SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-1| বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল

SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-1| বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল প্রশ্নের উত্তর SEBA, এনসিইআরটি ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান মৌচাক এবং মুহূর্তগুলির জন্য সমাধান, ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান নোটগুলি পরীক্ষায় দক্ষতার জন্য অনেক মূল্যবান হতে পারে। আসাম বোর্ড ক্লাস 10 সামাজ বিজ্ঞান সমাধানে আপনাকে সমস্ত অধ্যায় সম্পর্কে আরও ভাল জ্ঞান দেয়। আপনি মৌলিক এবং উন্নত উভয় স্তরের প্রশ্নের সমাধান পেতে পারেন। আপনার বোর্ড পরীক্ষায় পারদর্শী হওয়ার অন্যতম সেরা উপায় হল অনুশীলন করা।

SEBA Class 10 Solutions

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (Bangla MEDIUM)

SEBA CLASS 10 (English MEDIUM)

Also Read

এছাড়াও, আপনি SCERT (CBSE) বইয়ের নির্দেশিকা অনুসারে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা সমাধান এই বিভাগগুলিতে অনলাইনে SEBA বই পড়তে পারেন৷ এখানে আমরা SEBA Class-10 Social Science Question Answer|Chapter-1| বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল দিয়েছি সব বিষয়ের জন্য বাংলা সমাধান, আপনি এখানে অনুশীলন করতে পারেন।

অধ্যায় ১

শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর : 

প্রশ্ন ১। ইয়াণ্ডাবু সন্ধি কবে স্বাক্ষরিত হইয়াছিল— 

(ক) ১৮২৬ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি 

(খ) ১৮২৫ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি 

(গ) ১৮২৮ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি

(ঘ) ১৮৫০ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি 

উত্তর : (ক) ১৮২৬ সনের ২৪ ফেব্রুয়ারি

প্রশ্ন ২। ‘বংগীয় কলা সাংসদ’ কাহার প্রচেষ্টায় গড়িয়া উঠিয়াছিল ?

(ক) রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর

(খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

(গ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়

(ঘ) কৃষ্ণকুমার মিত্র

 উত্তর : (খ) অবনীনন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

প্রশ্ন ৩। রিপন কলেজকে বর্তমানে কি নামে জানা যায় ?

(ক) সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

(গ) দিনহাটা কলেজ 

(খ) যাদবপুর ইউনিভারসিটি

(ঘ) মদনমোহন কলেজ 

 উত্তর : (ক) সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

প্রশ্ন ৪। অসম প্রদেশ গঠিত হয়— 

(ক) ১৮৫৮ সনে

(খ)১৮৭৪  সনে

(গ) ১৮৯৫ সনে 

(ঘ) ১৯৪৭ সনে

উত্তর : (খ) ১৮৭৪ সনে।

প্রশ্ন ৫। কোন আন্দোলনের সময় গান্ধীজী ‘করিব অথবা মরিব’ শ্লোগানটি দিয়াছিলেন? 

(ক) আইন অমান্য আন্দোলন

(গ) ভারত ত্যাগ আন্দোলন 

(খ) অসহযোগ আন্দোলন 

(ঘ) খিলাফৎ আন্দোলন 

উত্তর : (গ) ভারত ত্যাগ আন্দোলন । 

প্রশ্ন ৬। ‘সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ’ কাহার নেতৃত্বে গঠিত হইয়াছিল? 

(ক) মহম্মদ আল

(গ) নবাব সলিমউল্লা 

(খ) আগা খান 

(ঘ) ফিরোজ খান 

উত্তর : (গ) নবাব সলিমউল্লা।

(ক) ১৮৮৫ সনে

প্রশ্ন ৭। সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হইয়াছিল- 

(ক) ১৮৮৫ সনে

(খ) ১৯০৫ সনে 

(গ) ১৯০৬ সনে 

(ঘ) ১৮৫৭ সনে 

উত্তর : ১৮৫৭ সনে

প্রশ্ন ৮। এলাহবাদ সন্ধি কাহাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হইয়াছিল

(ক) ঔরংগজেব এবং রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে 

(খ) মীরকাশিম এবং রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে

(গ) সিরাজউদৌল্লা এবং রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে

 (ঘ) শাহ আলম এবং রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে 

উত্তর : শাহ আলম এবং রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে

প্রশ্ন ৯। ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ কে প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন? 

(ক) ভগিনী নিবেদিতা

(খ) সরলা দেবী 

(গ) অরবিন্দ ঘোষ

(ঘ) উপরের একটাও না

 উত্তর : সরলা দেবী

প্রশ্ন ১০। কার কার্যকালে ‘বঙ্গ বিভাজন পরিকল্পনা টি কার্যকরী হয়েছিল? 

(ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন

(খ) লর্ড উইলিয়াম 

(গ) লর্ড ডালহৌসী 

(ঘ) লর্ড কার্জন 

উত্তৰ : লর্ড কার্জন 

প্রশ্ন ১১। বঙ্গ বিভাজন করা হইয়াছিল- 

(ক) ১৯০৪ সালে

(খ) ১৯০৫ সালে

(গ) ১৯০১ সালে 

(ঘ) ১৯১৯ সালে 

উত্তর : ১৯০৫ সালে।

প্রশ্ন ১২। রেগুলেটিং অ্যাক্ট প্রবর্তন করা হইয়াছিল—

(ক) ১৭৭৩ সালে

(খ) ১৯০৯ সালে

(গ) ১৮৫৭ সালে 

(ঘ) ১৭৫৭ সালে 

উত্তর : ১৭৭৩ সালে 

প্রশ্ন ১৩। বঙ্গ ভঙ্গ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হইয়াছিল—

(ক) ১৯০১ সালে

(খ) ১৯১০ সালে

(গ) ১৯১১ সালে

(ঘ) ১৯১২ সালে

 উত্তর : ১৯১১ সালে 

প্রশ্ন ১৪। পূর্ববঙ্গ ও অসমকে লইয়া গঠন করা নতুন প্রদেশের রাজধানী ছিল— 

(ক) গুয়াহাটিতে 

(খ) কলিকাতায়

(গ) ঢাকায়

(ঘ) শিলঙে 

উত্তর : ঢাকায়

প্রশ্ন ১৫। বঙ্গ ভঙ্গের ফলশ্রুতিতে অসমের রাজধানী স্থানান্তরিত হইয়াছিল—

(ক) ঢাকায় 

(খ) ছোটনাগপুরে 

(গ) শিলে 

(ঘ) চট্টগ্রামে 

উত্তর : ঢাকায় 

প্রশ্ন ১৬। ‘সঞ্জীবনী পত্রিকা’র সম্পাদক ছিল-

(ক) মতিলাল ঘোষ 

(গ) দ্বিজেন্দ্রলাল মিত্র 

(খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় 

(ঘ) কৃষ্ণকুমার মিত্র 

উত্তর : কৃষ্ণকুমার মিত্র

প্রশ্ন ১৭। ‘বন্দে মাতরম্’ গীতের রচয়িতা-

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 

(খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

(ঘ) সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী 

উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 

প্রশ্ন ১৮। স্বদেশী আন্দোলনের সময়সীমা ছিল- 

(ক) ১৯০৫-১১ সাল পর্যন্ত 

(খ) ১৯০৫-১০ সাল পর্যন্ত 

(গ) ১৯০৯-১১ সাল পর্যন্ত

(ঘ) ১৯০৫-১৫ সাল পর্যন্ত 

উত্তর : ১৯০৫-১১ সাল পর্যন্ত 

প্রশ্ন ১৯। ‘বেঙ্গলী পত্রিকা’র সম্পাদক ছিল-

 (ক) কৃষ্ণকুমার মিত্র

 (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 (খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

 (ঘ) অরবিন্দ ঘোষ 

উত্তর : সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রশ্ন ২০। ‘নব্য ভারত’ গ্রন্থের লেখক— 

(ক) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী 

(খ) কার্তিকচক্রা দাশগুপ্ত 

(গ) প্রমথনাথ রায়চৌধুরী 

(ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী 

উত্তর : কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত 

প্রশ্ন ২১। বঙ্গলক্ষীর ব্রতকথা’ গ্রন্থের লেখক— 

(ক) কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত

(খ) প্রমথনাথ চায়চৌধুরী

(গ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী 

(ঘ) অমরেন্দ্রনাথ দত্ত

উত্তর : রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী 

প্রশ্ন ২২। স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত প্রখ্যাত প্রবন্ধ ‘ভাই ভাই এক ঠাঁই’র রচয়িতা-

(ক) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(খ) সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় 

(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ঘ) অরবিন্দ ঘোষ

 উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রশ্ন ২৩। ‘দি ডন’ পত্রিকার সম্পাদক— 

(ক) সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়

(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

(গ) রাসবিহারী বসু

(ঘ) চারুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়

 উত্তর : সতীশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়

 প্রশ্ন ২৪। ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠন হইয়াছিল—

(ক) ১৯০৬ সালের ১১ মার্চে 

(খ) ১৯০৬ সালের ১২ ডিসেম্বরে

(গ) ১৯০৬ সালের ১৫ আগস্টে 

(ঘ) ১৯০৬ সালের ১৩ মার্চে 

উত্তর : ১৯০৬ সালের ১১ মার্চে

প্রশ্ন ২৫। ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করিয়াছিল— 

(ক) ভগিনী নিবেদিতা 

(খ) যোগেশচন্দ্র চৌধুরী

(ঘ) সরলাদেবী চৌধুরাণী 

(গ) অরবিন্দ ঘোষ 

উত্তর : সরলাদেবী চৌধুরাণী

 প্রশ্ন ২৬। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল-

 (ক) ১৯০৫ সালে 

(খ) ১৯০৬ সালে 

(গ) ১৯০৯ সালে 

(ঘ) ১৯১১ সালে 

উত্তর : ১৯০৬ সালে

প্রশ্ন ২৭। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনে সাহায্য করা ব্রিটিশ প্রশাসকের নাম ছিল— 

(ক) লর্ড কার্জন 

(খ) লর্ড মিন্টো ] 

(গ) লর্ড রিপণ

 (ঘ) লর্ড কর্ণওয়ালিস

উত্তর : লর্ড মিন্টো 

প্রশ্ন ২৮। ‘স্বরাজ আমাদের জন্মস্বত্ব ও ইহা আমাদের কাম্য মন্তব্যের বক্তা কে? 

(ক) বিপিনচন্দ্র পাল 

(খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

(গ) বাল গংগাধর তিলক 

(ঘ) অরবিন্দ ঘোষ 

উত্তর : বাল গংগাধর তিলক

প্রশ্ন ২৯। ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল-

(ক) ১৮৮০ সালে 

(খ) ১৮৮৫ সালে

(গ) ১৮৯০ সালে 

(ঘ) ১৮৯৫ সালে 

উত্তর : ১৮৮৫ সালে 

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

প্রশ্ন ১। কোন ভাইসরয়ের শাসনকালে বঙ্গ বিভাজন সংঘটিত হইয়াছিল ?

 উত্তর : লর্ড কার্জন। 

প্রশ্ন ২। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের কোন তারিখে বঙ্গ বিভাজন কার্যকরী হইয়াছিল ? 

উত্তর : ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর তারিখে। 

প্রশ্ন ৩। বিদেশী পণ্য বর্জনের প্রস্তাব কোন্ সভায় গ্রহণ করা হইয়াছিল? 

উত্তর : দিনাজপুরের মহারাজের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত হওয়া সভায়।

প্রশ্ন ৪। স্বদেশী আন্দোলনের সময় ‘যুগান্তর’ নামের সংবাদপত্রটি কে সম্পাদনা করিয়াছিল ? 

উত্তর : ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। 

প্রশ্ন ৫। বঙ্গদেশে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ নামের অনুষ্ঠানটি কখন গঠন হইয়াছিল ?

 উত্তর : ১৯০৬ সালের ১১ মার্চ।

প্রশ্ন ৬। ‘বেঙ্গল কেমিকেলস’ নামের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন?

 উত্তর : আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।

প্রশ্ন ৭। কার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারতীয়দের জন্য ‘স্বরাজ’ খুজিয়া প্রস্তাব গ্রহণ করা হইয়াছিল? 

উত্তর : দাদাভাই নৌরজী। 

প্রশ্ন ৮। বন্দিনী ভারত’ নামের নাটকটির রচয়িতা কে?

 উত্তর : অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী।

প্রশ্ন ৯। বঙ্গদেশের একত্রিকরণ কখন হইয়াছিল? 

উত্তর : ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বরে।

প্রশ্ন ১০। বঙ্গ ভঙ্গ আঁচনি কত সালে ঘোষণা করা হইয়াছিল ?

উত্তর : ১৯০৫ সালে। 

প্রশ্ন ১১। বঙ্গ বিভাজনের মূল কারণ কি ছিল? 

উত্তর : ব্রিটিশ সরকারের মতে বঙ্গ বিভাজনের মূল কারণ ছিল বঙ্গদেশের বিশালতা এবং বঙ্গবাসীর দেশপ্রেমকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই তারিখে। ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন বংগদেশকে দুইভাগ করিয়াছিল।

প্রশ্ন ১২। (ক) ‘বঙ্গ বিভাজন’ কি ছিল? (খ) এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল উল্লেখ করো। 

উত্তর : (ক) উত্তরের জন্য ১১নং প্রশ্নোত্তর দেখ। 

(খ) ভারতবর্ষের রাজধানী কলিকাতা হইতে দিল্লীতে স্থানাস্তর করা এবং অসম প্রদেশের রাজধানী শিলংয়ে পুনরায় স্থানান্তরিত করা।

প্রশ্ন ১৩। মুসলিম লীগ কে প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল? 

উত্তর : ঢাকার নবাব সলিমউল্লা।

প্রশ্ন ১৪। লাল-বাল-পাল কে ছিল? 

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের সন্ত্রাসবাদী ধারার মুখ্য প্রবক্তা।

প্রশ্ন ১৫। বঙ্গ ভঙ্গ প্রস্তাবের দ্বারা ঢাকা কোন্ প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হইয়াছিল?

উত্তর : পূর্ববঙ্গের সঙ্গে।

প্রশ্ন ১৬। পূর্ববঙ্গ ও অসমের মোট জনসংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : ৩ কোটি ১০ লাখ।

প্রশ্ন ১৭। পূর্ববঙ্গ ও অসমকে লইয়া গঠন করা নতুন প্রদেশের রাজধানী কোথায় ছিল ?

উত্তর : ঢাকায়।

প্রশ্ন ১৮। বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রথমে কোথায় প্রতিবাদী সভা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল?

উত্তর : কলিকাতার কাসিম বাজারের টাউন হলে। 

প্রশ্ন ১৯। ‘বঙ্গ জাতীয় মহাবিদ্যালয়’ এর প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিল ?

 উত্তর : অরবিন্দ ঘোষ।

প্রশ্ন ২০। ভারতবর্ষের রাজধানী কলিকাতা হইতে দিল্লীতে কত সালে স্থানান্তর করা হয়?

 উত্তর : ১৯১১ সালে।

প্রশ্ন ২১। বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিল কোথায় গড়িয়া উঠিয়াছিল ?

উত্তর : কলিকাতায়। 

প্রশ্ন ২২। কার শাসনকালে ভারতবর্ষে মুসলমান সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির বীজ রোপণের যুগ বলা হয় ?

উত্তর : লর্ড কার্জনের শাসনকালে।

প্রশ্ন ২৩। কোন্ বছরে মুসলিম লীগের উত্থান ঘটিয়াছিল? সেই সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিল?

উত্তর : ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে মুসলিম লীগের উত্থান ঘটিয়াছিল। সেই সময় ভারতের ভাইসরয় ছিল লর্ড মিন্টো। 

প্রশ্ন ২৪। বঙ্গ বিভাজনের ক্ষেত্রে লর্ড কার্জনকে সাহায্য করা ইংরাজ বিষয়া দুইজন কে ছিল ? 

উত্তর : এন্ড্রু ফ্রেজার ও জন ব্যামফিল্ড ফুলার। 

প্রশ্ন ২৫। অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশের সর্বমোট মাটিকালি কত ছিল? 

উত্তর : ২,৫৩,০০০ বর্গ মাইল।

প্রশ্ন ২৬। বঙ্গ ভঙ্গের প্রতিবাদে কোন্ দিনটিকে ‘জাতীয় শোকের দিন’ হিসাবে পালন করা হইয়াছিল?

উত্তর : ১৬ অক্টোবর (১৯০৫)।

প্রশ্ন ২৭। স্বদেশী আন্দোলনে জড়িত দুইজন নেতার নাম লিখ। 

উত্তর : বাল গংগাধর তিলক, লালা লাজপত রায়। 

প্রশ্ন ২৮। স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত দুইটি গ্রন্থের নাম লিখ। 

উত্তরঃ জয় সংগীত (প্রমথনাথ রায়চৌধুরী) ও বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা (রামেক্স সুন্দর ত্রিবেদী)।

প্রশ্ন ২৯। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ শীৰ্ষক গীতটির রচয়িতা কে?

 উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ৩০। ‘বঙ্গীয় কলা সংসদ’ কে এবং কবে প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল?

উত্তর : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৭ সালে। 

প্রশ্ন ৩১। সু-বিখ্যাত ‘বঙ্গমাতা’র চিত্রটি কে অক্ষন করিয়াছিল?

 উত্তর : অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ৩২। কার প্রচেষ্টায়, কবে ‘জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ গঠন করা হইয়াছিল?

উত্তর : রাসবিহারী বসুর প্রচেষ্টায়, ১৯০৬ সালের ১১ মার্চে।

প্রশ্ন ৩৩। ভারতবর্ষে স্বদেশী আন্দোলন কখন হয়েছিল? 

উত্তর : ১৯০৫ সালে।

প্রশ্ন ৩৪। স্বদেশী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা দুইজন মহিলার নাম লিখ।

উত্তর : সরলা দেবী চৌধুরাণী ও ভগিনী নিবেদিতা।

প্রশ্ন ৩৫। বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন কোথায় এবং কবে সূচনা হয়?

উত্তর : ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট তারিখে কলিকাতা টাউন হলে। 

প্রশ্ন ৩৬। বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলনের প্রাথমিক কার্যসূচীসমূহ কি কি ছিল?

উত্তর : হরতাল, সভা, শোভাযাত্রা ও রাখী বন্ধন। 

প্রশ্ন ৩৭। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি কার্যসূচী উল্লেখ কর।

উত্তর : স্বদেশী, বয়কট, জাতীয় শিক্ষা।

 প্রশ্ন ৩৮। বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের দুইজন নেতার নাম উল্লেখ কর।

উত্তর : সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ও অরবিন্দ ঘোষ। 

প্রশ্ন ৩৯। ভারতের রাজধানী কলিকাতা হইতে দিল্লীতে স্থানান্তরের প্রস্তাব কে দাখিল করিয়াছিল?

উত্তর : লর্ড কার্জন।

৪০। লর্ড মিন্টো কে ছিল? 

 উত্তর : লর্ড মিন্টো ছিল লর্ড কার্জনের উত্তরাধিকারীরূপে ব্রিটিশ ভারতবর্ষের ভাইসরয়। 

প্রশ্ন ৪১। লর্ড কার্জনের বঙ্গ ভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল?

উত্তর : ঐক্যবদ্ধ বঙ্গশক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করা। 

প্রশ্ন ৪২। ভগিনী নিবেদিতার সম্পূর্ণ নাম কি ছিল? 

উত্তর : মার্গারেট এলিজাবেথ নবোল। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের দুইটি পরিণতি উল্লেখ কর? 

উত্তর : বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলনের দুইটি পরিণতি হইল—

(ক) ভারতবর্ষের রাজধানী কলিকাতা হইতে দিল্লীতে স্থানান্তর করা।

(খ) অসম প্রদেশের রাজধানী শিলঙে পুনরায় স্থানান্তরিত করা। 

প্রশ্ন ২। স্বদেশী আন্দোলনের সময়ের দুইজন মহীয়সী নারীর নাম হইল— 

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের সময়ের দুইজন মহীয়সী নারীর নাম হইল—

(ক) সরলা দেবী চৌধুরাণী এবং

(খ) ভগিনী নিবেদিতা। 

প্রশ্ন ৩। অসম প্রদেশ কখন গঠন করা হয়? ইহার প্রথম মুখ্য আয়ুক্ত কে ছিলেন?

উত্তর : অসম প্রদেশ ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে ৭ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হইয়াছিল। ইহার প্রথম মুখ্য আয়ুক্ত ছিলেন— কর্ণেল আর এইচ কীটিংস্। 

প্রশ্ন ৪। বঙ্গ বিভাজনে সৃষ্টি করা ‘পূর্ববঙ্গ ও তব নামের প্রদেশটির সঙ্গে সংলগ্ন হওয়া বঙ্গদেশের প্রধান তিনটি ভৌগোলিক সংমণ্ডল উল্লেখ কর। 

উত্তর : ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী।

প্রশ্ন ৫। বঙ্গ বিভাজনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কি ছিল সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর ঃ লর্ড কার্জন শাসনের সুবিধার জন্য বঙ্গ প্রদেশের আয়তন ছোট করার যুক্তি দিয়াছিল যদিও ইহার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল ঐক্যবদ্ধ বঙ্গ শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করা।

প্রশ্ন ৬। বঙ্গ বিভাজনবিরোধী আন্দোলন কেন  ‘স্বদেশী আন্দোলন’ নাম পাইয়াছিলসংক্ষেপে লেখ। 

 উত্তর : বঙ্গ বিভাজনের পরিণতি হিসাবে বিদেশী বস্তু বর্জন ও স্বদেশী বস্তু গ্রহণের সিদ্ধান্ত জনসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর এই আন্দোলন ‘স্বদেশী আন্দোলন’ নাম পাইয়াছিল স্বদেশী আন্দোলনকে একটি সফল ও সক্রিয় আন্দোলন হিসাবে গণ্য করা হয।

Sl. No.Contents
ইতিহাস
Chapter 1বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) স্বদেশী আন্দোলন এবং ফলাফল
Chapter 2মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter 3অসমে ব্রিটিশ বিরোধী জাগরণ এবং কৃষক বিদ্রোহ
Chapter 4স্বাধীনতা আন্দোলন ও অসমে জাতীয় জাগরণ
Chapter 5ভারত এবং উত্তর – পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
ভূগোল
Chapter 6অর্থনৈতিক ভূগোল : বিষয়বস্তু এবং সম্পদ
Chapter 7পরিবেশ এবং পরিবেশের সমস্যা
Chapter 8পৃথিবীর ভূগোল
Chapter 9অসমের ভূগোল
অর্থবিজ্ঞান
Chapter 10ভারতীয় গণতন্ত্র
Chapter 11আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য
Chapter 12মুদ্রা এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা
Chapter 13অর্থনৈতিক উন্নয়ন

প্রশ্ন ৭। স্বদেশী আন্দোলন জাতীয় শিক্ষাতে প্রদান করা অবদানের বিষয়ে আলোচনা কর।

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের ফলস্বরূপে বঙ্গদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে প্রভাব পরিয়াছিল। প্রায় সাত বৎসরের রাজনৈতিক আন্দোলনটি সাহিত্য, সমাজ, শিক্ষা আদি সকল দিকে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলিয়াছিল। 

বিপিনচন্দ্র পাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আব্দুল রসুল প্রমুখ্যে নেতারা ছাত্র-সমাজকে সরকারি শিক্ষানুষ্ঠান ত্যাগ করিতে আহ্বান জানাইয়াছিল। সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও চারুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগে ডন সোসাইটি নামের একটি জাতীয় অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করিয়া ছাত্রমহলের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করাতে তা হইয়াছিল। এই সোসাইটি কার্জনের বিশ্ববিদ্যালয় আইন (১৯০৪), কার্লাইল প্রতিবেদন (১৯০৫)-এর সম্পূর্ণ বিরুদ্ধাচরণ করিয়া জাতীয় শিক্ষা সক্রিয় রূপে গড়িয়া তোলার আন্দোলন আরম্ভ করিয়াছিল। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “বঙ্গ জাতীয় বিদ্যালয়’ নামের জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠনটি প্রতিষ্ঠা করে। রাসবিহারী বসুর অধ্যক্ষতায় কলিকাতার টাউন হলে ১৯০৬ সালের ১১ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় “জাতীয় শিক্ষা পরিষদ’ নামের জাতীয় শিক্ষার শীর্ষ অনুষ্ঠানটি গঠন হয়। ১৯০৬ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে বঙ্গ জাতীয় মহাবিদ্যালয় স্থাপন হয়। ১৯০৬ সালের ১২ ডিসেম্বরে বঙ্গ জাতীয় মহাবিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। স্বদেশী আন্দোলনের সময় সর্বমোট ৬২টি মাধ্যমিক ও ৩০০০টি প্রাথমিক জাতীয় বিদ্যালয় গড়িয়া উঠে। খ্যাতনামা ব্যারিস্টার তারকনাথ পালিতের অর্থসাহায্যে ‘বেঙ্গল টেকনিকেল ইন্‌স্টিটিউট’ নামের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোয় পাটনাতে ‘বিহার বিদ্যাপীঠ’, মহারাষ্ট্রে ‘সমর্থ বিদ্যালয়’ গুজরাটে ‘গুজরাট বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছিল। 

এইভাবে জাতীয় শিক্ষাতে স্বদেশী আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল যাহা পরবর্তী কালে ভারতের সাহিত্য, সমাজ, শিক্ষা সকল দিকে প্রভাব ফেলিয়াছিল।

প্রশ্ন ৮। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের বিকাশ কীভাবে হইয়াছিল ?  

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের ক্ষেত্রে এক অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হইয়াছিল। স্বদেশী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কুটির শিল্প এবং কয়েকটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়িয়া উঠিয়াছিল। এইগুলির ভিতরে সুতা কল, ক্ষুদ্র এবং মধ্যমীয়া তাঁতশাল উদ্যোগ, সরিষার তেল, সাবান, চিনি, দিয়াশলাই, বিস্কুট আদি কারখানা। গড়িয়া উঠিয়াছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ‘স্বদেশী ভাণ্ডার’ স্বদেশী আন্দোলনের ফলস্বরূপে এক উন্নত মানদণ্ডের বস্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হইয়াছিল। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ও কৃষ্ণবিহারী সেনের প্রচেষ্টাতে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়ান স্টোরস’, সরলা দেবীর প্রচেষ্টাতে প্রতিষ্ঠিত ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’, নীলরতন সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বঙ্গলক্ষী কটন মিল’, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্ৰ রায়ের ‘বেঙ্গল কেমিকেল্স’ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকারের স্বদেশী সামগ্রী বিক্রী করা হইয়াছিল। 

বঙ্গদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করিয়া ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প উদ্যোগের বুনিয়াদ গড়িয়া উঠিয়াছিল। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ডিসেম্বরে আর.সি. দত্তের পৌরোগিত) বারাণসীতে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘ভারতীয় উদ্যোগ সম্মিলন’ এ স্বদেশী উদ্যোগসমূহের প্রচুর সম্ভাবনীয়তা সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ করিয়া তুলিয়াছিল। স্বদেশী আন্দোলন ভারতবর্ষের ব্যবসায় ও বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৯। স্বদেশী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার কী কী আন্দোলনবিরোধী।কার্যসূচী গ্রহণ করিয়াছিল ? 

অথবা,

 স্বদেশী আন্দোলন দুর্বল করার জন্য ব্রিটিশ সরকার কী কী কর্মপন্থা নিয়েছিলো?  আন্দোলনের নেতাদের থেকে সরকার সমর্থন লাভ করেছিলো কী? 

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় লোকের মধ্যে বিভেদ আনার প্রচেষ্টা চালাইয়াছিল। ব্রিটিশ সরকার জাতীয় কংগ্রেসের উদারপন্থী নেতাদের হইতে সহযোগিতা আশা করিয়াছিল। লর্ড কার্জন এই নেতাসকলকে হাতের মুঠোয় রাখার উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনেককেই ব্রিটিশ সরকার আরোপিত উপাধি, পদক ও পদ প্রদান করিয়াছিল। উদারপন্থী কংগ্রেস সদস্যকে উচ্চ ন্যায়ালয়ের বিচারপতির পদ, ব্রিটিশ সংসদে সদস্য পদ ভাইসরয় পরিষদের সদস্য পদ বাচিয়া বঙ্গ ভঙ্গ পরিকল্পনায় তাহাদের সমর্থন আশা করিয়াছিল

যদিও কার্জন বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দুর্বল করিতে পারে নাই। লর্ড কার্জন ভাইসরয়ের আসনে বসিয়াই শাসন ও শোষণ একইসঙ্গে চালাইয়া যাওয়া হইবে বলিয়া ঘোষণা করিয়াছিল। কিন্তু অবশেষে বঙ্গ ভঙ্গ বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সরকারের পরাজয় ও ব্যর্থতা সুস্পষ্ট রূপে প্রকাশ করিয়া গেল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সাফল্য এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হইয়া রইবে। 

সরকার আন্দোলনের নেতাদের হইতে সমর্থন লাভ করিতে ব্যর্থ হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১০। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি ফলাফল উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) এই আন্দোলনের ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গ ভঙ্গ আঁচনি বাতিল করা হয়।

(খ) এই আন্দোলনের ফলেই ভারতবর্ষের রাজধানী কলিকাতা হইতে দিল্লীতে স্থানান্তরিত করা হয়। 

(গ) এই আন্দোলনের পরিণতিতে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দ্বিধা বিভক্ত হইয়া পরিয়াছিল।

প্রশ্ন ১১। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি অবদান উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) স্বদেশী আন্দোলনের দ্বারা ভারতবাসী গণ-আন্দোলন সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করিতে সক্ষম হইয়াছিল। 

(খ) ‘একমাত্র গণ-সংগ্রামের দ্বারাই ভারতীয়দের উন্নতি সম্ভব’—এই ভাবনা স্বদেশী আন্দোলন জাতীয় কংগ্রেসকে প্রদান করিয়াছিল।

(গ) বিদেশী পণ্য বর্জন ও স্বদেশী পণ্য ব্যবহার ভারতের অর্থনীতি ও শিল্প বিকাশের ইতিহাসে অবদান যোগাইয়াছিল।

প্রশ্ন ১২। স্বদেশী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা একদল তরুণ নেতা সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বাছিয়া লইয়াছিল। ইহার দুইটি কারণ উল্লেখ কর। 

উত্তর : (ক) শান্তির পথে বিশ্বাস রাখিয়া আবেদন-নিবেদনের দ্বারা আন্দোলন পরিচালনা করা নেতাসকল বঙ্গ বিভাজন বাতিল করিতে সম্পূর্ণ বিফল হইয়াছিল।

(খ) সরকারের দমন ও উৎপীড়নে একদল আন্দোলনকারীকে সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বাছিয়া লইতে বাধ্য করিয়াছিল।

প্রশ্ন ১৩। ১৯০৫ সালের স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান শ্লোগানসমূহ কি ছিল?

 উত্তর : (ক) ব্রিটিশের পণ্য সামগ্ৰী বর্জন।

 (খ) ব্রিটিশ পরিচালিত বিদ্যালয় বর্জন।

 (গ) স্বদেশীর দ্বারা পরিচালিত সামগ্রী ব্যবহার। 

(ঘ) স্বদেশী প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলা। 

প্রশ্ন ১৪। কে এবং কোথায় ভারতীয়সকলের জন্য স্বরাজের দাবী উত্থাপন করিয়াছিল?

উত্তর : দাদাভাই নৌরজী জাতীয় কংগ্রেসের কলিকাতা অধিবেশনে (১৯০৬) ভারতীয়সকলের জন্য স্বরাজের দাবী উত্থাপন করিয়াছিল।

প্রশ্ন ১৫। ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগাইয়া তোলার জন্য সহায়ক সংবাদপত্রের নাম লিখ। 

উত্তর : হিন্দু, অমৃত বাজার পত্রিকা ও কেশরী। 

প্রশ্ন ১৬। স্বদেশী আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত দুইটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের নাম লিখ। 

উত্তর : বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিল ও বেঙ্গল কেমিকেল্স। 

প্রশ্ন ১৭। স্বদেশী আন্দোলন বলিতে কি বুঝ ? 

উত্তর : বঙ্গচ্ছেদের পরিণতি হিসাবে সংঘবদ্ধভাবে বিদেশী বস্তু বর্জন ও স্বদেশী বস্তু গ্রহণের সিদ্ধান্ত জনসভার অনুমোদিত হওয়ার পর যে আন্দোলন গড়িয়া উঠিয়াছিল সেটাই স্বদেশী আন্দোলন। স্বদেশী আন্দোলনকে একটি সফল ও সক্রিয় আন্দোলন হিসাবে গণ্য করা হয়।

 প্রশ্ন ১৮। মর্লে মিন্টো সংস্কার আইন কবে হইয়াছিল? ইহার বিষয়ে সংক্ষেপে উল্লেখ কর। 

উত্তর : ১৯০৯ সালে। ভাইসরয় লর্ড মিন্টো ও ভারত সচিব জন মলেই মুসলিম লীগের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করিয়াছিল। প্রকৃতার্থে দুই ইংরাজ শাসক হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে ধর্মগত পার্থক্য তথা মতবিরোধকে একটি রাজনৈতিক সুবিধা হিসাবে গ্রহণ করিয়াছিল। লর্ড মিন্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯০৯ সালের শাসন সংস্থার বিধির দ্বারা ‘মলে-মিন্টো সংস্কার আইন’ গঠন হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৯। জাতীয় কংগ্রেসের দুইজন চরমপন্থী ও দুইজন নরমপন্থী নেতার নাম লিখ।

উত্তর : চরমপন্থী নেতা : বাল গংগাধর তিলক, লালা লাজপত রায়। নরমপন্থী নেতা : উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশ্ন ২০। বঙ্গ ভঙ্গ আঁচনির প্রথম দফার তিনটি শর্ত উল্লেখ কর।

উত্তর : (ক) রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সংমণ্ডলের সঙ্গে অসম সংলগ্ন নতুন প্রদেশটির নাম ‘পূর্ববঙ্গ ও অসম’ হইবে।

(খ) পূর্ববঙ্গ ও অসম প্রদেশের রাজধানী হইবে ঢাকা। 

(গ) ‘পূর্ববঙ্গ ও অসম প্রদেশের শাসনের দায়িত্ব একজন লেফটেনেন্ট গভর্নরের হাতে অর্পণ করা হইবে।

 প্রশ্ন ২১। লর্ড মিন্টোর মূল লক্ষ্য কি ছিল ?

 উত্তর : প্রথমে ভারতীয় মুসলমানদের স্বদেশী আন্দোলন হইতে দূরে সরাইয়া রাখা। এবং দ্বিতীয়তে মুসলমানদের লইয়া একদিকে কংগ্রেসের সমান্তরাল প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যদিকে সরকারের সহযোগীরূপে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়িয়া তোলা।

প্রশ্ন ২২। ১৯০৫ সালের বঙ্গ বিভাজনের তিনটি উদ্দেশ্য লিখ। অথবা, ব্রিটিশের বঙ্গ বিভাজনের তিনিটা অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য লিখ। 

উত্তর : (ক) বঙ্গদেশকে দুর্বল করা। 

(খ) হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করা। 

(গ) স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুর্বল করা।

 প্রশ্ন ২৩। লাল-বাল-পালের সম্পূর্ণ নাম কি?

উত্তর : লাল : লালা লাজপত রায়

 বাল : বাল গংগাধর তিলক

 পাল : বিপিন চন্দ্র পাল।

প্রশ্ন ২৪। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশ হইতে প্রকাশিত তিনটি সংবাদপত্রের নাম লিখ। 

উত্তর : (ক) যুগান্তর, (খ) সন্ধ্যা, (গ) বন্দে মাতরম। 

প্রশ্ন ২৫। স্বদেশী আন্দোলনকে কেন্দ্র করিয়া বঙ্গদেশে গড়িয়া উঠা সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের নেতা কে ছিল?

উত্তর : বাল গংগাধর তিলক, বিপিন চন্দ্র পাল ও লালা লাজপত রায়।

প্রশ্ন ২৬। ভারতে কবে ‘মুসলিম লীগ’-এর গঠন হয়েছিল? মুসলিম লীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল?] 

উত্তর : ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে নবাব বিকরউলর পৌরহিত্যতে ঢাকাতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠন হইয়াছিল।

(ক) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমান জনসাধারণের মনে আনুগত্যের প্রসার ঘটানো। 

(খ) ব্রিটিশ সরকারকে মুসলমান জনসাধারণের অধিকার ও স্বার্থের প্রতি সদা-সচেতন করিয়া রাখা। 

(গ) মুসলমান জনসাধারণের মন হইতে ভয়. সন্ত্রাস, বিদ্বেষ ভাবের অন্ত করিয়া সকলের মধ্যে একতা গড়িয়া তোলা। 

প্রশ্ন ২৭। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের বিকাশ কিভাবে হয়েছিল, সংক্ষেপে লেখো।  

অথবা,ভারতবর্ষে স্বদেশী আন্দোলনে মহিলার অবদান সংক্ষেপে লেখো। [HSLC 2020] 

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনে মহিলার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। সব ধরনের সামাজিক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করিয়া বঙ্গদেশের মধ্যবিত্ত নগরের নারীসমাজ পুরুষের সঙ্গে সমভাবে স্বদেশী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। বঙ্গ বিভাজন বিরোধী আন্দোলনে নারীদের এই অংশগ্রহণ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে সুসংঘটিত পর্যায়ে নিয়াছিল। স্বদেশী আন্দোলনের অগ্রণী নারীদের মধ্যে ছিলেন সরলা দেবী চৌধুরাণী (১৮৭৪-১৯৩৩), ভগিনী নিবেদিতা।

 সরলা দেবীর বিপ্লবী ভাবাদর্শের দ্বারা স্বদেশী আন্দোলনকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য মহারাষ্ট্রের শিবাজী উৎসবের অনুকরণে বীরাষ্টমী ব্রত, প্রতাপাদিত্য উৎসব, উদয়াদিত্য উৎসব ব্যায়াম সমিতি ইত্যাদি উৎসব-অনুষ্ঠান বঙ্গ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করিয়া যুবক-যুবতীদের লাঠি খেলা এবং কুস্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হইয়াছিল। তাহা ছাড়া ভারতী নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করিয়া তিনি বঙ্গদেশের যুব শক্তিকে জাতীয় আন্দোলনে ঝাপাইয়া পরিতে প্রস্তুত করিয়াছিলেন।

স্বদেশী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকায় অপর একজন নারী ছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। আয়ারল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করা এই মহীয়সী নারীর নাম ছিল মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। কলিকাতায় থাকার সময় তিনি ইয়ং মেনস হিন্দু ইউনিয়ন, বিবেকানন্দ সোসাইটি, ডন সোসাইটি এবং অনুশীলন সমিতির সঙ্গে প্রত্যেক্ষভাবে জড়িত ইহয়া নারী এবং যুবক যুবতীদের দেশীয় শিল্পের মাধ্যমে নির্ভরশীল হইতে আহ্বান জানাই ছিলেন। 

এইভাবে স্বদেশী আন্দোলনে ভারতীয় নারীগণ অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিল। স্বদেশী আন্দোলনের তীব্র উত্তেজনা ভারতীয় নারী সমাজকে আন্দালনমুখী করিয়া তুলিয়াছিল।

 প্রশ্ন ২৮। স্বদেশী আন্দোলনের সময় জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গ বিভাজনের বিরুদ্ধে কী ভূমিকা পালন করেছিল, সংক্ষেপে আলোচনা করো।

 উত্তর : সুরেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিন চন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, অশ্বিনী কুমার দত্ত (১৮৫৬-১৯৫৩) প্ৰমুখ্যে কয়েকজন বঙ্গ দেশের বিশিষ্ট তথা অসাধারণ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে সমগ্র ভারতবর্ষে বঙ্গ বিভাজনের বিরুদ্ধে জনমত সু-সংগঠিত করিয়াছিল। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ হইতে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতবাসীর কেবল আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়ে আসা জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গ ভঙ্গকে কেন্দ্র করিয়া ভারতের জাতীয় জীবনে একটি বৃহত্তম অনুষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ লাভ করিয়াছিল। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে লালমোহন ঘোষের পৌরোহিত্যে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের ঊনবিংশতিতম অধিবেশনে সরকারকে বঙ্গ বিভাজনের পরিকল্পনা ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করিয়াছিল।

 বঙ্গ ভঙ্গ কার্যকারী (১৬ অক্টোবর ১৯০৫) করার পূর্বে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসাবে লালা লাজপত রায় এবং গোপালকৃষ্ণ গোখলে লণ্ডনে উপস্থিত হইয়া (৬ জুলাই, ১৯০৫) প্রস্তাবিত বঙ্গ ভঙ্গ পরিকল্পনা পরিত্যাগ করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিয়াছিলেন। কিন্তু সরকার কোনো গুরুত্ব না দিয়া বংগ বিভাজন কার্যকরী করার জন্য জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গ ভঙ্গের বিরুদ্ধে দৃঢ় স্থিতি গ্রহণ করার জন্য মনস্থির করিয়াছিল। বঙ্গ বিভাজনের ফলস্বরূপে সাত বছর পুরানো স্বদেশী আন্দোলনের শেষে ১৯১১ সনে ইংরাজ সরকার বঙ্গ ভঙ্গ পরিকল্পনা বাতিল করার জন্য বাধ্য হয়। জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে স্বদেশী এবং স্বরাজদাবীতে সমগ্র ভারতবাসী একত্রিত হওয়ার সুযোগ বঙ্গভঙ্গইদের আনিয়াছিল।

 সংক্ষিপ্ত টীকা 

(ক) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গদেশ তথা সমগ্র ভারতবর্ষের একজন অনন্য ব্যক্তি। স্বদেশী আন্দোলনকে কেন্দ্র করিয়া কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা রচিত ২৩টি গান ভারতীয় সংস্কৃতির অদ্বিতীয় সম্পদ। স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি রচনা করা একটি প্রখ্যাত নিবন্ধ হইল ‘ভাই ভাই এক ঠাই’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ এবং ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ শীর্ষক দেশপ্রেমমূলক গান স্বদেশী আন্দোলনের সময়ত সমগ্র ভারতবর্ষে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করিয়াছিল। ১৯০৫ সালে তিনি ‘বঙ্গ জাতীয় বিদ্যালয়’ নামের একটি জাতীয় শিক্ষানুষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল। বঙ্গ বিভাজনের সময় ব্রিটিশের বিরুদ্ধে জনজাগরণ সৃষ্টি করা প্রখ্যাত চিন্তানায়ক। 

(খ) মার্গারেট এলিজাবেথ নবোল (ভগিনী নিবেদিতা) : ভগিনী নিবেদিতার সম্পূর্ণ নাম ছিল মার্গারেট এলিজাবেথ নবোল। ইনি ১৮৬৪ সালে আয়ারল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল। স্বদেশী আন্দোলনের সময় ইনি নারী তথা যুবক-যুবতীদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টিতে প্রচুর অবদান যোগাইয়াছিল। কলিকাতায় থাকা সময় তিনি ইয়ং মেনস হিন্দু ইউনিয়ন, বিবেকানন্দ সোসাইটি, ডন সোসাইটি এবং অনুশীলন সমিতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হইয়া নারী এবং যুবক- যুবতীদের দেশীয় শিল্পের দ্বারা স্ব-নির্ভরশীল হইতে আহ্বান জানাইয়াছিল। 

(গ) নবাব সলিমউল্লা : নবাব সলিমউল্লা ছিল ঢাকার নবাব মুসলিম লীগ স্থাপনে নবাব সলিমউল্লা নেতৃত্ব বহন করিয়াছিল। লর্ড কার্জন ঢাকার নবাব সলিমউল্লা খানের দ্বারা পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনতাকে কাছে আনার প্রচেষ্টা হাতে লইয়াছিল।

(ঘ) শ্বহীদ ক্ষুদিরাম ঃ ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম হইয়াছিল ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর তারিখে মেদিনীপুরে। ইনি ছিল ভারতবর্ষের প্রাক-স্বাধীনোত্তর কালের একজন শহীদ এই মুক্তিযোদ্ধা ১৯০৮ সালের ১১ আগস্টে মুজাফরপুরের ন্যায়াধীশের উপরে বোমা নিক্ষেপ করার অপরাধে শ্বহীদ হয়। মাত্র ১৮ বৎসর বয়সে এই মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুকে কাছে টানিয়া লইতে হইয়াছিল।

 (ঙ) লাল-বাল-পাল: লালা লাজপত রায়, বাল গংগাধর তিলক ও বিপিন চন্দ্র পাল—এই তিনজনকে সংক্ষেপে লাল- বাল-পাল বলা হয়। এই তিনজন বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা জাতীয় কংগ্রেসের দ্বারা সমগ্র ভারতবর্ষে বঙ্গ বিভাজনের বিরুদ্ধে জনমত সুসংগঠিত করিতে পারিয়াছিল। এই তিনজন স্বদেশী আন্দোলনের সন্ত্রাসবাদীর ধারাটির মুখ্য প্রবক্তা ছিলেন।

 (চ) অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী : অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরী একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। ১৮৮৫ সালে পেটাতে জন্ম ১৯০৪ সালে গুয়াহাটিতে ‘এনার্কিস্ট’ দল গঠন করিয়াছিল। ১৯০৭ সালে ‘বন্দিনী ভারত’ নামের দেশপ্রেমমূলক নাটক মঞ্চস্থ করিয়া দেশবাসীকে জাতীয় চেতনার জন্য অনুপ্রাণিত করিয়াছিল। অম্বিকাগিরী রায়চৌধুরীকে ‘অসম কেশরী’ নামে জানা যায়। 

(ছ) লর্ড মিন্টো : লর্ড কার্জনের পরবর্তী ভাইসরয় হিসাবে কার্যনির্বাহ করিয়াছিল লর্ড মিন্টো। লর্ড মিন্টোর শাসনকালে ভারতবর্ষ ও ইংল্যাণ্ড উভয় দেশের শাসন-সংস্থার বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার লাভ করে। লর্ড মিন্টো আদর্শগতভাবে উদারপন্থী হইলেও ভারতবর্ষে

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অতন্ত্র প্রহরী ছিল। তবুও এই ভাইসরয়ের দিনে প্রায় ১৯০৬ সালের শুরু হইতেই শাসন সংস্কারের নামে এক প্রহসনের সূচনা করে। 

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। স্বদেশী আন্দোলনের অবদানগুলির বিষয়ে আলোচনা কর।

উত্তর : স্বদেশী আন্দোলনের অবদানসমূহ নীচে উল্লেখ করা হইল— 

(ক) স্বদেশী আন্দোলন ভারতবাসীকে গণ আন্দোলন সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক শিক্ষা দিতে সক্ষম হইয়াছিল। 

(খ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস শুরু হইতেই আবেদন নিবেদনের মাধ্যমে সহনশীল চিন্তায় বিশ্বাস রাখিয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারতীয়দের উন্নতি আশা করিয়াচিল । একমাত্র গণসংগ্রামের দ্বারাই ভারতীয়দের উন্নতি সম্ভব’—এই ভাবনা স্বদেশী আন্দোলন জাতীয় কংগ্রেসকে প্রদান করিয়াছিল।

(গ) স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয়সকল ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বরা করার সুযোগ লাভ করিয়াছিল। স্বদেশী আন্দোলনের তীব্র উত্তেজনা জাতীয় কংগ্রেসকে দাদাভাই নৌরজীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত কলিকাতা অধিবেশনে সর্বপ্রথম ভারতীয়দের জন্য স্বরাজ দারী করিয়া প্রস্তাব গ্রহণ করিতে বাধ্য করিয়াছিল।

(ঘ) স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় নারীর আন্দোলনের প্রবণতা গড়িয়া উঠিয়াছিল। এই আন্দোলন নারীসমাজকে আন্দোলনমুখী করিয়া তুলিয়াছিল।

 (ঙ) স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে সশস্ত্র বিপ্লবের সূচনা হইয়াছিল। আখেয়াে দ্বারা বিপ্লবের পথ অনুসরণ করিয়া দেশকে স্বাধীন করার প্রবণতা একদল আন্দোলনকারীর মধ্যে গড়িয়া উঠিয়াছিল। 

প্রশ্ন ২। গান্ধীজির নেতৃত্বে হওয়া অসহযোগ আন্দোলনে মহিলার ভূমিকার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আভাস দাও।

 উত্তর : গান্ধীজির নেতৃত্বে আরম্ভ হওয়া অসহযোগ আন্দোলনে অসমের মহিলারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। মহিলারা গান্ধীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হইয়া ঘরে সূতা কাটিয়া, কাপড় তৈয়ার করিয়া আন্দোলনের কার্যসূচী সফল করিয়া তুলিয়াছিল। অসমের চাবাগানের মহিলা শ্রমিকরাও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। মহিলারা গাঁজা, ভাং প্রকৃতি মাদকদ্রব্য নিবারণী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। এই আন্দোলনে দরং জিলার লালমাটি চা বাগানের মালতী মেম নামে মহিলা পুলিশের গুলিতে প্রাণত্যাগ করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৩। রাজনৈতিক দল হিসাবে মুসলিম লীগের উত্থানের পটভূমি সম্পর্কে উল্লেখ কর। 

অথবা,

ব্রিটিশ সরকার স্বদেশী আন্দোলন হইতে মুসলমানদের কিভাবে দূরে রাখিয়াছিল ?

উত্তর : বিভাজন এবং শাসন নীতির মুখ্য উদ্যোক্তা ব্রিটিশ সরকার প্রথম অবস্থা হইতেই হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে থাকা সম্প্রীতির কথা জানিতে পারিয়াছিল। ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের পর হইতে উপনিবেশিক ইংরাজ সরকার বঙ্গ ভঙ্গ তথা স্বদেশী আন্দোলন হইতে ভারতীয় মুসলমানদের দূরে রাখার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছিল। ভারতীয় মুসলমানদিগকে স্বদেশী আন্দোলন হইতে দূরে রাখা এবং মুসলমানদিগকে নিয়া ভারতবর্ষের একদিকে কংগ্রেসের সমান্তরাল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সরকারের সহযোগী একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে গড়িয়া তোলার জন্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ভাইসরয়ের ব্যক্তিগত সচিব কর্ণেল ডানলপ স্মিথ। 

এই বিষয়ে পরোক্ষ তথা প্রত্যক্ষভাবে বোম্বের (মুম্বাই) আগা খাঁর নেতৃত্বে ১৯০৬ সনের ১ অক্টোবরে একটি মুসলমান স্বজাতির দল সিমলাতে গিয়া ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সঙ্গে গোপন আলোচনাতে মিলিত হয়। ঢাকার নবাব সালিমুল্লা, নবাব মহসিন-উল-মূলক ইত্যাদি মুসলমান জমিদার এবং নবাব এই স্বজাতি দলটিতে মিলিত হইয়াছিল। এইসব কারণে মনে রাখিতে হইবে যে স্বদেশী আন্দোলনের বিরোধী পক্ষে নেওয়া স্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ঢাকার নবাব সালিমুল্লাকে ইতিপূর্বে ১৪,০০,০০০ টাকার ঋণ দিয়ে ব্রিটিশের পক্ষে আনিয়াছিল। এইসব প্রেক্ষাপটের জন্য এই স্বজাতি দলটি ভারতীয় মুসলমানগণকে একটি পৃথক সম্প্রদায়রূপে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এবং নতুন শাসন-সংস্কারের জন্য মুসলমানগণকে পৃথক ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানাইয়াছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই স্বজাতি দলটির নেতৃত্বে এবং ব্রিটিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯০৬ সনের ডিসেম্বর মাসে “নিখিল ভারত মুসলীম লীগের” জন্ম হয়। 

প্রশ্ন ৪। বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন কাহাকে বলে? সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।

 উত্তর : ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সনের ২০ জুলাই তারিখে বঙ্গদেশকে দুইভাগে বিভক্ত করিয়া এক ভাগকে অসমের সাথে জড়িত করিয়া পূর্ববঙ্গ এবং অসম নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করে। উল্লেখযোগ্য যে এই বিভাজনের পূর্বে বঙ্গদেশের সাথে উড়িষ্যা এবং বিহার সংযুক্ত হইয়াছিল। লর্ড কার্জনের এই বঙ্গ বিভাজনের ফলে সমগ্র বঙ্গদেশে এক তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইয়াছিল। কার্জনের এইরূপ সাহসিকতার কার্যে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, কৃষ্ণকুমার মিত্র প্রমুখ বাঙালী জাতীয়তাবাদী নেতাসমূহ সজাগ, হইয়া উঠিয়াছিল। ১৯০৫ সনের উল্লেখিত নেতাসমূহের প্রচেষ্টায় ৭ আগস্ট তারিখে কলকাতার টাউন হলে এক বিশাল প্রতিবাদী জনসভা অনুষ্ঠিত হইয়াছিল।

 এই প্রতিবাদী সভাতে বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হইয়াছিল। বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলনের কার্যসূচীসমূহ ছিল— হরতাল, সভা, শোভাযাত্রা এবং রাখিবন্ধন। 

প্রশ্ন ৫। স্বদেশী আন্দোলনের মূল কার্যসূচীসমূহ কি কি ছিল? প্রত্যেকটি কার্যসূচীর বিষয়ে উল্লেখ করিয়া সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর। 

উত্তর : বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সার্বজনীন প্রতিবাদ এবং গণ আন্দোলনের রূপে সংগঠিত হওয়া স্বদেশী আন্দোলনের মূল কার্যসূচীসমূহ হইল— 

(ক) স্বদেশী (খ) বয়কট (গ) জাতীয় শিক্ষা। 

(ক) স্বদেশী : স্বদেশী আন্দোলনের কার্যসূচীর দ্বারা আন্দোলনকারীগণ ভারতীয় সামগ্রীর দ্বারা তৈরি করা সকল ধরনের পণ্যের উপর গুরুত্ব প্রদান করিয়াছিলেন। এই ধরনের কার্যসূচীর ফলে স্বদেশীয় আত্মনির্ভরশীলতা এবং আত্মসহায়তাকে গ্রহণ করা হইয়াছিল। 

(খ) ব্যাকট : বয়কট কার্যসূচীর দ্বারা প্রত্যেক ভারতবাসী লোককে ইংল্যাণ্ডের পণ্য— কাপড়, চিনি, লবণ পরিত্যাগ করার আহ্বান জানানো হইয়াছিল। তদুপরি ইংরাজী ভাষা পরিত্যাগ, ইংরাজ-প্রদত্ত উপাধি, অবৈতনিক পদ ইত্যাদি পরিত্যাগ উল্লেখযোগ্য ছিল।

 (গ) জাতীয় শিক্ষা : এই কার্যসূচীর দ্বারা ব্রিটিশ সরকার প্রদান করা এবং প্রবর্তন করা ইংরাজী শিক্ষা বর্জন করিয়া জাতীয় শিক্ষা গ্রহণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হইয়াছিল। এই ধরনের কার্যসূচী রূপায়ণ করিয়া প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং ভাষার উপরে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছিল।

তাহার জন্য স্বদেশী আন্দোলনের কার্যসূচীসমূহ ছিল একদিকে ব্রিটিশের জন্য সামগ্রী বিক্রয় করা এবং দোকান-বাজারে পিকেটিং করা এবং অন্যদিকে দেশীয় বস্তুসামগ্রী ব্যবহার করার জন্য জনপ্রিয় করিয়া তোলা।

 প্রশ্ন ৬। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রাথমিক কার্যসূচিগুলো কী কী ছিল? 

 উত্তৰ : ব্রিটিশ সরকার বঙ্গবাসীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বঙ্গ বিভাজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করার বিপক্ষে বঙ্গের কৃতীসন্তান সুরেন্দ্র নাথ বন্দোপাধ্যায়, বিপিন চন্দ্র পাল, রাসবিহারী বসু, রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী সহ বঙ্গের চিন্তানায়কসকল বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলনের প্রাথমিক কার্যসূচী হিসাবে জনজাগরণ সৃষ্টি করার কার্যসূচী গ্রহণ করে এবং জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে স্থানে স্থানে সভা-সমিতি অনুষ্ঠিত করার সঙ্গে সঙ্গে হরতাল, শোভাযাত্রা, রাখীবন্ধন ইত্যাদি কার্যসূচী গ্রহণ করে। ব্রিটিশ শাসকবর্গ বঙ্গবাসী হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সম্প্রীতি যাহাতে বিনষ্ট করিতে পারেনা তার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করে। আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গ বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রায় সত্তর হাজার লোকের সাক্ষর গ্রহণ করিয়া এক প্রতিবাদী পত্র ভারত সরকারের কাছে অর্পণ করে। বঙ্গ ভঙ্গর বিপক্ষে বঙ্গদেশে প্রবল জনবিক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনকারীরা বিদেশী দ্রব্য বর্জন এবং স্বদেশী দ্রব্য গ্রহণ কার্যসূচী জনসভায় গৃহীত করিয়া বঙ্গ বিভাজন আন্দোলনের প্রাথমিক কার্যসূচী সঠিক পথে রূপায়ণ করিয়া পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মূল কার্যসূচী গ্রহণ করে এবং মূল কার্য গ্রহণের পরবর্তী আন্দোলনকে স্বদেশী আন্দোলন নামে জানা যায়।

প্রশ্ন ৭। বঙ্গ ভঙ্গ করে এবং কোন্ ভাইসরয়ের শাসনকালে সংঘটিত হইয়াছিল? বঙ্গ ভঙ্গ আচনির চারটি দফার বিষয়ে উল্লেখ কর।

 অথবা

 লর্ড কার্জনের ঘোষণা করা বঙ্গভঙ্গের চার পর্বের কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচী কি কি ছিল? 

উত্তর : বঙ্গ ভঙ্গ ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড নেথানিয়েল কার্জনের শাসনকালেসংঘটিত হইয়াছিল।

লর্ড কার্জন ঘোষিত বঙ্গ ভঙ্গ আচনির প্রথম দফা:

(ক) রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সংমণ্ডলের সঙ্গে অসম সংলগ্ন নতুন প্রদেশটির নাম

 (খ) পূর্ববঙ্গ ও অসম প্রদেশের রাজধানী হইবে ঢাকা। ‘পূর্ববঙ্গ ও অসম’ হইবে।

 (গ) ‘পূর্ববঙ্গ ও অসম’ প্রদেশের শাসনের দায়িত্ব একজন লেফটেনেন্ট গভর্নরের হাতে অর্পণ করা হইবে। 

(ঘ) অসমের রাজধানী শ্বিলঙ হইতে ঢাকাতে স্থানান্তর হইবে।

 দ্বিতীয় দফা :

(ক) পূর্ববঙ্গ এবং অসমের জন্য ঢাকাতে আলাদা উচ্চ ন্যায়ালয় স্থাপন হইবে। 

(খ) আলাদা উচ্চ ন্যায়ালয় স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত প্রদেশটি কলিকাতা উচ্চ ন্যায়ালয়ের এক্তিয়ারভুক্ত হইবে। 

তৃতীয় দফা :

(ক) পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উরিষ্যা এবং ছোটনাগপুরসহ বঙ্গ প্রদেশের রাজধানী কলিকাতা হইবে। 

চতুর্থ দফা : 

(ক) ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবরে বঙ্গ বিভাজন পরিকল্পনা কার্যকরী হইবে। 

Leave a Reply