SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-3| অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-3| অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-3| অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-3| অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ‌৩

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর :

প্রশ্ন ১। অসমীয়া কৃষকদের থেকে ভূমি-খাজনা বৃদ্ধি নির্ধারণের বিরুদ্ধে কে মফট মিলসকে আর্জি লিখেছিলেন? 

(ক) মণিরাম দেওয়ান 

(খ) পিয়লি বরুয়া 

(গ) মহাত্মা গান্ধী

(ঘ) আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন 

উত্তর : আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন

প্রশ্ন ২। নগায়ের ফুলগুরিতে কৃষক বিদ্রোহ হইয়াছিল—

(ক) ১৮৬১ সালে 

(খ) ১৮৯৪ সালে

(গ) ১৮৫২ সালে

(ঘ) ১৮৫০ সালে

উত্তর : ১৮৬১ সালে 

প্রশ্ন ৩। রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হইয়াছিল—

(ক) ১৮৯৪ সালে 

(খ) ১৮৯৩ সালে

(গ) ১৮৯২ সালে 

(ঘ) ১৮৫০ সালে 

উত্তর : ১৮৯৩ সালে

প্রশ্ন ৪। নীচের কোন সনে ব্রিটিশরা অসমে দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল ? ] 

(ক) ১৮৪৩ সালে 

(খ) ১৮৫৭ সালে

(গ) ১৮৬০ সালে 

(ঘ) ১৮৬৩ সালে 

উত্তর : ১৮৪৩ সালে। 

প্রশ্ন ৫। দরং জিলার  পথরুঘাটে______কৃষক বিদ্রোহ হইয়াছিল— 

(ক) ১৮৪৩ সালে 

(খ) ১৮৫১ সালে

(গ) ১৮৬৮ সালে 

(ঘ) ১৮৬৭ সালে 

উত্তর : ১৮৬৮ সালে।

প্রশ্ন ৬। মণিরাম দেওয়ানের সঙ্গে আর কাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল?

(ক) জিউরাম দুলীয়া 

(গ) গোমধর কোয়ারকে

(খ) পিয়লি বরুয়াকে 

(ঘ) দুতিরাম বরুয়াকে 

উত্তর : পিয়লি বরুয়াকে 

প্রশ্ন ৭। অসমে বাংলা ভাষা কখন প্রচলিত হইয়াছিল?

(ক) ১৮৩৭ সনে

(খ) ১৮৩৬ সনে

(গ) ১৮৫৮ সনে

(ঘ) ১৮৬২ সনে

 উত্তর : ১৮৩৬ সনে

প্রশ্ন ৮। ১৮৮৪ সনে যোরহাট সার্বজনিক সভাটি কাহার নেতৃত্বে স্থাপিত হইয়াছিল? 

(ক) পদ্মনাথ গোহাঁইবরুয়ার নেতৃত্বে 

(খ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার নেতৃত্বে

(গ) নবীনচন্দ্র বরুয়ার নেতৃত্বে

(ঘ) জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে

 উত্তর : জগন্নাথ বরুয়ার নেতৃত্বে 

প্রশ্ন ৯। কেঞাগণ কাহারা ? 

(ক) বাঙালীরা

(খ) মাদ্রাজীরা 

(গ) মারোয়ারীরা 

(ঘ) একটাও না 

উত্তর : (গ) মারোয়ারীরা। 

প্রশ্ন ১০। ব্রিটিশ সরকার মণিপুরী নাবালক কোঁয়র চূড়চন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করে-

(ক) ১৮৫১ সালে

(খ) ১৮৯৩ সালে

(গ) ১৮৯১ সালে

(ঘ) ১৮৯৪ সালে

উত্তর : ১৮৯১ সালে 

প্রশ্ন ১১। ব্রিটিশ সরকার নগাসকলের বিদ্রোহ দমন করিয়াছিল- 

(ক) ১৮৭৮ সালে

(খ) ১৮৮০ সালে

(গ) ১৮৯০ সালে 

(ঘ) ১৮২৮ সালে 

উত্তর : ১৮৭৮ সালে 

প্রশ্ন ১২। জয়ন্তীয়া রাজ্য রাজেন্দ্র সিংহের হাত হইতে ইংরাজের হাতে যায় –

(ক) ১৮৩৫ সালে 

(খ) ১৮৬২ সালে 

(গ) ১৮৮১ সালে

(ঘ) ১৮৯০ সালে

 উত্তর : ১৮৩৫ সালে

 প্রশ্ন ১৩। ইংরাজেরা কাছার তাহাদের শাসনের অধীন করে—

(ক) ১৮৫০ সালে

(খ) ১৮৯২ সালে

(গ) ১৮৫৭ সালে 

(ঘ) ১৮৫৪ সালে 

উত্তর : ১৮৫৪ সালে। 

প্রশ্ন ১৪। অসমে আফু চাষ বন্ধ করা হয়— 

(ক) ১৮২৬ সালে 

(খ) ১৮৫৭ সালে

(গ) ১৮৬১ সালে 

(ঘ) ১৮২৬ সালে 

উত্তর : ১৮৬১ সালে

প্রশ্ন ১৫। অসম দেশ ব্রিটিশের অধীনে যায়—

(ক) ১৮২৮ সালে 

(খ) ১৮৫৪ সালে 

(গ) ১৮৫৭ সালে

(ঘ) ১৮২৬ সালে

উত্তর : ১৮২৬ সালে

 প্রশ্ন ১৬। আহোম রাজা কামেশ্বর সিংহের মৃত্যু হয়—

(ক) ১৮২৬ সালে 

(খ) ১৮৫৭ সালে 

(গ) ১৮৫১ সালে 

(ঘ) ১৮৫৪ সালে 

উত্তর : ১৮৫১ সালে

প্রশ্ন ১৭। মণিরাম দেওয়ানকে ফাঁসি দেওয়া হইয়াছিল—

(ক) ১৮৫৭সালে

(খ) ১৮৫৮সালে

(গ) ১৮৬১ সালে

(ঘ) ১৮৯৪ সালে 

উত্তর : ১৮৫৮ সালে 

প্রশ্ন ১৮। ১৮২৮ সালে ইংরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা প্রথম অসমিয়া ব্যক্তি হইল— 

(ক) গোমধর কোয়র

(খ) পিয়লি ফুকন 

(গ) গোমধর ফুকন 

(ঘ) কুশল কোঁয়র 

উত্তর : গোমধর ফুকন 

প্রশ্ন ১৯। কলিকাতা উচ্চ ন্যায়ালয়ের মুখ্য ন্যায়াধীশ ছিল—

(ক) ক্যাপ্টেন হলরয়েড 

(খ) লেফটেনেন্ট সিংগার 

(গ) লেফটেনেন্ট হাবার্ড স্কল 

(ঘ) মফট মিল্স

উত্তর : মফট মিল্স 

প্রশ্ন ২০। ভারতে স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রয়োগ করিয়াছিল— 

(ক) লর্ড ডালহৌসি 

(খ) লর্ড ওয়েলেসলি 

(গ) জে.ডব্লিউ. কুইণ্টন

(ঘ) লেফটেনেন্ট সিংগার

 উত্তর : লর্ড ডালহৌসি 

প্রশ্ন ২১। ফুলগুরি নামক স্থানটি বর্তমানে কোন জেলায় অবস্থিত ? 

(ক) নদীমপুর 

(খ) নগাঁওতে 

(গ) দরং-এ 

(খ) মলবারীতে 

(ক) উত্তর : নগাঁওতে 

প্রশ্ন ২২। জ্ঞান প্রদায়িনী সভার প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল— 

(ক) ১৮২৬ সনে

(খ) ১৮৫৭ সনে

(গ) ১৮৬৮ সনে

(ঘ) ১৮৭৩ সালে

 (ক) উত্তর : ১৮৫৭ সনে 

প্রশ্ন ২৩। জোনাকীর প্রথম সম্পাদকের নাম ছিল—

(ক) চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা 

(খ) লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া

(গ) হেমচন্দ্ৰ গোস্বামী

(ঘ) অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী

 উত্তর : চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা

প্রশ্ন ২৪। যোরহাট সার্বজনিক সভা প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল—

(ক) ১৮৮৮ সালে

(খ) ১৮৭৩ সালে 

(গ) ১৮৮৫ সালে 

(ঘ) ১৮৮৪ সালে 

উত্তর : ১৮৮৪ সালে

প্রশ্ন ২৫। কত সালে অসমীয়া ভাষাকে স্কুল, অফিস কাছারীতে মাধ্যম হিসাবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল ? 

(ক) ১৮৬২ সালে

(খ) ১৮৭২ সালে

(গ) ১৮৭৩ সালে 

(ঘ) ১৮৩৭ সালে 

উত্তর : ১৮৭৩ সালে

প্রশ্ন ২৬। আহোমের শেষ রাজা ছিল—

(ক) কামেশ্বর সিংহ 

(খ) চন্দ্ৰকান্ত সিংহ

(গ) কন্দপেশ্বর সিংহ

(ঘ) পুরন্দর সিংহ

 উত্তর : কন্দর্পেশ্বর সিংহ 

প্রশ্ন ২৭। ভারতবর্ষে বশ্যতামূলক নীতির প্রবর্তন করিয়াছিল—

(ক) ডালহৌসি 

(খ) লর্ড ওয়েলেসলি

(গ) লর্ড রিপন 

(ঘ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক 

উত্তর : লর্ড ওয়েলেলি

প্রশ্ন ২৮। অসমে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়াছিলেন— 

(ক) মণিরাম দেওয়ান 

(গ) পিয়লি বরুয়া

(খ) কন্দপেশ্বর সিংহ 

(ঘ) বাহাদুর গাঁওবু 

উত্তর : মণিরাম দেওয়ান 

প্রশ্ন ২৯। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহী মারাঠা নেতা ছিল— 

(ক) নানা সাহেব 

(খ) দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ 

(গ) তাঁতিয়া টোপী

(ঘ) কান্সির রাণী লক্ষ্মীবাঈ

উত্তর : তাঁতিয়া টোপী 

প্রশ্ন ৩০। মফট্ মিলচ্ কখন অসমে আসিয়াছিলেন ? 

(ক) ১৮৫১ সনে

(খ) ১৮৫৭ সনে 

(গ) ১৮৫৩ সনে 

(ঘ) ১৮৫৯ সনে 

উত্তর : (গ) ১৮৫৩ সনে। 

প্রশ্ন ৩১। লালুং বুলিতে কোন জনজাতিকে বুঝানো হয়? 

(ক) তিওয়া 

(খ) কছারী 

(গ) রাভা 

(ঘ) দেউরী 

উত্তর : (ক) তিওয়া। 

প্রশ্ন ৩২। পথরুঘাট কোন জেলায় অবস্থিত ? 

(ক) নগাঁও

(খ) দরং 

(গ) নলবারী

(ঘ) মরিগাও

উত্তর : (খ) দরং। 

 প্রশ্ন ১। ব্রিটিশের শাসন প্রতিষ্ঠার পর অসমের রাজস্ব সংগ্রহ পদ্ধতির কি পরিবর্তন অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও হইয়াছিল ?

উত্তর : ব্রিটিশের শাসন প্রবর্তন হওয়ার পর হইতেই অসমে টাকার মাধ্যমে মাটির খাজনা ও কর সংগ্রহ করা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ২। কোন্ সালে মফত মিল্‌স অসমে আসিয়াছিল ?

উত্তর : ১৮৫৩ সালে। 

প্রশ্ন ৩। কেঞাসকল কে ছিল? 

উত্তরঃ মারোয়ারিদের কেঞা বলা হইত। 

প্রশ্ন ৪। অসমে সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়াছিল ?

 উত্তর : মণিরাম দেওয়ান।

প্রশ্ন ৫। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে অসমের বিদ্রোহীসকল কোন্ আহোম রাজকুমারকে আবার আহোম সিংহাসনে বসাইতে খুজিয়াছিল ? 

উত্তর : পুরন্দর সিংহের নাতি কন্দর্পেশ্বর সিংহকে। 

প্রশ্ন ৬। মণিরাম দেওয়ানকে কোন বাঙালী মুক্তিয়ার সাহায্য করিয়াছিল ? 

উত্তর : মধুমল্লিক নামের বাঙালী মুক্তিয়ার।

প্রশ্ন ৭। মণিরাম দেওয়ানের সঙ্গে কাকে ফাঁসিকাঠে ঝুলিতে হইয়াছিল? 

উত্তর : পিয়লি বরুয়া। 

প্রশ্ন ৮। কে মণিরাম দেওয়ানের বিচার করিয়াছিল?

 উত্তর : ক্যাপ্টেন হলরয়ড।

 প্রশ্ন ৯। অসমের ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের বিফলতার দুইটি কারণ উল্লেখ কর। 

উত্তর : অসমে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ বিফল হওয়ার কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে 

(ক) বিদ্রোহের সমর্থকসকল কেবল যোরহাট ও শিবসাগরে সীমাবদ্ধ ছিল। তাহারা নগাঁও, কামরূপ আদি হইতে কোনো সমর্থন পায়নি। 

(খ) নগাওঁ তথা কামরূপ হইতে কোনো সহানুভূতি পায়নি।

(গ) তাহাদের অস্ত্র-শস্ত্রের অভাব ছিল।

প্রশ্ন ১০। কোন্ কোন্ সালে টিকিট কর ও আয়কর প্রবর্তন করা হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৮৫৮ সালে টিকিট কর, ১৮৬০ সালে আয়কর প্রবর্তন করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ১১। ব্রিটিশের দিনে অসমের কৃষকের দুরবস্থার দুইটি কারণ লিখ। 

উত্তর : (ক) ব্রিটিশ সরকারের অত্যধিক রাজস্ব সংগ্রহে কৃষকের অবস্থা খারাপ করিয়াছিল।

(খ) ব্রিটিশ সরকার কৃষি তথা কৃষকের উন্নতির অর্থে কোনো ব্যবস্থা করে নাই।

 প্রশ্ন ১২। লেফটেনেন্ট সিঙ্গার কে ছিল ?

 উত্তর : লেফটেনেণ্ট সিঙ্গার নগাঁয়ের সহকারী উপায়ুক্ত ছিল।

 প্রশ্ন ১৩। ফুলগুরির ধারা কবে সংঘটিত হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৮৬১ সালের ১৮ অক্টোবর তারিখে।

প্রশ্ন ১৪। রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হইয়াছিল?

 উত্তর : ১৮৯৩ সালের ২৪ ডিসেম্বরে।

 প্রশ্ন ১৫। লসিমা কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : পুরোনো কামরূপ জেলার সরুক্ষেত্রী মৌজায়। 

প্রশ্ন ১৬। লসিমার কৃষক বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৮৯৪ সালের ২১ জানুয়ারিতে। 

প্রশ্ন ১৭। পথরঘাটের কৃষক বিশেহ করে হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৮৯৪ সালের ২৭ জানুয়ারি তারিখে।

 প্রশ্ন ১৮। ১৮৬১ সালে জয়ন্তীয়া বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়াছিল?

 উত্তর : ওকিয়াং নংবাহ। 

প্রশ্ন ১৯। ১৮৮১ সালে উত্তর কাছারের জনজাতীয় বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়াছিল? 

উত্তর : সম্বোধন কছারী। 

প্রশ্ন ২০। টিকেন্দ্রজিতকে কে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করিয়াছিল ? 

উত্তর : ব্রিটিশ সরকার। 

প্রশ্ন ২১। জে. ডব্লিউ. কুইন্টনকে কত সালে হত্যা করিয়াছিল ? 

উত্তর : টিকেন্দ্রজিৎ সিঙের নেতৃত্বে মণিপুরী বিদ্রোহীর হাতে ১৮৯১ সালে। 

প্রশ্ন ২২। কোন্ আহোম রাজার দিনে মণিরাম দেওয়ান দেওয়ান হিসাবে যোগদান করিয়াছিল ? 

উত্তর : আহোম রাজা পুরন্দর সিংহের দিনে। 

প্রশ্ন ২৩। কোন্ সালে ব্রিটিশ সরকার অসমে আফু খেতি বন্ধ করে? 

উত্তর : ১৮৬১ সালে। 

প্রশ্ন ২৪। উত্তর কাছারের বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে বহন করিয়াছিল ? 

উত্তর : সম্বোধন কাছারী। 

প্রশ্ন ২৫। উত্তর কাছারের বিদ্রোহের কেন্দ্রস্থল কোথায় ছিল? 

উত্তর : মাইবঙে।

প্রশ্ন ২৬। মণিপুরের বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়াছিল?

উত্তর : টিকেন্দ্রজিৎ।

প্রশ্ন ২৭। ব্রিটিশ কোন মণিপুরী রাজকুমারকে মণিপুরের রাজা ঘোষণা করিয়াছিল? 

উত্তর : মণিপুরী রাজকুমার চূড়চন্দ্রকে। 

প্রশ্ন ২৮। ব্রিটিশেরা কত সালে গোমধর কোয়রকে ফাঁসি দিয়াছিল ?

উত্তর : ১৮২৮ সালে।

প্রশ্ন ২৯। ফুলগুরির বিদ্রোহ কি কারণে সংঘটিত হইয়াছিল?

উত্তর : আফুখেতি সরকার বন্ধ করিয়া দেওয়ার জন।

প্রশ্ন ৩০। ব্রিটিশ সরকার মাটির খাজনা ও কর কিসের মাধ্যমে সংগ্রহ করিয়াছিল?

 উত্তর : মুদ্রার মাধ্যমে।

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ৩১। ভূমির খাজনা রেহাই দেওয়ার জন্য আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন কোন ব্রিটিশ 89 সাহেবকে আর্জি দিয়াছিল ?

উত্তর : মফট মিল্‌স সাহাবকে। 

প্রশ্ন ৩২। অসমে চা বাগান কে স্থাপন করিয়াছিল?

উত্তর : ইংরেজেরা।

প্রশ্ন ৩৩। কোন সালে অসমে দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটে ? 

উত্তর : ১৮৪৩ সালে। 

প্রশ্ন ৩৪। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ প্রথমে কোথায় আরম্ভ হইয়াছিল ? 

উত্তর : মিরাটে। 

প্রশ্ন ৩৫। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় মোগল সম্রাট কে ছিল ?

 উত্তর : দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ।

প্রশ্ন ৩৬। মণিরাম দেওয়ানের ফাঁসির হুকুম কে জারি করে ? 

উত্তরঃ ক্যাপ্টেন হলরয়ড।

প্রশ্ন ৩৭। মণিরাম দেওয়ানকে কোন কারাগারে াসি দেওয়া হইয়াছিল ? 

উত্তর : যোরহাট কারাগারে।

 প্রশ্ন ৩৮। কন্দর্পেশ্বর সিংহকে কোন্ জেলে রাখা হইয়াছিল ? 

উত্তর : বর্ধমান জেলে। 

প্রশ্ন ৩৯। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় ইংল্যাণ্ডের রাণী কে ছিল ?

 উত্তর : মহারাণী ভিক্টোরিয়া।

প্রশ্ন ৪০। মণিরাম দেওয়ানের প্রকৃত নাম কি ছিল? 

উত্তর : মণিরাম বরভাণ্ডার বরুয়া।

প্রশ্ন ৪১। অসমে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ হওয়ার মূল কারণ কি ছিল ? 

উত্তর : (ক) ব্রিটিশ সরকার অসমে নিয়মিতভাবে বসানো কর বহাল রাখা ছাড়াও নতুন করিয়া আবার কর ও রাজহ সংগ্রহ করিয়া সরকারের আর্থিক দিকটি সবল করিতে চাহিয়াছিল, যার জন্য কৃষকসকল বিদ্রোহী হইয়াছিল। 

(খ) আফু চাষ ব্রিটিশ সরকার বন্ধ করাতে বিশেষ করিয়া ভিওয়া জনজাতিসকল বিদ্রোহ করিতে বাধ্য হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৪২। ফুলগুরির বিদ্রোহ করে হইয়াছিল? এই বিদ্রোহের দুইটি কারণ লিখ। 

উত্তর : ১৮৬১ সালে নগাঁয়ের কিছু দূরে ফুলগুরিতে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এক কৃষক বিদ্রোহ হইয়াছিল। এই বিদ্রোহ বিশেষ করিয়া তিওয়া জনজাতিসকল করিয়াছিল। এই বিদ্রোহের দুইটি কারণ হইল— 

(ক) ব্রিটিশের ভারত সরকার ১৮৬১ সালে অসমে আয়কর, লাইসেন্স কর বসানোর জন্য।

 (খ) অসমে আফু চাষ বন্ধ করিয়াছিল ও পান-তাম্বুলের উপরেও কর বসানোর জন্য লওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে।

 প্রশ্ন ৪৩। মণিরাম দেওয়ান কে ছিল? তাঁহাকে কোথায় এবং কবে ফাঁসি দেওয়া হইয়াছিল?

 উত্তর : (ক) মণিরাম দেওয়ান একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ছিল। 

(খ) তাহাকে যোরহাটে ১৮৫৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে ইংরাজ ফাসি দিয়াছিল।

প্রশ্ন ৪৪। অসমে সিপাহি বিদ্রোহ সংগঠিত করাতে মণিরাম দেওয়ানের সহযোগীসকল কে ছিল? 

উত্তর : পিয়লি বরুয়া, মায়ারাম বরুয়া, চিত্রসেন বরুয়া, জীতরাম দুলীয়া বরুয়া, বাহাদুর গাঁওবুঢ়া, ফরমুদ আলি, মধুরাম কোচ আদি লোকসকল। 

প্রশ্ন ৪৫। অসমে কৃষক বিদ্রোহের উত্থান হওয়ার মূল কারণ তিনটি উল্লেখ কর ?

 উত্তর : অসমে কৃষক বিদ্রোহ উত্থান হওয়ার তিনটি মূল্য কারণ হইল : 

(ক) কৃষকদের উপর অধিক করের বোঝা চাপাইয়া দেওয়া।

 (খ) কৃষকদের নিকট হইতে অধিক কর সংগ্রহ করার পরও কৃষি তথা কৃষকের উন্নতির জন্য ফলপ্রসূ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

(গ) এমন কি বিদেশী সরকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী এমন কি দুর্ভিক্ষের সময়ে ও কৃষকদের কর প্রদান হইতে রেহাই দেয় নাই, যাহার ফলে কৃষকেরা খুবই অসন্তুষ্ট হইয়াছিল। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ভারতের ১৮৫৭-৫৮ সনের বিদ্রোহের কারণগুলি এবং অসমে এর প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা কর।

উত্তর : আধুনিক ভারতের ইতিহাসে ১৮৫৭ সন এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য বৎসর। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে থাকা ভারতীয় সেনা এই বৎসরেই বিদ্রোহ ঘোষণা করিয়াছিল এবং ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসনের ভিত কাঁপাইয়া তুলিয়াছিল। ভারতে এই বিদ্রোহ ঘোষণা করার প্রধান কারণগুলি হইল

(ক) লর্ড ওয়েলেসলির বশ্যতামূলক মিত্রতা নীতি 

(খ) লর্ড ডালহৌসীর স্বত্ব বিলোপ নীতি, 

(গ) বিভিন্ন দূর্দশার প্রতিবাদে ১৮৫৭ সনের ১০ মে তারিখে মিরাটের ভারতীয় সৈন্যগণ বিদ্রোহ ঘোষণা করিয়াছিল। এই বিদ্রোহী সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ সমর্থন করিয়া ভারতীয় বঞ্চিত শাসকগণ এই বিদ্রোহকে শক্তিশালী করিয়া তুলিয়াছিল। তাতিয়া টোপী, ঝান্সি রাণী লক্ষ্মীবাঈ ইত্যাদি এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়াছিলেন। 

১৮৫৭ সনের বিদ্রোহ অসমের অভিজাত শ্রেণীকে ব্রিটিশ শাসন ত্যাগ করিয়া পূরাতন রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার এক সোনালী সুযোগ প্রদান করিয়াছিল। সেইজন্য এই বিদ্রোহ অসমেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিয়াছিল। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় কিছু সংখ্যক লোক অসমে অবস্থান করা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে থাকা ভারতীয় সেনার মধ্যে অসন্তুষ্টি ছড়াইয়া অসমেও সিপাহী বিদ্রোহের উত্থান ঘটাইয়া তাহাদের সাহায্যে ইংরাজদের তাড়াইয়া আহোম শাসন

প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করিয়াছিল । 

বরাক উপত্যকাতেও চিটাগঞ্জ হইতে আসা সিপাহীগণ বিদ্রোহের সূচনা করিয়াছিলেন। 

ডিব্রাড়ের আসাম লাইট ইন ফ্রেন্ট্রী এবং গুয়াহাটীর দ্বিতীয় আসাম লাইট ইন ফ্রেণ্ড্রীর সৈন্যগণও পরে অসমে বিদ্রোহের সূচনা করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ২। অসমে ১৮৫৭-৫৮ সালের বিদ্রোহে মণিরাম দেওয়ানের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা কর। 

উত্তরঃ ১৮৫৭-৫৮ সনের বিদ্রোহে মণিরাম দেওয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিলেন। অসমের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুঃখ-দুর্দশা যে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দ্বারা দূর করিতে পারা যাইবে না তিনি ইহা ভালভাবেই উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিলেন। এই সময় মণিরাম কলিকাতায় থাকা অবস্থায় মিরাটে সংগঠিত বিদ্রোহের খবর পান এবং অসমেও এইরূপ বিদ্রোহ আরম্ভ করার বিষয়ে চিত্তাচর্চা আরম্ভ করেন। 

এই পরিস্থিতিতে মণিরাম অসমে চারিং-এর রাজা কন্দর্পেশ্বর সিংহ, আহোম বিশিষ্ট ব্যক্তি, কমলাবাজির সত্রাধিকার প্রভৃতি বহু লোককে কলিকাতা হইতে পত্রযোগে বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত হইতে পরামর্শ দিয়াছিলেন। এমনকি তিনি কলিকাতা হইতে সর্বপ্রকার খবরাখবর লিখিয়া চিঠির মাধ্যমে বিশেষ সূত্রের দ্বারা চারিং-এর রাজা কন্দর্পেশর নিছে, পিয়লি বরুয়া, মধুমল্লিক, মহীধর মুক্তিয়ার, উর্বিধর বরুয়া, কৃষ্ণকান্ত গোস্বামী প্রভৃতিকে অসমেও বিদ্রোহের ঘণ্টা বাজাইতে উৎসাহিত করিয়াছিলেন। ইতিমধ্যে পিয়লি বরুয়া এবং নির্মল হাজারী, কন্দর্পেশ্বর সিংহের পরামর্শমতে গোলাঘাটে থাকা সিপাহীদের সঙ্গে আলোচনা করিয়া বিদ্রোহ সম্বন্ধে বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং কার্যসূচী প্রস্তুত করিয়াছিলেন। বিদ্রোহী নেতাদের এই প্রস্তুতির ধ্বর লাভ করায় সরকারী পক্ষে যথেষ্ট ত্রাসের সৃষ্টি হইয়াছিল। কিন্তু বিদ্রোহের নেতা ও তাহাদের সহযোগী সিপাহীদের পরিকল্পনা মত কার্যে অগ্রসর হওয়াতে যথেষ্ট দেরী করিয়াছিল। এই সন্ধিক্ষণে বিদ্রোহের নেতা কন্দর্পেশ্বর সিংহ এবং মধুমল্লিক গ্রেফতার হইয়াছিলেন। ইতিমধ্যে ১৮৫৭ সনের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকেই ক্যাপ্টেন হলরয়েড কলিকাতা হইতে প্রেরিত মণিরাম দেওয়ানের যথেষ্ট সংখ্যক চিঠি-পত্ৰ হস্তগত করিয়াছিলেন। এইদিকে কন্দর্পেশ্বর সিংহকে গ্রেফতার করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কলিকাতায় মণিরাম দেওয়ানকেও গ্রেফতার করিয়া কিছুদিন আলিপুর জেলে আবদ্ধ করিয়া রাখার পর “কোলাডাউন” জাহাজে করিয়া অসমে আনিয়া জোড়হাটে রাজদ্রোহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করিয়া বিচার করার ব্যবস্থা করিয়াছিল। বিচারে মণিরাম দেওয়ানকে রাজদ্রোহের অপরাধে ফাঁসি দিয়া হত্যা করা হয়।

প্রশ্ন ৩। কি কি কারণে অসমে ১৮৫৭-৫৮ সালের বিদ্রোহ ব্যর্থ হইয়াছিল আলোচনা কর।

 অথবা, 

অসমে ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের বিফলতার তিনটি কারণ উল্লেখ কর। 

উত্তর : ১৮৫৭-৫৮ সনে অসমে সংগঠিত বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণসমূহ ছিল

(ক) বিদ্রোহীদের সময় জ্ঞানের অভাব ও বিদ্রোহীগণ বিদ্রোহের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার পূর্বেই ইহা প্রকাশ করিয়া নিয়াছিল। এইজন্যই তাহারা ইংরাজ সরকারকে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতির সময় দিয়া নিজের বিপদ ডাকিয়া আনিয়াছিল। 

(খ) বিদ্রোহী নেতা মণিরাম দেওয়ানের বিদ্রোহের জন্য প্রয়োজনীয় গুণ তথ্য দক্ষতার অভাব ছিল। তিনি প্রতিপক্ষের ক্ষমতা তথা বুদ্ধিমত্তাকে হেয় জ্ঞান তথা অবজ্ঞা করাও বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ ছিল। 

(গ) বিদ্রোহের সমর্থকগণ কেবল শিবসাগর ও জোড়হাট জেলায় সীমাবদ্ধ ছিল। নগাঁও, কামরূপ বা গুয়াহাটীতে ইহার বিশেষ কোন সমর্থক ছিল না।

 (ঘ) নগাও বা গুয়াহাটীর উদীয়মান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এই বিদ্রোহের প্রতি সহানুভূতি ছিল না এবং এইজন্য এই বিদ্রোহ অসমে সাফল্য লাভ করিতে পারে নাই। বাঙালী লোককে নিয়োজিত করার ফলে পূর্বের আহোমদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুতহারে কর্মসংস্থান হারাইয়া ক্ষুদ্ধ হইয়া পরিয়াছিলেন।

(ঙ) দাস প্রথার বিলুপ্তি : ১৮৪৩ সনে অসমে দাস প্রথার বিলুপ্তি হওয়ায় তখনকার অভিজাত শ্রেণী দাসসেবা হইতে বঞ্চিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে তাঁহাদের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সঞ্চার হইয়াছিল। কেননা এই ব্যবস্থার ফলে এক রাত্রির মধ্যেই তাঁহাদিগকে সাধারণ শ্রমজীবী লোকের শাড়ীতে নামাইয়া আনিয়াছিল। 

(চ) নিষ্কর ভূমিতে খাজনা আরোপ: কোম্পানী সরকার নিষ্কর ভূমির উপর খাজনা বসানোর জন্য ব্রাহ্মণ, পুরোহিত, সর্বাধিকারীগণ এই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হইয়া পরিয়াছিলেন। ঐতিহাসিক ড° হেরম্বকান্ত বরপূজারীর উল্লেখ অনুযায়ী পাইক, লওয়া- লিকাটী এবং নিষ্কর ভূমি হইতে বঞ্চিত উজান অসমের যথেষ্ট সংখ্যক পুরোহিত ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের সময় মণিরাম দেওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা করিয়া ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিলেন। 

উপরোক্ত আলোচনা হইতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের পূর্বে প্রায় ৩০ বৎসর ধরিয়া চলা কোম্পানীর শাসন অসমের কোনো জনসাধারণকে সন্তুষ্ট করিতে পারে নাই। কিন্তু তবুও উপরোক্ত কারণসমূহের জন্য এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। 

প্রশ্ন ৪। অসমে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর : অসমে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের গুরুত্ব সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হইল।

(ক) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ যদিও ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে দমন করিতে সক্ষম হইয়াছিল, অসমের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য এক সর্বভারতীয় ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অসম জড়িত হইয়াছিল। 

(খ) ১৮৬১ সাল হইতে অসমে আরম্ভ হওয়া কৃষক বিদ্রোহসমূহ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহেরই প্রতিক্রিয়া।

(গ) অসমেও হিন্দু ও মুসলমান—এই দুইটি প্রধান সম্প্রদায় একজোট হইয়া বিদ্রোহে আশগ্রহণ করিয়া জাতীয়তাবোধের বিকাশে ইন্ধন যোগাইয়াছিল। 

(ঘ) ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ হইতে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যান্য সংগ্রামীদের মত অসমিয়া সংগ্রামীরাও মণিরাম দেওয়ান তথা সহযোগীদের কর্মের দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৫। ফুলগুরি বিদ্রোহের উপরে একটি টীকা লিখ।

উত্তর : ১৮৬১ সালে নগাঁয়ের কিছু দূরে ফুলগুরি নামে জায়গায় ব্রিটিশের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ হইয়াছিল। এই বিদ্রোহকে ফুলগুরির বিদ্রোহ নামে জানা যায়। ১৮৬১ সালে সরকার আয়ু চাষ বন্ধ করাতে এই অঞ্চলের বিশেষ করিয়া তিওয়া জনজাতির লোকসকল ক্ষুব্ধ হইয়া পরিয়াছিল। কেননা তাঁহাদের জীবিকার একমাত্র সম্বল ছিল আফু চাষ। তাই ১৮৬১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রায় ১৫০০ জন কৃষক একসঙ্গে আফু চাষ বন্ধ করার সঙ্গে সরকার পান-তাম্বুলের উপরেও কর লাগানোর সিদ্ধান্তের বিপরীতে প্রতিবাদ করিতে একজোট হইয়াছিল। সেই সময়ের নগায়ের সহকারী উপায়ুক্ত লেফটেনেন্ট সমবেত স্থলীতে উপস্থিত হইয়া বিদ্রোহীদের সভাস্থলী আগ করিতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহীসকল উত্তেজিত হয় ও সিংগারকে হত্যা করিয়া কলং নদীতে ভাসাইয়া দেয়। এই ঘটনাকে ফুলগুরির ধাওয়া নামে জানা যায়।

 এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বহু কৃষককে হত্যা করে, কিছু অভিযুক্তকে দীর্ঘসময়ের জন্য কলিয়াপানীতে প্রেরণ করে। 

প্রশ্ন ৬। রঙ্গিয়ার কৃষক বিদ্রোহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লেখো। 

উত্তর ঃ ১৮৯৩ সনের ২৪ ডিসেম্বর রঙিয়া বাজার লুটপাত করিয়া কৃষক বিদ্রোহের সূচনা হয়। ৩০শে ডিসেম্বরের দিন কয়েক শত কৃষক রঙিয়া এবং তামুলপুত্রের তহশিলদার রাধানাথ বরুয়াকে সাধারণভাবে লাঞ্ছনা করে। ইহাছাড়া রঙিয়া বাজারের ঘর-বাড়ী ভাঙ্গিয়া লণ্ডভণ্ড করার সঙ্গে মারোয়ারী সুদখোর মহাজনের মাটি বন্ধকের নথি-পত্র লুট করে। নরকার সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষকের সমাবেশ দেখিয়া পুলিশ অধীক্ষক বেইলী কোন কৃষককে গ্রেপ্তার করিতে সাহস করে নাই। ১৮৯৪ সনের ৮ জানুয়ারি পুলিশ জনসমাগম হইতে ১৫ জনে কৃষককে গ্রেপ্তার করে। প্রায় ৩০০০ কৃষক উপায়ুক্ত মেক কেরিকে তাহাদের দুঃখ-দুর্দশা জানাইতে একত্রিত হইয়াছিল। কিন্তু উপায়ুক্ত তাহাদের ধর্ণা পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইতে বলিলেও তাহরা ঐ স্থান পরিত্যাগ না করিয়া শুধু মাত্র গ্রেপ্তার হওয়া কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানাইয়াছিল। ইহা না শুনিয়া উপায়ুক্ত তাহাদের মধ্যে কয়েকজন নেতাকে আলোচনার জন্য পাঠাতে বলায় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হইয়া জানাইল যে, তাহারা বর্ধিত হারে খাজনা দিতে পারিবে না এবং জের করিয়া থানায় প্রবেশ করিতে চেষ্টা করে। পরিশেষে আয়ুক্ত গুলী করার আদেশ দিয়া চলিয়া যান। অবশেষে বিদ্রোহীদের কয়েকজনকে পুলিশে নিযুক্তি দিয়া সরকারকে খাজনা দেওয়ার জন্য বাধ্য করায়। ফলে ১০,০০০ টাকার খাজনার মধ্যে ৬০,০০০ টাকার খাজনা উঠাইতে সমর্থ হয়। এইভাবেই রঙিয়ার কৃষক বিদ্রোহের অন্ত হয়। তবে নলবারী, বরমা, বজালী ইত্যাদি স্থানে কৃষকেরা সক্রিয় হইয়াছিল এবং সরকারকে রাজস্ব সংগ্রহে বাধা প্রদান করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৭। ১৮৯৪ সালে উত্তর কামরূপে সংঘটিত হওয়া কৃষক বিদ্রোহ সম্পর্কে আলোচনা কর। 

উত্তর : ১৮৯৪ সনের জানুয়ারি মাসে নলবাড়ির নিকটবর্তী কদমতলা নামক স্থানে এক জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত করিয়া জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ উত্তর কামরূপের হাজার হাজার কৃষকের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হইয়াছিল। জনসমাবেশকে বাধা প্রদান করিবার জন্য কামরূপ জেলার জেলাধিপতি আর, বি, মেকাবে এবং রেইলী নামক একজন পুলিশ আধিকারিক পূর্ব হইতেই অবস্থান করিয়াছিলেন। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হইয়া পড়িয়াছিল। কিন্তু সরকারী ভাষ্যমতে এই সংঘর্ষে কোন লোক হতাহত হয় নাই।

 বরমাতেও জনসম্মিলনের নেতৃত্বে “লাঠিয়াল বাহিনী” গড়িয়া তোলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ডাক পিয়ন নিযুক্তির ব্যবস্থা করিয়া গোয়েন্দাগিরির ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা হইয়াছিল। বজালি অঞ্চলে লাচিয়া, চৌখুটি, পানাগাঁও, সৰ্থেবাড়ি, পাথরকুচি প্রভৃতি স্থানে হাজার হাজার কৃষক জনসম্মিলনে যোগদান করিয়াছিল। এই অঞ্চলের বৃহৎ জনসম্মিলন পানাগাঁও-এর চরে বসিয়াছিল, যেখানে জনগণকে অশালীন ব্যবহার করার অপরাধে বড়পেটার তদানীন্তন মহকুমাধিপতি মাধবচন্দ্র বরদলৈকে ৫ টাকা জরিমানা করিয়া ছাড়িয়া দিয়াছিল। অপরপক্ষে কাপলাগাঁও-এ বলপূর্বকভাবে খাজনা আদায় করার অপরাধে জনগণ। মৌজাদার দাসোরাম চৌধুরী এবং হলিরাম মিশ্র মণ্ডলকে মারধর করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৮। ১৮৯৪ সালে পথৰুঘাটে সংঘটিত হওয়া কৃষক বিদ্রোহের একটি বিবরণ দাও।, 

উত্তর ঃ ১৮৯৪ সনের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ দরং জিলার পথরুঘাটে এক ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হইয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার বর্ধিত হারে খাজনা নির্ধারণ করার জন্য মঙ্গলদৈ মহকুমার কলাইগাঁও, মঙ্গলদৈ, ছিপাঝার এবং পথঘাট তহশীলের কৃষকরা জনসম্মিলনে মিলিত হইয়া এই বিদ্রোহের সূচনা করিয়াছিল। এইভাবে নিজ নিজ এলাকায় জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত করিয়া জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ হইতে ২৯ তারিখ পর্যন্ত তিনদিনের এক বৃহৎ জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে পথঘাটে মিলিত হইয়াছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই জনসম্মিলন প্রতিহত করিবার জন্য পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর মোট ৩২ জন লোককে লইয়া পুলিশ অধীক্ষক জে, আর, বেরিংটন পথঘাটে উপস্থিত হন। সমবেত কৃষকরা বিশেষতঃ পুলিশের সাহায্যে খাজনা না দেওয়া কৃষকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা কার্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উষ্ণ সংঘর্ষে পথরুঘাটে সরকার পক্ষের আক্রমণে বহু বিদ্রোহী কৃষক নিহত হইয়াছিল। সরকারী হিসাব মতে কৃষকদের মধ্যে ১৫ জন কৃষক মৃত্যুবরণ করিয়াছিল এবং অন্য ৩৭ জন কৃষক আঘাতপ্রাপ্ত হইয়াছিল। সরকারী ভাষ্যমতে জনসম্মিলন তথা বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করার অপরাধে মোট ৩৭ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করিয়া বিচার করা হইয়াছিল। এই বিদ্রোহের অন্ত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঊনবিংশ শতকের কৃষক বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে।

প্রশ্ন ৯। ইতিহাসে ফুলগুরি ধাওয়ার (যুদ্ধ) গুরুত্ব আলোচনা কর।  

উত্তর ঃ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ফুলগুরি যুদ্ধকে আফিং চাষের বিরুদ্ধে কৃষকদের একটি সাধারণ যুদ্ধ বলিয়া অভিহিত করিয়াছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অসমের ইতিহাসে ফুলগুরি যুদ্ধের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। 

প্রথমতঃ ফুলগুরির কৃষক বিদ্রোহ লালুং এবং মৎস্যজীবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তাহা অসমের বিভিন্ন স্থানে ছড়াইয়া পরে। কৃষকেরা মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী, মৌজাদার ইত্যাদি শ্রেণীর লোকদের নিকট হইতে যথেষ্ট পরিমাণে সমর্থন এবং সাহায্য পাইয়াছিল। পরিশেষে এই বিদ্রোহ সফল হইয়াছিল। কারণ ব্রিটিশ সরকার এই বিদ্রোহের পর পান-সুপারীর উপর আর কর ধার্য করে নাই। 

দ্বিতীয়তঃ ফুলগুরির যুদ্ধ ব্রিটিশ সরকারের অধীন হইতে মুক্তি পাওয়ার একটি প্রয়াস। ছিল। ১৮৫৭-৫৮ সনের বিদ্রোহে যেসকল রাজা ইংরাজদের দেওয়া সুযোগ সুবিধা হইতে বঞ্চিত হইয়াছিলেন তাহারা প্রত্যক্ষভাবে এই যুদ্ধে যোগদান করিয়াছিলেন। 

তৃতীয়তঃ ফুলরির যুদ্ধ শুধু ফুলগুরিতেই সীমাবদ্ধ থাকে নাই, ফুলগুরির কৃষকদের মত অসমের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকেরাও নিজেদের সমস্যার এবং দুর্দশার কথা চিন্তা করিয়া তাহার প্রতিকার করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন। এই যুদ্ধ দরং এবং কামরূপ জিলার কৃষকদের সাংগঠনিকভাবে চিন্তিত করিয়া তুলিয়াছিল। তাহারা সরকারের বঞ্চনা এবং শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করিয়াছিল।

প্রশ্ন ১০। অসমের কৃষক বিদ্রোহে ‘রাইজমেল’-এর ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো। 

উত্তর : আসামে ঊনবিংশ শতিকাতে সংঘটিত হওয়া কৃষক বিদ্রোহসমূহের নেতৃত্ব প্রদান করিয়াছিল জনতা সভা (People’s Assembly)। জনতা সভাসমূহ আধুনিক ধরনের কোন রাজনৈতিক সংগঠন ছিলনা। তথাপিও আসামে এই জনতা সভাসমূহের অপরিসীম ছিল। কৃষক তথা সর্বসাধারণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করিয়া তুলিবার জন্য জনতাসভাসমূহ খুবই চেষ্টা করিয়াছিল। গাঁওবুঢ়া, নলৈ, গোনাই ইত্যাদি সমাজের গণ্যমান্য লোকসকলের তত্ত্বাবধানে গড়িয়া উঠিয়াছিল এবং তাহাদের দ্বারাই পরিচালিত, হইয়াছিল। এই জনতা সভা কয়েকটি গ্রাম একত্রিত করিয়া গঠিত হইয়াছিল। জাত-পাত এবং সম্প্রদায় নির্বিশেষে জনতা সভা সমূহে অংশগ্রহণ করিতে পারিয়াছিল। ‘জনসাধারণই রাজা, জ্ঞাতিই গংগা’ বাক্যটিকে জনতা সভাসমূহ সঠিক রূপে প্রতিফলিত করিয়াছিল। জনতা সভাসমূহ জনসাধারণকে একত্রিত করিয়া জনসাধারণের সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকারী করার জন্য সরকারের নিকট দাবী করার গণতান্ত্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করিয়াছিল। ব্রিটিশ শাসনে শোষণ নীতির বিরুদ্ধে জনতা সভাসমূহ কৃষকের মধ্যে গণ জাগরণের সৃষ্টি করিয়া নগাঁও, কামরূপ এবং দরং এর বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ সরকারকে স্থায়ীভাবে অচল করিয়া দিতে সমর্থ হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১১। ব্রিটিশের শাসনকালে অসমে কৃষক ও কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের দুরবস্থার কারণগুলি লেখো। 

উত্তর : অসমে কৃষক এবং কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকদের দুরাবস্থার কারণসমূহ হইল :

 (i) সম্পূর্ণ নতুন সরকারী ব্যবস্থায় ব্রিটিশ সরকার অসমের কৃষক এবং কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকদের দুরাবস্থার মধ্যে ফেলিয়াছিল। 

(ii) দরিদ্র প্রজা এবং কৃষকের দুঃখ এবং দুর্দশা মোচন করার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার কোন ব্যবস্থা করে নাই।

(iii) সরকার টাকার মাধ্যমে মাটি এবং অন্যান্য বস্তুর খাজনা এবং কর সংগ্রহের ব্যবস্থা করিয়াছিল। ইহার ফলে কৃষি এবং কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকদের অবস্থা অধিক শোচনীয় করিয়া তুলিয়াছিল। 

(iv) ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের মতই অসমে ও ব্রিটিশ শাসনে দুটির শিল্পের অবনতি ঘটিয়াছিল। ব্রিটিশ শাসন বিলাতী বস্ত্র আমদানির পৃষ্ঠপোষকতা করায় অসমের পূর্বের কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকদের অবস্থা অতীব শোচনীয় হইয়া পরিয়াছিল।

প্রশ্ন ১২। ১৮৫০ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে জয়ন্তীয়াসকলে করা বিদ্রোহের বিষয়ে একটি টীকা লিখ। 

উত্তর : ১৮৩৫ সনে জয়ন্তীয়া পাহাড়কে কোম্পানী নিজ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে। ১৮৫০ সনে জয়ন্তীয়াদের উপর ঘর প্রতি এবং পরের বৎসর আয়কর প্রবর্তন করায় খাসীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হইয়াছিল। এই পরিস্থিতিতে জয়ন্তীয়ারা তাহাদের সর্দার এবং দলপতিদের সঙ্গে গাওসভায় মিলিত হইয়া ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রস্তুতি চালাইয়াছিল। জয়ন্তীয়ারা প্রথমে ঘর প্রতি কর প্রবর্তন করার সময় জোয়াইর তহশীলদারকে দূরে সরাইয়া রাখিয়া বিদ্রোহের সূচনা করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে উল্লেখনীয় যে ব্রিটিশের রাজস্ব নীতি ছাড়াও জয়ন্তীয়াদের ধর্মীয় এবং পরম্পরা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের উপর প্রবর্তন করা নিষেধাজ্ঞাও খাসীদের ব্রিটিশ বিরোধী করিয়া তুলিয়াছিল। এইরূপ পরিস্থিতিতে জোয়াইতে সংগঠিত হওয়া বিদ্রোহের খবর অন্যান্য অঞ্চলে ছড়াইয়া যাওয়াতে বিশেষভাবে জয়ন্তীপুর, মূলাগেল, জাফলং, সেরা প্রভৃতি স্থানেও বিদ্রোহের বাতাস বইতে আরম্ভ করে।

 প্রশ্ন ১৩। ১৮৯১ সালে মণিপুরে টিকেন্দ্রজিতের নেতৃত্বে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে হওয়া বিদ্রোহের বিষয়ে লিখ। 

উত্তর : মণিপুর রাজ্য অসম প্রশাসনের বাহিরে ছিল। বেশ কিছু বৎসর পূর্ব হইতেই মণিপুর ব্রিটিশের দ্বারা আশ্রিত ও স্বীকৃত দেশীয় রাজ্য ছিল। মণিপুরে সিংহাসন লাভের জন্য ১৮৯০ সালে রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক গৃহযুদ্ধের সূচনা হইয়াছিল। এই উত্তরাধিকারীর যুদ্ধে অসমের চিফ কমিশনার অনাহকে হস্তক্ষেপ করিয়াছিল। ইংরাজের উপস্থিতির সুবিধা গ্রহণ করিয়া যুবরাজ কুলচন্দ্র মহারাজ সুরচন্দ্রকে সিংহাসনচ্যুত করিয়া নিজেই রাজা হয় (২১) সেপ্টেম্বর, ১৮৯০)। সুরচন্দ্র ইংরাজের সাহায্য ভিক্ষা করিয়াছিল যদিও তাহারা কুলচন্দ্রকেই মণিপুরের রাজা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। কিন্তু তলে তলে চলিতে থাকা ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের মূল নেতা সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতকে দেশান্তরিত করিতে ব্রিটিশেরা নতুন রাজা কুলচন্দ্রকে চাপ প্রয়োগ করিল। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করা জনপ্রিয় নেতাকে ব্রিটিশের কথা মতে দেশান্তরিত করা কুলচন্দ্রের জন্য সহজ কথা ছিল না। তাই অসমের চিহ্ন কমিশ্যনার জে.ডব্লিউ. কুইন্টন ও চারজন ইউরোপীয় বিষয়া তাহাকে নিজেই ধরিতে আসায় স্বাধীনতাপ্রয়াসী মণিপুরীসকল সকলকে হত্যা করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ লইতে একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী মণিপুরে পাঠায়। ইংরাজবাহিনী বীর সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতকে ধরিতে সক্ষম হয়। ব্রিটিশ বিষয়াকে হত্যা করা, ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করার অপরাধে টিকেন্দ্রজিতকে ফাঁসি দেওয়া হয়। রাজা কুলচন্দ্রকে নির্বাসন দণ্ড দেওয়া হয়। ১৮৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একজন মণিপুরী কোয়র নাবালক চূড়চন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করা হয়। ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধিকে রাজা নাবালক হওয়ার জন্য মণিপুরের প্রশাসনিক নায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মণিপুর আড়াই লাখ টাকা বিদ্রোহের ক্ষতিপুরণ ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ছাড়াও বাৎসরিক ৫০,০০০ টাকা পরিশোধ করিতে হইয়াছিল। এইভাবেই মণিপুর রাজ্যে ইংরাজের আধিপত্য স্থাপিত হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৪। অসমে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী দ্বারা প্রবর্তন করা রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত কর। 

 উত্তর : ইংরাজ সরকার অর্থনৈতিক অবস্থা সবল করার জন্য বিভিন্ন করের ব্যবস্থা করিয়াছিল। তার ভিতরে ভূমি রাজস্বের ব্যবস্থাটি ছিল অন্যতম। দেশের দরিদ্র প্রজা তথা কৃষকের দুরবস্থার কথা না ভাবিয়া ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন কর কাটলের ব্যবস্থা করিয়া কৃষককে হারাহাড্ডি করিয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার টাকার মাধ্যমে ভূমির খাজনা ও কর-কাটল সংগ্রহ করিয়া কৃষকের অবস্থা শোচনীয় করিয়াছিল। ইহার ফলে অসমের কয়েক জায়গায় কৃষক বিদ্রোহ দেখা দিয়াছিল। 

সংক্ষিপ্ত টীকা। 

১। মণিরাম দেওয়ান : মণিরাম দেওয়ান মণিরাম বরভাণ্ডার বরুয়া নামে পরিচিত ছিল। তিনি ইংরাজের অধীনে চিরদার হিসাবে কাজ করিয়াছিল। কিন্তু ইংরাজ পুরন্দর সিংহকে যখন আহোমের রাজা পাতিয়াছিল, তখন মণিরাম দেওয়ান ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি এই পদ ত্যাগ করিয়া ব্রিটিশ মালিকানাধীন চায়ের কোম্পানিতে চাকুরি করিয়াছিল। ১৮৪৪ সালে তিনি এই চাকুরি হইতেও পদত্যাগ করিয়া যোরহাটে চায়ের বাগান খুলিয়াছিল। কিন্তু ইংরাজ চাষীরা লাভ করা রাজস্বের ক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশ সরকার হইতে রেহাই পায়নি। আবার মণিরাম দেওয়ানের পরিবার বংশানুক্রমে লাভ করিয়া আসা রাজস্বের দায়িত্ব হইতে বঞ্চিত হইয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার মণিরাম দেওয়ানকে সাধারণ প্রজার মত গণ্য করিয়াছিল। 

মণিরাম দেওয়ান বুঝিতে পারিয়াছিল যে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে তাহার জীবনের উন্নতি অসম্ভব। তাই তিনি কন্দর্পেশ্বর সিংহকে সিংহাসনে বসানোর কথা চিন্তা করিয়াছিল। 

১৮৫৩ সালে কলিকাতা উচ্চ ন্যায়ালয়ের মুখ্য ন্যায়াধীশ মফট মিল অসমের প্রশাসন ব্যবস্থার বুঝ লইতে অসমে আসিয়াছিল। মণিরাম কন্দপেশ্বর সিংহকে অসমের রাজসিংহাসনে বসানোর জন্য একটি আর্জি নিয়াছিল। মফট মিল মণিরামের আবেদন নাকচ করিয়াছিল, বরং তাহাকে একজন চতুর বলিয়া অভিহিত করিয়াছিল।

 ১৮৫৭ সালে মণিরাম দেওয়ান কলিকাতায় গিয়া ব্রিটিশ সরকারকে অসমের রাজসিংহাসনে কন্দর্পেশ্বর সিংহকে বসানোর জন্য আবেদন করিতে গিয়াছিল। সেখানে তিনি উত্তর ভারতে হওয়া বিদ্রোহের কথা জানিতে পারিয়া অসমেও ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কন্দর্পেশ্বর সিংহকে চিঠি দ্বারা জানাইয়াছিল। কিন্তু এই বিদ্রোহের প্রস্তুতি শেষ না হইতেই ব্রিটিশ কন্দর্পেশ্বরকে আদি করিয়া বিদ্রোহীদের আটক করে। মণিরাম দেওয়ানকে কলিকাতায় আটক করে ও কোচবিহারের জেলে দুই মাস রাখার পর যোরহাটে মণিরাম দেওয়ান ও পিয়লি বরুয়াকে ১৮৫৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ফাঁসি দেয়।

২। ফুলগুরির ধাওয়া ঃ

 ১৮৬১ সালে নগাঁয়ের কিছু দূরে ফুলগুরি নামে জায়গায় ব্রিটিশের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ হইয়াছিল। এই বিদ্রোহকে ফুলগুরির বিদ্রোহ নামে জানা যায়। ১৮৬১ সালে সরকার আয়ু চাষ বন্ধ করাতে এই অঞ্চলের বিশেষ করিয়া তিওয়া জনজাতির লোকসকল ক্ষুব্ধ হইয়া পরিয়াছিল। কেননা তাঁহাদের জীবিকার একমাত্র সম্বল ছিল আফু চাষ। তাই ১৮৬১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রায় ১৫০০ জন কৃষক একসঙ্গে আফু চাষ বন্ধ করার সঙ্গে সরকার পান-তাম্বুলের উপরেও কর লাগানোর সিদ্ধান্তের বিপরীতে প্রতিবাদ করিতে একজোট হইয়াছিল। সেই সময়ের নগায়ের সহকারী উপায়ুক্ত লেফটেনেন্ট সমবেত স্থলীতে উপস্থিত হইয়া বিদ্রোহীদের সভাস্থলী আগ করিতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহীসকল উত্তেজিত হয় ও সিংগারকে হত্যা করিয়া কলং নদীতে ভাসাইয়া দেয়। এই ঘটনাকে ফুলগুরির ধাওয়া নামে জানা যায়।

 এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ বহু কৃষককে হত্যা করে, কিছু অভিযুক্তকে দীর্ঘসময়ের জন্য কলিয়াপানীতে প্রেরণ করে।

৩। লসিমার কৃষক বিদ্রোহ ১৮৯৪ সালের ২১ জানুয়ারির দিন লসিমার কাছের কাপ্পা গ্রামে মৌজাদার দাসোরাম চৌধুরী ও মণ্ডল হলিরাম মিশ্র খাজনা আনিতে যাইতেই দুইজনকে জনসাধারণেরা খারাপভাবে মারপিট করে। কিছুদিন পর মৌজাদারের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জন্য বরপেটার মহকুমাধিপতি মাধবচন্দ্র বরদলৈ ৭৫ জন লোককে বিশ্রাম শিবিরে লইয়া যায়। প্রায় ৩০০০ কৃষক বিদ্রোহী বিশ্রাম শিবিরের চারিদিকে ঘেরাও করিয়া বন্দী বিদ্রোহীকে মুক্তি দিতে বাধ্য করায়। পরদিন উপায়ুক্ত মেক কেব ৩০ জন পুলিশ ও গোর্খা রেজিমেন্টের লোককে সঙ্গে লইয়া ৫৯ জনে বিদ্রোহী কৃষককে বন্দী করিয়া অস্থায়ী জেলে রাখে। ২৫ তারিখ বিকালে প্রায় ৬০০০ লোক স্বাক্ষর করিয়া বন্দী কৃষককে মুক্ত করিয়া দেওয়ার জন্য আবেদন জানায় যদিও উপায়ুক্ত যে সকল লোক বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়াছিল তাহাদের দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

 ৪। পথরুঘাটের যুদ্ধ :  ১৮৯৪ সনের জানুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ দরং জিলার পথরুঘাটে এক ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হইয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার বর্ধিত হারে খাজনা নির্ধারণ করার জন্য মঙ্গলদৈ মহকুমার কলাইগাঁও, মঙ্গলদৈ, ছিপাঝার এবং পথঘাট তহশীলের কৃষকরা জনসম্মিলনে মিলিত হইয়া এই বিদ্রোহের সূচনা করিয়াছিল। এইভাবে নিজ নিজ এলাকায় জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত করিয়া জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ হইতে ২৯ তারিখ পর্যন্ত তিনদিনের এক বৃহৎ জনসম্মিলন অনুষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে পথঘাটে মিলিত হইয়াছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই জনসম্মিলন প্রতিহত করিবার জন্য পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর মোট ৩২ জন লোককে লইয়া পুলিশ অধীক্ষক জে, আর, বেরিংটন পথঘাটে উপস্থিত হন। সমবেত কৃষকরা বিশেষতঃ পুলিশের সাহায্যে খাজনা না দেওয়া কৃষকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা কার্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উষ্ণ সংঘর্ষে পথরুঘাটে সরকার পক্ষের আক্রমণে বহু বিদ্রোহী কৃষক নিহত হইয়াছিল। সরকারী হিসাব মতে কৃষকদের মধ্যে ১৫ জন কৃষক মৃত্যুবরণ করিয়াছিল এবং অন্য ৩৭ জন কৃষক আঘাতপ্রাপ্ত হইয়াছিল। সরকারী ভাষ্যমতে জনসম্মিলন তথা বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করার অপরাধে মোট ৩৭ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করিয়া বিচার করা হইয়াছিল। এই বিদ্রোহের অন্ত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ঊনবিংশ শতকের কৃষক বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে।

 ৫। অসমে কৃষক বিদ্রোহের গুরুত্ব : ব্রিটিশ সরকারের নতুন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা সাধারণ কৃষকের মনে অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করিয়াছিল। ইহা ছাড়াও মুদ্রা অর্থনীতি সুদখোর মহাজনের সৃষ্টি করিয়াছিল। টাকা ধারে লইয়া হইলেও মাটির খাজনা দিতে হইত। এছাড়াও উৎপন্ন বস্তু বেচিয়া ধন উপার্জন করার সুবিধা একেবারে ছিল না। সরকার কৃষকদের কৃষিকার্যের উন্নতির জন্য কোনো চেষ্টা করিয়াছিল না। ফলস্বরূপে কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় হইয়াছিল। অত্যধিক মাটির বাজনা বৃদ্ধি, পান-তাম্বুলের উপরে লাগানো কর, আফু চাষ বন্ধ করা আদির জন্য কৃষকসকল বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় বিদ্রোহী হইয়া উঠিয়াছিল। ১৮৯৪ সালের পথরুঘাটের বিদ্রোহ, ১৮৬১ সালের ফুলগুরির বিদ্রোহ, ১৮৯৩ সালের রঙিয়ার বিদ্রোহ আমি ইংরাজকে কাঁপাইয়া তুলিয়াছিল হয় অ, যদিও এই বিদ্রোহগুলি ইংরাজ কঠোর হাতে দমন করিয়াছিল। 

৬। টিকেন্দ্রজিৎ ঃ ১৮৯০ সালের ব্রিটিশের বিরুদ্ধে করা মণিপুর বিদ্রোহের নেতা ছিল। টিকেন্দ্রজিৎ। টিকেন্দ্রজিতকে দেশান্তরিত করিতে ইংরাজ মণিপুরী রাজা কুলচন্দ্রকে চাপ প্রয়োগ করিয়াছিল। টিকেন্দ্রজিতকে ধরিতে অসমের চিফ কমিশনার জে.ডব্লিউ. কুইন্টন ও চারজন ইউরোপীয় বিষয়া মণিপুরে যাওয়ার স্বাধীনতাপ্রয়াসী বিদ্রোহী নেতা সবাইকে হত্যা করে। কিন্তু ইংরাজের শক্তিশালী সৈন্য টিকেন্দ্রজিতকে ধরিতে সক্ষম হয়। ব্রিটিশের বিরোধিতা করা অপরাধে টিকেন্দ্রজিতকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

Leave a Reply