SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-1| সাগর সঙ্গমে নবকুমার

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-1| সাগর সঙ্গমে নবকুমার প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-1| সাগর সঙ্গমে নবকুমারএমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 10 (Ass. MEDIUM)

  1. English Solutions
  2. অসমীয়া Questions Answer
  3. বাংলা Questions Answer
  4. বিজ্ঞান Questions Answer
  5. সমাজ বিজ্ঞান Questions Answer
  6. हिंदी ( Elective ) Questions Answer
  7. ভূগোল (Elective) Questions Answer
  8. বুৰঞ্জী (Elective) Questions Answer
  9. Hindi (MIL) Question Answer

SEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-1| সাগর সঙ্গমে নবকুমার

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have givenSEBA Class-10 Bangla Question Answer| Chapter-1| সাগর সঙ্গমে নবকুমার Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ-১ ক

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয় (১৮৩৮ – ১৮৯৪)

প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : 

(ক) নবকুমার কে?

উত্তর : নবকুমার হইল সপ্তগ্রামের অধিবাসী এক ব্রাহ্মণ যুবক।

(খ) নবকুমার সঙ্গীগণ কর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল? 

উত্তর : নবকুমার সঙ্গীগণ কর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল নদীতে জোয়ার আসা।

(গ) নবকুমার নির্জন সমুদ্রতীরে বিজনে পরিত্যক্ত হল কেন?

 উত্তর ঃ নৌকাযাত্রীদের আহার কষ্ট নিবারণার্থে বিজন বনে রন্ধনের কাষ্ঠ সংগ্রহে ইবার জন্য নবকুমার নির্জন সমুদ্রতীরে পরিত্যক্ত হইল। 

(ঘ) ঘুম ভাঙার পর নবকুমার বহুদূরে কী দেখেছিল ? 

উত্তর : ঘুম ভাঙার পর নবকুমার বহুদুরে এক আলোকবিন্দু দেখিয়াছিল।

(ঙ) কখন কাপালিকের সঙ্গে নবকুমারের সাক্ষাৎ হয়েছিল?

উত্তর : নবকুমার আলোকবিন্দুর সম্মুখবর্তী হইলে কাপালিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হইয়াছিল। 

(চ) পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’ উক্তিটি কার ?

উত্তর : ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’ — উক্তিটি কপালকুণ্ডলার।

(ছ) কস্তম শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : কত্তম শব্দের অর্থ হইল কে তুমি।

(জ) নবকুমার জাতিতে কী ছিল?

উত্তর : নবকুমার জাতিতে হিন্দু ব্রাহ্মণ ছিল।

(ঝ) নবকুমার পর্ণকুটিরে কী খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেছিল?

 উত্তর : নবকুমার পর্ণকুটিরে কাপালিক প্রদত্ত কিছু ফল ও জল খাইয়া ক্ষুধা নিবারণ করিয়াছিল। 

(ঞ) ‘এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়ৰীণা বাজিয়া উঠিল।’ — এখানে কার কণ্ঠস্বরের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : অপূর্ব সুন্দরী রমণী কপালকুণ্ডলার কণ্ঠস্বর। 

(ট) অস্পষ্ট সন্ধ্যালোকে কে নবকুমারকে পর্ণকুটিরের পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়?

উত্তর: অস্পষ্ট সন্ধ্যালোকে কাপালিক নবকুমারকে পর্ণকুটিরের পথ দেখাইয়া নিয়া যায়।

(ঠ) “কাপালিক মনুষ্য, আমিও মনুষ্য” উক্তিটি কার ? 

উত্তর : কাপালিক মনুষ্য, আমিও মনুষ্য” —উক্তিটি নবকুমারের। 

(ড) কাপালিকের পর্ণকুটিরে নবকুমার কী দেখেছিল? 

উত্তর : কাপালিকের পর্ণকুটিরে নবকুমার কয়েকখানা ব্যাঘ্রচর্ম, এক কলস জল ও কিছু ফল-মূল দেখিয়াছিল। 

(ঢ) কাপালিকের বয়স কত ছিল? 

উত্তর : কাপালিকের বয়স প্রায় পঞ্চাশ বৎসর ছিল। 

(ণ) প্রাতে উঠিয়া নবকুমার কী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল? 

উত্তর : প্রাতে উঠে নবকুমার সহজে বাটী গমনের উপায় করিতে ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছিল।

(ত) ……. শিখরাসীন মনুষ্যমূর্তি আকাশপটস্থ চিত্রের ন্যায় দেখা যাইতেছে।’ —এই “মনুষ্যমূর্তিটি কার?

 উত্তর : মনুষ্যমূর্তিটি জটাধারী কাপালিকের।

প্রশ্ন ২। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) সাগর সংগমে নবকুমার পাঠটি কার লিখিত কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 

উত্তর : সাগর সংগমে নবকুমার’ পাঠটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত কপালকুণ্ডলা গ্রন্থের অন্তর্গত। 

(খ) ভৈরবী প্রেরিতোহসি’ – বক্তা কে? কাকে উদ্দেশ্য করে সে একথা বলেছে? 

উত্তর : বক্তা কাপালিক। নবকুমারকে উদ্দেশ্য করিয়া একথা বলিয়াছেন।

(গ) নবকুমার কোথায়, কীভাবে পরিত্যক্ত হয়েছিল? 

উত্তর : নবকুমার নদীতীরবর্তী বিজন বনে তাঁহার সঙ্গিগণ কর্তৃক পরিত্যক্ত হইয়াছিল। সঙ্গিগণ নবকুমারকে জোয়ার আসার ভয়ে নদীতীরে পরিত্যাগ করিয়াছিল।

(ঘ) – সবিস্ময়ে দেখিলা অদূরে, ভীষণ-দর্শন মূৰ্ত্তি।’ – ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ পাঠে উদ্ধৃত কবিতাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

 উত্তর : ‘সাগর সংগমে নবকুমার পাঠে উদ্ধৃত কবিতাংশটি মেঘনাদবধ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হইয়াছে। 

(ঙ), যে স্থানে সঙ্গীরা নবকুমারকে পরিত্যাগ করে চলে যান, সেখানকার বালিয়াড়ির সম্পর্কে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করো।

উত্তর : যে স্থানে সঙ্গীরা নবকুমারকে পরিত্যাগ করিয়াছিলেন সেখানে মনুষ্য বসতির চিহ্নযাত্রা ছিল না, অরণ্যময় অঞ্চল। অসমতল স্থানে কয়েক মাইল ব্যাপিয়া কেবল বালুর স্তূপ বিরাজমান। বালুর স্তূপ আর কিছু উচ্চ হইলে বালুকাময় ক্ষুদ্র পর্বতশ্রেণী বলা যাইতে পারিত। এইজন্যে লোকে উহাকে বালিয়াড়ি বলে। বালিয়াড়ির শুভ্র শিমালা মধ্যাহ্ন সূর্য কিরণে অপূর্ব প্রভা বিশিষ্ট দেখায়। এখানে উচ্চ বৃক্ষ জন্মায় না। স্তূপতলে সামান্য ক্ষুদ্র বন জন্মায়। শিরোভাগে ছায়াশূন্য ধবল শোভা বিরাজ করে। অধোভাগে ঝাটী, বন-ঝাউ এবং বনপুষ্পই অধিক দেখা যায়। 

(চ) কীরূপ পরিস্থিতিতে নবকুমার বিজন বনে কী কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল ? 

উত্তর : গঙ্গাসাগর হইতে তীর্থযাত্রীগণ ফিরিয়া আসার সময় নদীতীরে দুই দিনের ক্ষুধার জ্বালা দূর করিবার জন্য রান্না-বান্নার আয়োজন করিতে গিয়া দেখিল যে পাকাদির কাষ্ঠ নাই। তখন নবকুমার এতগুলি লোকের আহার, তৃষ্ণা নিবারণের জন্য একাই কুঠার হাতে নদীর তীরবর্তী বিজন বনে রন্ধনের কাষ্ঠ সংগ্রহের জন্য যায়। সেইখানে নিকটে আহরণযোগ্য কোন কাঠ না পাইয়া একটু দূরে গিয়া কাঠ সংগ্রহ করিয়া তীরে আসিতে তাহার অল্প বিস্তর দেরী হইল। এদিকে জোয়ার আসিয়া পরায় তাঁহার সঙ্গিগণ নবকুমারকে অনিচ্ছাবশতঃ নদীতীরে পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া যায়। 

(ছ) কাপালিককে নবকুমার কোথায় কী অবস্থায় দেখতে পায় তা লেখো। 

উত্তর : সমুদ্রতীরে নবকুমার বিজন বনে সঙ্গিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত হইয়া হতাশ হইয়া পড়িল। নবকুমার চোখে অন্ধকার দেখিতে লাগিল। লোকালয় নাই, আশ্রয় নাই, কোন আহার্য ও পানীয় নাই, তীব্র শীতের গাহবস্ত্র নাই। তবে সে কী করিয়া বাচিবে। অবশেষে নবকুমার একটি বালিয়াড়ির পার্শ্বে পিঠ দিয়া অবসন্ন অবস্থায় ঘুমাইয়া পড়িল। নিদ্রাভে গভীর রাত্রে নবকুমার অকস্মাৎ বহুদূরে এক আলোকবিন্দু দেখিতে পাইয়া অদূরে লোকাল আছে বলিয়া অনুমান করিল। পরে অল্প দূরে অগ্রসর হইয়া দেখিতে পাইল ভীষণ দর্শন কাপালিক ধ্যানমগ্ন আছে। কাপালিকের ধ্যানভঙ্গের পর কাপালিক নবকুমারকে তাঁহাকে অনুসরণ করিতে বলিলেন। 

(জ) এ কি দেবী—মানুষী — না কাপালিকের মায়ামাত্র। এখানে কার কথা বলা – হয়েছে? কে এইরূপ ভেবেছিলেন? 

উত্তর : কপালকুণ্ডলার। নবকুমার।

(ঝ) নবকুমার কার সহায়তায় কেমন করে পুনরায় পর্ণকুটিরে পৌঁছতে পেরেছিল। নারীটি কে?

উত্তর : পূর্বদিন নবকুমার কাপালিকের সহিত অল্প সময়ের মধ্যে পর্ণকুটীরে প্রবেশ করে। পরে ক্ষুধার্ত নবকুমার কাপালিক প্রদত্ত কিছু ফল ও জল আহার করিয়া অবসন্নতাবশতঃ নিদ্রামগ্ন হইয়া পড়ে। 

পরের দিন প্রভাতে নবকুমার পর্ণকুটিরে কাপালিককে দেখিতে পাইল না। সে সারাদিন অপেক্ষা করিয়া রইল। অপরাহ্নে সমুদ্রতীরে বসিয়া থাকিয়া অস্পষ্ট আলোকে পর্ণকুটিরের পথ হারাইয়া ফেলিল। পরে অন্ধকারে এক অতি সুন্দরী রমণীর সঙ্গে তাঁহার দেখা হইল। ঐ রমণী পথিককে পথ হারাইয়াছে কিনা জিজ্ঞাসা করিয়া নবকুমারকে পূর্বের পর্ণকুটিরে পৌঁছাইয়া নিরুদ্দেশ হইয়া যায়। নারীটি হইলেন কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা।

(ঞ) কাপালিকের পর্ণকুটিরের যথাযথ পরিচয় দাও। 

উত্তর : কাপালিক মকুমারকে লইয়া তাহার পর্ণকুটিরে প্রবেশ করিল। ওই কুটির সর্বাংশে কেয়াপাতায় তৈরী। তাহার মধ্যে কয়েকটি ব্যাঘ্রচর্ম আছে। এক কলসি জল ও কিছু ফল-মূল আছে। সেইখানে খাবার জন্য পর্ণপত্র রচনা করা আছে। পর্ণকুটিরে অগ্নি জ্বালাইবার জন্য কাষ্ঠ রহিয়াছে। 

(ট) কাপালিকের পর্ণকুটিরে নবকুমার কী করে কোথায় প্রাপ্ত তত্ত্বল আত্মসাৎ করেছিল?

 উত্তর : অপূর্ব সুন্দরী রমণী কপালকুণ্ডলা সমুদ্রতীর হইতে পথভ্রান্ত নবকুমারকে বনের মধ্য দিয়া পথ দেখাইয়া অলক্ষ পদবিক্ষেপে কাপালিকের পর্ণকুটিরের দিকে চলিল। বনের অন্তরালে গেলে, নবকুমার আর সুন্দরীকে দেখিতে পাইল না। বনবেষ্টনের পর নবকুমার দেখিতে পাইলেন সম্মুখে কুটির। নবকুমার কুটির মধ্যে প্রবেশ করিয়া দ্বার বন্ধ করিয়া করতলে মাথা রাখিয়া বসিল। পরে তাবিল এ কি দেবী-মানুষী না কাপালিকের মায়ামাত্র’। কুটিরের মধ্যে পূর্ব হইতেই একখানি কাষ্ঠ জ্বলিতেছিল। কুটিরে শুধু আলো নহে, তণ্ডুলাদি।

পাকোলযোগী কিছু সামগ্রী ছিল। নবকুমার সন্ধ্যাকালিন কাজ শেষ করিয়া কুটির মধ্যে প্রাপ্ত তণ্ডুলগুলি এক মৃত পাত্রে সিদ্ধ করিয়া আত্মসাৎ করিল।

 (ঠ) “কোথা যাইতেছ? যাইও না। ফিরিয়া যাও — পলায়ন কর।”—উক্তিটি কার? কে. কাকে, কখন, কেন এ উক্তিটি করে? নবকুমার পরে কী করল? 

উত্তর : উক্তিটি কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার। কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে এই উক্তিটি করে। সন্ধ্যার পর কাপালিক নবকুমারকে লইয়া কোথাও যখন যাইতেছিলেন। তখন অকস্মাৎ নবকুমারের পিঠে কাহার যেন কোমল স্পর্শ হইল। পশ্চাৎ ফিরিয়া যাহা দেখিল তাহাতে নবকুমার স্পন্দনহীন হইল। পিছনে এক রমণী মুখে অঙ্গুল দিয়া আছে এবং রমণী কথা বলিতে নিষেধ করিতেছে। নবকুমার আশ্চর্য হইয়া দাঁড়াইল। কাপালিক কিছুই দেখিতে পাইলেন না, অগ্রসর হইয়া চলিয়া গেলেন। রমণী মৃদুস্বরে কি কথা বলিল। নবকুমারের কর্ণে সেই শব্দ প্রবেশ করিল।

 “কোথায় যাইতেছ? যাইও না। ফিরিয়া যাও— পলায়ন কর।” এই বলিয়া রমণী সরিয়া পড়িল। নবকুমার কিছুক্ষণ অভিভূতের মত দাঁড়াইল। মনে করিল কিসের আশঙ্কা। তান্ত্রিকেরা সবই করিতে পারে। তবে কি সে পলাইবে। পলাইবে কেন? কাপালিক মনুষ্য, নবকুমারও মনুষ্য। 

(ড) সৈকত ভূমে অস্পষ্ট সন্ধ্যালোকে দাঁড়াইয়া অপূর্ব রমণী মূর্তি !’ — এই রমণী মূর্তিটি কে? তোমার পঠিত অংশে তার রূপের যে বর্ণনা আছে, তা নিজের ভাষায় লেখো। [HSLC 2020] 

উত্তর : কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা। কপালকুণ্ডলার রূপক যেন দেবী মূর্তির সহিত তুলনা করা যায়। গোড়ালি পর্যন্ত বিস্তৃত কুঞ্চিত কেশরাশি তাহাকে চিত্রপটের উপর চিত্র বলিয়া মনে হয়। কেশগুচ্ছের প্রাচুর্যে মুখমণ্ডল সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত নয়। যেন মনে হয় বিকশিত চন্দ্ররাশির সহিত মেঘের চুরি খেলা চলিতেছে। নয়নদ্বয় যেন স্নিগ্ধ, স্থির, গম্ভীর অথচ জ্যোতির্ময়। চন্দ্রকিরণের ন্যায় স্নিগ্ধোজ্জ্বল দীপ্তি পাইতেছে। ‘বেশরাশিতে আবৃত থাকিলেও কোমল বাহুযুগলের বিমলশ্রী অনুভূত হয়। রমণীদেহ নিরাভরণ হইলে ও যে সৌন্দর্য বিকশিত হইয়াছে তাহার মধ্যে এক অবর্ণনীয় সৌন্দর্যের এবং মোহিনী শক্তির প্রকাশ প্রস্ফুটিত হইয়া উঠিয়াছে। 

(ঢ) “ভ্রমণ করিতে করিতে নবকুমারের শ্রম জন্মিল।’ সঙ্গী-পরিত্যক্ত নবকুমার কোথায় ভ্রমণ করছিলেন? সে স্থানের পরিবেশটি কেমন, সংক্ষেপে লেখো। [HSLC 2021 (spl.))

 উত্তর : সঙ্গী পরিত্যক্ত নবকুমার নির্জন সমুদ্রতীরে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর হইয়া উপযুক্ত আশ্রয়ের সন্ধানে ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। 

গভীর অন্ধকার চতুর্দিকে ব্যপ্ত। সুউচ্চ গগনে নক্ষত্রমণ্ডলী নীরবে ফুটিতে লাগিল। 

জনহীন সমুদ্রতীর। গগন প্রান্তর সর্বত্র নীরবতা ভঙ্গ করিয়া অবিরল কল্লোলিত সমুদ্রগর্জন

এবং কদাচিৎ বন্য পশুর রব বাতাসে মিলিয়া এক ভয়ানক পরিবেশের সৃষ্টি করিয়াছে। ভীত কম্পিত হৃদয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে কখনও উপত্যকায়, কখনও অধিত্যকায়, কখনও স্তূপতলে কখনও ভূপশিখবে কেবলই বিচরণ করিতে লাগিলেন। 

প্রশ্ন ৩। শূন্যস্থান পূর্ণ করো : সকলই করিতে পারে।

(ক) সে তো আশঙ্কাসূচক, কিন্তু_____?______সকলই করিতে পারে।তবে কি _____? পলাইব বা_______ ? 

(খ) নবকুমার কহিলেন, “এ পর্যন্ত_____দর্শনে কি জন্য“_____ছিলাম।”কাপালিক কহিল_____ নিযুক্ত ছিলাম।

(গ) ভ্রমণ করিতে করিতে______ শ্ৰম জন্মিল। ______অনাহার; এজন্য______ হইলেন।

 (ঘ)______ হইতে জানু পর্যন্ত______ আবৃত। তলদেশে ________।

(ঙ) পরে ______শয়ন করিলেন, সমস্ত________ শীঘ্রই______ হইলেন। 

উত্তর : (ক) কিসের আশঙ্কা, তাত্ত্বিকেরা, পলাইব, কেন

(খ) প্রভুর, বঞ্চিত, নিজ ব্রতে

 (গ) নবকুমারের, সমস্ত দিন, অধিক অবসন্ন 

(ঘ) কটিদেশ, শাদুল চর্মে, রুদ্রাক্ষমালা 

(ঙ) ব্যাঘ্রচর্মে, দিবসজনিত ক্লেশহেতু, নিদ্রাভিভূত।

প্রশ্ন ৪। রচনাধর্মী উত্তর দাও :

(ক) “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?”—উক্তিটির আলোকে ঘটনার পূর্বাপর আলোচনা করো। 

উত্তর : পরদিন প্রভাতে ঘুম ভাঙিলে নবকুমার কাপালিকের পর্ণকুটিরে কাপালিককে দেখিতে পাইল না। সে সারাদিন অপেক্ষা করিয়া খুব নিরাশ হইল। কাপালিক আসিল না। পূর্বদিনের উপবাস, আজ এই পর্যন্ত অনশন, ইহাতে ক্ষুধা প্রবল হইল। এখন কুটির ছাড়িয়া ফল-মূল আহরণ না করিলে ক্ষুধায় প্রাণ যাইবে। তাই নবকুমার বাহির হইয়া গেল। অল্পকার ভ্রমণ করিয়া সে বালুকাহীন নিবিড় বনে পড়িলেন। পথহীন বনমধ্যে অল্পক্ষনেই পথভ্রান্তি জন্মিল। পরক্ষণেই সামনে অনন্ত নীল সমুদ্র। নবকুমার যতদূর চোখ যায় সহস্র সফেন তরঙ্গভঙ্গ দেখিল। হঠাৎ তাঁহার চেতনা হইল। আশ্রম খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। উঠিয় পিছনে ফিরিবা মাত্রই সে সমুদ্র সৈকতে অস্পষ্ট আলোকে এক রমণীকে দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিল। রমণীর মধ্যে এক মোহিনী শক্তি লক্ষ্য করিল। নবকুমার আশ্চর্য হইল। রমণী স্থির দৃষ্টিতে নবকুমারের দিকে তাকাইল। সমুদ্রের জনহীন তীরে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিল। অনেকক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল। সে মৃদুস্বরে বলিল, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?” রমণীর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল। সে কি উত্তর দিবে কিছুই মনে করিতে পারিল না। বারবার তাহার কাণে “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ” এই শব্দই প্রবেশ করিল। রমণী কোন উত্তর না পাইয়া কহিলেন, “আইস।” এই বলিয়া চলিতে লাগিল। একটি স্থানে এক ক্ষুদ্র বন পরিবেষ্ট করিতে হইল, বনের অন্তরালে গেলে, রমণীকে আর দেখা গেল না। সম্মুখে কাপালিকের পর্ণকুটির দেখা গেল। 

(খ) ‘সাগর সংগমে নবকুমার পাঠটির সারাংশ লেখো।

উত্তর : গঙ্গাসাগরে স্নান করিয়া একটি যাত্রীবাহী নৌকা দিকভ্রান্ত হইল। উৎকণ্ঠিত ও ভীত যাত্রীদের সাহস যোগাইল নবকুমার নামক এক যুবক। স্থির হইল নিকটস্থ নদীতীরে নৌকা বাঁধিয়া সকলে স্নানাহার করিবে এবং জোয়ার আসিলে নৌকা স্রোতের অনুকূলে ভাসাইবে। আহারাদির জন্য নৌকায় রন্ধনের কাষ্ঠ ছিল না। নবকুমার যাত্রীদের ক্ষুধা নিবারনের জন্য একাকী নদীতীরের বনে কাষ্ঠ সংগ্রহ করিতে গিয়া পরিস্থিতির বিপাকে পরিয়া কাষ্ঠ আনিতে দেরী করায় জোয়ারের ভয়ে নৌকাযাত্রীগণ নবকুমারকে পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া যায়। নবকুমার বিজন বনে সমুদ্রতীরে পরিত্যক্ত হইয়া সঙ্গীহীন হইয়া চারিদিকে ছোটাছুটি করিতে থাকে। অন্ধকার নামিয়া আসে। লোকালয় নাই, আশ্রয় নাই, খাদ্য-পানীয় নাই। মৃত্যু অবধারিত জানিয়া অবসন্ন দেহে নবকুমার একটি বালিয়াড়ির পার্শ্বে পিঠ দিয়া ঘুমাইয়া পরে। গভীর রাত্রে তাঁহার নিদ্রা ভাঙ্গিলে হঠাৎ বহু দূরে এক আলোকবিন্দু দেখিয়া লোকালয় আছে বলিয়া মনে হয়। নবকুমার অগ্রসর হইয়া দেখিতে পায় যে এক ভীষণ দর্শন কাপালিক ধ্যানমগ্ন। তাহার নিকটে গেলে ধ্যানভঙ্গের পর কালিক নবকুমারকে তাঁহাকে অনুসরণ করিতে বলিলেন। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁহারা এক পর্ণকুটিরে প্রবেশ করে। ক্ষুধার্ত নবকুমার কাপালিকের দেওয়া কিছু ফল-মূল আহার করিয়া ঘুমাইয়া পরে। পরের দিন সকালে নবকুমার কাপালিকের পাতার কুটিরে কাপালিককে দেখিতে পাইল না। সারাদিন অপেক্ষা করিয়া নিরাশ হইল। বিকালবেলা সমুদ্রতীরে বসিয়া থাকিয়া সন্ধ্যায় অস্পষ্ট আলোকে কুটিরের পথ খুঁজিয়া পাইল না। সময়ান্তরে এক অতি সুন্দরী রমণীর সঙ্গে নবকুমারের দেখা হয়। রমণী পথিককে পথ হারাইয়াছে কিনা জিজ্ঞাসা করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে পূর্বের কুটিরে পৌঁছাইয়া দিয়া নিরুদ্দেশ হইয়া যায়। 

কাপালিকের সঙ্গে নবকুমারের দেখা হয় পরের দিন সন্ধ্যার সময়। নবকুমার কাপালিককে জানাইল যে সে বনের পথ চিনিতে পারে না, সে তাঁহার গৃহে প্রত্যাগমন করিতে চায়। কাপালিক কেবলমাত্র বলিলেন, “আমার সঙ্গে আগমন কর।” কাপালিক আগে আগে নবকুমার পিছনে যাইতে থাকে। হঠাৎ নবকুমার তাঁহার পিঠে কাহার যেন কোমল হাতের স্পর্শ অনুভব করিল। পিছনে ফিরিয়া দেখিল যে এক নারী, নারীটি নিঃশব্দ, নিস্পন্দ। রমণী নবকুমারকে কোন কথা বলিতে মানা করিতেছে। কাপালিক আগে একটু দূরবর্তী হইলে রমণী মৃদুস্বরে বলিল, “ কোথায় যাইতেছ? যাইও না। ফিরিয়া যাও—পলায়ন কর।” কথা শেষ করিয়া রমণী সরিয়া গেলে নবকুমার কিছুক্ষণ অভিভূতের মতো দাঁড়াইয়া রহিল। রমণী কোন দিকে গেল নবকুমার ঠিক করিতে পারিল না, নবকুমারের মনে আশঙ্কা হইল, কিন্তু কিরে আশঙ্কা? কাপালিকেরা সব কিছুই করিতে পারে। নবকুমার ভাবিল, তবে কি পালাইবে? পালাইবে কেন? কাপালিক মনুষ্য, সেও তো মনুষ্য।

(গ) “এ কি দেবী-মানুষী-না কাপালিকের মায়া মাত্র।” এই উক্তিটির আধারে নবকুমারের মনোভাব ব্যক্ত করো। 

উত্তর : বিজ্ঞন বনে সমুদ্রতীরে পরিত্যক্ত হইয়া নবকুমার এক ভীষণ দর্শন কাপালিকের সাক্ষাৎ পায়। নবকুমার কাপালিকের নাম শুনিয়াছে কিন্তু দেখে নাই। কাপালিক নবকুমারকে তাঁহার সঙ্গে যাইতে বলিলে নবকুমার তাহার সহিত যাইতে সম্মত হইল। নবকুমার ক্ষুধা- তৃষ্ণায় অত্যন্ত পীড়িত ছিল। তাহার আহারের দরকার। অন্য সময় হইলে সে কাপালিকের সঙ্গে কখনও যাইতেন না। নবকুমার কাপালিকের সঙ্গে বনপথে চলিতে চলিতে এক পর্ণকুটিরে প্রবেশ করে। সেইখানে কাপালিক প্রদত্ত ফল-মূল এবং ফল আহার করিয়া ক্লান্তিবশতঃ ব্যাঘ্রচর্মে শয়ন করিয়া নিদ্রামগ্ন হয়। পরের দিন সমস্ত দিন কাপালিকের সাক্ষাৎ না পাইয়া সমুদ্রতীরে বসিয়া সমুদ্রের শোভা দেখিতে দেখিতে সন্ধ্যা হইয়া আসিলে নবকুমারের চেতনা হইল। কুটিরের পথ খুঁজিয়া না পাইয়া হতাশ হইল। পশ্চাতে ফিরিলে হঠাৎ এক অপূর্ব রমণীমূর্তি দেখিতে পাইল। রমণীমধ্যে তাঁহার মোহিনীশক্তি আছে বলিয়া মনে হইল। সমুদ্রতীরে দুই এনে জনহীন অবস্থায় বহুক্ষণ মুগ্ধ দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। অনেকক্ষ পরে রমণী মৃদুখ। কহিল, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?” কন্ঠস্বরে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল। অনেকক্ষণ নবকুমারের কর্ণে সেই ধ্বনি বাজিতেছিল। “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?” রমণী অন্য কোন কথা আর কহিল না। সে নবকুমারকে পথ দেখাইয়া একটি ক্ষুদ্রবন পরিবেষ্টনের বনের অন্তরালে নবকুমারকে রাখিয়া চলিয়া গেল। নবকুমার পরে দেখিতে পায় যে সে কুটিরের সামনেই আসিয়া গিয়াছে। কুটির মধ্যে প্রবেশ করিয়া নবকুমার দ্বার বন্ধ করিয়া করতলে মস্তক রাখিয়া অনেকক্ষণ ভাবিলেন। তখন নবকুমারের মনে হইল যে “এ কি দেবী মানুষী—না কাপালিকের মায়ামাত্র। ” নবকুমার নিস্পন্দ হইয়া ভাবিল। কিছুই বুঝিতে পারিল না। পরে এই রমণীই নবকুমারকে কাপালিকের কবল হইতে পলায়ন করিয়া ফিরিয়া যাইতে আহ্বান করিয়াছে। রমণীটি হইল কপালকুণ্ডলা। 

(ঘ) ‘কাপালিক মনুষ্য আমিও মনুষ্য।” উক্তিটির বক্তা কে? সে এরূপ বলার যথাযথ কারণ উল্লেখ করো। 

উত্তর ঃ উক্তিটির বক্তা নবকুমার। যখন রমণী কপালকুণ্ডলা কাপালিকের কবল হইতে নবকুমারকে পলাইয়া যাইতে আহ্বান করিল তখন নবকুমারের ইহাই মনে হইল যে নবকুমার পলাইবে কেন? নবকুমার ভাবিল, পূর্বের কয়দিন সে তো কাপালিকের কবলে থাকিয়া বাঁচিয়াছে। কাপালিক তাঁহাকে কোন ক্ষতি করে নাই বরঞ্চ বাঁচাইয়া রাখিয়াছে ফল-মূল-জল আহার করাইয়া। তবে তাঁহার নিকট ভয় কি? কাপালিক মনুষ্য, নবকুমারও মনুষ্য। যদিও যখন সন্ধ্যালোক হওয়ার প্রাক্কালে কাপালিক নবকুমারকে পিছনে রাখিয়া তিনি আগে আগে অজানা স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিয়াছিলেন তখন নবকুমারের মনে হইয়াছিল যে সে মৃত্যুর মুখে দাড়াইয়া আছে। কাপালিকেরা সব কিছুই করতে পারে। কাপালিকের তথ্য সাধনার জন্য শবের দরকার হয়। কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা কাপালিকের বলীর খড়গ সুকৌশলে অপহরণ করিয়া নবকুমারের প্রাণরক্ষা করিয়াছিল। কারণ বনবালা জনিত যে কাপালিকের দরকার আছে নবকুমারকে। তাই নবকুমারকে সঙ্গে করিয়া কপালকুণ্ডলা পলায়ন করিয়াছিল।

 (ঙ) নবকুমারকে গল্পটির নায়ক বলা যায় কি? নবকুমারের চরিত্রের বর্ণনা দাও। 

উত্তর : ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র নবকুমার। উপন্যাসে আদ্যন্ত তাহাকে পাওয়া গিয়াছে বলিয়া সে নায়কের মর্যাদা দাবী করিতে পারে। নায়িকা কপালকুণ্ডলার জীবনের সহিত সে মিশিয়া আছে বলিয়া পুরুষ চরিত্রগুলির মধ্যে সে পুরোভাগে আছে, তাই সে নায়ক। কিন্তু উপন্যাসের ঘটনাবলী তাহাকে বৃত্তমুলে রাখিয়া আবর্তিত হয় নাই। কপালকুণ্ডলার নিকট তাহার পৌরুন স্বাতন্ত্র লুপ্ত হইয়াছে বলিয়া মুখ্যতম চরিত্রের গৌরব তাহার নাই। সে নায়িকা প্রধান উপন্যাসে এক অতি সাধারণ মুখ্য পুরুষ চরিত্র মাত্র। নবকুমার একজন ব্রাহ্মণ যুবক। সে সপ্তগ্রামের অধিবাসী। সে পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাসাগরে যাত্রা করে নাই, তাহার যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্র দর্শন। গঙ্গাসাগরের শোভা তাহাকে বিস্মিত করিয়াছে। তাহার মন বিধাতার সৃষ্টি-বৈচিত্র্যে মুগ্ধ হইয়াছে। সে সহযাত্রীদের প্রাণনাশের আশঙ্কাহেতু ধৈর্যহারা হয় নাই। সে সকলকে আশ্বাস দিয়াছে। সে পরোপকারের জন্য জীবনের ঝুঁকি হাতে লইয়া এতগুলি লোকের আহার কষ্ট নিবারণের জন্য একাকী ভীত না হইয়া কাষ্ঠ আহরণে বনে গিয়াছে। তাহার সহযাত্রীদের তাঁহাকে পরিত্যক্ত করিয়া চলিয়া যাওয়া তাহার নিকট অবিশ্বাস্য মনে হইয়াছে। সে তন্ত্রসাধক কাপালিককে বিশ্বাস করিতেও দ্বিধা করে নাই। বনমধ্যে রমণীকে নবকুমার হয় দেবী, না হয় মানুষী অথবা কাপালিকের মায়া বলিয়া কল্পনা করিয়াছে। নবকুমার পরোপকারী। সে ভীষণ সমুদ্রতীরে বিসর্জিত হইয়াও ধৈর্য হারায় নাই, সহযাত্রীদের কটু কথা বলে নাই। অথচ বলিয়াছে “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” যাহাদের পরোপকার করা স্বভাব তাহারা যতবার বনবাসিত হউক না কেন, পরের কাষ্ঠ আহরণের জন্য ততবারই যাইতে কোনরূপ দ্বিধা করিবে না। 

Chapter
NO.
Contents
সাগর সঙ্গমে নবকুমার
বাংলার নবযুগ
বলাই
অরুণিমা সিন্হা : আত্মবিশ্বাস
ও সাহসের অন্য এক নাম
তোতা কাহিনী
কম্পিউটার কথা, ইন্টারনেট কথকতা
আদরিণী
প্রার্থনা
প্রতিনিধি
১০গ্রাম্যছবি
১১ বিজয়া দশমী
১২ আবার আসিব ফিরে
১৩দ্রুতপঠন : বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম
তিওয়া
দেউরী জনগোষ্ঠী
অসমের নেপালী গোর্খা জনগোষ্ঠী
বড়ো জনগোষ্ঠী
মটক জনগোষ্ঠী
মরাণ জনগোষ্ঠী
মিচিং জনগোষ্ঠী
অসমের মণিপুরী জনগোষ্ঠী
রাভাসকল
সোনোয়াল কছারিসকল
হাজংসকল
অসমের নাথযোগীগণ
আদিবাসীসকল
১৪পিতা ও পুত্র
১৫অরণ্য প্রেমিক : লবটুলিয়ার কাহিনী
১৬ জীবন-সংগীত
১৭কাণ্ডারী হুশিয়ার

ভাবসম্প্রসারণ

রচনা

রচনা (Part-2)

(চ) ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ পাঠে পথভ্রান্ত নবকুমার সাগরের যে অপূর্ব শোভা দেখেছিলেন, তা বর্ণনা করো।

উত্তর ঃ বনপথে আশ্রম হারিয়ে নবকুমার অজান্তে সমুদ্রে কাছাকাছি আসিয়া পড়েন। হঠাৎ তিনি সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনিতে পান। একটু পরে বন থেকে বাহির হইয়া দেখিলেন সামনে সমুদ্র। অনন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সামনে দেখিয়া তাঁহার মনে অদ্ভুত আনন্দ খেলিয়া গেল। সমুদ্রের বালুর ওপরে তিনি বসিয়া পড়িলেন। ফেনিল নীল অনন্ত সমুদ্র। দুদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু জলের তরঙ্গ ও ফেনার রেখা। সেই রেখা ফুলের মালার

বিপুল স্তূপের মতো সোনার বালুতীরে শোভা পাচ্ছে। যদি কখনো তামাম বাতাস বাহিত হইয়া নক্ষত্র মণ্ডল দুলে ওঠে তাহলে তা সাগরের এই ঢেউয়ের ফেনার মতো দেখিতে হইবে। 

(ছ) সাগরসঙ্গমে নবকুমার’ পাঠে কাপালিকের যে ভীষণ রূপের বর্ণনা রয়েছে তা লিপিবদ্ধ করো। 

[HSLC2021/22 ]

উত্তরঃ জটাধারী কাপালিক বালুকাস্তুপের উপর প্রজ্জ্বলিত অগ্নিশিয়ার সম্মুখে ধ্যানমগ্ন। তাঁহার বয়স প্রায় পঞ্চাশ বৎসর। কটিদেশ হইতে জানু পর্যন্ত শার্দুলচর্মে আবৃত। গলদেশে রুদ্রাক্ষ মালা, আয়ত মুখমণ্ডল শ্মশ্রজটা পরিবেষ্টিত। তিনি এক ছিন্ন শীর্ষ গলিত শবেরউপর ধ্যানরত। সম্মুখে মরামাথার খুলি এবং স্থানে স্থানে অস্থি পতিত হইয়া রহিয়াছে। কাপালিকের গলায় যে রুদ্রাক্ষমালা তাহাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্থিখণ্ড গ্রথিত রহিয়াছে। তাহার এই ভীষণ রূপ দর্শনে সকলের মনে শঙ্কার সৃষ্টি করে। 

প্রশ্ন ৫। ব্যাখ্যা করো :

(ক) রাত্রি মধ্যে ব্যাঘ্র ভল্লুকের সাক্ষাৎ পাইবার সম্ভাবনা। প্রাণনাশই নিশ্চিত। 

উত্তর ঃ আলোচ্য অংশটি লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয় লিখিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ নামক অংশ হইতে সংকলিত হইয়াছে। উদ্ধৃত অংশে গল্পের নায়ক নবকুমারের অসহায় অবস্থার কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। 

নবকুমার এক ব্রাহ্মাণ যুবক। গঙ্গাসাগর দর্শনে অন্যান্য যাত্রীদের সহিত নৌকাযাত্রী হইয়াছিল। গঙ্গাসাগর হইতে ফিরিবার সময় তাহাদের নৌকা দিকভ্রান্ত হয়। পরে যাত্রীদের আহার কষ্ট নিবারণের জন্য নবকুমার সমুদ্রতীরের বনে কাঠ সংগ্রহ করিতে গিয়া ভাগ্যক্রমে পরিত্যক্ত হয়। অন্যান্য যাত্রীগণ নবকুমারকে ফেলিয়া চলিয়া যায়। এমতাবস্থায় নবকুমার ভীষণ বনে ক্ষুধায়-পিপাসায় অত্যন্ত পীড়িত হয়। নবকুমার দেখিলেন যে সেইখানে গ্রাম নাই, লোক নাই, আহার্য নাই, আশ্রয় নাই। দুরন্ত শীত নিবারণের জন্য কোন গাত্রবস্ত্র নাই। তুষার শীতল বায়ুতে। তাহার গা কাঁপিতেছে। কোথায় শয়ন করিবে কী করিবে কিছুই বুঝিতে পারিতেছে না। অধিত্ব রাত্রিমধ্যে ব্যাঘ্র-ভল্লুকের সাক্ষাৎ পাইবার সম্ভাবনায় প্রাণনাশ যে নিশ্চিত তাহা আর নবকুমারের বুঝিবার বাকি রহিল না। এইভাবে মনের চঞ্চলতাহেতু নবকুমার স্থির হইয়া শান্ত মনে একস্থানে বেশিক্ষণ বসিয়া থাকিতে পারিল না। অবশেষে নবকুমার এক যায়গায় এক বালিয়াড়ি পার্শ্বে পিঠ রাখিয়া বসিল এবং ক্লান্তিবশতঃ ঘুমাইয়া পড়িল।

(খ) কোথা যাইতেছ? যাইও না। ফিরিয়া যাও—পলায়ন কর। 

উত্তর : উদ্ধৃত অংশটি লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ নামক পাঠ্যাংশ হইতে সংকলিত হইয়াছে। উদ্ধৃত অংশে কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে যে সাবধানবাণী উচ্চারণ করিয়াছে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। একদিন কাপালিকের কবলে অবস্থানের পর নবকুমার কাপালিকের সান্নিধ্য কোনক্রমেই উপযুক্ত ভাবিতে না পারিয়া বাড়ি যাইবার উপায় করিতে ব্যস্ত হইলেন কিন্তু এই বনের মধ্য

হইতে কিভাবে বাহির হইবেন, কি করিয়া পথ চিনিয়া বাড়ি যাইবেন। কাপালিক ইহার পথ চিনেনা, কিন্তু তিনি কি নবকুমারকে বাহির হইবার পথ বলিয়া দিবেন? তাহা বিশ্বাস হইল না।

 দ্বিতীয় দিন কাপালিকের সঙ্গে নবকুমারের দেখা হইল না। নবকুমার বাহিরে গিয়া সমুদ্রের শোভা দেখিয়া মুগ্ধ হইল। সন্ধ্যালোকে কুটিরের পথ হারাইয়া কপালকুণ্ডলার সাহায্যে কুটিরে আসিতে পারিয়াছে। পরের দিন প্রভাতে ঘুম হইতে উঠিয়া সকালের নিত্যকর্ম সমাপ্ত করিয়া কাপালিকের প্রতীক্ষা করিল। সারাদিন নবকুমার কাপালিককে দেখিল না। সন্ধ্যার সময় নবকুমার কুটিরের মধ্যে মাটিতে কাপালিককে চুপচাপ বসিয়া থাকিতে দেখিতে পাইল। নবকুমার তাহাকে স্বাগত জিজ্ঞাসা করিয়া কোন উত্তর পাইল না। পরে নবকুমার তাহার বাড়ি যাইবার প্রস্তাব করিয়া বলিল যে সে বনের পথ চিনে না, পাথেয়ও নাই । তাই প্রভুর আগমনের অপেক্ষায় আছে।

সন্ধ্যার পর কাপালিক নবকুমারকে তাহার সঙ্গে যাইতে বলিয়া বাহির হইলে কাপালিক আগে আগে, নবকুমার পিছে পিছে যাইতে লাগিল কোন শব্দ নাই। কোথা হইতে হঠাৎ কে যেন নবকুমারের পিঠে কোমল স্পর্শ করিল। পিছনে ফিরিয়া নবকুমার দেখিল যে এক রমণী মুখে আঙুল দিয়া নবকুমারকে কাপালিকের সঙ্গে যাইতে নিষেধ করিল। কিছুক্ষণ পরে মৃদুস্বরে বলিল, “কোথায় যাইতেছ? যাইও না। ফিরিয়া যাও—পলায়ন কর।” ইহা বলিয়া রমণী সরিয়া পরিল। নবকুমার কিছুকাল অভিভূতের মতো দাড়াইয়া রহিল। কাপালিক আগে চলিয়া গিয়াছে। তিনি ইহা কিছুই দেখিতে পাইলেন না। 

(গ) কখনও স্তূপতলে, কখনও স্তূপ শিখরে ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ নামক পাঠ্যাংশ হইতে উৎকলিত হইয়াছে। উদ্ধৃত অংশে নৌকাযাত্রীদের দ্বারা নবকুমার সমুদ্রতীরে বিজন বনে পরিত্যক্ত হইবার পর তাহার অবস্থা যে কী হইয়াছিল তাহাই বর্ণিত হইয়াছে।

 যখন পরোপকারী সমুদ্র দর্শনার্থী নবকুমার সম্পূর্ণরূপে বুঝিতে পারিল যে সে তাহার সঙ্গিদের দ্বারা বিজ্ঞান বনে পরিতাক্ত হইয়াছে তখন সে ইতস্ততঃ ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল। কখনও উপত্যকায়, কখনও অধিত্যকায়, কখনও স্তূপতলে, কখনও স্তূপশিখরে ভ্রমণ করিতে করিতে ক্লান্ত হইয়া পড়িল। কোথাও বসিবার উপায় নাই। প্রতি পদে পদে হিংস্র পণ্ড কর্তৃক আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনা আছে।

 ভ্রমণ করিতে করিতে নবকুমারের শ্রম হইল। সমস্ত দিন অনাহারে অধিক অবসন্ন হইল। এক স্থানে বালিয়াড়ির পার্শ্বে পিঠ দিয়া বসিল। গৃহের সুখতপ্ত শয্যা মনে পড়িল। চিন্তা করিতে করিতে শারীরিক ও মানসিক ক্লেশের অবসাদে সঙ্গে সঙ্গে নবকুমার ঘুমাইয়া পড়িল। নিদ্রাভঙ্গের পর দেখিল রজনী গভীর হইয়াছে। তখনও তাহাকে ব্যাঘ্রে হত্যা করে নাই। হঠাৎ বহুদূরে একটি আলোকচিহ্ন দেখিতে পাইয়া লোকালয় আছে বলিয়া মনে হইল।

কিন্তু সেই স্থানে যাইয়া দেখিল এক ভীষণ দর্শন কাপালিক ধ্যানমগ্ন। নবকুমার ক্ষুধা- পিপাসায় অত্যন্ত কাতর হইয়া পরিয়াছে। কাপালিকের ধ্যানভঙ্গের পর তাহার সঙ্গ অনুসারে। নবকুমার কাপালিকের পর্ণকুটিরে প্রবেশ করে। 

(ঘ) অকস্মাৎ এইরূপ দুর্গমধ্যে দৈবী মূর্তি দেখিয়া নিষ্পন্ন শরীর হইয়া দাঁড়াইলেন। তাহার বাক্শক্তি রহিত হইল। শুষ্ক হইয়া চাহিয়া রহিলেন। 

উত্তর : উদ্ধৃত অংশটি লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখিত ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের ‘সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ নামক পাঠের অংশবিশেষ। আলোচ্য অংশটিতে নব্য যুবক নবকুমারের প্রতিকূল অবস্থায় পতন এবং সেই স্থান হইতে উদ্ধারের চেষ্টার কথা বর্ণনা করা হইয়াছে।

 তীর্থযাত্রী সঙ্গিগণ কর্তৃক নবকুমার সমুদ্রতীরের বিজন বনে পরিত্যক্ত হইবার পর ইতস্ততঃ ভ্রমণ করিয়া ক্লান্ত হইয়া একটি বালিয়াড়ির পার্শ্বে পিঠ দিয়া ঘুমাইয়া পরে। পরে গভীর রাত্রে জাগিয়া বহুদূরে একটি আলোর বিন্দু দেখিতে পাইয়া তথায় উপস্থিত হইয়া এক ভীষণ দর্শন কাপালিকের কবলে পতিত হয়। কাপালিক নবকুমারকে তাঁহার পর্ণকুটিরে লইয়া যান। সেইখানে নবকুমার ফল-মূল-জল আহার করিয়া ব্যাঘ্রচর্মে নিদ্রামগ্ন হয়। পরের দিন সকালবেলা উঠিয়া কাপালিককে না দেখিয়া সমস্ত দিন অনাহারে কাটায়। সন্ধ্যার প্রাক্কালে সমুদ্রের শোভা দেখিতে দেখিতে সন্ধ্যার পর কুটিরের পথ না পাইয়া চিন্তায় পড়ে। এমন সময় সমুদ্র সৈকতে অস্পষ্ট আলোকে এক অপূর্ব সুন্দরী রমণীর সাক্ষাৎ পায়। সে রমণীর মধ্যে মোহিনীশক্তির অনুভব করে। নবকুমার হঠাৎ এইরূপ বনমধ্যে রমণীকে দেখিয়া নিস্পন্ন শরীর হইয়া দাঁড়ায়। তাহার বাকশক্তি স্তব্ধ হইয়া পরে।। রমণীও স্পন্দনহীন দৃষ্টিতে নবকুমারকে লক্ষ্য করে। অন্তহীন জনহীন সমুদ্রতীরে এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া থাকে। অনেকক্ষণ পরে রমণীকন্ঠের কন্ঠস্বর শুনা যায়। সে মৃদুস্বরে বলে, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই কণ্ঠস্বরে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠে। নবকুমারের কর্ণে এই ধ্বনিই বারবার বাজিতে থাকিল। পরে রমণী কোন উত্তর না করিয়া নবকুমারকে সঙ্গে লইয়া বনের অন্তরালে লইয়া গিয়া অন্তৰ্ধান হইল। নবকুমার সামনেই কাপালিকের পর্ণকুটির দেখিতে পাইয়া প্রবেশ করিল। সে ভাবিল যে এ কি দেবী- মানুষী—না কাপালিকের মায়ামাত্র। 

প্রশ্ন ৬। (ক) সন্ধি-বিচ্ছেদ শিখো : 

প্রতীক্ষা — প্রতি + ইক্ষা 

প্রত্যাগমন— প্রতি + আগমন 

দিগন্ত —দিগ + অন্ত 

অত্যুচ্চ— অতি + উচ্চ

কিঞ্চিত— কিম + চিৎ 

পঞ্চাশ— পঞ্চ + দশ

অত্যন্ত— অতি + অন্ত

নিরাশ্রয় —নিঃ + আশ্রয় 

পুনরুদ্দীপ্ত— পুনঃ + উদ্দীপ্ত 

শ্রেয়স্কর— শ্রেয় + কর

সন্ন্যাস —সম + ন্যাস 

মৃন্ময় মৃৎ + ময়

নিরীক্ষণ – নিঃ + ঈক্ষণ

নীরব— নিঃ + রব 

সময়ান্তরে— সময় + অন্তরে

ইতস্ততঃ— ইতঃ + তত 

সদুপায়— সৎ + উপায় 

পর্যন্ত— পরি + অন্ত

(খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো :

পর্ণকুটির – পর্ণ (পাতা) দ্বারা তৈরী কুটির (তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস) 

দেহরত্ন -দেহরূপ রত্ন (রূপক কর্মধারয় সমাস) 

পথভ্রান্তি– পথের প্রাপ্তি (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) 

অনুচিত– ন-উচিত (নঞ তৎপুরুষ সমাস) 

কণ্ঠাগত -কন্ঠে আগত (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস) 

কার্পাসবস্ত্র -কার্পাস দ্বারা তৈরী বস্ত্র (তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস) 

কাষ্ঠভার -কাষ্ঠের ভার (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) 

তন্দ্রাভিভূত– তন্দ্রার দ্বারা অভিভূত (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)

 শিখরামীন– শিখরে আসীন (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)

(গ) বাক্যরচনা করো (বিশিষ্ট অর্থে) :

উত্তর : আকাশ কুসুম (অসম্ভব কল্পনা) – পড়াশুনা না করিয়া আকাশ কুসুম কল্পনা করিয়া লাভ নাই, কাজ কর। 

আক্কেল সেলামি (বোকামির দণ্ড) – রমেনের বইটি হারাইয়া আমাকে পাঁচটাকা আক্কেল সেলামি দিতে হইল। 

আদা জল খেয়ে (প্রতিজ্ঞা করিয়া লাগা ) — এইবার ছেলেটি আদা জল খাইয়া লাগিয়াছে, পাশ করিবেই। 

আঁতে ঘা (মনোকষ্ট)——ঐরকম আঁতে ঘা দিয়া বন্ধুকে কথা বলিতে নাই।

কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় শুরু করা) – দেখ ভাই, তোমার যা গুণ দেখেছি, বাংলায় পাশ করিতে হইলে কেঁচে গণ্ডুষ করিতেই হইবে। 

কুপমণ্ডূক (সংকীর্ণজ্ঞান ব্যক্তি) – কুপমণ্ডুকের মত বসিয়া থাকিলে কিছুই হইবে না, পৃথিবীটা ঘুড়িয়া দেখ। 

চিনির কলন (ভারবাহী)— না বুঝিয়া চিনির বলদের মত কাজ করা বুদ্ধিমানের কাজ নহে। 

টনক নড়া (চৈতন্য হওয়া) – যাক্ এদিনে তোমার টনক নড়িয়াছে, চোরটাকে বিদায় দিয়াছ। 

ধর্মের ষাড় (ভবঘুরে) কাজে মন দাও, কত আর ধর্মের ষাড় হইয়া ঘুরিয়া বেড়াইবে?

পায়াভারি (অহংকার)–বেশি টাকা হইয়াছে বলিয়া তোমার পায়াভারি হইয়াছে। ইহা কিন্তু ভাল নয়।

(ঘ) সন্ধি ও সমাসের মধ্যে পাঁচটি পার্থক্য নিরূপণ করো : 

উত্তর ঃ (১) পরস্পর সন্নিহিত দুইটি বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। কিন্তু পরস্পর অর্থ সম্পর্কযুক্ত একাধিক পদের সংহতি লাভ করার নাম সমাস। 

(২) সন্ধিতে কোন বিভক্তির লোপ হয় না। সমাসে অলুক সমাস দ্বারা প্রতিটি পদের বিভক্তি লোপ হয়।

(৩) সন্ধিতে বহুপদ বহুপদই থাকে। সমাসে বহুপদ একপদে পরিণত হয়। 

(৪) সমাসে সমাসবদ্ধ পদের অর্থগত পরিবর্তন হয়। কিন্তু সন্ধিতে অর্থের কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

(৫) সন্ধিতে বর্ণের মিলনের ভিত্তি হইল উচ্চারণ। সমাসে পদের মিলনের ভিত্তি হইল অর্থ।

(ঙ) অর্থানুসারে বাক্য রচনা করো : অন্তার্থক, নস্ত্যর্থক এবং প্রশ্নাত্মক বাক্য

  •  অন্ত্যর্থক বাক্যে পরিবর্তন করো : 

নস্ত্যর্থক— আমি কখনও মিথ্যা কথা বলি না।

অভ্যর্থক— আমি সর্বদা সত্য কথা বলি।

নস্ত্যর্থক— পৃথিবীতে কেহ অমর নয়।

অভ্যর্থক— পৃথিবীতে সকলেই মরণশীল।

নস্ত্যর্থক— এ কাজ করা সম্ভব নয়। 

অভ্যর্থক— এ কাজ করা অসম্ভব।

নস্ত্যর্থক— কে না সন্তানকে ভালবাসে?

অভ্যর্থক— সকলেই সন্তানকে ভালবাসে। 

নস্ত্যর্থক— কে না জন্মভূমিকে ভালবাসে।

অন্ত্যর্থক — সবাই জন্মভূমিকে ভালবাসে। 

  • নস্ত্যর্থক বাক্যে পরিবর্তন করো : 

অভ্যর্থক— কাপুরুষেরা মৃত্যুকে ভয় করে।

নস্ত্যর্থক— কাপুরুষ ছাড়া কেহই মৃত্যুকে ভয় করে না। 

অন্ত্যর্থক— সে ছিল মূর্খ। 

নস্ত্যর্থক— সে পণ্ডিত ছিল না।

অভ্যর্থক— পৃথিবীতে তুমি অতুলনীয়।

অন্ত্যর্থক— পৃথিবীতে তোমার তুলনা নেই। 

  • প্রশ্নাত্মক বাক্যে পরিবর্তন করো :

অভ্যর্থক— টাকায় সবই পাওয়া যায়। 

প্রশ্নাত্মক— টাকায় কী না পাওয়া যায়?

অভ্যর্থক—জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ হতেও বড়।

প্রশ্নাত্মক – জননী ও জন্মভূমি স্বর্গ হতেও বড় নয় কি?

নস্ত্যর্থক— পরের অনিষ্ট করা উচিত নয়।

প্রশ্নাত্মক—পরের অনিষ্ট করা কি উচিত? 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্ত 

প্রশ্ন ১। সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ পাঠের লেখক কে?

উত্তর : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ২। “কোথা যাইতেছ? যাইও না, ফিরিয়া যাও, পলায়ন করো”। কে, কাকে এই কথা বলেছে?

 উত্তর ঃ কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে এই কথা বলিয়াছে। 

প্রশ্ন ৩। কপালকুণ্ডলার বয়ঃক্রম কত ছিল ?

উত্তর : কপালকুণ্ডলার বয়ঃক্রম ষোল বৎসর ছিল। 

প্রশ্ন ৪। ‘নিজ ব্রতে নিযুক্ত ছিলাম।’ উক্তিটি কার ? [HSLC 2018 ]

উত্তর : উক্তিটি কাপালিকের। 

প্রশ্ন ৫। কপালকুণ্ডলা কে? 

উত্তর : কপালকুণ্ডলা হইল কাপালিকের পালিতা কন্যা। 

প্রশ্ন ৬। নবকুমার কোথায় নির্বাসিত হয়েছিলেন? সেখান থেকে তাঁকে কে উদ্ধার করেছিল? [M.Q.] 

উত্তর : নবকুমার নদীতীরবর্তী বিজন বনে নির্বাসিত হইয়াছিলেন। সেখান থেকে তাঁহাকে কাপালিকের পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলা উদ্ধার করিয়াছিল। 

প্রশ্ন ৭। “—সবিস্ময়ে দেখিলা অদূরে, ভীষণ দর্শন মূৰ্ত্তি ।” — সাগর সঙ্গমে নবকুমার’ পাঠে উদ্ধৃত কবিতাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে? [HSLC 2019] 

উত্তর : সাগর সংগমে নবকুমার’ পাঠে উদ্ধৃত কবিতাংশটি মেঘনাদবধ কাব্যগ্রন্থ থেকে লওয়া হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৮। এও কাপালিকের কর্ম এ স্থানে বিস্ময়ের বিষয় কি আছে। এখানে কাপালিকের কোন কর্মের কথা বলা হয়েছে? তা বিস্ময় সৃষ্টি করেনি কেন? 

উত্তর : কপালকুণ্ডলার সঙ্গে মিলিত হইবার পর হইতে নবকুমার ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তাহার ঘোর কাটিয়া গেলে নবকুমার দেখিতে পাইলেন কুটিরে একটি কাঠ জ্বলিতেছে। ইহা ছাড়া রান্নার উপযোগী চাল ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী রহিয়াছে। এই সবই যে কাপালিকের কর্ম নবকুমার অনুধাবন করিতে পারিলেন। কুটিরে নবকুমারে পৌঁছাইবার আগে কাপালিক আগাইয়া গিয়াছেন সেই কথা নবকুমার বুঝিতে পারিলেন বলিয়া তাহা বিস্ময় সৃষ্টি করে নাই।

প্রশ্ন ৯। ‘বৃদ্ধা অন্বেষণ মাত্র। মনুষ্য সমাগমের চিহ্নমাত্র দেখিতে পাইলেন । ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর : কপালকুণ্ডলার সঙ্গে সাক্ষাৎ হইবার পরদিন সকালে সমুদ্রতীরের দিকে গেছেন। সেইখানে প্রাতঃকৃত্য সমাপন করিয়া প্রতীক্ষা করিতে লাগিলেন। কাহার প্রতীক্ষা করিতেছেন। সম্ভবত কপালকুণ্ডলার প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। নবকুমারের মনে আশা জাগিয়াছিল যে এইখানে আবার কপালকুণ্ডলার সঙ্গে দেখা হইতে পারে। কিন্তু অনেক বেলাতেও বেহ আসিলেন না। তখন নবকুমার সেই স্থানের চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়াইতে লাগিলেন। সান্ধ্যকালে দিনে কুটিরে ফিরিয়া আসিলেন।

প্রশ্ন ১০। এ কাহার মায়া? না আমারই ভ্রম হইতেছে।’ — উক্তিটি কার? তিনি কোন মায়ার কথা বলিতেছেন ? 

উত্তর: উক্তিটি নবকুমারের। সন্ধ্যাকালে কাপালিক নবকুমারকে বধ্যভূমিতে লইয়া যাইতেছিল। কপালকুণ্ডলা আসিয়া পিছন দিক হইতে তাহার কানে কানে পলায়ন করিতে বলিয়া গেল। নবকুমার এই কথার মর্ম উপলব্ধি করিতে না পারিয়া বিমূঢ় হইয়া রহিলেন। ভাবিলেন ইহা কাহারও মায়া। কপালকুণ্ডলাকে তিনি দেখিতে না পাইয়া ভাবিলেন, তাহার ভ্রম হইতেছে। 

প্রশ্ন ১১। অর্থ লিখ : সৈকত নদীর তট; কটিদেশ – কোমর: চিকুর জাল — কেশপাশ; আশঙ্কা—ভয়, অম্বর—আকাশ; সিকতা—বালুকা; নরকপাল—– মানুষের মাথার খুলি রোমাঞ্চ— শিহরণ; পরিত্যক্ত – বিসর্জিত, তণ্ডুল – চাল, অনিমেষ — নিমেষহারা, কাপালিক- তান্ত্রিক, সিকতাময় বালুকাময়, প্রতীতি — বিশ্বাস, অন্তরালে আড়ালে, অবিরল অনবরত, প্রতিকূল স্রোত—স্রোতের বিপরীত দিক; ইতস্ততঃ এখানে সেখানে; দাবানল—বনের আগুন; ক্লেশ-কষ্ট, কটাক্ষ বাঁকা দৃষ্টি, সংসর্পিত – কৃঞ্চিত, পর্ণকুটির—পাতার তৈরী নিষ্ক্রান্ত – বাহির হওয়া; ঈষতিজ্ঞ অল্প তিতা; অভিরুচি – ইচ্ছা; বাটী —বাড়ি; স্নিগ্ধ – শান্ত: তরঙ্গভঙ্গ— ঢেউ; উপবেশন – বসা, অবাধে — বিনা বাধায়; বালিয়াড়ি–বালির পাহাড়, বালুর স্তূপ। পরিত্যক্ত – বিসর্জিত, অনুযায়িনী — সমতল, উঁচু নিচু নয়; হিমবর্ষী — হিমবা শিশির বর্ষণকারী; অকস্মাৎ—হঠাৎ, দৈবাৎ, প্রতীক্ষা — অপেক্ষা করা, প্রত্যাবর্তন ফিরে আসা; পরিত্যাগ — ছেড়ে যাওয়া, তন্দ্রাভিভূত ঘুমিয়ে পড়া ডিষ্ঠিকেন অপেক্ষা করাবেন, কত্তম- কে তুমি; মমানুসর—আমাকে অনুসরণ কর; বাক্শক্তি কথা বলার শক্তি; পথিক —পথচারী; শ্মশ্রু—দাড়ি; তিষ্ঠ—অপেক্ষা করো; পর্ণপাত্র পাতার তৈরি পাত্র, শ্বেতপক্ষ—সাদাপাখা: সমুদ্রতটে—সাগর তীরে; বিজনে একাকী, নীলাম্বুমণ্ডল–গভীর নীলবর্ণ জলরাশি, উৎকটানন্দ–তীব্র আনন্দ, অম্বর – আকাশ; প্রদোষতিমির সন্ধ্যার অন্ধকার, অলকাবলী- কেশগুচ্ছ; নিরাভরণ—অলংকারহীন; চিকুরজাল — কেশপাশ, তন্ত্রীয়ে— তার সমূহ; পুত্তলী- পুতুল, লয়হীন—সুরবিহীন; আণ্ডললম্বিত— গোড়ালি পর্যন্ত; তণ্ডুল—চাল, অন্বেষণ — খোঁজ করা; অভিরুচি —ইচ্ছা; কদাপি—কখনও। ***

Leave a Reply