SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-10| গ্রাম্যছবি

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-10| গ্রাম্যছবি প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-10| গ্রাম্যছবি এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-10| গ্রাম্যছবি

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-10| গ্রাম্যছবি Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-৪ গ

কবি পরিচিতি

গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী (১৮৫৭ – ১৯২৪) গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়া শিখিয়াছেন পিতার কাছে এবং স্বামী নরেশচন্দ্র দত্তের কাছে। স্বামীর মৃত্যুর পর ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর শোকগাথা অশ্রুকণা’ কাব্য প্রকাশ পায়। কবিতাগুলি নির্বাচন করিয়াছিলেন কবি অক্ষয়কুমার বড়াল। তাঁহার প্রথম দিকে লেখা কবিতায় গার্হস্থ্য জীবনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি অভিনয় ও চিত্র অঙ্কনেও নিপুণ ছিলেন। তাঁহার রচনা বঙ্কিমচন্দ্র এবং রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা লাভ করে। তিনি জাহ্নবী’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করিতেন। ১৮৮৮ সালে কলকাতার বেথুন কলেজে রবীন্দ্রনাথের মায়ার খেলা’ নাটকে অভিনয় করিয়া সকলের প্রশংসা অর্জন করিতে সমর্থ হন। তাঁহার রচিত গ্রন্থের মধ্যে কবিতাহার, ‘ভারতকুসুম’, ‘জনৈক হিন্দু মহিলার পত্রাবলী’, ‘সিন্ধুগাথা’, ‘শিখা’, ‘অর্ঘ্য’ প্রভৃতি জনসমাদর লাভ করিয়াছিলেন। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁহার মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন ১। ‘গ্রাম্যছবি’ কবিতাটির সারাংশ বা ভাববস্তু বা ভাবার্থ লেখো। 

উত্তর : ‘গ্রাম্যছবি’ কবিতায় গ্রামবাংলার নির্মল সৌন্দর্য প্রকাশিত হইয়াছে। এই সৌন্দর্যে কোথাও মালিনা নাই। স্নিগ্ধ সরল গ্রাম্য জীবনের অপূর্ব রূপ এই কবিতায় ছবির মতো ফুটিয়া উঠিয়াছে। মাটিতে লিপানো ঘরের দাওয়া, তাহার সামনে শায়িত স্বচ্ছ উঠানের সৌন্দর্য অপরূপ। ঘরের চালায় করলা লতার বিস্তার এবং বউ কথা কও পাখির ডাক যে কোন মানুষের মনকে টানিয়া লয়। 

গ্রামের মানুষের জীবনলীলার মাধুর্যই কবি প্রকাশ করিয়াছেন আলোচ্য কবিতায়। সেখানে আমরা দেখিতে পাই মনোজের দাওয়ায় বিড়াল শুইয়া আছে, এবং দোলনায় শিশু ঘুমাইতেছে। অন্যদিকে দুই বোনে মিলিয়া গাছ হইতে পাকা কুল পাড়িতেছে। পুকুরের নির্মল জলে পানামুলের নীলাভ আলোয় হাঁস ভাসিয়া বেড়াইতেছে। কোথাও কোন মালিনা নাই। গ্রাম জুড়িয়া শান্তি বিরাজ করিতেছে। 

গ্রামের দুপুর বেলাকার সৌন্দর্যও কম চিত্তকর নহে। গাছে ঘুঘু পাখির ডাক, মাঠে সোনারোদ গায়ে মাখিয়া গরুগণ চড়িয়া বেড়ায়। আর রাখাল বালকবৃন্দ ছায়ার নির্জনে শুইয়া বিশ্রাম করিতে থাকে। কখনো দেখা যায় একাকী পথিক চলিয়াছে মেঠো পথ বাহিয়া, তাহার কোমল গান শোনা যায়। এই সকলই কবির অপূর্ব স্মৃতি। সবই সুধামাখা। 

অমৃতোপম গ্রামজীবনের মাধুর্য কবি বর্ণনা করিতে গিয়। সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন—এখন কি আর সেই সৌন্দর্য অবশিষ্ট আছে। 

প্রশ্ন ২। অর্থ লিখ : নিকানো লেপা, দাওয়া বারান্দা, রোয়াক; মনোহর—সুন্দর; বড়ো খড়ের বা নাড়ার তৈরি; লতিয়া – লতানো; উত্থান — ওঠা; পিঁজারা—পিঞ্জর, খাঁচা, পিঁজরা; বউ-কথা—একটি পানির নাম, দাবাতে বারান্দাতে, দোলা – দোলনা; নোয়ায়ে টেনে নাবিয়ে, হাতের নাগালে টেনে নাবানো, সন্তরণ— সাঁতার; স্বনন – বায়ু প্রবাহের শব্দ, প্রাঙ্গণে—উঠোনে, অঙ্গনে, রাখাল –রক্ষা করে যে, মাঠে গোরু চরায় যে; সুধাময়ী— অমৃতময়ী, শ্যাম—গাঢ় সবুজ, মেঠো—মাঠের, মাঠ সংক্রান্ত। 

প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন ১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

(ক) খড়ের চালে করলা-লতা কীভাবে উঠেছে? 

উত্তর : খড়ের চালে করলা-লতা মাচা বাহিয়া লতাইয়া উঠিয়াছে। 

(খ) খোকা কোথায় শুয়ে আছে?

উত্তর : খোকা দড়ির দোলনাতে শুইয়া আছে। 

(গ) গাছ থেকে পাকা কুল কে পেড়েছিল?

উত্তর : দুই বোন গাছ হইতে পাকা কুল পাড়িয়াছিল। 

(ঘ) রোদটুকুর রং কেমন? 

উত্তর : রোদটুকুর রং সোনার বরণ। 

(ঙ) রাখাল কোথায় শুয়ে বিশ্রাম করে? 

উত্তর : রাখাল তরুতলে শুইয়া বিশ্রাম করে। 

(চ) কবির মতে সুধাময়ী কে?

উত্তর : কবির মতে সুধাময়ী জন্মভূমি।। 

(ছ) পিঁজারায় বন্ধু বাধা —কহে কথা বিড়ালটি শুইয়া দারাতে.” (শূন্যস্থান পূর্ণ করো।)

উত্তর : বউ-কথা 

প্রশ্ন ২। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

(ক) গ্রামের ঘর-বাড়ির সৌন্দর্য কেমন? 

উত্তর : গ্রামের ঘর-বাড়ির সৌন্দর্য অতি মনোরম। মাটি দিয়া নিকানো ঘর-দুয়ার বড়ই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ঘরের বারান্দা উঠান সবই অত্যন্ত সুন্দর এবং নির্মল। চারিদিক যেন স্বচ্ছতায় তক তক ঝক ঝক করিতেছে।

(খ) গ্রামের দুপুরবেলার ছবি বর্ণনা করো। 

উত্তর ঃ গ্রামের শান্ত স্তব্ধ দুপুরে মাঠে গোরু চরে। তরুতলে ছায়ায় শাস্তি উপভোগ করে রাখাল। আর মাঠের সরু পথ ধরে পথিক গান গাহিয়া চলিয়াছে। কবির বাল্যস্মৃতিতে এমন নিঃসঙ্গ কোলাহলহীন দুপুরের চিত্র রহিয়াছে। কোন রকমের জনকোলাহল নাই কেবল সোনার বরণ রোদ ছড়াইয়া আছে মাঠে মাঠে। 

(গ) কবির কোন বাল্যস্মৃতি মনে পড়ে? 

উত্তর : কবির মিগ্রাহরিক বাল্যস্মৃতি মনে পড়ে। সরু মাঠের রাস্তা বাহিয়া পথিক একাকী শাস্ত মনে চলিয়া যাইতেছে। পথিকের কণ্ঠে গান বড় সুমিষ্ট। আর মনে পড়ে সেই দুপুরবেলার নির্জনতায় একাকী কোন এক ঘুঘুর গান। কবির বাল্যকালের স্মৃতিতে আছে স্তব্ধ দুপুরবেলার গান। নির্জন মাঠে সোনার বরণ রোদ গায়ে মাখিয়া গোরুগণ চরিতেছে। আর রাখাল বালক তরুতলে শুইয়া নিরালায় বিশ্রাম করিতেছে। 

(ঘ) ‘দাওয়া’ শব্দের প্রতিশব্দ লেখো ও দাওয়ার বর্ণনা দাও। 

উত্তর : ‘দাওয়া’ শব্দের প্রতিশব্দ বারান্দা। কবিতায় বর্ণিত দাওয়াগুলি মনোহর। মাটি দিয়া সুন্দর করিয়া লেপিয়া রাখা হইয়াছে। দাওয়ার সামনে স্বচ্ছ উঠান। পিজারায় বউ কথা কও পাখি ডাকিতেছে। আর দাওয়াতে বিড়াল শুইয়া আছে নিশ্চিন্ত মনে। দড়ির দোলনায় ঘুমাইতেছে শিশু। খড়ের চালাঘরে মাটির নিকানো দাওয়া তাই অতি মনোহর। 

প্রশ্ন ৩। শূন্যস্থান পূর্ণ করো : 

(ক) ____ তুলসীর চারা গৃহ শিল্পে কড়ি ঝাড়া।

উত্তর: মঞ্চে

(খ) খড়ো______ছোটা লতিয়া করলা-লতা

উত্তর : চালাখানি 

(গ) একাকিনী আপনার মনে ____বসিয়া প্রাঙ্গণে।

উত্তর : ধান নাড়ে

(ঘ)_____ জন্মভূমি তেমতি আছ কি তুমি 

উত্তর : সুধাময়ী 

(ঙ) শান্ত স্তব্ধ _____গ্রাম্য মাঠে গোরু চরে 

উত্তর :  দ্বিপ্রহরে 

প্রশ্ন ৪। এক ‘শ’ শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো : 

(ক) ‘গ্রাম্য ছবি’ কবিতায় কবি গ্রাম্য জীবনের যে খুঁটিনাটি দিনলিপি অঙ্কন করেছেন। তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো। 

অথবা

 ‘গ্রাম্য ছবি’ কবিতায় কবি গ্রামের গৃহটির যে শান্তিপূর্ণ সুমধুর ছবি অঙ্কন করেছেন, তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো। 

উত্তর : মাটিলেপা ঘর। মনোহর বারান্দা। ঘরের সামনে মাটির উঠোন। খড়ের তৈরি। উঠোনের প্রান্তে মাচা বেয়ে উঠেছে করলা লতা। খাঁচার ভিতর রয়েছে রউ কথা কও পাখি। আর বিড়লাটি শুয়ে আছে বারান্দায়। উঠোনের একপাশে মঞ্চে তুলসীর চারা। ঘরের ভিতরে সর্বত্র আলপনা শিল্পের সমাহার। বারান্দার দড়ির দোলনায় খোকা ঘুমিয়ে। ভর দুপুরে শান্ত নিবিড় স্তব্ধতায় দুইবোন পাকা কুল পাড়ছে। পুকুরের নির্মল জলে দুইটি হাঁস, একান্ত মনে সাঁতার কাটিতেছে। এমন উচ্ছ্বল নিবিড় প্রকৃতি চির মন জুড়িয়ে দেয়। ‘সামাছবি’ কবিতায় কবি একখানি জীবন্ত গ্রামের ছবিই আঁকিলেন। যাহার সৌন্দর্য, সরলতা ও সজীবতা সকলকেই আকর্ষণ করিবে। 

(খ) ‘গ্রাম্যছবি’ কবিতা অবলম্বনে ছবিগুলোর বর্ণনা দাও। 

অথবা,

 ‘সাম্যছবি’ কবিতা অবলম্বনে ছবিগুলোর বা গ্রামের সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও। 

উত্তর : ‘সাম্যহবি’ কবিতায় কবি গ্রামের জীবন-যাপনের বর্ণনা দিয়াছেন। গ্রামের ঘর- দুয়ার বড়ই মনোরম। ঘর-বাড়ির নাওয়াগুলি নিকানো ও মনোহর। স্বচ্ছ উঠানে বিরাজমান। তুলসীর মঞ্চ। দাওয়ায় বউ কথা কও পাখির পিঁজারা। আর দড়ির দোলায় শুইয়া আছে শিশু। বিড়ালছানাটিও নিরলে শুইয়া আছে। নির্মল পুকুরের জলে কলমির দল। এবং তাতে সাঁতার কাটিতেছে হাঁস। পুকুর পাড়ের বাঁশবনের রৌদ্রছায়ায় পাখিদের কলকাকলি। গ্রামের দুপুরবেলার জীবন নির্জন সৌন্দর্যে ভরা। সারা মাঠ জুড়িয়া সোনার বরণ রোদ ঝরিয়া পড়িতেছে। রাখাল বালক তরুতলে নিশ্চিন্তমনে বিশ্রাম করিতেছে। শান্ত স্তব্ধ দ্বিপ্রহরে মাঠের সরু পথে পথিক একাকী মনে গান গাহিয়া চলিয়াছে। এবং শোনা যাইতেছে ঘুঘুপাখির করুণ গান। চরিদিকে বিরাজিত অপার শান্তি ও মাধুর্য যেন সুধা সঞ্চার করিতেছে। 

(গ) কবিতাটিতে দুপুর বেলার যে সৌন্দর্যের বর্ণনা আছে নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। 

উত্তৰ : প্ৰামাছবি’ কবিতায় গ্রামের সর্বাঙ্গীন সৌন্দর্যই প্রকাশিত হইয়াছে। তাহার মধ্যে দুপুরবেলার সৌন্দর্য অতি মনোরম। মাটিতে নিকানো দাওয়া ও উঠানের স্বচ্ছতায় যে জীবন বিরাজিত তার ছবি কবি তুলিয়া ধরিয়াছেন। দুপুরবেলা স্বভাবতই কোলাহলবর্জিত। কলমির দল ঘেরা পুকুরের নির্মল জলে হাঁসের সাঁতার খেলা এবং বাঁশবনের রৌদ্রছায়ায় নিরিবিলিতে পাখিদের কলকাকলি আনন্দ সঞ্চার করিয়া চলিয়াছে। শান্ত দুপুরবেলা সোনা রঙের রোদ ঝরিয়া পড়িতেছে দিগন্ত জুড়ে। মাঠের প্রান্তের সরু পথ বেয়ে একাকী পথিক চলিয়াছে গান গাইয়া। কোথাও গাছের ডাল হইতে ভাসিয়া আসিতেছে ঘুঘুর গান। সেইসব সৌন্দর্য ও মাধুর্য উপভোগ করিতে করিতে গ্রামের মানুষের দিন অতিবাহিত হয়। দুপুরে তরুছায়ায় বিশ্রামরত রাখাল বালকের চিত্ত জুড়িয়া যেন সেই অপার শান্তি নামিয়া আসিয়াছে। কোথাও কোন রকমের গ্লানি নাই। চারিদিকে বিরাজ করিতেছে সুধাময়ী জননীর প্রাণভরা। ভালোবাসা। 

(ঘ) কবি জন্মভূমিকে সুধাময়ী বলেছেন কেন? 

উত্তর : কবি জন্মভূমিকে সুধাময়ী বলিয়াছেন কারণ জননীর ন্যায় জন্মভূমি সুধা বিতরণ করিতেছে। জননী তার মাতৃসুধা বিতরণ করিয়া যেমন শিশুদের লালন-পালন করেন, অনুরূপ জন্মভূমিও তার অধিবাসীকে সঞ্চিত সুধা দ্বারা পুষ্ট করিতে থাকেন। জননীর কাছ হইতে যেরূপ অপার ভালোবাসা ও মমত্ব অকাতরে পাওয়া যায়, জন্মভূমির কাছ হইতেও অনুরূপ সেবা লাভ করিয়া জীবন ধন্য হয়। মাতৃর অভাব যেমন জীবনের মধ্যে দুঃখদায়ক ও অপ্রীতিকর অনুরূপ জন্মভূমির পরিপোষণের অভাবও তার সন্তানের পক্ষে কাম্য নহে। মা যেমন করিয়া বুকের সুধায় প্রতিটি শিশুকে লালন করিয়া নবীন জীবনের সোপান বনে বহিয়া চলিতে উদ্দীপনা সঞ্চার করে এবং ভালোবাসার নিবিড় বন্ধনে বাঁধিয়া রাখে, অনুরূপ জন্মভূমিও তার সঞ্চিত সম্পদ আলো, বায়ু, জল, গাছ, লতা, পশু-পাখি আদি দ্বারা জীবনের যাত্রাপথকে মসৃণ করিয়া তোলে। তাই জন্মভূমিকে কৰি সুধাময়ী বলিয়া সম্বোধন করিয়াছেন। সুধা মানে অমৃত। জন্মভূমির বুকে সেই সুধার ভাণ্ডার আছে। তাই দিয়ে সে সন্তান লালন-পালন করে এবং জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

(ঙ) গ্রামের প্রাকৃতিক শোভা বর্ণনা করো। 

উত্তর :  ‘সাম্যহবি’ কবিতায় কবি গ্রামের জীবন-যাপনের বর্ণনা দিয়াছেন। গ্রামের ঘর- দুয়ার বড়ই মনোরম। ঘর-বাড়ির নাওয়াগুলি নিকানো ও মনোহর। স্বচ্ছ উঠানে বিরাজমান। তুলসীর মঞ্চ। দাওয়ায় বউ কথা কও পাখির পিঁজারা। আর দড়ির দোলায় শুইয়া আছে শিশু। বিড়ালছানাটিও নিরলে শুইয়া আছে। নির্মল পুকুরের জলে কলমির দল। এবং তাতে সাঁতার কাটিতেছে হাঁস। পুকুর পাড়ের বাঁশবনের রৌদ্রছায়ায় পাখিদের কলকাকলি। গ্রামের দুপুরবেলার জীবন নির্জন সৌন্দর্যে ভরা। সারা মাঠ জুড়িয়া সোনার বরণ রোদ ঝরিয়া পড়িতেছে। রাখাল বালক তরুতলে নিশ্চিন্তমনে বিশ্রাম করিতেছে। শান্ত স্তব্ধ দ্বিপ্রহরে মাঠের সরু পথে পথিক একাকী মনে গান গাহিয়া চলিয়াছে। এবং শোনা যাইতেছে ঘুঘুপাখির করুণ গান। চরিদিকে বিরাজিত অপার শান্তি ও মাধুর্য যেন সুধা সঞ্চার করিতেছে। 

প্রশ্ন ৫। দু-চার কথয় উত্তর দাও : 

(ক) ‘গ্রাম্য ছবি কবিতায় অঙ্কিত পুকুরের ছবিটি তোমার লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলো।

উত্তর : পুকুরের নির্মল জল কলমির দল ঘিরিয়া আছে। সেই জলে দুইটি হাঁস একান্ত মনে সাঁতার কাটে। পুকুরের পাড়ে বাঁশ বনের রোদ্রছায়ায় নিরিবিলিতে পাখিদের কলকাকলির সহিত বায়ু প্রবাহের শব্দ এক অনাবিল সৌন্দর্যের বিস্তার করে। 

(খ) রাখাল বালকের দিনযাপন কেমন বর্ণনা করো।

উত্তর : রাখাল বালকের দিনযাপন বড়ই সুখকর। দুপুরের সোনা রোদে গোরুগণ। একাকী নির্বিঘ্নে চরিয়া বেড়ায়। আর রাখাল বালক তরুতলের শান্ত ছায়ায় বসিয়া বিশ্রাম করে। মাঠের পথ ধরে একাকী পথিক নির্জন গান গাহিয়া চলে, রাখাল বালক যেন সেই সুরে মনোনিবেশ করিয়া পুলক অনুভব করে। আবার কখনো তরুশালে ঘুঘুর গান ভাসিয়া উঠে। সেই সুর করুণ ভাবের সঞ্চার করে রাখাল বালকের মনে। 

(গ) গ্রাম্য বধূর দিনযাপন কেমন? পঠিত কবিতা অনুসারে ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর : আরে সুর দিনযাপন কর্মমুখর হইলেও তা সৌন্দযমণ্ডিত। খড়ো বাড়ি-ঘরের সৌন্দর্য রচনা করা, নিকানো, পোছানো, শিশুর যত্ন-আত্তি করা প্রভৃতি কাজে গ্রাম্য বধূর শ্রীহস্তের স্পর্শ লাগিয়া আছে। আবার কখনো অবসরে গাছভরা পাকা কুলের স্বাদ গ্রহণে উৎফুল্লিত হইতে দেখা যায়। কখনো আবার দুপুর রোদে খোঁপা এলাইয়া ধান নাড়ার কাজে ব্যস্ত রহিয়াছে। এ সমস্ত সংসার শীলার ভিতরে কখনো উকি দেয় বাল্যস্মৃতি, সুধাময়ী জন্মভূমির কথা মনে পড়িয়া যায়। এবং খানিকটা উদাস ও নিশ্চিন্ত মনে আপনার কর্মে আত্মনিয়োগ করে।

(ঘ) গ্রামের সৌন্দর্য কোথায় কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? বর্ণনা করো।

উত্তর : গ্রামের সৌন্দর্য কবিতাটিতে নানাভাবে প্রকাশ পাইয়াছে। ছবির মতো সুন্দর গানের মতো সুরেলা সেই গ্রাম্যজীবনের ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইল মাটিতে নিকানো ঘর ও দাওয়া। স্বচ্ছ উঠান। উঠানে রোদে ধান নাড়িয়া শুকাইবার দৃশ্য। বারান্দায় দোলায় ফুলে শিশুরা শুইয়া থাকা, বিড়ালের ঘুমন্ত অবস্থা, এবং গাছ হইতে কুল পাড়িয়া খাইবার দৃশ্য প্রভৃতি সকলই মনোহর। বিশেষতঃ দুপুরবেলার মাঠের চিত্র, যেখানে সোনারোদ এলাইয়া পড়িয়াছে, তার মধ্যে পথিকের গান গাহিয়া পথ চলা, তরুতলের ছায়ায় শুইয়া রাখালের বিশ্রাম ও ঘুঘু পাখির গান শোনা, এবং নির্মল পুকুরের জলে হাসেদের হাসিখুশি সাঁতার এসবই ছবির মতো সৌন্দর্য বিস্তার করিতেছে। 

প্রশ্ন ৬। ব্যাকরণ :

(ক) তিনটি করে প্রতিশব্দ লেখো : 

উত্তর : গ্রাম—গাঁ, গেরাম, গঞ, লোকালয়। 

কান কর্ণ, শ্রবণেন্দ্রিয়, শ্রুতিপথ। রাস্তা—পথ, সড়ক, মার্গ। শূন্য—খালি, ফাঁকা, আকাশ, রিক্ত। সুধা—অমৃত, পীযূষ, স্বর্গ। শাখা—কাণ্ড, ডাল, অংশ, বাহু। 

পাকা—পক, পরিপক্ষ, পরিণত, মজবুত। চুল—অলক, কুলে, কেশ, কেশদাম। মাঠ-প্রান্তর, ময়দান, চারণভূমি, বিস্তীর্ণক্ষেত্র। মাটি—মৃত্তিকা, ভু-তল, ভূ-সম্পত্তি। ছবি – চিত্র, দৃশ্য, আলেখা।

(খ) বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : 

গ্রাম—শহর, সুধা—বিষ; বধু—বর; দিন–রাত; পাকা — কাঁচা; ছোট বড়; কাটা— কুসুম: শূন্য—পূর্ণ, স্তব্ধ কোলাহল, সরু প্রশস্ত, শান্তি – অশান্তি, আপনার — অপরের বাল্য-বার্ধক্য।

 (গ) পদান্তর করো :

রাখাল রাখালিয়া, স্নিগ্ধ — হিগ্ধতা, বাল্য – বালক, ভূমি – ভৌম: দ্বিপ্রহর – বিপ্রাহরিক; দল— দলীয়; গাছ—গেছো, কণ্টক কণ্টকাকীর্ণ; মন — মানসিক, গোরু গবা, শ্যাম- শ্যামলতা; প্রাণ—প্রাণান্তকর নেশা – নেশাতুর; বন – বুনো; বায়ু বায়বীয়; একা একাকীত্ব; সোনা সোনালি ঘড়ঘড়ো, শিল্প-শৈল্পিক। 

(ঘ) সন্ধি বিচ্ছেদ করো :

 দেবর্ষি—দেব + ঋষি জনৈক জন + এক পবন পো + অন 

মহর্ষি মহা + ঋষি নয়ন নে + অন শয়ন-শো + অন

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

Leave a Reply