SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-16| জীবন-সংগীত

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-16| জীবন-সংগীত প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-16| জীবন-সংগীত এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-16| জীবন-সংগীত

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-16| জীবন-সংগীত Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-১১ ক

কবি পরিচিতি

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮ – ১৯০৩)   বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার বলতহাট গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তাঁহার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বি.এ., বি.এল.। কবি প্রথম জীবনে বেশ কিছুদিন শিক্ষকতা করিয়াছিলেন। পরে তিনি মুন্সেফিও করিয়াছিলেন। হাইকোর্টে ওকালতি করিয়া তিনি বেশ প্রসার জমাইয়াছিলেন। তাহার ওকালতিতে যথেষ্ট অর্থোপার্জন হইলেও কাব্য রচনার নেশায় তিনি অর্থ উপার্জনের দিকে বেশি দূর হন নাই। তিনি বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি মহাকবি মাইকেল মধুসূদনকে তাঁহার কাব্য জীবনের গুরু বলে মনে করিতেন। কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কবি মাইকেলের মেঘনাদ বধ (১৮৬১) কাব্যের দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পাদনা করিতে গিয়া ইহার প্রতি প্রবল আকর্ষণ অনুভব করিয়াছিলেন। কবির রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে বৃত্রসংহার’, ‘চিন্তাতরঙ্গিনী’, ‘ছায়াময়ী’, ‘দশমহাবিদ্যা’ বিশেষভাবে পরিচিত। ১৯০৩ সালে মহাকবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন ১। জীবন-সংগীত’ কবিতাটির সারাংশ তোমার নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর : ‘জীবন-সংগীত’ অর্থাৎ জীবনের গীত, জীবনের মূলমন্ত্র। মানব জীবনের সারবত্তা একমাত্র মহাজ্ঞানী মহাজনেরাই জানিতে পারিয়াছেন। মানব জীবন সার্থক হওয়ার একমাত্র পথ হইল সংকল্প সাধন। জগতের প্রতিটি মানুষ নিজের কর্তব্যে অবিচল থাকিয়া মহাজ্ঞানী মহাজনদিগের পদাংক অনুসরণ করিয়া চলিতে পারিলেই মানব জীবন সার্থকতা পরিপূর্ণ হইয়া উঠে। এই কাজে চাই কর্তব্যনিষ্ঠা, একাগ্রতা, ঈশ্বরের প্রতি অপার ভক্তি ও বিশ্বাস। কবির মতে মানব জীবন অসার নহে। মানব-সৃষ্টির মধ্যে সৃষ্টিকতার এক সুমহান উদ্দেশ্য লুকাইয়া আছে। মানুষের জীবন নেশার স্বপ্নের মতো অলীক ও ব্যর্থ নয়। এই পৃথিবীতে মানব জীবন হয়তো একবারই পাওয়া যায়। তাই কবির মতে মানুষ অযথা বাহা দৃশ্যে ভুলিয়া গিয়া অবহেলায় অনাদরে মহামূল্যবান এই জীবন নষ্ট করা উচিত কর্তব্য নহে। মানুষের আত্মা নিত্য বস্তু, ইহার কোন ধ্বংস নাই। তাই অযথা অপ্রাপ্তির ক্রন্দন করিয়া লাভ নাই। তাই তীব্র ইচ্ছার বশবর্তী হইয়া ইহ সংসারে নিজের নিজের কর্তব্য কর্মে যত্নবান হইতে পারিলেই জীবনের সার্থকতা সম্ভব। 

মানব জীবনে নিরবচ্ছিন্ন সুখের আশা করিয়া লাভ নাই। সংসারে ধন-সম্পদ, আয়ু সকলই এক ক্ষণস্থায়ী মায়ামাত্র। ইহা অচিরেই সময়ের কালগর্ভে বিলীন হইয়া যাইবে। তাই কবির মতে সংসাররূপ সমরাঙ্গনে ভীত না হইয়া মৃত্যুকে তুচ্ছ করিয়া দৃঢ়পণে বীর্যবানের মত যুদ্ধ করিয়া যাওয়াই জীবনের শ্রেষ্ঠ পথ। সংসারে জীবন দীর্ঘ হওয়ার মধ্যে কোন মূল্য নাই, মহিমাই দুর্লভ বস্তু।

প্রশ্ন ২। অর্থ লেখো : 

পদাঙ্ক—পায়ের চিহ্ন; সমরাঙ্গন – যুদ্ধক্ষেত্র; আকিঞ্চন – ইচ্ছা, আকাঙ্খা; স্বীয়—আপন, নিজের সংকল্প – অভিপ্রায়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: বরণীয়করণের যোগ্য; মহাজন—মহৎ ব্যক্তি; দুর্লভ—বিরল, দুষ্প্রাপ্য; মনোহর – আপাতসুন্দর, অনিত্য – অস্থায়ী: ধরাতলে-পৃথিবীতে, নির্ভর – ভরসা; বীর্যবান — সাহসী; কীর্তি— যশ, দারা—স্ত্রী, শৈবাল – শেওলা [2017] : মহিমা — গৌরব; সংকল্প— পণ, প্রতিজ্ঞা, নীর জল। – 

প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

(ক) ‘জীবন-সংগীত’ কবিতাটির কবি কে? 

উত্তর : জীবন-সংগীত’ কবিতাটির কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 

(খ) কবি মানুষের আয়ুকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন ? 

উত্তর : কবি মানুষের আয়ুকে শৈবালের নীরের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন। 

(গ) এ পৃথিবীতে কোন্ বস্তু দুর্লভ ? 

উত্তর ঃ এই পৃথিবীতে মহিমা দুর্লভ। 

(ঘ) কবিতাটি কোন কবির কোন কবিতার বঙ্গানুবাদ ? 

উত্তর : কবিতাটি কবি লংফেলোর ইংরাজি কবিতা The Psalm of Life-এর বঙ্গানুবাদ 

(ঙ) কবি সংসারকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন? 

উত্তর : কবি সংসারকে সমরাঙ্গন বা যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন। 

(চ) কবির মতে যশোদ্বারে আসার উপায় কী ? 

উত্তর : কবির মতে যশোদ্বারে আসার উপায় হইল মহাজ্ঞানী মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ। 

(ছ) কবির মতে পৃথিবীতে মানুষের জীবন কতবার হয় ? 

উত্তর : কবির মতে পৃথিবীতে মানুষের জীবন একবারই হয়। 

(জ) সময়ের সার কী ? 

উত্তর : সময়ের সার হইল বর্তমান।

(ঝ) আত্মার স্বরূপ কী ? 

উত্তর : আত্মা নিত্যবস্তু, অক্ষয়, অব্যয়। 

(ঞ) কবির মতে কী করে দুঃখের ফাঁস গলায় পরে ? 

উত্তর ঃ কবির মতে মানুষ সুখের আশা করিয়া দুঃখের ফাঁস গলায় পরে। 

(ট) সময়ের ধর্ম কী? 

উত্তর : সময়ের ধর্ম হইল অতিবেগে ধাবমান হওয়া, অস্থিরতা। 

প্রশ্ন ২। শূন্যস্থান পূরণ করো : 

(ক) কর যুদ্ধ.____  যায় যাবে যাক প্রাণ_____জগতে দুর্লভ।

উত্তর : বীর্যবান, মহিমাই ।

(খ) সংকল্প সাধন হবে_____কীর্তি রবে সময়ের সার_____। 

উত্তর :ধরাতলে, বর্তমান।

(গ)_____ মহাজন যে পথে করে গমন হয়েছেন_____। 

উত্তর :মহাজ্ঞানী, প্রাতঃস্মরণীয়। 

(ঘ) করো না____বৃদ্ধা ক্ষয় এ জীবন, সংসার _____সার,  মাঝে; 

উত্তর :মানবগণ, সমরাঙ্গন।

(ঙ)‌______সার, এমন পাবে না আর ____ভুলো না রে মন।’

উত্তর :মানব জন্ম, বাহা দৃশ্যে। 

প্রশ্ন ৩। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

(ক) জগতে দুর্লভ বস্তু কী?] 

উত্তর : সংসার যুদ্ধে ভীত না হইয়া জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া বীর্যবানের মতো দৃঢ়পণে যুদ্ধ করিয়া যাওয়ার মধ্য দিয়াই মহিমা লাভ হয়। মহিমাই জগতের খুব দুর্লভ বস্তু। 

(খ) পৃথিবীতে যশোলাভের প্রকৃষ্ট উপায় কী? 

উত্তর : আপন রতে অগ্রসর হইতে হইলে ভগবানে বিশ্বাস রাখিয়া একাগ্রচিত্তে কর্মে প্রবৃত্ত হইতে হয়। একমাত্র মহাজ্ঞানী মহাজনদিগের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া চলিতে পারাটাই হইল যশোলাভের প্রকৃষ্ট উপায়। 

(গ) কৰি দারা-পুত্র-পরিবার পরিবেষ্টিত সংসার নিয়ে মানুষকে ক্রন্দন করতে নিষেধ করেছেন কেন? 

উত্তর : এই জগৎ মায়ার জগৎ। দারা-পুত্র-পরিবার কেহ কারও নয়। সংসারে অযথা বাহ্য দৃশ্যে না ভুলিয়া নিজ নিজ কাজে যত্নবান হইতে পারিলেই জীবনের সার্থকতা। অযথা ক্রন্দন করিয়া কোন লাভ নাই। তাই কবি মানুষকে পৃথিবীতে অত্যধিক মায়ায় জড়াইতে মানা করিয়াছেন।

(ঘ) জীবাত্মা সম্পর্কে কবির অভিমত কী?

উত্তর : জীবন সত্য, পৃথিবী মিথ্যা। মানব আত্মা নিত্যবস্তু, ইহার ধ্বংস নাই। পৃথিবী একদিন ধ্বংস হইয়া যাইবে। মানব জীবন সার। কবির মতে এই জীবন দ্বিতীয়বার আর পাওয়া যাইবে না। জীবাত্মা অক্ষয়, অব্যয় এবং স্থায়ী। শুধু মানুষের কর্মই ধর্ম। ইহাই জীবাত্মা সম্পর্কে কবির অভিমত। 

(ঙ) কৰি আপন ব্ৰত সাধনে মানুষকে কী করতে বলেছেন? 

অথবা,

 ‘জীবন-সংগীত’ কবিতায় কবি মানুষকে আপন ব্ৰত সাধনের জন্য কী কী করতে বলেছেন ? 

উত্তর ঃ আপন ব্রত, আপন ইচ্ছা সাধনে কবি মানুষকে ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখিয়া একাগ্রচিত্তে স্ব স্ব কাজে অবিচল থাকিয়া অগ্রসর হইতে বলিয়াছেন। তাহা হইলেই মানুষের সংকল্প সাধিত হইবে। 

(চ) মানুষের জীবনে বরণীয় হবার পথ কীভাবে প্রশস্ত হওয়া সম্ভব?] 

উত্তর ঃ একমাত্র মহাজ্ঞানী মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সংসার সমরে ভীত না হইয়া মৃত্যুকে তুচ্ছ করিয়া দৃঢ়পণে বীর্যবানের মত যুদ্ধ করিয়া যাওয়াই শ্রেষ্ঠ পথ। ভগবানে বিশ্বাস রাখিয়া একমনে মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার মধ্য দিয়াই জীবনে বরণীয় হওয়ার পথ প্রশস্ত হওয়া সম্ভব। 

(ছ) বিশ্বের মানবজাতিকে কবি ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করতে নিষেধ করছেন কেন? 

উত্তর : সময়ের সার বর্তমান, ভবিষ্যৎ আমাদের অজানা। অন্ধকার ভবিষ্যতে নির্ভর করিয়া সুখের অতীতকে পুনরায় ডাকিয়া আনিয়া দুঃখ পাওয়া অত্যন্ত মূর্খতার পরিচয়। মানব জীবনের অতীত আর ফিরিয়া আসেনা। সহায়-সম্পদ, আয়ু সকলই কালগর্ভে বিলীন হইয়া যায়। ভবিষ্যৎ আমাদের অজানা, অন্ধকার। তা কল্পনা মাত্র। সময়ের সার বর্তমান। তাই কবি বিশ্বের মানব জাতিকে ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করিতে মানা করি। 

(জ) ‘জীবন-সংগীত’ কবিতায় কবি আপন ব্রত সাধনের জন্য মানুষকে কী করতে বলেছেন তা বিস্তারিতভাবে লেখো। ) 

উত্তর : কবি বলো না কাতর স্বরে— এই সংসারে জন্মটাই বৃথা। এ জীবন নিশার স্বপন নয়। কবি সুখের আশা করতে বারণ করেছেন। সংসারে সন্ন্যাসী সেজে নিত্য নিজের কাজ করার জন্য বলিয়াছেন। সংসার হইল সমর অঙ্গন। দুপণ করিয়া যুদ্ধ করিতে হইবে এখানে। কবি মানবকে ভয় ভীত হইতে বারণ করিয়াছেন। 

(ঝ) ‘জীবন-সংগীত’ কবিতাটি প্রকৃতপক্ষে দুর্বল মানুষের জীবনে উদ্দীপনা জাগানোর সংগীত। কবিতাটি অবলম্বনে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তর : মানব জীবনে সকলেই নিরবচ্ছিন্ন সুখের আশা করে। কিন্তু সুখ না পাইয়া জীবনকে ব্যর্থ বলিয়া মনে করে। জীবন সংগীত কবিতায় কবি বলিয়াছেন সংসারে ধন- সম্পদ, আয়ু সকলই ক্ষণস্থায়ী। তাই সংসার সমরাঙ্গনে দৃঢ়পণে বীর্যবানের মত যুদ্ধ করিতে পারিলে জীবন সার্থকতায় পরিপূর্ণ হয়। মানুষ যখন না পাওয়ার যন্ত্রণায় হতাশাগ্রস্ত হয়। তখন এই কবিতায় উক্ত কথাগুলি দুর্বল মানুষের জীবনে উদ্দীপনা জাগ্রত করে। 

(ঞ) ‘জীবন-সংগীত’ কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সার্থকতা লাভের কী কী উপায় দেখিয়েছেন? 

উত্তর : মানুষের জীবনে সার্থকতা লাভ করিতে হইলে ভগবানে অটল বিশ্বাস রাখিয়া একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও ধৈর্য সহকারে কর্তব্য কর্ম সম্পাদন করিতে হইবে। সংসার রূপ যুদ্ধক্ষেত্রে ভীত না হইয়া দৃঢ়পণে বীর্যবানের মত যুদ্ধ করিতে হইবে। 

প্রশ্ন ৪। রচনাধর্মী উত্তর দাও : 

(ক) ‘জীবন-সংগীত’ কবিতাটির সারাংশ লেখো। 

উত্তর : কবিতাটির সারাংশ ভাগ ১নং প্রশ্নোত্তর দেখো। 

(খ) ‘জীবন সংগীত’ কবিতাটি মুখস্থ করে আবৃত্তি করো। 

উত্তর : (নিজে চেষ্টা করো) 

(গ) কবিতায় কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে মানব জীবনের প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেছেন, তা আলোচনা করো।  

উত্তর : মানব সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের এক সুমহান উদ্দেশ্য প্রচ্ছন্নভাবে লুকাইয়া আছে। মানব জীবন অসার নহে। কবির মতে এই পৃথিবীতে মানব জীবন হয়তো একবারই হয়। তাই এই জীবন অলীক বা ব্যর্থ বলিয়া ভাবা যায়না। মানবাত্মা নিত্যবস্তু, ইহার ধ্বংস নাই। তাই বাহিরের চাকচিক্যময় দৃশ্য দর্শনে বিভ্রান্ত হইয়া অবহেলায় অনাদরে দুষ্প্রাপ্য মানব জীবন নষ্ট করা কোন মতেই সমীচীন নহে। জীবনে শুধুমাত্র নিরবচ্ছিন্ন সুখের আশা করিয়া দুঃখের ফাঁস গলায় ধারণ করার কোন যুক্তি নাই। সময় বড় বলবান। ক্ষণস্থায়ী এবং বেগবান সময় কাহারও জন্য অপেক্ষা না করিয়া দুনির্বার গতিতে আগাইয়া চলে। আয়ু, সহায়, সম্পদ যাহা কিছুই বল না কেন তাহা কিছুই স্থায়ী নহে। সকল কিছুই অতীতের কালগর্ভে বিলীন হইয়া যাইবে। সেই জন্য মানুষের উচিত সংসার যুদ্ধে ভীত না হইয়া জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করিয়া বীর্যবানের মত দৃঢ়পণে যুদ্ধ করিয়া যাওয়াই শ্রেয়। কারণ এই জগতে মহিমাই দুর্লভ বস্তু। ভবিষ্যতে নির্ভর করিয়া সুখের অতীতকে পুনরায় ডাকিয়া আনিয়া মূর্খতার পরিচয় দেওয়া উচিত নহে। ইহাই মানব জীবনের প্রকৃত সত্য।

(ঘ) মানব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং সমরাঙ্গন তুল্য— কীভাবে এ জীবন সার্থক হতে পারে তার এক যুক্তিসংগত আলোচনা করো। 

অথবা

ক্ষণস্থায়ী মানৰ জীবন কীভাবে সার্থক হতে পারে তা ‘জীবন-সংগীত’ কবিতাটিঅবলম্বনে সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তর ঃ সময় বড় বলবান। ইহা ক্ষণস্থায়ী ও অতি বেগবান। ইহা কাহারও কথার বাধ্য নহে। সহায়, সম্পদ, আয়ু সকলই অতীতের কালসমুদ্রে বিলীন হইয়া যাইবে। ‘সময়ের সার বর্তমান’। জীবনে অযথা ক্রন্দন না করিয়া তীব্র ইচ্ছার বশবর্তী হইয়া ইহ সংসারের নিজ নিজ কাজে যত্নবান হইতে পারিলেই জীবনের সার্থকতা অবশ্যই আসিবে। অবহেলায় অনাদরে জীবন নষ্ট না করিয়া, ভগবানে অগাধ বিশ্বাস রাখিয়া একাগ্র চিত্তে সংকল্প গ্রহণ করিয়া স্বীয়কার্যে রত থাকিয়া অগ্রসর হইতে পারিলে জীবনের সার্থকতা অবশ্যম্ভাবী। সংসার এক সমরাঙ্গন। তাই সংসার সমরাঙ্গনে ভীত না হইয়া মৃত্যুকে তুচ্ছ করিয়া বীর্যবানের মত দৃঢ়পণে যুদ্ধ করাই শ্রেয়। অযথা সুখের আশার বশবর্তী হইয়া দুঃখের ফাঁস গলায় পরার কোন অর্থ নাই। কারণ পৃথিবীতে কোন সুখ নাই। অতীতের ক্ষণস্থায়ী সুখকে জীবনে পুনরায় ডাকিয়া আনার চেষ্টা করা মূর্খতার নামান্তর মাত্র। একমাত্র মহাজ্ঞানী মহাজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া চলিতে পারিলেই নিজ নিজ জীবনকে প্রাতঃস্মরণীয়, বরণীয় ও সার্থকতামণ্ডিত করা যাইতে পারে। 

(ঙ) জীবাত্মা অনিত্য নয় – কথাটির বিস্তারিত আলোচনা করো। 

উত্তর ঃ মানুষ এক জীব মাত্র। জীবের আত্মাই জীবাত্মা। পৃথিবীতে মানব জীবন অসার। নহে। সৃষ্টিকর্তার মানব সৃষ্টির মধ্যে এক সুগভীর, সুমহান উদ্দেশ্য লুকাইয়া আছে। মানব জীবন নিশার স্বপনের ন্যায় অলিক ও ব্যর্থ নহে। এই মানব জীবন পৃথিবীতে হয়তো একবারই হয়। কবির মতে এই মানব জীবন সার বস্তু। এমন জীবন আর পাওয়া যাইবে না। তাই এই জীবনের যত্ন লওয়া একান্ত কর্তব্য। মহাজনদের মতে জীবাত্মা অনিতা নহে। ইহার যত্ন করিলে জয় হইবেই হইবে। মানবাত্মা নিত্য, ইহার কোন ধ্বংস নাই। ইহা অঞ্চনা, অব্যয়, চিরন্তন সত্য বস্তু। তাই মানব জীবন লাভ করিয়া, এই জনমকে বৃথা বলা যায় না। এই সংসারে, মানব জীবন ঈশ্বরের এক অসীম দান। ইহাকে অবহেলায় অনাদরে নষ্ট করা কোন বুদ্ধিমান মানুষেরই কর্ম নহে। আত্মা সত্য জগৎ মিথ্যা। প্রত্যেক মহাপুরুষেরাই এই সতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিলেন। তাই তাঁহারা প্রাতঃস্মরণীয় ও বরণীয় হইয়া আছেন। মানব জীবনের সংকল্প রক্ষা করাই প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।

(চ) ‘জীবন সংগীত’ কবিতায় কবি মানুষের কোন কোন নঞর্থক দিকগুলিকে দেখিয়েছেন

উত্তর : কবির মতে মানুষের নঞর্থক দিকগুলি হইল তাহারা ভাবে এই সংসারে জন্মটাই বৃথা পরিবার পরিজন কেহ কাহারও নয় ভাবিয়া ক্রন্দন করে। মানব জীবন নিশার স্বপনের ন্যায়। অলীক ও ব্যর্থ। সুখের অতীত স্মৃতিতে মগ্ন থাকিয়া কাতর হয়। মানব জীবন অসার ভাবিয়া বৃথা ক্ষয় করে। 

প্রশ্ন ৫। নিহিতার্থ বা মর্মার্থ লেখো : 

(ক) সময়ের সার বর্তমান। 

উত্তর : সময়ের গতি অতি বলবান। সময়কে তিন ভাগ করা হয়—অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। মানব জীবনের অতীত সময় কালগর্ভে বিলীন। সুখের অতীতকে পুনরায় ডাকিয়া আনিয়া মনের দুঃখ বাড়ানো মূর্খতার নামান্তর মাত্র। ভবিষ্যৎ মানুষের কাছে অন্ধকার, অজানা। অন্ধকার ভবিষ্যতে নির্ভর করিয়া কাজ করার মধ্যে কোন সার্থকতা নাই। জীবনের সংকল্প সাধন করিতে বর্তমানেই সমভব। আপন ব্রত সাধনে মানুষকে একাগ্র চিত্তে ভগবানে বিশ্বাস রাখিয়া নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকিতে পারিলেই কীর্তি থাকিয়া যাইবে। এই কথা একমাত্র মহাজ্ঞানী মহাজনেরাই উপলব্ধি করিতে পারেন, কারণ সময়ের সার বর্তমান। 

(খ) মহিমাই জগতে দুর্লভ। 1 

উত্তর : মহিমা, যশ, খ্যাতি এই সকল মানব জীবনের অলংকার। জগতের প্রতিটি মানুষের জীবনেই এই সকল অলংকার কাম্য বস্তু। তবে এই সকল সহজে লাভ করা যায়। না। ইহার জন্য যত্ন, ত্যাগ, সংকল্প, সততা, দানশীলতা, অকুতোভয়তার দরকার হয়। সংসার যুদ্ধে ভীত না হইয়া জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া বীর্যবানের মতো দৃঢ়পণে যুদ্ধ করিয়া যাওয়ার মধ্য দিয়াই মহিমা লাভ হয়। ইহা জগতে খুব দুর্লভ বস্তু। একমাত্র ত্যাগী পুরুষ, মহাজ্ঞানী, মহাপুরুষেরাই এই মহিমার অধিকারী হইয়া থাকেন। 

(গ) ‘সহায় সম্পদ বল সকলি ঘুচায় কাল আয়ু যেন শৈবালের নীর। 

উত্তর : মানুষের আয়ু, সহায়, সম্পদ অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। মানব জীবন স্বল্প সময়ের যোগফল মাত্র। নির্ধারিত স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষকে তাঁহার আরাধ্য সঞ্চয় করিতে হইবে। ইহার জন্য চাই একাগ্রতা, মনসংযোগ, বীর্যবিত্তা ও কাজ করার প্রতিজ্ঞা বা সংকল্প। পৃথিবীতে পরহিতকর কাজে ব্রতী হইয়া নিষ্ঠা সহকারে নিজ নিজ কাজে অগ্রসর হইতে হইবে। কারণ ইহা তো অবধারিত যে সময় বেগবান, সে স্থির নহে। আয়ু শৈবালের নীরের তুল্য। দৃঢ়পণে কাজ করিয়া যাওয়াই মানুষের কর্তব্য, কারণ আয়ুকাল ক্ষণস্থায়ী। 

(ঘ) ভবিষ্যতে করো না নির্ভর। 

উত্তর : ইহ জগতে সময় তিন প্রকার—অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। মানব জীবনে অতীত শেষ হইয়া গিয়াছে বলিয়া ধরিতে হইবে। তাহাতে পুনরায় ডাকিয়া আনা মূর্খতার পরিচায়ক। কারণ তাহা আর আসিবে না। ইহার জন্য ক্রন্দন করা বৃথা। আমাদের জীবনে ভবিষ্যৎ অন্ধকারময় অজানা। ভবিষ্যতে কি আছে তাহা আমরা জানি না। তাই উহার উপর নির্ভর করিয়া কাজ করা বোকামি। সময়ের সার বর্তমান। ভবিষ্যতে নির্ভর করিয়া থাকিলে আরাধ্য সাধন হওয়া অসম্ভব। 

(ঙ) সংসার-সমরাঙ্গন।

উত্তর : এই বিশ্বসংসার কর্মবহুল। বিশ্বসংসারে সকলেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। সংসার এক সমরক্ষেত্র। এই সংসারে মানব জীবন বৃথা নষ্ট না করিয়া উপযুক্ত সময়ে ভগবানে বিশ্বাস রাখিয়া নিজ নিজ সংকল্প সাধনার্থে জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য করিয়া সম্পূর্ণভাবে। কাজে লাগিয়া যাওয়াই বুদ্ধিমান মানুষের কাজ। মহাপুরুষ মহাজ্ঞানীগণ এই পথ অবলম্বন করিয়াই চলিয়া থাকেন। 

প্রশ্ন ৬। টীকা লেখো : লং ফেলো 

উত্তর : আমেরিকার প্রখ্যাত গীতি কবি হেনরি ওয়র্ডছওয়ার্থ লংফেলোর ১৮০৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে পোর্টল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বোডিন কলেজে পড়াশুনা করিয়া উক্ত কলেজে এবং পরে হার্ভার্ড কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৮৫৪ সালে অধ্যাপনার থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। লংফেলোর ইংরাজি লিরিক কবিতার এক সার্থক বঙ্গানুবাদ হইল কবি হেমচন্দ্রের ‘জীবন-সংগীত’ কবিতা। তাঁহার প্রখ্যাত গীতিধর্মী কবিতাগ্রন্থ দুইটি হইল— ভয়েচ্ অফ নাইট (১৮৩৯) এবং বেলাডস্ এণ্ড আদার পয়েস্ (১৮৪১)। গীতিধর্মিতা এবং মানবতাবাদী সুর তাহার কবিতার প্রাণবস্তু। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তাঁহার কবিতাগুলি অনুবাদ হইয়াছে। ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চে ৭৫ বছর বয়সে এইজন জগতবিখ্যাত কবির মৃত্যু হয়। 

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

প্রশ্ন ৭। ব্যাখ্যা লেখো : 

(ক) “মানব জীবন সার এমন পাবে না আর বাহ্য দৃশ্যে ভুলো না রে মন।”

উত্তর : আলোচ্য অংশটি কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘জীবন-সংগীত’ কবিতা হইতে সংগ্রহ করা হইয়াছে। এই অংশে কবি মানব জীবনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করিয়াছেন। কবির মতে এই পৃথিবীতে মানব জীবন একবারই হয়তো হইয়াছে। এই জীবন পুনরায় আর পাওয়া যাইবে না। এই জীবন অসার নহে। সৃষ্টিকর্তার মানব সৃষ্টির মধ্যে এক সুমহান উদ্দেশ্য লুকাইয়া আছে। ইহা নিশার স্বপন বা অলিক ও ব্যর্থ নহে। অযথা বাহ্য দৃশ্যে ভুলিয়া গিয়া অনাদরে অবহেলায় এই দুর্লভ জীবন নষ্ট করা কোন মতেই উচিত নহে। মানব আত্মা নিত্য বস্তু, ইহার ধ্বংস নাই। সংসারের নানা কাজে যত্নবান হইতে পারিলেই জীবনের সার্থকতা নিরূপিত হইবে। 

(খ) “সাধিতে আপন ব্রত স্বীয় কার্যে হও রত একমনে ডাক ভগবান। ” 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি করি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘জীবন-সংগীত’ কবিতার অন্তর্গত। কবিতাটি ইংরেজ কবি লংফেলোর ইংরাজি লিরিক কবিতার এক সার্থক ভাবানুবাদ । মানব সৃষ্টি পৃথিবীতে ঈশ্বরের এক মহান সৃষ্টি। এই সৃষ্টির মধ্যে ঈশ্বরের এক সুমহান উদ্দেশ্য আছে। জীবনে প্রতিটি মানুষের কোন না কোন সংকল্প আছে যাহার মাধ্যমে মানুষ তার নশ্বর জীবন ত্যাগ করিয়াও মহান হইতে চায়। 

মানুষের সুমহান উদ্দেশ্য কার্যে পরিণত করিতে হইলে তাহাকে তাহার ব্রত পালন করিতে হইবে। মানুষকে তাহার সংকল্প ও ব্রত পালন করিতে হইলে একাগ্রতা, নিষ্ঠা সহকারে নিজের কাজে মনোনিবেশ করিতে হইবে। ভগবানে অটল বিশ্বাস রাখিয়া অসীম। ধৈর্য্য সহকারে নিজের কর্তব্য পালনে রত থাকিলে আরাধ্য সাধন করা অবশ্যম্ভাবী। তাই একমনে ভগবানকে বিশ্বাস করিয়া নিজের কাজে রত থাকাই শ্রেয়। 

(গ) সেই চিহ্ন লক্ষ্য করে যশোদ্বারে আসিবে সম্ভৱ। অন্য কোন জন পরে 

উত্তর : আলোচ্য পংক্তি দুইটি কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘জীবন-সংগীত’ কবিতার অংশবিশেষ। উদ্ধৃত অংশে কবি ঈশ্বর-সৃষ্ট মানুষকে কীভাবে যশোম্বারে পৌঁছানো যায় তাহারই গোপন তথ্য প্রকাশ করিয়াছেন। মানব জীবনে মহিমা, খ্যাতি ও যশ লাভই প্রধান উদ্দেশ্য। এই যশ, খ্যাতি ও মহিমা লাভ করিতে হইলে মানুষকে মহাজনগত যে পন্থা তাহাই অবলম্বন করিতে হইবে। মহাপুরুষ, মহাজনদের গমন করা অংকিত পদপথের চিহ্ন অনুসরণ করিয়া মানুষকে চলিতে হইবে। জগতের মানুষ সংসার সমরে ভীত না হইয়া মৃত্যুকে তুচ্ছ করিয়া বীর্যবানের মতো দৃঢ়পণে মহাজনদের অংকিত পদচিহ্ন অনুসরণ বা লক্ষ্য করিয়া চলিতে পারিলে মোক্ষ প্রাপ্তি ও যশোধারে আসা সম্ভব হয়।

(ঘ) করো না সুখের আশ পারো না দুঃখের ফাঁস জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়। 

উত্তর : উদ্ধৃত অংশটি কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘জীবন-সংগীত’ কবিতা হইতে সংকলিত হইয়াছে। মানব জীবন কর্মবহুল। এখানে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আছে। কিন্তু অবুঝ মানুষ শুধু চায় সুখ। 

এই সংসারে শুধুমাত্র নিরবচ্ছিন্ন সুখের আশা করিয়া দুঃখের ফাঁসি গলায় পরিধান। করিবার কোন অর্থ নাই। জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সুখী হওয়াই নহে। ইহ সংসারের মানুষকে সংসার সাজিয়া নিজ নিজ কাজে ব্যাপৃত থাকিয়া জগতেনা উন্নতির চিন্তা করা কর্তব্য। জীবনের সময় খুব অল্প। ইহা বেগবান, কাহারও জন্য ইহা অপেক্ষা করিয়া থাকে না। মানুষের সহায়, সম্পদ ও আয়ু সকলই কালগর্ভে বিলীন হইয়া যাইবে। তাই মানুষকে শুধুমাত্র সুখের চিন্তা করা মোটেই যুক্তিযুক্ত নহে। 

প্রশ্ন ৮। ব্যাকরণ : 

(ক) ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো: 

মহাজন__  মহান যে জন (উপপদ সমাস) 

সমরাঙ্গন ___সমর-রূপ অঙ্গন (রূপক কর্মধারয় সমাস) 

অনিত্য __ন-নিত্য (নঞ তৎপুরুষ সমাস) 

ধরাতল___ ধরার তল (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) 

যশোদ্বারে ___যশঃ রূপ দ্বারে (রূপক কর্মধারয় সমাস) 

প্রাতঃস্মরণীয় __প্রাতঃ কালের স্মরণের যোগ্য (অব্যয়ীভাব সমাস) 

কির্তিধ্বজা___ কির্তির ধ্বজা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) 

বরণেয়__ বরণের যোগ্য (অব্যয়ীভাব সমাস)

জীবাত্মা __জীবের আত্মা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) 

(খ) বিপরীত শব্দে পরিবর্তন করো : 

গমন—আগমন, মহাজন— নীচজন, স্থির অস্থির, অনিত্য – নিত্য; জীবন—মরণ; লক্ষ্য—অলক্ষ্য; জন্ম—মৃত্যু; সময় অসময়, সুখ— দুঃখ; যত্ন – অযত্ন, কাতর – অকাতর; বর্তমান—অতীত; রত—নিরত; সার অসার। 

(গ) পদ পরিবর্তন করো : 

নির্ভর–নির্ভরতা, সমর—সামরিক, চিন্তা—চিন্তনীয়; চিহ্ন চিহ্নিত; জীৰ — জৈব দুঃখ–দুঃখিত, বীর্যবান — বীর্যবত্তা, ডা— ভীত, সময় সাময়িক : সংকল্প— সংকল্পিত, সাধন—সাধিত; বৃথা—ব্যর্থ: সার – সারবত্তা; কাতর কাতরতা, ব্রত ব্রাত্য।

(ঘ) বিশেষ্য পদের বিশিষ্টার্থক প্রয়োগ: 

        হাত 

হাত করা (আয়ত্ত করা) : লোকটি টাকা দিয়া সাক্ষীকে হাত করিয়াছে। 

হাত ছাড়া (বেহাত হওয়া) : সুযোগটা আমার হাত ছাড়া হইয়া গিয়াছে। 

হাত টান (চুরির অভ্যেস ) : চাকরটির হাত টানের দোষ আছে। 

হাত খালি (রিক্ত হস্ত) : বর্তমানে আমার হাত খালি। 

হাত দেওয়া (শুরু করা) : কাল থেকেই আমি ঘরের কাজে হাত দিব। 

         মাথা

মাথা খাওয়া (নষ্ট করা) : আদর বেশি দিয়াই মা-বাবারা ছেলেটির মাথা খাইয়াছেন। 

মাথা ঘামান (চিন্তা) : এই ব্যাপারে বেশি মাথা ঘামাইয়া লাভ নাই। 

মাথা ঠাণ্ডা করা (শান্ত হওয়া) : মাথা ঠাণ্ডা করিয়া বড় কাজ করিতে হয়, তবেই ফল পাওয়া যায়। 

মাথায় ঢোকা (বোধগম্য) : এই সহজ অঙ্কটিও তোমার মাথায় ঢুকিতেছে না দেখছি। 

         মুখ

মুখ করা (গালি) : আমি তোমার কি করিয়াছি, তুমি আমায় মুখ করিতেছ? 

মুখ চাওয়া (সদয় হওয়া) : এইবার বুঝি ভগবান আমাদের প্রতি মুখ চাহিয়াছেন। 

         কান

কানে তোলা (গ্রাহ্য করা) : এতদিনে মা আমার কথাটি কানে তুলিয়াছেন, এখন কাজ হইবে। 

কান কানমলা (শাস্তি দেওয়া) দোষ করিয়াছে বলিয়া বাবা ছোট ছেলেটির কান মলিয়া দিয়াছেন।। 

       চোখ 

চোখ দেওয়া (নজর দেওয়া) : এই কয়টিই তো মাছ পাইয়াছি, তাহাতে তুমি চোখ -দিতেছ কেন? 

চোখ উঠা (চক্ষু রোগা) জিতুর চোখ উঠিয়াছে, ওর দিকে তাকাবি না। 

        গা

গায়ে লাগা (আঘাত পাওয়া) : এমন কড়া কথাটিও দেখিতেছি তোর গায়ে লাগিতেছে না ? 

গা করা (গ্রাহ্য করা) : বাবা আমার কথাটি মোটেও গা করিলেন না।

প্রশ্ন ৫। বিশেষণ পদের বিশিষ্টার্থক প্রয়োগ : 

        কাঁচা 

কাঁচা পয়সা (সহজলভ্য) : বইয়ের ব্যবসায় লোকটি কাঁচা পয়সা কামাইয়াছে। 

কাঁচা হাত (অদক্ষ) : এ কাজটা কাঁচা হাতের বলিয়া মনে হয়। 

কাঁচা ঘুম (অপূর্ণ) : কাঁচা ঘুমে শরীর খারাপ করে। 

কাঁচা পথ (মেঠো পথ) কাঁচা পথে চলাফেরা করিতে বড়ই কষ্ট হয়। 

        ছোট 

ছোট করা (হীনজ্ঞান করা) : কাউকে কখনও ছোট করিয়া দেখিতে নাই। 

ছোট নজর (নিন্দিত) : লোকটির নজর খুব ছোট, তাহাকে কেউ সম্মান দেয় না। 

ছোট লোক (অভদ্র) : ছোট লোকের মতো গালাগাল করিতেছ কেন? 

         পাকা 

পাকা কথা (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত) : বাবা আজ দিদির বিবাহের জন্য বরপক্ষকে পাকা কথা দিয়া আসিয়াছে। 

পাকা রাস্তা (বাঁধানো রাস্তা) : আমাদের গ্রামের পাঁয়ে হাটা রাস্তাটি এইবার পাকা রাস্তা হইয়াগিয়াছে। 

          বড় 

বড় বড় কথা (অবাস্তর) : বিষয়টি ভাল করিয়া না জানিয়া বড় বড় কথা বলিতে নাই। 

বড় লোক (ধনী লোক) : আমাদের পাড়ার বোসেরা খুব বড় লোক, অনেক টাকা- পয়সার অধিকারী। 

           কড়া 

কড়া কথা (স্পষ্ট কথা); এইবার অভদ্র লোকটাকে কড়া কথা বলিয়া তাড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে। 

কড়া লোক (মেজাজি) : রামচরণবাবু খুব কড়া লোক, তাহাকে কিছু বলিতে সাধারণতঃ কেহ সাহস করে না।

         নরম

নরম (মানুষ) : আমার বাবা খুব নরম মানুষ। তাই সকলেই তাঁহার নিকট কিছু সাহায্য চাহিলে অনায়াসে পাইয়া থাকে। 

নরম (কোমল দ্রব্য) : আমাদের লেপটি খুব নরম (কোমল), ঘুমাইতে খুব ভাল লাগে।

Leave a Reply