SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-2| মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-2| মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-2| মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-2| মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ২

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর : 

পশ্ন ১। মহাত্মা গান্ধীর জন্ম হইয়াছিল— 

(ক) ১৮২৬ সনের ২ অক্টোবর 

(খ) ১৮৪২ সনের ২ অক্টোবর 

(গ) ১৮৫০ সনের ২ অক্টোবর, 

(ঘ) ১৮৬১ সনের ২ অক্টোবর 

উত্তর : (ঘ) ১৮৬১ সনের ২ অক্টোবর।

প্রশ্ন ২। কোন আন্দোলনের সময় গান্ধীজি ‘করব কিংবা মরব’ ধ্বনি দিয়েছিলেন?

(ক) আইন অমান্য আন্দোলনে 

(খ) অসহযোগ আন্দোলনে [HSLC 2018 ]

 (গ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে 

(ঘ) খিলাফৎ আন্দোলনে

উত্তৰ : (গ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে 

প্রশ্ন ৩। মহাত্মা গান্ধী ______ সনে গুজরাটের সবরমতীতে একটি আশ্রম গড়িয়াছিলেন?

(ক) ১৯১৪

(খ) ১৯১৫

(গ) ১৯১৬

(ঘ) ১৯২০

উত্তর : ১৯১৫। 

প্রশ্ন ৪। ব্রিটিশ সরকারে করে ভারতে ‘কেবিনেট মিশন’ পাঠিয়েছিল ?

(ক) ১৯৩৫ সনের আগস্ট মাসে 

(গ) ১৯৪৬ সনের মার্চ মাসে 

(খ) ১৯৪৫ সনের জুলাই মাসে। 

(ঘ) ১৯৪৭ সনের আগস্ট মাসে

উত্তর : (গ) ১৯৪৬ সনের মার্চ মাসে 

প্রশ্ন ৫। চৌরীচৌরা সংঘর্ষ কখন সংগঠিত হয়েছিল? 

(ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ 

(গ) ৮ আগস্ট, ১৯৪২ 

(খ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৩০

(ঘ) ৬ এপ্রিল, ১৯১৯

উত্তর: ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২। 

প্রশ্ন ৬। ‘সত্যাগ্রহ’ শব্দটির অর্থ হইল— 

(ক) সত্যের প্রতি আগ্রহ

(খ) সত্যের প্রতি অনীহা। 

(গ) সত্যের পথে চলা

(ঘ) সত্য অসত্য দুইকে নিয়ে চলা

উত্তর : (ক) সত্যের প্রতি আগ্রহ। [ 20 ]

প্রশ্ন ৭। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর কে নাইট উপাধি পরিত্যাগ করিয়াছিলেন?

(ক) মহাত্মা গান্ধী

(খ) জওহরলাল নেহরু

(গ) সুভাষ চন্দ্র বসু 

(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

উত্তর : (ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

প্রশ্ন ৮। কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবী উত্থাপন করা হয় ? 

(ক) মান্নাস অধিবেশনে

(খ) মুম্বাই অধিবেশনে 

(গ) লাহোর অধিবেশনে

(ঘ) উপরের একটাও না 

উত্তর (গ) লাহোর অধিবেশনে।

প্রশ্ন ৯। সীমান্ত গান্ধী নামে কোন ব্যক্তিকে জানা যায় ? 

(ক) মহাত্মা গান্ধী 

(খ) ফিরোজ গান্ধী

(গ) খান আব্দুল গফর খান

(ঘ) মহম্মদ ইকবাল 

 উত্তর : (গ) খান আব্দুল গফর খান। 

প্রশ্ন ১০। ব্রিটিশ সংসদে কবে ভারত স্বাধীন আইনের অনুমোদন জানিয়েছিল] 

(ক) ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭

(গ) জুলাই ১৯৪৭

(খ) জুন ১৯৪৭ 

(ঘ) মার্চ, ১৯৪৭ 

উত্তর (গ) জুলাই ১৯৪৭ 

প্রশ্ন ১১। ব্রিটিশ সরকার _______সনে রাওলাট আইন প্রবর্তন করিয়াছিল ? 

(ক) ১৯১৫

(খ) ১৯১৬

(গ) ১৯১১ 

(ঘ) ১৯২০ 

উত্তর : ১৯১৯। 

প্রশ্ন ১২। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডে মোট ________ জন নিরপরাধ লোকের মৃত্যু হইয়াছিল।

(ক) ৫০০ জন

(খ) ৩৭৯ জন 

(গ) ১০০০ জন 

(ঘ) ১৫০০ জন

 উত্তর : ৩৭৯ জন। 

প্রশ্ন ১৩। মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন— 

(ক) ১৯২০ সনের ১লা আগস্ট 

খ) ১৯২০ সনের ১৫ই আগস্ট 

(গ) ১৯১৯ সনের ১৪ই আগস্ট 

(ঘ) ১৯২১ সনের ১লা আগস্ট

 উত্তর : ১৯২০ সনের ১লা আগস্ট।

 প্রশ্ন ১৪। অসহযোগ আন্দোলনের সময় উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায়________তারিখে কৃষকেরা থানায় আগুন লাগাইয়া দিয়াছিল। 

(ক) ১৯২১ সনের ১লা জানুয়ারি 

(খ) ১৯২০ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি

(গ) ১৯২২ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি

(ঘ) ১৯১৯ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি

উত্তর : ১৯২২ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি। 

 প্রশ্ন ১৫। মহাত্মা গান্ধী ______তারিখে অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ করিয়াছিলেন।

(ক) ১৯২১ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারি 

(খ) ১৯২২ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারি

(গ) ১৯২২ সনের ২১শে ফেব্রুয়ারি 

(ঘ) ১৯২১ সনের ২১শে ফেব্রুয়ারি 

উত্তর : ১৯২২ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারি। 

প্রশ্ন ১৬। মহাত্মা গান্ধী সত্যাগ্রহ নীতি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করিয়াছিলেন— 

(ক) দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে (১৮৯৩)

(খ) চম্পারণের কৃষক আন্দোলনে

(গ) খেড়ার কৃষক আন্দোলনে

(ঘ) ১৯১১ সনের সত্যাগ্রহ আন্দোলনে 

উত্তর : দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে (১৮৯৩)

প্রশ্ন ১৭। আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্ম হইয়াছিল—।

(ক) জামানীতে 

(খ) সিঙ্গাপুরে 

(গ) জাপানে

(ঘ) ভারতবর্ষে 

উত্তর : জাপানে। 

প্রশ্ন ১৮। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধী _______এর আদর্শ দ্বারা প্রভাবান্বিত হইয়াছিলেন। 

(ক) লেলিন

(খ) কার্ল মার্ক্স 

(গ) টলষ্টয় 

(ঘ) ভস্টেয়ার 

উত্তর : টলষ্টয়

প্রশ্ন ১৯। মহাত্মা গান্ধীজির কল্পনার গ্রাম স্বরাজের মধ্যমণি ছিল— । 

(ক) গ্রামবাসী 

(খ) গ্রাম প্রধান

(গ) পঞ্চায়েত

(ঘ) গ্রামরক্ষী

উত্তর : পঞ্চায়েত।

 প্রশ্ন ২০। ১৮৯৩–১৯১৪ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী –তে থাকিয়া ইংরাজ শাসনের বিরুদ্ধে অহিংসা নীতি প্রয়োগ করিয়াছিলেন ?

(ক) দক্ষিণ আফ্রিকা 

(গ) ইংল্যাণ্ড 

(খ) ভারত 

(ঘ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

 উত্তর : দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রশ্ন ২১। _____সনের অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহণ করা হইয়াছিল। 

(ক) ১৯১৯ 

(খ) ১৯২৫

(গ) ১৯২০ 

(ঘ) ১৯২৯

উত্তর : ১৯২৯।

প্রশ্ন ২২। —— সনে মহাত্মা গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন—

(ক) ১৯৩০ – 

(খ) ১৯৩১ 

(গ) ১৯৪২ 

(ঘ) ১৯১৯

উত্তর : ১৯৩১।

প্রশ্ন ২৩। মহাত্মা গান্ধী লবণ আইন অমান্য ভঙ্গ করার জন্য সবরমতী আশ্রম হইতে______ মাইল অতিক্রম করিয়া দাণ্ডিতে যাত্রা করিয়াছিলেন। 

(ক) ১৫০

(খ) ২২০ 

(গ) ২৫০ 

(ঘ) ২৪১

 উত্তর : ২৪১।

প্রশ্ন ২৪। ১৯৩০ সনে লণ্ডনে অনুষ্ঠিত প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী _______সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন।

(ক) চার্চিল 

(খ) এটলী 

(গ) রামজে ম্যাকডোনাল্ড

(ঘ) মার্গারেট থ্যাচার

উত্তর : রামজে ম্যাকডোনাল্ড।

প্রশ্ন ২৫। মহাত্মা গান্ধী_______ তারিখে ব্রিটিশকে ভারত ত্যাগ করার জন্য ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন।

(ক) ১৯৪২ সনের ১৪ই জুলাই 

(খ) ১৯৪১ সনের ১৯শে জানুয়ারি 

(গ) ১৯৩৯ সনের ১০ই ফেব্রুয়ারি 

(ঘ) ১৯৪০ সনের ১৪ই জুলাই

 উত্তর : ১৯৪২ সনের ১৪ই জুলাই। 

প্রশ্ন ২৬। ১৯৪২ সনের মার্চ মাসে জাপানে ইণ্ডিয়ান ইণ্ডিপেনডেন্স লীগ (Indian Independence League) গঠন করিয়াছিলেন—।

(ক) নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু 

(খ) রাসবিহারী বসু

(গ) অরবিন্দ ঘোষ 

(ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর : রাসবিহারী বসু।

প্রশ্ন ২৭। ১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেসে কে সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন?

(ক) মহাত্মা গান্ধী

(খ) মহম্মদ আলী জিন্না

(গ) সুভাষচন্দ্র বসু 

(ঘ) জওহরলাল নেহরু 

উত্তর : জওহরলাল নেহরু।

প্রশ্ন ২৮। ক্রিপস মিশন কোন সনে ভারতে আসিয়াছিল?

(ক) ১৯৩১ সনে 

(খ) ১৯৪২ সনে

(গ) ১৯৪১ সনে 

(ঘ) ১৯৩৯ সনে 

উত্তর : ১৯৪২ সনে।

প্রশ্ন ২৯। দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক লণ্ডনে _______সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল।

(ক) ১৯৩০ 

(খ) ১৯৩১

(গ) ১৯৩২

(ঘ) ১৯৪২ 

উত্তর : ১৯৩১।

প্রশ্ন ৩০। ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনি কে প্রবর্তন করিয়াছিলেন? 

(ক) রাসবিহারী বসু 

(খ) মহাত্মা গান্ধী 

(গ) জওহরলাল নেহরু

(ঘ) নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর : নেতাজী সুভাচন্দ্ৰ বসু।

 প্রশ্ন ৩১। কোন ভাইসরয়ের শাসনকালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়? 

ক) লর্ড লিটনের শাসনকালে

(খ) লর্ড কেনিং-এর শাসনকালে 

(গ) লর্ড ডালহাউসির শাসনকালে

(ঘ) লর্ড ডাফরিনের শাসনকালে। 

উত্তর : লর্ড ভারিনের শাসনকালে। 

প্রশ্ন ৩২। জালিয়ানওয়ালাবাগের কুখ্যাত নায়ক ছিলেন— 

(ক) জেনারেল হকিন্স 

(খ) জেনারেল ডায়ার

(গ) কর্নেল ডানলপ

(ঘ) লর্ড মিন্টো 

উত্তর : জেনারেল ডায়ার। 

প্রশ্ন ৩৩। বাংলাদেশ কখন স্বাধীন হইয়াছিল ? 

(ক) ১৯৪৭ সনে

(খ) ১৯৪৮ সনে 

(গ) ১৯৫১ সনে

(ঘ) ১৯৭১ সনে

 উত্তর : (ঘ) ১৯৭১ সনে।

প্রশ্ন ৩৪। জালিয়ানওয়ালাবাগের।হত্যাকাণ্ড _________তারিখে সংঘটিত হইয়াছিল ? 

(ক) ১৯১১ সনের ১৩ই এপ্রিল

(খ) ১৯১৯ সনের ১০ই এপ্রিল

(গ) ১৯২০ সনের ১২ই এপ্রিল 

(ঘ) ১৯২১ সনের ১৮ই এপ্রিল

উত্তর : ১৯১৯ সনের ১৩ই এপ্রিল।

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও 

প্রশ্ন ১। গান্ধীজি কখন সবরমতী আশ্রম হইতে দাণ্ডির সাগর পারে লবণ আইন ভঙ্গ করিতে গিয়াছিল। সবরমতী আশ্রম ও দাণ্ডির দূরত্ব কত? 

উত্তর : গান্ধীজি ১৯৩০ সালে সবরমতী আশ্রম হইতে দাণ্ডির সাগর পারে লবণ আইন ভংগ করিতে গিয়াছিলেন। সবরমতী আশ্রম ও দাণ্ডির দূরত্ব প্রায় ৩৮৫ কিলোমিটার। 

প্রশ্ন ২। মহাত্মা গান্ধীর করে জন্ম হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর তারিখে।

প্রশ্ন ৩। সত্যাগ্রহের কৌশল গান্ধীজি কোন দেশে সর্বপ্রথমে প্রয়োগ করিয়াছিল?

উত্তর : গান্ধীজি ‘সত্যাগ্রহে’র কৌশল প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকাতে প্রয়োগ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করিয়াছিল? 

উত্তর : জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৫। কার নেতৃত্বে ভারতে খিলাফৎ আন্দোলনের সূচনা হইয়াছিল?

 উত্তর : মৌলানা সৌকত আলি ও মহম্মদ আলির নেতৃত্বে। 

প্রশ্ন ৬। চৌরিচৌরার ঘটনা কবে সংঘটিত হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে।

প্রশ্ন ৭। কী পরিস্থিতিতে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যু হইয়াছিল? 

উত্তর : সাইমন বিরোধী সমদলের উপরে পুলিশের নির্দয়ভাবে করা লাঠিচালনাতে খারাপভাবে আঘাত পাওয়ার ফলে। 

প্রশ্ন ৮। কবে ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে ভারতীয়সকলের মূল দাবী হিসাবে পূর্ণ স্বরাজের দাবী উত্থাপন করা হইয়াছিল?

উত্তর : ১৯২৯ সালে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে। 

প্রশ্ন ৯। সীমান্ত গান্ধী নামে কাহাকে জানা যায় ? 

উত্তর : খান আব্দুল গফুর খানকে সীমান্ত গান্ধী নামে জানা হয়। 

প্রশ্ন ১০। লণ্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠকে কে কংগ্রেসকে এককভাবে প্রতিনিধিত্ব করিয়াছিল? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী। 

প্রশ্ন ১১। ১৯৩২ সালে সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা ঘোষণা করা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নাম কি ছিল?  

উত্তর : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড। 

প্রশ্ন ১২। কোন্ আন্দোলনের সময় গান্ধীজি ‘করিব কিম্বা মরিব’ শ্লোগান দিয়াছিল? 

উত্তর : ভারত ত্যাগ আন্দোলনের সময়। 

প্রশ্ন ১৩। আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা কে? 

উত্তর : ক্যাপ্টেইন সোহান সিং। 

প্রশ্ন ১৪। ‘আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব’— এই বিখ্যাত বাণীটি কোন ভারতীয় নেতার ছিল? 

উত্তর : সুভাষচন্দ্র বসুর বাণী ছিল। 

প্রশ্ন ১৫। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যের সীমারেখাকে কি নামে জানা যায়?

 উত্তর : রেডক্লিফ নামে জানা যায়।

 প্রশ্ন ১৬। “ভারত ছাড়া প্রস্তাব কত সনে গ্রহণ করা হইয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯৪২ সনের ৭ই আগস্ট।

প্রশ্ন ১৭। ভগৎ সিং-এর দলটির নাম কি?

উত্তর : হিন্দুস্থান সোসিয়েলিষ্ট রিপাব্লিকান আর্মি। 

প্রশ্ন ১৮। ফরওয়ার্ড ব্লক কে গঠন করিয়াছিলেন? 

উত্তর : নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।

প্রশ্ন ১৯। নেতাজী সুভাষচন্দ্র কত সন হইতে নিরুদ্দেশ হইয়াছিলেন?

উত্তর : ১৯৪৫ সন হইতে। 

প্রশ্ন ২০। বোম্বেতে (মুম্বাই) নাৰিক বিদ্রোহ কত সনে সংগঠিত হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৯৪৬ সনের ১৮ই ফেব্রুয়ারি। 

প্রশ্ন ২১। মুসলিম লীগ পাকিস্তানের প্রস্তাব কোথায় গ্রহণ করিয়াছিল ? 

উত্তর : লাহোর অধিবেশনে। 

প্রশ্ন ২২। মুসলিম সীগ কত সনে পাকিস্তানের প্রস্তাব গ্রহণ করিয়াছিল?

 উত্তর : ১৯৪০ নে। 

প্রশ্ন ২৩। ভাত এবং পাকিস্তানের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমারেখা নির্ধারণ করা ব্যক্তি কে ছিলেন? 

উত্তর : সেরিল রেডক্লিফ।

প্রশ্ন ২৪। বাংলাদেশ কত সনে স্বাধীনতা লাভ করে? 

উত্তর : ১৯৭১ সনের মার্চ মাসে।

প্রশ্ন ২৫। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার সময় ভাইসরয় কে ছিলেন ?

উত্তর : লর্ড মাউন্টব্যাটেন। 

প্রশ্ন ২৬। “দিল্লী চলো” কার শ্লোগান?

উত্তর : নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর। 

প্রশ্ন ২৭। নেতাজীর প্রকৃত নাম কি? 

উত্তর : নেতাজীর প্রকৃত নাম ছিল সুভাষচন্দ্র বসু। 

প্রশ্ন ২৮। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজের কতজন সৈন্য প্রাণ। বিসর্জন দিয়াছিল?

উত্তর : প্রায় ৪,০০০ জন সৈনিক প্রাণ বিসর্জন দিয়াছিল। 

প্রশ্ন ২৯। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী কে গঠন করিয়াছিলেন?

উত্তর : নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু গঠন করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৩০। হিন্দু-মুসলিমের সংঘর্ষে কলকাতায় কতজন লোকের মৃত্যু হইয়াছিল ? 

উত্তর : ৫০০০ জন লোকের মৃত্যু হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৩১। কলকাতার সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে মৃত্যু হওয়া অসমের ছাত্রটির নাম কি ছিল?

 উত্তর। অমূল্য বরুয়া।

প্রশ্ন ৩২। ভারত বিভাজনের প্রধান কারণ কি ছিল? 

উত্তর। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা। 

প্রশ্ন ৩৩। অহিংসা নীতি কে প্রবর্তন করিয়াছিলেন? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী।

প্রশ্ন ৩৪। কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন কত সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯২৯ সনের ডিসেম্বর মাসে।

প্রশ্ন ৩৫। লাহোর অধিবেশনের মূল মন্ত্র কি ছিল ? 

উত্তর ঃ পূর্ণ স্বরাজ। 

প্রশ্ন ৩৬। সীমান্ত গান্ধী কোন দল গঠন করিয়াছিলেন ? 

উত্তর : লাল পোষাক পধান করা স্বেচ্ছাসেবী দল। 

প্রশ্ন ৩৭। প্রথম গোল টেবিল বৈঠক কত সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯৩০ সনে। 

প্রশ্ন ৩৮। গান্ধী-আরউইন চুক্তি কত সনে স্বাক্ষরিত হইয়াছিল?] 

উত্তর : ১৯৩১ সনের ৫ই মার্চ। 

প্রশ্ন ৩৯। “গান্ধী-আরউইন চুক্তি’র মুখ্য উদ্দেশ্য কি ছিল? 

উত্তর : কংগ্রেসকে গোল টেবিল বৈঠকে অংশীদার করা। 

প্রশ্ন ৪০। প্রথম গোল টেবিল বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হইয়াছিল?

উত্তর : লণ্ডন শহরে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৪১। সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা কে ঘোষণা করিয়াছিলেন? 

উত্তর : রামজে ম্যাকডোনাল্ড। 

প্রশ্ন ৪২। সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা কত সনে ঘোষণা করা হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৩২ সনের ১০ই আগস্ট । 

প্রশ্ন ৪৩। দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠক কত সনে অনুষ্ঠিত হইয়াছিল ? 

উত্তর ঃ ১৯৩১ সনের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১লা ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৪৪। দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠকে কোন কংগ্রেস নেতা অংশগ্রহণ করিয়াছিলেন?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী আশগ্রহণ করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৪৫। উলঙ্গ ফকীর কে? 

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী। 

প্রশ্ন ৪৬। ক্রিস্ মিশনের নেতৃত্ব কে দিয়াছিলেন? 

উত্তর : স্যার স্টাফর্ড ক্রিপস নেতৃত্ব দিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৪৭। লাল জামা পরিহিত একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের নেতৃত্ব দিয়াছিলেন কে? 

উত্তর : সীমান্ত গান্ধী বা খান আব্দুল গফুর খান। 

প্রশ্ন ৪৮। আইন অমান্য আন্দোলনের সমাপ্তি কখন ঘোষণা করা হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৪৩ সালের ২০শে মে। 

প্রশ্ন ৪৯। গান্ধীজি সবরমতী আশ্রম কত সনে স্থাপন করিয়াছিলেন?

 উত্তর : ১৯১৫ সনে।

প্রশ্ন ৫০। সবরমতী আশ্রম কোন রাজ্যে স্থাপন করা হইয়াছিল?

 উত্তর : গুজরাটে। 

প্রশ্ন ৫১। গান্ধীজির গ্রাম্য স্বরাজের মধ্যমণি কি ছিল? 

উত্তর : পঞ্চায়েত।

প্রশ্ন ৫২। ব্রিটিশ সরকার “ভারত আইন” কত সনে বলবৎ করিয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯১৪ সনে। 

প্রশ্ন ৫৩। কি ঘটনার ফলে গান্ধাজি অসহযোগ আন্দোলন কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখিয়াছিলেন? 

উত্তর : চৌরিচৌরার হত্যাকাণ্ডের জন্য। 

প্রশ্ন ৫৪। কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন? 

উত্তর : জওহরলাল নেহরু। 

প্রশ্ন ৫৫। কত তারিখে গঙ্গাধর তিলক ইহলীলা সম্বরণ করিয়াছিল ?

উত্তর : ১৯২০ সনের ১লা আগস্ট। 

প্রশ্ন ৫৬। কেন্দ্রীয় খিলাফৎ সমিতির কোন সভাতে গান্ধাজির উপস্থিতি এবং পরামর্শ মতে প্রথমে ব্রিটিশ ভারত সরকারের জন্য অসহযোগ আন্দোলনের নীতি এবং কার্যসূচী গ্রহণ করা হইয়াছিল ? 

উত্তর : দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সভায়।

প্রশ্ন ৫৭। কত তারিখে প্রথমবারের জন্য সর্বভারতীয় স্তরে সর্বাত্মক হরতাল পালন করা হইয়াছিল?

উত্তর : ১৯১৯ সনের ৬ই এপ্রিল। 

প্রশ্ন ৫৮। জালিয়ানওয়ালাবাগে পুলিশের গুলীচালনার ফলে পুরুষ-মহিলা এবং শিশুসহ কতজনের সেই স্থলে মৃত্যু হইয়াছিল?

 উত্তর ঃ ৩৭৯ জনের মৃত্যু হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৫৯। পুলিশের নির্যাতনে অতীষ্ঠ হইয়া উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরার কৃষকগণ কত তারিখে সেখানকার একটি পুলিশ থানা আগুন লাগাইয়া পুড়িয়া ফেলিয়াছিল। 

উত্তর : ১৯২২ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি।

 প্রশ্ন ৬০। কত তারিখে গান্ধীজি দাণ্ডী পর্যন্ত লবণ আইন ভঙ্গ করার জন্য যাত্রা করিয়াছিল? 

উত্তর : ১৯৩০ সনের ১২ই মার্চ। 

প্রশ্ন ৬১। গান্ধাজি কতজন সঙ্গী লইয়া দাণ্ডী পর্যন্ত যাত্রা করিয়াছিল ? 

উত্তর : ৭৮ জনকে সঙ্গে লইয়া।

 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। ১৯৪৭ সনের ৩ জুনের ঘোষণাপত্রের দুইটি বৈশিষ্ট্য লিখ?

 উত্তর : ১৯৪৭ সনে ৩ জুনের ঘোষণা পত্রের প্রধান দুইটি বৈশিষ্ট্য হইল :

 (ক) ভারতবর্ষকে বিভাজন করা হইবে। 

(খ) দেশীয় রাজ্যগুলি নিজের ইচ্ছানুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান করিতে পারিবে। 

প্রশ্ন ২। কাহাদের নেতৃত্বে খিলাফৎ আন্দোলনের সূচনা হইয়াছিল?

উত্তর : মৌলানা সৌকত আলী এবং মহম্মদ আলীর নেতৃত্বে খিলাফৎ আন্দোলন আরম্ভ হইয়াছিল। 

 প্রশ্ন ৩। গান্ধী-আরউইনের চুক্তি কি ছিল ?

 উত্তর : (ক) গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করিতে সম্মত হইবে।

(খ) ব্রিটিশ সরকার রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিবে।

(গ) কংগ্রেস গোল টেবিল বৈঠকে যোগদান করিবে।

 প্রশ্ন ৪। গান্ধাজি ভারতের কোন কোন স্থানে সর্বপ্রথম অহিংসা নীতি প্রয়োগ করিয়াছিলেন? 

উত্তর : চম্পারণ, খেড়া এবং আহমেদাবাদে সংগঠিত কৃষক বিদ্রোহে।

প্রশ্ন ৫। গান্ধাজি কুটিরশিল্পের উন্নয়নের জন্য কিভাবে গুরুত্ব প্রদান করিয়াছিলেন:

 উত্তর : সরকারের উপর গুরুত্ব দিয়া সূতা কাটা, কাপড় তৈরি করা আদি কলার উপর গুরুত্ব প্রদান করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৬। ১৯৪৩ সনের ২১শে অক্টোবর কোন্ দলের কার্য পরিষদকে ভারতবর্ষের অস্থায়ী সরকাররূপে ঘোষণা করা হইয়াছিল? ঐ দলের সভাপতি কে ছিলেন? 

উত্তর : ইণ্ডিয়ান ইণ্ডিপেণ্ডেন্স লীগ। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। 

প্রশ্ন ৭। ভারতবর্ষের প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন কোনটি ? ইহার নেতৃত্ব কে দিয়াছিলেন?

 উত্তর ঃ অসহযোগ আন্দোলন। মহাত্মা গান্ধী ইহার নেতৃত্ব দিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৮। কার পরামর্শ মতে ও কোন্ সনে সর্বভারতীয় স্তরে সর্বাত্মক হরতাল পালন করা হইয়াছিল? 

উত্তর : গান্ধীজির পরামর্শ মতে ১৯১৯ সনের ৬ই এপ্রিল সর্বাত্মক হরতাল পালন করা হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৯। কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি স্থাপনের ক্ষেত্রে কে কে অগ্রগণী হইয়াছিলেন?

 উত্তর : মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু, মদনমোহন মালব্য প্রভৃতি নেতারা। 

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ১০। কি কি কারণে অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ হইয়াছিল ?

 উত্তর : (ক) রাওলাট আইন 

(খ) জালিয়ানওয়ালাবাগের নরহত্যা

(গ) তুরস্কের সমস্যা।

প্রশ্ন ১১। অসহযোগ আন্দোলনের কার্যসূচী দুইটি মূলতঃ কি কি ছিল?

উত্তর : গঠনমূলক ও ধ্বংসমূলক। 

প্রশ্ন ১২। কি কারণে আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখা হইয়াছিল? 

উত্তর ঃ গান্ধী-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর।

প্রশ্ন ১৩। ভারতীয় জাতীয় সৈন্যবাহিনীর যুদ্ধবন্দীরা কে কে ছিলেন? 

উত্তর : (ক) জেনারেল শাহনয়াজ খান, 

(খ) গুরুদয়াল সিং ধীলন,

 (গ) প্রেম সায়গল।

প্রশ্ন ১৪। কেবিনেট মিশন কত সনে কার নেতৃত্বে ভারতে আসিয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯৪৬ সনের ২৩শে মার্চে পেথিক লরেন্সের নেতৃত্বে ভারতে আসিয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৫। কেবিনেট মিশনের সদস্যদের নাম লিখ। 

উত্তর : (ক) স্টাফোর্ড’ ক্রীস্‌,

(খ) এ. ভি. আলেকজাণ্ডার। 

প্রশ্ন ১৬। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানে কি?

উত্তর : সংবিধান পরিষদের নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ওয়েবেল দেশে প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহের সহযোগে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের চেষ্টা করিয়াছিলেন। ১৯৪৬ সালের ৬ আগস্ট তারিখে লর্ড ওয়াবেল কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহরুকে একটি অন্তবর্তী সরকার গঠন করিতে আহ্বান জানাইয়াছিলেন। ১০ই আগস্ট জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। 

প্রশ্ন ১৭। অহিংসা নীতির প্রয়োজনীয়তা কি? 

উত্তর : নিরস্ত্র ও দুর্বল লোক পরাক্রমী ও অস্ত্রধারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করিতে হইলে অহিংসা পন্থা ছাড়া কোন গত্যন্তর নাই। 

প্রশ্ন ১৮। অহিংসা নীতি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে গান্ধাজি কোন কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবান্তি হইয়াছিলেন? 

উত্তর : (ক) রাল্‌ফ অডো ইমার্সন, (খ) থরো এবং (গ) টলস্টয়ের আদর্শ দ্বারা।

প্রশ্ন ১৯। অহিংসা নীতির পন্থাসমূহ কি কি?

উত্তর : স্বেচ্ছায় গণপ্রতিরোধ করিয়া গ্রেফতার বরণ করা, হরতাল পালন করা, সভা, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ এবং ধর্না আদি অনুষ্ঠিত করা। 

প্রশ্ন ২০। অহিংসা নীতির অনুশীলনের জন্য গান্ধাজি কোথায় এবং কোন সনে আশ্রম ধূলিয়াছিলেন? 

উত্তর ঃ ১৯১৫ সনে গুজরাটের সবরমতীতে। 

প্রশ্ন ২১। অসহযোগ আন্দোলনের গঠনমূলক কাৰ্যসূচীসমূহ কি কি ছিল ? 

উত্তর : (ক) শিক্ষার জাতীয়করণ,

 (খ) স্বদেশী গ্রহণ ও প্রচার, 

(গ) চরকা এবং খাদীর ব্যবহার,

(ঘ) চরকায় সূতা কাটা, 

(ঙ) সেবাদলে সদস্য ভর্তি, 

(চ) তিলকের স্বরাজ কর্মসূচীর জন্য পুঁজি সংগ্রহ করা। 

প্রশ্ন ২২। অসহযোগ আন্দোলনের ধ্বংসমূলক কার্যসূচীগুলি কি কি ছিল?

উত্তর : (ক) ব্রিটিশ আদালত বর্জন করা,

 (খ) ব্রিটিশ শিক্ষানুষ্ঠান বর্জন করা, 

(গ) বিধান পরিষদ নির্বাচন বর্জন করা, 

(ঘ) সরকারী কার্যসূচী উৎসব বর্জন করা,

(ঙ) ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করা।

প্রশ্ন ২৩। অসহযোগ আন্দোলনের সময় গড়িয়া উঠা জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠানগুলির নাম লিখ।

 উত্তর : (ক) কলকাতার নেশনেল কলেজ, 

(খ) বিহারের বিহার বিদ্যাপীঠ, 

(গ) বেঙ্গল নেশানেল বিশ্ববিদ্যালয়, 

(ঘ) গুজরাট বিদ্যাপীঠ, 

(ঙ) কাশী বিদ্যাপীঠ।

প্রশ্ন ২৪। কত সনে কোন্ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গান্ধাজি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত রাখিয়াছিলেন? 

উত্তর : উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায় সংগঠিত হিংসাত্মক ঘটনার জন্য গান্ধীজি ১৯২২ সনের ২৯শে ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেন। 

প্রশ্ন ২৫। গান্ধী-আর উইন চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল? এই চুক্তির একটি পরিণতি উল্লেখ কর। 

উত্তর : গান্ধী আরউইন চুক্তি ১৯৩১ সালের ৫ মার্চে স্বাক্ষরিত হইয়াছিল। 

(ক) সাগরের তীরে গ্রামবাসীদের লবণ তৈয়ার করার অনুমতি দেওয়া হয়। 

(খ) সরকার নির্দোষ বন্দীদের মুক্তি দেয়। 

প্রশ্ন ২৬। ১৯২৯ সনের কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন? এই অধিবেশনে কি প্রস্তাব গ্রহণ করা হইয়াছিল? 

উত্তর : জওহরলাল নেহরু সভাপতিত্ব করিয়াছিলেন। এই অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব গ্রহণ করা হইয়াছিল।

 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। সত্যাগ্রহ বলিতে কি বোঝ? যে তিনটি স্থানীয় বিবাদের ক্ষেত্রে গান্ধীজি সত্যাগ্রহ প্রথমে প্রয়োগ করিয়াছিল সেই তিনটির বিষয়ে সংক্ষিপ্তরূপে লিখ। 

উত্তর : গান্ধীজি ১৯১৯ সালে সত্যাগ্রহ আরম্ভ করিয়াছিল। গান্ধীজির মতে সত্যাগ্রহ হইল “এক আধ্যাত্মিক আন্দোলন, এক বিশুদ্ধিকরণ ও প্রায়শ্চিত্তকরণের প্রক্রিয়া’। সত্যাগ্রহের অর্থ হইল সত্যের প্রতি থাকা আগ্রহ অর্থাৎ সত্যনিষ্ঠ হইয়া কাজ করা। সত্যাগ্রহের ভিত্তি হইল অহিংসা। গান্ধীজি ১৯১৭-১৮ সালে উত্তর বিহারের চম্পারণ, গুজরাটের খেড়া ও আমেদাবাদে সংঘটিত বিবাদের সমাধানে জড়িত হইয়া পরিয়াছিল। 

চম্পারণে তিনি ভূ-স্বামীসকলের বিপক্ষে সাধারণ কৃষকদের নেতৃত্ব প্রদান করিয়াছিল, খেড়াতে কৃষকদের শষ্য নষ্ট হওয়ার পরও সরকার আরোপিত অত্যধিক রাজস্বের বিপক্ষে বিদ্রোহ করিয়াছিল। আবার আমেদাবাদে বঞ্চিত মিল শ্রমিকদের হইয়া মিল মালিকদের বিপক্ষে দাঁড়াইয়াছিল। এই প্রতিটি কার্যসূচীতে তিনি ‘সত্যাগ্রহ’কে কৌশল হিসাবে ব্যবহার করিয়াছিল, যেখানে আদর্শ ছিল সত্য ও অহিংসা। 

প্রশ্ন ২। গান্ধীজির ভারত ত্যাগ আন্দোলনের পেছনে কি ছিল? তিনি এই আন্দোলন কিভাবে পরিচালিত করেছিলেন? 

উত্তর ঃ ১৯৩৯ সনের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হয়। মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরুর মত আন্দোলনের মুখ্য নেতা গণ ব্রিটিশ সরকারকে জানাইয়া দিয়া ছিলেন।

যে ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলে তাহারা যুদ্ধে ব্রিটিশদের সাহার্য করিবে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে। ফলে কংগ্রেসের মন্ত্রীগণ মন্ত্রীত্বের পদ ত্যাগ করেন এবং সত্যাগ্রহের জন্য কার্যসূচী গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল কংগ্রেসের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার জন্য তাহার মন্ত্রীসভার একজনে মন্ত্রী স্যার স্টেফোর্ড ক্রিপসকে ১৯৪২ সনে ভারতে পাঠাইয়াছিলেন। ক্রিপস মিশন ইউরোপ চলিয়া থাকা বৃটিশের পক্ষে ভারতীয়দের সহযোগ চাহিয়া বারবার প্রস্তাব দিয়াছিল। কিন্তু ক্রিপস মিশনের প্রস্তাব মানিয়া না নেওয়ায় ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হইয়াছিল। গান্ধীজি এই সুযোগে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে তৃতীয় বৃহৎ ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন করিতে সিদ্ধান্ত নিলেন। ভারত ত্যাগ আন্দোলনের অন্যান্য কারণ গুলি ছিল। — জাপানের ভারত আক্রমণের হুঙ্কার, পূর্ববঙ্গ সন্ত্রাস, এবং ব্রিটিশ দেশটিকে রক্ষা করিতে পারিবে না বলিয়া সনের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার ভাব। 

১৯৪২ সনে আগস্ট মাসে নিখিল ভারত কংগ্রেস ভারত ত্যাগ আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। গান্ধীজি ঐতিহাসিক আগস্ট সভায় বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়ার ট্যাঙ্কে উদাত্ত ভাষণ দিয়াছিলেন। এই স্থানটি বর্তমানে ‘আগস্ট ক্রান্তি মৈদান’ নামে খ্যাত। গান্ধীর করিব বা নরিব’ ধ্বনির প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হইয়া দেশের লোক এই আন্দোলনে ঝাপাইয়া পরিয়াছিল।

 প্রশ্ন ৩। কি পরিস্থিতিতে মহাত্মা গান্ধী অহিংসা আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন? ইহার কাৰ্যসূচী কি ছিল? গান্ধীজিকে এই আন্দোলন কেন বন্ধ করিতে হইয়াছিল ?

উত্তর : (ক) ১৯১৯ সালে রাওলাট আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইন অনুসারে ব্রিটিশ সরকারকে যেকোনো ভারতীয়কে বিনা বিচারে কারাগারে নিক্ষেপ করার অধিকার দেওয়া হইয়াছিল। এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাইয়া মহাত্মা গান্ধী ১৯১১ সালে অহিংস আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন। 

(খ) ইহার কার্যসূচী ‘হরতাল’ দ্বারা আরম্ভ হইয়াছিল। সকল ভারতীয় ব্যবসায়-বাণিজ্য বন্ধ করিয়া অনশন এবং প্রার্থনায় বসিয়াছিলেন। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন এক বৃহৎ গণ-আন্দোলনে পরিণত হইল। এই আন্দোলনে স্কুল কলেজ, আইন-আদালত, বিদেশী প্রব্য ইত্যাদি বর্জন করা হইল। 

(ঘ) এই আইনটির বিরোধিতা করিয়া পাঞ্জাবে জালিয়ানওয়ালাবাগে পাঞ্জাবিরা এক বিরাট সভার আয়োজন করিয়াছিল। যখন সভা চলিতেছিল তখন জেনারেল ডায়ার প্রতিবাদীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালনা করে। এর ফলে শত-শত লোক মৃত্যু মুখে পতিত হয় এবং বহু লোক আহত হয়। এই কুখ্যাত ঘটনার পর গান্ধীজি অহিংসা আন্দোলন প্রত্যাহার করিতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন ৪। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (আজাদ হিন্দ ফৌজ) এর বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ। 

উত্তৰ : ১৯৪২ সনের ভারত ত্যাগ আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করার পর ১৯৪৫ সনের যুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত দেশের ভিতরে কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপ প্রায় না থাকার মতই হইয়াছিল। কিন্তু সেই সময়ে জাতীয় আন্দোলন দেশের বাহিরে নতুন রূপে প্রকট হইয়াছিল। দুইবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া সুভাষচন্দ্র বসুকে ব্রিটিশ বিরোধতিার জন্য ১৯৪১ সনে কলকাতাতে তাহার নিজের ঘরে গৃহবন্দী করিয়া রাখা হইয়াছিল। কিন্তু ব্রিটিশ গোয়েন্দার চোখে ধূলি দিয়া তিনি ছদ্মবেশে ভারত হইতে বিদেশে চলিয়া যান। সেখানে গিয়া ১৯৪৩ সনে বিদেশবাসী জাতীয়তাবাদী নেতা রাসবিহারী বসুর সহযোগ ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (INA) গঠন করেন। এই সেনাবাহিনীটি আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত। সেই সময়ে মালয়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন ভারতীয় সেনা কেপ্টেন মোহন সিং। তাঁহাকে জাপানী সৈন্যের কাছে আত্মসমর্পণ করিতে হয়। ভারতীয় জাতীয় বাহিনীর ধারণাটো ক্যাপ্টেইন মোহন সিংহই পোষণ করিয়াছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মূল ‘গানছিল ‘জয় হিন্দ’। ব্রিটিশ সহযোগীদের বিপক্ষে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী জাপানের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করিয়া ব্রহ্মাদেশ, ইম্ফল এবং কোহিমায় যুদ্ধ করিয়াছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যুদ্ধে জাপানের পরাজয়ে ভারতীয় সৈন্য। বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য করা হয়। 

প্রশ্ন ৫। ভারতে খিলাফৎ আন্দোলন কেন আরম্ভ হইয়াছিল?

উত্তর ঃ তুরস্কের খলিফা নিজের সাম্রাজ্যের পবিত্র জায়গাগুলির উপরে অধিকার হারানোতে মুসলমানেরা উত্তেজিত হইয়া পরিয়াছিল। ভারতীয় মুসলমানেরাও খলিফার দুর্ভাগ্যে শংকিত হইয়া পরিয়াছিল। মৌলানা সৌকত আলি ও মহম্মদ আলির নেতৃত্বে ভারতে একটি খিলাফৎ সমিতি গঠন হইয়াছিল। গান্ধীজি রাষ্ট্রীয় স্বার্থে হিন্দু ও মুসলমানদের এক করার সুযোগ লইয়া খিলাফৎ আন্দোলনে সমর্থন জানাইয়াছিল।

প্রশ্ন ৬। ১৯২০-২২ সালে গান্ধীজি কেন অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল? ইহার কার্যসূচী কি ছিল? গান্ধীজি কেন এই আন্দোলন বন্ধ করিয়াছিল ?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ১৯২০ সাল হইতে ১৯২২ সাল পর্যন্ত অসহযোগ আন্দোলনের দ্বারা অহিংসার পথে ব্রিটিশ শাসন হইতে ভারতবর্ষকে মুক্ত করিতে চাহিয়াছিল। মহাত্মা গান্ধীর সব নেতৃত্বে দেশের হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে নামিয়াছিল। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের। এইটিই প্রথম সর্ববৃহৎ আন্দোলন ছিল। এই আন্দোলনের মূল কারকগুলি ছিল – (ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয়দের অসন্তুষ্টি। (খ) ১৯১৯ সালের রাওলাট আইনের দ্বারা ব্রিটিশের বর্ধিত দমনমূলক নীতি।

 (গ) ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড। (ঘ) ব্রিটিশদের দ্বারা ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক শোষণ। (ও) ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফৎ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন। উক্ত কারকগুলির উপরে ভিত্তি করিয়া গান্ধীজি ১৯২১ সালে কলিকাতায় বসা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি বিশেষ সভায় এই আন্দোলন চালাইয়া যাইতে সিদ্ধান্ত লইয়াছিল। এই আন্দোলনের কার্যসূচীতে হিন্দু মুসলমান একত্রিত হইয়া ব্রিটিশের বিরুদ্ধে নামিয়া পরিয়াছিল। আন্দোলনকারীসকল বিদেশী বস্তু, সুরা বিক্রী করা দোকানগুলি বর্জন করিয়াছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় আগ করিয়াছিল। বঙ্গদেশের মেদিনীপুরের বাসিন্দাসকল কর না দেওয়ার কার্যসূচী রূপায়ণ করিয়াছিল। ভাসহযোগ আন্দোলনের ফলে হাতে সূতা কাটা ও তাঁত বওয়া শিল্পের উন্নতির দ্বারা স্বদেশী আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছিল। আবার ব্রিটিশ সরকার হইতে পাওয়া নানা পুরস্কার ও উপাধি পরিত্যাগ করার মত কার্যসূচীও অসহযোগ আন্দোলনের অংশস্বরূপ ছিল। 

১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরাতে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হইয়াছিল। ফলস্বরূপে উন্মত্ত জনতা পুলিশ থানায় অগ্নিসংযোগ করিয়া ২২ জন পুলিশকে হত্যা করিয়াছিল। এই ঘটনায় মহাত্মা গান্ধী মর্মাহত হইয়াছিল ও অসহযোগ আন্দোলন বন্ধ করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৭। আইন অমান্য আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কি ছিল? এই আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য কি ছিল? 

উত্তর ঃ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। সারা দেশ ছড়াইয়া পরা এই আন্দোলন ভয়ানক রূপ লইয়াছিল ও ইংরাজ সরকারকে ভীতি প্রদান করিয়াছিল। সরকার গান্ধীজির সঙ্গে সকল নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে কারাগারে নিক্ষেপ করিয়াছিল ও কঠোর হাতে এই আন্দোলন দমন করিয়াছিল। এই আন্দোলনে প্রায় ১৩০ জন পুলিশ-মিলিটারি আক্রমণে নিহত হইয়াছিল ও প্রায় ৪২০ জন লোক আহত হওয়ার সঙ্গে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে কারাগারে নিক্ষেপ করিয়াছিল। 

আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য : ১৯৩০ সালে হওয়া আইন অমান্য আন্দোলন ছিল সক্রিয় অহিংসার আন্দোলন। এই আইন অমান্য আন্দোলন বেশি বিপ্লবাত্মক ছিল। এই আন্দোলনের দ্বারা কিছু বে-আইনি কাজ করিয়া সরকারকে এক প্রকার বিকল করিয়া দেওয়ার চেষ্টা করিয়াছিল। ১৯৩০ সালে হওয়া আইন অমান্য আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমানের সঙ্গে মহিলারাও সক্রিয় অংশগ্রহণ করিয়াছিল।

 ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজিকে মুক্ত করিয়া  র ও গভর্নর জেনেরেল লর্ড ও উহণের সঙ্গে আন্দোলন বন্ধ করিয়া একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

প্রশ্ন ৮। কি পরিস্থিতিতে ভারত ত্যাগ আন্দোলনের সূচনা হইয়াছিল? ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই আন্দোলনের কার্যসূচীকে তুমি মাইলের খুটি হিসাবে সাব্যস্ত করিতে চাও কী? তোমার মতামতের সমর্থনে যুক্তি প্রদর্শন কর। 

উত্তর : ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হইয়াছিল। মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু প্রমুখ্যে আন্দোলনের মুখ্য নেতাসকল ব্রিটিশ সরকাররে জানাইয়া দিয়াছিল যে ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলে তাঁহারা যুদ্ধে ব্রিটিশকে সাহায্য করিবে। কিন্তু ব্রিটিশেরা কংগ্রেসের এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিয়াছিল। ফলে কংগ্রেসের মন্ত্রীসকল মন্ত্রীত্বের পদত্যাগ করিল ও সত্যাগ্রহের কার্যসূচী গ্রহণ করিল। ব্রিটিশ প্রধামন্ত্রী উইনস চার্চিল কংগ্রেসের সঙ্গে একাধিক আলোচনা করার উদ্দেশ্যে তাঁহার মন্ত্রীসভার একজন মন্ত্রী। স্যার স্টাফর্ড ক্রিপসকে ১৯৪২ সালে ভারতে প্রেরণ করে। ক্রিপস মিশন ইউরোপে চলিতে থাকা ব্রিটিশের পক্ষে ভারতীয়দের সহযোগিতা খুজিয়া কয়েকটি প্রস্তাব দাখিল করিয়াছিল। কিন্তু কংগ্রেস ক্রিপস মিশনের প্রস্তাব মানিয়া না লওয়াতে ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হইয়াছিল। গান্ধীজি এই সুযোগে ১৯৪২ সালে তৃতীয় বৃহৎ ‘ভারত ত্যাগ’ আন্দোলন ঘোষণা করিয়াছিল।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এটাকে একটি মাইলের খুঁটি বলিয়া ধরা হয়। কেননা বিশ্বে চলিতে থাকা সেই সময়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশকে কংগ্রেস সহযোগ করা নিতান্ত প্রয়োজন বোধ করিয়াছিল ব্রিটিশ সরকার। গান্ধীজির সঙ্গে বহু কংগ্রেসী নেতাকে বন্ করিয়াছিল যদিও সরকার জনতাকে বাধা দিয়া রাখিতে পারিতেছিল না। এই আন্দোলন দীর্ঘম্যাদী ছিল না যদিও ইহা ভারতীয়দের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা অধিক গভীরতাতে লইয়া গিয়াছিল। দেশের ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা আদির এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বাধীনতার দাবীকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কার্যসূচীতে পরিণত করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৯। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ। 

উত্তর : ১৯৪১ সালে হওয়া দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে জাপানী সৈন্যের সঙ্গে সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ভারতীয় সৈন্যদের একটি জাতীয় সেনাবাহিনী গঠন করা হইয়াছিল। এই জাতীয় সেনাবাহিনী প্রথমে গঠন করিয়াছিল ক্যাপ্টেন সোহান সিং। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীকে আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও জানা যায়। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল ভারত হইতে ব্রিটিশকে তাড়াইয়া দেশকে স্বাধীন করা। জাপানী সৈন্যের সঙ্গে এক হইয়া জাতীয় সেনাবাহিনী ব্রিটিশ ও সহযোগীসকলের সৈনোর সঙ্গে ব্রহ্মদেশ, ইম্ফল, কোহিমাতে যুদ্ধ করিয়াছিল। কিন্তু যুদ্ধে জাপানের পরাজয় ও আত্মসমর্পণে জাতীয় সেনাবাহিনীকেও আত্মসমর্পণ করিতে বাধ্য করায়।

প্রশ্ন ১০। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ। কি কারণে তিনি এই আন্দোলন স্থগিত রাখিয়াছিলেন?

উত্তর ঃ অসহযোগ আন্দোলন ছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন। কুখ্যাত রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন আরম্ভ হইয়াছিল। ইহা ছাড়াও তুরস্কের খিলাফৎ আন্দোলন ও জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের দ্বারাও এই আন্দোলন প্রভাবান্বিত হইয়াছিল। 

মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে আরম্ভ হওয়া এই অসহযোগ আন্দোলনের কার্যসূচীগুলিকে মূলতঃ দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় ইহার প্রথমটি গঠনমূলক এবং অন্যটি ধ্বংসমূলক। গঠনমূলক কার্যসূচীর মধ্যে শিক্ষার জাতীয়করণ, স্বদেশী গ্রহণ ও প্রচার, চরকা তথা খাদীর ব্যবহার ইত্যাদি। অন্যদিকে ধ্বংসমূলক কার্যসূচিগুলির মধ্যে ব্রিটিশ আইন আদালত বর্জন করা, বিধানসভা পরিষদ বর্তন করা, সরকারী কার্যসূচী, উৎসব ইত্যাদি বর্জন করা, ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করা প্রভৃতি। 

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রতি পূর্ব হইতেই জনসাধারণের মধ্যে আকর্ষণ এবং উত্তেজনা বিরাজ করার ফলে আন্দোলন আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র ভারতবর্ষেই জনসাধারণ গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। আন্দোলনের কার্যসূচী অনুযায়ী দেশের বহু স্থানে জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠান গড়িয়া তোলা হইয়াছিল। সরকারী স্কুল, কলেজ বর্জন করা ছাত্র-ছাত্রীরা উক্ত জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠানে ভর্তি হইয়াছিল। গ্রামাঞ্চলে যুবক, কিশোরসহ হাজার হাজার কৃষকও অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। দেশের বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কারখানার শ্রমিকও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়া নির্মল স্বাধীনতা স্পৃহার নিদর্শন তুলিয়া ধরিয়াছিল। যদিও গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন অহিংসভাবে করিতে চাহিয়াছিলেন। কিন্তু চৌরিচৌরায় আন্দোলনকারীরা থানা জ্বালাইয়া দিয়া হিংসার পথ গ্রহণ করায় ১৯২২ সনের ২২শে ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন ১১। ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন করে সংঘটিত হয়েছিল? মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলনটি কীভাবে পরিচালনা করেছিলেন ? 

উত্তর : ১৯৩০ সনের মার্চ মাসে মহাত্মা গান্ধী আনুষ্ঠানিকভাবে আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিলেন। 

গান্ধীজির নেতৃত্বে আরম্ভ হওয়া আইন অমান্য আন্দোলন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিল। কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে গ্রহণ করা পূর্ণ

স্বাধীনতার বাণী সমগ্র দেশে এক বিশেষ আলোড়নের সৃষ্টি করিয়াছিল। মহাত্মা গান্ধী দাণ্ডীতে লবণ আইন ভংগ করিয়া একটি আন্দোলনের সৃষ্টি করিয়াছিলেন। দেশে পূর্ণ স্বাধীনতার বাণী এক স্থান হইতে অন্য স্থানে ছড়াইয়া পরিয়াছিল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার লোক আন্দোলনে যোগদান করিয়াছিল। আন্দোলনের ব্যাপকতা এতই বেশী ছিল যে অনেক জায়গায় সরকারের অস্তিত্ব লোপ পাইয়াছিল। হরতাল, পিকেটিং, সভা, শোভাযাত্রা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রধান কার্যসূচী এবং কর্তব্যতে পরিণত হইয়াছিল। দেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে সীমান্তে গান্ধীজির দ্বারা গঠিত করা লাল পোষাক পরিহিত স্বেচ্ছাসেবী দল খাজনা এবং কর না দেওয়ার জন্য কার্যসূচী গ্রহণ করিয়াছিল। সীমান্ত গান্ধীর এই আন্দোলন এতই জনপ্রিয় হইয়াছিল যে সেই অঞ্চলে কয়েক মাস ধরিয়া সরকারের অস্তিত্ব বিপদাপন্ন হইয়াছিল।

প্রশ্ন ১২। অহিংসা নীতি বলিতে কি বুঝ? কে প্রথমে এবং কোথায় ইহা উদ্ভাবন করিয়াছিলেন? 

উত্তর : অহিংসা নীতি হইল শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার প্রবর্তিত কঠোর আইন ভঙ্গ করা। উক্ত আইন-কানুন উলংঘন বা ভঙ্গ করার উপায় হইল স্বেচ্ছায় গণ প্রতিরোধ করিয়া গ্রেফতার বরণ করা, মাঝে মধ্যে হরতাল পালন করা, সভা, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ, ধর্না প্রভৃতি অনুষ্ঠিত করা। এই নীতি অনুসারে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী লোকদের উপর প্রতিপক্ষ আক্রমণ করিলেও আন্দোলনকারী আক্রমণ করিবে না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেই শান্তি মাথা পাতিয়া লইতে হইবে। 

মহাত্মা গান্ধী সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় এই নীতি উদ্ভাবন করিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ১৩। ‘গ্রাম্য স্বরাজ’ কথাটির অর্থ কি? ইহা কে উদ্ভাবন করিয়াছিলেন?

 উত্তর : “গ্রাম্য স্বরাজ”নর অর্থ হইল গ্রাম্য স্বাধীনতা। মধ্যযুগের পূর্ব হইতেই গ্রামগুলি ছিল আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থাৎ নৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও পরিশ্রমী। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সহিত গ্রাম শাসনের চাবিকাঠি ছিল গ্রামসভা তথা পঞ্চায়েতের হাতে অর্থাৎ পঞ্চায়েতই ছিল গ্রামের শাসনের ক্ষেত্রে আদি এবং শেষ অনুষ্ঠান। এক কথায় গ্রামের মানুষ প্রকৃত স্বরাজ উপভোগ করত, এইক্ষেত্রে বাহিরের লোকের কোনপ্রকার হস্তক্ষেপ করার অধিকার ছিল না। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনে গ্রামে পূর্ব হইতে চলিতে থাকা এই অবস্থার অবসান ঘটায় গ্রাম হইতে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরশীলতা অন্তর্হিত হইয়া পড়িয়াছিল। সকল দিক হইতেই গ্রামগুলি পূর্বের গরিমা হারাইয়া ফেলিয়াছিল। এই পটভূমিতে মহাত্মা গান্ধী গ্রামগুলির পূর্বের গরিমা উদ্ধারের জন্য অর্থনৈতিক উৎপাদন পদ্ধতি, শাসন ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার পুনরুত্থানের জন্য গ্রাম্য স্বরাজের তত্ত্ব প্রচার করিয়াছিলেন। তাঁহার এই গ্রাম্য স্বরাজের মধ্যমনি ছিল পঞ্চায়েত। ভারতবর্ষের গ্রামীণ স্বরাজের উদ্ভাবক ছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

প্রশ্ন ১৪। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড কবে সংঘটিত হয়েছিল ? ঘটনাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। 

উত্তর : জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায়। এই হত্যাকাণ্ড ১৯১৯ সনের ১৩ই এপ্রিল সংঘটিত হইয়াছিল। ব্রিটিশ সরকারের কুখ্যাত রাওলাট আইনের প্রতিবাদে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে হাজার হাজার লোক সমবেত হইয়াছিল। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতিপূর্বে ১০ই এপ্রিলের গুলিচালনা করার প্রতিবাদ করা। সমাবেশের স্থান উঁচু দেওয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং প্রবেশ ও বহির্গমনের একটি মাত্র রাস্তা ছিল। অমৃতসরের তদানীন্তন সামরিক আধিকারীক জেনারেল ডায়ার নিজের সঙ্গে প্রায় ১৫০ জন বন্দুকধারী সঙ্গীকে লইয়া সেই নিরস্ত্র লোকের উপর নির্বিচারে গুলিচালনা করেন। প্রায় একঘণ্টা ধরিয়া গুলিচালনা করার ফলে ৩৭৯ জন লোক নিহত এবং ১৫০০ জন চিরদিনের জন্য পঙ্গু হইয়াছিল।

 সংক্ষিপ্ত টীকা 

১। গ্রাম্য স্বরাজ ঃ গ্রাম্য স্বরাজের ধারণা মহামানব মহাত্মা গান্ধীর সৃষ্টি। মহাত্মা গান্ধী গ্রামের আত্মনির্ভরশীলতা, স্বয়ংসম্পূর্ণতা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন এবং উন্নত গৌরব উদ্ধার করার জন্য গ্রাম, স্বরাজের প্রবর্তন বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করিয়াছিলেন। এই উদ্দেশ্যে গান্ধীজি গ্রামের অর্থনৈতিক উৎপাদন পদ্ধতি, শাসন ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য গ্রাম্য স্বরাজের তত্ত্ব প্রচার করেন। তাহার মতে গ্রামের সমষ্টিতে গঠিত ভারতবর্ষে গ্রাম্য স্বরাজ প্রতিষ্ঠার দ্বারা দেশের স্বরাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হইবে বলিয়া বিবেচনা করিয়াছিলেন। এই উদ্দেশ্যে গান্ধীজি কুটীর শিল্প ত। হস্তশিল্পের পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি চরকার উপর গুরুত্ব দিয়া সুতা কাটা, কাপড় বানানো প্রভৃতি কলার উপর গুরুত্ব প্রদান করিয়াছিলেন। তাঁহার কল্পিত গ্রাম্য স্বরাজের মধ্যমণি ছিল পঞ্চায়েত। 

২। জেনারেল রেজিনল্ড ডায়ার : ভারতের ইতিহাসের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক ছিলেন রেজিনেল্ড ডায়ার। একজন রুক্ষ প্রশাসকরূপে কুখ্যাতি অর্জন করা ডায়ার জালিয়ানওয়ালাবা।ে সমবেত প্রায় ২০,০০০ লোকের উপর তাঁহার অধীনস্থ ১৫০ জন বন্দুকধারীর দ্বারা নির্বিচারে গুলি চালনা করিয়া ৩৭৯ জনকে নিহত করে। ইহা ছাড়া প্রায় এক ঘণ্টা ধরিয়া চলা এই গুলিচালনায় প্রায় ১৫০০ লোক চিরদিনের মত পঙ্গু হইয়াছিল।

৩। চৌরিচৌরার হিংসাত্মক ঘটনা : মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনের সময় পুলিশের দ্বারা উত্তর প্রদেশের বহু লোক নির্যাতিত হইয়াছিল। এইরূপ পুলিশ নির্যাতনে অতীষ্ঠ হইয়া উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরার কৃষকরা ১৯২২ সনের ৫ই ফেব্রুয়ারি সেখানকার একটি পুলিশ থানা জ্বালাইয়া দিয়াছিল। এই অগ্নিকাণ্ডে পুলিশ থানাটির জমাদার এবং দারোগাসহ প্রায় ১৮ হইতে ২২জন পুলিশকর্মী অগ্নিদগ্ধ হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল।

 ৪। কেন্দ্রীয় খিলাফৎ সমিতি : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফা পদের পদমর্যাদা ও তাঁহার রাজ্যের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোকের মধ্যে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হইয়াছিল। ভারতেও ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোকের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্বেষ চরম রূপ ধারণ করিয়াছিল। এইরূপ পরিস্থিতিতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং খলিফার পদমর্যাদার ক্ষতিসাধন করায় ইহার প্রতিকারকল্পে ভারতবর্ষে কেন্দ্রীয় খিলাফৎ সমিতি গঠন করা হইয়াছিল। এই কেন্দ্রীয় সমিতি গঠনের ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু, মদনমোহন মালব্য প্রভৃতি প্রথম শারীর নেতাগণ অগ্রণী ভূমিকা লইয়াছিলেন। 

৫। সীমান্ত গান্ধী : ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আইন অমান্য আন্দোলনের সময় এক সবল ভূমিকা গ্রহণ করা নেতা ছিলেন খান আব্দুল গফুর খান ওরফে সীমান্ত গান্ধী বলিয়া খ্যাত ব্যক্তি। ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তিনি লাল শার্ট পরিহিত এক স্বেচ্ছাসেবী দল গড়িয়া তুলিয়াছিলেন। এই দল আন্দোলনের কার্যসূচী মতে খাজনা ও কর আনায় দেওয়া বন্ধ করিয়া দিয়াছিল। এই লাল শার্ট পরিহিত বাহিনীর কার্যসূচী এএই জনপ্রিয় ছিল যে উল্লিখিত অঞ্চলে বেশ কয়েক মাস ধরিয়া সরকারের অস্তিত্বই বিপদাপন্ন হইয়া পরিয়াছিল।

 ৬। লবণ আইন ভঙ্গ : আইন অমান্য আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী লবণ আইন ভঙ্গ করার দ্বারা আন্দোলনের কার্যসূচী আরম্ভ করিয়াছিলেন। এই কাৰ্যসূচী মতে ১৯৩০ সনের মার্চ মাসের ১২ তারিখ গান্ধীজি তাঁহার ৭৮ জন অনুগামী লইয়া সবরমতী আশ্রম হইতে প্রায় ২৪১ মাইল দূরে সাগরের পারে থাকা ডান্ডীতে লবণ আইন ভঙ্গ করার জন্য যাত্রা করিয়া ৬ই এপ্রিল সাগরের জল হইতে লবণ তৈরি করিয়া লবণ আইন ভঙ্গ করিয়াছিলেন।

Leave a Reply