিল্প কলার নিদর্শন। 

(খ) ভারতীয় চিত্রকলা : প্রাচীন যুগ হইতে ভারত চিত্রকলাতে উন্নত। পুরোনো চিত্রকলার ভিতরে অজন্তা ও ইলোরার গুহা চিত্রকলা অন্যতম। সুলতানী যুগের চিত্রকলাতে পার্সি চিত্রকলার প্রভাব দেখা যায়। মধ্যযুগে ‘সাঁচিপাতে’ কিছু গ্রন্থ সুন্দর, সুন্দর চিত্রাংকনের দ্বারা সাজাইয়া তোলা হইয়াছিল। ‘হস্তীবিদ্যার্ণব’ ইহার অন্যতম নিদর্শন। উক্ত গ্রন্থটিতে দিলবর ও দোসাই নামের চিত্রকর দুইজন অপূর্ব রঙের সমাহারেরে সুন্দর সুন্দর ছবি দ্বারা সাজাইয়া তুলিয়াছিল। 

(গ) ভারতের সংগীত :নৃত্যকলার ঐতিহ্য : ভারতে সংগীত-চৰ্চা বৈদিক যুগ হইতে চলিয়া আসিতেছে। ভারতের ধ্রুপদী সংগীতের পরম্পরা বর্তমান পর্যন্ত চলিতেছে। ধ্রুপদী সংগীতের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকারের বাদ্যযন্ত্র, যেনে— ঢোল, পেপা, তাল, নাগারা আদি সংগত করিতে উদ্ভাবন করা হইয়াছিল। সংগীতের মত ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গাতে ধ্রুপদী নৃত্যেরও ‘প্রচলন ছিল। ভারতবর্ষে বর্তমান আঠ প্রকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ধ্রুপদী নৃত্য আছে। সেই আঠ প্রকার নৃত্য হইল— কথাকলি নৃত্য, মোহিনী আট্রম, ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ী, ওডিসি, কথক, সত্রীয়া ও মণিপুরী নৃত্য। 

(ঘ) অসমের ভাস্কর্য : অসমে আহোম যুগের আগের কিছু ভাস্কর্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। গুপ্তযুগের ভাস্কর্য তাহার প্রমাণ। আহোম যুগের ভাস্কর্য শিল, ইট, কাঠ ও ধাতু— এই তিনটির উপরে করা হইয়াছিল। কোন কোন জায়গাতে ঐতিহাসিক ব্যক্তির চিত্রও কাটা হইয়াছিল। ইহা ছাড়াও বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, যেমন—শিব, বিষ্ণু, গণেশ কাঠ আদির দ্বারা নির্মাণ করা হইয়াছিল। 

আহোম যুগের পোড়া মাটির ভাস্কর্যও উল্লেখনীয়। ইট তৈরি করার সময়ে ফুল-লতা আদি সাঁচে ঢালিয়া বানানো হইয়াছিল। পরে সেইগুলি পাকা করিয়া যথাস্থানে রাখিয়া মনের মত ফুল-লতা গড়িয়া লওয়া হয়। রংঘর ও তলাতল ঘরে এমন ইট দেখিতে পাওয়া যায়। মদন কামদেব মন্দিরে থাকা মৈথুন মূর্তিগুলি কোনো তান্ত্রিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হইয়াছিল বলিয়া মত পোষণ করা দেখা যায়।

 (ঙ) অসমের স্থাপত্য শিল্প  আহোম যুগের স্থাপত্যের চানেকি বর্তমানেও অক্ষত অবস্থাতে দেখিতে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক সম্পদ হারাইয়া গিয়াছে যদিও রংঘর, তলাতল ঘর, কারেং ঘর আদি সেই যুগের স্থাপত্যবিদ্যার নিদর্শন তুলিয়া ধরিয়াছে। এই যুগে নির্মিত শিবদৌল, জয়দৌল, দেবী দৌল, ফাকুয়া দৌল আদি আহোম যুগের স্থাপত্য শিল্পের অন্য এক স্থাপত্যবিদ্যার প্রমাণ তুলিয়া ধরিয়াছে। এই যুগে নির্মিত কামাখ্যা মন্দির, উগ্রতারা মন্দির, হাজোর মন্দির আদিতে নাগর শৈলীর অথবা বেসর শৈলীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ইট আদি গাথিতে অসমে নিজস্ব পদ্ধতির শোলমাছ, ডিম, বরা চাউল আদির করাল তৈরি করা হইয়াছিল। 

(চ) অসমের বৈষ্ণবী সাহিত্য : প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থসমূহের ভাবানুবাদ ও ছায়ানুবাদ লইয়াই বৈষ্ণব সাহিত্য গড়িয়া উঠিয়াছে। পঞ্চদশ শতিকাতে শঙ্করদের ও মাধবদেবের নেতৃত্বে গড়িয়া উঠা নব বৈষ্ণব আন্দোলন সেই যুগের অসমিয়া সাহিত্যে এক আলোড়নের সৃষ্টি করিয়াছিল। শঙ্করদেব, মাধবদের আদি সেই যুগের ধর্মগুরুসকলের সাহিত্য ছিল রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ আদি সংস্কৃত গ্রন্থসমূহের অসমিয়া অনুবাদ। রামায়ণ-মহাভারতকে কেন্দ্র করিয়াই শঙ্করদেবে ‘কীর্তন’ পুথি ঘড়াও ছ্যাটি অঙ্কীয়া নাটক রচনা করিয়াছিল। ঠ তেমনি মাধবদেবের ‘নামঘোষা’ ও বরগীতগুলি অসমিয়া বৈষ্ণবী সাহিত্যের ভাণ্ডার উন্নত করিয়াছে। খ্রিস্টিয় ত্রয়োদশ শতিকার শুরুতে মাধব কন্দলি মূল রামায়ণটি অসমিয়া ভাষার অনুবাদ করিয়াছিল। শুরু দুইজনের পরেও বৈকুণ্ঠনাথ ভাগবত ভট্টাচার্য ‘কথা ভাগবত’ ও ‘কথাগীতা’ রচনা করিয়া অসমিয়া গদ্য সাহিত্যের সূচনা করে। অনন্ত কন্দলি, রাম-সরস্বতী ইত্যাদি বৈষ্ণব কবিরাও বৈষ্ণমী সাহিত্য রচনা করিয়াছিল। 

(ছ) অসমের লোক-সংগীত : অতীত হইতে অসমে প্রয়োজনবোধে কিছু লোক- সংগীত প্ৰচলিত হইয়া আছে। সেই গুলির ভিতরে আইনাম, ধাইনাম, লখিমী-সবাহের নাম, নিচুকনি গীত, কামরূপী লোকগীত, গোয়ালপরিয়া লোকগীত, দরঙী গীত, টোকারী গীত আদি প্রধান। জীবনের সুখ-দুখ, আনন্দ-চিন্তা আদির উপরেও গোয়ালপরিয়া লোকগীত, কামরূপী লোকগীত, টোকারী গীত গাওয়া হয়। এই গীতগুলির উপরে জনপ্রিয়তা অর্জন করাসকল হইল— রামেশ্বর পাঠক, খগেন মহন্ত ও প্রতিমা পাণ্ডে। ইহাদের ভিতরে প্রতিমা পাণ্ডে বরয়াকে পদ্মশ্রী উপাধি দ্বারা সম্মানিত করা হইয়াছিল।

(জ) অসমের ধর্মীয় সংহতি : ধর্ম সংস্কৃতি বিকাশের একটি মূলবস্তু। ধর্মকে কেন্দ্র। করিয়াই সাহিত্য, সংগীত, ভাস্কর্য, স্থাপত্য আদির বিকাশ ঘটিয়াছে। এক কথায় বলিতে গেলে ধর্ম হইল প্রকৃত অর্থে মানবীয় গুণের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যম।

 অসমে সকল ধর্মের মানুষ আছে। তার ভিতরে হিন্দু ধর্মের লোক অধিক। তার পরে ইসলাম, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ আদি জনজাতীয় ধর্মাবলম্বী লোকও আছে। ছিল ধর্মের ভিতরে আবার শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব ও সৌরপন্থী লোক আছে। অসমের বিভিন্ন জায়গায় শক্তিপীঠ আছে। তাহার ভিতরে কামাখ্যা মন্দির পৃথিবী বিখ্যাত। সেইভাবে হাজোর পোয়ামক্কা ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান। ইহা ছাড়াও শিখ ধর্মের সঙ্গে অসমের পূর্ব অংশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকও আছে।

 (ঝ) অসমের বুরঞ্জী সাহিত্য : অসমের বুরঞ্জী সাহিত্য আহোমসকলের শ্রেষ্ঠ অবদান। বলিতে পারি। স্বৰ্গদেউ চুকাফা তাহার সঙ্গে আসা পণ্ডিতকে বুরছী লিখিতে নির্দেশ দিয়াছিল। তারপর মধ্যযুগে আহোম ডা-ডাঙরীয়াসকলের পৃষ্ঠপোষকতাতে প্রথমে আহোম ভাষাতে বুরঞ্জী লিখিয়াছিল। কিন্তু ষোড়শ শতিকার মধ্যভাগে অসমিয়া ভাষাতে বুৰঞ্জী রচিত হইতে আরম্ভ করে। আহোম যুগের বুরঞ্জী অনেক। ‘পুরণি অসম বুরঞ্জী’, ‘সাতসরী অসম বুৰঞ্জী’, ‘তুংযুতীয়া বুৰঞ্জী’, ‘দেওধাই বুরজী’ আদি ব্রিটিশ রাজত্বকালে ছাপা হইয়াছিল। 

(ঞ) বিহু উৎসব : বহু অসমের জাতীয় উৎসব। বিহু বলিতে আমরা তিনটি সময়ে তিনটি বিহুর কথা বুঝি— রঙালী বিহু, কঙালী বিহু ও ভোগালী বিহু।

 চৈত্র ও বৈশাখ মাসের সংক্রান্তির দিন বহাগ বিহু হয়। বহাগ বিহুর প্রথম দিন গরু বিহু। দ্বিতীয় দিন মানুষ বিহু। সেইদিন ছোটরা বড়দের প্রণাম করিয়া আশীর্বাদ লয়। – স্বজনের মধ্যে বিহুয়ানের আদান-প্রদান চলে। দুপড়ে নামঘরে নাম-কীর্তন হয়। বিকালে যুবক-যুবতীরা ঘরে ঘরে গিয়া বিহু নৃত্য, বিহু চরি গায়। প্রায় একমাস ধরিয়া বহাগ বিহু উৎসব পালন করা হয়। 

আশ্বিন ও কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন কাতি বিহু হয়। কাতি বিহুর দিন হিন্দুরা তুলসীর কাছে শরাই ও প্রদীপ জ্বলায়। শস্যক্ষেত্রেও নৈবেদ্য দিয়া প্রদীপ জ্বলায়। কাতি বিহুতে খাদ্য সামগ্রীর অভাব হয় জন্য ইংকে কালী বিহু বলা হয়। 

পৌষ ও মাঘ মাসের সংক্রান্তির দিন মাঘ বিহু হয়।

মাঘ বিহুতে খাদ্য-সামগ্রীর অভাব। থাকেনা। সেইজন্য এই বিহুকে ভোগালী বিহুও বলা হয়। ছেলেরা বিহুর কিছুদিন আগে মেজিঘর বানায় ও বিহুর দিন মেজি জ্বলায়। মেজির আগুনে চাউল, তিল আদি দিয়া অগ্নি সেবা করে। আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে।

Leave a Reply