SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-4| স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-4| স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-4| স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-4| স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় 8 

স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমের জাতীয় জাগরণ 

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর : 

প্রশ্ন ১। অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভা’র মুখপত্র ছিল—

(খ) বিলাসিনী

(ক) আসাম বন্ধু 

(গ) বিজুলী 

(ঘ) জোনাকী:

 উত্তর : (খ) জোনাকী

প্রশ্ন ২। নীচের কে ‘জোনাকী’র প্রথম সম্পাদক ছিলেন—

(ক) হেমচন্দ্র বরুয়া

(খ) চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা

(গ) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী 

(ঘ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া

উত্তর : (খ) চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা 

প্রশ্ন ৩। অঙ্গ ছাত্র সম্মিলন’ গঠিত হইয়াছিল— 

(ক) ১৯১৪ সালে

(খ) ১৯১৬ সালে

(গ) ১৯১৭ সালে 

(ঘ) ১৯১৫ সালে 

উত্তর : (খ) ১৯১৬ সালে

প্রশ্ন ৪। অসম ছাত্র সম্মিলনের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি ছিল – 

(ক) চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা

(খ) কনকলাল বরুয়া

(গ) হেমচন্দ্ৰ গোস্বামী 

(ঘ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া 

উত্তর : (ঘ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া

 প্রশ্ন ৫। চীন-ভারতের যুদ্ধ কখন হইয়াছিল?

(ক) ১৯২৩ সনে 

(খ) ১৯৬২ সনে 

(গ) ১৯৪৮ সনে 

(ঘ) ১৯৪২ সনে 

উত্তর : (খ) ১৯৬২ সনে।

প্রশ্ন ৬। গুয়াহাটী বিশ্ববিদ্যালয় কখন স্থাপিত হয়? 

(ক) ১৯৪৭ সনে 

(খ) ১৯৪৮ সনে 

(গ) ১৯১৯ সনে

(ঘ) ১৯২০ সনে 

উত্তর : (খ) ১৯৪৮ সনে। 

প্রশ্ন ৭। ১৯০৩ সালে কে অসম অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছিল? 

(ক) পদ্মনাথ গোহাঁই বরুয়া 

(খ) হেমচন্দ্ৰ গোস্বামী 

(গ) নবীন চন্দ্র বরদলৈ 

(ঘ) মাণিক চন্দ্র বরুয়া 

উত্তর : (ঘ) মাণিক চন্দ্র বরুয়া। 

প্রশ্ন ৮। আসাম অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশন ১৯০৫ সালে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল ? 

(ক) শিবসাগরে

(খ) যোরহাটে 

(গ) ডিব্রুগড়ে 

(ঘ) গোলাঘাটে

উত্তর : (গ) ডিব্ৰুগড়ে

প্রশ্ন ৯। ‘জ্ঞান প্রদায়িনী’ সভা প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল –

(ক) ১৮৫৬ সালে

(খ) ১৮২৬ সালে 

(গ) ১৮৫৭ সালে

(ঘ) ১৮৩৭ সালে 

উত্তর : (গ) ১৮৫৭ চনত 

প্রশ্ন ১০। ‘অসমিয়া লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল- 

(ক) ১৮৭২ সালে 

(খ) ১৮৭১ সালে 

(গ) ১৮৭৪ সালে 

(ঘ) ১৮৭৩ সালে 

উত্তর : (ক) ১৮৭২ সালে 

প্রশ্ন ১১। ‘অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল— 

(ক) ১৮৫৭ সালে

(খ) ১৮৮৮ সালে 

(গ) ১৮৮৭ সালে 

(ঘ) ১৮৭৭ সালে 

উত্তর : (খ) ১৮৮৮ সালে 

প্রশ্ন ১২। ‘হেমকোষে’র প্রণেতা— 

(ক) হেমচন্দ্ৰ গোস্বামী 

(গ) হেমচন্দ্র বরুয়া

(খ) চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা

(ঘ) রমাকান্ত বরকাকতী 

উত্তর : (গ) হেমচন্দ্র বরুয়া

প্রশ্ন ১৩। হেমচন্দ্র বরুয়ার “হেমকোষ” প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া অনুষ্ঠানটি ছিল— 

 (ক) জ্ঞান প্রদায়িনী সভা 

(খ) অসমীয়া লিটারারি সোসাইটি

(গ) অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধনী সভা

(ঘ) অসম অ্যাসোসিয়েশন 

উত্তর : অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধনী সভা 

প্রশ্ন ১৪। ‘বীণ ৰ’রাগী’ কে রচনা করিয়াছিলেন? 

(ক) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া 

(গ) কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

(খ) কণকলাল বরুয়া 

(ঘ) অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী 

উত্তর : (ক) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া।

প্রশ্ন ১৫। ১৯২১ সনের জুন মাসে গঠিত হওয়া অসম প্রদেশ কংগ্রেসের কমিটির সভাপতি কে ছিলেন? 

(ক) কুলধর চলিহা 

(খ) গৌপানাথ বরদলৈ

(গ) নবীন চন্দ্র বরদলৈ

(ঘ) বিষ্ণুরাম মেধি 

উত্তর : (ক) কুলধর চলিহা

প্রশ্ন ১৬। অসম প্রদেশ কংগ্ৰেছ কমিটির আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়া প্রথম সভাপতি কে ছিলেন ?

(ক) সিদ্ধিনাথ শৰ্মা 

(গ) কুলধর চলিহা 

(খ) বিষ্ণুরাম মেধি 

(ঘ) মৌলানা তৈয়বুল্লা 

উত্তর : (খ) বিষ্ণুরাম মেধি। 

প্রশ্ন ১৭। শিলচর মেডিকেল কলেজ কখন স্থাপিত হইয়াছিল?

(ক) ১৯৬০ সনে 

(খ) ১৯৬৮ সনে 

(গ) ১৯৫৯ সনে 

(ঘ) ১৯৪৭ সনে 

উত্তর : (খ) ১৯৬৮ সনে। 

প্রশ্ন ১৮। ‘অসম অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন হইয়াছিল— 

(ক) ১৮৮৬ সালে 

(খ) ১৯০০ সালে

(গ) ১৮৫৮ সালে 

(ঘ) ১৯০৩ সালে 

উত্তর : (ঘ) ১৯০৩ সালে

প্রশ্ন ১৯। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠন হইয়াছিল— 

(ক) ১৮৮৫ সালে

(খ) ১৮৮৭ সালে 

(গ) ১৮৮০ সালে

(ঘ) ১৮৫৭ সালে 

উত্তর : (ক) ১৮৮৫ সালে 

প্রশ্ন ২০। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৪১তম বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইয়াছিল—

 (ক) যোরহাটে

 (খ) শিবসাগরে

 (গ) গুয়াহাটিতে 

 (ঘ) তেজপুরে

 উত্তর : (গ) গুয়াহাটিতে 

প্রশ্ন ২১। বঙ্গ বিভাজন হইয়াছিল— 

(ক) ১৯০০ সালে 

(খ) ১৯০৫ সালে 

(গ) ১৯১২ সালে

(ঘ) ১৯২১ সালে

 উত্তর : (খ) ১৯০৫ সালে

 প্রশ্ন ২২। পূর্ববঙ্গ ও অসমকে লইয়া গঠন করা নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল—

(ক) সিলেট

(খ) করিমগঞ্জ 

(গ) ঢাকা 

(ঘ) শ্বিলঙ

উত্তর : (গ) ঢাকা 

প্রশ্ন ২৩। আইন অমান্য আন্দোলন’ হইয়াছিল— 

(ক) ১৯২১ সালে

(খ) ১৯৩০ সালে

(গ) ১৯৪২ সালে 

(ঘ) ১৯৩৫ সালে 

উত্তর : (খ) ১৯৩০ সালে 

প্রশ্ন ২৪। গান্ধীজি অসম ভ্রমণ করিয়াছিল- 

 (ক) ১৯২১ সালে

 (খ) ১৯৩০ সালে

 (গ) ১৯১১ সালে

 (ঘ) ১৯২০ সালে 

উত্তর : (খ) ১৯৩০ সালে 

প্রশ্ন ২৫ বঙ্গ বিভাজন করিয়াছিল—

(ক) লর্ড রিপন 

(খ) লর্ড কেনিও 

(গ) লর্ড লিটন 

(ঘ) লর্ড কার্জন 

উত্তর : (ঘ) লর্ড কার্জন

প্রশ্ন ২৬। ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন হইয়াছিল-

 (ক) ১৯৪২ সালে

 (খ) ১৯৪৭ সালে

 (গ) ১৯৪৬ সালে

 (ঘ) ১৯৩০ সালে

উত্তর : (ক) ১৯৪২ সালে 

প্রশ্ন ২৭। কনকলতা বরনা প্রাণ আহুতি দিয়াছিল—

 (ক) স্বদেশী আন্দোলনে 

 (খ) ভারত ত্যাগ আন্দোলনে

 (গ) আইন অমান্য আন্দোলনে 

 (ঘ) অসহযোগ আন্দোলনে

 উত্তর : (খ) ভারত ত্যাগ আন্দোলনে 

প্রশ্ন ২৮। ‘কানিংহাম সার্কুলার জারি করিয়াছিল— 

(ক) লর্ড কার্জন 

(খ) আর.জে. কানিংহাম

(গ) লর্ড ডালহৌসি 

(ঘ) লর্ড মাউন্টবেটেন 

উত্তর : (খ) আর.জে. কানিংহাম

প্রশ্ন ২৯। ‘অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল— 

(ক) ১৯৪৭ সালে 

(খ) ১৯৪৯ সালে 

(গ) ১৯৪৮ সালে

(ঘ) ১৯৬৯ সালে

উত্তর : (ঘ) ১৯৬৯ সালে

প্রশ্ন ৩০। পাণ্ডু জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিল— 

(ক) নবীন চন্দ্র বরদলৈ

(খ) শ্রীনিবাস আয়েংগার 

(গ) বিষ্ণুরাম মেধি 

(ঘ) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী 

উত্তর : (খ) শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার 

প্রশ্ন ৩১। ‘পূর্ণ স্বরাজ’ বা ‘সম্পূর্ণ স্বাধীনতা’ কংগ্রেসের মূল লক্ষ্যরূপে বিবেচিত হইয়াছিল। 

(ক) লাহোর কংগ্রেস অধিশেনে 

(খ) কংগ্রেস অধিবেশনে

(গ) পাণ্ডু কংগ্রেস অধিবেশনে 

(ঘ) বম্বে কংগ্রেস অধিবেশনে 

উত্তর : (ক) লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে 

প্রশ্ন ৩২। গুয়াহাটীতে তিলক স্মৃতি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল-

(ক) ১৯২১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে 

(খ) ১৯২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে

(গ) ১৯৩০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে

(ঘ) ১৯৩৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। 

উত্তর : (ক) ১৯২১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে 

প্রশ্ন ৩৩। ‘আগস্ট ক্রান্তি মৈদান’ কোথায় অবস্থিত?

(ক) মুম্বাইতে 

(খ) মাদ্রাজে

(গ) কলকাতায় 

(ঘ) দিল্লীতে সালে

 উত্তর : (ক) মুম্বাইতে।

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

প্রশ্ন ১। ইয়াণ্ডাবু সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৮২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষর হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ২। কোম্পানির আমোল বলিতে কোন্ সময়কে বুঝানো হয়? 

উত্তর : ১৮২৬ সাল হইতে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত সময়কে কোম্পানির আমোল বলা হয়। 

প্রশ্ন ৩। অসমে বাংলা ভাষার প্রচলন কবে হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৮৩৭ সাল হইতে। 

প্রশ্ন ৪। বাংলা ভাষার জায়গায় অসমে অসমিয়া ভাষার পুনর প্রচলন কৰে হইয়াি

 উত্তর : ১৮৭৩ সালে।

প্রশ্ন ৫। অরুণোদয় পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিল? 

উত্তর : ড° নাথান ব্রাউন।

 প্রশ্ন ৬। ‘আগস্ট ক্রান্তি মৈদান’ কোন রাজ্যে অবস্থিত ?

 উত্তর : ‘স্বাগষ্ট ক্রান্তি মৈদান’ মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। মুম্বাইয়ের গোয়ালিয়া টেঙ্ককে বর্তমানে আগস্ট ক্রাস্তি মৈদান রূপে জানা যায়।

প্রশ্ন ৭। ‘বন্দিনী ভারত’ নাটকটি কে রচনা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : ‘বন্দিনী ভারত’ নাটকটি অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী রচনা করিয়াছিলেন।

 প্রশ্ন ৮। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়টি কখন স্থাপন করা হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৪৮ সনের ২৬ জানুয়ারি গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয়খন স্থাপন করা হং যা ছিল। 

প্রশ্ন ৯। অসমের পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় বর্তমানে কোথায় অবস্থতি ?

উত্তর : অসমের পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়টি বর্তমান বানাপারায় (নিসপুরের নিকটে) অবস্থিত। 

প্রশ্ন ১০। আহোম সভা’র অন্যতম লক্ষ্য কি আছিল?

উত্তর : আহোম সভা’র অন্যতম লক্ষ্য ছিল আফিং বিরোধী আন্দোলন। 

প্রশ্ন ১১। কত সন হইতে কত সন পর্যন্ত অসমে কোম্পানীর দিন বা কোম্পানীর আমল বলিয়া ধরা হয়?

উত্তর : ১৮২৬ সন হইতে ১৮৫৮ সন পর্যন্ত সময় সীমাকে অসম কোম্পানীর দিন বা কোম্পানীর আমল বলিয়া ধরা হয়। 

প্রশ্ন ১২। ‘অসম ছাত্র সম্মিলনে’র মুখপত্রটি কি ছিল? 

উত্তর : মিলন।

প্রশ্ন ১৩। রায়ত সভাসমূহের মুখ্য উদ্দেশ্য কি ছিল? 

উত্তর ঃ রায়ত সভাসমূহের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কৃষকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা।।

প্রশ্ন ১৪। সদৌ অসম রায়ত সভার গঠন কৰে হইয়াছিল?

উত্তর : ১৯৩৩ সালে। 

প্রশ্ন ১৫। ‘আহোম সভা’র সম্পাদক কে ছিল ? 

উত্তর : পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া। 

প্রশ্ন ১৬। যোরহাট সার্বজনিক সভা কবে ও কার নেতৃত্বে গঠন হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৮৮৪ সালে, জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে। 

প্রশ্ন ১৭। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রথম সভাপতি ও সম্পাদক কে ছিল?

 উত্তর : সভাপতি কুলধর চলিহা ও সম্পাদক নবীন চন্দ্ৰ বৰদলৈ। 

প্রশ্ন ১৮। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত প্রথম সভাপতি কে ছিল?

উত্তর : বিষ্ণুরাম মেধি । 

প্রশ্ন ১৯। অসমের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ও কবে নির্বাচিত হইয়াছিল?

 উত্তর : গোপীনাথ বরদলৈ, ১৯৪৬ সালে। 

প্রশ্ন ২০। অসমে স্থাপিত হওয়া প্রথম জাতীয় অনুষ্ঠান কি? 

উত্তর ঃ তিলক স্মৃতি স্কুল। 

প্রশ্ন ২১। কুশল কৌয়রকে কি অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হইয়াছিল?

 উত্তর : বরপাথারে রেল দুর্ঘটনার অপরাধে।

প্রশ্ন ২২। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় কৰে স্থাপিত হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৯৪৮ সালে।

প্রশ্ন ২৩। অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কৰে নামাংকিত হয় ? 

উত্তর : ১৯৪৭ সালের ৩ নভেম্বর।

প্রশ্ন ২৪। গৌহাটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় কবে আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হয় ?

 উত্তর : ১৯৬০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। 

প্রশ্ন ২৫। ‘অসম ছাত্র সম্মিলনের প্রথম অধিবেশন কোথায়, কবে এবং কার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল?

উত্তর : গুয়াহাটিতে, ১৯১৬ সালে, লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার সভাপতিত্বে।

প্রশ্ন ২৬। সদৌ অসম রায়ত সভা’র দ্বিতীয় অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হইয়াছিল? 

উত্তর : দেরগাঁয়ে।

প্রশ্ন ২৭। অসম রায়ত সভার প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত “ইয়াছিল? 

উত্তর : যোরহাটের টিলিকি আমে। 

প্রশ্ন ২৮। ‘অসম রায়ত সভা’র প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করিয়াছিল ? 

উত্তর : নবীন চন্দ্র বরদলৈ।

পশ্ন ২৯। ‘আহোম সভা’ কত সালে গঠন হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৮৯৩ সালে। 

প্রশ্ন ৩০। যোরহাট সার্বজনিক সভা’র সভাপতি ও সচিব কে ছিল?

উত্তর : সভাপতি ছিল রাজা নরনারায়ণ সিংহ ও সচিব জগন্নাথ বরুয়া।

প্রশ্ন ৩১। অসমের প্রথম সার্বজনিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসাবে কাহাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়? 

উত্তর : যোরহাট সার্বজনিক সভা। 

প্রশ্ন ৩২। যোরহাট সার্বজনিক সভা গঠনের অন্তরালে থাকা একজন লোকের নাম লিখ? 

উত্তর : জগন্নাথ বরুয়া। 

প্রশ্ন ৩৩। ‘অসম অ্যাসোসিয়েশন কবে, কার নেতৃত্বে গঠিত হইয়াছিল ? [HSLC 2020 )

উত্তর : ১৯০৩ সালে, মাণিক চন্দ্র বরুয়ার নেতৃত্বে। 

প্রশ্ন ৩৪। অসম অ্যাসোসিয়েশনে’র ১৯০৫ সালে প্রথম অধিবেশন কোথায় অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : ডিগড়ে।

 প্রশ্ন ৩৫। ‘অসম অ্যাসোসিয়েশনে’র প্রথম সভাপতি কে ছিল? 

উত্তর : প্রভাত চন্দ্র বরুয়া। 

প্রশ্ন ৩৪। ‘অসম অ্যাসোসিয়েশনে’র প্রথম সাধারণ সম্পাদক কে ছিল ? 

উত্তর : মাণিক চন্দ্র বরুয়া।

প্রশ্ন ৩৭। ‘অসম প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি’ কত সালে গঠন হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯২১ সালে। 

প্রশ্ন ৩৮। ‘অসম প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটি’র প্রথম সম্পাদক কে ছিল?

 উত্তর : নবীন চন্দ্র বরদলৈ। 

প্রশ্ন ৩৯। মহাত্মা গান্ধী কত সালে প্রথম অসম ভ্রমণ করে ?

 উত্তর : ১৯২১ সালে। 

প্রশ্ন ৪০। অসমের প্রথম জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠান করেও কোথায় প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯২১ সালে, গুয়াহাটিতে প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৪১। গান্ধীজি করে দাতি যাত্রা করিয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৩০ সালের ১২ মার্চে। 

প্রশ্ন ৪২। কানিংহাম সার্কুলার কে জারি করিয়াছিল ? 

উত্তর : জন রিচার্ড কানিংহাম। 

প্রশ্ন ৪৩। ‘ভারত ত্যাগ আন্দোলন’ কবে কার নেতৃত্বে হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৯৪২ সালে, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে।

প্রশ্ন ৪৪। ‘কর না হইলে মর’ (Do or Die) ধ্বনির বক্তা কে ছিল? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী। 

প্রশ্ন ৪৫। ‘ভারত ত্যাগ আন্দোলনে’ ভারতে ফাঁসি দেওয়া একমাত্র শহীদের নাম কি ছিল?

 উত্তর : কুশল কোঁয়র। 

প্রশ্ন ৪৬। অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেও কোথায় প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৯৬৯ সালে, যোরহাটে। 

প্রশ্ন ৪৭। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় করেও কোথায় প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯০০ সালে, ডিব্রুগড়ে। 

প্রশ্ন ৪৮। আহোম সভা কে গঠন করেছিল? এর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কার্যসূচী কি ছিল?

উত্তর : পদ্মনাথ গোহাই বরুয়া। আহোমদের সরকারী ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা দেওয়া।

প্রশ্ন ৪৯। ইয়াণ্ডাবু সন্ধি করে স্বাক্ষরিত হয়েছিল? এর ফলাফল কি ছিল ? 

উত্তর : ১৮২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে ইয়াণ্ডাবু সন্ধি স্বাক্ষরিত হইয়াছিল। ইহার ফলে [ আসামে ব্রহ্মদেশের রাজার হাত হইতে রাজ্য ইংরাজের অধীনে চলিয়া যায়।

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ‘অসমিয়া লিটারেরি সোসাইটি’র বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : ‘অসমিয়া লিটারেরি সোসাইটি’ ১৮৭২ সালে দেবীচরণ বরুয়া ও গুণগোবিন্দ ফুকনের নেতৃত্বে কলিকাতায় গঠন হইয়াছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সাহিত্য- চর্চা। ইহার সঙ্গে রাজনৈতিক চিন্তারও প্রকাশ ঘটিয়াছিল। ১৮৭২ সালে এই সংগঠনের প্রসিদ্ধ সদস্য জগন্নাথ বরুয়া ও মাণিকচন্দ্র বরুয়া উক্ত সোসাইটির তরফ হইতে সেই সময়ের ভাইসরয় লর্ড নর্থব্রুককে একটি স্মারক-পত্র দাখিল করিয়াছিল। উক্ত স্মারকপত্রে তাঁহারা অসমের প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়ন ও অসম ও বঙ্গের মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে দাবী জানাইয়াছিল। ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনটি সক্রিয় হইয়া ছিল। 

প্রশ্ন ২। জোনাকী যুগ বলিতে কোন্ সময়কে বুঝানো হয়? এই যুগের উল্লেখযোগ্য – জাতীয়তাবাদী উত্তরণের একটি আভাস দাও। 

উত্তর : অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী (অঃ ভাঃ উঃ সাঃ) সভার দ্বারা প্রকাশিত পত্রিকা । ‘জোনাকী’ অসমে এক নতুন যুগের সূচনা করিয়াছিল। এই সময়কে জোনাকী যুগ বলা হয়। জোনাকী অসমের সুধী সমাজের মধ্যে এক নতুন আলোড়নের সৃষ্টি করিয়াছিল। জোনাকী পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধগুলিতে জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়াছিল। ব্রিটিশের আগমনের ফলে অসমের স্থানীয় উদ্যোগ ও বাণিজ্যে যে নেতিবাচক। প্রভাব পরিয়াছিল সেই বিষয়ে জোনাকী সচেতনতা সৃষ্টি করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। এই ক্ষেত্রে কনকলাল বরুয়া ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্য নিয়মিত অসমের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা ও প্রগতির ধারা সম্পর্কীয় নিবন্ধ প্রকাশ করিয়াছিল। এই পত্রিকাতে প্রকাশিত লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার ‘মোর দেশ’, ‘অসম সংগীত’, ‘বীণ বরাগী’ আদি ও অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরীর রচনা জাতীয়তাবাদী উত্তরণে সাহায্য করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩। আহোম সভার রাজনৈতিক দাবী সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়ার নেতৃত্বে ১৮৯৩ সালে ‘আহোম সভা’ প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল। ১৯১০ সালে এই সভাকে ‘সদৌ অসম আহোম অ্যাসোসিয়েশন’ নামে নামকরণ করা হইয়াছিল। এই সভার এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দাবী ছিল আহোমসকলকে সরকারিভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদা প্রদান করিয়া তাঁহাদের জন্য বিধানসভাতে আসন সংরক্ষণ করা ও পৃথক সমষ্টি গঠন করা। এই উদ্দেশ্যে ১৯৩০ ও ৪০-এর দশক দুইটিতে আহোম অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয়ভাবে দাবী উত্থাপন করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৪। কানির প্রচলন সম্পর্কে যোরহাট সার্বজনিক সভার স্থিতি কি ছিল সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে যোরহাট সার্বজনিক সভা স্থাপিত হয়। ১৮৯৩ সালে এই সভা অসমের মুখ্য সচিবের দ্বারা রাজকীয় কানি আয়োগে স্মারক- পত্রযোগে কানির একাধিক উপকারিতার হিসাব দিয়া সরকারের কানি নীতি পরিবর্তন বা কানি নিবারণ প্রস্তাবের বিরোধিতা করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৫। আসাম অ্যাসোসিয়েশন ব্রিটিশ সরকারের কাছে উত্থাপন করা বিষয়সমূহ কি ছিল ? 

উত্তর ঃ ১৯০৩ সালে মাণিক চন্দ্র বরুয়ার নেতৃত্বে আসাম অ্যাসোসিয়েশন নামের অনুষ্ঠানের জন্ম হইয়াছিল। আসাম অ্যাসোসিয়েশন ব্রিটিশ সরকারের কাছে উত্থাপন করা বিষয়সমূহ হইল— 

(ক) স্থানীয় সমিতিসমূহের গণতান্ত্রিকীকরণের দাবী উত্থাপন করিয়াছিল। 

(খ) বিধানসভাতে তাঁহাদের প্রতিনিধিত্বের দাবী উত্থাপন করিয়াছিল। 

(গ) বর্ধিত কর, সরকারের শুল্ক ব্যবস্থা ও কানির প্রচলন বন্ধ করার দাবী।

(ঘ) পৌরসভাতে সরকারি বিষয়া ও লোকেল বোর্ডে চা কৃষকের আধিপত্যের বিরোধিতা করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৬। অসমে বিদেশী বস্তু বর্জন আন্দোলনের কার্যাবলী সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : অসমে বিদেশী বস্তু বর্জন আন্দোলনের ফলস্বরূপে স্বদেশী আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছিল। অসমের জেলাসমূহে স্বদেশী বস্তু প্রচলনের জন্য প্রচার চালানো হইয়াছিল। অসমে বিদেশী বস্তু বর্জনের ফলস্বরূপে অসমের মানুষ লবণের পরিবর্তে খার, বিদেশী চিনির পরিবর্তে বেনারসের চিনি, বিদেশী বস্ত্রের পরিবর্তে স্থানীয় এড়ি, মুগা, কপাহী ও খাদী বস্ত্র ব্যবহার করিয়াছিল। গুয়াহাটির একদল ছাত্র সপ্তাহে দুইদিন জাহাজঘাটে কুলির কাজ করিয়া উপার্জন করা ধন স্বদেশী আন্দোলনের পুঁজিতে দাম করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৭। অসমে অসহযোগ আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়া অসমিয়া নেতাসকলের বিষয়ে উল্লেখ কর। 

উত্তর : অসমে অসহযোগ আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়া অসমিয়া নেতাসকলের ভিতরে উল্লেখযোগ্য ছিল—অমিয় কুমার দাস, চন্দ্রনাথ শর্মা, হেমচন্দ্র বরননা, মুহিবুদ্দিন আহমেদ আদি। এই সকল নেতার নেতৃত্বে অসমের যুবকসকল সরকারী শিক্ষানুষ্ঠানসমূহ বর্জন করিয়া অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করিয়াছিল। সেইসকলের অগ্রগণ্য কয়েকজন হইল— লক্ষীধর শর্মা, রোহিণীকান্ত হাতীবরুয়া, বিমলাকান্ত বরুয়া, কনক চন্দ্র বরুয়া, বেণুধর শৰ্মা, তিলক শৰ্মা আদি। ছাত্রসকলকে অনুকরণ করিয়া নবীন চন্দ্র বরদলৈ, কুলম্ব চলিহা, তরুণরাম ফুকন, কামিনী কুমার চন্দ, বিষ্ণুরাম মেধি আদি উকিলেরাও ওকালতি ছাড়িয়া আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৮। কানিংহাম সার্কুলার অসমে আইন অমান্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে কীরূপ প্রভাব ফেলিয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের বিরোধিতা করিয়া ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ছাত্রসকল তাহাদের শিক্ষানুষ্ঠানসমূহ বর্জন করিয়াছিল। ১৯৩০ সালের ১৯ মে তারিখে অসমের তদানীন্তন শিক্ষাধিকর্তা জন রিচার্ড কানিংহাম ছাত্র-ছাত্রীসকলকে আন্দোলন হইতে সরাইয়া রাখার অভিপ্রায়ে একটি সার্কুলার জারি করে। এই সার্কুলার মতে, ছাত্র ও তাহাদের অভিভাবকেরা কোন ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হইয়াছিল। দোষী সাব্যস্তদের জরিমানা করা ছাড়াও ছাত্র-বৃত্তি হইতে বঞ্চিত করা হইবে বলিয়া এই সার্কুলারে প্রকাশ করা হইয়াছিল। আইন অমান্য আন্দোলন চলিতে থাকাকালে জারি করা এই সার্কুলারের বিরুদ্ধে অসমের ছাত্র-ছাত্রীসকল তীব্র বিরোধিতা করা খড়াও ব্যাপক আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৯। গোপীনাথ বরদলৈ মন্ত্রীসভা স্বাধীনতার পর মুখামুখি হওয়া সমস্যা সম্পর্কে লিখ।

উত্তর : স্বাধীনোত্তর কালে গোপীনাথ বরদলৈ মন্ত্রীসভা অর্থনৈতিক বিশ্বংখলতার সম্মুখীন হইয়াছিল। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ বিঘ্নিত করিয়াছিল। মাত্র ১২ কিলোমিটার প্রশস্ত পথ এর সংকীর্ণ ভূখণ্ড উত্তর-পূর্বকে ভারতের সঙ্গে সংযোগ করিয়াছিল। বিভাজনে বঙ্গ, অসম আরাকান অঞ্চলের মধ্যে থাকা জটিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিঘ্নিত করিয়াছিল। অর্থনৈতিক বিশৃংখলতার মুখামুখি হওয়া ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুপ্রবেশকারীর সমস্যা ও ভৌগোলিক পুনর্গঠনের সমস্যারও সম্মুখীন হইয়াছিল। এইভাবে, বিভাজনের পর উত্তর- পূর্ব অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হইয়া পরিয়াছিল ও একই সময়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক স্পর্শকাতর অঞ্চলে রূপান্তরিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১০। অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখ। 

উত্তর : ১৯১৩ সালে করিমগঞ্জে ও ১৯২৩ সালে তিতাবরে অন্য এক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাই অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু বলিতে পারি। যদিও এই কেন্দ্ৰসমূহ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ অবিরামভাবে চালাইয়াছিল তবুও একটি আলাদা কৃষি ও পশু মহাবিদ্যালর অত্যাবশ্যকীয় হইয়া পরিয়াছিল। তাই ১৯৪৮ সালে নগায়ে অসম পশু মহাবিদ্যালয় ও ফেরহাটে অসম কৃষি মহাবিদ্যালয় লইয়া ১৯৬৯ সালে অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। 

প্রশ্ন ১১। অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখ ।

উত্তর : উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ডিব্ৰুগডে স্থাপিত হইয়াছিল। ১৯০০ সালে ডিব্রুগড়ে ড° জন বেরী হোয়াইটের ৫০,০০০ টাকার অনুদানের পুঁজি দ্বারা ‘বেবী হোয়াইট মেডিকেল স্কুল’ স্থাপন হইয়াছিল। জনহিতৈষী ড’ জন বেবী হোয়াইট ছিল। লখিমপুর জেলার সিভিল সার্জন। ১৯১০ সালে এই চিকিৎসা বিদ্যালয় ইংল্যাণ্ড হইতে দুইটি এক্স-রে মেশিন আমদানি করিয়া আনিয়াছিল ও রেডিওলজী বিভাগ আরম্ভ করিয়াছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিদ্যালয়টি কাছের একটি চিকিৎসালয়ের চৌহদে স্থানান্তরিত করা হইয়াছিল যেটা যুদ্ধের সময় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যবাহিনীরা ব্যবহার করিয়াছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ৩ নভেম্বর তারিখে এই বিদ্যালয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নামে নামাকরণ করা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ১২। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অসমে গঠন হওয়া দুইটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ কর। 

উত্তরঃ (ক) অসম অ্যাসোসিয়েশন (খ) যোরহাট সার্বজনিক সভা।

প্রশ্ন ১৩। অসম অ্যাসোসিয়েশন কীভাবে গঠন হইয়াছিল? এই সংগঠনের উদ্দেশ্য কি ছিল? 

উত্তর : ১৮৮৫ সালে গঠন হওয়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম অধিবেশনে অসমের কোন ব্যক্তি যোগদান করে নাই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এখানে যোগদান

না করা স্বত্ত্বেও কংগ্রেসের মতাদর্শকে ও উদ্দেশ্যকে সমর্থন জানাইয়া অসমেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হইয়াছিল। জাতীয় কংগ্রেসের আদর্শের আলমে পরে ১৯০৩ সালে অসমে ‘অসম অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করা হইয়াছিল। 

এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল অসমিয়া জাতির রাজনৈতিক মতামত তুলিয়া ধরা।

প্রশ্ন ১৪। ‘৪২’-এর গণ আন্দোলনের দুইজন শহীদের নাম লিখ। 

উত্তর : কনকলতা, কুশল কোঁয়র। 

প্রশ্ন ১৫। অসম অ্যাসোসিয়েশনে’র চারটি কার্যাবলী উল্লেখ কর।

উত্তর : (ক) বর্ধিত কর, সরকারের শুদ্ধ ব্যবস্থা ও কানির প্রচলনের বিরোধিতা করা।

 (খ) কারিকরী শিক্ষানুষ্ঠান স্থাপনের ব্যবস্থা করা। 

(গ) পৌরসভাতে সরকারি বিষয়ার ও স্থানীয় সমিতিতে (Local Board) চা শ্রমিকের আধিপত্যের বিরোধিতা করা। 

(ঘ) অসমের জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা জাগ্রত করা। 

প্রশ্ন ১৬। অসমের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠনের নাম লিখ। এই সংগঠনের প্রথম সভাপতি ও সম্পাদক কে ছিল?

উত্তর ঃ অসম অ্যাসোসিয়েশন। প্রথম সভাপতি ছিল প্রভাত চন্দ্র বরুয়া। প্রথম সম্পাদক ছিল মাণিক চন্দ্র বরুয়া।

প্রশ্ন ১৭। ইংরাজ শাসনকালে অসমের দুইটি অ-রাজনৈতিক সংগঠনের নাম লিখ। 

উত্তর : (ক) অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভা 

(খ) অসম সাহিত্য সভা। 

প্রশ্ন ১৮। ‘যোরহাট সার্বজনিক সভা’র তিনটি মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) সরকারের উদ্দেশ্য ও নীতি জনসাধারণকে বুঝানো। 

(খ) জনসাধারণের আশা-আকাংক্ষার বিষয়ে সরকারকে অবগত করানো।

(গ) জনসাধারণের অবস্থার উন্নতি সাধন করা। 

প্রশ্ন ১৯। গান্ধীজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানকারী তিনজন অসমিয়া নেতার নাম লিখ। 

উত্তর : (ক) নবীন চন্দ্র বরদলৈ, 

(খ) তরুণরাম ফুকন ও

(গ) চন্দ্রনাথ শর্মা। 

প্রশ্ন ২০। আহোম সভা’র তিনটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ কর। 

উত্তর : ‘আহোম সভা’র তিনটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইল— 

(ক) আহোম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শৈক্ষিক, সাংস্কৃতিক অবনতি রোধ করা।

(খ) কানি বিরোধী আন্দোলন গড়িয়া ভোলা। 

(গ) আহোম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শৈক্ষিক, সাংস্কৃতিক অবনতি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রশ্ন ২১। আসাম অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত হওয়া সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম লেখো।]

উত্তর : আসাম অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত হওয়া সভাপতি ছিলেন। প্রভাত চন্দ্র বরুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাণিক চন্দ্র বরুয়া। 

প্রশ্ন ২২। অসমে বঙ্গ ভঙ্গের প্রতিক্রিয়া কি হইয়াছিল ? 

উত্তর : বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে অসমে এক প্রবল আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছিল। ইহার ফলস্বরূপে অসমের জনসাধারণ স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনে যোগদান করে। 

প্রশ্ন ২৩। স্বদেশী আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য কি ছিল? 

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বিদেশী বস্তু বর্জন করিয়া দেশীয় সামগ্রীর প্রচলনের দ্বারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করা। 

প্রশ্ন ২৪। অসহযোগ আন্দোলনের মূল নীতি কি ছিল? এই আন্দোলনের দুইটি গঠনমূলক কার্য উল্লেখ কর।

উত্তর ঃ অসহযোগ আন্দোলনের মূল নীতি ছিল গান্ধীজির নেতৃত্বে অহিংস পথে ব্রিটিশ শাসন হইতে ভারতবর্ষকে মুক্ত করা। এই আন্দোলনের দুইটি গঠনমূলক কার্য হইল :

(ক) খাদীর প্রচলন জনপ্রিয় করিয়া ইহার উৎপাদন বৃদ্ধি করা, 

(খ) কানির প্রচলন বন্ধ। 

প্রশ্ন ২৫। কত সাল হইতে কত সাল পর্যন্ত অসহযোগ আন্দোলন হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯২০ সাল হইতে ১৯২২ সাল পর্যন্ত। 

প্রশ্ন ২৬। কি পরিস্থিতিতে অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হইয়াছিল ? তাহার তিনটি কারক উল্লেখ কর।

উত্তর : (ক) ব্রিটিশসকলের দ্বারা ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক শোষণ। 

(খ) ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড। 

(গ) ১৯১৯ সালের রাওলাট অ্যাক্টের দ্বারা ব্রিটিশের বর্ধিত দমনমূলক নীতি গ্রহণ। এই আইন সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে যেকোন লোককে দুই বছর বিনা বিচারে কারাগারে নিক্ষেপ করার কর্তৃত্ব ব্রিটিশদের প্রদান করিয়াছিল। গান্ধীজির নেতৃত্বে এই আইনের বিপক্ষে এক সর্বব্যাপী প্রতিবাদী আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছিল। 

প্রশ্ন ২৭। আইন অমান্য আন্দোলন’ কবে সংঘটিত হইয়াছিল? এই আন্দোলনের একটি উল্লেখনীয় কারণ উল্লেখ কর। 

উত্তর : ১৯৩০-১৯৩৪ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলনের একটি উল্লেখনীয় কারণ হইল ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা গঠন হওয়া সাইমন কমিশন। এই কমিশনে কেবল ব্রিটিশ সংসদের সংদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছিল। রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলি ভারতীয় প্রতিনিধি না থাকার জন্য। ইহাকে গ্রহণ করে নাই ও প্রতিবাদ সাব্যস্ত করিয়াছিল।

প্রশ্ন ২৮। ‘লবণ সত্যাগ্রহ’ বা ‘দাণ্ডি যাত্রা’ বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : ব্রিটিশ সরকারে প্রবর্তন করা লবণ আইনের বিরোধিতা করিয়া গান্ধীজি ১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহ নীতি গ্রহণ করিয়াছিল। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চে গান্ধীজি ও তাহার অনুগামীসকল আমেদাবাদের সন্দরমতী আশ্রম হইতে ভারতের পশ্চিম উপকূলে থাকা দাণ্ডি নামের গ্রামে যাত্রা করিয়াছিল। অনবরত ২৫ দিন যাত্রা করিয়া প্রায় ৩৮৫ কি.মি. দূরত্ব অতিক্রম করিয়া তাহারা ১৯৩০ সালের ৬ এপ্রিলে দাণ্ডিতে উপস্থিত হইয়াছিল। এখানেই লবণ আইনের বিরোধিতা করিয়া গান্ধীজি নিজে লবণ প্রস্তুত করিয়া সরকারের প্রতি প্রত্যাহানের সৃষ্টি করিয়াছিল। ইহাকে ‘লবণ সত্যাগ্রহ’ বা দাণ্ডিযাত্রা বলিয়া জানা যায়। 

প্রশ্ন ২৯। কানিংহাম সার্কুলার মানে কি? 

উত্তর : ১৯৩০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের বিরোধিতা করিয়া ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ছাত্রসকল তাহাদের শিক্ষানুষ্ঠানসমূহ বর্জন করিয়াছিল। ১৯৩০ সালের ১৯ মে তারিখে অসমের তদান্তীন শিক্ষাধিকর্তা জন রিচার্ড কানিংহাম ছাত্র-ছাত্রীসকলকে আন্দোলন হইতে সরাইয়া রাখার অভিপ্রায়ে একটি সার্কুলার জারি করে। এই সার্কুলার মতে, ছাত্র ও তাঁহাদের অভিভাবকেরা কোন ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হইয়াছিল। দোষী সাব্যস্ত হওয়াদের জরিমানা করা ছাড়াও ছাত্র-বৃত্তি হইতে বঞ্চিত করা হইবে বলিয়া এই সার্কুলারে প্রকাশ করা হইয়াছিল।

 আইন অমান্য আন্দোলন চলিয়া থাকাকালে জারি করা এই সার্কুলারটির বিরুদ্ধে অসমের ছাত্র-ছাত্রীসকল তীব্র বিরোধিতা করার সঙ্গে ব্যাপক আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩০। ‘আগস্ট বিপ্লব’ বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে গান্ধীজি ভারত ত্যাগ আন্দোলন শুরু করিয়াছিল। আগস্ট মাসে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য এই আন্দোলনকে আগস্ট বিপ্লব নামে 

প্রশ্ন ৩১। ‘বরদলৈ মন্ত্রীসভা’র নেতৃত্বে গঠন হওয়া দুইটি অনুষ্ঠানের নাম লিখ।

উত্তর : (ক) অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় 

(খ) গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়। 

প্রশ্ন ৩২। জোনাকী যুগের ‘ত্রিমূর্তি’ বলিতে কাহাকে বোঝানো হয়? জানা যায়। লিখ। 

উত্তর : হেমচন্দ্র গোস্বামী, লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভার ভূমিকা ও কার্যাবলীর বিষয়ে আলোচনা কর। অথবা, অসমে অসমীয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী সভার অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো। 

উত্তর : ঊনবিংশ শতিকায় কলিকাতায় পড়িতে যাওয়া অসমিয়া ছাত্ৰসকল গঠন কর । প্রসিদ্ধ সাহিত্য সংগঠন হইল ‘অসমিয়া ভাষা উন্নতি সাধিনী (অঃ ডাঃ উঃ সাঃ) সত্তা। ১৮৮৮ সালে এই সভা গঠিত হইয়াছিল। এই সভার দ্বারা প্রকাশিত পত্রিকা ‘জোনাকী’ অসমে একটি নতুন যুগের সূচনা করিয়াছিল। এই সভা গঠনের অন্তরালে ছিল সেই। সময়ের প্রসিদ্ধ ছাত্র হেমচন্দ্ৰ গোস্বামী, লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, কনকলাল আগরওয়ালা ও রমাকান্ত বরকাকতী। অঃ ভাঃ ডঃ সাঃর প্রচেষ্টাতে সরকার হেমচ বরুবার অত্যুৎকৃষ্ট কৃতি ‘হেমকোষ’ প্রকাশের কাজ হাতে লইয়াছিল। ইহা ছাড়াও বা অসমিয়া যুবক কলিকাতায় শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া অসমে ঘুরিয়া আসিয়া কোহিমা, ডিব্ৰুগড়, তেজপুর, শিবসাগর, নগাঁও, যোরহাট, বরপেটা, গোয়ালপারা ও গুয়াহাটিতে অঃ তা ছা সারে সভার শাখা গঠনের জন্য অগ্রণী ভূমিকা লইয়াছিল। 

এই সভার ভূমিকা ও কার্যাবলীসমূহ হইল— 

(ক) অসমিয়াসকলের মধ্যে একতা ও জাতীয়তাবাদের ভাব গড়িয়া তোলা। 

(খ) এই সভা অসমিয়া ভাষার এক শক্তিশালী বিজ্ঞানসম্মত উত্তরণের সঙ্গে অসমের সকল পাঠশালাতে পরিশুদ্ধ ও উন্নত মানের ব্যাকরণ প্রয়োগের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছিল।

(গ) এই সভা অসমের এক সর্বাত্মক সামাজিক ইতিহাস সংকলন ও সংস্কৃত বা অন্যান্য ভাষার উল্লেখনীয় পুথিসমূহ অসমিয়া ভাষাতে অনুবাদ করার কাম অতি তৎপরতার সহিত হাতে লইয়াছিল।

প্রশ্ন ২। অসম ছাত্র সম্মিলনের অবদানের বিষয়ে লিখ। 

উত্তর : ‘অসম ছাত্র সম্মিলন’ অসমের এক প্রসিদ্ধ ছাত্র সংগঠন। ১৯১৬ সালে অসম ছাত্র সম্মিলন গঠন অসমের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই সম্মিলনের প্রথম অধিবেশন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার সভাপতিত্বে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। এই সম্মিলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল অসমিয়া ভাষার উন্নতি সাধন করা। এই সম্মিলন অসমের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে মত আদান প্রদান করিয়া এক সম্পর্ক স্থাপন করিতে চেষ্টা করিয়াছিল। এই সম্মিলন যদিও রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয় নাই, কিন্তু পরবর্তী কালে দেশের জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। অসম ছাত্র সম্মিলনের বার্ষিক মুখপত্র ছিল মিলন। এই সম্মিলনের বার্ষিক অধিবেশনসমূহে লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া, কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ আদি বিখ্যাত সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদসকল অংশগ্রহণ করিয়াছিল। এইভাবে ছাত্র সম্মিলন অসমের শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় চেতনা গড়াতে অবদান যোগাইয়াছিল।

প্রশ্ন ৩। রায়ত সভাসমূহের উদ্দেশ্য ও ভূমিকা সম্পর্কে একটি বিবরণ দাও।  

উত্তর : ১৯ শতিকার শেষার্ধে কৃষকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অর্থে রায়ত সভাসমূহ গঠন করা হইয়াছিল। তেজপুর রায়ত সভার সংগঠনে ও কার্যসূচী রূপায়ণে বিশেষ করিয়া লক্ষ্মীকান্ত বরকাকতী, হরিবিলাস আগরওয়ালা, লম্বোদর বরা আদি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোক মুখ্য ভূমিকা লইয়াছিল। ১৯৩০-৩৪ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের সময় নয়-দুয়ার ও ছয়-দুয়ার রায়ত সভা দুইটি যথেষ্ট শক্তিশালী হইয়া পরিয়াছিল। পরবর্তী কালে শিবসাগর ও দরঙেও রায়ত সভার সংগঠন গড়িয়া উঠিয়াছিল। ১৯৩৩ সালে সদৌ অসম রায়ত সভা’ গঠন হইয়াছিল। ইহার প্রথম অধিবেশন কর্মবীর নবীন চন্দ্র বরদলৈর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস মন্ত্রীসভা গঠন হওয়ায় ১৯৩৯ সাল হইতে রায়ত সভাসমূহের কাজ-কর্ম শেষ হইয়া আসিয়াছিল ও বিভিন্ন অঞ্চলের কংগ্রেস সমিতিসমূহ রায়ত সভাগুলিকে লইয়াছিল।

 রায়ত সভাসমূহের মুখ্য উদ্দেশ্যসমূহ হইল- 

(ক) গ্রেজিং কর বন্ধ করা । 

(খ) মাটির খাজনা হ্রাস করা। 

(গ) পূর্ববঙ্গ হইতে হওয়া প্রব্রজন রোধ করা। 

প্রশ্ন ৪। যোরহাট সার্বজনিক সভার উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী সম্পর্কে লিখ। 

উত্তর : যোরহাট সার্বজনিক সভার উদ্দেশ্য ও কার্যাবলীসমূহ নীচে আলোচনা করা হইলঃ

(ক) এই সভা ইংরাজ সরকার ও অসমের প্রজা-সাধারণের মধ্যে এক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চেষ্টা চালাইয়াছিল। 

(খ) সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করিয়া জনসাধারণের ইচ্ছা-আকাঙ্খাকে সরকারের কাছে তুলিয়া ধরা।

 (গ) জনসাধারণের ইচ্ছা-আকাঙ্খাকে পূরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা। 

(ঘ) সরকারি নীতি তথা উদ্দেশ্যকে জনসাধারণের মধ্যে প্রতিফলিত করা। 

(ঙ) জনসাধারণকে বিভিন্ন অসুবিধা তথা দুঃখ-কষ্ট হইতে দূর করা। 

প্রশ্ন ৫। অসম অ্যাসোসিয়েশনের ব্রিটিশ শাসনাধীন অসমে সমাজ সংস্কারের প্রতি অবদান সম্পর্কে লিখ। 

 উত্তর : স্বাধীনোত্তর অসমে ইতিহাসে অসম অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অসমের কথা সামগ্রিকভাবে চিন্তা করিতে ও অসমের জনসাধারণের ইচ্ছা-আকাংক্ষাকে সরকারের কাছে অবগত করার উদ্দেশ্যে ১৯০৩ সালে মাণিক চন্দ্র বরুয়ার নেতৃত্বে অসম অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম হইয়াছিল। ১৯০৫ সালে ডিব্রুগড়ে এই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। এই অধিবেশনে প্রভাত চন্দ্র বরুয়াকে সভাপতি, জগন্নাথ বরুয়াকে উপ-সভাপতি ও মাণিক চন্দ্র বরুয়াকে সম্পাদক হিসাবে নির্বাচন করা হইয়াছিল।

 অসম অ্যাসোসিয়েশন মূলতঃ ইংরাজ অনুগত অনুষ্ঠানরূপে গড়িয়া উঠিলেও এই অ্যাসোসিয়েশন অসমের জনসাধারণের মুখপাত্র হিসাবে সেবা করিয়াছিল। এই অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যক্ষ ও সক্রিয়ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যপন্থা লওয়ার বিপরীতে শান্তিপূর্ণভাবে ও সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমের দ্বারাই জনসাধারণের সমস্যাসমূহ সমাধানের পোষকতা করিয়াছিল। 

অসম অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন কার্যপন্থাও হাতে লইয়াছিল। সেইসমূহের ভিতরে উল্লেখযোগ্য ছিল— বর্ধিত কর, সরকার শুল্ক ব্যবস্থা ও কানির প্রচলনের বিরোধিতা করা, শিক্ষার ক্ষেত্রে অসমকে আগাইয়া নেওয়া, পৌরসভার সরকারি বিষয়ার ও স্থানীয় সমিতিতে চা কৃষকের আধিপত্যের বিরোধিতা করা ইত্যাদি। 

অসম অ্যাসোসিয়েশন ১৯১৭ সালে শিবসাগর অধিবেশনে অসমে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী উত্থাপন করিয়াছিল। এই অ্যাসোসিয়েশন ১৯১৭ সালে মণ্টেগো-চেমসফোর্ড রিপোর্টের আধারে অসমকেও ধরিয়া লওয়ার জন্য কলিকাতাতে একটি সার্বজনীন সজাতি দল প্রেরণ করিয়াছিল। উল্লেখ্যযোগ্য যে, অসম অ্যাসোসিয়েশন কানি নিবারণ করাটাকে ইহার লক্ষ্য তথা উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ করিয়াছিল। ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে এই অ্যাসোসিয়েশন সক্রিয়ভাবে যোগদান করিয়াছিল। এই অ্যাসোসিয়েশন ১৯১৬ সালের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন ও নাগপুর অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করিয়াছিল। এইভাবে জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাব বাড়িতে ধরায় ১৯২১ সালে অ্যাসোসিয়েশন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় পরিত্যাগ করিয়া জাতীয় কংগ্রেসের অসম প্রাদেশিক কংগ্রেস সমিতির সঙ্গে সামিল হয়। 

প্রশ্ন ৬। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির জন্ম ও মুখ্য ভূমিকা সম্পর্কে একটি বিবরণ দাও।

 উত্তর : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একাংশ নেতা-কর্মী অসম অ্যাসোসিয়েশনকে কংগ্রেসের প্রাদেশিক কমিটিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করিয়াছিল। অসম অ্যাসোসিয়েশনকে কংগ্রেস। সংগঠনে রূপান্তরিত করা উদ্দেশ্যে ১৯২১ সালে ছবিলাল উপাধ্যায়, কৃষ্ণকান্ত ভট্টাচার্যের উদ্যোগে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি গঠন করিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে অসমে কংগ্রেসের রাজনীতির সূচনা করে। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রথম সভাপতি ছিল কুলধর চলিহা ও সম্পাদক নবীন চন্দ্র বরদলৈ। অসম প্ৰদেশ কংগ্রেস কমিটির আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়া প্রথম সভাপতি ছিল বিষ্ণুলাম মেধি।

অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির তত্ত্বাবধানে ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীকে অসমে অসহযোগ আন্দোলনের প্রচার করিতে নিমন্ত্রণ করিয়া আনা হইয়াছিল। ফলস্বরূপে অসহযোগ আন্দোলন অসমে অতি সক্রিয়া হইয়া পরিয়াছিল। অন্যদিকে অসম প্রাদেশিক কংগ্রেস, সমিতি ১৯২৬ সালে গুয়াহাটির পাণ্ডুতে জাতীয় কংগ্রেসের ৪১ তম বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করিয়াছিল। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বৃহৎ জয়ের সহিত কংগ্রেস, সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করিয়াছিল ও গোপীনাথ বরদলৈ প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৭। স্বদেশী আন্দোলনে অসমের ভূমিকার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর : বঙ্গ ভঙ্গের পরিণতি হিসাবে বিদেশী বস্তু বর্জন ও স্বদেশী বস্তু গ্রহণের সিদ্ধান্ত জনসভাতে অনুমোদিত হওয়ার পর এই আন্দোলন স্বদেশী আন্দোলনের কেন্দ্রভূমি অবিভক্ত বংগদেশ ছিল যদিও বঙ্গদেশকে কেন্দ্র করিয়া গড়িয়া উঠা এই আন্দোলনটি বঙ্গদেশের ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করিয়া একটি সর্বভারতীয় রূপ পরিগ্রহণ করিয়াছিল।

অসমের বিশেষ করিয়া ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার ধুবডি, গৌরিপুর, গোয়ালপারা, গুয়াহাটি, তেজপুর, ডিব্ৰুগড় আদি নগর অঞ্চলে এই আন্দোলনের প্রভাব পরিয়াছিল। বিদেশী বস্তু বর্জন করিয়া স্বদেশী বস্তু প্রচলনের জন্য প্রচার চালানো হইয়াছিল। ফলস্বরূপে অসমের মানুষ লবণের পরিবর্তে খার, বিদেশী চিনির পরিবর্তে বেনারসের চিনি, বিদেশী বস্ত্রের পরিবর্তে স্থানীয় এড়ি, মুগা, কপাহী ও খাদী বস্তু ব্যবহার করিয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাবাসীকে স্বদেশী আন্দোলনের প্রভাব হইতে সরাইয়া রাখিতে চেষ্টা করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৮। অসহযোগ আন্দোলনে অসমের ভূমিকা সম্পর্কে একটি বিবরণ দাও।  

উত্তর : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯২০ সাল হইতে ১৯২২ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস তথা গান্ধীজির সবল নেতৃত্বে এই আন্দোলন অহিংস পথে ব্রিটিশ শাসন হইতে ভারতবর্ষকে মুক্ত করিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হইয়াছিল। ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর অসম ভ্রমণ তাসমে অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ হওয়াতে বিশেষ সাহায্য করিয়াছিল। গান্ধীজি গুয়াহাটি, তেজপুর, যোরহাট, শিবসাগর আদি জায়গা ভ্রমণ করিয়া অহিংসা-অসহযোগ আন্দোলনের- কার্যসূচী প্রচার করিয়াছিল। ইতিমধ্যে আরম্ভ হওয়া এই আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর অসম আগমনের পরও ব্যাপকভাবে প্রভাব পরিল। সারা অসমে এক প্রবল জাগরণ জাগিয়া: উঠিয়াছিল। আন্দোলনের কার্যসূচী হিসাবে স্বদেশীকে সমর্থন করিয়া বিলাতী কাপোর দাহ

সরকারি-স্কুল-কলেজ পরিত্যাগ, আদালত বর্জন, খাজনা দেওয়া বন্ধ আদি কাৰ্য অসমে তোলপার লাগাইয়াছিল। হাজার হাজার কৃষক, কর্মচারি, কারিকরেরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সেই সময় চা-বাগানগুলিতে হওয়া শ্রমিক আন্দোলনে মহিলারা অংশগ্রহণ করিয়াছিল। অন্যদিকে অসমে এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল— কানির প্রচলন বন্ধ। এই আন্দোলনের অন্য একটি উল্লেখযোগ্য গঠনমূলক কাজ ছিল খাদীর প্রচলন জনপ্রিয় করিয়া ইহার উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কিন্তু ১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারিতে উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরাতে স্থানীয় পুলিশ ও প্রতিবাদকারীর মধ্যে হিংসাত্মক সংঘৰ্ষ সংঘটিত হওয়ায় গান্ধীজি মর্মাহত হয় ও আন্দোলনে যে অহিংসা নীতি পরিহার করিয়াছে সেই কথা উপলব্ধি করিয়া অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ করে। 

প্রশ্ন ৯। আইন অমান্য আন্দোলনে অসমের ভূমিকা সম্পর্কে একটি বর্ণনা দাও।  

উত্তর : ১৯২৭ সালে গঠিত হওয়া সাইমন কমিশন আইন অমান্য আন্দোলনের উল্লেখনীয় কারণ। এই কমিশনে কেবল ব্রিটিশ সংসদের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছিল। অসমের কংগ্রেস এই কমিশন বর্জন করিয়াছিল। পরে ১৯৩০ সালে দেশ জুড়িয়া গান্ধীর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ হয়। অসমেও ছাত্রসকল আন্দোলন তীব্র করিয়া তোলে। সমসাময়িক শিক্ষাধিকর্তা আর.জে. কানিংহাম ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন হইতে বিরত রাখিতে সার্কুলার জারি করিয়াছিল। ছাত্র-ছাত্রীদের এই সার্কুলারের তীব্র বিরোধিতা করিয়া ব্যাপক আন্দোলন গড়িয়া তুলিয়াছিল ও স্কুল-কলেজ বর্জন করিয়াছিল। 

১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা’ কংগ্রেসের মূল লক্ষ্যরূপে বিবেচিত হয়। ইহার ভিত্তি ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটি সমগ্র ভারতে স্বাধীনতা দিবসরূপে পালন করিতে সিদ্ধান্ত লয়। অসমেও সরকারের দিক হইতে নানা বাধা স্বত্বেও অসমের জনসাধারণ অতি উৎসাহ-উদ্দীপনার সহিত এক জনসমাগম হইয়াছিল। অসমের ছাত্র-ছাত্রীসকল এই কার্যে হিলদল ভাঙিয়া আসিয়া যোগদান করিয়াছিল ও শোভাযাত্রা করিয়া স্বাধীনতার ধ্বনি দিয়াছিল। আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করা দেখিয়া ব্রিটিশ সরকার শংকিত হইয়া পরিয়াছিল। 

অন্যদিকে হেমচন্দ্র বরুয়া, বিষ্ণুরাম মেধি, অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী, মহম্মদ তৈয়বুল্লা আদির নেতৃত্বে গুয়াহাটির জর্জ খেলপাথারে একত্রিত হইয়া গান্ধীজির লবণ সত্যাগ্রহের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করিয়াছিল। এই নিষ্ঠাবান কর্মীসকল সীমিত অর্থনৈতিক পরিসরের মধ্যে সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কাম-কাজ অব্যাহত রাখিয়াছিল। কিন্তু তরুণরাম ফুকন, নবীন চন্দ্র বরদলৈ, রোহিনী কুমার চৌধুরী আদি নেতা আইন অমান্য আন্দোলনের প্রতি কোন উৎসাহ দেখায় নাই। আন্দোলনের বিভিন্ন দিক দেখিতে বহু নতুন সমিতি ও উপ- সমিতি গঠন করা হইয়াছিল। নতুন করিয়া গঠিত এই সমিতিসমূহের উদ্দেশ্য ছিল পুঁজি বৃদ্ধি করা, বিদেশী বস্তু বর্জন করা, কানি ও সুরার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। এইভাবে প্রধানতঃ গান্ধীজির নেতৃত্বে গড়িয়া উঠা আইন অমান্য আন্দোলনে অসমেও প্রভাব বিস্তার করিতে সক্ষম হইয়াছিল।

প্রশ্ন ১০। অসমে ভারত ত্যাগ আন্দোলনের কার্যাবলী ও প্রভাব সম্পর্কে একটি বিবরণ দাও।

অথবা, 

‘ভারত ত্যাগ আন্দোলন’এ অসমের মানুষের ভূমিকা সম্বন্ধে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তর : অসমে ৪২-এর গণ আন্দোলন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করিয়াছিল। ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে গান্ধীজি ভারত ত্যাগ আন্দোলনের শুরু করিয়াছিল। আগস্ট মাসে প্রস্তাব গৃহীত হওয়া জন্য এই আন্দোলনকে আগস্ট বিপ্লব নামেও জানা যায়। গান্ধীজির ‘কর না হইলে মর’ (Do or Die) ধ্বনির প্রেরণাতে উদ্বুদ্ধ হইয়া দেশে এই আন্দোলনে ঝাপাইয়া পরিয়াছিল। অসমিয়া মুক্তিযোদ্ধা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে সকল প্রকার বাধা দিতে উঠিয়া পরিয়া লাগিয়াছিল। 

ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে অসমেও কংগ্রেসের প্রধান নেতাসকলকে গ্রেপ্তার করার সঙ্গে অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি, জেলা কংগ্রেস কমিটি ও অন্যান্য ঐক্যমঞ্চসমূহকে অবৈধ ঘোষণা করা হইয়াছিল। সকল ধরনের সভা, সমিতি, হরতাল ও মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল। অসমে এই আন্দোলন অহিংসা পদ্ধতির দ্বারা হরতাল, শোভাযাত্রা, সমারোহ ও পিকেটিং আদির দ্বারা আরম্ভ হইয়াছিল কিন্তু জেলে থাকা নেতাসকলের উপরে পুলিশের অত্যাচার সীমা ছাড়াইয়া যাওয়ায় এই আন্দোলন বিপ্লব বা হিংসাত্মক রূপ ধারণ করিয়াছিল। জনসাধারণ সরকারি ঘর-দুয়ার আক্রমণ করা সঙ্গে রেলপথ ও সামরিক বাহিনীর অস্ত্র-শস্ত্র সরবরাহের পথসমূহ ধ্বংস করিয়া দিয়াছিল। বিশেষ করিয়া নগাঁও দরং জেলায় সরকারি ঘর-দুয়ার ধ্বংস করার সঙ্গে সরকারি বিষয়াগুলিকে হারাশাস্তি করা হইয়াছিল। গোলাঘাটের বরপাঘার, কামরূপের পাণবারী, শিবসাগরের সাম্রাইভ, রঙিয়া আদি জায়গায় রেলপথ দুর্ঘটনা সংঘটিত হইয়াছিল। অসমে এই আন্দোলন দমন করিতে ব্রিটিশসকলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছিল। বরপাধারে রেল দুর্ঘটনার অপরাধে কুশল কোঁয়রকে ফাঁসি দেওয়া হইয়াছিল। বর্বর পুলিশের নির্বিচার গুলীচালনায় বরপেটার পাটাছারকুছি, গোয়ালপারার ফকিরাগ্রাম, দরং জেলার ঢেকিয়াজুলি ও গহপুরে শ শ লোকের মৃত্যু হইয়াছিল। আন্দোলনকারী কনকলতা, ভোগেশ্বরী ফুকননী, মদন বর্মন, রাওতা কছারি, মুকুন্দ কাকতি, ঠগী সূত আদিকে পুলিশে নির্মমভাবে গুলী করিয়া মারিয়াছিল।

.ভারত ত্যাগ আন্দোলন প্রকৃতার্থে এক গণ আন্দোলন ছিল। হাজার হাজার সাধারণ জনতা অংশগ্রহণ করা এই আন্দোলনে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক রূপ লইয়াছিল । 

কিন্তু অবশেষে এই আন্দোলনের বিফলতায় বহু জাতীয়তাবাদী নেতা হতাশাগ্রস্ত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১১। বরদলৈ মন্ত্রীসভার নেতৃত্বে অসমে স্থাপিত হওয়া শিক্ষানুষ্ঠানসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। 

উত্তর : বরদলৈ মন্ত্রীসভার নেতৃত্বে অসমে স্থাপিত হওয়া শিক্ষানুষ্ঠানসমূহ হইল 

(ক) অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,

(খ) গৌহাটী (গুয়াহাটি) বিশ্ববিদ্যালয় ও 

(গ) অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়। – 

১৯৪৮ সালে নগাঁয়ে অসম পশু মহাবিদ্যালয় ও যোরহাটে অসম কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল। এই দুইটি মহাবিদ্যালয় লইয়া ১৯৬৯ সালে অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় • স্থাপিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হইল কৃষিখণ্ডে মানব সম্পদের বিকাশ, প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি তথা ইহার প্রচার করা, উৎপাদন বিকাশের জন্য নিরন্তর গবেষণা করা ইত্যাদি। 

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচাইতে পুরোনো ও প্রথম সার্বজনীন বিশ্ববিদ্যালয় ‘গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপন হইয়াছিল। অসম সরকারের গুয়াহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনিয়ম ১৯৪৭-এর অধীনে ১৯৪৮ সালে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ইহার অধীনে ১৭টি মহাবিদ্যালয় ও ৮টি স্নাতকোত্তর বিভাগ ছিল। 

অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়। ১৯০০) সালে ডিসাড়ে ড° জন বেরী হোয়াইটের ৫০,০০০ টাকার অনুদানের পুঁজি দ্বারা বেরী হোয়াইট মেডিকেল স্কুল’ স্থাপন হইয়াছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালের ৩ নভেম্বর তারিখে এই বিদ্যালয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অসম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় নামে নামকরণ করা হইয়াছিল। ১৯৬০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে গুয়াহাটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ করা হইয়াছিল। ১৯৬৮ সালে শিলচর মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হইয়াছিল।

 প্রশ্ন ১২। যোরহাট সার্বজনিক সভার বিষয়ে একটি খতিয়ান দাও।

উত্তৰ : ১৮৮৪ সনে জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে যোরহাট সার্বজনিক সভা স্থাপিত হয়। এই সভার প্রতিস্থাপক সভাপতি ছিলেন রাজকুমার নরনারায়ণ সিংহ এবং সচিব ছিলেন। জগন্নাথ বরুয়া। মূলতঃ ব্রিটিশ সরকারের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার (Assam Land Revenue Regulation) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করার জন্য যোরহাটে অনুষ্ঠিত জনসভায় ইহার সুচনা হইয়াছিল।

যোরহাট সার্বজনিক সভার মুখ্য উদ্দেশ্যসমূহ ছিল জনগণের আশা-আখাঙ্খার বিষয়ে সরকারকে অবগত করানো, সরকারের উদ্দেশ্য এবং নীতি জনগণকে বোঝানো এবং জনসাধারণের অবস্থার উন্নতি সাধন করা। 

এই সভা ১৯০৫ সনের বঙ্গ বিভাজনের তীব্র বিরোধিতা করিয়াছিল। কিন্তু জগন্নাথ বরুয়ার মৃত্যুর পর এই সভার গরিমা এবং মান-মর্যাদা লুপ্ত হয়। 

প্রশ্ন ১৩। ‘রায়ত সভা’-র প্রথম পর্বের ইতিহাস বিবৃত কর। • 

অথবা, 

ইংরাজদের বিরুদ্ধে অসমের বিভিন্ন জায়গায় কীভাবে রায়ত সভাগুলি গড়ে উঠেছিলো ? [

উত্তর ঃ যোরহাটে গঠন হওয়া যোরহাট সার্বজনিক সভার পরবর্তী সময়ে অসমের নগাঁও ও তেজপুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্যোগে রায়ত সভা’ গড়িয়া উঠিয়াছিল। এই ক্ষেত্রে ১৮৮৪- ১৭৮৫ সালে লক্ষ্মীকান্ত বরকাকতী, হরিবিলাস আগরওয়ালা, লম্বোদর বরা, ভবানীচরণ ভট্টাচার্য, জয়দেব শর্মা, লক্ষীকান্ত দাস, মহেন্দ্র দে ও ঠাকুর দাস শর্মার উদ্যোগে ‘তেজপুর রায়ত সভা’ গঠন হইয়াছিল। ঠিক তেমনি ১৮৮৬-৮৭ সালে ‘নিগাঁও রায়ত সভা’র জন্ম হইয়াছিল। 

এই রায়ত সভাসমূহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা প্রবর্তিত নতুন ভূমি নীতি ও রাজস্ব বৃদ্ধিকরণের প্রতিবাদ করা। মূলতঃ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নেতৃত্বে গড়িয়া উঠা এই সভার সমাবেশগুলিতে গ্রামের হাজার হাজার কৃষক অংশগ্রহণ করিয়াছিল। রায়ত সভার নেতৃত্বে ১৮৮৬-৮৭ সালে বহু কয়টি কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। রায়ত সভাসমূহের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রেজিং বন্ধ করা, মাটির খাজনা হ্রাস করা ও পূর্ববঙ্গ হইতে হওয়া প্রব্রজন রোধ করা। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে রায়ত সভাগুলিকে অধিক সক্রিয় ও শক্তিশালী করিতে ১৯৩৩ সালে সদৌ অসম রায়ত সভা’ গঠন করা হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৪। আহোম সভার সংগঠন ও ইহার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তর : ১৮৯৩ সালের মে মাসে পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া ও অন্য সতীর্থসকলের সহযোগে আহোম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন গড়িয়া তুলিবার জন্য আয়োজিত এক সভাতে ‘আহোম সভা’-র জন্ম হয়। এই সভার প্রথম অধিবেশন ১৮৯৩ সালে শিবসাগর জেলায় অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। সংগঠিত হওয়া হইতে প্রায় ৪০ বৎসর কাল আহোম সভার সম্পাদক ছিল পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া। 

এই সভার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ছিল : 

(ক) আহোম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শৈক্ষিক সাংস্কৃতিক অবনতি রোধ করা। 

(খ) আহোম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শৈক্ষিক সাংস্কৃতিক অবনতি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

(গ) অসমে কানির প্রচলন বন্ধ করা।

প্রশ্ন ১৫। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে অসমবাসীর ভূমিকা বা অবদানের বিষয়ে আলোচনা কর।

 অথবা,

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে অসমে কিভাবে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থান হয়েছিল?  

উত্তর ঃ অসমে জাতীয়তাবোধের জাগরণ ঘটিয়াছিল ঊনবিংশ শতিকার শেষভাগে। এই দিকে অসমের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন ‘অসম অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে আরম্ভ করা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে পরে অংশগ্রহণ করে। 

১৯২০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে কংগ্রেসে অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করার সঙ্গে। সঙ্গে অসমেও তরুণরাম ফুকন, নবীনচন্দ্র বরদলৈ, চন্দ্রনাথ শর্মা ও বহু নেতা এই আন্দোলনে ঝাঁপাইয়া পরে। ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীয়ে অসম ভ্রমণ করে ও অসমে বিদেশী বস্ত্রে। আগুন লাগাইয়া নেয়। গান্ধীজির উপস্থিতিতে অসমে স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে। বহু লোক এই আন্দোলনে যোগদান করে। 

তরুণরাম ফুকন, নবীন চন্দ্র বরদলৈ, চন্দ্রনাথ শর্মা আদি নেতাদের প্রচেষ্টাতে অসমে কংগ্রেসের আদর্শ দৃঢ় ভিত্তিতে স্থাপিত হয়। এই দুইজন পুরোধা ব্যক্তির চেষ্টাতে ১৯২৬ সালে গুয়াহাটির পাণ্ডুতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৪১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ইহার ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

১৯২৭ সালে অসমে ‘সাইমন কমিশন’ আসাতে কংগ্রেস এই কমিশন বর্জনের আহ্বান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য প্রদেশের মতে অসমেও কংগ্রেসে এই কমিশন বর্জন করে ও ইহার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। 

১৯৩০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে কংগ্রেস এই কমিশন বর্জন করে ও ইহার প্রতিবাদে 

১৯৩০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আইন অমান্য আন্দোলনে 

১৯৪০ সালে গান্ধীজি যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন করাতে অসমেও গোপীনাথ বরদলৈ প্ৰমুখ্যে বহু নেতা এই আন্দোলনে যোগদান করিয়া কারাবরণ করে। ইংরাজ সরকারের যুদ্ধ নীতির প্রতিবাদে অন্যান্য প্রদেশের মত অসমেও বরদলৈ মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করে। 

১৯৪২ সালের গান্ধীজির ভারত ত্যাগ আন্দোলনে অসমেও ব্যাপক রূপ ধারণ করিয়াছিল। গোপীনাথ বরদলৈকে ধরিয়া বেশ কয়েকজন নেতাকে জেলে পাঠানো হইয়াছিল। বিপ্লবীরা রেল স্টেশান, ডাকঘর, থানা ইত্যাদিতে অগ্নিসংযোগ করে ও সভা-সমিতিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কিশোরী কনকলতা ও তাঁহার সহযোগী মুকুন্দ কাকতি গহপুর থানাতে জাতীয় পতাকা

উত্তোলন করিতে যাইতে পুলিশের গুলীতে প্রাণ হারায়। এছাড়াও বহু যুবক-যুবতী পুলিশের গুলীতে নিহত হয়।

 উপর্যুক্ত আলোচনা হইতে দেখা যায় যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অসমের অবদান অনস্বীকার্য। অসমবাসীর দেশকর্মী নবীন চন্দ্র বরদলৈ, তরুণরাম ফুকন, চন্দ্রকান্ত শর্মা, কুলধর চলিহা প্ৰমুখ্যে মহৎ ব্যক্তিদের অবদান অসমবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করিবে। 

সংক্ষিপ্ত টীকা

(ক) প্রভাত চন্দ্র বরুয়া ঃ প্রভাত চন্দ্র বরুয়া ছিল গৌরীপুরের রাজা। ইনি ‘অসম অ্যাসোসিয়েশনে’-র সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত ছিল। ১৯০৩ সালে মাণিকচন্দ্র বরুয়া সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে ধরিয়া ‘অসম অ্যাসোসিয়েশন’ গড়িয়া তোলার সময় প্রভাতচন্দ্র বরুয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। 

(খ) জগন্নাথ বকয়া : অসমের সুযোগ্য সন্তান জগন্নাথ বরুয়ার জন্ম হইয়াছিল যোরহাটে। ১৮৮৫ সালে যোরহাটে গঠন হওয়া ‘যোরহাট সার্বজনিক সভা’-র প্রতিষ্ঠাপক সম্পাদক ছিল। জগন্নাথ বরুয়ার অশেষ প্রচেষ্টাতে গড়িয়া উঠা এই সভাটিই ছিল অসমের প্রথম সার্বজনিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। 

(গ) তেজপুর রায়ত সভা : যোরহাট সার্বজনিক সভা গঠনের পরবর্তী সময়কালে তেজপুরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকের উদ্যোগে ১৮৮৪-৮৫ সালে ‘তেজপুর রায়ত সভা’ গঠন করা হইয়াছিল। এই সভা গঠনের ক্ষেত্রে লক্ষ্মীকান্ত বরকাকতী, হরিবিলাস আগরওয়ালা, লম্বোদর করা, ভবানীচরণ ভট্টাচার্য, জয়দের শর্মা, লক্ষ্মীকান্ত দাস, মহেন্দ্ৰ দে, ঠাকুর দাস শর্মা। আদি গণ্য-মান্য ব্যক্তিসকল সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিল। এই রায়ত সভা গঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধিকরণের প্রতিবাদ করা। এই রায়ত সভার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বহু কয়টি কৃষক সমাবেশে গ্রাম্যাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক অংশগ্রহণ করিয়াছিল।

 (ঘ) নগাঁও রায়ত সভা : তেজপুর রায়ত সভার সমসাময়িকভাবে ১৮৮৬-৮৭ সালে নগাঁয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সহযোগে ‘নগাঁও রায়ত সভা’ গঠন করা হইয়াছিল। এই সভা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধিকরণের প্রতিবাদ করা। 

(ঙ) আহোম সভা ঃ ১৮৯৩ সালে পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া ও তাঁহার বেশ কিছু সহযোগীর প্রচেষ্টাতে শিবসাগর বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আহোম সভা প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল। এই সভার প্রথম অধিবেশন ১৮৯৩ সালে শিবসাগর জেলাতে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। সংগঠিত হওয়া হইতে প্রায় ৪০ বৎসর ধরিয়া আহোম সভার সম্পাদক ছিল পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া। এই

সংগঠন স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আহোম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শৈক্ষিক সাংস্কৃতিক অবনতি রোধ করা ও উক্ত দিকগুলির উন্নয়ন সাধন করা। এছাড়াও কানি বিরোধী আন্দোলন আহোম সভার এক অন্যতম কার্য ছিল। ১৯১০ সালে এই সভাকে সদৌ অসম আহোম অ্যাসোসিয়েশন’ নামে নামকরণ করা হইয়াছিল। ১৯৫০ সালের পর হইতে এই অ্যাসোসিয়েশন ক্রমশঃ দুর্বল হইয়া পরে। 

(চ) বঙ্গ ভঙ্গ : বঙ্গ ভঙ্গ মানে রঙ্গ দেশটিকে দুইভাগ করিয়া পূর্ববঙ্গকে অসমের সঙ্গে সংলগ্ন করিয়া পূর্ববঙ্গ ও অসম নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হইয়াছিল। মূলতঃ এই বিভাজনের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদীসকলের শক্তি হ্রাস করা। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনে করা এই বঙ্গ ভঙ্গ ১৯০৬ সালে রদ করা হয়। 

(ছ) কানিংহাম সার্কুলার : ১৯৩০ সালের ১৯ মে তারিখে অসমের তদাত্তীন শিক্ষাধিকর্তা জন রিচার্ড কানিংহাম ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন হইতে সরাইয়া রাখার অভিপ্রায়ে একটি সার্কুলার জারি করে। কানিংহামের নামানুসারে এই সার্কুলারটিকে কানিংহাম সার্কুলার’ বলিয়া জানা যায়। এই সার্কুলারের নিয়ম মতে ছাত্র ও তাঁহাদের অভিভাবকেরা কোন ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়াছিল। দোষী সাব্যস্ত হওয়াদের জরিমনা ছাড়াও ছাত্র-বৃত্তি হইতে বঞ্চিত করা হইবে বলিয়া এই সার্কুলারে প্রকাশ করা হইয়াছিল। আইন অমান্য আন্দোলন চলিতে থাকাকালে জারি করা এই সার্কুলারের বিরুদ্ধে অসমের ছাত্র-ছাত্রীসকল তীব্র বিরোধিতা করা ছাড়াও ব্যাপক আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। 

(জ) অসম ছাত্র সম্মিলন : ১৯১৬ সালে গঠন হওয়া অসম ছাত্র সম্মিলন’ অসমের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই সম্মিলনের প্রথম অধিবেশন লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার সভাপতিত্বে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। উক্ত সম্মিলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল অসমিয়া ভাষার উন্নতি সাধন করা। এই সম্মিলনের মুখপত্রটির নাম ছিল মিলন। লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া, কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়া আদি বরেণ্য লোক এই সম্মিলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। পরবর্তীকালে এই সম্মিলন জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছিল।

Leave a Reply