SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-8| প্রার্থনা

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-8| প্রার্থনা প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-8| প্রার্থনাএমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-8| প্রার্থনা

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-8| প্রার্থনা Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-৪ ক

কবি পরিচিতি

বিদ্যাপতি (আনুমানিক ১৩৫২-১৪৪৮ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলী ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যাপতি। দ্বারভাঙ্গা জেলার এক বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ পরিবারে কবির জন্ম। তাঁহাদের সাতপুরুষ মিথিলা রাজদরবারে উচ্চপদ ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। পিতা গণপতি ঠাকুর পূর্বপুরুষদের মতো প্রভাবশালী না হইলেও রাজদরবারে যথেষ্ট সম্মান ছিল। মিথিলার কবি হইলেও বিদ্যাপতি বাংলা কাব্য সাহিত্যকে যথেষ্ট প্রভাবিত করিয়াছেন। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁহার পাণ্ডিত্য অতুলনীয়। চতুর্দশ শতকে জন্মগ্রহণ করিয়া কবি সুদীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন।

প্রশ্ন ১। অর্থ লেখো ঃ তাতল – উত্তপ্ত; সৈকত – বালু; বারি—জল; সৃত — পুত্র, মিত— মিত্র, তোহে—তোমাকে; বিসরি—ভুলে গিয়ে, বিস্মৃত হয়ে; তাহে—তাতে; সমর্পিলু— সমর্পণ করলাম: তুই তুমি, জগৎ তারণ – জগৎ ত্রাতা, বিশোয়াসা — বিশ্বাস, জরা – বার্ধক্যঃ তোহে—তোমাকে; ভজব — ভজন করব; মাধব — শ্রীকৃষ্ণ; নিন্দে – নিদ্রায়, গোঙায়লু অতিবাহিত করলাম; অব—এখন; মধু – আমার; আধ জনম অর্ধজন্ম; তোহারা — তোমার। 

প্রশ্নাবলী 

প্রশ্ন ১। শূন্যস্থান পূরণ করো : 

(ক) তাতল______ বারিবিন্দু সম।

(খ)_____রমণী রসরঙ্গে মাতলু। 

(গ)_____ জগতারণ, দীন-দয়াময় 

(ঘ) আধ জনম হাম নিন্দে ______।

(ঙ) মাধব______ পরিণাম নিরাশা। । 

উত্তর : (ক) সৈকত,

(খ) নিধুবনে,

(গ) তুই,

(ঘ) গোড়ায়লু,

(ঙ) হাম

প্রশ্ন ২। পাঠ অনুসরণে শুদ্ধ করে লেখো :

(ক) সূত-মিত-পুরুষ সমাজে। 

উত্তর: সূত-মিত রমণী সমাজে। 

(খ) তুই জগন্নাথ, দীনদয়াময়। 

উত্তর : তুই জগ-তারণ, দীনদয়াময়।

(গ) জরা শিশু এতদিন গেলা।

উত্তর : জরা শিশু কতদিন গেলা।

(ঘ) তোহে পুজিব কোন বেলা। 

উত্তর : তোহে ভজব কোন বেলা। 

প্রশ্ন ৩। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) ‘প্রার্থনা’ কবিতাটির কবি কে? 

 উত্তর : ‘প্রার্থনা’ কবিতাটির কবি বিদ্যাপতি।

(খ) কবি কাকে ডুলেছিলেন বলে অনুতাপ করেছেন?

উত্তর : কবি ধীকৃষ্ণ অর্থাৎ ঈশ্বরকে ভুলিয়াছিলেন বলিয়া অনুতাপ করিয়াছেন। 

(গ) বিশোয়াসা’ কোন শব্দের অন্তর্গত?

 উত্তর : ‘বিশোয়াসা’ মৈথিলি শব্দের অন্তর্গত।

(ঘ) ‘নিন্দে’ শব্দের অর্থ কী? 

উত্তর : ‘নিন্দে’ শব্দের অর্থ নিদ্রায়। 

(ঙ) বিদ্যাপতি প্রকৃতপক্ষে কোথাকার কবি?

 উত্তর : বিদ্যাপতি প্রকৃতপক্ষে মিথিলার কবি।

 (চ) ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মানব জীবনের বিশেষ যে দুটি বয়সকালের উল্লেখ করেছেন, সেগুলি কী কী ? 

উত্তর : যৌবন কাল এবং বার্ধক্য কাল।

প্রশ্ন ৪। ৩/৪ টি বাক্যে উত্তর দাও :

(ক) মাধব, হাম পরিণাম নিরাশা’ — কবির এমন মনোভাবের কারণ কী?

উত্তর : কবি জীবন সায়াহে উপনীত হইয়া আক্ষেপ করিয়া বলিতেছেন যে এতদিন। তিনি স্ত্রী-পুত্র-আত্মীয়-স্বজন পরিবেষ্টিত হইয়া মায়ারূপ ক্ষণস্থায়ী সংসারে নিজেকে সমর্পণ করিয়াছিলেন। শাশ্বত, চিরস্থায়ী ঈশ্বরের কথা সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হইয়াছিলেন। এখন তাহার পক্ষে করণীয় কিছু নাই। ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। হতাশাগ্রস্ত হইয়া ব্যর্থ জীবন লইয়া তিনি কী করিবেন ইহা ভাবিয়া তিনি কোন কূল-কিনারা পাইতেছেন না। 

(খ) কবি কেন আশাবাদী যে ঈশ্বর তাকে কৃপা করবেন? 

উত্তর : ঈশ্বর স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। তিনি সর্ব জীবের পরিত্রাতা। কবি জীবনের অর্ধেক কাল — পর্যন্ত কেবলই আত্ম-পরিজন ও আত্মসুখ চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। ঈশ্বরের চিন্তা সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত হইয়া জীবন অতিবাহিত করিয়াছেন। সেইহেতু ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি হইতে তিনি বঞ্চিত হইবেন। কিন্তু কৰি আশাবাদী যে ঈশ্বর তাহাকে অবশ্যই কৃপা করিবেন। যেহেতু বিশ্বর দীনের প্রতি দয়াশীল। কবি ঈশ্বরসৃষ্ট জগতের একজন ও অতি দীন। সেইহেতু ঈশ্বরের করুণালাভে তিনি সমর্থ হইবেন।

(গ) জীবনের অর্ধেক কাল পর্যন্ত কবি কীভাবে সময় অতিবাহিত করেছেন? 

উত্তর : জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হইয়া কবি আত্মবিশ্লেষণ করিতে গিয়া উপলব্ধি করিলেন যে শৈশব এবং যৌবনে নিদ্রায় অতিবাহিত করিয়া এবং সাংসারিক সাময়িক সুৰে নিজেকে নিমজ্জিত করিয়া বসিয়াছিলেন। বার্ধক্যের অনেক সময় বৃথা কালাতিপাত করিয়া অতিবাহিত করিয়াছিলেন। 

(ঘ) ‘তাতল সৈকত বারিবিন্দু সম’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? 

উত্তর : উত্তপ্ত বালুকারাশিতে যখন বিন্দু বিন্দু বারিধারা পতিত হয় তখন বালুকারাশি নিমেষেই সেই জলবিন্দুকে গুসিয়া লয়। এইরূপ পতিত জলবিন্দু যেরূপ ক্ষণস্থায়ী তরুপ সংসাররূপ মায়াজালে স্ত্রী-সন্তান-পরিবার-পরিজন সকলই ক্ষণস্থায়ী কালের গর্ভে বিলীন হইয়া যায় সমস্ত সম্পর্ক তথা আত্মীয়তা।

(ঙ) “তোহে জনমি’ পুন, তোহে সমাওত,  সগর-লহরী সমানা।” ‘ প্রার্থনা’ কবিতা অবলম্বনে উদ্ধৃতাংশটির মর্মসত্য উদ্ঘাটন করো।

উত্তর : এক এক ব্রহ্মার পরমায়ু যুগ-যুগ ব্যাপী, এরূপ বহু ব্রহ্মা মরে যাচ্ছেন, কিন্তু কবির পরম আরাধ্য ঈশ্বর অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণর অবসান নেই। তাঁহাতে জন্মে সবাই আবার সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তাঁহাতেই বিলীন হয়। কবি বলিয়াছেন তোমাতে জন্মে পুনরায় তোমাতেই সমাহিত হয়। সাগরের ঢেউ যেমন সাগরের বুকে জন্মে আবার সাগরের বুকে বিলীন হইয়া যায়। এই মানবজীবন ও জগৎ-সংসার ঈশ্বর হইতে জন্মলাভ করিয়া ঈশ্বরেই বিলীন তথ্য সমাহিত হয়। 

প্রশ্ন ৫। রচনাধর্মী উত্তর লেখো :

(ক) ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি অবলম্বনে কবির বক্তব্য বিষয় পরিস্ফুট করো। 

অথবা 

‘প্রার্থনা’ কবিতায় বর্ণিত কবির ব্যাকুল প্রার্থনার কারণগুলি লেখো।

 উত্তর : ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিদ্যাপতি তাঁহার আরাধ্য দেবতার নিকট নিজেকে সমর্পণ করিয়া নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করিতেছেন। মনুষ্য জন্ম গ্রহণ করিয়া তিনি কেবল আত্মসুখ এবং মায়াময় সংসারের পরিবার পরিজন লইয়া মগ্ন ছিলেন। ক্ষণস্থায়ী সংসার-সমুদ্রে অবগাহন করিয়া চিরস্থায়ী, শাশ্বত ঈশ্বরকে বিস্মৃত হইয়াছেন। জীবনের অর্ধেক কাল এইরূপে অতিবাহিত করিবার পর তিনি উপলব্ধি করিলেন মূল্যহীন এই জীবন আর কোন কাজে লাগিবে না। নিদ্রায়, বিলাসিতায় অমূল্য জীবনের অর্ধেক কাল ব্যয় করিয়াছেন। শ্রীকৃষ্ণ এখন তাঁহার জীবনের শেষ ভরসা। জগতের ত্রাতা তিনি। তাই কবির আশা তিনি যেহেতু জগতেরই একজন সেই হিসাবে ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি হইতে তিনি বঞ্চিত হইবেন না।

(খ) ‘মাধব হাম পরিণাম নিরাশা’— কার, কোন্ রচনা থেকে পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত করা হয়েছে? মাধব বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কবির এই মন্তব্যের যথার্থতা আলোচনা করো।

 উত্তর : কবি বিদ্যাপতির প্রার্থনা পর্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প ‘প্রার্থনা’ শীর্ষক পদ হইতে উদ্ধৃত হইয়াছে। ‘মাধব’ বলিতে কবি বিদ্যাপতি তাঁহার পরম আরাধ্য ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে বুঝাইয়াছেন। 

মানুষ মোহপাশে বদ্ধ জীব। জীবনের অধিকাংশ সময় জাগতিক ভোগসুখে রক্ত থাকিয়া বৃদ্ধ বয়সে যখন মৃত্যুর পদধ্বনি শুনিতে পায় তখনই তাঁহার চৈতন্য হয়। কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা জাগে। বুঝিতে পারে যে ঈশ্বর ভিন্ন তাহাকে উদ্ধার করিবার কেহ নাই। কবি প্রথম জীবনে ভোগসুখে মত্ত ছিলেন। চিরন্তন, শাশ্বত ঈশ্বরকে ভুলিয়া তিনি সংসারের মোহপাশে আবদ্ধ হইয়া বৃথা কাল হরণ করিয়াছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌছাইয়া তাই অনুতাপদগ্ধ অন্তরে নিজের মূল্যহীন, বার্থ জীবনের জন্য হাহাকার করিয়াছেন। নিশ্চিত বঙ্গ পরিত্যাগ করিয়া অনিশ্চিতকে গ্রহণ করিয়া জীবনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করিয়াছেন। সেইজন্য কবির এইরূপ আক্ষেপ যথার্থ বলিয়া পরিগণিত হয়। 

(গ) ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিদ্যাপতি যেভাবে আত্মবিশ্লেষণ করেছেন তা বর্ণনা করে।

উত্তর : কবি বিদ্যাপতির প্রার্থনা পদে আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁহার নিরলংকৃত সরলতা ব্যক্ত হইয়াছে। তিনি যেন অনাবৃত অনুতপ্ত অন্তরে ঈশ্বরের চরণে সঁপিয়া দিয়াছেন। প্রথম জীবনে ভোগ সুখের উত্তপ্ত বাসনায় মত্ত ছিলেন। ঈশ্বরের সহিত্য লাভে বঞ্চিত ছিলেন। ইন্দ্রিয় সুখের মোহে যৌবনের রসরঙ্গে নিজেকে ব্যাপৃত রাখিয়া অনর্থক কাল হরণ করিয়াছিলেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে উপনীত হইয়া কবি উপলব্ধি করিয়াছেন অর্থহীন জীবন তাহার নিকট মূল্যহীন। সেইজন্য সকল আসক্তি ছিন্ন করিয়া ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণ করিয়াছেন। ঈশ্বরের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাসের বলেই কবি ঈশ্বরের কৃপা হইতে বঞ্চিত হইবেন না বলিয়া আশা করেন। কারণ ভাতা প জগতের সকলকেই কৃপা করিয়া থাকেন। 

প্রশ্ন ৬। নিহিতার্থ লেখো : 

(ক) তাতল সৈকত বারি বিন্দু সম সুত-মিত-রমণী সমাজে। 

উত্তর : সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ মানুষ কেবল আত্মীয়-পরিজন, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু বান্ধবের সাহচর্যে জীবন কাটাইয়া সুখী হইতে চায়। ভোগসুখের অন্ধ মোহে মানুষ ভুলিয়া যায় পার্থিব ভোগ্য বস্তু চিরদিনের নহে। কালের ছোবলে একদিন সব বিলীন হইয়া যাইবে। চিরন্তন, শাশ্বত ঈশ্বরে মন নিয়োজিত করিলে জীবন সার্থক হইয়া উঠে। ক্ষণস্থায়ী সংসারের পারস্পরিক সম্পর্কের মোহে আবদ্ধ না থাকিয়া ঈশ্বর ভজন দ্বারা মানুষ সার্থকতার স্পর্শ পায়। উত্তপ্ত বালুকারাশিতে পতিত বারি বিন্দুর মত সংসারের এক সময়ের আপনজন কালের গর্ভে বিলীন হইয়া যায়। 

(খ) তোহে বিসরি মন তাহে সমর্পিলু। 

উত্তর : ঈশ্বর সর্বজীবের পরিত্রাতা। জাগতিক দুঃখ-কষ্ট হইতে মুক্তিলাভের একমাত্র উপায় ঈশ্বর ভজন ও ঈশ্বরের চরণে আত্মসমর্পণ। কিন্তু জীবন-যৌবনের মোহে মুগ্ধ হইয়া ঈশ্বরকে সম্পূর্ণ বিস্মৃত হইয়া ক্ষণস্থায়ী সংসারের মায়াজালে কবি মন-প্রাণ সমর্পণ করিয়াছিলেন। জীবনের চরম ও পরম সত্যকে বুঝিতে না পারিয়া অন্ধের হস্তী দর্শনের মত নিজেকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করিয়াছেন। 

(গ) অতয়ে তোহারি বিশোয়াসা। 

উত্তর : ঈশ্বর জগতের সকলকেই কৃপা করিয়া থাকেন। তিনি জগত-ত্রাতা। কবি জগতের মধ্যেই বাস করেন। অতএব তিনিও নিশ্চয়ই পরিত্রাতা মাধবের অনুগ্রহ লাভে বঞ্চিত হইবেন না। শ্রীকৃষ্ণ জীবের প্রতি দয়াশীল। কবি দীনাতিদীন হইলেও জগতের একজন। এইজন্যই তিনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি লাভে সমর্থ হইবেন। 

(ঘ) নিধুবনে রমণী-রসরঙ্গে মাতলু। 

উত্তর : বৃন্দাবনের নিধু নামক বন যাহা রাধা-কৃষ্ণের কেলিকানন বলিয়া সুপরিচিত। কবি যৌবনকে উপভোগ করিবার জন্য রমণী সকাশে ক্রীড়াকৌতুক ও আমোদ-প্রমোদে মত্ত হইয়াছিলেন। রসরঙ্গের ক্ষণস্থায়ী ভোগসুখে এমনই মগ্ন ছিলেন যে ঈশ্বর চিন্তা বা ঈশ্বর ভজনা সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হইয়াছিলেন। 

পাঠনির্ভর ব্যাকরণ 

প্রশ্ন ১। (ক) প্রার্থনা কবিতা থেকে কয়েকটি ব্রজবুলি শব্দের উল্লেখ করো। 

উত্তর : বিসরি, তাহে, তাতল, অব, বিশোয়াসা, আধ জনম, নিন্দে, গোজায়লু, ভজব। 

(খ) প্রার্থনা কবিতায় উল্লেখিত সর্বনাম পদগুলি লেখো। 

উত্তর : তোহে, হাম, মঝু, তুই, তাহে, তোহারি।

(গ) নীচের শব্দগুলোর গদ্যরূপ লেখো : 

উত্তর : সমর্পিলু সমর্পণ করিলাম, অব এখন; জনম – জন্ম; নিন্দে নিদ্রায়; মাতনু মত্ত হইলাম; ভজব -ভজন করিব।

(ঘ) পদ পরিবর্তন করো : 

উত্তর : সমাজ- সামাজিক,

মন – মানসিক,

শিশু – শৈশব;

জন্ম – জাত;

বিধি -বৈধ।

(৫) বিশিষ্টার্থক শব্দ প্রয়োগে অর্থপূর্ণ বাক্য রচনা করো : 

উত্তর : গোবরে পদ্মফুল (নাচ কূলে মহৎ ব্যক্তি – অমিতা সাধারণ ঘরে জন্মাইলে গোবরে পদ্মফুল হইয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা পরীক্ষা সেরা ছাত্রী হিসাবে পরিচিত। 

খয়ের খাঁ (তোষামোদকারী) – চাকুরীতে উন্নতি করিবার জন্য ভদ্রলোক অফিে আধিকারিকদের যন্ত্রের ধারে পরিণত হইয়াছে। 

চোখের বালি (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) – বেকার ছেলেটি পরিবারের সবারই যেন চোখে বালি হইয়া উঠিয়াছে। 

টনক নড়া (জ্ঞানোদয় হওয়া) – পরীক্ষায় ফেল করায় অমিতের টনক নড়িয়াছে। 

ঠোঁট কাটা (স্পষ্ট কথা বলা ) – ঠোঁট কাটা লোকেরা কোন কথা বলিতে ভয় করেনা।। 

যোগ্যতা বিচার : 

প্রশ্ন ১। বিদ্যাপতির পিতার নাম কী? 

উত্তর : বিদ্যাপতির পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।

প্রশ্ন ২। ব্রজবুলি ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যের নাম লেখো। 

উত্তর : রজবুলি ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যের নাম ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’। 

প্রশ্ন ৩। ব্রজবুলি ভাষা সম্বন্ধে যাহা জান লেখো। 

উত্তর : ব্রজবুলি একটি কৃত্রিম ভাষা। এই ভাষা হিন্দি, ওড়িয়া, মৈথিলি, বাংলা এবং অসমিয়া শব্দের মিশ্রণ ঘটিয়াছে। বিদ্যাপতির মৈথিলি ভাষায় রচিত পদাবলীর প্রভাবে এই ভাষার সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথের কাব্যেও ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার দেখা যায়।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। বৃন্দাবনে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণের প্রমোদ বিহারের উদ্যানটির নাম কী? 

উত্তর : নিন। 

প্রশ্ন ২। ব্রজবুলি ভাষায় ভানু সিংহ ঠাকুরের পদাবলী কে রচনা করেছেন।

 উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

প্রশ্ন ৩। ‘প্রার্থনা’ কবিতার সারাংশ তোমার নিজের ভাষায় লেখো। 

উত্তর : কবি বিদ্যাপতি শ্রীকৃষ্ণপদে নিজেকে সমর্পণ করিয়া, আক্ষেপ করিতেছেন যে চিরস্থায়ী শাশ্বত ঈশ্বরকে ভুলিয়া তিনি মায়াময় সংসারের মোহজালে এতদিন মগ্ন ছিলেন। উত্তপ্ত বালুকারাশিতে জলবিন্দু পতিত হইলে তাহা যেরূপ নিমেষে বালুকারাশিতে বিলীন হইয়া যায় ঠিক সেইরূপ সংসারের একান্ত আপনজনেরাও একসময় কালগর্তে পতিত হইয়া বিলীন হইয়া যায়। নিজেকে মূর্খ প্রতিপন্ন করিয়া তিনি অনুশোচনা করিয়া বলিতেছেন যে ব্যর্থ, মূল্যহীন জীবনের আর কোন প্রয়োজন নাই। জীবনের অর্ধেক সময় সুখনিদ্রা ও রসরঙ্গে অতিবাহিত করিয়াছেন। কিন্তু কবির বিশ্বাস দীনদয়াল ঈশ্বর তাঁহার কৃপাদৃষ্টি ও করুণাধারা হইতে কবিকে বঞ্চিত করিবেন না। 

প্রশ্ন ৪। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কি প্রার্থনা করলেন?] 

উত্তর ঃ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিদ্যাপতি তাঁহার আরাধ্য দেবতা শ্রীকৃষ্ণ পদে নিজেকে সমর্পণ করিয়া নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করিতেছেন। তিনি ক্ষণস্থায়ী সংসার-সমুদ্রে অবগাহন করিয়া চিরস্থায়ী, শাশ্বত ঈশ্বরকে ভুলিয়া জীবনের অর্ধেককাল মূল্যহীন বিলাসিতা ও নিদ্রায় অমূল্য । জীবন ব্যয় করিয়াছেন। বর্তমানে তাহার ইষ্টদেবতা শ্রীকৃষ্ণই শেষ ভরসা। জগতের ত্রাতা তিনি। তাই কবির আশা, জগতের একজন হিসাবে ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি হইতে তিনি বঞ্চিত হইবেন না। ইহাই কবির প্রার্থনা। 

প্রশ্ন ৫। ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি কে? তিনি কোন্ বিশ্বাস থেকে মাধবের শরণাপন্ন হয়েছেন? ‘চতুরানন’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? ‘শেন শমন-ভয়’ কথাটির অর্থ কী ? 

উত্তর : কবি বিদ্যাপতি। কবি বিদ্যাপতি তাঁহার পরম আরাধ্য ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে অর্থাৎ ‘মাধব’কে জগতের ত্রাতা, দয়াশীল, চিরস্থায়ী শাশ্বত ঈশ্বরকে দীনদয়াল কৃপাময় ও করুণাময় রূপে বিশ্বাস করিয়া মাধবের শরণাপন্ন হইয়াছেন। 

প্রশ্ন ৬। টীকা লেখো : (ক) মাধব, (খ) নিধুবন, (গ) বিদ্যাপতি। 

উত্তর : (ক) মাধব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হইল— মা অর্থাৎ পৃথিবী এবং ধরা। ধর অর্থাৎ স্বামী। মাধব হইলেন পৃথিবীর স্বামী। এখানে বিদ্যাপতি তাঁহার পরম আরাধ্য ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে ‘মাধব’ বলিয়া সম্বোধন করিয়াছেন।

(খ) বৃন্দাবনে অবস্থিত একটি বন নিধুবন নামে পরিচিত। রাধাকৃষ্ণের প্রমোদ বিহারের উদ্যান। এইখানে রাধাকৃষ্ণ ক্রীড়াকৌতুক ও আমোদ-প্রমোদে অনেক সময় অতিবাহিত করিয়াছেন। 

(গ) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলি ধারায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান। পিতা গণপতি ঠাকুর। বিদ্যাপতি মিথিলার কবি হইলেও বাংলা কাব্য সাহিত্যকে নানাভাবে প্রভাবিত করিয়াছেন। বিদ্যাপতির পদগুলি ছন্দের ঝংকারে, উপমার গৌরবে সজীব, চঞ্চল ও ঐশ্বর্যময়। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁহার পাণ্ডিত্য অতুলনীয়। চতুর্দশ শতকে জন্ম গ্রহণ করিয়া পঞ্চদশ শতকের তৃতীয় ভাগ পর্যন্ত বিদ্যাপতি জীবিত ছিলেন। তিনি মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি ছিলেন।

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

Leave a Reply