SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-3| বলাই

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-3| বলাই প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-3| বলাই এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-3| বলাই

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-3| বলাই Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-১  গ

লেখক পরিচিতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) ১৮৬১ সালের ৭ই মে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্ম গ্রহণ করেন। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর কৃতি সন্তান ছিলেন। স্কুল কলেজের গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণ না করিলেও গভীর অধ্যয়নের দ্বারা বিচিত্র বিষয়ে তাঁহার অসামান্য প্রতিভা ও তীক্ষ্ণ মনীষা পরিস্ফুট হইয়াছিল। গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনি, শিক্ষা, রাজনীতি, ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য, নাটক, কবিতা, প্রহসন, গান, ছন্দ, বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন।

– ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে বিশ্ববিশ্রুত নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁহার গঠনমূলক কর্মপ্রতিভার নিদর্শন হইল শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা এবং শ্রীনিকেতনে কৃষি পরিকল্পনা। বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করিতে রবীন্দ্রনাথের অবদান বিস্ময়কর এবং চিরস্মরণীয়। ১৯৪১ সালের ৭ই আগষ্ট প্রতিভাধর কবির মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন ১। ‘বলাই’ গল্পটির সারাংশ বা সারসংক্ষেপ লিখ। 

উত্তর : লেখকের ভ্রাতুষ্পুত্র বলাই প্রকৃতিপ্রেমী। বাল্যকাল হইতেই সে প্রকৃতির সুন্দর সকল বস্তুকে নীরবে চাহিয়া দেখিতে ভালবাসে। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত, আকাশে ভাসিয়া আসা ঘন কালো মেঘ, আমগাছের আমের বোল, পুষ্পিত শালবন, সবুজ ঘাসের আস্তরণ এই সমস্ত যেন তাহার মনকে রঙিন নেশায় পূর্ণ করে। প্রকান্ড দেবদারু গাছের ভিতরকার মানুষটিকে দেখিয়া সে তাহার রক্তের মধ্যে অনুভব করে এক অব্যক্ত স্মৃতি। গাছেদের সহিত তাহার যেন বয়স্য ভাব আছে যাহা প্রকাশ করিতে পারেনা। 

গাছের ফুল অকারণে ছিঁড়িয়া নষ্ট করা বা ডাল ভাঙ্গা সে সহ্য করিতে পারেনা। এইজন্য ঘাসিয়ারাদের প্রতি তাহার রাগ। 

সে অনুভব করে কিছু কিছু ব্যথা যেন তার নিজস্ব। যাহা অব্যক্ত। বিশ্বপ্রাণের মুক গাছগুলি যেন অনন্তকাল ধরিয়া তাহার সঙ্গেই আছে অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে। 

বাগানের রাস্তার ধারে শিমুল চারাটির সহিত তাহার নিবিড় সম্পর্ক। পড়াশুনা করিবার জন্য। বাবা তাহাকে শিমলা নিয়া যান। মাতৃহীন বলাইয়ের যত আবদার কাকিমার নিকট। শিমলা হইতে কাকিমাকে চিঠি লিখিয়া জানায় বিলাত যাইবার পূর্বে সে শিমুল গাছের একটা ফটোগ্রাফ নিতে ইচ্ছুক। কাকিমা যেন তাহা পাঠাইয়া দেন। কিন্তু শিমুল গাছটি কাটিয়া ফেলায় কাকিমা প্রচন্ড দুঃখিত হইয়া দুইদিন অম্ল ত্যাগ করিয়াছিলেন। তিনি জানিতেন। শিমুল গাছটি ছিল তাহার প্রাণের দোসর। 

শব্দার্থ : উপসংহার পরিশেষ: প্রছন্ন গুপ্ত, লুকানো খোয়াড় ইত্যাদি আবদ্ধ করিয়া রাখিবার স্থান। বাঘারুতে এক খোঁয়াড়ে – বাধ্য হইয়া হিংসা গরু, ছাগল ত্যাগ করিয়া বসবাস করা; অহি-নকুল চরম শত্রুতার সম্পর্ক (বিশিষ্টার্থক বাক্যাংশ); স্তম্ভিত — বিস্মিত; নিবিড় গভীর ; অব্যক্ত অনুচ্চারিত জোড়াতাড়া ক চালাইবার জন্য লওয়া ব্যবস্থা ৰেঙ্গমা-বেনী রূপকথায় বর্ণিত মানুষের ভাষা বলা পাখি; আস্তরণ আচ্ছাদন; পুঞ্জ স্তূপ, রাশি ; ঔৎসুক্য আগ্রহ। বয়স্য সমবয়সী বন্ধু ; আঁকুপাকু ব্যস্ততা প্রকাশ, ব্যাকুল ; ঘাসিয়াড়া ঘাস কাটে যে নিষ্ঠুর নির্দয়; ধাত্রী সন্তান প্রসব করান যিনি। দিনরাত্রি ; খাতির আদর, সম্মান; লক্ষ্মীছাড়া – উৎকণ্ঠিত উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল অগ্রগামী সম্মুখে গমনকারী। – – ; মুক বোবা অহনিশি – শ্রীহীন; প্রশ্রয় আদর দেওয়া, – আস্তারা পত্রসমৃদ্ধি পাতার বাংলা; নিড়ানি যে যন্ত্র দ্বারা আগাছা কাটা হয়। দ্যুলোক স্বর্গলোক: প্রতিরূপ – প্রতীক; দোসর সঙ্গী; লাবণ্য সৌন্দর্য ; – – 

প্রশ্নোত্তর 

(ক) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : 

প্রশ্ন ১। বলাই পাঠটির লেখক কে? 

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

প্রশ্ন ২। বলাইয়ের সঙ্গে লেখকের কি সম্পর্ক ছিল?. 

উত্তর : বলাই লেখকের ভাইপো ছিল? 

প্রশ্ন ৩। অতি পুরানো বটের কোটরে কারা বাসা বেঁধে আছে?

উত্তর : বেঈমা-বেঙ্গমী নামে একজোড়া পাখি। 

প্রশ্ন ৪। বলাইয়ের মা কোথায় গিয়েছিল ?

উত্তর : বলাইয়ের মা পরলোকে গিয়াছিলেন।

 প্রশ্ন ৫। একদিন সকালে বলাই ওর কাকাকে কি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল?

উত্তর : বাগানে একটি গাছের চারা দেখাইতে নিয়া গিয়াছিল।

প্রশ্ন ৬। বলাইয়ের সবচেয়ে বেশি স্নেহ কিসের উপর ছিল? 

উত্তর : শিমুল গাছটির উপরে। 

প্রশ্ন ৭। শিমলে থেকে বলাই ওর কাকিমাকে কি পাঠিয়ে দেবার জন্য চিg পাঠিয়েছিল ? 

উত্তর সেই শিমুল গাছটির একটা ফটোগ্রাফ।

প্রশ্ন ৮। বলাইয়ের বাবা ৰলাইকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন ? 

উত্তর : প্রথমে শিমলা তারপর বিলাতে। 

প্রশ্ন ৯। বিলাত যাবার পূর্বে বলাই তার কোন বন্ধুর ছবি নিয়ে যেতে চেয়েছিল? 

উত্তর : বন্ধু শিমুল গাছের। 

প্রশ্ন ১০। মা মারা যাবার পর বলাইকে কে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে? 

উত্তর: কাকিমা।

প্রশ্ন ১১। তারা ওর চির – অসমাপ্ত গলা’ – এখানে ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা – হয়েছে? 

উত্তর : সদ্য গজানো কচি কচি পাতা সহ অঙ্কুরিত গাছের চারার কথা বলা হয়েছে। 

(খ) শুদ্ধ অশুদ্ধ নির্ণয় করো : 

প্রশ্ন ১। বলাই একটি মেয়ের নাম। 

উত্তর : অশুদ্ধ। 

প্রশ্ন ২। বেশি কথা কইতে পারেনা বলে বলাইকে অনেক বেশি ভাবতে হয়। 

উত্তর : শুদ্ধ।

প্রশ্ন ৩। লেখকের ছোট ভাইয়ের নাম ছিল বলাই? 

উত্তর : অশুদ্ধ। 

প্রশ্ন ৪। শিমূল গাছটি ছিল বলাইয়ের প্রাণের দোসর। 

উত্তর : শুদ্ধ।

প্রশ্ন ৫। ‘বলাই’ পাঠটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

উত্তর : অশুদ্ধ। 

(গ) শূন্যস্থান পূরণ করো : 

প্রশ্ন ১। মাঘের শেষে আমের ______ধরে।

উত্তর : বোল। 

প্রশ্ন ২। ফাল্গুনে _____ শালবনের মতোই ওরপ্রকৃতি চার দিকে বিস্তৃত ______হয়ে উঠে। 

উত্তর : পুষ্পিত, অন্তর।

প্রশ্ন ৩। ও কাউকে না বলে ______ গিয়ে সেই দেবদারু বনের _______একলা  অবাক হয়ে বসে থাকে।

উত্তর : আস্তে আস্তে, নিস্তব্ধ ছায়াতলে। 

প্রশ্ন ৪। শিমুল গাছ বাড়ে ও দ্রুত, কিন্তু বলাইয়ের _____পাল্লা দিতে পারেনা।

উত্তর : বলাইয়ের আগ্রহের। 

প্রশ্ন ৫। আমার সঙ্গে যখন পারলে না, এই _______শিশুটি গেল কাকির কাছে। 

উত্তর : মাতৃহীন। 

প্রশ্ন ৬। ওই গাছ যে ছিল তাঁর বলাইে______তারই প্রাণের _____।

উত্তর : প্রতিরূপ, দোসর। 

প্রশ্ন ২। (ক) বাক্য রচনা করো : 

উত্তর : ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে : বাচ্চা ছেলেটা মাকে খুঁজিয়া না পাইয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদিতে লাগিলো। 

আঁকু-পাঁকু: কথাটা শোনার পর সবাইকে তাহা বলিবার জন্য মেয়েটির মনটি কেবলই আঁকুপাঁকু করিতেছে। 

গড়াতে গড়াতে : হাসির চোট টাল সামলাইতে না পারিয়া সে গড়াতে গড়াতে নিচে পড়িয়া গেল। 

সুড়সুড়ি : দুপুরে দাদুর ভাতঘুমে দুষ্ট নাতি আসিয়া দানুর গায়ে সুড়সুড়ি দিয়া দানুর ঘুমের বারোটা বাজায়।

খিলখিল : ছোট শিশুটির খিলখিল হাসি সবার মন ভরিয়া দেয়। 

ছমছম : রাতদুপুরে বিশাল বটগাছের নিচ দিয়া যাইতে ভয়ে গা ছমছম করে।

স্তরে স্তরে : মামার বইয়ের আলমারিতে বিভিন্ন ধরনের বই স্তরে স্তরে সাজানো রহিয়াছে। 

দেখে দেখে : আগে আমি কিছুই শিখিনাই, এখন দেখে দেখে সব শিখে নিয়েছি। 

বসে বসে : সারাটা দিন নদীর পারে বসে বসে অবিশ্রান্ত জলরাশি বয়ে যাওয়া দেখিলাম। 

ড্যাবা ড্যাবা ছেলেটা ড্যাবা ভ্যাবা চোখ মেলিয়া ঘটনাটির নীরব সাক্ষী হইয়া থাকিলো। 

ছোট ছোট : বঞ্চিত হওয়ার ছোট ছোট কষ্টগুলি আজ তাহাকে বিদ্রোহী করিয়াছে।

 অহি নকুল : সামান্য ঘটনার জেরে তাহাদের এতদিনের বন্ধুত্ব আজ অহি নকুলে পরিণত হইয়াছে। 

জোড়াতাড়া ঃ জোড়াতাড়া দিয়ে যে কাজটি করেছ এর স্থায়িত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ আছে।

 ঝমঝম : রাতে টিনের চালের ওপর যখন বৃষ্টি ঝমঝম করে পড়ে তখন আমার খুব ভাল লাগে।

(খ) টীকা লেখো : 

বলাই :মাতৃহীন বলাই প্রকৃতি প্রেমিক। প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টি তাহাকে বিস্মিত করে। নবোদয় সূর্যের রক্তিম আভা, অস্তগামী সূর্যের অপরূপ দৃশ্য। মেঘের আসা-যাওয়া, এইট যেন তাকে অপার আনন্দ প্রদান করে। ছোট চারাগাছ হইতে ফলে-ফুলে সুশোভিত গাছ যেন তাহার সহিত কথা বলে। তাহারা যেন বলাইয়ের বন্ধু যাহা সে কাহারও নিকট প্রকাশ করিতে পারেনা। 

শিমুল গাছ: এক প্রকার তুলার গাছ। শিমুল ফুলরে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয়। বালাইদের বাগানের রাস্তার ধারে গাইয়া উঠা ছোট চারাটিকে বলাই আবিষ্কার করে। তাহার নিত্য পরিচর্যায় গাছটি দ্রুত বাড়িতে থাকে। গাছের বাড়ন্ত পাতা দেখিয়া বলাই চমৎকৃত হয়। চারাটির সঙ্গে যেন তাহার নিবিড় প্রাণের সম্পর্ক। শিমলায় গিয়াও ও মুহূর্তের জন্য ও শিমুল গাছটিকে ভুলিতে পারে নাই। 

বেঙ্গমা-বেঈমী : রূপকথার গল্পের আশ্বর্য এক পাখি এবং পাখিনী। তাহারা অতীতের কথা বলিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ দেখিতে পায়। মানুষকে সঠিক দিশা প্রদর্শন করা তাহাদের কাজ। শিকার করিতে করিতে রাজকুমার যখন গভীর অরণ্যে প্রবেশ করিয়া। নিভ্রান্ত হইয়া পড়ে তখন বেঈমা-বেঈমী সঠিক পথের নির্দোশ দিয়া তাহার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্বন্ধে উপায় বলিয়া দেয়। মাতৃহীন বলাই তাহার কাকিমার কাছে বেঈমা বেঈমীর গল্প খুব আগ্রহভরে শুনিত। 

খোঁয়াড় : অপরের ক্ষেতের ফসল গরু ছাগল নষ্ট করিলে ক্ষেতের মালিক তাহাদের শাস্তিস্বরূপ যেখানে আটাকাইয়া রাখে তাহাই ধোঁয়াড়। ইহা একটি আবদ্ধ স্থান যেখানে গরু-ছাগলকে অভুক্ত থাকিতে হয়। গরু-ছাগলের মালিক জরিমানা দিয়া তাহাদের ছাড়াইয় লইয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ধোঁয়ার’ শব্দটির দ্বারা জীবজন্তুকে একই সঙ্গে মিলাইয় রাখার কথা বুঝাইয়াছেন। তাহার মতে মানুষের মধ্যে বাঘ-গরুকে এক খোঁয়াড়ে রাখা হইয়াছে। মানুষ এখানে খোঁয়াড়ের প্রতীক। 

৩। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :

(ক) ছোটবেলা থেকে বলাইয়ের কি অভ্যাস ছিল?

উত্তর : ছোটবেলা হইতে বলাইয়ের প্রকৃতির বিচিত্র সৃষ্টির সুন্দর সকল বস্তুকে চুপচাপ চাহিয়া দেখিবার অভ্যাস ছিল।

(খ) কখন, কেমন করে বলাইয়ের অন্তর- প্রকৃতিতে ঘন রং লাগে?

উত্তর : যখন কালো মেঘ ঝমঝম করিয়া বৃষ্টি ঝরায়, ছাদের উপর অপরাহ্ণের রোদ। আসে, আমগাছে নূতন মুকুল আসে তখন বলাইয়ের অন্তরে পূর্ণতার আনন্দের রং লাগে।

(গ) বস্তুত আমরা কোন পদার্থকে মানুষ বলে থাকি ?

উত্তর : আমরা মানুষ বলি সেই পদার্থকে যাহা আমাদের ভিতরকার সব জীবজন্তুকে মিলাইয়া এক করিয়া দেয়। 

(ঘ) ‘কেউ গাছের ফুল তোলে এইটে ওর বড়ো বাজে’ এখানে ‘ওর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কেউ গাছের ফুল তুললে ওর বাজে কেন? ওর প্রকৃতি কেমন? 

উত্তর : এখানে ‘এর’ বলিতে বলাইকে বোঝানো হইয়াছে। ফুল তুলিলে ফুলের অব্যক্ত বাধা সে অন্তর দিয়া অনুভব করিতে পারিত বলিয়া কষ্ট পাইত। বলাই অত্যন্ত সংবেদনশীল, মানসিকতার অধিকারী।

(ঙ) বলাইয়ের সঙ্গীরা ওকে ব্যাপাবার জন্য কি কি করতো?

উত্তর : বলাইয়ের সঙ্গীরা তাহাকে খ্যাপাইবার জন্য ছড়ি দিয়া রাস্তার দুই পাশের গাছগুলিকে আঘাত করিত আবার কেহ গাছের ডাল ভাঙিয়া দিত। 

(চ) একদিন বলাই ওর কাকিমার গলা জড়িয়ে ধরে কি বলেছিল? 

উত্তর ঃ কাকিমাকে বলিয়াছিল যে, ঘাসিয়াড়া যেন সুন্দর পাতায় পূর্ণ ছোট ছোট চারাগুলিকে কাটিয়া না দেয়। 

(ছ) বলাই তার রক্তের মধ্যে বিশ্বপ্রাণের কি বাণী শুনতে পেয়েছিল ? 

উত্তর : বলাই তার রক্তের মধ্যে বিশ্বপ্রাণের চিরন্তন বাণী ‘আমি থাকব, আমি থাকব? শুনিতে পাইয়াছিল। 

(জ) বলাই কখন চমকে উঠে কাকিমাকে কি অনুরোধ করেছিল? 

উত্তর : বলাই যখন শুনিতে পাইল যে কাকা গাছটিকে উপড়াইয়া ফেলিয়া দিবেন তখন কাকিমার গলা জড়াইয়া অনুরোধ করিয়াছিল যে কাকা যেন গাছটিকে কাটিয়া না ফেলেন।

(ঝ) লেখক তাঁর ভাইপোকে কি বলে শিমুল গাছটা কেটে ফেলার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন ? 

উত্তর : লেখক প্রস্তাব দিয়াছিলেন যে শিমুল গাছের স্থানে গোলাপের চারা লাগাইয়া দিবেন এবং অন্য শিমুল গাছের চারা আনিয়া বেড়ার ধারে লাগাইয়া দিবেন।

(ঞ) শিমলা থেকে বলাইয়ের চিঠি এলে কাকিমা কি করেছিলেন ?

 উত্তর : বলাইয়ের কাকাকে শিমুল গাছের ছবি পাঠাতে বলায় জানিতে পারিলেন সেই গাছ কাটিয়া ফেলা হইয়াছে তখন তিনি দুইদিন আহার ত্যাগ করিয়াছিলেন।

প্রশ্ন ৪। ৪/৫ বাক্যে উত্তর দাও : 

(ক) বলাইয়ের কাকিমা দুদিন অন্নগ্রহণ করেননি কেন? 

উত্তর : মাতৃহীন বলাইতে কাকিমা কোলেপিঠে করিয়া বড় করিয়াছেন। কাকিমা তাহাকে প্রাণ দিয়া ভালবাসিতেন। শিমুল গাছটির প্রতি বলাইয়ের প্রবল স্নেহ ছিল। বিলেতি কায়দায় শিক্ষা গ্রহণ করিবার জন্য তাহাকে প্রথমে শিমলার পরে বিলেতে পাঠানো হইয়াছিল।

বিলেতে যাইবার পূর্বে কাকিমাকে চিঠিতে জানাইয়াছিল শিমুল গাছটির ছবি পাঠাইতে। কিন্তু গাছটি কাটা হইয়াছে জানিতে পারিয়া তিনি দুঃখে, অভিমানে দুইদিন অন্নগ্রহণ করেন নাই। 

(খ) বিলেত যাওয়ার পূর্বে বলাই শিমলে থেকে কাকিমাকে চিঠিতে কি লিখে পাঠিয়েছিল?

উত্তর : বিলেতে যাইবার পূর্বে বলাই তাহার প্রাণের দোসর শিমুল গাছের স্মৃতি সঙ্গে লইয়া যাইতে চাহিয়াছিল। সেইজন্য তাহার কাকিমাকে চিঠিতে লিখিয়াছিলেন যে শিমুল গাছের একটি ছবি তুলিয়া যেন তাহাকে পাঠান। প্রবাসী জীবনে সেই ছবি তাহাকে আনন্দ দিবে। প্রিয় বন্ধুকে নিকটে পাওয়া, তার সান্নিধ্য লাভ করার যে কত আকুলতা তাহা চিঠির মাধ্যমে অনুভব করা যায়। 

(গ) ‘বলাই’ কেন ছোটবেলা থেকেই কাকিমার কাছে লালিত পালিত হয়েছে?

 উত্তর : বলাই যখন খুব ছোট অর্থাৎ মায়ের কোলে ছিল তখন তার মায়ের মৃত্যু ঘটে। মাতৃহীন ছোট বলাইকে তার কাকিমা বুকে টানিয়া লইয়াছেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। বলাইকে নিজের সন্তানের মত স্নেহে, ভালবাসায় পূর্ণ করিয়া মায়ের অভাব মিটাইতে চাহিয়াছিলেন। তাই বলাই ছোট বয়স হইতেই কাকিমার কাছে লালিত পালিত হইয়াছে। 

(ঘ) বলাই কখন চমকে উঠেছিল এবং কেন? 

উত্তর ও বাগানের রাস্তার মাঝখানে শিমুল গাছের চারা দেখিয়া বলাইরে মন খুব আনন্দে, খুশিতে ভরিয়াছিল। তখন হইতে গাছের পরিচর্যায় নিজেকে ব্যস্ত রাখিয়াছিল। ধীরে ধীরে তার পত্রসমৃদ্ধি দেখিয়া উৎসাহভরে কাকাকে দেখাইল। কিন্তু কাকা রাস্তার মাঝখানে গাছটির অবস্থান দেখিয়া উহাকে কাটিয়া ফেলিবেন বলাতে বলাই চমকাইয়া উঠিয়াছিল। কারণ গাছটিকে সে প্রাণের দোসর বলিয়া ভাবিত। নিজ হাতে তার পরিচর্যা করিত বলিয়া বিশেষ মমতা বা স্নেহ তাহার গাছটির উপর ছিল।

 (ঙ) একদিন লেখককে তার ভাইপোটি কোথায়, কখন, কেন ডেকে নিয়ে গিয়েছিল? 

উত্তর : লেখকের ভাইপো বলাই লেখককে বাগানে লইয়া গিয়াছিল। একদিন সকালে যখন লেখক খবরের কাগজ পড়িতেছিলেন। বাগানের রাস্তার মধ্যে হঠাৎ করিয়া গজাইয়া উঠা চারাগাছটিকে দেখিয়া উৎসাহভরে কাকাকে তাহা দেখাইবার জন্য ডাকিয়া লইয়া গিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৫। তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো :

(ক) এই ছেলের আসল বয়স সেই কোটি বৎসর আগেকার’

 উত্তর : যেদিন পৃথিবীতে পশুপাখির সৃষ্টি হয় নাই চারিদিকে কেবল পাথর এবং জল সেদিন বৃক্ষ নিজের এবং ভাবী অরণ্যের অস্তিত্বের বাণী আকাশে বাতাসে ছড়াইয়া দিয়াছিল। সেই হিসাবে গাছের বয়স যেন কোটি বৎসরের বেশি। বলাই যেন আদিম অরণ্যের ভাষা নিজের মধ্যে শুনিতে পায়। তাহাদের ব্যথা, কন্ঠের সমভাগী হইত। তাহার (বলাই-র) মনে * হইত প্রতিটি বৃক্ষ যেন তাহার আত্মার দোসর। মুক গাছগুলি তাহারই মত অনুভব প্রকাশ করিতে পারেনা। বলাই-র চিন্তাধারা এবং উদ্ভিদ প্রীতি দেখিয়া মনে হয় তাহার বয়স যেন গাছেরই মত কোটি বৎসর পূর্বের। 

(খ) “এতদিনে এইসব চিহ্নকে ছাড়িয়ে গিয়ে বলাই অনেক বড়ো হয়ে উঠেছে।” 

উত্তর : বিদেশের শিক্ষায় শিক্ষিত করিবার জন্য বলাইকে যখন তাহার পিতা কাকিমার স্নেহাঞ্চল হইতে লইয়া গেলেন তখন কাকিমা তাহার কথা ভাবিতেন এবং অশ্রুবিসর্জন করিতেন। বলাইয়ের শয়নকক্ষে গিয়া তাহার ছেঁড়া একপাটি জুতা, খেলার রবারের ফাটা বল এবং জানোয়ারের গল্পের ছবির বইগুলি নাড়াচাড়া করিয়া তাহার স্মৃতি রোমন্থন করিয়া চোখের জল ফেলিতেন। নিজে নিঃসন্তান বলিয়া অন্তরের বাৎসলা রসে বলাইকে সিজ করিয়া রাখিতেন। এতদিন বলাই-র অদর্শন কাকিমাকে পিডীত করে। মনকে ইহা ভাবিয়া প্রবোধ দেন যে বলাই-র এখন আর এগুলির প্রয়োজন নাই। সে এখন হয়তো অনেক বড় হইয়া উঠিয়াছে।

(গ) “বছর খানেকের মধ্যে গাছটা নির্লজ্জের মত মস্ত বেড়ে উঠল।” 

উত্তর : ছোট শিমুল গাছের চারাটিকে হঠাৎ আবিষ্কার করে বলাই অত্যন্ত আনন্দিত হইল। প্রতিদিন নিজ হাতে জল দেয় এবং আগাছা পরিষ্কার করে। ফলে গাছটি দুই হাত সমান উঁচু হইয়াছে এবং অনেক পাতা গজাইয়াছে দেখিয়া বলাই পুলকিত হইয়া উঠিল। চলাচলের পথে গাছটির বাড় বাড়ন্ত রূপ সকলের অসুবিধা সৃষ্টি হইলেও গাছটির কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। সংকোচ নাই। তাই নির্লজ্জের মত বড় হওয়ার কথা বলা হইয়াছে। 

(ঘ) “তারা ওর চির-অসমাপ্ত গল্প”। 

উত্তর : বলাইয়ের কল্পনায় গাছ মানুষ হইয়া দেখা দেয়। তাহার ভাবে ভোলা চোখ- দুইটি কেবল গাছের দিকেই নয় নতুন অঙ্কুরগুলি কিভাবে মাটি ভেদ করিয়া তাদের কোঁকড়ানো মাথা নিয়া ঊর্ধ্বমুখে আলোর দিকে চাহিয়া থাকে তাহা উৎসাহ ভরে চাহিয়া দেখিত। বীজ হইতে চারা তারপর পর পুষ্পে সমৃদ্ধ বৃক্ষ কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে এই সকল সম্বন্ধে তাহার যেন অনন্ত জিজ্ঞাসা। শিশুদের গল্প শুনিবার অদম্য আকাঙ্খার মত তাহার যেন অসমাপ্ত গল্প। তারপরে? তারপরে? একলা বসিয়া তাহাদের সহিত আপন মনে যেন গল্প করিয়া চলে। 

(ঙ) “আমি চিরপথিক, মৃত্যুর পর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে যাত্রা করব রৌদ্রে-বাদলে, দিনে-রাত্রে।” 

উত্তর : পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণের স্পন্দন দেখা যায় বৃক্ষ অর্থাৎ উদ্ভিদের মধ্যে। বিশ্বপ্রাণের মূক ধাত্রী গাছ। যুগ যুগান্তর হইতে প্রাণের বাণীতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সে বনে,প্রান্তরে ছড়াইয়া দিতেছে। জীবনের ক্ষেত্রে গাছ সর্বাগ্রে জন্মিয়াছে তাই জীবনের মূল উৎস সূর্যকে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষা করিবার প্রণিপাত জানাইয়া দিন রাত্রি, প্রখর রৌদ্র এবং বাদলের মধ্যে ও অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে যাত্রা করিবে ইহা তাহার দৃঢ় প্রত্যয়। মৃত্যুর মধ্য দিয়া অন্তহীন প্রাণের বাণী। ‘আমি থাকব’ এই বার্তা লইয়াই তাহার চিরন্তন যাত্রা।

 প্রশ্ন ৬। রচনামূলক প্রশ্ন :

(ক) বলাই-এর চরিত্র আলোচনা করো : 

উত্তর : বলাই গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র বলাই। মাতৃহীন বলাই কাকিমার স্নেহ ও সাহচর্যে বড় হইয়াছে। বাল্যকাল হইতে ড্যাবা ভ্যাবা চোখ মেলিয়া তাকাইয়া থাকা তাহার অভ্যাস।

বলাই উদ্ভিদ প্রেমিক : গাছপালা তাহাকে খুব আকর্ষণ করে। গালপালা যেন তাহার আত্মার দোসর। তাহাদের ব্যথা বলাইকে ব্যথিত করে। ছোট শিমুল গাছের চারাকে যেন তাহার অন্তরে স্নেহের আবরণে ঢাকিয়া রাখিয়াছিল। বিলাতের প্রবাসী জীবনে গাছটির ছবি তাহাকে সান্নিধ্য দিবে এই আশায় তাহার ছবি চাহিয়া চিঠিতে লিখিয়াছিল। তাহার সঙ্গীর যখন আনন্দ পাইবার জন্য গাছগুলিকে আঘাত করে ফুল ছিঁড়ে তখন সে কষ্ট পাইলেও কিছু বলিতে পারেন। 

প্রকৃতি প্রেমিক : কালো মেঘ যখন প্রকৃতির বুকে বৃষ্টি ঝড়ায় তখন বলাই-এর শরীরে বৃষ্টির শব্দ ঘনাইয়া উঠে। অস্তগামী সূর্যের শেষ রশ্মি শরীরে মাখিয়া আকাশ হইতে কি সংগ্রহ করে তাহা সেই জানে। ফাল্গুনের পুষ্পিত শালবন, আমের বোল যেন তাহার অন্তর প্রকৃতিতে রং লাগিয়ে দেয়। 

কল্পনা প্রবণতা : পাহারে ঢাল বাহিয়া নীচে নামিয়া যাওয়া ঘাসের আস্তরণকে কল্পনা করিয়া গড়াইয়া চলা খেলা। প্রতিটি গাছের মধ্যে বলাই মানুষের মুখ দেখিতে পায়। সদ্য গজাইয়া উঠা কচি কচি পাতার সহিত তাহার ভাব বিনিময় চলে। 

কৌতূহল প্রিয়তা : বলাইয়ের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হইল অদম্য কৌতূহল প্রিয়তা। গাছের অঙ্কুরোদগম হইতে ক্রমবৃদ্ধি সম্বন্ধে তাহার কৌতূহল ও উৎসকে সীমাহীন। জানার কৌতূহলে তাহার প্রশ্ন অন্তহীন। 

বলাইয়ের ভিতরে প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে পৃথিবীর বুকে প্রথম সৃষ্টির কথা। কোটি কোটি -বৎসর পূর্বে প্রথম গাছ জন্মিয়াছিল তাহাদের প্রাণের বাণী বলাই যেন নিজের রক্তে শুনিতে পাইয়াছিল।

(খ) ‘বলাই’ পাঠটি একটি প্রকৃতি বিষয়ক গল্প— এই আলোকে আলোচনা করো।

উত্তর : ‘বলাই’ পাঠটিতে বলাইকে প্রকৃতি প্রেমিক হিসাবে দেখিতে পাই। প্রকৃতির যা কিছু সুন্দর সেই দিকে বলাই আকৰ্ষিত হইয়া আপন মনের মাধুরী মিশাইয়া বিচিত্র সকল ছবি রচনা করে। প্রকৃতির রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধের বৈচিত্র্য লইয়া তাহার অদ্ভুত অনুভূতি প্রকাশ পায়। আকাশে কালো মেঘের ঝমঝম বৃষ্টি ওর মনকে সিক্ত করে। আমগাছে যখন আমের বোল ধরে, পুষ্পিত শালবন, সবুজ ঘাসের আস্তরণ এইগুলি দেখিয়া তাহার মন রঙিন আনন্দে ভরিয়া উঠে। সকালে কাঁচা সোনা রঙের রোদ যখন দেবদারু বনের উপর পড়ে তখন সেই নিস্তব্ধ ছায়াতলে অবাক হইয়া দাঁড়াইয়া দেবদারু গাছের মধ্যেকার মানুষকে দেখিতে পায়। তাহারা কথা বলেনা কিন্তু সব জানে। বলাইয়ের কল্পনায় তাহারা যেন রূপকথার দেশের দাদামশায় গাছের প্রতি তাহার ছিল গভীর মমত্ব। গাছের ফুল ছিড়িয়া তাহার ডাল ভাঙিলে তাহার মনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়না তাহা অব্যক্ত রাখে। কারণ সে উপহাসের পাত্র হইতে ইচ্ছুক নহে। 

তাহার প্রকৃতিতে গাছপালার মূল সুর প্রবল। তাই গল্পটির আগাগোড়া প্রকৃতির প্রাধান্য রহিয়াছে বলিয়া ‘বলাই’ পাঠটি প্রকৃতি বিষয়ক গল্প বলা সংগত।

(গ) “তাদের সঙ্গে ওর কি যে একটা রহস্যভাব তা ও কেমন করে প্রকাশ করবে।” —এখানে ‘তাদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? ‘ওর’-ই বা কে? ‘তাদের’ এবং ‘ওর’ চিরকালের সম্পর্কটা কি তা আলোচনা করো।

উত্তর : এখানে তাহাদের’ বলিতে অঙ্কুরিত গাছের চারা যাহাদের গায়ে সদ্য গজাইয়াছে।

কচি কচি পাতা তাহাদের বুঝাইয়াছে।। 

“ওর’ বলিতে বলাইকে বুঝান হইয়াছে। 

বলাইয়ের সহিত গাছপালার যেন এক নিবিড় সম্পর্ক। তাহারা যেন তার প্রাণের দোসর। প্রকাণ্ড গাছের ভিতরের মানুষটি সে দেখিতে পায়। কচি পাতা দেখিয়া তাহার মন পুলকিত হইয়া উঠে। তাহাদের সমবয়সী ভাবিয়া তাহাদের সহিত ভাবের আদান-প্রদান করে। কেহ গাছের ফুল ছিঁড়িলে বা ডালপালা ভাঙিলে বলাই তাহাদের সমব্যথি হয়। সে অনুভব করে কতকগুলি ব্যথা আছে যাহা তাহার একান্ত নিজস্ব। চারিপাশের লোকের মধ্যে ইহার কোন প্রভাব পড়ে না। বিশ্বপ্রাণের বাণী বলাই যেন নিজের রক্তে শুনিতে পাইয়াছিল। সে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছিল বিশ্বপ্রাণের মূক গাছপালাগুলি যেন অনন্তকাল ধরিয়া তাহার সহিত আছে, অন্তহীন প্রাণের বিকাশতীর্থে। বাগানে সদ্যোজাত শিমুল গাছটি দেখিয়া তাহার উৎসাহের অন্ত ছিলনা। শিমুল চারাটির সহিত যেন তাহার নিবিড় প্রাণের সম্পর্ক। শিমলাতে গিয়াও বলাই গাছটির কথা ভুলিতে পারে নাই। সেইজন্যে তাহার একটি ছবি চাহিয়া চিঠিতে জানাইয়াছিল। জন্মসূত্রে সে মানব সন্তান হইলেও গাছপালার সহিত তাহার অবিচ্ছিন্ন সখ্য, পরম আত্মীয়তা। 

(ঘ) ‘বলাই’ গল্পের মাধ্যমে এর প্রকৃতি প্রীতির পরিচয় দাও। 

উত্তর : বলাই প্রকৃতি প্রেমিক। বাল্যকাল হইতেই সে বিচিত্র সৃষ্টির অসংখ্য ও নিবিড় সকল বয়কে নীরবে চাহিয়া দেখিতে ভালবাসে। সকাল ও বিকালের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত, স্তরে স্তরে সজ্জিত ঘন কালো মেঘ, আমগাছের মুকুল, পুষ্পিত শালবন এবং প্রকৃতির বুকে বিছানো সবুজ ঘাসের আস্তরণ। এইগুলি তাহার মনে অকারণ পুলক জাগায়। দেবদার গাছের দিকে অপলক দৃষ্টি মেলিয়া সে যেন গাছের ভিতরকার মানুষকে দেখিতে পায়। তাহারা কথা বলেনা কিন্তু সকল কিছু যেন জানে। বলাই তাহার রক্তের মধ্যে মধ্যে অনুভ করে এক অব্যক্ত স্মৃতি। বাগানে ছোট ছোট অঙ্কুরিত গাছের চারা যাহাদের গায়ে মার গজাইয়াছে কচি কচি পাতা সেইগুলিকে যখন ঘাসিয়াড়া আগাছা নিড়ানি দিয়া নষ্ট কে তখন সে অত্যন্ত কষ্ট পায়। গাছপালা যেন তাহার অকৃত্রিম বন্ধু। কেহ গাছের ফুল অথবা গাছের ডাল তুলিয়া নষ্ট করিলে অথবা ভাঙিয়া ফেলিয়া দিলে তাহার অন্তরে ব্যথা লাগে। বলাই অনুভব করিত কতকগুলি ব্যথা আছে যাহা সম্পূর্ণ তাহার একার ব্যথা। যাহা অব্যক্ত। মূক গাছপালাগুলি যেন অনন্তকাল ধরিয়া তাহার সঙ্গেই আছে অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে। সে যেন চিরপথিক। 

লেখক প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিয়া বলাই চরিত্রকে উপস্থাপিত করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ৭। পাঠনির্ভর ব্যাকরণ :

(ক) নীচের শব্দগুলোর বিপরীত শব্দ লেখো : 

বিস্তৃত, প্রচ্ছন্ন, অব্যক্ত, অন্তর, প্রকান্ড, অসমাপ্ত, নিষ্ঠুর, অমৃত, নির্লজ্জ, নির্বোধ, বন্ধুর,

ক্ষত, প্রতিরূপ, নিবিড়

উত্তর : 

শব্দ                 বিপরীত শব্দ
বিস্তূত সংকীন
অব্যক্তব্যক্ত
প্রকাণ্ড ক্ষুদ্র
নিষ্ঠুর দয়ালু
নির্লজ্জ    লজ্জাশীল   
বন্ধুর       মসৃণ
প্রতিরূপ রূপ
প্রচ্ছন্নউন্মুক্ত
অন্তরবাহির
অসমাপ্তসমাপ্ত
অমৃতগরল
নির্বোধবুদ্ধিমান
ক্ষতঅক্ষত
নিবিড়নিঃসঙ্গ

(খ) রেখাঙ্কিত পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো : 

প্রশ্ন ১। একদিন সকালে একমনে খবরের কাগজ পড়ছি। 

উত্তর : অধিকরণ কারকে সপ্তমি’ বিভক্তি। কর্মকারকে শূন্য’ বিভক্তি। 

প্রশ্ন ২। বলাইয়ের কাঁচা হাতের লেখা চিঠি আমাকে দেখতে দিলেন। 

উত্তর : করণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

প্রশ্ন ৩। মাঘের শেষে আমের বোল ধরে। 

উত্তর : অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। কর্মকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।

প্রশ্ন ৪। বলাইয়ের কাকি দুদিন অন্ন গ্রহণ করলেন না। 

উত্তর : কর্তৃকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 

কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি। 

প্রশ্ন ৫। বলাই সেই দেবদারু বনের নিস্তব্ধ ছায়াতলে একলা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। 

উত্তর : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

(গ) পদ পরিবর্তন করো : 

সুন্দর, বিলেত, চিন্তা, গোপন, লোভ, চমৎকৃত, প্রত্যহ বিস্তৃত, অন্তর, পুষ্প, উৎসুক, প্রস্তাব, গ্রহণ, গম্ভীর, বন্ধুর, অসংগত।

 উত্তর : সুন্দর—সৌন্দর্য   বিলেতি—বিলেতি

 চিন্তা –চিন্তনীয়     গোপন–গোপনীয়

লোভ –লোভনীয়     চমৎকৃত–চমৎকার

প্রত্যহ–প্রাত্যহিক       বিস্তৃত–বিস্তার

অন্তর–আন্তরিক       পুষ্প–পুষ্পিত

উৎসুক–ঔৎসুক্য       প্রস্তাব–প্রস্তাবিত

গ্রহণ—গ্রহণীয় ‌         গম্ভীর–গাম্ভীর্য

বন্ধুর—বন্ধুরতা।        অসংগত—অসংগতি

প্রনশ্ন ৮। যোগ্যতা বিচার : 

(ক) প্রকৃতি প্রীতির প্রয়োজনীয়তা কি? 

উত্তর : প্রকৃতির অসীম অবদান মানব জীবনকে ঋদ্ধ করিয়াছে। প্রকৃতি হইতে আমরা প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করিতে পারি। প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাদের কর্মক্লান্ত দেহ ও মনে সঞ্জীবনী সুধা বর্ষণ করে। অরণ্য ধ্বংস করিয়া মানুষ যে ভাবে পৃথিবীকে মরুভূমিতে পরিণত করিতেছে তাহাতে অচিরেই পৃথিবী মনুষ্যহীন হইয়া পড়িবে। সেইজন্য গাছপালাকে সর্বতোভাবে রক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃতির গুরুত্ব অনুভব করিয়া বলিয়াছেন— “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও হে নগর। “

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

(খ) মানুষ— জীবজন্তুর সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক আলোচনা করো। 

উত্তর : প্রকৃতির সহিত জীবকূলের অচ্ছেদ্য সম্পর্ক। আরণ্য জীবকূলের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন উৎপন্ন করে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর আহার বিভিন্ন বৃক্ষ হইতেই পায়। অরণ্য মানবকুলের কল্যাণে কাঠ, কাগজ, উপহার দিয়া বাসস্থান নির্মাণ ও বিভিন্ন শিল্প উদ্যোগ গড়িয়া তুলিতে অকৃপণভাবে সাহায্য করে। জীবজন্তুর আশ্রয় স্থল অরণ্য এবং অরণ্যই মানবকুলের বাসস্থান নির্মাণে প্রয়োজনীয় সা-সরঞ্জামের যোগান দেয়। সুতরাং দেখা যায় জীবকূল এবং প্রকৃতি তথা অবশ্য অসাগীভাবে জড়িত।

প্রশ্ন (গ) বলাইয়ের সঙ্গীরা কি কি উপায়ে বলাইকে খ্যাপাবার চেষ্টা করতো তাড়া বর্ণনা করো? (HSLC 2020 ) 

উত্তর : বলাই সর্বদা নীরবে গাছপালার দিকে চাহিয়া তাহাদের সহিত যেন কথা বলিতে। চারিপাশের মানুষের তুলনায় তাহার বেশি যোগ ছিল গাছপালা ও তৃণলতার সহিত। তাহাদের সে নিবিড় ভাবে ভালবাসিত। বলাইয়ের সঙ্গীরা ইহা বুঝিতে পারিত। তাই তাহাকে খ্যাপাইবার জন্য বাগানের ভিতর দিয়া চলিতে চলিতে ছড়ি দিয়া দুই পার্শ্বে গাছগুলিকে মারিত। অকারণে গাছের ডাল ভাঙিত। ঢিল মারিয়া মারিয়া আমলকী পাড়িত। 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর 

রচনামূলক প্রশ্ন : 

প্রশ্ন ১। “সংগীতের ভিতরে এক-একটি সুর অন্য সকল সুরকে ছাড়িয়ে বিশেষ হয়ে ওঠে— কোল্টাতে মধ্যম, কোনটাতে কোমলগান্ধার, কোন্টাতে পঞ্চম—এখানে লেখক কার সম্বন্ধে কোন্ সুরের কথা উল্লেখ করেছেন বুঝিয়ে লিখ। 

উত্তর। এখানে লেখক বলাই সম্বন্ধে তার অনুভূতিতে, যে গাছপালার মূল সুরগুলি প্রবল হইয়া উঠিয়াছে সেই কথার উল্লেখ করিয়াছেন। 

বলাই-এর প্রকৃতিতে আমাদের চারিপার্শ্বের বিভিন্ন ধরনের গাছপালার মূল সুরগুলি প্রবলভাবে মূর্ত হইয়া উঠিয়াছে। বলাই বাগানের দেবদারু বনের নিস্তব্ধ ছায়াতলে দাঁড়াইয়া অনুভব করিত গাছের সহিত তাহার যেন কোন কালের প্রাণের যোগ ছিল। গাছেরা কথ বলে না কিন্তু সব রকমের অনুভূতি রহিয়াছে। কালো মেঘ জমিলে তাহার মনে সিজ হাওয়া যেন শ্রাবণ অরণ্যের গন্ধ আচ্ছন্ন করিয়া থাকে। যখন আমের বোল ধরে তাহার মন পুলকিত হইয়া উঠে। রক্তের মধ্যে কেমন এক অব্যক্ত স্মৃতিতে শালবনের মত তার অন্তর বিস্তৃত হইয়া রঙের দোলা দেয়। আপনমনে অনেক কথা বলিতে ইচ্ছা করে। পৃথিবীতে সৃষ্টির আদিম পর্বে বৃক্ষ, লতা-পাতার হাত ধরিয়া সকল জীবের চিরন্তন যাত্রা প্রবাহ চলিতেছে। বিশ্বপ্রাণের সেই অমরবাণী বালক বলাই যেন আপনার অন্তরে শুনিতে পাইত। ঢালু পাহাড়ের কচি কচি ঘাসের মধ্যে নিজেকে মিলাইয়া দিয়া উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিত। তাহারা যেন বলাইকে প্রশ্ন করে “তোমার নাম কী?’ ‘তোমার মা কোথায় গেল? বলাইও যেন গল্পে মগ্ন হইয়া আপনমনে জানায় আমার মা তো নাই। বলাই যেন বিশ্বপ্রাণের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি। আপন সুরের ঝর্ণাধারায় প্রবাহিত হইয়াছে। 

প্রশ্ন ২। “সেই বিশ্বপ্রাণের বাণী কেমন-একরকম করে আপনার রক্তের মধ্যে শুনতে পেয়ছিল ঐ বলাই।”—বিশ্বপ্রাণের সে বাণীটি কী? প্রকৃতির মর্মকথা লেখক এই বাণীর ভিতর দিয়ে তুলে ধরেছেন। আলোচনা কর।

উত্তর। বিশ্বপ্রাণের মুক্ত ধাত্রী গাছ। অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে যাত্রা করাই বিশ্বপ্রাণের বাণী। 

মেঘের শেষে আমগাছে বোল ধরে, তাহার একটা নিবিড় আনন্দ জাগিয়া উঠে বলাইয়ের রক্তের মধ্যে, একটি কিসের অব্যক্ত স্মৃতিতে, ফাল্গুনে পুষ্পিত শালবনের মতোই বলাইয়ের অন্তর প্রকৃতিটা চারিদিকে বিস্তৃত হইয়া উঠে, ভরিয়া উঠে, তাহাতে একটি ঘন রং লাগে। তখন বলাইয়ের একলা বসিয়া বসিয়া আপন মনে কথা বলিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সর্বদা আপন মনে ড্যাবা ড্যাবা চক্ষু মেলিয়া তাকাইয়া থাকা ছেলেটা বেশি কথা বলিতে পারে না। তাই তাহাকে শুধু বেশি বেশি করিয়া মনে মনে ভাবিতে হয়। বলাই অনেকদিন হইতেই বুঝিতে পারিতেছিল যে, তাহার অন্তরে কতগুলি ব্যথা আছে, যাহা সম্পূর্ণ ওর নিজের একলারই—ওর চারিপার্শ্বের লোকের মধ্যে তাহার কোন সাড়া নাই। বলাই বুঝিয়াছে, তাহার সহিত বিশ্বপ্রকৃতির একটি যেন নিবিড় যোগ আছে। প্রকৃতিতে সদ্য ইয়া উঠা চারাগাছের কচি কচি পাতা, তাহাদের সঙ্গে বলাইয়ের কী যে একটি বয়স্যভাব আছে, তাহা ‘ও’ কেমন করিয়া প্রকাশ করিবে। প্রকৃতিও যেন ওকে কী একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিবার জন্য আকুপাকু করে, হয়ত, বলিতে চাহে, “তোমার নাম কী?” হয়ত বলে “তোমার মা কোথায় গেল।” বলাই মনে মনে উত্তর করে, “আমার মা তো নাই।” 

প্রশ্ন ৩। “শিমুল গাছ বাড়েও দ্রুত, কিন্তু বলাইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না”- উপরোল্লিখিত উক্তি অনুসরণে বলাইয়ের সাথে শিমুল গাছটির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতিপ্রেমের বিষয়ে আলোচনা করো। 

উত্তর। বলাই হইল লেখক রবীন্দ্রনাথের ভাইপো। ছোটবেলা হইতেই তাহার স্বভাব ছিল চুপচাপ প্রকৃতির নানা সৃষ্টি যেমন আকাশ, গাছপালা মেঘরাজি ইত্যাদি চাহিয়া চাহিয়া নিবির আগ্রহে শুধু দেখা। আকাশের ঘন মেঘরাজি তাহাকে মুগ্ধ করে। শ্রাবণ অরণ্যের গন্ধ, অম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ার শব্দ সে খুব ভাল বাসে। সমস্ত আকাশ হইতে সে যেন কি সংগ্রহ করিয়া নেয়। গাছপালার সহিত তাহার যেন কত কালের নিবির সম্পর্ক সে অনুভব করে। একদিন বলাই তাহাদের বাগানের খোওয়া দেওয়া রাস্তার মাঝখানে একটি শিমুল গাছের চারা দেখিতে পাইয়া দৌড় দিয়া গিয়া কাকাকে ডাকিয়া আনিয়া দেখায়। সে প্রতিদিন শিমুল চারাটিতে জল দেয়। কাকাকে বলে গাছটিকে যেন নষ্ট করা না হয়। ক্রমে ক্রমে গাছটির সহিত ওর প্রাণের সম্পর্ক গড়িয়া উঠে। গাছটি যেন তাহার দেহ মনে নিবির হইয়া বসিয়া পরে। প্রতিদিন সে দেখে যে গাছটি কতটুকু বড় হইয়াছে। যখন গাছটি হাত দুই বড় হইয়াছে তখন তাহাকে দেখিয়া বলাইয়ের আশ্চর্য লাগে সে চমৎকৃত হয়। বছর খানেকের মধ্যে গাছটা নির্লজ্জের মতো মস্ত আকারে বাড়িয়া উঠে। গাছটির উপরই বলাইয়ের যেন সব স্নেহ পড়িতে থাকে। গাছটি তার আপনার ‘বন্ধু’ হইয়া উঠে। বলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা যেন গাছটি বাড়িয়া উঠিবার সহিত পাল্লা দিতে পারে না। বলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা যেন গাছটি বাড়িয়া উঠার সহিত হার মানিয়া যায়। বলাই প্রকৃতি প্রেমী প্রকৃতির সবকিছুই তাহার ভাঙ্গ লাগে। 

বলাই প্রকৃতি প্রেমিক। বাল্যকাল হইতেই সে বিচিত্র সৃষ্টির অসংখ্য ও নিবিড় সকল বয়কে নীরবে চাহিয়া দেখিতে ভালবাসে। সকাল ও বিকালের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত, স্তরে স্তরে সজ্জিত ঘন কালো মেঘ, আমগাছের মুকুল, পুষ্পিত শালবন এবং প্রকৃতির বুকে বিছানো সবুজ ঘাসের আস্তরণ। এইগুলি তাহার মনে অকারণ পুলক জাগায়। দেবদার গাছের দিকে অপলক দৃষ্টি মেলিয়া সে যেন গাছের ভিতরকার মানুষকে দেখিতে পায়। তাহারা কথা বলেনা কিন্তু সকল কিছু যেন জানে। বলাই তাহার রক্তের মধ্যে মধ্যে অনুভ করে এক অব্যক্ত স্মৃতি। বাগানে ছোট ছোট অঙ্কুরিত গাছের চারা যাহাদের গায়ে মার গজাইয়াছে কচি কচি পাতা সেইগুলিকে যখন ঘাসিয়াড়া আগাছা নিড়ানি দিয়া নষ্ট কে তখন সে অত্যন্ত কষ্ট পায়। গাছপালা যেন তাহার অকৃত্রিম বন্ধু। কেহ গাছের ফুল অথবা গাছের ডাল তুলিয়া নষ্ট করিলে অথবা ভাঙিয়া ফেলিয়া দিলে তাহার অন্তরে ব্যথা লাগে। বলাই অনুভব করিত কতকগুলি ব্যথা আছে যাহা সম্পূর্ণ তাহার একার ব্যথা। যাহা অব্যক্ত। মূক গাছপালাগুলি যেন অনন্তকাল ধরিয়া তাহার সঙ্গেই আছে অন্তহীন প্রাণের বিকাশ তীর্থে। সে যেন চিরপথিক। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : 

প্রশ্ন ১। “কতগুলো ব্যথা আছে যা সম্পূর্ণ ওর একলার।”—এখানে কার কথা বলা। হইয়াছে? ওর দুইটি ব্যথা উল্লেখ করো। 

উত্তর। এখানে লেখকের ভাইপো বলাই-র কথা বলা হইয়াছে। তর ব্যথাগুলির মধ্যে ছিল : 

(ক) বলাই-এর সঙ্গীরা বাগানের ভিতর দিয়া চলিবার সময় ছড়ি দিয়া দুই পার্শ্বের গাছগুলিকে মারিতে মারিতে যায়। আবার কখনও কখনও ফস্ করিয়া বকুল গাছের একটি ডাল ভাঙিয়া নেয়। 

(খ) ঘাসিয়াড়ারা ঘাস কাটিতে আসিয়া এতটুকু লতা, বেগুনি, হলুদ নামহারা ফুল, বেড়ার কাছের কোথাও বা কালমেঘের লতা, কোথাও বা অনন্ত মূল, ছোট ছোট নিমের চারাগুলিকে ওদের নিষ্ঠুর নিড়ানি দিয়া উপড়াইয়া নেয়। এইগুলি ওর প্রাণে বড় বাজে।

 প্রশ্ন ২। “…ওঁর যেন সমস্ত সংসারকে বাজল, তাঁর বুকের মধ্যে ক্ষত করে দিলে।” —এখানে ‘ওঁর’ বলিতে কাহাকে বুঝানো হইয়াছে? কেন তিনি দুঃখ পাইয়াছিলেন? [HSLC 2013] 

উত্তর : এখানে ওঁর বলিতে বলাইয়ের কাকিমাকে বোঝানো হইয়াছে, কারণ বলাইয়ের অতিপ্রিয় শিমুল গাছটি ছিল বলাইয়ের কাকিমার কাছে বলাইয়ের প্রতিরূপ, তারই প্রাণের দোসর।

 অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : 

প্রশ্ন ১। বলাই কে ছিল?

উত্তর : বলাই লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো।

প্রশ্ন । প্রকৃতি-বিষয় রবীন্দ্রনাথের রচিত বইটির নাম কি? 

উত্তর। বনবাণী’।

প্রশ্ন ৩। কোন্ দিনটিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে পালন করা হয়? 

উত্তর। ৮ই জুন। 

প্রশ্ন ৪। লেখকের মতে ‘বলাই’ নামক ছেলেটির আসল বয়স কত ? 

উত্তর। প্রায় এক কোটি বছর। 

প্রশ্ন ৫। ‘বলাই’ তাহার রক্তের মধ্যে বিশ্বপ্রাণের কি ৰাণী শুনিতে পাইয়াছিল? 

উত্তর। আমি থাকিব।

প্রশ্ন ৬। ছোটবেলা হইতে বলাই কেন কাকিমার কাছে লালিত পালিত হইয়াছিল?

 উষ্ণা। মায়ের মৃত্যু হইয়াছিল বলিয়া। 

প্রশ্ন ৭। ছেলেবেলা হইতে বলাই-এর কি অভ্যাস ছিল? 

উত্তর। কোথাও বসে চুপচাপ চাহিয়া চাহিয়া দেখাই তাহার অভ্যাস ছিল। 

প্রশ্ন ৮। বলাইয়ের কাকা বলাইকে শিমুল চারার বদলে খুব ভালো আর কি চারা আনাইয়া দিবেন বলিয়া লোভ দেখাইয়াছিলেন? 

উত্তর। কতগুলি গোলাপের চারা। 

প্রশ্ন ৯। কত বছর পরে আসিয়া বলাইয়ের বাবা বলাইকে সিমলায় পড়াইবার জন্য লইয়া গেলেন? 

উত্তর। দশ বছর।

প্রশ্ন ১০। ‘বলাই’ কখনো কাহাকেও না বলিয়া কোথায় একলা অবাক হইয়া দাঁড়াইয়া থাকিত? 

উত্তর। বাগানের দেবদারু বনের ছায়াতলে। 

প্রশ্ন ১১। রাগিনী কাকে বলে? 

উত্তর : যা আপনার ভিতরকার, সমুদায় সা-রে-গা-মা গুলিকে সংগীত করিয়া তোলে। তাহাকে রাগিনী বলে। 

প্রশ্ন ১২। সংগীতের দুটি সুরের নাম বল। 

উত্তর : কোমল গান্ধার, পঞ্চম। 

প্রশ্ন ১৩। কার প্রকৃতিতে গাছপালার সুর আছে ?

উত্তর : বলাইয়ের। 

প্রশ্ন ১৪। বলাইরে ছেলেবেলার দুটি অভ্যাস কী লেখো। 

উত্তর : (ক) চুপচাপ চাহিয়া দেখা, (খ) একলা বসে আপন মনে কথা বলা।

প্রশ্ন ১৫। ‘ওর সমস্ত গা যেন শুনতে পায় সেই দৃষ্টির শব্দ।” বলা হচ্ছে? 

উত্তর : বলাইয়ের কথা। 

প্রশ্ন ১৬। আমের বোল কখন ধরে ?

উত্তর : মাঘ মাসের শেষের দিকে আমের বোল ধরে। 

প্রশ্ন ১৭। শালবন কখন ফুলে? 

উত্তর : ফাল্গুনে। 

প্রশ্ন ১৮। বলাই কার গল্প শুনতে ভালোবাসত ? 

কউত্তর : বেঈমা-বেঙ্গমীর গল্প।

প্রশ্ন ১৯। ‘ওকে একবার পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলুম।’ কে কাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন? 

উত্তর : বলাইতে তাহার কাকাবাবু পাহাড়ে লইয়া গিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ২০। আমার মা তো নেই।’ • এটি কার কথা? সে কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলে ? 

উত্তর : ইহা বলাইয়ের কথা। কচি কচি ঘাসেদের উদ্দেশ্যে। 

প্রশ্ন ২১। ‘এইটে ওর বড়ো বাজে।’ এখানে কার কথা বলা হল? কী সে তার বাজে? ‘বাজে’ কথার অর্থ কী ? 

উত্তর ঃ এইখানে বলাইয়ের কথা বলা হইল। কেউ গাছের ফুল তুলিলে বলাইয়ের বুকে লাগিত। বাজে কথার মানে আঘাত লাগিত। 

প্রশ্ন ২২। ‘এইজন্যে ব্যথাটা লুকোতে চেষ্টা করে।’ — কে কীসের ব্যথা লুকোতে চেষ্টা করে ? 

উত্তর : বলাই গাছ হইতে ফুল তুলিবার ব্যথা সহিতে না পারিয়া তাহা লুকাইবার চেষ্টা করে।

প্রশ্ন ২৬। ‘সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়’— কে, কেন, কার, কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়? 

উত্তর : বলাই তাহার বয়সী ছেলেদের কাছ হইতে মুখ ফিরাইয়া চলিয়া যায়, কারণ তাহারা গাছে ঢিল ছুড়িয়া আমলকী পাড়ে। 

প্রশ্ন ২৪। বলাইর কাঁদতে লজ্জা করত কেন? 

উত্তর : পাছে লোকে বলাইয়ের কান্নাকে পাগলামি বলিয়া মনে 

প্রশ্ন ২৫। বলাইয়ের কাছে সবচেয়ে বিপদের কোনটি ? করে। 

উত্তর : যেদিন ঘাসিয়াড়া ঘাস কাটিতে আসিত। 

প্রশ্ন ২৬। ঘাসিয়াড়া কথার অর্থ কী? 

উত্তর : যাহারা ঘাস কাটিয়া বেড়ায়।

প্রশ্ন ২৭। তিনটি ক্ষুদ্র উদ্ভিদের নাম বল? 

উত্তর : কণ্টিকারি, কালমেঘ, অনন্তমূল। 

প্রশ্ন ২৮। তাদের নালিশ শোনবার কেউ নেই। এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর : বাগানের অদরকারি ছোট চারা, ঘাস ইত্যাদি যাহাদের নিড়ানি দিয়া উপড়াইয়া ফেলিয়া দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ২৯। ‘আমি থাকব, আমি বাঁচব, আমি চিরপথিক’ – উক্তিটি কার? 

উত্তর : উক্তিটি পৃথিবীর প্রথম জীব গাছের এই উক্তি।

প্রশ্ন ৩০। মালীকে বলতে হবে, এটা উপড়ে ফেলে দেবে।’ — উক্তিটি কে কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে? এখানে কী উপড়ে ফেলার কথা বলা হল? 

উত্তর ঃ বলাইয়ের কাকা বলাইকে উদ্দেশ্য করিয়া এই উক্তি করিয়াছে। এইখানে একটি শিমুল গাছের চারা উপড়াইয়া ফেলিবার কথা বলা হইয়াছে, কারণ তাহা বাগানের রাস্তার মাজখানে উঠিয়াছে।

প্রশ্ন ৩১। আরও দু-চারবার, এর মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা গেল।’ — এখানে কার মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হল ? 

উত্তর : শিমুল গাছের চারার। 

প্রশ্ন ৩২। তিনি বিলেতে এঞ্জিনিয়ারিং শিখতে গেলেন। – উক্তিটি কার। এখানে কার কথা বলা হল ? 

উত্তর : উক্তিটি বলাইয়ের কাকার। এইখানে বলাইয়ের বাবার কথা বলা হইল। তিনি বলাইয়ের মায়ের মৃত্যুর পর বিলেতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিখিতে গেলেন। 

প্রশ্ন ৩৩। তার বন্ধুর ছবি নিয়ে যেতে চাইলে- কে কার ছবি নিয়ে যেতে চাইল? এখানে বন্ধু কে? 

উত্তর : বলাই তার বন্ধুর ছবি লইয়া যাইতে চাইল। এইখানে বন্ধু হইল শিমুল গাছটি। 

প্রশ্ন ৩৪। কাকি দুদিন অন্নগ্রহণ করলেন না।” কেন?

উত্তর : বলাইয়ের কাকি দুদিন অন্নগ্রহণ করিলেন না। কারণ বলাইয়ের প্রিয় বন্ধু শিমুল গাছটি কাটিয়া ফেলা হইয়াছে। সুতরাং তার ছবি বলাইকে পাঠানো যাইবেন না। এই দুঃখে তিনি দুদিন অন্নগ্রহণ করিলেন না। 

প্রশ্ন ৩৫। তারই প্রাণের দোসর। কে কার প্রাণের দোসর ছিল? 

উত্তর : শিমুল গাছটি বলাইয়ের প্রাণের দোসর ছিল। 

প্রশ্ন ৩৬। বলাই কাহাদের ভিতরকার মানুষকে দেখিতে পাইত? 

উত্তর। বাগানের প্রকাণ্ড দেবদারু গাছের। 

প্রশ্ন ৩৭। বলাইয়ের মায়ের মৃত্যুর পর ওর বাবা কোথায় ইঞ্জিনিয়ারিং শিখিতে গিয়াছিলেন? 

উত্তর। বিলাতে। 

প্রশ্ন ৩৮। অতি পুরানো বটের কোটরে কাহারা বাসা বাঁধিয়া আছে?

 উত্তর। একজোড়া অতি পুরানো পাখি ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী। 

প্রশ্ন ৩৯। বলাইনের মা কোথায় গিয়াছিলেন ? 

উত্তর। বলাইয়ের শৈশবকালে তার মায়ের মৃত্যু হইয়াছিল। 

ব্যাকরণ 

(ক) পদ পরিবর্তন করো : স্ত্রী, চুরি, দুর্বল, পাথর, আহার, শৃঙ্খল, অবরোধ, গোপন, আবিষ্কার, নিদ্রা, আশ্রয়, ভুল, নিরুদ্দেশ, অংশ, কুলীন, আশ্বাস, তন্ত্র, চমক।

উত্তর :স্ত্রী– স্ত্রৈণ 

দুর্বল—দুর্বলতা

আহার —আহাম

অবরোধ –অবরুদ্ধ 

আবিষ্কার— আবিষ্কৃত 

আশ্রয় –আশ্রিত 

নিরুদ্দেশ –উদ্দেশ 

কুলীন —কৌলীন্য 

তন্ত্র —তান্ত্রিক

চরি —চোরাই 

পাথর —পাথুরে

শৃঙ্খল —শৃঙ্খলিত

গোপন—গোপনীয়

নিদ্রা —নিদ্রিত 

ভুল —ভুলো 

অংশ —আংশিক

 আশ্বাস —আশ্বস্ত 

চমক —-চমকিত

(খ) অশুদ্ধি সংশোধন করো : পৌরহিত্য, ব্যবস্থা, সান্তনা, রসায়ণ, সন্মান, পূর্বাহ্ণ, বৈশিষ্ট, বিদ্যান, সাধনা, সদ্যজাত, সন্যাস, নিশিথ, অভ্যস্থ।

উত্তর : পৌরহিত্য– পৌরোহিত্য 

সান্ত্বনা —সান্তনা

সম্মান—সম্মান

বৈশিষ্ট—বৈশিষ্ট্য

সাধণা —সাধনা

সন্যাস —সন্ন্যাস

অভ্যস্থ —অভ্যস্ত

ব্যবস্তা— ব্যবস্থা 

রসায়ণ —রসায়ন

পূর্বাহ্ন—পূর্বাহ্ণ

বিদ্যান– বিদ্বান

 সদ্যজাত —সদ্যোজাত 

নিশিথ —নিশীথ

নিজে করো : অশুদ্ধি সংশোধন 

• মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর

 উত্তর : মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া কর।

 • দেবী দূর্গা দর্শভূজা

 উত্তর : দেবী দুর্গা দশভুজা।

 • আমি সাক্ষী দিতে আদালতে যাব। 

উত্তর : আমি সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাব।

 • জ্ঞানমান ব্যক্তিই শ্রদ্ধার পাত্র হন । 

উত্তর : জ্ঞানবান ব্যক্তিই শ্রদ্ধার পাত্র হন। 

• তিনি আরোগ্য হলেন। 

উত্তর : তিনি আরোগ্য লাভ করিলেন। 

• অপমান হবার ভয় নেই।

 উত্তর : অপমানিত হবার ভয় নেই।

Leave a Reply