SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-5| তোতা কাহিনী

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-5| তোতা কাহিনী প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-5| তোতা কাহিনী এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-5| তোতা কাহিনী

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-5| তোতা কাহিনী Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-২  খ

লেখক পরিচিতি

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪ – ১৯৭৪) শ্রীহট্টের করিমগঞ্জ শহরে সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম হয়। শান্তিনিকেতনে অধ্যয়ন করিয়া কাবুল শিক্ষা বিভাগে ইংরাজি ও ফরাসি ভাষায় অধ্যাপনা করেন। ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় হইতে। কর্মসূত্রে তিনি বিশ্বের অনেক স্থানে ভ্রমণ করিয়াছিলেন। ১৫ টি ভাষা তিনি জানিতেন। গল্প, উপন্যাস ও রম্য রচনায় সিদ্ধহস্ত লেখকের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ চাচা কাহিনী, দেশে-বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, ধূপছায়া ও বড়বাবু। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি পরলোকে গমন করেন।

প্রশ্ন ১। ‘তোতা কাহিনী’ গল্পের সারাংশ বা সারসংক্ষেপ তোমার নিজের ভাষায় লেখো।

 উত্তর : ইরান দেশের এক সওদাগর জ্ঞানে, পাণ্ডিত্যে, রূপে অসাধারণ এক ভারতীয় তোতাকে বন্দি করিয়া রাখিয়াছিলেন। অবসর মুহূর্তে তোতাটির সহিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করিতেন। একবার ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে তিনি ভারতবর্ষে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। সকলের নিকট জানিতে চাহিলেন কাহার কী ধরনের উপহার পছন্দ। তোতা এই বিষয়ে জানাইল যে ভারতবর্ষে তাঁহার জাতভাইদের নিকট হইতে তাঁহার বন্দি দশা হইতে মুক্তির উপায় জানাটাই হইবে তাঁহার প্রিয় উপহার। সদাগর তোতার ইচ্ছা পূরণ করিবার জন্য ফিরিবার সময় একঝাক উড়ন্ত তোতা দেখিয়া ইরানে বন্দি ভারতীয় তোতার মুক্তির উপায় জিজ্ঞাসা করিলেন। প্রশ্নটি শুনা মাত্র একটি তোতা ধপ করিয়া মাটিতে পড়িয়া মৃত্যু বরণ করিল। ইহাতে সওদাগর নিজেকেই দায়ী করিলেন। দেশে ফিরিয়া তিনি বন্দি তোতার সহিত দেখা করিলেন না। একদিন অকস্মাৎ তোতার সহিত দেখা হওয়ায় সে তাহার উপহারের কথা জানিতে চাহিল। সওদাগর বাধ্য হইয়া ভারতে ঘটা তোতার ঘটনাটি বিবৃত করিলেন। বন্দি তোতা ঘটনটি শুনিয়া ধপ্ করিয়া পড়িয়া মৃত্যু বরণ করিল। সওদাগর অত্যন্ত কাতর হইয়া খাঁচা হইতে তাহাকে বাহির করিয়া চুড়িয়া ফেলামাত্র সে উড়িয়া গিয়া ছাদের উপর বসিল। সওদাগরকে জানাইল যে ভারতের তোতাটি আসলে মরে নাই। মরার ভান করিয়া তাঁহার মুক্তির উপায় জানাইয়াছিল। সওদাগরকে জীবনের মূল তত্ত্ব প্রকাশ করিয়া বলিল যে প্রকৃত মৃত্যু হইবার পূর্বে মরিতে পারিলেই মোক্ষ লাভ হয়।

প্রশ্ন ২। অর্থ লেখো ঃ তারিফ – প্রশংসা, মৌলানা — উচ্চতর শ্রেণির মুসলমান পণ্ডিত, সওগাত—উপঢৌকন; বেরাদরি বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা, ইয়ারগিরি রসিকতা, সদাগর—বণিক; ফুরসৎ—অবকাশ; তত্ত্বালোচনা—দার্শনিক জ্ঞান সম্বন্ধে চর্চা; আক্রা— মহার্ঘ কলিজা — বুক, হৃদয়, আপসোস পরিতাপ, ফায়দা লাভ, আস্তাবল – যেখানে ঘোড়া ব্যাস্যভাব; ৰেৰাক—সম্পূর্ণ দরাজ – উদার; বেইমান — অকৃতজ্ঞ; ওয়াদা—প্রতিশ্রুতি, থাকে; তাজ্জব—অবাক; মোক্ষ —মুক্তি। 

প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ৩। শুদ্ধ উত্তর লেখো : 

(ক) কোরান কোন ভাষায় রচিত? 

(১) ফরাসি 

(২) ফারসি

(৩) আরবি

(৪) ইংরাজি 

উত্তর : (৩) আরবি। 

(খ) তোতা কাহিনী পাঠটির লেখক কে?

(১) সৈয়দ মুজতবা আলী

(২) কাজী ইসলাম 

(৩) মহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 

(৪) জসীমউদ্দীন 

উত্তর : (১) সৈয়দ মুজতবা আলী।

(গ) সওদাগর কোন্ দেশের লোক ছিলেন?

(১) ইতালি

(২) ইরাক 

(৩) ইরান

(৪) ভারতবর্ষ

উত্তর : (১) ইরান। 

প্রশ্ন ২। শূন্যস্থান পূরণ করো : 

(ক) রুমী তার আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা_____ বর্ণনা করেছেন।

উত্তর : মসনবিতে।

(খ) সে তোতা______ বৃহস্পতি,____ কালিদাস। 

উত্তর : জ্ঞানে, রসে।

(গ) ঘোড়া চুরির পর আর______তালা মেরে কি লাভ। 

উত্তর : আস্তাবলে।

প্রশ্ন ২। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর : ‘তোতা কাহিনী’ পাঠটি মসনবি গ্রন্থের অন্তর্গত।

(খ) ‘গোপীজন বল্লভ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? 

উত্তর : ‘গোপীজন বল্লভ’ বলিতে শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হইয়াছে।

(গ) তোতার পাণ্ডিত্যকে লেখক কার সঙ্গে তুলনা করেছেন? 

উত্তর : তোতার পাণ্ডিত্যকে লেখক ম্যাক্সমুলারের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন যিনি একাধারে লেখক ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী।

(ঘ) ‘তোমাদের এক বেরাদর ইরান দেশের খাঁচায় বন্ধ হয়ে দিন কাটাচ্ছে।’ ‘বেরাদের’ শব্দের অর্থ কী? 

উত্তর : বেরাদের শব্দের অর্থ হইল বন্ধু বা আত্মীয়তা। 

(ঙ) তোতাটি কোন্ দেশের খাঁচায় বন্দি ছিল? 

উত্তর : তোতাটি ইরান দেশের খাঁচায় বন্দি ছিল।

(চ) সওদাগরের দিলের দোস্ত কে?

উত্তর : সওদাগরের দিলের দোস্ত হইল বন্দি তোতাপাখি। 

(ছ) ‘তোতা কাহিনী’ পাঠে সদাগরের পোষা তোতাটি জ্ঞানে এবং রসে কার কার মতো ছিলো?

উত্তর : জ্ঞানে বৃহস্পতি এবং রসে কালিদাস। 

প্রশ্ন ৪। চার/পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও : 

(ক) মৌলানা রুমী সম্বন্ধে পারস্য দেশের জ্ঞানী-গুণীরা কী মনোভাব পোষণ করতেন ? 

উত্তর : পারস্য দেশের বিখ্যাত কবি মৌলানা জালালউদ্দীন রুমী। তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ও বিধান ছিলেন। মসনবি তাহার রচিত সুদীর্ঘ কবিতা গ্রন্থ। ইহাতে পঁচিশ হাজার শ্লোক রহিয়াছে যাহা তাঁহার অগাধ পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর বহন করে। পারস্য দেশের জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিতবর্গ তাঁহার অগাধ পাণ্ডিত্যের তুলনা প্রসঙ্গে বলিয়াছেন আল্লা যদি আরবী ভাষায় কোরান প্রকাশ না করিয়া ফারসি ভাষায় প্রকাশ করিতেন তবে তাঁহার মসনবি কেতাবকে কোরান নাম দিয়া নিঃসন্দেহে প্রকাশ করা যাইত। 

(খ) সওদাগর ভারতীয় তোতার বর্ণনা কীভাবে করেছেন? 

উত্তর : ইরান দেশের এক সদাগর এক ভারতীয় তোতাকে বন্দি করিয়া খাঁচায় রাখিয়াছিলেন। তোতাটি ছিল অসাধারণ। তাহার জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনায় সওদাগর মুগ্ধ ছিলেন। সুযোগ পাইলেই তিনি তাঁহার সহিত রসালাপ তত্ত্বালোচনায় ব্যস্ত থাকিতেন। তোতাটির তুলনা করিতে গিয়া বলিয়াছেন সে জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভেলেন্টিনো ও পাণ্ডিত্যে ম্যান্সমূলার। 

(গ) সওদাগরের প্রশ্নে তোতা হিন্দুস্থান থেকে কোন উপহার আনার কথা জানিয়েছিলেন ? 

উত্তর : সওদাগর ভারতবর্ষে কার্পেট বিক্রয় করিতে যাইবেন বলিয়া মনস্থির করিলেন। অর্থ উপার্জন করিয়া ফিরিবার সময় সকলের জন্য উপহার আনিবেন বলিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলেন। যাহাকে তিনি দিলের দোস্ত ভাবেন সেই তোতাকেও জিজ্ঞাসা করিলেন কী উপহার তাঁহার প্রয়োজন। উত্তরে তোতা জানাইল যে কোন পাখি খাঁচা হইতে মুক্তি চায়না? সেইজন্য এত বৎসর খাঁচায় বন্দি থাকিয়া মুক্তির উপায় জানাই তাহার একমাত্র উপহার। হিন্দুস্থানে তাঁহার কোন জাত ভাইয়ের সহিত দেখা হইলে তাঁহার বন্দি দশার কথা জানাইয়া কীভাবে মুক্তি পাইতে পারে সেই উপায় জানিয়া আসাই হইবে তাঁহাকে দেয় প্রিয় উপহার।

(ঘ) তার মুক্তির উপায় বলে দিতে পারো? – কে, কোন্ প্রসঙ্গে, কাকে এ প্রশ্ন করেছেন?

উত্তর : সওদাগর ভারতবর্ষের বুকে উড়িয়া যাওয়া একঝাক তোতাপাখিকে এই প্রশ্ন করিয়াছেন। 

ভারতবর্ষে ব্যবসার কাজ শেষ হইলে সওদাগর দেশে ফিরিয়া যাইবার সময় সকলের জন্য উপহার জন্ম করিলেও তোতার উপহারের কথা বেমালুম ভুলিয়া গিয়াছিলেন। বনের মধ্য দিয়া যাইবার সময় হঠাৎ উড়ন্ত একঝাক তোতা দেখিয়া তাঁহার বন্দি তোতার উপহারের কথা মনে পড়িল। তখনই সদাগর চিত্কার করিয়া তাঁহাদের জানাইল তোমাদের এক বন্ধু ইরান দেশের খাঁচায় বন্দি। তোমরা বলিয়া দিতে পার কীভাবে সে মুক্তি পাইবে?

(ঙ) কিন্তু এ তো ঘুঘু’। কার সম্বন্ধে কেন এ কথা বলা হয়েছে? – 

উত্তর : ইরানে বন্দি অবস্থায় থাকা তোতার সম্বন্ধে এই কথা বলা হইয়াছে। 

কারণ সওদাগর তোতার নিকট অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন যে হিন্দুস্থানে তোতার জাতভাইদের নিকট তাঁহার মুক্তির উপায় জানিয়া আসিবেন। কিন্তু হিন্দুস্থানে ঘটা তোতার মৃত্যুর কথা বলিতে না পারিয়া সওদাগর তোতার নিকট দেখা দিলেন না। একদিন ভুল করিয়া তোতার ঘরে প্রবেশ মাত্র তোতা তাঁহাকে সওগাতের জন্য পাকড়াও করেন। সেইহেতু তিনি তোতাকে ঘুঘুর সহিত তুলনা করেন। কারণ ঘুঘু ফন্দিবাজ ও ধূর্ত। তোতা নিরীহ পাখি। হইলেও স্বার্থসিদ্ধির জন্য উদ্‌গ্রীব।

(চ) কীভাবে তোতা খাঁচা থেকে মুক্তি পেল ?

 উত্তর : সওদাগরের সহিত তোতার দেখা হইয়াছিল হিন্দুস্থান হইতে ফিরিবার বেশ কিছুদিন পর। সওদাগরকে দেখিবামাত্র তোতা তাঁহার সওগাতের বিষয়ে জানিতে চাহিল। তিনি কিছু না বলায় তোতা তাঁহার দিকে এমনভাবে তাকাইল যে তিনি বেইমান। কথা দিয়া কথা রাখিতে পারেন না। তখন বাধ্য হইয়া সদাগর হিন্দুস্থানে ঘটা তোতার দুঃসংবাদের কথা বলা মাত্র তোতাটি ধপ করিয়া মারিয়া গেল। সদাগর চোখের জল মুছিতে মুছিতে খাঁচা খুলিয়া তোতাকে আঙ্গিনায় ছুড়িয়া ফেলিয়া দিবা মাত্র সে উড়িয়া গিয়া বাড়ির ছাদে বসিল। আসলে মরার ভান করিয়া থাকিবার জন্য সে মুক্তি পাইল।

(ছ) একই ভুল, দুবার করলুম- এখানে ভুলটা কী? তোতা কাহিনী গল্পে কে, কেন এ কথা বলেছেন? 

উত্তর : সওদাগর এই কথা বলিয়াছেন। বন্দি তোতার মুক্তির উপায় জানিতে চাহিলে হিন্দুস্থানের উড়ন্ত তোতা যেভাবে ধপ্ করিয়া পড়িয়া মারা গিয়াছিল, সওদাগর নিরীহ তোতার মৃত্যুর জন্য নিজেকে ধিকার দিয়াছিলেন। দ্বিতীয়বার নিজের বন্ধু বন্দি তোভাবে হিন্দুস্থানের তোতার দুঃসংবাদ জানাইলে সেও একইভাবে মৃত্যুবরণ করিল। একই ভুল দুইবার করায় দুইটি নিরীহ তোতাকে মৃত্যুবরণ করিতে হইল বলিয়া সদাগর আফসোস করিলেন। 

প্রশ্ন ৫। রচনামূলক উত্তর লেখো : 

(ক) ‘তোতা কাহিনী’ নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

উত্তর ঃ নামকরণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করিয়া লেখকদের রচিত গল্প, উপন্যাস, কবিতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে। কারণ নামকরণের মধ্য দিয়া বিষয়বস্তুর আভাস পাওয়া যায়। যেমন বোতলের উপর লেবেল দেখিয়া ভিতরের বস্তুটি সম্বন্ধে ধারণা জন্মে। 

আলোচ্য তোতা কাহিনী গল্পটি মৌলানা রুমীর পাণ্ডিত্যের বিষয় লইয়া আরম্ভ হইলেও গল্পটির আগাগোড়া একটি ােতার কাহিনী বিবৃত হইয়াছে। সদাগর এক ভারতীয় তোতাকে বন্দি করিয়া খাঁচায় রাখিয়া তাহার সহিত সখ্যতা স্থাপন করিয়া পরম আনন্দিত। তোতার মুক্তি পাইবার উপায় জানিবার ব্যাকুলতায় তিনি ভারতবর্ষের অন্যান্য তোতাদের শরণাপন্ন হইলেন। সেখান হইতে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করিলেন তাহাতে ভারতবর্ষের নিরীহ তোতার মৃত্যুসংবাদের কথা ব্যক্ত করিতে চাহিলেন না। কিন্তু তাহার প্রিয় তোতার বক্রদৃষ্টি ও অনুরোধ উপেক্ষা করিতে না পারিয়া যেইমাত্র ঘটনাটি বিবৃত করিলেন তৎক্ষণাৎ তোতাটি মৃত্যুবরণ করিল। তোতার আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে গল্পটির পরিসমাপ্তি ঘটে। গল্পটি পাঠ করিয়া স্বভাবতই তোতা কাহিনী নামকরণ সার্থক হইয়াছে বলা যায়। 

(খ) প্রবাসের বন্দি জীবন থেকে তোতা কীভাবে মুক্তি পেল পাঠ অবলম্বনে আলোচনা করো। 

অথবা

ইরান দেশের সওদাগরের তোতাটিকে কে মুক্তির উপায় বলে দিয়েছিলো? কীরূপে সে তোতাটির মুক্তির উপায় জানিয়েছিলো, সেই ঘটনাটি বিবৃত করো। 

 উত্তর : স্বাধীনতার হীনতায় কে বাঁচিতে চায় কথাটি কেবল মনুষ্য কুলে নয় জীবজগতেও চরম সত্য। হিন্দুস্থানের তোতা ইরানের এক সওদাগরের খাঁচায় দীর্ঘদিন বন্দি অবস্থায় ছিল। স্বদেশে ফিরিবার জন্য তাহার প্রাণ ব্যাকুল হইয়াছিল। কিন্তু সওদাগর তাহাকে ভালোবাসার জালে এরূপভাবে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল যে সে কিছুতেই মুক্তির উপায় খুঁজিয়া পায় নাই। অবশেষে একদিন যখন সে জানিতে পারিল সওদাগর ব্যবসার জন্য ভারতে যাইতেছেন তখন সে আপন বুদ্ধি প্রয়োগ করিল। সওদাগরের ইচ্ছা অনুযায়ী সে সওগাত হিসাবে জানাইল যে সকল বন্দিরই বন্দি দশা হইতে মুক্তি একান্ত কাম্য। সেইজন্য ভারতের তোতার সহিত দেখা হইলে তাঁহার মুক্তির উপায় জানিয়া আসাই হইবে তাহার সওগাত। সওদাগর ভারতের আকাশে উড়িয়া যাওয়া একঝাক তোতা দেখিয়া বন্দি তোতার মুক্তির উপায় জানিতে চাহিলে তাহাদের মধ্য হইতে একটি তোতা ধপ করিয়া মাটিতে পড়িয়া

মৃত্যুবরণ করিল। সওদাগরের মুখ হইতে বন্দি তোতা যখন ঘটনাটি জানিতে পারিল তখন সঙ্গে সঙ্গে সেও ধপ্ করিয়া পড়িয়া মৃত্যুবরণ করিল। প্রিয় বন্ধুর এইরূপ মৃত্যুর জন্য সওদাগর নিজেকে ধিক্কার দিয়া কাঁদিতে লাগিলেন। কারণ এইরূপ প্রাণঘাতী দুঃসংবাদ শুনিবার জন্য তোতাটি মারা গেল। চোখের জল মুছিয়া ভগ্ন হৃদয়ে খাঁচার দরজা খুলিয়া তোতাকে আঙ্গিনায় ভুঁড়িয়া দিবা মাত্র মৃত তোতাটি উড়িয়া গিয়া বাড়ির ছাদে বসিল। এইভাবে কৌশল প্রয়োগ করিয়া বন্দি তোতা মুক্তি লাভ করিল। 

(গ) সওদাগরের চরিত্র বর্ণনা করো। 

উত্তর : সওদাগর ব্যবসায়ী মানুষ। ব্যবসার কাজে তাঁহাকে সর্বদা ব্যস্ত থাকিতে হয়। একবার একটি ভারতীয় তোতাকে বন্দি করিয়া নিজের দেশ ইরানে লইয়া আসিলেন। তোতা কথকী পাখি। অর্থাৎ অনর্গল কথা বলিতে ভালোবাসে। তোতার সহিত তিনি অবসর পাইলেই রসালাপ করিতেন এবং তত্ত্বালোচনা করিতেন। 

সওদাগরের অন্তর রসবোধে পূর্ণ ছিল। কর্মজীবনের হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও জ্ঞানী তোতার সহিত রসালাপ করিবার জন্য অবসর খুঁজিতেন। প্রতিনিয়ত কর্মে ব্যস্ত থাকিলে মানুষের মন সুকুমার বৃত্তি হারাইয়া যন্ত্রে পরিণত হয়। 

সওদাগরের চরিত্রের অন্য একটি বৈশিষ্ট্য কর্তব্যপরায়ণতা। বিদেশে ব্যবসা করিয়া স্বদেশে ফিরিবার সময় আত্মীয়-পরিজনের জন্য অনেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার আনে। সওদাগর সেরূপ কেবল জ্ঞাতি-কুটুম্বের জন্যই নহে, তাঁহার আশ্রিত বন্দি তোতার জন্যও উপহার আনিয়াছেন। 

সওদাগর মানবতাবোধে পূর্ণ একটি চরিত্র। ভারতীয় তোতার মৃত্যু ঘটার দুঃসংবাদটি তাঁহার প্রিয় বন্দি তোতাকে না দিবার জন্য নিজেকে আড়াল করিয়া রাখিবার চেষ্টা করিয়াছিল। যখন দেখা যায় ভারতের আকাশে উড্ডীয়মান নিরীহ তোতার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করিতে দ্বিধাবোধ করেন নাই। ইহার পর দিলের দোস্ত তোতার মৃত্যুর জন্য সওদাগরের অনুশোচনার অন্ত ছিল না। 

সওদাগরের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য অজানাকে জানিবার আগ্রহ। তোতার বিদায় মুহূর্তে সওদাগরের কণ্ঠে আকুল জিজ্ঞাসা আমাদের মুগ্ধ করে “যাবার আগে আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যাও। আর তো তোমাকে পাইব না।”

(ঘ) তোতাকে বন্দি করে রাখার কারণ বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর : মানুষ সুন্দরের পূজারী। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি যখন তাহার মনকে। পীড়িত করে তখন সাময়িক স্বস্তি পাইবার জন্য সে সুন্দরের আরাধনায় ব্রতী হয়। সওদাগর বিভিন্ন দেশ-বিদেশে ব্যবসার কাজে ঘুড়িয়া বেড়ান। একবার ভারতে আসিয়া একটি তোতাকে নিজ দেশ ইরানে লইয়া খাঁচায় বন্দি করিয়া রাখিলেন। তোতার অপর নাম টিয়া বা শুকপাখি। অবিকল মানুষের মতো কথা বলে। স্বভাবতই মানুষ তোতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কাজেই সওদাগর অবসরের মুহূর্ত সুন্দরভাবে কাটাইবার জন্য তোতাকে বন্দি করিয়া রাখিয়াছিলেন। 

তোতাটি জ্ঞানে, পাণ্ডিত্যে ছিল অসাধারণ। সওদাগর তাঁহার সহিত তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে জীবনের অনেক অজানা তত্ত্ব জানিতে পারিয়াছেন। তোতাকে বন্দি করিয়া রাখার ইহা অন্যতম কারণ মনে করা যায়। সদাগর তোতার রূপ-গুণে মুগ্ধ ছিলেন। বহু বছর তোতার সহিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করিয়া তোতার সহিত তাঁহার হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপিত হইয়াছিল। মোটকথা তোতা ছিল সওদাগরের একাধারে বন্ধু, জ্ঞান ভাঙার বিস্তারের চাবিকাঠি এবং অবসর বিনোদনের সুন্দর মুহূর্ত। 

প্রশ্ন ৬। ব্যাখ্যা করো : 

(ক) জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে রুডলফ ভেলেন্টিনো, পাণ্ডিত্যে ম্যাক্সম্যুলার। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘তোতা কাহিনী’ গল্প হইতে চয়ন করা হইয়াছে। তোতা যেন সমস্ত শ্রেষ্ঠ বিষয়ের বাহক। যেরূপ দেবতাদের গুরু বৃহস্পতি। গুরু সর্ব জ্ঞানের আকর। বিভিন্ন বিষয়ে তোতা যেভাবে সদাগরকে জ্ঞান বিতরণ করিত তাহাতে তোতার জ্ঞানের গভীরতা অনুধাবন করিয়া জ্ঞানে বৃহস্পতি বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। রসালাপেও তোতা ছিল দক্ষ। সাহিত্যের নবরস যেন তোতার কেন্দ্রীভূত ছিল। সেইহেতু রসে কালিদাসের সহিত তুলনা করা হইয়াছে। রুডলফ ভেলেন্টিনো ইতালির অধিবাসী অভিনেতা, নর্তক যাহাকে শ্রেষ্ঠ সুন্দর বলিয়া অভিহিত করা হইত। তোতার সৌন্দর্য এইরূপ মনোমুগ্ধকর ছিল যে সৌন্দর্যের প্রতীক বলিয়া চিহ্নিত রুডলফের সহিত তুলনীয়। পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে ম্যাক্সমুলারের নাম সর্বজনবিদিত। অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বলিয়া ম্যাক্সমুলারের সহিত তোতার পাণ্ডিত্যের তুলনা করা হইয়াছে। মোটের উপর তোতার রূপ-গুণের সৌন্দর্য ও গভীরতার কথা বলিতে গিয়া লেখক উপর্যুক্ত ব্যক্তিত্বের সহিত তুলনা করিয়াছেন। 

(খ) গোঁফ কামানোর পরও হাত ওঠে অজানতে চাড়া দেবার জন্য। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘তোতা কাহিনী’ গল্প হইতে চয়ন করা হইয়াছে। মুখমণ্ডলে দাড়ি-গোঁফ বৰ্দ্ধিত হইলে মানুষ বিব্রত বোধ করে। তাই দাড়ি- গোঁফ কাটিবার পরও অজানিতে মানুষের হাত দাড়ি-গোঁফের উপর উঠিয়া যায়। ইহা অভ্যাসজনিত কারণ বলা যাইতে পারে। সওদাগর বন্দি তোতার জন্য সওগাত আনিতে গিয়া যে করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করিয়াছেন তাহা প্রকাশ না করিবার জন্য তোতার নিকট হইতে দূরত্ব বজায় রাখিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করিলেন। তোতার ঘরে প্রবেশ করা বন্ধ করিলেন যাহাতে উপহারের জন্য তোতার মুখামুখি না হইতে পারেন। কিন্তু অন্তরের লালিত অভ্যাস কি এত সহজে পরিহার করা সম্ভব। তাই একদিন অনবধানে তোতার ঘরে প্রবেশ করিলেন। অভ্যাসজনিত কারণে মানুষ নিজের অজান্তে সেই কর্মে প্রবৃত্ত হয় তাহা বুঝাইবার জন্য উপর্যুক্ত উক্তির অবতারণা করা হইয়াছে। 

(গ) সওদাগর ফাটা বাঁশের মধ্যিখানে। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘তোতা কাহিনী’ গল্প হইতে চয়ন করা হইয়াছে। অবস্থানের দ্বারা নির্ণয় করা যায় মানুষের প্রকৃত অবস্থা। অর্থাৎ মানুষটি স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়া কাল যাপন করিতেছেন কিনা। যেরূপ ফাটা বারে মধ্যে যদি কোন কিছু প্রবেশ করানো হয় তাহা হইলে সেই বস্তুটি উভয় পাশের চাপে পিষ্ট হইতে থাকে। যন্ত্রণায় ছটফট করে। অনবধানে সওদাগর তোতার ঘরে প্রবেশ করিবামাত্র তোতার উচ্ছসিত কণ্ঠের স্বাগত বাণী শুনিয়া তাঁহার যেরূপ অবস্থা হইল তাহাতে যেন তিনি চোখে সরিষার ফুল দেখিতে পাইলেন। তোতা সওগাতের বিষয়ে জানিতে চাহিলে তাহার যেরূপ অবস্থা ঘটিল তাহা উপর্যুক্ত উদ্ধৃতির সহিত তুলনীয়। কারণ তিনি যে সওগাত আনিতে অসমর্থ হইয়াছেন তাহা যেরূপ প্রকাশ করিতে পারিতেছেন না তদ্রূপ সওগাত আনিবার বিষয়ে যে করল হৃদয় বিদারক অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়াছেন তাহাও গোপন করিতে পারিতেছেন না। সওদাগরের যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানসিক অবস্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে আলোচা উদ্ধৃতির অবতারণা করা হইয়াছে। 

(ঘ) ঘোড়া চুরির পর আস্তাবলে তালা মেরে কি লাভ! 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘তোতা কাহিনী’ গল্প হইতে চয়ন করা হইয়াছে। উদ্ধৃতিটির আক্ষরিক অর্থ হইতেছে কোন বস্তু সুরক্ষিত রাখিবার জন্য তালা- চাবির প্রয়োজন। কিন্তু বস্তুটি চুরি যাইবার পর তাহার সুরক্ষা অবান্তর অর্থাৎ সেখানে তালা- চাবির ব্যবহার অর্থহীন। আস্তাবল হইতে ঘোড়া চুরি হইবার পর শূন্য আস্তাবলে তালা বন্ধ করিবার কোন প্রয়োজন থাকে না। 

প্রকৃত অর্থ হইতেছে সওদাগরের মুখে ভারতীয় বন্দি তোতার মুক্তির উপায় জানিবামাত্র উড়ন্ত একঝাক ভারতীয় তোতার মধ্যে একটি ধপ্ করিয়া পড়িয়া মৃত্যু বরণ করিল। সদাগর ইহাতে অনুশোচনা করিলেন যে বন্দি তোতার কাহিনী বলিবার জন্য তিনি নিরী একটি পাখির মৃত্যুর কারণ হইলেন। এইরূপ দুঃসংবাদ তিনি আর কখনই দিবেন না বলিয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারও তিনি একই ভুল করিলেন। ভারতের আকাশে উড়ত তোতার মৃত্যুসংবাদ বলিবামাত্র প্রিয় বন্দি তোতার মৃত্যু ঘটায় তিনি বিচলিত হইয়া একই ভুল দুইবার করিবার জন্য অনুশোচনা করিলেন। প্রতিজ্ঞা পালনে অসমর্থ ব্যক্তির প্রতিজ্ঞা করা অর্থহীন বলিয়া প্রতিপন্ন হয়।

(ঙ) মরার আগেই যদি মরতে পারো, তবেই মোক্ষ লাভ। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘তোতা কাহিনী’ গল্প হইতে চয়ন করা হইয়াছে। মৃত্যু জীবনের পরিসমাপ্তি। জীবনের ক্ষুধা-তৃষ্ণা, লোভ-লালসা, চাওয়া-পাওয়া সকল আকাঙ্খার মৃত্যুতে অবসান ঘটে। মানুষ যতদিন বাঁচিয়া থাকে ততদিন এই সমস্ত চাহিদা তাঁহাকে অনবরত ঘিরিয়া রাখে। জগতে সমস্ত অশান্তি, যন্ত্রণার উৎস এই সকল অনন্ত চাহিদাপূর্ণ জীবন। মৃত্যু জীবনে একবারই আসে। কবীর, লালন ফকির বলিয়াছেন জীবনেই মৃত্যু লাভ করিলে মানুষের সমস্ত জ্বালা-যন্ত্রণার অবসান ঘটে। জীবনে যদি কেহ মৃত্যু লাভ করে তখন তাঁহারা জাগতিক চাহিদা হইতে উদ্ভুত সর্ব প্রকার অশান্তি, যন্ত্রণার ঊর্ধ্বে অবস্থান। করে। সে তখন মুক্ত পুরুষে পরিণত হয় এবং মনুষ্য জীবনের চরম প্রাপ্তি নির্বাণ লাভ করিতে পারে। নির্বাণ প্রাপ্তি বা মোক্ষ লাভ মানুষের একান্ত কাম্য। হাঁস যেরূপ কর্দমযুক্ত জল হইতে কেবল জলটুকু গ্রহণ করে সেইরূপ প্রকৃত সাধক জীবনকালেই জীবনের সার বস্তু গ্রহণ করিয়া। মোক্ষ লাভে সমর্থ হয়। 

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

প্রশ্ন ৬। টীকা লেখো : 

(ক) কালিদাস : প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ মহাকবি কালিদাস। প্রথম জীবনে কালিদাস মূর্খ ছিলেন। কথিত আছে, যে তিনি যে গাছের ডাল কাটিতেন তাহারই উপর বসিয়া কাটিতেন। তিনি উষ্ট্র উচ্চারণ করিতে না পারিয়া উট্ট উচ্চারণ করিতেন। এ হেন কালিদাসের বিবাহ হয় বিদুষী রাজকন্যার সহিত। অবশেষে সরস্বতীর প্রসাদে সংস্কৃত সাহিত্যে পারদর্শিতা লাভ করেন। সংস্কৃত ভাষায় তিনি অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাটক রচনা করিয়া খ্যাতি লাভ করেন। ‘রঘুবংশ’ এবং ‘কুমারসম্ভবম্’ তাহার রচিত দুইটি মহাকাব্য। ‘মালবিকাগ্নিমিত্র’ সংস্কৃত ভাষায় রচিত অন্যতম নাটক। ‘মেঘদূত’ তাঁহার রচিত অন্যতম গ্রন্থ। 

(খ) রুডলফ ভেলেন্টিনো:এ রুডলফ ভেলেন্টিনো ইতালির অধিবাসী। তিনি অসাধারণ সুন্দর ছিলেন। একাধারে অভিনেতা ও নর্তক হিসাবে খ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম হলিউডের সিনেমা জগতে পদার্পণ করেন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি great lover হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ হইতে হলিউডের সিনেমা জগতে প্রধান চরিত্রে অবতীর্ণ হন। রুডলফকে সৌন্দর্যের প্রতীক বলিয়া মনে করা হয়। মাত্র ৩১ বৎসর বয়সে তিনি পরলোক গমন করেন। 

(গ) বৃহস্পতি ঃ দেবতাদের গুরু বৃহস্পতি। তিনি শিক্ষা এবং জ্ঞানের গুরু। ঋষি অঙ্গিরাস ও সুরূপার পুত্র। শিবপুরাণ মতে ভরদ্বাজ গোত্র তাঁহারই বংশোদ্ভূত। তিনটি নক্ষত্রের অধিপতি তিনি। তাঁহার দুইজন পত্নী যথাক্রমে শুভ এবং তারা। বৃহস্পতির প্রিয় বর্ণ ও পরিধেয় বস্ত্র হলুদ রঙের। তাঁহার এক হস্তে পদ্মফুল ও অপর হস্তে যষ্টি বিরাজিত।

(ঘ) ম্যাক্সমূলার : ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন লেখক ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর শিক্ষাজীবন কাটিয়াছে ব্রিটেনে। ১৮৮ খ্রিস্টাব্দে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে বৃত হন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অনুরাগী ছিলেন। সংস্কৃত ভাষা ও ঋকবেদ সম্বন্ধে চর্চা করেন। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে ২৮ অক্টোবর তিনি পরলোক গমন করেন। 

প্রশ্ন ৮। পাঠভিত্তিক ব্যাকরণ :

কোন্ শব্দের অন্তর্গত লেখো : 

তারিফ— আরবি শব্দ। 

অফিস —ইংরাজি শব্দ 

কেরানি –পর্তুগীজ শব্দ। 

আলমারি –পর্তুগীজ শব্দ। 

হুজুর —আরবি শব্দ। 

দিল —ফারসি শব্দ।

সওগাত —তুর্কী শব্দ।

আপসোস ফারসি শব্দ। 

বেইমান –আরবি শব্দ। 

আক্কেল —আরবি শব্দ। 

তাজ্জব —আরবি শব্দ। 

দরাজ—-ফারসি শব্দ।

ফুরসৎ —ফারসি শব্দ। 

খবর —ফারসি শব্দ। 

সওদা -ফারসি শব্দ। 

বেয়াদরি —ফারসি শব্দ। 

ইয়ারগিরি –ফারসি শব্দ। 

চিড়িয়া – হিন্দি শব্দ ।

বেবাক —ফারসি শব্দ।

বেমক্কা -ফারসি শব্দ। 

দোস্ত —ফারসি শব্দ। 

কেরামতি –আরবি শব্দ। 

বদনসিব —ফারসি শব্দ। 

বেয়াদপ __ মিশ্র শব্দ

(খ) পদ পরিবর্তন করো : 

দেশ – দেশীয়; জল—জলীয়; জ্ঞান জ্ঞাত, জ্ঞেয়; বন্ধু বন্ধুত্বপূর্ণ, সৌন্দর্য— সুন্দর, তত্ত্ব—তাত্ত্বিক; পাণ্ডিত্য—পণ্ডিত; স্থির – স্থিরতা; মুক্তি —মুক্ত; ক্ষুধা—ক্ষুধিত; প্রতিকূল- প্রতিকূলতা, পাগল— পাগলামি, মান- মাননীয়। 

(গ) বাক্য পরিবর্তন করো : 

(ক) সদাগর ভারতবর্ষে এসে মেলা পয়সা কামালেন। (যৌগিক বাক্য) 

উত্তর : সদাগর ভারতবর্ষে এলেন এবং মেলা পয়সা কামালেন। (জটিল বাক্য)

(খ) যাবার আগে আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যাও। (জটিল বাক্য) 

উত্তর : যাবেই যখন তখন আমাকে শেষ তত্ত্ব বলে যাও। (যৌগিক বাক্য)

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। “মরার আগেই যদি মরতে পারো, তবেই মোক্ষ লাভ।” বক্তা কে?

উত্তর : “মরার আগেই যদি মরতে পারো, তবেই মোক্ষ লাভ।” বক্তা ‘তোতা’। 

প্রশ্ন ২। তার মুক্তির উপায় বলে দিতে পারো?’ –কে, কাকে এ প্রশ্ন করেছেন?

উত্তর : ইরান দেশের সওদাগর, ভারতবর্ষের তোতাপাখিদের এই প্রশ্ন করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ৩। মৌলানা রুমীর গ্রন্থটির নাম কী? রুমী ভগবানকে কীভাবে পেয়েছিলেন?

উত্তর : মৌলানা রুমীর গ্রন্থটির নাম ‘মসনবি’। তিনি ভগবানকে পাইয়াছিলেন কদম্ববন। বিহারিনী শ্রীরাধা যেরকম করিয়া গোপীজন বল্লভ শ্রীহরিকে পাইয়াছিল। 

প্রশ্ন ৪। আল্লা কোরান প্রকাশ করেছেন কোন ভাষায় ?

উত্তর : আরবি ভাষায়। 

প্রশ্ন ৫। ফারসি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি কে?

উত্তর : মৌলানা জালাল উদ্দিন রুমি। 

প্রশ্ন ৬। ‘মসনবি কেতাবখানাকে কোরান নাম দিয়ে, চালিয়ে দিতেন।’ এমন ধারণা কাদের? 

উত্তর : পারস্যদেশের জ্ঞানী গুণীদের।

প্রশ্ন ৭। ‘মসনবি’ কোন ভাষায় লেখা? 

উত্তর : ফারসি ভাষায়। 

প্রশ্ন ৮। মৌলানা রুমী ভগবানকে কীরূপে পেয়েছিলেন? 

উত্তর : শ্রীরাধা যেইভাবে গোপীজনবল্লভ শ্রীহরিকে পাইয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ৯। শ্রীরাধা কোথায় বিহার করতেন? 

উত্তর : কদম্ব বনে। 

প্রশ্ন ১০। “তোতা কাহিনী’ কোন গ্রন্থের অন্তর্গত ? 

উত্তর : মসনবি গ্রন্থের। 

প্রশ্ন ১১। তোতার চারটি গুণ কী কী? 

উত্তর : তোতা জ্ঞানে বৃহস্পতি, রসে কালিদাস, সৌন্দর্যে, রুডলফ, ভেলেন্টিনো পাণ্ডিত্যো ম্যান্সমূলার। 

প্রশ্ন ১২। তোতার পাণ্ডিত্য কার মতো? 

উত্তর : জার্মান পণ্ডিত ম্যাক্সমূলারের মতো।

প্রশ্ন ১৩। ‘খাঁচা থেকে মুক্তি চায় না কোন চিড়িয়া”– উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছিল? 

উত্তর : উক্তিটি তোতা তার মনিবের উদ্দেশ্যে করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ১৪। ও খবরটা যে করেই হোক চেপে যেতে হবে।” – উক্তিটি কার? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছে? 

উত্তর : উক্তিটি ইরান দেশের সওদাগরের। সওদাগর ভারতবর্ষ হইতে তোর সত্তগাত লইয়া যাইতে ভুলিয়া গিয়াছিলেন। তাই বাড়ি ফিরিবার পর তোতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন না। যদি সওগাতের কথা তোতা জিজ্ঞাসা করে এই সঙ্কোচে। তোতার জন্য যে কোনো সওগাত আনা হয়নি তাহা চাপিয়া যাইতে চাহিলেন।

 প্রশ্ন ১৫। ‘গোঁফ কামানোর পরও হাত ওঠে অজান্তে চাড়া দেবার জন্য’ – কথাটি কার ? 

উত্তর : লেখক পরশুরামের। 

প্রশ্ন ১৬। তোতা সওদাগরকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন? 

উত্তর : মরার আগে মরবার, চেষ্টা করো। 

প্রশ্ন ১৭। ‘অভিমান ত্যাগ করে জ্ঞান সেখো।’ – উক্তিটি কার ?

উত্তর : কবীরের। 

প্রশ্ন ১৮। ‘মরার আগে মনে শাসন জ্বালা ঘুচে যায়’ – এটি কার উক্তি? 

উত্তর : লালন ফকিরের। 

প্রশ্ন ১৯। ‘ঘোড়া চুরির পর আস্তাবলে তালা মেরে কি লভ্য !’ — উক্তিটি কার? এর তাৎপর্য লেখো।  

উত্তর : উক্তিটি ইরান দেশের সওদাগরের। উক্তিটির তাৎপর্য হইল ঘোড়া চুরি হইয়া যাইবার পরে খালী আস্তাবলে (ঘোড়ার ঘর) তালা মারিয়া কোনো লাভ নাই। 

সওদাগর ভারতবর্ষ হইতে তোতার জন্য সওগাত আনিবার চেষ্টায় বিফল হইয়াছেন। এবং দেখিলেন তাহাতে বিনা দোষে একটি তোতার প্রাণ গিয়াছে। সেই দুঃখের কথা নিজের তোতাকে বলিতে চাহেন নাই। কিন্তু তোতার সামনে পড়িয়া বলিয়া ফেলিলেন। তাহাতে তাঁহার নিজের তোতাটিও প্রাণ হারাইল। এই ঘটনায় সওদাগর খুবই দুঃখিত হইলেন। এবং নিজকে সান্ত্বনা দিতে গিয়া এই উক্তি করিয়াছেন।

Leave a Reply