SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-15| অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-15| অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-15| অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-15| অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-15| অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-১০ খ

– বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 

প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। (ক) লবটুলিয়ার কোন বুনো ফুল বসন্তের আগমনী বার্তা ঘোষণা করছে। এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। 

অথব

 লবটুলিয়ার প্রকৃতি কী ফুল ফুটিয়ে বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষণা করে? সে ফুল দেখতে কেমন ?

উত্তর ঃ দুধলি ঘাসের ফুল। দুধলি ফুল বড় সুন্দর দেখিতে নক্ষত্রের মতো আকৃতি। রং হলুদ। লম্বা সরু লতার মতো ঘাসের ডাটায় অনেকখানি জমি জড়াইয়া মাটি আঁকড়াইয়া থাকে। 

(খ) পূর্ণিয়া যাত্রাকালে ‘অরণ্য প্রেমিক’ লবটুলিয়ার কাহিনির বস্তার সঙ্গী ছা, সেই তহসিলদারের নাম কী?

উত্তর : সুজন সিং। 

(গ) বাংলাদেশের কি কি গাছগাছাড়ির কথা হঠাৎ লেখকের মনে পড়ল ? 

উত্তর : মৌবন, বাতাবিলেবু ফুলের সুগন্ধ হঠাৎ লেখকের মনে পড়িয়া গিয়াছিল। 

(ঘ) যে সমস্ত ভ্রমণকারীদের কথা হয়েছে এরা কারা? 

উত্তর : ভবঘুরে হ্যারি জনস্টন, মার্কো পোলো, হাসন প্রভৃতি। 

(ঘ) মোহনপুরা জঙ্গলে কি কি বন্য জন্তু দেখা যায়? 

উত্তর : বুনো মহিষ, বন্য শূকর। 

(ঙ) ‘মনকে অভিভূত করে ইহার বিশালতায়, রুক্ষতায়।” এখানে কার কথা বলা হয়েছে? [HSLC 2020] 

উত্তর : লবটুলিয়ার অরণ্যের কথা। 

(চ) বনে পথ হারিয়ে লেখক কিভাবে দিক নির্ণয় করেন? 

উত্তর : সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখিয়া ধ্রুবতারা ঠিক করিলেন এবং দিক নির্ণয় করিলেন। 

প্রশ্ন ২। (ক) কৃষ্ণপক্ষের চাঁদের আলোর নীচে দাঁড়িয়ে লেখকের কি অনুভূতি হয়? 

উত্তর : কৃষ্ণতৃতীয়ার চাঁদ উঠিলে অস্পষ্ট জোছনায় বনপ্রান্তর অদ্ভুত দেখাইতে লাগিল।

সাদা বালির ওপর জোছনা পড়িয়া চকচক করিতেছে। ঝোপঝাপ, কাশ আর ঝাউবন। কোথাও কোনো সাড়া নাই, শব্দ নাই, অজানা গ্রহের মধ্যে নির্জনে বনপথে দুটি প্রাণী হাঁটিয়া চলিয়াছে। লেখক ও সুজন সিং। 

(খ) সরস্বতী কুণ্ডির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও। 

উত্তর : সরস্বতী কুণ্ডির পাড়ের তিন দিকে নিবিড় কন। এই বন লবটুলিয়া নেই। বড় বড় বনস্পতিদের নিবিড় সমাবেশ দেখা যায়। বনের তলদেশে নানা বুনো লতাপুষ্পের ভিড়। এই বন বিশাল সরস্বতী কুণ্ডির নীল জলকে তিনদিকে অর্ধচন্দ্রাকারে ঘিরিয়া রহিয়াছে। নীল জলের ওপারে সুদূর বিশাল আকাশ ও অস্পষ্ট শৈলমালার ছবি মনকে বেলুনের মত ফুলিয়ে উড়িয়ে নিয়ে চলে। 

(গ) সরস্বতী কুণ্ডির বনে যে যে পাখির আড্ডা তাদের নাম লেখো। 

উত্তর : শ্যামা, শালিক, হরিয়াল, চিল, কুল্লো, সিল্লি, বক, রাঙাহাস, মাণিক পাখি ইত্যাদি। 

(ঘ) বন্য হরিণের কথা কি বলা হয়েছে এই পাঠে? 

উত্তর : সরস্বতীর কুণ্ডির ধারে সত্যচরণ একদিন শুইয়া আছেন। হঠাৎ কিসের শব্দ পাইয়া উঠিয়া বসিলেন। মাথায় শিয়রের দিকে চাহিয়া দেখিলেন ঝোপের নিভৃতে দুর্গম অঞ্চলে লতাপাতার মধ্যে একটি হরিণ দাঁড়াইয়া আছে। ভালো করিয়া দেখিলেন বড় হরিণ নয়, হরিণ শাবক। হরিণটি সত্যচরণকে দেখিয়া বিস্মিত ভাবে চাহিয়া আছে। ভাবিতেছে এটা – আবার কোন অদ্ভুত জীব। কিছুক্ষণ দুজনে নির্বাক চুপ। আধা মিনিট পরে হরিণটা সামান্য আগাইয়া আসিল। হরিণের চোখে মানুষের শিশুর মতো কৌতূহল। এমন সময় সত্যচরণের ঘোড়া পা নাড়িয়া গা ঝারা দিয়া উঠে। আর অমনি হরিণ শিশু তাহার মায়ের কাছে চলিয়া যায়। 

(ঙ) ভোমরা লতা কি? এটা দেখতে কেমন? এর কুল কি রকম? 

উত্তর : ভিয়োরা লতাকে ভোমরা লতা নাম দেওয়া হইয়াছে। এই গাছের মাথায় উঠিয়া আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াইয়া রাখে। এর ফুল ছোট বনজুইয়ের মতো সাদা রং। 

প্রশ্ন ৩। (ক) ‘এই সরস্বতী কৃত্তির ধারে একদিন দুপুরে এক অদ্ভুত লোকের সন্ধান পাইলাম।’ –কে এই ব্যক্তি? সে কি করছিল? 

উত্তর ঃ এই ব্যক্তি যুগলপ্রসাদ। সে জঙ্গলে গাছের বীজ পুঁতিতেছিল। 

(খ) যুগলপ্রসাদের কি সব? সে বনের ভিতর কি করে বেড়ায়? 

উত্তর : যুগলপ্রসাদের সখ গাছ লাগানো। সে বনের ভিতর গাছ ও লতার বীজ বপন। করিয়া এবং তাহার যত্ন লইয়া বেড়ায়। 

(গ) পূর্ণিয়া থেকে সে কি এনেছে? লেখক তাহাকে কলকাতা থেকে কি এনে দিয়েছেন ? 

উত্তর : পূর্ণিয়ার সাহেবের বাগান হইতে সে চমৎকার এক বিলাতি লতার বীজ আনিয়াছে। লেখক তাহাকে কলকাতা হইতে সাটনের বিদেশি বন্য পুষ্পের বীজ আনিয়া দিয়াছেন। 

(ঘ) আজকের দিনের নিরিখে যুগলপ্রসাদকে একজন পরিবেশবিদ বলা যাবে কি? 

উত্তর : যুগলপ্রসাদকে আজকের দিনে পরিবেশবিদ বলা যায়। কেন না সে গাছ ও ফুল ভালোবাসে। শুধু তাহাই নহে সে গাছ ও ফুলের নিরন্তর পরিচর্যা করে। অরণ্য শোভাবর্ধনের জন্য সে নিরন্তর বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করিয়া চলিয়াছে। 

(ঙ) লেখক কেন যুগলপ্রসাদকে বলেন যে তাদের এ প্রয়াস যেন গোপন রাখে? 

উত্তর : কাছারির লোকেরা যখন জানিতে পারিবে যে যুগলপ্রসাদ বনে বনে গাছ ও লতার বীজ পুঁতিয়া বেড়াইতেছে তখন তাহারা তাহাকে পাগল মনে করিবে। ইহার জন্যই লেখক যুগলপ্রসাদকে তাহাদের গাছ লাগানোর প্রয়াসের কথা গোপন রাখিতে পরামর্শ দিয়াছিলেন। 

(চ) অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনি’-র বক্তার কাছে যুগল প্রসাদ নিজের কী পরিচয় দিয়েছিলো? যুগল প্রসাদের কী শখ ছিলো? 

উত্তৰ : এটুলিয়ার পাটোয়ারি বনোয়ারিলালের চাচাতো ভাই বলিয়া পরিচয় দিয়াছিলেন। যুগল প্রসাদের শখ ছিল গাছ লাগানো। গাছ ও লতার বীজ বনে রপন করিয়া তাহার যত্ন করা।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। কোন ঘাসের ফুল থেকে বসন্তের আগমনের কথা জানান দেয়? 

উত্তর : দুধলি ঘাসের ফুল। 

প্রশ্ন ২। দুধলি ফুলের বর্ণনা দাও। 

উত্তর : দুধলি ফুল নক্ষত্রের আকৃতি। রং হলুদ। লম্বা সরু লতার মতো ঘাসের ডাটায় অনেকখানি জমি জুড়িয়া মাটি আঁকড়াইয়া থাকে। 

প্রশ্ন ৩। কোন কোন সম্মানে রক্তপলাশ ফুলের বাহার দেখা যায়? 

উত্তর : মোহন পুরা রিজার্ভ ফরেষ্ট এবং মহালিখারূপে পাহাড়ের সানুদেশে। 

প্রশ্ন ৪। “এক একদিন বাংলাদেশে ফিরিবার জন্য মন হাঁপাইয়া উঠিত’— উক্তিটি কার ? 

উত্তর : উক্তিটি সত্যচরণের।

প্রশ্ন ৫। সত্যচরণ কে? 

উত্তর : সত্যচরণ ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের নায়ক তথা প্রধান চরিত্র। 

প্রশ্ন ৬। ‘দেশকে কি ভালো করিয়াই চিনিলাম বিদেশে গিয়া । — উক্তিটি কার? এখানে দেশ ও বিদেশ বলতে কোন দেশের কথা বলা হইয়াছে? 

উত্তর : এখানে দেশ বলিতে সত্যচরণের মাতৃভূমি বাংলাদেশের কথা বলা হইয়াছে। এবং বিদেশ বলিতে পূর্ণিয়া ভাগলপুরের কথা বলা হইয়াছে। যেখানে তিনি চাকুরি করিতেন। 

প্রশ্ন ৭। কথক সত্যচরণ কিভাবে তাঁর দেশবাড়িকে স্মরণ করতেন ? 

উত্তর : সত্যচরণ ভাগলপুর জমিদারী এস্টেটের চাকুরিতে যোগদান করিয়াছেন। সেখানে আরণ্যক প্রকৃতি অঞ্চলে তাঁহাকে কাজের নিমিত্তে ঘুরিয়া ফিরিতে হইত। কাজের অবসরে তাঁহার দেশের কথা মনে পড়িত। বাংলাদেশের পল্লির সুমধুর সুর তাহার কানে আসিত। মনে পড়িত মাঠের ফুল ফোটা ঘেঁটুবন, বাতাবিলেবু ফুলের সুগন্ধে মোহময় ঘন ছায়া- ভরা অপরাহ্ । 

প্রশ্ন ৮। লবটুলিয়া বইহার সত্যচরণকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে? 

উত্তর : লবটুলিয়া বইহারে দিগন্তব্যাপী, দীর্ঘ বন ঝাউ কাশের বনে নিস্তব্ধ অপরাহে সারা মনকে রহস্য অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করিয়া দিত। সেই প্রকৃতির রূপ কখনো আসিয়াছে ভয়ের রূপে। কখনো নিস্পৃহ, উদাস, গম্ভীর মনোভাবের রূপে, কখনো আসিয়াছে মধুময় স্বপ্ন, দেশ-বিদেশের নর-নারীর বেদনা রূপে। 

প্রশ্ন ৯। দুইজন অরণ্য পর্যটকের নাম বলো। 

উত্তর : হ্যারি জনস্টন, ও হাসন।

 প্রশ্ন ১০। কে সত্যচরণকে ‘তার’ (সংবাদ) পাঠিয়েছিল? 

উত্তর : জমিদারী এস্টেটের উকিলবাবু। 

প্রশ্ন ১১। জঙ্গলমহাল থেকে পূর্ণিয়ার দূরত্ব কত? 

উত্তর : পঞ্চান্ন মাইল। 

প্রশ্ন ১২। কাটারিয়া স্টেশন কোথায়? 

উত্তর : পূর্ণিয়া থেকে ৩৮ কি.মি. দূরে। 

প্রশ্ন ১৩। জমিদারীর তহশিলদারের নাম কি? 

উত্তর : সুজন সিং। 

প্রশ্ন ১৪। সত্যচরণ কখন পূর্ণিয়া যাত্রা করিলেন এবং কেন? 

উত্তর : সন্ধ্যাবেলা পূর্ণিয়া যাত্রা করিলেন। কারণ পরদিন ১০টার সময় আদালতের মোকদ্দমায় উপস্থিত হইতে হইবে। 

প্রশ্ন ১৫। পূর্ণিয়া যাত্রার কাহিনি বর্ণনা করো।

উত্তর : পূর্ণিয়া হইতে উকিল সংবাদ পাঠাইলেন যে, পরদিন ১০ টার মধ্যে আদলতে উপস্থিত না হইলে এস্টেটের একটি বড় মোকদ্দমা হাতছাড়া হইয়া যাইবে। তাই সত্যচরণ এবং তহশিলদার সুজন সিং দুইজনে ঘোড়ায় চাপিয়া সন্ধ্যাকালে রওয়ানা দিলেন। পথ কখনো উঁচু কখনো নীচু। সাদা বালির উপর জোছনা পড়িয়া চকচক করিতেছে। ঝোপঝাপ মাঝে মাঝে রহিয়াছে। আর আছে কাশবন ও ঝাউবন। একদিকে যতদূর দৃষ্টি যায় ধুধু প্রাপ্তর এবং অন্যদিকে অঙ্গন। দূরে অনুচ্চ শৈলমালা। নির্জন নীরব মানুষের বসতি কোথাও দেখা যায় না। সাড়া নাই, শব্দ নাই। যেন কোন অজানা গ্রহ। 

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

প্রশ্ন ১৬। কোন জঙ্গলে বুনো মহিষের ভয়? 

উত্তর : মোহনপুরা জঙ্গলে। 

প্রশ্ন ১৭। পূর্ণিয়া যাইতে কোন নদীর খেয়া পার হইতে হয়? 

উত্তর : কুশী নদীর। 

প্রশ্ন ১৮। অরণ্য প্রান্তরে জোছনা রাত্রির সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও? 

উত্তর : নির্জন বালুর চরে অপরূপ জোছনা। কিরূপ রাত্রির। দীর্ঘ বনঝাউয়ের জঙ্গলের পাশে জোছনা যাহারা দেখে নাই, তাহারা বুঝিবে না এই জোছনার সৌন্দর্য কেমন। উন্মুক্ত আকাশতলে ছায়াহীন, উদাস গভীর জোছনা ভরা রাত্রিতে বহুপাহাড় প্রান্তরের পথের জোছনা, বালুচরের জোছনা অত্যন্ত মনোরম। 

প্রশ্ন ১৯। সত্যচরণ ঘোড়া কোথায় থামাইয়াছিলেন? 

উত্তর : শিমুলগাছের তলায়। 

প্রশ্ন ২০। লবটুলিয়ার উত্তর প্রান্তে কি রয়েছে? 

উত্তর : হ্রদের মতো জলাশয় থাকে কুত্তি বলে। 

প্রশ্ন ২১। কুণ্ডিটির নাম কি? 

উত্তর : সরস্বতী কুণ্ডি । 

প্রশ্ন ২২। সরস্বতী কুণ্ডির বিবরণ দাও? 

উত্তর : সরস্বতীর কুণ্ডির তিনদিকে নিবিড় বন। 

প্রশ্ন ২৩। সরস্বতী কুণ্ডি কোথায় অবস্থিত? 

উত্তর : লবটুলিয়ার উত্তর প্রান্তে। 

প্রশ্ন ২৪। ‘এখানে একখানা শিলাখণ্ডের উপর কতদিন গিয়া একা বসিয়া থাকিতাম। -এখানে কোন সম্মানের কথা বলা হয়েছে? কে সেখানে বসে থাকতেন ? 

উত্তর: সামতী কৃতির পাড়ের কথা বলা হইয়াছে। সত্যচরণ সেইখানে বসিয়া থাকিতেন। 

প্রশ্ন ২৫। সরস্বতী কৃত্তির তীরে বনাঞ্চলের দৈর্ঘ্য কত? 

উত্তর : প্রায় তিন মাইল।

পশ্ন ২৬। সত্যচরণ সরস্বতী কুণ্ডির তীরে কিভাবে দিনযাপন করতেন বর্ণনা করো। 

উত্তর : সত্যচরণ সরস্বতী কুণ্ডির তীরে একখানি শিলাখণ্ডের ওপর বসিয়া থাকিতেন। তীরের বনাঞ্চলে জলের ধারে দুপুরবেলা আপন মনে বেড়াইতেন। গাছের ছায়ায় বসিয়া পাখির কূজন শুনিতেন। মাঝে মাঝে গাছপালা ও বনলতার ফুল সংগ্রহ করিতেন। সরস্বতীর, নীল জল ও তাহার উপর উপুর হইয়া পড়া দূরের আকাশটা ও শৈলশ্রেণী দর্শন করিতেন। 

প্রশ্ন ২৭। বৃক্ষলতার হৃৎস্পন্দন সত্যচরণ কিভাবে বুকের রক্তের স্পন্দনে অনুভব করতেন? 

উত্তর : সত্যচরণ একদিন একটি গাছের ডালে গিয়া বসিলেন। সেই আনন্দের তুলনা হয় না। মাথার উপর বিশাল বনস্পতির ঘন সবুজ পাতার রাশি। তাহার ফাঁকে নীল আকাশের টুকরা। প্রকাণ্ড একটা লতার থোকা থোকা ফুল দুলিতেছে। নীচে ভিজা মাটিতে বড় বড় ব্যাঙের ছাতা গজাইয়াছে। এইসব স্থানে আসিয়া সত্যচরণের ভাবিতে ইচ্ছা হয়। তাঁহার মনে কত ধরনের অনুভূতি জাগিয়া উঠে। এই সকল অনুভূতি আসে আনন্দের মূর্তি ধরিয়া। প্রত্যেক বৃক্ষলতার হৃৎস্পন্দন যেন তাঁহার প্রাণের স্পন্দনের মধ্যে অনুভূত হইতেছে। 

প্রশ্ন ২৮। লবটুলিয়ার বসন্ত কিরূপ? 

উত্তর : লবটুলিয়া যেন অন্য জগৎ, তাহার গাছপালা জীবজন্তু সবই অন্য ধরনের। পরিচিত যখন বসন্ত দেখা দিয়াছে লবটুলিয়ায় তখন একটা কোকিলের ডাকও শোনা যায় না। একটাও পরিচিত ফুল দেখা যায় না। সে যেন কর্কশ রুক্ষ ভৈরবী মূর্তি। সুন্দর হইলেও মাধুর্যহীন। কিন্তু মনকে অভিভূত করে তাহার বিশালতা ও রুক্ষতা। 

প্রশ্ন ২৯। সরস্বতী কৃতির সৌন্দর্য কেমন? 

উত্তর : সরস্বতী কুণ্ডি তাহার মধুর ও কোমল বিলাসীতায় মনকে আদ্র ও স্বপ্নময় করিয়া তোলে। স্তব্ধ দুপুরে ফাল্গুন চৈত্রমাসে তীর-তরুর ছায়ায় বসিয়া পাখির কুজন শুনিতে শুনিতে মন অনেক দূরে ছুটিয়া চলিয়া যাইত। বন্য নিমগাছের সুগন্ধি নিমফুলের সুবাস বাতাসে ছড়াইত। জলে লিলির দল ফুটিত। 

প্রশ্ন ৩০। সরস্বতী কৃতির বনে কিসের আড্ডা ? 

উত্তর : পাখি। 

প্রশ্ন ৩১। সরস্বতী কৃতির বনে কি কি পাখি দেখা যায়? 

উত্তর : শ্যামা, শালিক, হরিয়াল, বক, চিল, রাঙা হাঁস, মাণিক পাখি ইত্যাদি। 

প্রশ্ন ৩২। তিনটি জলচর পাখির নাম বলো। 

উত্তর : বক, সিল্লি, রাঙাহাঁস, মাণিক পাখি।

প্রশ্ন ৩৩। সরস্বতী কুণ্ডির জঙ্গলে কোন জন্তু আছে বলে জনশ্রুতি আছে? 

উত্তর : বাঘ। 

প্রশ্ন ৩৪। জমিদারীর তহশিলদারের নাম কি ? 

উত্তর : বনোয়ারিলাল। 

প্রশ্ন ৩৫। সরস্বতী কৃতির মঙ্গলের কাদেরী সম্পর্কে কি জান লেখো। 

উত্তর : সত্যচরণ জোছনা রাতে সরস্বতী বৃতির সৌন্দর্য দেখিয়া অভিভূত হইয়াছিলেন। তাহার মনে হইয়াছিল মায়াবিনী বনদেবীরা গভীর রাতে জোছনামাখা সরস্বতীর জলে মান করিতে আসে। চারিধার নীরব নিস্তব্ধ। পূর্ব তীরের ঘন বনে শৃগালের ডাক শোনা যাইতেছিল। জোছনার হিম বাতাসে গাছপালা ও ভোমরা লতার নৈশ-পুষ্পের সুবাস ছড়াইতেছে। বিস্তীৰ্ণ হৈমন্তী পূর্ণিমার এই এই জোছনা। বনস্পতির মাথার ভোমরা লতার সাদা ফুলে জোছনা পড়িয়া মনে হইতেছে গাছে বনদেবতাদের শুভ্র বস্তু উড়িতেছে। 

প্রশ্ন ৩৬। ‘এক অদ্ভূত লোকের সন্ধান পাইলাম’। – কে কাহার সন্ধান পেল? 

উত্তর : সত্যচরণ সন্ধান পাইয়াছিল যুগলপ্রসাদ নামের এক অদ্ভুত লোকের।। 

প্রশ্ন ৩৭। ভুঁই কোমড়া কি ধরনের উদ্ভিদ? 

উত্তর : লতাজাতীয় উদ্ভিদ। 

প্রশ্ন ৩৮। সত্যচরণের সাক্ষাৎকালে যুগনপ্রসাদ কি করছিলেন? 

উত্তর : সত্যচরণের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে যুগলপ্রসাদ গাছের বীজ পুঁতিতেছিল। 

প্রশ্ন ৩৯। জমিদারী এস্টেটের ম্যানেজারের নাম কি? 

উত্তর : সত্যচরণ। 

প্রশ্ন ৪০। যুগল প্রসাদ কে? 

উত্তর : লবটুলিয়ার পাটোয়ারি বনোয়ারিলালের চাচাতো ভাই যুগলপ্রদান এবং একজন প্রকৃত প্রেমিক। 

প্রশ্ন ৪১। যুগলপ্রসাদ কোথা থেকে কোন কোন গাছের বীজ বপন করছিল? 

উত্তর : যুগলপ্রসাদ অনেকরকম বীজ পুঁতিতেছিল। একটা সাহেবের বাগান হইতে চমৎকার বিলাতি লতার বীজ সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছিল। এই লতার ফুলগুলি রাস্তা। আরও অনেক রকমের বনের ফুল বীজ দূর দূর হইতে সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছে। লবটুলিয়ার জঙ্গলে সেইসব গাছ ও লতা নাই বলিয়া তাহার বীজ যুগলপ্রসাদ পুঁতিয়া দিতেছিল। লবটুলিয়াতে যেসকল ফুলের লতা বন্দের ফুল দেখা যায় তাহা যুগলপ্রসাদ দশ-বারো বছর আগে পূর্ণিয়ার বন হইতে সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছিল।

প্রশ্ন ৪২। যুগলপ্রসাদের প্রকৃত প্রেমের পরিচয় দাও। 

উত্তর : যুগলপ্রসাদ দেশের বহু বনের ফুল ও বৃক্ষলতার খবর রাখে। তাহার জ্ঞান দেখিলে আশ্চর্য হইতে হয়। সে সৌন্দর্যের পূজারি। বনে বনে ভালো ফুল ও লতার বীজ ছড়াইয়া তাহার দিন কাটে। ইহাতে তাহার কোনো স্বার্থ নাই। এক পয়সা আয় নাই। সে নিতান্ত গরিব। অথচ বনের সৌন্দর্য সম্পদ বাড়াইবার জন্য তাহার পরিশ্রম ও উদ্বেগ। ইহা হইতে তাহার প্রকৃতি প্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৪৩। সত্যচরণ যুগলপ্রসাদকে কি কাজে সাহায্য করেছিলেন ? 

উত্তর : ধরমপুরের পাড়াগাঁ অঞ্চলে যে পদ্ম পাওয়া যায় তাহা সংগ্রহ করিয়া আনিয়া। সরস্বতী কৃষির জলে পুঁতিয়া দিতে সংকল্প গ্রহণ করিয়াছিল। দুইজনে মিলিয়া এই বনকে নতুন বনের ফুলে লতায় সাজাইবার জন্য সংকল্প লইয়াছিল এবং সদরে পত্র লিখিয়া যুগলপ্রসাদের ১০ টাকা বেতনে মুখরির চাকুরি যোগাইয়া দিয়াছিলেন। আজমাবাদ কাছারিতে তাহার চাকুরি হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৪৪। যুগল প্রসাদের জন্য সত্যচরণ কোথা হতে বীজ আনিয়াছিলেন? 

উত্তর : কলিকাতা হইতে সাটনের বিদেশি বন্য পুষ্পের বীজ আনিয়া, ডুয়ার্সের অঙ্গল হইতে বন্য জুঁইয়ের লতার কাটিং আনিয়া দিয়াছিলেন যুগলপ্রসাদ সহ সেইসকল বীজ সরস্বতী কুণ্ডির বনভূমিতে রোপণ করিয়াছিলেন।

Leave a Reply