SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-7| আদরিণী

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-7| আদরিণী প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-7| আদরিণী এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-7| আদরিণী

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-7| আদরিণী Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-৩ খ

লেখক পরিচিতি

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় (১৮৭৩- ১৯৩২) বাংলা সাহিত্যে দুইজন প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় নিজ নিজ প্রতিভাবলে বিখ্যাত হইয়াছেন। তাহাদের দুইজনের মধ্যে যিনি বয়সে বড় তিনি কথাসাহিত্যিক। এবং কনিষ্ঠজনের খ্যাতি রবীন্দ্র জীবনীকার হিসাবে। কথাকার প্রভাতকুমারের (১৮৭৩— ১৯৩২) জন্ম বর্ধমান জেলার ধাত্রীগ্রামে। পেশায় তিনি ছিলেন ব্যারিস্টার। হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করিতেন। ছাত্র জীবনেই সাহিত্য রচনার সূত্রপাত। রাধামণি দেবী’ ছদ্মনামে লিখে কুন্তলীন পুরস্কার’ পাইয়াছেন। দীর্ঘদিন ‘মানসী ও মর্মবাণী’ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। তিনি মোট চোদ্দটি উপন্যাস ও শ’খানেক গল্প লিখিয়াছেন। উপন্যাসগুলির মধ্যে ‘নবীন সন্ন্যাসী’, ‘রত্নদীপ’, ‘সতীর পতি’ উল্লেখযোগ্য। চলচ্চিত্রে (সিনেমা) রূপায়িত হইয়াছে কয়েকটি বই। ছোটগল্প, লেখায় তাঁহার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। ‘রসময়ীর রসিকতা, ‘বাস্তুসাপ’, ‘বলবান জামাতা’, ‘মাস্টারমশাই’ প্রভৃতি গল্প মধুর হাস্যরস ও সাবলীলতার জন্য বাংলা সাহিত্যের শাশ্বত সম্পদরূপে স্বীকৃতি লাভ তাঁহার গল্পের বহু কথা, যেমন— বেজেদা বলিতে ইগনোরেন্ট প্রবাদ বাক্য আছে।

প্রশ্ন ১। অর্থ লেখো : পগ – পাগড়ি; তদারক – দেখভাল, দেখাশোনা; প্রবৃত্ত— রত, ব্যস্ত, পদব্রজে — পায়ে হেঁটে বদয়াগী — বদ মেজাজি, অল্পেতেই যার রাগ হয়: বচনা- ঝগড়া, ফিস—মাশুল, ক্ষিপ্ত — অতিশয় রাগান্বিত, খেপে ওঠা; স্ফীত — ফুলে ওঠা; তত্ত্বং- সেই সেই; বিপত্নীক—যার পত্নী গত হয়েছে, ধামা— বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি সরঞ্জাম; আলোচাল—আতপচাল; কদলীকাণ্ড—— কলাগাছের শাখা, ডাল; প্রাঙ্গণ — উঠোন, মাঠ; রাজসমীপে– রাজার নিকটে; কদর — সমাদর, চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা: শামলা—আদালতের পোশাক বিশেষ; তর্জ্জমা — অনুবাদ, ভাষান্তর: কায়ক্রেশে—শরীরকে কষ্ট দিয়ে: সলান— পাষানো; কিঞ্চিৎ—সামান্য; অর্থাগম – আয়, রোজগার; পথিপার্শ্ব–পথের পাশে অবস্থিত; আটিয়া — গেঁথে দেওয়া, টাঙিয়ে দেওয়া; খাই – লোভ, আকাঙ্ক্ষা: নির্লিপ্ত – লিপ্ত নয় যে, উদাসীন, ফুলুট—ইংরাজি Flute, অর্থাৎ বাঁশি, খদ্দের খরিদদার, ক্রেতা, প্রত্যূষে- প্রাতঃকালে, ঊষা লগ্নে, সকালবেলার আগেকার সময়, ভোরবেলা: গাত্রোত্থান—গা, তোলা,

শব্দা ত্যাগ উদ্বেল যা বেলাভূমি অতিক্রম করে, ব্যাকুল, অপনীত—দূরীভূত; যথাবিদ্যা— যতখানি জ্ঞান আছে, বিদ্যানুসারে; প্রোথিত—পুঁতে দেওয়া; অবিলম্বে—বিলম্ব না করে; নবজলধৰৰণ—নব মানে নতুন, জলধর কথার অর্থ মেঘ, বর্ণ মানে রং, নতুন মেঘের রং; পতিত—পড়ে যাওয়া, পতন; নিশ্চল চল, চলতে পারে না; নিষ্পন্দ— স্পন্দনহীন, নড়চড় নেই। 

প্রশ্নাবলী

(ক) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। নগেন বাবুর পেশা কী?

উত্তর : নগেন বাবুর পেশা ডাক্তারি।

প্রশ্ন ২। জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের পেশা কী? 

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের পেশা মোক্তারি। 

প্রশ্ন ৩। কুঞ্জবিহারীবাবু পেশায় ছিলেন______ । (শূন্যস্থান পূর্ণ করো)

 উত্তর : উকিল। 

প্রশ্ন ৪। মেজোবাবু কে?

উত্তর : মেজোবাবু হইলেন জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরী। 

প্রশ্ন ৫। জয়রামের বয়স কত? 

উত্তর : জয়রামের বয়স ৫০ বৎসর। 

প্রশ্ন ৬। জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের বড় নাতনী কল্যাণীর বিবাহের জন্য সর্বমোট কত টাকার প্রয়োজন ছিলো?

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের বড় নাতনী কল্যাণীর বিবাহের জন্য আড়াই হাজারহাতি চাহিয়া পাঠাইলেন। টাকার প্রয়োজন ছিলো।

 প্রশ্ন ৭। জয়রাম কার কাছে হাতি চেয়ে পাঠালেন?

উত্তর : জয়রাম জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরীর কাছে হাতি চাহিয়া পাঠাইলেন।

প্রশ্ন ৮। জয়রামের আদি নিবাস কোথায় ছিল? 

উত্তর : জনরামের আদি নিবাস ছিল যশোর জেলায়। 

প্রশ্ন ১। জয়রামের গাভীটির কী নাম ছিল ? 

উত্তর : জয়রামের গাভীটির নাম ছিল মঙ্গলা। 

প্রশ্ন ১০। কার নামে জয়রাম তাঁর গোরুর বাছুরের নাম রেখেছিলেন?

উত্তর : জনৈক ডেপুটিবাবুর নামে জয়রাম তাঁহার গোরুর বাছুরের নাম রাখিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ১১। জয়রাম কার কাছ থেকে হাতী কিনেছিলেন? তার দাম কত ছিলো? 

উত্তর : জয়রাম উমাচরণ লাহিড়ির কাছ থেকে হাতী কিনিয়াছিলেন। তাহার নাম ছিল (HSLC 2019) দুই হাজার টাকা। 

প্রশ্ন ১২। উমাচরণ লাহিড়ির বাসস্থান কোথায় ? 

উত্তর : উমাচরণ লাহিড়ির বাসস্থান বীরপুরে। 

প্রশ্ন ১৩। চৈত্রসংক্রান্তির মেলা কোথায় হয়? 

উত্তর : বামুনহাটে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা হয়। 

প্রশ্ন ১৪। আদরিণী কে?

উত্তর : জয়রাম মোক্তারের পালিত হাতিটির নাম আদরিণী। 

প্রশ্ন ১৫। “না হুজুর; আমি উকিল নহি— আমি একজন মোক্তার মাত্র।” বক্তা কে? কাকে তিনি একথা বলেছেন ? 

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায় জজকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলিয়াছেন। 

প্রশ্ন ১৬। ‘হাতি তোর গোদা পায়ে নাতি’— এখানে নাতি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : হাতি তোর গোদা পায়ে নাতি – এখানে ‘নাতি’ শব্দের অর্থ লাথি।

প্রশ্ন ১৭। জয়রামের কয় ছেলে?

 উত্তর : জয়রামের তিনটি ছেলে। 

প্রশ্ন ১৮। ‘আদরিণী’ গল্পে উল্লিখিত মেলা দুইটির নাম লেখো।

উত্তর : ‘আদরিণী’ গল্পে উল্লিখিত মেলা দুইটির নাম হইল বামুনহাটের মেলা এবং রসুলগঞ্জের মেলা।

প্রশ্ন ১৯। হাতি তোর— পায়ে । (শূন্যস্থান পূর্ণ কারো)

 উত্তর : গোদা, নতি।

(খ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

প্রশ্ন ১। জয়রাম মুখোপাধ্যায় কে? তাঁর স্বভাবের পরিচয় দাও।

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায় একজন মোক্তার। তাঁহার আদি নিবাস ছিল যশোর। এককালে জয়রাম বদমেজাজি লোক ছিলেন। অতি অল্প কারণেই তাহার তীব্র অভিমান উপস্থিত হয় যদিও তাহার হৃদয়খানি স্নেহে বন্ধু বাৎসল্য কুসুমের ন্যায় কোমল। 

প্রশ্ন ২। ‘যাবার সময় আমি তোর সঙ্গে দেখাও করলাম না সে কি তোকে – অনাদর করে? না মা, তা নয়। – বক্তা কে? কার উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেছেন? 

উত্তর ঃ বক্তা বৃদ্ধ জয়রাম মুখোপাধ্যায়। তাহার পোষা হাতি আদরিণীর উদ্দেশ্যে একথা বলিয়াছেন।] 

প্রশ্ন ৩। জয়রাম হাতি চেয়ে পাঠালেন কেন ?

উত্তর : জয়রাম হাতি চাহিয়া পাঠাইলেন এই জন্য যে জমিদার বাবুর মেয়ের বিবাহের নিমন্ত্রণ রক্ষা করিবার নিমিত্ত এবং দুর্গম পথের কষ্ট যাহাতে লাঘব হয়। 

প্রশ্ন ৪। জয়রামের প্রথমদিকের জীবন যাপন কেমন ছিল?

উত্তর : জয়রামের প্রথম দিকের জীবন ছিল নানা প্রতিকূলতায় পূর্ণ। কোন রকমের সা-সম্পত্তি ছিল না। একটি ক্যাম্বিসের ব্যাগ, একটি পিতলের ঘটি মাত্র সম্বল ছিল। মাসিক তের সিকায় একটি ভাড়া করিয়া কোনক্রমে দিন গুজরান করিতেন।

 প্রশ্ন ৫। কার নামে এবং কেন জয়রাম তাঁর বাছুরের নাম রেখেছেন? 

উত্তর : একটি ডেপুটির নামে জয়রাম তাঁহার বাছুরের নাম রাখিয়াছিলেন। কারণ ডেপুটির সঙ্গে জয়রামের বচসা বাঁধিয়াছিল। সেই ক্ষোভে জয়রাম তাঁহার বাছুরের নাম রাখিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৬। কী কারণে আদালতে জয়রাম মোক্তারের জরিমানা হয়েছিল?

উত্তর ঃ একদিন ডেপুটির সামনে এজলাসে তর্ক করিতেছিলেন। জয়রামের কথায় ডেপুটি সায় দিচ্ছিলেন না। ফলে রাগের মাথায় জয়রাম বলিলেন “আমার স্ত্রীর যতটুকু আইন জ্ঞান আছে, হুজুরের দেখছি তাহাও নাই।” এইভাবে জয়রাম আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হইলেন এবং তাঁহার বিলক্ষণ পাঁচ টাকা জরিমানা হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৭। পত্রবাহক ভৃত্য হাতি সম্পর্কে কী খবর এনেছিল? 

উত্তর : পত্রবাহক ভৃত্য হাতি সম্পর্কে এই খবর আনিয়াছিলেন যে জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির দেওয়ানকে যে পত্র প্রদান করিলে দেওয়ান সেই পত্র জমিদারের নিকট প্রেরণ করেন। এবং জমিদার স্বয়ং বলিয়া পাঠাইলেন যে বিবাহের নিমন্ত্রণ যখন করা হইয়াছে তখন আবার হাতি কেন, গোরুর গাড়িতেই আসিবার প্রস্তাব করিলেন। 

প্রশ্ন ৮। “তাই ত। সব মাটি? কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? 

উত্তর : ডাক্তার নগেন্দ্রবাবু এই উক্তি করিয়াছেন। জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির মেয়ের বিবাহের নিমন্ত্রণ পাইয়া তিন বন্ধু যখন নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে যাইবার বন্দোবস্ত করিতেছিলেন। তখন জয়রাম তাহার নিজের মক্কেল নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির কাছে বিবাহে উপস্থিত হইবার জন্য হাতি চাহিয়া পাঠাইয়াছিলেন। ইহাতে জয়রামের দুই বন্ধু আশান্বিত হইয়াছিলেন। কিন্তু যখন শুনিলেন জমিদার গোরুর গাড়ি করিয়া যাইবার পরামর্শ দিয়াছেন, তখন বুঝিতে পারিলেন যে সমস্তই মাটি করিয়াছে। বিবাহে বুঝি যাওয়া আর হইয়া উঠিবে না। 

প্রশ্ন ৯। পরের জিনিস, জোর ত নেই।’ উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে তিনি এই উক্তি করেছেন? 

উত্তর : জয়রামের জনৈক বন্ধু এই উক্তি করিয়াছেন। [M.Q.] জয়রাম বন্ধুদের কাছে বড় গলা করিয়া বলিয়াছিলেন যে জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরি, তাহার সুদীর্ঘকালের মক্কেল, সুতরাং বিবাহের নিমন্ত্রণ রক্ষার জন্য তাঁহার কাছে হাতি চাহিয়া

পাঠাইলে সকল বন্ধু মিলিয়া বিবাহে উপস্থিত হইতে পারিবেন। এবং বিবাহের আনন্দ উপভোগ করিতে পারিবেন। কিন্তু পত্রবাহক আসিয়া যখন জানাইল যে হাতি পাঠাইবেন না, তখন সবান্ধবে জয়রাম মর্মাহত হইয়াছেন। এই প্রসঙ্গে জয়রামের জনৈক বন্ধু বলিলেন, গোরুর গাড়িতেই না হয় যাওয়া যাক। পরের জিনিস, না দিলে তো আর করিবার কিছুই নাই। কিন্তু জয়রাম বন্ধুর কথায় সায় দিলেন না। তাঁহার অভিমানে ঘা লাগিয়াছিল। 

প্রশ্ন ১০। জয়রাম কোথা থেকে ক্রয় করলেন এবং কেন? 

উত্তর : জয়রাম বীরপুরের জমিদার উমাচরণ লাহিড়ির কাছ হইতে হাতি ক্রয় করিলেন। জয়রাম হাতি ক্রয় করিলেন মূলতঃ এই কারণে যে তাহারই সুদীর্ঘ কালের মক্কেল নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরি তাঁহার মেয়ের বিবাহে উপস্থিত হইবার জন্য একটি হাতি দিয়া পাঠাইলেন না। ফলে বন্ধুবর্গের নিকট তিনি লজ্জিত হইয়াছেন। সেই লজ্জা হইতে মুক্তি পাইবার জন্য এবং নিজস্ব আত্মাভিমান রক্ষার জন্য জয়রাম হাতি কিনিলেন। এবং জমিদারের মেয়ে বিবাহের নিমন্ত্রণ রক্ষা করিলেন। 

প্রশ্ন ১১। জয়রামের বর্তমান নিবাস কোথায় ? 

উত্তর : জয়রামের বর্তমান নিবাস চৌধুরি পাড়ায়। 

প্রশ্ন ১২। ‘আপনি জ্ঞানী লোক, মায়া পরিত্যাগ করুন।’ – উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে? 

উত্তর : উক্তিটি জয়রামের বন্ধুবর্গের। উপার্জন এবং অর্থাভাবে জয়রামের সংসার চলিতেছিল না। এদিকে তাঁহার নাতিনীরা। বিবাহযোগ্যা হইয়া উঠিয়াছে। বড় নাতিনীর বিবাহের সম্বন্ধ আসিতেছে। তাহার বিবাহের সমুদায় ব্যয় নির্বাহ হইবার মতো অর্থ জয়রামের হাতে না থাকায় জয়রাম অতিশয় চিন্তিত হইয়া পড়িয়াছিলেন। এই প্রসঙ্গে তাহার বন্ধুগণ পরামর্শ এবং প্রবোধ দিতে গিয়া এই উদ্ভি করিয়াছেন।

প্রশ্ন ১৩। আদরিণী কে? আদরিণীকে নিয়ে জয়রাম কীরূপ সমস্যায় পড়েছিলেন? 

উত্তর : আনরিণী হইল জারামের পালিত হাতি। এই হাতি জয়রামের পরিবারের অতি আদরের। বৃদ্ধ বয়সে জয়রামের যখন অর্থ উপার্জন শূন্যে আসিয়া দাঁড়াইল, তখন হাতির মতো একটি জন্তু প্রতিপালন করা বিলাসিতা। জয়রামের পক্ষে তাহা কষ্টসাধ্য বোধ হইতে লাগিল। তাহার সাংসারিক চিত্তা দ্বিগুণ বাড়িয়া গেল। তখন বন্ধুগণের পরামর্শে জয়রাম বুকে পাথর বাধিয়া আদরিণীকে বিক্রি করিয়া দিবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। ঠিক হইল চৈত্র মাসে বামুনহাটের মেলায় আদরিণীকে বিক্রির জন্য লইয়া যাওয়া হইবে। কিন্তু সেই মেলায় আদরিণীর জন্য কোন উপযুক্ত গ্রাহক পাওয়া গেল না। তাই রসুলগঞ্জের হাটে লইয়া গেল। কিন্তু যাত্রাপথে হাতিটি অসুস্থ হইয়া পড়ে এবং বেঘোরে প্রাণ হারায়। সেই

মৃত হাতিকে সমাধিস্থ করিতে গিয়া জয়রামের প্রচুর অর্থব্যয় ঘটে। অর্থ সমাগমের জন্য। যে আদরের হাতিকে বিক্রি করা হইবে স্থির হইয়াছিল সেই হাতির মৃত্যুতে প্রচুর টাকা ব্যয় হইয়া জয়রাম মর্মান্তিকভাবে বিপদগ্রস্ত হইলেন।

প্রশ্ন ১৪। কল্যাণী কে? কত তারিখে বিয়ে ঠিক হয়েছিল? তার বিবাহের জন্য কত টাকার প্রয়োজন ছিল ? 

উত্তর : কল্যাণী জয়রামের জ্যৈষ্ঠ নাতনী। ১০ জ্যেষ্ঠ তাঁহার বিবাহের দিন ধার্য হইয়াছিল। নাতনীর বিবাহের জন্য ২৫০০ টাকার প্রয়োজন ছিল। 

(গ) দীর্ঘ উত্তর লেখো : 

প্রশ্ন ১। জয়রামের চরিত্র বর্ণনা করো।

উত্তর : জয়রাম স্নেহপ্রবণ, আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন অভিমানী লোক। কেহ তাঁহাকে কোন বিষয়ে হেয় জ্ঞান করিতে চাহিলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতিবাদ করেন। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। কোন রকম সমস্যায় তাঁহাকে পেছোপা হইতে দেখা যায় নাই। জয়রামের সংসারনিষ্ঠা ও কর্তব্য পালন অত্যন্ত শ্রদ্ধাজনক। তিনি শেষ জীবনে অশেষ অর্থকষ্টে পড়িলেও জ্ঞান হারান নাই। মানুষের প্রতি তাঁহার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রহিয়াছে। এমন কী পালিত জীব হাতির প্রতি তাঁহার যে স্নেহ-প্রীতি প্ৰকাশ পাইয়াছে তাহা চিরস্মরণীয়। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী না হইলেও তাঁহার চরিত্রে কঠোরতা এবং কোমলতার অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। দুঃখে তিনি বিলাপ করিলেও অধীর হইয়া পড়েন না। ব্যথিত অন্তরে সকল সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। তাঁহার চরিত্রে দৃঢ় ব্যক্তিত্বের প্রকাশ আছে। এবং সেই ব্যক্তিত্ব পিতৃসুলভ ভালোবাসায় পূর্ণ। তিনি কখনো কাহাকেও আহত করেন নাই। কিন্তু অন্যায়-অবিচার দেখিলে প্রতিবাদও করিতে বিমুখ হন না। জীবনের নানা সমস্যার সম্মুখীন হইয়াও তিনি দিশেহারা হননি।

 প্রশ্ন ২। জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের জীবন সম্পর্কে যা জান লেখো। 

উত্তর : জয়রামের জীবন বড়ই সংঘাতপূর্ণ। জীবনের প্রথমদিকে তিনি যেমন কষ্ট। স্বীকার করিয়াছেন শেষকালেও তাহাকে প্রভূত দুঃখ এবং বেদনার সম্মুখীন হইতে হইয়াছে। প্রথম জীবনে তাঁহার সম্বল বলিতে কিছুই ছিল না। ছেঁড়া ক্যাম্বিসের ব্যাগ ও পিতলের ঘটি মাত্র সম্বল করিয়া দেশান্তর হইয়াছেন। এবং মাসিক পাঁচসিকে মাত্র ভাড়া দিয়া নিজে রান্না করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিয়াছেন। জীবনের মধ্য সময়ে তাঁহার যথেষ্ট প্রতাপ ও সংগতি সঞ্চয় হইলেও তিনি কখনোই অভিমান ভোলেন নাই। তাই যে কেহই তাহার সহিত বিতর্কে লড়িতেন না। তিনি অত্যন্ত প্রশ্ন যুক্তিবাদী সৎ চরিত্রের মানুষ ছিলেন। জীবনে প্রচুর রোজগার করিলেও তাহার সেই অর্থে পারিবারিক শান্তি আসেনি। কারণ তাহার ছেলেরা কেহই জীবনে সংগতি লাভ করিতে পারে নাই। ইহা তাহার ব্যক্তিগত জীবনের বড়ই অপ্রাপ্তি। তিনি কর্মপটু স্নেহপ্রবণ পিতা হিসাবে সকলের সম্ভ্রম আদায় করিতে সমর্ত হইয়াছিলেন। যদিও জীবনের শেষ দিকে তাহার সাংসারিক উপার্জনহীনতা তাহাকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিয়াছিল। তিনি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ন্যায় নাতিনীর বিবাহ দিতে গিয়া বড়ই লাছাড়ে পড়িয়া যান। নিজের সুদীর্ঘ কাল পালিত হাতি আদরিণীকে বিক্রি করিতে গিয়া মানসিক ও আর্থিক বেদনায় লাঞ্ছিত হইয়াছেন। তবুও স্বোপার্জিত অভিমান ও বাৎসল্যের প্রতি তাঁহার আপ্রাণ নিষ্ঠা আমাদের বিস্মিত করে।

 প্রশ্ন ৩। হাতি দিলে না। হাতি দিলে না।’ – উক্তিটি কার? প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর : উক্তিটি জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। 

জয়রাম ছিলেন জমিদার নরেশচন্দ্র মহাশয়ের বাঁধা মোক্তার। তিনি সুদীর্ঘকাল জমিদারের সেবা করিয়াছেন। তাই তাঁহার স্বাভাবিকভাবেই মনে হইয়াছিল নরেশচন্দ্র মহাশয়ের মেয়ের বিবাহে উপস্থিত হইবার নিমিত্ত হাতি চাহিয়া পাঠাইলে অবশ্যই বিমুখ হইবেন না। তাই বন্ধুদের সঙ্গে কথার ছলে জমিদারবাবুকে লিখিয়া পাঠাইলেন। কিন্তু জমিদার তাঁহাকে বিমুখ করিলেন। এবং হাতি পাঠাইতে রাজি হইলেন না। ইহাতে জয়রাম অতিশয় বিস্মিত এবং মর্মাহত হইয়া এই উক্তি করিয়াছেন। ব্যাপারটা এই রকম নহে যে ইহাতে তাঁহার মাথায় আকাশ ভাঙিয়া পড়িয়াছে। শুধু এই কথা তাঁহার আঁতে লাগিয়াছিল যে যাহার তিনি নিত্য উপকার সাধন করিয়া আসিতেছেন, তিনি এইভাবে তাঁহাকে অপদস্থ করিতে পারেন, এইটি তাহার বুকে বাজিয়াছিল।

 প্রশ্ন ৪। — এ বিবাহে আমার যাওয়াই হবে না— উক্তিটি কার? এখানে কার বিবাহের কথা বলা হয়েছে? বক্তা সেই বিবাহে যেতে চান না কেন? 

উত্তর : উক্তিটি জয়রামের। এইখানে জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির মেয়ের বিবাহের কথা বলা হইয়াছে। বক্তা জয়রাম জমিদার নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির মেয়ের বিবাহে যাইতে চাহেন না। কেন না, তিনি হাতির পিঠে চড়িয়া যাইবার বড়াই করিয়াছিলেন বন্ধুদের নিকট, কিন্তু তাঁহার সেই বড়াই ধোপে টিকে নাই। জমিদার নরেশচন্দ্র তাঁহাকে গোরুর গাড়ি করিয়া যাইতে পরামর্শ দিয়াছেন। ইহাতে বন্ধুমহলে জয়রাম কিঞ্চিৎ লজ্জিত হইয়াছেন। তাই হাতি ছাড়া গোরুর গাড়িতে তিনি বিবাহের নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে যাইবেন না বলিয়া মনস্থির করিলেন। 

প্রশ্ন ৫। মেজবাবুর মেয়ের বিয়েতে যাওয়ার জন্য জয়রাম কী উপায় করলেন এবং কেন ? 

উত্তর : মেজবাবু নরেশচন্দ্র রায়চৌধুরির মেয়ের বিবাহে উপস্থিত হইবার জন্য জয়রাম প্রথমে মেজবাবুর নিকট হাতি চাহিয়া পাঠাইলেন। তাহার অন্তরে এই আশা বলবৎ ছিল যে মেজবাবু তাঁহার দীর্ঘদিনের মক্কেল। সুতরাং এই অনুরোধ রক্ষা করিবেন। কিন্তু কার্যত তাহা না করায় বন্ধুস্থলে জয়রাম হেনস্থা হইলেন। তাই আত্মগত অভিমানে অতিষ্ঠ জয়রাম লোক নিয়োগ করিলেন, কোথায় হাতি পাওয়া যায় তাহার সন্ধান করিবার জন্য। শেষ পর্যন্ত বীরপুরের জমিদার উমাচরণ লাহিড়ির নিকট হইতে একটি হাতি ক্রয় করিলেন এবং মেজবাবুর মেয়ের বিবাহের নিমন্ত্রণ রক্ষা করিলেন।

জয়রাম ছিলেন একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি। কেহই তাঁহার সেই অভিমানে আঘাত করিলে তিনি তাহা সহজে গ্রহণ করিতে পারিতেন না। তাহার সমুচিত জবাব দিবার জন্য তিনি সচেষ্ট হইয়া উঠিতেন এবং একটা কিছু প্রতিবিধান করিয়া আহ্মতুষ্টি লাভ করিতেন।

প্রশ্ন ৬। আদরিণী কে? তার আগমনে গ্রামের কী অবস্থা হয়েছিল বর্ণনা করো। 

উত্তর ঃ আদরিণী একটি হাতির নাম। জয়রাম এই বাচ্চা হাতি ক্রয় করিয়া সন্তান স্নেহে দীর্ঘ দিন তাহাকে লালন করিয়াছেন। প্রথম যেদিন হাতিটি জয়রামের বাড়ি আসিল গ্রামে সোরগোল পড়িয়া গেল। তাঁহার পরিবারেও হাতিকে লইয়া একটা মহা ব্যস্ততা দেখা দিল। হাতি বাড়িতে আসিবামাত্রই পাড়ার তাবৎ বালক আসিয়া বৈঠকখানায় উঠানে ভিড় করিয়া দাঁড়াইল। দুই একজন অশিষ্ট বালক সুর দিয়া বলিতে লাগিল— ‘হাতি তোর গোদা, পায়ে নাতি।’ বাড়ির বালকেরা ইহাতে ক্রুদ্ধ হইয়া অপমান করিয়া তাহাদিগকে বহিষ্কৃত করিয়া দিল।

 অতঃপর হাতি আসিয়া অন্তঃপুরের দ্বারে দাঁড়াইল, তখন জয়রামের জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ একটি ঘটিতে জল লইয়া হাতির চারি পায়ে সেই জল ঢালিয়া দিলেন। মাহুতের ইঙ্গিতে আদরিণী তখন জানু পাড়িয়া বসিল। বড়বধূ তেল-সিন্দুর দিয়া তাহার কপাল রাঙা করিয়া দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘন ঘন শঙ্খধ্বনি বাজিয়া উঠিল। হাতিটি যখন সোজা হইয়া দাঁড়াইল তখন একটি ধামায় করিয়া আলোচাল, কলা ও অন্যান্য মাঙ্গল্য দ্রব্য তাহার সম্মুখে রাখা হইল। হাতি শুঁড় দিয়া তাহার কতক অংশ খাইল কতক ছিটাইয়া ফেলিল। এইরূপে বরণ সম্পন্ন হইল।

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

প্রশ্ন ৭। জয়রামের বাড়িতে আদরিণীকে কীরূপে আপ্যায়ন করা হয়েছিল?

উত্তর : আদরিণী একটি হাতির নাম। জয়রাম এই বাচ্চা হাতি ক্রয় করিয়া সন্তান স্নেহে দীর্ঘ দিন তাহাকে লালন করিয়াছেন। প্রথম যেদিন হাতিটি জয়রামের বাড়ি আসিল গ্রামে সোরগোল পড়িয়া গেল। তাঁহার পরিবারেও হাতিকে লইয়া একটা মহা ব্যস্ততা দেখা দিল। হাতি বাড়িতে আসিবামাত্রই পাড়ার তাবৎ বালক আসিয়া বৈঠকখানায় উঠানে ভিড় করিয়া দাঁড়াইল। দুই একজন অশিষ্ট বালক সুর দিয়া বলিতে লাগিল— ‘হাতি তোর গোদা, পায়ে নাতি।’ বাড়ির বালকেরা ইহাতে ক্রুদ্ধ হইয়া অপমান করিয়া তাহাদিগকে বহিষ্কৃত করিয়া দিল।

 অতঃপর হাতি আসিয়া অন্তঃপুরের দ্বারে দাঁড়াইল, তখন জয়রামের জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ একটি ঘটিতে জল লইয়া হাতির চারি পায়ে সেই জল ঢালিয়া দিলেন। মাহুতের ইঙ্গিতে আদরিণী তখন জানু পাড়িয়া বসিল। বড়বধূ তেল-সিন্দুর দিয়া তাহার কপাল রাঙা করিয়া দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘন ঘন শঙ্খধ্বনি বাজিয়া উঠিল। হাতিটি যখন সোজা হইয়া দাঁড়াইল তখন একটি ধামায় করিয়া আলোচাল, কলা ও অন্যান্য মাঙ্গল্য দ্রব্য তাহার সম্মুখে রাখা হইল। হাতি শুঁড় দিয়া তাহার কতক অংশ খাইল কতক ছিটাইয়া ফেলিল। এইরূপে বরণ সম্পন্ন হইল।

 

প্রশ্ন ৮। …ওদের একে একে বিক্রী করে ফেল।’ —উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করা হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর : উক্তিটি জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। 

জয়রাম বৃদ্ধ বয়সে অর্থাভাবে পড়িলেন। তাহার তিন ছেলেই অকর্মার ধাড়ি। ফলে সংসারের ব্যয় নির্বাহ হইবার পক্ষে অর্থের অনটন দেখা দিল। এদিকে জয়রামের বড় নাতিনী কল্যাণীর বিবাহের আলাপ চলিতেছে। অথচ কোনভাবেই অর্থের মংকুলান হয় না। তাই জয়রাম সাংসারিক চিন্তায় বিমর্ষ হইয়া পড়িলেন। এমতাবস্থায় জয়রামের বন্ধুবর্গ জয়রামকে প্রবোধ ও পরামর্শ দিতে গিয়া বলিলেন যে হাতি আদরিণীর বাবদ দৈনিক চল্লিশ টাকা ব্যয় হইতেছে। তাহাকে বিক্রি করিয়া দেওয়াই ভালো। ইহাতে জয়রাম মর্মাহত হইয়া এই উক্তি করিলেন যে তাহার চাইতে তোমরা এইটা বল যে ছেলেপিলে নাতি-নাতিনীদের খাওয়া-পরায় অনেক টাকা ব্যয় হইতেছে, তাহাদের একে একে বিক্রি করিয়া দাও।

প্রশ্ন ৯। ‘যেনো হারাধন ফিরিয়া পাওয়া গিয়াছে— উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

 উত্তর : সাংসারিক অর্থকষ্ট হইতে নিস্তার পাইবার জন্য যখন জয়রাম বন্ধুদের পরামর্শ অনুসারে আদরিণীকে বিক্রি করিয়া দিবার মনস্থ করিলেন তখন তাহার পরিবারে একটা বেদনা বিমর্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইল। সকলে সকাতর চিত্তে আদরিণীকে বিদায় করিলেন। বাড়ির মেয়েরা, বালক-বালিকাগণ সজল নেত্রে বাগানে হাতির কাছে গিয়া দাড়াইয়া আছে। শেষবারের মতো আদরিণীকে এই বাড়ির আহার-পান করানো হইতেছে। তাহার পর তাহাকে বামুনহাটের চৈত্র মেলায় লইয়া যাওয়া হইবে। আদরিণীর বিদায় কালে জয়রাম তাহার গলার নিচে হাত বুলাইয়া ভগ্নকণ্ঠে কহিলেন- যাও মা ঘুরে এসো।” মনের দুঃখে জয়রাম কাতর হইয়া পড়িলেন। 

কিন্তু মেলায় আদরিণী বিক্রি হয় নাই। তাহার উচিত মূল্য কেহ দেয় নাই। ফলে উপযুক্ত খড়িদার না পাওয়ায় আদরিণীকে ঘরে ফিরাইয়া আনা হইল। ইহাতে সকলে অতিশয় আনন্দ লাভ করিল যেন বহুদিনের হারানো ধন ফিরিয়া পাওয়া গিয়াছে। 

প্রশ্ন ১০। ওঁর মুখ দিয়ে ব্রহ্মবাক্য বেরিয়েছে…’ ব্রহ্মবাক্য বলতে – কী বোঝায় ?  কার মুখ দিয়ে এই বাক্য নির্গত হয়েছে? এবং বাক্যটি কী?

উত্তর : ব্রহ্মবাক্য হইল বেদবাক্য। ব্রহ্মার মুখনিঃসৃত বাক্য। যে বাক্য অকাট্য। যাহার হেরফের কদাপি ঘটে না। জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের মুখ দিয়া ব্রহ্মবাক্য বাহির হইয়াছে এইরূপ তাহার বন্ধুগণ মনে করেন। 

জয়রাম এবং তাহার পরিবারে অতি লালিত হাতি আদরিণী। জয়রাম অর্থকষ্টের দায়ে “পডিয়া আদরিণীকে বিক্রি করিয়া দিবেন মনস্থ করিলেন। হাতিটিকে বামুনহাটের চৈত্রমেলায় লইয়া যাওয়া হইবে। বাড়ির সকলে আদরিণীকে শেষ অভ্যর্থনা জানাইয়া আহার পান করাইতেছে। অবশেষে জয়রাম সজল নেত্রে আদরিণীর গলদেশ জড়াইয়া ধরিয়া কহিলেন “যাও মা আদর, বামুনহাটের মেলা দেখে এসো।” এই বাক্যটিকে বন্ধুগণ ব্রহ্মাবাক্য বলিতেছে। কারণ এই যে জয়রাম বলিলেন ‘দেখে এসো’ তাই নাকি হাতিটি বিক্রি না হইয়া আবার তাহার বাড়িতে ফিরিয়া আসিয়াছে।

প্রশ্ন ১১। ‘আজ আর বৃদ্ধ তাহার কাছে গিয়া বিদায় সম্ভাষণ করিতে পারিলেন না।’ —বৃদ্ধটি কে? তিনি কাকে বিদায় সম্ভাষণ করতে পারলেন না এবং কেন? 

উত্তর : বৃদ্ধটি জয়রাম মুখোপাধ্যায়। তিনি তাঁহার পালিতা হাতি আদরিণীকে বিদায় সম্ভাষণ জানাইতে পারিলেন না।

 আদরিণী হইল জয়রাম ও তাঁহার পরিবারের সকলের আদরের ধন। সকলে তাহাকে সবিশেষ যত্নে লালন করিয়াছে। তাই আজ এই সংসারের অর্থকষ্ট ঘুচাইতে গিয়া যখন আদরিণীকে বিক্রি করিয়া দেওয়া একান্ত আবশ্যক হইয়া দাঁড়াইল তখন সকলে দুঃখে মর্মাহত হইল।

 প্রথমবার আদরিণীকে বিক্রি করিবার জন্য বামুনহাটের চৈত্র মেলায় লইয়া যাওয়া হইয়াছিল। সেখানে কোন উপযুক্ত পরিষ্কার পাওয়া যায় নাই বলিয়া আদরিণীকে বাড়িতে ফিরাইয়া আনা হইয়াছে। ইহাতে পরিবারের সকলে সাময়িক আনন্দ লাভ করিয়াছিল। যদিও দিনকতক পরে তাহাকে রসুলগঞ্জের মেলায় লইয়া যাইতে হইবে স্থির হইল। এইবার জয়রাম মনোদুঃখে এতই ভাঙিয়া পড়িয়াছিল যে শেষবারের মতো আর বিদায় সম্ভাষণ জানাইবার মতো তাঁহার সামর্থ্য ছিল না। বিনা সম্ভাষণে আদরিণীকে মেলায় বিক্রির জন্য লইয়া যাওয়া হইল। 

প্রশ্ন ১২। জয়রাম কীভাবে সাংসারিক অচলাবস্থায় পড়লেন ও কীভাবে তা পরিত্রাণের উপায় করলেন বর্ণনা করো। 

উত্তর : জয়রামের সাংসারিক অবস্থা এককালে সচ্ছল ছিল। তিনি আদালতে মোক্তারি থেকে করিয়া প্রচুর অর্থ রোজগার করিয়াছিলেন। কালক্রমে আদালতে তাঁহার পসার কমিয়া গেল। নবাযুগের আধুনিক ইংরাজি শিক্ষিত ডেপুটিগণ পুরোনো জয়রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন না। কারণ জয়রাম ইংরাজি শিক্ষিত উকিলদের সঙ্গে একটা দূরত্ব বজায় রাখিতেন। তিনি ইংরাজি জানিতেন না। এসব কারণে তিনি অবসর গ্রহণ করিলেন। কিন্তু সংসারে তাঁহার সদস্য অধিক ছিল। তাহাদের ভরণ-পোষণের জন্য প্রচুর অর্থব্যয় হইত। পরিণতিতে অল্পকালের মধ্যে জয়রামের অর্থসংকট দেখা দেয়।

এদিকে তাহার বড় নাতিনী কল্যাণীর বিবাহ উপস্থিত হইলে বন্ধুগণ পরামর্শ দিলেন। আদরিণী হাতির বায় মাসে চল্লিশ টাকা। উহাকে বিক্রি করিয়া দিলে নাতিনীর বিবাহ সুসম্পন্ন হইতে পারিবে। বন্ধুগণের পরামর্শ মতো জয়রাম বামুনহাটের চৈত্র মেলায় আদরিণীকে বিক্রি করিয়া অর্থাভাব দূর করিতে সচেষ্ট হইলেন। যদিও তাহার সমুদায় প্রচেষ্টা বিফল হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৩। ‘যত দায় এই ষাট বৎসরের বুড়ারই ঘাড়ে।’ —ষাট বছরের বুড়োটি কে? তিনি কীরূপ দায়ে পড়েছিলেন ?,

উত্তর : ষাট বৎসরের বুড়োটি হইলেন মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়। জয়রামের তিনটি ছেলের একটিও কর্মক্ষম নহে। বড় ছেলেটি নেশা-ভাঙ করিয়া পাশা খেলিয়া ফুলুট বাজাইয়া ফিরে। সংসারে যে তাহার একটি যুবতি কন্যা রহিয়াছে সেদিকে তাঁহার মনোযোগ একেবারে নাই। জয়রামের দুই পুত্রবধূ। দুইজনেই অন্তঃসত্ত্বা। পৌত্রটিও রোগে ভুগিয়া কাহিল হইয়া পড়িয়াছে। তাহার জন্য দৈনিক পাঁচ টাকা ব্যয় হইতেছে। হাতি ভাড়া দিয়া দু-চার টাকা যাহা রোজগার হয় তাহা দিয়া সংসার চলে না। নাতিনী কল্যাণীর বিবাহ স্থির হইয়াছে। তাহার বায় নিদেনপক্ষে তিন হাজার টাকার নিচে নহে। এহেন অবস্থায় সংসারের দায়ভাগ গ্রহণ করে হেন দ্বিতীয় ব্যক্তি জয়রামের পরিবারে নাই। তাই জয়রাম বন্ধুদের কাছে খেদ প্রকাশ করিয়া বলিয়াছেন—যত দায় সব এই বুড়ারই ঘাড়ে।

প্রশ্ন ১৪। ‘দাদামশায় আদর যাবার সময় কাদছিল।’ উক্তিটি কার? ‘আদর’ কে? সে কোথায় যাচ্ছিল? আদর যাবার সময় কাদছিল কেন?

উত্তর : উক্তিটি জয়রামের বড় নাতিনী কল্যাণীর। ‘আদর’ হইল আদরিণী। জয়রামের পোষা হাতির নাম আদরিণী। 

আদর অর্থাৎ আদরিণী জয়রামের বাড়ির পোষা জীব। সে পরিবারে সন্তান স্নেহে লালিত হইয়াছে। এক কথায় আদরিণী সকলের নয়নের মণি ছিল। বৃদ্ধ জয়রাম তাহাকে নিজের কন্যার ন্যায় জ্ঞান করিতেন। এক অচ্ছেদ্য ভালোবাসার বন্ধনে আদরিণী সকলের সঙ্গে জড়াইয়া গিয়াছিল। 

সুতরাং অর্থাভাব দূর করিবার জন্য আদরিণীকে যখন বিক্রি করিবার কথা স্থির হইল, তখন পরিবারের সকলের মন বিষাদে পরিপূর্ণ হইয়া গেল। বামুনহাটের মেলায় লইয়া যাইবার কালে আদরিণীকে বিদায় দিতে গিয়া সকলের করুণ দশা উপস্থিত হইল। চোখের জলে ভাসিয়া জয়রাম আদরিণীকে বিদায় দিলেন। কিন্তু সেই মেলায় আদরিণীর উপযুক্ত খরিদ্দার না জোটায় তাহাকে বাড়ি লইয়া আসা হয়। ইহাতে সকলে উৎফুল্ল হইয়া উঠিয়াছিল বটে। কিন্তু কিছুদিন পরে পুনরায় তাহাকে রসুলগঞ্জের মেলায় পাঠাইয়া দেওয়া হয় বিক্রির জন্য। এইবার যাইবার সময় আদরিণীকে জয়রাম আর বুক বাঁধিয়া বিদায় সম্ভাষণ জানাইতে পারিলেন না। তাঁহার অন্তঃকরণ বেদনায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল। এমন সময় জয়রামের নাতিনী কল্যাণী আসিয়া জানাইল যে আদরিণী চলিয়া যাইবার কালে তাহার চোখ দিয়া জল পড়িতেছিল। এই কথা শুনিয়া বৃদ্ধ জয়রাম আর নিজেকে ধরিয়া রাখিতে পারিলেন না। মাটিতে পড়িয়া বিলাপ করিতে লাগিলেন। 

লোকসমাজে কথিত আছে, এমনকী লোকে বিশ্বাসও করে হাতি অন্তর্যামী। অন্তরের সকল কথা হাতি টের পাইয়া থাকে। জয়রামও তাহা জানিতেন। বোধ করি সে কারণেই আদরিণী তাহার ভালোবাসার আশ্রয় ছাড়িয়া যাইতে চাহে নাই। ফলে তাহার চোখ দিয়া জল গড়াইয়া পড়িতেছিল। 

প্রশ্ন ১৫। জানতে পেরেছে। ওরা অন্তর্যামী কিনা।” – উক্তিটি কার? ওরা বলতে এখানে কাদের কথা বলা হল? এখানে জানার ব্যাপারটা কী বাখ্যা করো। 

উত্তর : উক্তিটি জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। ‘ওরা’ বলিতে এখানে হাতির কথা বলা হইয়াছে। 

ষাট বৎসরের বুড়োটি হইলেন মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়। জয়রামের তিনটি ছেলের একটিও কর্মক্ষম নহে। বড় ছেলেটি নেশা-ভাঙ করিয়া পাশা খেলিয়া ফুলুট বাজাইয়া ফিরে। সংসারে যে তাহার একটি যুবতি কন্যা রহিয়াছে সেদিকে তাঁহার মনোযোগ একেবারে নাই। জয়রামের দুই পুত্রবধূ। দুইজনেই অন্তঃসত্ত্বা। পৌত্রটিও রোগে ভুগিয়া কাহিল হইয়া পড়িয়াছে। তাহার জন্য দৈনিক পাঁচ টাকা ব্যয় হইতেছে। হাতি ভাড়া দিয়া দু-চার টাকা যাহা রোজগার হয় তাহা দিয়া সংসার চলে না। নাতিনী কল্যাণীর বিবাহ স্থির হইয়াছে। তাহার বায় নিদেনপক্ষে তিন হাজার টাকার নিচে নহে। এহেন অবস্থায় সংসারের দায়ভাগ গ্রহণ করে হেন দ্বিতীয় ব্যক্তি জয়রামের পরিবারে নাই। তাই জয়রাম বন্ধুদের কাছে খেদ প্রকাশ করিয়া বলিয়াছেন—যত দায় সব এই বুড়ারই ঘাড়ে।

প্রশ্ন ১৬। আদরিণীর বিদায় পর্বে জয়রাম কী বলে মনকে প্রবোধ দিয়েছিলেন? 

উত্তর : আদরিণীকে জয়রাম অতিশয় ভালোবাসিতেন। কন্যা স্নেহে তিনি এই হাতিটিকে লালন করিয়াছিলেন। তাই তাহার বিদায়কালে জয়রামের মন করুণায় ভারাক্রান্ত হইয়া উঠিয়াছিল। তাই তিনি মনকে এই বলিয়া প্রবোধ দিয়াছিলেন যে যাইবার সময় তোর সহিত একবার দেখাও করিলাম না। সে তোকে অনাদর করিয়া নয়। তুই তো মা অন্তর্যামী। আমার অন্তরের কথা ভালোই জানিস। আমার মনের কষ্টটা কি বুঝাইতে পারি নাই। খুকির বিবাহ হইয়া যাক। তারপর তুই যাহাদের বাড়ি যাইবি, সেইখানে আমি গিয়া তোকে দেখিয়া আসিব। তোর জন্য সন্দেশ লইয়া যাইব। রসগোল্লাও নিব। যতদিন আমি বাঁচিয়া থাকিব, তোকে কখনোই ভুলিয়া যাইতে পারিব না। সেই কথা কি বুঝিতে পারিস নাই। তোকে কি আমি কোনদিন ভুলিতে পারি? মাঝে মাঝে গিয়া তোকে আমি দেখিয়া আসিব। তুই মনে কোন দুঃখ বা অভিমান করিস না। এই বলিয়া জয়রাম নিজেকে নিজে সান্ত্বনা দিলেন।

প্রশ্ন ১৭। ব্রাহ্মণের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হইল।’ – এখানে ব্রাহ্মণ কে? উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর : এইখানে ব্রাহ্মণ হইলেন জয়রাম মুখোপাধ্যায়। 

জয়রাম সাংসারিক কর্মে অর্থাভাবে বড়ই লাচাড়ে পড়িয়া যান। তাঁহার অর্থাভাব তাঁহাকে চিন্তিত করিয়া তুলিয়াছে। কোনভাবেই তিনি কোন সুরাহা করিয়া উঠিতে পারিতেছিলেন না। তাঁহার হাতি আদরিণীকে তিনি ভাড়ার কাজে লাগাইলেন। তবুও কোন সুরাহা হইল না। বড় নাতিনীর বিবাহের দিন ধার্য হইয়াছে। তাহার জন্য তিন হাজার টাকা চাই। পৌত্র অসুখে পড়িয়া প্রচুর অর্থব্যয় হইতেছে। এদিকে দুই পুত্রবধূ সন্তানসম্ভবা। তাহাদের জন্য অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু ছেলেরা সকলেই নিষ্কর্ম এবং অপদার্থ। তাই জয়রাম কোন দিশা না পাইয়া বন্ধুদের পরামর্শে তাঁহার আদরের হাতিটি বিক্রি করিয়া দিবার জন্য মনস্থির করিলেন। হাতি বামুনহাটের চৈত্রমেলায় উপযুক্ত খরিদ্দারের অভাবে বিক্রি না হইলে তাহাকে রসুলগঞ্জে মেলার হাটে পাঠাইয়া দেওয়া হইল। সেই অবধি বাড়ির সকলের সঙ্গে বৃদ্ধ নিজেও মনোদুঃখে কাতর হইয়াছিলেন। এমন সময় খবর আসিল যে আদরিণী পথে অসুস্থ হইয়া আর চলিতে পারিতেছে না। তাহার চিকিৎসার জন্য মাহুত যথাবিদ্যা চেষ্টা করিয়া বিফল হইয়াছে। বোধকরি হাতির পেটে ব্যথার সঞ্চার হইয়াছে। সে শুঁড় তুলিয়া চিৎকার করিয়া উঠে। সম্ভবতঃ আর বাঁচিয়া উঠিবে না। যদি এই অবস্থায় পথমধ্যে মরিয়া যায় তাহা হইলে প্রোথিত করিবার জন্য নিকটের জমি বন্দোবস্ত করিতে হইবে, তাহার জন্য অর্থের প্রয়োজন। এই সংবাদ পাইয়া বৃদ্ধ জয়রামের মাথায় যেন আকাশ ভাঙিয়া পড়িল। মনে হইল যেন তাহার সমস্ত সংসার ছারখার হইয়া গেল। 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। আদরিণীকে কোন হাটে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?

উত্তর : আদরিণীকে বামুনহাটে বিক্রি করিতে লইয়া যাওয়া হইয়াছিল। 

প্রশ্ন ২। ‘মৃত্যুঞ্জয়’ কে ছিলেন?  

উত্তর : শ্যামাপদের বড় ছেলে। 

প্রশ্ন ৩। “আদরিণী” গল্পে একজন ডাক্তারের উল্লেখ আছে। তাঁর নাম কী? জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের পেশা কী ছিল? 

উত্তর ঃ ডাক্তার বাবুর নাম ছিল নগেন। জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের পেশা ছিল মোক্তারি

প্রশ্ন ৪। জয়রাম কার কাছে হাতি চেয়ে পাঠিয়েছিলেন? 

উত্তর : তিনি জমিদার নরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরির কাছে হাতি চাহিয়া পাঠাইয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৫। জয়রাম মুখোপাধ্যায় কোন পাড়ায় বাস করতেন?

উত্তর : চৌধুরিপাড়ায়। 

প্রশ্ন ৬। কল্যাণী কে? 

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের পৌত্রী বা নাতনী। 

প্রশ্ন ৭। ‘পীরগঞ্জের বাবুদের বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ পেয়েছি’ – এখানে কে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন? পীরগঞ্জের বাবু কে ? 

উত্তর : নগেন ডাক্তার ও উকিল কুঞ্জবিহারী নিমন্ত্রণ পাইয়াছেন। পীরগঞ্জের বাহু হইলেন নরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরি।

প্রশ্ন ৮। আজ বিশ বছর ধরে তাদের এস্টেটের বাঁধা মোক্তার?’ – উক্তিটি কার? এখানে এস্টেটের মালিক কে? 

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার  জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। এইখানে এস্টেটের মালিক নরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরি।

প্রশ্ন ৯। বলিলেন— ‘ভায়ারা বস’। – এখানে কে কাদের বসতে বললেন ? 

উত্তর : এইখানে মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায় তাঁহার বন্ধু নগেন ডাক্তার, এবং উকিল কুঞ্জবিহারীকে বসিতে বলিলেন। 

প্রশ্ন ১০। এই কথা? তার জন্যে আর ভাবনা কি ভাই?’ – উক্তিটি কার? এখানে ভাই বলতে কাদের সম্বোধন করা হয়েছে? 

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের কথা বলা হইয়াছে। এইখানে তিনি তাহার দুই বন্ধু নগেন ডাক্তার ও উকিল কুঞ্জবিহারীকে তাই বলিয়া সম্বোধন করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ১১। ‘আমি কাল সকালেই রাজাবাড়িতে চিঠি লিখে পাঠাচ্ছি।’- উক্তিটি কার? কাদের সম্বোধন করে এই উক্তি করেছেন? রাজবাটী কার বাড়ির কথা বলা হ’ল? 

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। তিনি তাঁহার বন্ধুদের সম্বোধন করিয়া এই উক্তি করিয়াছেন। এইখানে রাজবাটী বলিতে জমিদার নরেশ চন্দ্র রায়চৌধুরিদের বাড়ির কথা বলা হইয়াছে। যেইখানে তিনি এস্টেটের মোতারি করেন। 

প্রশ্ন ১২। ইহার আদিবাস যশোর জেলায়।’ এখানে কার কথা বলা হল ? – 

উত্তর : মোজার জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। 

প্রশ্ন ১৩। আমার স্ত্রীর যতটুকু আইন জ্ঞান আছে, হুজুরের তাও নাই দেখছি।”- – উক্তিটি কে কার প্রসঙ্গে বলেছেন? 

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায় এজলাসের একজন হাকিম সম্পর্কে এই উক্তি করিয়াছিলেন।

পশ্ন ১৪। তাই ত ! সব মাটি? কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন? 

উত্তর : উকিল কুঞ্জবিহারী বাবু এই উক্তি করিয়াছেন। জয়রাম মুখোপাধ্যায় তাঁহার মনিবের বাড়িতে একটি হাতি চাহিয়া পাঠাইয়াছিলেন। সন্ধ্যাবেলার ভৃত্য আসিয়া খবর দিল যে হাতি পাওয়া যায় নাই। তখন কুঞ্জবিহারী বাবু হতাশ হইয়া এই উক্তি করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ১৫। উনি উকিল নহেন মোক্তার।’ উক্তিটি কার ? 

উত্তর : উক্তিটি আদালতের একজন পেস্কারের। 

প্রশ্ন ১৬। ‘তোর জন্যে সন্দেশ নিয়ে যাব রসগোল্লা নিয়ে যাব।” – উক্তিটি – কার? কার জন্য সন্দেশ নিয়ে যাবার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর : উক্তিটি জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। এইখানে জয়রামের পোষা হাতি আদরিণীর জন্য সন্দেশ-মিষ্টি লইয়া যাইবার কথা বলা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ১৭। ‘গোরুর গাড়িতে চড়ে আমি যাব না।’ উক্তি কার? তিনি কোথায় যেতে চাইছেন না এবং কেন?

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। তিনি তাঁর মনিবের মেয়ের বিয়েতে যাইবার জন্যে একটি হাতি চাহিয়া পাঠাইয়াছিলেন। কিন্তু তাহারা হাতি দিলেন না, গোরুর গাড়িতে যাইবার পরামর্শ দিলেন। ইহাতে জয়রাম ক্ষুণ্ণ হইয়া এই উক্তি করিয়াছেন যে তিনি গোরুর গাড়িতে চড়িয়া যাইবেন না। 

প্রশ্ন ১৮। কয়েক দিন পরে, আজ তাহার সুনিদ্রা হইল।’ — উক্তিটির, তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায় বড় অভিমানী লোক। তাঁহার মনিবের মেয়ের বিয়েতে যাইবার জন্য তিনি একটি হাতি চাহিয়া বিমুখ হইয়াছিলেন। পরে তিনি দুই হাজার টাকায় একটি হাতি কিনিয়া লন। মনিবের মেয়ের বিবাহর পরদিন তিনি তাহার সঙ্গে বাড়িতে দেখা করিতে গেলেন। নিজের কেনা হাতির পিঠে চড়িয়াই গেলেন। ইহাতে মনিব আশ্চর্য প্রকাশ করায় জয়রাম কিছুটা তৃপ্তি লাভ করিলেন। মনিবের হেয় করার পালটা জবাব তিনি দিতে পারিয়াছেন মনে করিয়া তাঁহার এতদিনের বেজার মন ভালো হইয়া গেল এবং রাত্রে সুনিদ্রা হইল। 

প্রশ্ন ১৯। ‘কে ইংরেজি জানে না, সে মনুষ্য পদবাচ্যই নহে।’ উক্তি কার? তিনি কেন এমন উক্তি করেছেন? 

উত্তর : উক্তিটি মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের। বয়সকালে জয়রামের মোক্তারি ব্যবসায়ে ভাটা পড়িয়া গিয়াছিল। তাহার কারণ আদালতে ইংরেজি জানা অনেক লোক ওকালতি ব্যবসায়ে চলিয়া আসিয়াছে। তাহার পসার কমিয়া গিয়াছে। হাকিমেরা এখন আর আগের মতো সম্মান করেন না। তাঁহারা ইংরাজি না জানা লোককে অসম্মান প্রদর্শন করেন। এই প্রসঙ্গে জয়রাম মুখোপাধ্যায় এই উক্তি করিয়াছেন।

প্রশ্ন ২০। বাড়িতে বসিয়া হরিনাম করিতেন’ কে কেন এই উক্তি করেছে? 

উত্তর : মোক্তার জয়রাম মুখোপাধ্যায় এই উক্তি করিয়াছেন। তাহার তিন ছেলে। বড় দুইটি মূর্খ। ছোটটি পড়াশুনা করিতেছে। তাহারও সংসারে, খাটিতে খাটিতে বয়স, ষাট পার হইয়া গিয়াছে। তাই স্থির করিলেন অবসর লইবেন। আদালতেও পসার কমিয়া গিয়াছে। আয় কমিয়া গিয়াছে। কিন্তু দুঃখের বড় ছেলেগুলির রোজগার শূন্য। না হইলে অনেক আগে অবসর লইয়া বাড়িতে বসিয়া হরিনাম জপ করিতেন। সেটা আর হইয়া উঠিতেছে না। 

প্রশ্ন ২১। জয়রাম মুখোপাধ্যায় কে ছিলেন? তিনি কার কাছে হাতি চেয়েপাঠিয়েছিলেন? তার চরিত্রের বর্ণনা করো। 

উত্তর : জয়রাম মুখোপাধ্যায় একজন মোক্তার এবং তাহার আদি বাসস্থান ছিল যশোর। অতি অল্প কারণেই তাহার তীব্র অভিমান হয় যদিও তাঁহার হৃদয়খানি স্নেহে বন্ধু বাৎসল্য কুসুমের ন্যায় কোমল। 

জয়রাম জমিদার নরেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর কাছে হাতি চাহিয়া পাঠাইয়াছিলন। জয়রাম স্নেহপ্রবণ, আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন অভিমানী লোক ছিলেন। কোনো রকম সমস্যায় তাঁহাকে পিছপা হইতে দেখা যায় না। তাঁহার সংসারে নিষ্ঠা ও কর্তব্য পালন শ্রদ্ধাজনক। তিনি শেষ জীবনে অর্থকষ্টে পড়িলেও জ্ঞান হারান নাই। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী না হইলেও তাহার চরিত্রে কঠোরতা এবং কোমলতার অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। তাহার চরিত্রে দৃঢ় ব্যক্তিত্বের প্রকাশ আছে। তিনি কখনো কাহাকেও আহত করেন নাই। এমন কি পালিত জীব হাতির প্রতি তাহার যে স্নেহ প্রীতি প্রকাশ পাইয়াছে, কিন্তু অন্যায় অবিচার দেখিলে প্রতিবাদ করিতে বিমুখ হন না। জীবনের নানা সমস্যার সম্মুখীন হইয়াও তিনি দিশাহারা হন নাই। 

প্রশ্ন ২২। টীকা লিখ : (ক) খেমটা (খ) কল্যাণী

উত্তর : খেমটা : মেটা এক ধরনের নাচ। খেমটা তালের সঙ্গে পরিবেশিত হয়। এর সঙ্গে গানও মিশিয়া থাকে। খেমটা নাচ-গানের প্রধান বিষয় রাধাকৃষ্ণের প্রেম। খেমটা নাচের কোনো নির্দিষ্ট উপলক্ষ নাই। যেকোনো সামাজিক বা লৌকিক অনুষ্ঠানে এর আয়োজন হইয়া থাকে। মেয়েরা এই নাচের শিল্পী। একদা বিয়ের আসরে এই নাচের বেশ প্রচলন ছিল। কোনো কোনো অঞ্চলে হিজড়ে শ্রেণির লোকেরাও এই নাচ দেখায়। 

কল্যাণী :আদরিণী গল্পে জয়রাম মুখোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ নাতিনীর নাম ছিল কল্যানী। জৈষ্ঠ্য মাসের ১০ তারিখে জয়রাম বাবু তাহার প্রিয় নাতিনী কল্যাণীর বিবাহের দিন ধা করিয়াছিলেন। জয়রাম বাবু স্নেহ প্রবণ পিতা। তিনি কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ন্যায় তাহার নাতিনী। কল্যাণীর বিবাহ দিতে গিয়া বড়ই লাছাড়ে পরিয়া তাহার অনেক দিনের পালিত হাতি আদরিণীকে বিক্রি করিতে গিয়া বড়ই মানসিক ও আর্থিক বেদনা পান। 

Leave a Reply