Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-8| ডাইনী

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-8| ডাইনী প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-8| ডাইনী এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (Ass. MEDIUM)

SUBJECTSLink
EnglishClick Here
অসমীয়াClick Here
বাংলাClick Here
বিজ্ঞানClick Here
সমাজ বিজ্ঞানClick Here
हिंदी ( Elective )Click Here
ভূগোল (Elective)Click Here
বুৰঞ্জী (Elective)Click Here

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-8| ডাইনী

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-8| ডাইনী Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ ৮

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

(ক) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। কিসের প্রভাবে ছাতিফাটার মাঠে বীজ প্রসবিনী শক্তি বিনষ্ট হইয়াছিল?

 উত্তর : মহানাগের বিষের জ্বালায়।

প্রশ্ন ২। ডাইনিটির বাসা কোথায়? সে সমস্ত দিন কি করে? 

উত্তর : ডাইনির বাসা রামনগরের সাহাদের আমবাগানে। নিমেষহীন দৃষ্টিতে ডাইনি ছাতি ফাটার মাঠের দিকে চাহিয়া থাকে।

প্রশ্ন ৩। কেন এই বৃদ্ধাটিকে ডাইনি বলা হত ?

উত্তর : লোকে বিশ্বাস করিত বৃদ্ধাটির সর্বনাশী লোলুপ চোখের দৃষ্টি শক্তি যাহার উপর পড়িয়াছে তাহার আর নিস্তার নাই। তাই লোকে তাহাকে ডাকিনী বলিয়া গ্রাম হইতে দূর করিয়া দিয়াছিল।

প্রশ্ন ৪। শৈশবের কোন ঘটনায় তাহাকে ডাইনি বলিয়া সন্দেহ করা হইয়াছিল?

উত্তর : একখানি আয়নায় আপনার দৃষ্টি দেখিয়া সে শিহরিয়া উঠিয়াছিল। ক্ষুদ্রায়তন চোখের মধ্যে পিঙ্গল দুটি তারা। তারা দুটি খয়েরি রঙের। নরুন দিয়ে চেরা, ছুরির মতো চোখে বিজলির মতো দৃষ্টিতে যাহাকে তাহার ভালো লাগে তাহার আর রক্ষে থাকে না। এই ঘটনায় তাহাকে ডাইনি বলিয়া সন্দেহ হইয়াছিল। হারু সরকারের ছেলেটি তাহার নজর লাগিয়া মারা গিয়াছে।

প্রশ্ন ৫। প্রতিবেশীরা ডাইনি সন্দেহে মেয়েটির প্রতি কিরূপ আচরণ করিত?

উত্তর : প্রতিবেশীরা ডাইনি সন্দেহে মেয়েটিকে কাছে ঘেঁষিতে দিত না। গৃহে প্রবেশ করিতে দিত না, দূর দূর করে তাহাকে তাড়াইয়া দিত।

প্রশ্ন ৬। বিশেষ ঘটনায় ডাইনি সন্দেহে অভিযুক্ত মেয়েটি গ্রামছাড়া হল?

উত্তর : তাহার বয়সি সাবিত্রীর সুন্দর চকচকে ছেলেটিকে দেখিতে গিয়াছিল। ইহাতে সাবিত্রীর শাশুড়ি আসিয়া তাহাকে তিরস্কার করিয়া তাড়াইয়া দিয়াছিল। কারণ তাহার চোখে শাশুড়ি রক্তপিপাসু লোলুপ দৃষ্টি দেখিতে পাইয়াছিল। ইহাতে ডাকিনী মেয়েটি দুঃখ পাইয়াছিল। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করিয়া বলিয়াছিল সাবিত্রীর ছেলেকে ঠাকুর যেন একশ বছর পরমায়ু দেন। সাবিত্রীর খোকাকে সে ভালোবাসে তাহা যেন ঠাকুর প্রমাণ করে।

কিন্তু না তাহা কিছুই হয় নাই। বিকাল হইতেই ডাকিনীর বিষময়ী দৃষ্টিক্ষুধার ফল ঘটিতে আরম্ভ করিল। সাবিত্রীর ছেলেটি ধনুকের মতো বাঁকিয়া কাতরাইতে লাগিল। যেন কেহ তাহার রক্ত চুষিয়া লইতেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ছেলেটি মরিয়া গেল। এই লজ্জায় ডাইনি সন্দেহে মেয়েটি গ্রাম ত্যাগ করিয়াছিল।

প্রশ্ন ৭। কি করে মেয়েটির নিজেরও বিশ্বাস জাগিল যে তার দৃষ্টি অনুক্ষণ?

উত্তর : বহুকালের পুরানো একখানি আয়নায় আপনার দৃষ্টি দেখিয়া বৃদ্ধা শিহরিয়া উঠিয়াছিল। ছোট চোখের মধ্যে পিঙ্গল দুইটি তারা, শনের মতো সাদা চুল। লালচে আভা। লোকে সেই চোখ দেখিয়া ভয় করিত। সে নিজেও শিহরিয়া উঠিত। নরুন দিয়া চেরা, ছুরির মতো চোখে, বিজলির মতো দৃষ্টিতে যাহাকে তাহার ভালো লাগে তাহার রক্ষা থাকে না। কোথায় দিয়া কি হইয়া যায় সে বুঝিতে পারে না।

একদিন হারু সরকারের ছেলে আম দিয়া মুড়ি খাইতেছিল, ইহা দেখিয়া তাহার লোভ হইয়াছিল। ইহাতে হারু সরকার তাহাকে বেদম মার দিয়াছিল। তখন সে মনে মনে ঠাকুরকে বলিয়াছিল, ঠাকুর উহাকে ভালো করিয়া দাও, আমি দৃষ্টি ফিরাইয়া লইতেছি। আশ্চর্যের কথা ইহাতে ছেলেটি দুই-চারিবার বমি করিয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল। এই ঘটনায় সে ভীষণ লজ্জিত হইয়াছিল নিজের কাছে এবং বুঝিতে পারিয়াছিল তাহার নিজের দৃষ্টি সত্যি অলুক্ষণে

প্রশ্ন ৮। হারু সরকারের বাড়ির ঘটনাটি কি? এ জন্যে তার মনে কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? 

উত্তর : হারু সরকারের ছেলে আম দিয়া মাখিয়া মুড়ি খাইতেছিল। তাহা ডাইনি মেয়েটি দেখিয়াছিল। দেখিয়া তাহার ওই খাবার খাইতে লোভ হইয়াছিল।

ইহার কিছুক্ষণ পরে ছেলেটি পেট-বেদনায় চিৎকার করিতে লাগিল। হারু সরকার ছেলের দুরবস্থা দেখিয়া ডাইনিকে ধরিয়া মারিতে উদ্যত হইল। এই আকস্মিক ঘটনায় ব্যতিব্যস্থ হইয়া ডাকিনী মেয়েটি ঠাকুরকে ডাকিয়া মনে মনে কহিল, ঠাকুর ছেলেটিকে ভালো করিয়া দাও। আমি আমার কুদৃষ্টি ফিরাইয়া লইতেছি। আশ্চর্যের বিষয় এর পরে ছেলেটি বার দুই বমি করিয়া ঘুমাইয়া পড়িল। ছেলেটির পেটের বিষম ব্যথা নিরাময় হইয়া গেল। এই ঘটনায় ডাকিনী মেয়েটি লজ্জিত হইয়া পলাইয়া গেল। সেদিন রাত্রিতে কাহারও পাওয়ায় শুইতে পারে নাই।

প্রশ্ন ৯। সাবিত্রীর ছেলেকে দেখতে গিয়ে মেয়েটির কি অভিজ্ঞতা হল। সেদিন ভগবানের কাছে সে কি বিচার চেয়েছিল? ভগবান কি সুবিচার করেছিলেন?

উত্তর : সাবিত্রীর ছেলেকে দেখিতে গেলে সাবিত্রীর শাশুড়ি তাহাকে দূর দূর করিয়া

তাড়াইয়া নিয়াছিল। তাহার কুদৃষ্টির জন্য ভীষণভাবে তিরস্কার করিয়াছিল।

সেইদিন ভগবানের কাছে ডাকিনী মেয়েটি এই বিচার চেয়েছিল যে, ভগবান তুমি

বিচার করিও, সাবিত্রীর ছেলেকে কতটা ভালোবাসি।

কিন্তু ভগবান তাহার ডাক শোনেন নাই। বিকেল হইতেই সাবিত্রীর ছেলে ধনুকের মতো বাঁকাইয়া গিয়া অবশেষে মারা পড়িল। ভগবান কোন সুবিচার করিলেন না। 

প্রশ্ন ১০। গল্পপাঠে তোমার কি মনে হয়? ডাইনি বিষয়টি কি বাস্তব না কুটিল সমাজেরই সৃষ্টি?

 উত্তর : গল্পপাঠে বোঝা যাইতেছে যে ডাইনি ব্যাপারটা বাস্তবসম্মত নহে। যেসকল ঘটনায় শিশুদের মৃত্যুর কথা বর্ণিত হইয়াছে, তাহাতে কোনো অসুখ-বিসুখের কথা উল্লেখ নাই। একজন মানুষের দৃষ্টিতে কেহ অসুস্থ হইতে পারে না। নিশ্চয় কোনো অজ্ঞাত গুরুতর অসুখে তাহারা মারা যাইতে পারে।

বস্তুত এসব অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। কুটিল সমাজের সৃষ্টি। সমাজের লোকেরা ডাইনি মেয়েটির চোখের দৃষ্টির এক অদ্ভুত রহস্যের কথা নিজেরা প্রচার করিয়াছে।

 (খ) নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। ডাইনি বলে কথিত মেয়েটির নাম কি?

উত্তর : সরা। 

প্রশ্ন ২। সে ছাতি-ফাটার মাঠের কাছে কতদিন ধরে বাস করছে?

উত্তর : চল্লিশ বছর ধরিয়া বাস করিতেছে।

প্রশ্ন ৩। ছাতি ফাটার মাঠকে কেন এ নামে ডাকা হয়?

উত্তর : ছায়াশূন্য দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ অতিক্রম করিতে গেলে তৃষ্ণার মানুষের ছাতি কাটিয়া মৃত্যু হইত। এই জন্য ছাতি ফাটা নামে ডাকা হইত। 

প্রশ্ন ৪। ডাইনির চোখ, জিভ আর চুল কি রকম দেখতে?

উত্তর : ডাইনির চোখ পিঙ্গল বর্ণের। নরুন চেরা ছুরির মতো চোখে বিজলির মতো

দৃষ্টি। জিভ সাপের মতো লকলকে আর চুল শর্নের মতো সাদা। 

প্রশ্ন ৫। ভিক্ষা চাইতে গেলে লোকে তাকে কি করত ?

উত্তর : ভিক্ষা চাইতে গেলে লোকে তাহাকে বাড়িতে ঢুকিতে দিত না। বাহির হইতে দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিত এবং তিরস্কার করিত।

(গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। চৈত্রের দিনটিতে ঝাড়ু দিতে গিয়া বৃদ্ধাটির কি হয়েছিল? 

উত্তর : চৈত্রের দিনটিতে ঝাড়ু দিতে গিয়া বৃদ্ধা দেখিল ছাতি-ফাটার মাঠটা যেন ধোঁয়ায় ভরিয়া ঝাপসা হইয়া গিয়াছে। মাঠের ধোঁয়ার মধ্যে ঝিকিমিকি কি একটা ছুটিয়া চলিয়াছে। ধোঁয়ার মধ্যে যেন মানুষের মতো সাদা কি পড়িতেছে। একবার সে তাহা ফু দিয়া উড়াইয়া দিতে চাহিল। কিন্তু তাহা করিল না। উঠোন ঝাড়ু দিতে লাগিল। অমনি জড়ো করা পাতাগুলি কর কর করিয়া সর্পিল ভঙ্গিতে ঘুরপাক খাইতে লাগিল। পাতাগুলি তাহার সর্বাঙ্গে আঘাত করিতে লাগিল। যে বার বার ঝাঁটা দিয়া আবর্তটাকে আঘাত করার চেষ্টা করিল। ফলে আবর্তটা দ্রুত মাঠের দিকে ছুটিয়া গেল। মাঠে ধুলা হুহু করিয়া একটা স্তম্ভ হইয়া উঠিল। একের পর এক মাঠটা যেন নাচিতেছে। একটা অদ্ভুত আনন্দে বৃদ্ধার মন শিশুর মতো অধীর হইয়া উঠিল। সে ন্যুব্জ দেহে দাঁড়াইয়া ঝাঁটাশুদ্ধ হাত প্রসারিত করিয়া ঘুড়িতে আরম্ভ করিল। কিছুক্ষণের মধ্যে সে টলিতে টলিতে বসিয়া পড়িল। দারুণ তৃষ্ণায় তাহার গলা পর্যন্ত শুকাইয়া উঠিল।

প্রশ্ন ২। সেদিন শিশু কোলে পথহারা মা বৃদ্ধার কুটিরে আসার পর কি ঘটেছিল ? 

উত্তর : ছাতি-ফাটার মাঠে পথ হারিয়ে এক মা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় শিশু কোলে করিয়া ডাইনির দাওয়ায় আসিয়া উপস্থিত হইল সামান্য জলের আশায়। শিশু কোলে কাতর তৃষ্ণার্ত মাকে দেখিয়া বৃদ্ধা ডাইনির অন্তরে মায়া হইল। সে অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া মা ও শিশুর যত্ন করিতে লাগিল। দেখিল যুবতী মেয়ের নধর সন্তান বড়ই পুষ্ট ও কোমল। তাহার মায়া জাগিল। কিছুক্ষণ পরে দেখা গেল শিশুটি দর দর করিয়া ঘামিতেছে, যেন তাহার দেহের সব জল বাহির হইয়া আসিবে। অমনি ডাইনি বুঝিতে পারিল তাহাঁর নিজের নজর লাগিয়াছে। সে অতিস্বরে শিশুর মায়ের উদ্দেশ্যে বলিয়া উঠিল পালা পালা, এখান হইতে পালাইয়া যা, নইলে তোর কোলের শিশু মারা পড়িবে।

প্রশ্ন ৩। বাউরি ছেলেটির কি হয়েছে? বৃদ্ধা কি সত্যি তার ক্ষতি চেয়েছিল? 

উত্তর : বাউরি ছেলেটি একটি বাউরি যুবতীকে ভালোবাসিত। দুজনে গোপনে আমবাগানে

চাঁদের আলোয় বসিয়া গল্প করিত। বৃদ্ধা ডাইনি তাহা শুনিতে পাইয়াছিল। বাউরি যুবক- যুবতীর বিবাহে সমাজের কাহারও সম্মতি ছিল না। তাই তাহারা বিবাহ করিয়া ভিন দেশে সংসার পাতিবে মনস্থ করিয়াছিল। মেয়েটি ছেলের কাছে ভালোবাসার উপহারস্বরূপ রূপার চুড়ি ও দশ টাকা চাহিল। ছেলেটির সেই উপহার দিবার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাই মেয়েটি অভিমান করিয়া চলিয়া গেল। ইহা দেখিয়া ডাইনি বৃদ্ধার মনে করুণা জাগিল।

যবকটিকে সাহায্য করার জন্য ডাইনি নিজের হাতের করগাছা চুড়ি যুবককে দিতে গেল। কিন্তু যুবক ডাইনির পিঙ্গল চোখের অদ্ভুত দৃষ্টি দেখিয়া আতঙ্কে পালাইয়া গেল। ইহাতে ডাইনি বড়ই অপমানিত বোধ করিল। তাহার অন্তর বিষিয়ে উঠিল এবং যুবককে মর মর বলে অভিশাপ দিল। পরদিন যুবকটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হইল। সর্বনাশী ডাইনি তাকে বান মারিয়াছে। যুবকটির চিকিৎসার জন্য একজন গুণীন ডাকা হইয়াছে।

বস্তুত বৃদ্ধা ডাইনি যুবকটিকে সাহায্য করিতে চাহিয়াছিল। যুবকটি যেন বাউরি যুবতীর মন জয় করিয়া বিবাহ করিতে পারে, তাহার জন্য সে নিজের চুড়ি গাছা দিতে চাহিয়াছিল।

প্রশ্ন ৪। কোন ঘটনায় ডাইনির মানবিক গুণের প্রকাশ দেখা যায় ?

উত্তর : লোকে ভাবে ডাইনি তাহার চোখের অভিশপ্ত পিঙ্গল দৃষ্টি দ্বারা সকলের অনিষ্ট সাধন করে, প্রকৃতপক্ষে তাহা সত্য নহে। হারু সরকারের ছেলে আম মুড়ি খাইয়া অসুস্থ হইয়া পড়িলে সে ঠাকুরের কাছে ছেলেটির আরোগ্য কামনা করিয়াছিল। ইহাতে তাহার গুণের প্রকাশ পাওয়া যায়।

প্রতিবেশীনি সাবিত্রীর ছেলেকে দেখিতে গেলে সাবিত্রীর শাশুড়ি তাহাকে ভীষ তিরস্কার করিয়াছিল। তখনো ডাকিনী ঠাকুরের কাছে বিচার চাহিয়াছিল। ঠাকুর যেন শিশুটির কল্যাণ সাধন করিয়া প্রমাণ করিয়া দেন, আসলে সে সাবিত্রীর ছেলেকে কতটা ভালোবাসে।

আবার এক পথহারা দিশেহারা মা নিজের শিশুকোলে যখন তাহার দাওয়ায় আসি, তখনো ডাকিনী সাধ্যমত তৃষ্ণার শীতল জল দিয়া মা-শিশুর শুশ্রুষা করিল। যখনই ডাকিনী বুঝিতে পারিল তাহার লোলুপ দৃষ্টির আঘাতে শিশুটির গা নিয়া অবিরত ঘাম জল বাহির হইতেছে তখনই সে শিশুসহ মাকে অবিলম্বে সেই স্থান ত্যাগ করিয়া যাইতে বলিল। ইহাতে তাহার মানবিক গুণের প্রকাশ দেখা যায়। তাহার অন্তরেও ভালোবাসা রহিয়াছে।

বাউরি ছেলে তাহার প্রেমিকার মন জয় করিবার সামর্থ্য নাই বলিয়া বিবাহ করিতে পারিতেছে না। তাহার ভালোবাসার জন অভিমান করিয়া তাহাকে ছাড়িয়া যাইতেছে। বাউরি যুবকটি ইহাতে বিমর্ষ হইয়া পড়িলে, ডাকিনী তাহাকে নিজের হাতের চুড়ি জোড়া দিয়া যুবকটির উপকার সাধন করিতে গিয়াছিল, যাহাতে যুবকটি ঘর বাঁধিতে পারে, সুন্দর সংসার গড়িতে পারে। এসকল ঘটনা হইতে আমরা বুঝিতে পারি ডাকিনীর অন্তরে কাহারও জন্য ঘৃণা নাই বরং রহিয়াছে ভালোবাসা। তাহার অন্তর মানবিকতায় পূর্ণ।

প্রশ্ন ৫। ডাইনি বলে কথিত বৃদ্ধাটির শেষ পরিণতি কি হইল? 

উত্তর : ডাইনি বৃদ্ধাটি শেষ পর্যন্ত মারা গেলেন। বাউরি ছেলেটির সুস্থতার জন্য যে গুণীন ডাকা হইয়াছিল সেই গুণীনের মন্ত্র প্রহারে জর্জর হইয়া ডাইনি মারা পড়িয়াছে বলিয়া লোকের ধারণা।

প্রকৃতপক্ষে ওই গুণীন বাউরি ছেলেকে সুস্থ করিতে পারে নাই। যুবকটি মারা পড়িয়াছে। এই ঘটনায় মর্মাহত হইয়া ডাইনি ওই ছাতিফাটার মাঠে সন্ধ্যার মুখে নামিয়া পড়িল। সে আর এই স্থানে থাকিবে না ভাবিয়া অনির্দিষ্টের পথে পা বাড়াইয়াছিল। কিন্তু মাঠের তুমুল ঝড়ের কোপে পড়িয়া তাহার দুর্বল বৃদ্ধ দেহ উড়িয়া ভাসিয়া গেল। পরদিন দেখা গেল মাঠের তৈরি গুল্মের কাটাপূর্ণ এক ভাঙা ডালে ডাইনি বৃদ্ধার দেহ ফুলিয়া আছে। এইভাবে

সে ঝড়ের আঘাতে বেঘোরে মারা পড়িয়াছে।

 (ঘ) নীচের প্রশ্নগুলির দীর্ঘ উত্তর দাও :

প্রশ্ন ১। ডাইনি প্রথা যে কুটিল সমাজের সৃষ্টি এর সম্পর্কে দুটি যুক্তি দাও। 

উত্তর : ডাইনি প্রথা সমাজের সৃষ্টি। ডাইনি হইয়া কেহই জন্মগ্রহণ করে না। সমাজের লোকে নানাভাবে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের দ্বারা চালিত হইয়া সমাজে ডাইনি সৃষ্টি করিয়া থাকে। কাহারও শারীরিক গঠন দেখিয়া তাহার উপস্থিতি কল্যাণকর নহে বলিয়া রটনা করে। ডাইনি এমনই এক প্রকার অন্ধবিশ্বাস। লোকে এখনও নজর লাগিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে অভাগা বলিয়া। অমুকের সঙ্গে কোনো কাজ করিতে গেলে তাহা বিফল হইবে। ডাইনি এক ধরনের অন্ধবিশ্বাস, যাহার দ্বারা মানুষ বিশ্বাস করে, শনিবারে চুলকাটা ঠিক নহে, বৃহস্পতিবারে নিরামিষ খেতে হয়, কারণ তাহা লক্ষ্মীবার, এইবারে আমিষ খেলে সংসারের অমঙ্গল হয়। এই সকল অন্ধবিশ্বাস হইতে ডাইনি প্রথার জন্ম হয়।

প্রশ্ন ২। বর্তমানকালেও যে ডাইনি প্রথা প্রচলিত এর একটি উদাহরণ দাও। 

উত্তর : বর্তমানেও ডাইনি প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত রহিয়াছে। এখনো শোনা যায় ডাইনি সন্দেহ করিয়া গ্রামে-গঞ্জে অনেক লোককে পিটিয়া মারিয়া ফেলা হয়। বীরুবালা রাভা নামক একজন বিদূষী এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করিতেছেন, যাহাতে আমাদের সমাজ হইতে ডাইনি অন্ধবিশ্বাস বিলুপ্ত হয়।

প্রশ্ন ৩। চোখের কু-দৃষ্টি, নজর লাগা – এসবের মধ্যেও যে ডাইনি প্রথার ধারাবাহিকতা রয়েছে এ নিয়ে আলোচনা করো।

উত্তর : ডাইনি প্রথা এক প্রকার কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস। যাকে ডাইনি বলে সন্দেহ করা হইয়া থাকে, তাহাকে সমাজের লোকে ঘৃণা করে। সকল প্রকার সামাজিকতা হইতে বঞ্চিত করা হইয়া থাকে। ডাইনি সন্দেহ হইলে সেই ব্যক্তির সংস্পর্শে কেহ থাকিতে চাহে না। লোকে নজর লাগায় বিশ্বাস করে। চোখের নজর বা কু-দৃষ্টি অভিশাপের মতো মানুষের জীবনের ক্ষতি করিতে পারে বলিয়া বিশ্বাস করে। এইসব এক ধরনের ঘৃণারই প্রকারভেদ। ইহার পিছনে মানুষের স্বার্থপরতা কাজ করিয়া থাকে। নিজের স্বার্থে যাহাতে কোনো প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে, কোনো আঁচ না পড়ে তাহার প্রতি সদা সতর্ক থাকে।

স্বার্থের দ্বারা প্ররোচিত হইয়া একপ্রকার ঘৃণাকে লালন করে। সেই ঘৃণার বোধ যখন তীব্র ও প্রখর হয় তখন মানুষ সমাজে তাহাকে এড়াইয়া চলে এবং ডাইনি, ভূত, রাক্ষস, অপয়া ইত্যাদি অভিধায় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে।

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। নামটি আজও পূর্ণ গৌরবে বর্তমান।’ – এখানে কীসের কোন নামের কথা বলা হইয়াছে?

উত্তর : এখানে ছাতি ফাটার মাঠের নামের কথা বলা হইয়াছে।

 প্রশ্ন ২। ‘লোকে ভয়ে ভিক্ষা বেশি পরিমাণেই দিয়া থাকে।’ –এখানে কার কথা বলা হইয়াছে?

উত্তর : এখানে ডাইনির কথা বলা হইয়াছে।

প্রশ্ন ৩। নির্জনতা উহারা ভালোবাসে।’ এখানে কার কথা বলা হইয়াছে? উক্তিটি কোন গল্প থেকে নেওয়া ?

উত্তর : এখানে ডাইনিদের কথা বলা হইয়াছে। এটি ‘ডাইনী’ গল্প হইতে লওয়া হইয়াছে।

প্রশ্ন ৪। ডাইনিদের কোন শক্তির কথা বলা হইয়াছে?

উত্তর : সর্বনাশী লোলুপ শক্তির কথা বলা হইয়াছে। 

প্রশ্ন ৫। ডাইনির চোখ কেমন?

উত্তর : নরুন চেরা ছরির মতো চোখ। বিজুলির মতো দৃষ্টি।

প্রশ্ন ৬। হারু সরকার ডাইনিকে আঘাত করল কেন?

উত্তর : হারামজাদি ডাইনি নাকি হারু সরকারের ছেলেকে নজর দিয়াছে। তাই হারু

সরকার তাহাকে মারিয়াছে।

প্রশ্ন ৭। ‘হে ঠাকুর ওকে ভালো করে দাও।’ —উক্তিটি কার? এখানে কার কথা বলা হইয়াছে?

উত্তর : উক্তিটি বৃদ্ধা ডাইনির। সে হারু সরকারের সুস্থতা কামনা করিয়া এমন উক্তি করিয়াছে।

প্রশ্ন ৮। আমবাগান কোথায় অবস্থিত?

 উত্তর : ছাতি-ফাটার মাঠের পূর্ব প্রান্তে।

প্রশ্ন ৯। ডাকিনী কোথায় কত বছর ধরিয়া বাস করিতেছে? 

উত্তর : রামনগরের সাহাদের আমবাগানে ৪০ বছর ধরিয়া বাস করিতেছে।

প্রশ্ন ১০। ডাইনি গ্রাম ছাড়িয়া প্রথমে কোথায় গিয়াছিল?

উত্তর : বোলপুরে।

প্রশ্ন ১১। ডাইনির গ্রাম থেকে বোলপুরের দূরত্ব কত?

উত্তর : দশ ক্রোশ অথবা কুড়ি মাইল।

প্রশ্ন ১২। কত বছর বয়সে ডাইনি গ্রাম ত্যাগ করিয়াছিল ?

উত্তর : চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে। 

প্রশ্ন ১৩। সাহাদের বাসস্থান কোথায়?

উত্তর : রামনগরে।

প্রশ্ন ১৪। ডাকিনীর স্বরূপ কেমন?

উত্তর : ডাকিনী নিষ্ঠুর। বয়সে বৃদ্ধা কিন্তু শক্তিশালীনি। তাহার দৃষ্টি অপলক স্থির। সেই দৃষ্টি ৪০ বছর ধরিয়া ওই মাঠের উপর স্থির নিবন্ধ আছে। 

প্রশ্ন ১৫। ডাকিনীর দৈনন্দিন জীবন কেমন ?

উত্তর : আমবাগানের ছায়ার মধ্যে নিঃসঙ্গ একখানি মেটে ঘর। ঘরখানার মুখ ওই হাতি-ফাটার মাঠের দিকে। বারান্দায় স্তব্ধ হইয়া বসিয়া নিমেষহীন দৃষ্টিতে ডাকিনী চাহিয়া থাকে। এই ছাতি ফাটার মাঠের দিকে। কাজের মধ্যে তাহার ঘরদুয়ারটি ঠিকঠাক রাখা আর কয়েক ঘর ভিক্ষা। দুই তিনটা বাড়িতে গিয়া দাঁড়াইলেই তাহার কাজ চলিয়া যায়। লোকে ভয়ে ভয়ে বেশি করে ভিক্ষা দেয়। ইহার পর সমস্ত দিন দাওয়ার উপরে নিস্তব্ধ বসিয়া থাকে। এমনি করিয়া চল্লিশ বছর সে একই ভাবে ওই মাঠের দিকে চাহিয়া আছে।

প্রশ্ন ১৬। ডাকিনীর প্রকৃতি কেমন?

 উত্তর ঃ ডাকিনী নির্জনতা ভালোবাসে। মানুষ দেখিলেই অনিষ্ট করিবার স্পৃহা জাগিয়া ওঠে। ওই সর্বনাশী লোলুপশক্তি সাপের মতো লক লক জিভ বাহির করিয়া ফণা তুলিয়া

নাচিয়া উঠে।

 প্রশ্ন ১৭। ছাতিফাটার মাঠের বিবরণ দাও।

উত্তর : হাতি-ফাটার মাঠের নাম কে দিয়াছে জানা যায় না। ছায়াশূন্য মাঠ। দিগন্ত বিস্তৃত। মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়াইয়া অপর প্রান্তে তাকাইলে ওপারের গাছপালাগুলি কালো প্রলেপ বলিয়া বোধ হয়। এপার হইতে ওপার অতিক্রম করিতে গেলে তৃষ্ণায় ছাতি ফাটিয়া যায়। ইহাতে মানুষের মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব নহে। গ্রীষ্মকালে মাঠের সেই রূপ অদ্ভুত ভয়ঙ্কর। কতগুলি খৈরি ও সেয়াকুল জাতীয় কাঁটাগুলি ছাড়া কোনো বৃক্ষ নাই। জলও নাই।

প্রশ্ন ১৮। ছাতি-ফাটার মাঠ সম্পর্কে কি কিংবদন্তী আছে?

উত্তর : অতীত কালে এক মহানাগ আসিয়া বসতি করিয়াছিল। তাহার বিষের জ্বালায় মাঠ খানির রসময়ী রূপ ও উর্বরা শক্তি পুড়িয়া নষ্ট হইয়া গিয়াছে। তখন আকাশে উড়ন্ত পাখি, পতঙ্গও পঙ্গু হইয়া ঝরাপাতার মতো উড়িতে উড়িতে এখানে আসিয়া পড়িত।

 প্রশ্ন ১৯। ডাকিনীর রূপ/ছবি কেমন?

উত্তর : ডাকিনী আপনার রূপ আপনি দেখিয়া শিহরিয়া উঠে। ছোট ছোট চোখের মধ্যে পিঙ্গল দুটি তারা জরা কুঞ্চিত মুখ। শনের মতো সাদা চুল। দাঁত হীন মুখ। নরুন দিয়ে চেরা ছুরির মতো তাহার চোখ। দৃষ্টি বিজলির তাহার চোখের দৃষ্টি। 

প্রশ্ন ২০। ডাকিনীর জীবনের প্রথম ঘটনার বিবরণ দাও।

উত্তর : বুড়া শিবতলার সামনে দুর্গা সরোবরের বাঁধের উপর সে দাঁড়াইয়াছিল। হঠাৎ বামুন বাড়ির হারু সরকার আসিয়া তাহার চুলের মুঠি ধরিয়া সিঁড়ির উপর আছাড় দিয়া ফেলিল। ‘হারামজাদি তুই আমার ছেলেকে নজর দিয়াছিস’। সে ভয়ে বিহবল হইয়া কাঁদিয়া বলিয়াছিল, যে সে করে নাই। হারু সরকারের ছেলে আম দিয়া মুড়ি খাইতে ডাকিনী দেখিয়াছিল। তাহার পর হইতে ছেলে পেটের বেদনায় ছটফট করিতেছে। হারু সরকারের বাড়ি গিয়া ডাকিনী অঝোরে কাঁদিল এবং মনে মনে বলিল, ঠাকুর ওই ছেলেকে ভালো করিয়া দাও। আমার দৃষ্টি আমি ফিরাইয়া লইতেছি। আশ্চর্যের কথা কিছুক্ষণের মধ্যে ছেলেটি ভালো হইয়া গেল। সেই রাত্রিতে কাহারও বাড়ির দাওয়ায় শুইতে পারে নাই ।

ক্লাস 9 বাংলা প্রশ্নের উত্তর

S.L. No.Group A সূচীপত্র
পাঠ ১গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
পাঠ ২খাই খাই
পাঠ ৩ধূলামন্দির
পাঠ ৪কবর
পাঠ ৫মনসামঙ্গল
পাঠ ৬প্রত্যুপকার
পাঠ ৭ছুটি
পাঠ ৮ডাইনী
পাঠ ৯পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম
পাঠ ১০অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা
পাঠ ১১লড়াই
পাঠ ১২আমরা
পাঠ ১৩আগামী
পাঠ ১৪আত্মকথা
পাঠ ১৫ভারতবর্ষ
পাঠ ১৬ব্যাকরণ
পাঠ ১৭রচনা
S.L. No.Group B সূচীপত্র
বৈচিত্রপূর্ণ আসাম
পাঠ ১আহােমগণ
পাঠ ২কাছাড়ের জনগােষ্ঠী
পাঠ ৩কারবিগণ
পাঠ ৪কোচ রাজবংশীগণ
পাঠ ৫গড়িয়া, মরিয়া ও দেশীগণ
পাঠ ৬গারােগণ
পাঠ ৭সাঁওতালগণ
পাঠ ৮চা জনগােষ্ঠী
পাঠ ৯চুটিয়াগণ
পাঠ ১০ঠেঙাল কছারিগণ
পাঠ ১১ডিমাসাগণ

প্রশ্ন ২১। ডাকিনীর অভিশপ্ত জীবনের পরিচয় দাও।

উত্তর : ডাকিনী তাহার কু দৃষ্টি লইয়া বড়ই বিব্রত ছিল। সে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করিত তাহার দৃষ্টি যেন ঠাকুর ভালো করিয়া দেয়। আর নতুবা ঠাকুর যেন তাহাকে কানা করিয়া দেয়। ডাকিনী বুঝিতে পারে না ইহা তাহার পূর্বজন্মের পাপের ফল কি না। ডাকিনী মনে মনে সাব্যস্ত করিল গৃহস্থ বাড়িতে সে আর ঢুকিবে না। বাহির দুয়ার হইতে ভিক্ষা চাহিবে।

কিন্তু তাহার মনের মধ্যে সহসা কিলিকিল করিয়া উঠে। কি সুন্দর মাছ ভাজার গন্ধ। চৈত্র মাসের বেলা শেষ হইলে ছাতি ফাটার মাঠটা যেন ধোঁয়ায় ভরিয়া ঝাপসা হইয়া যায়। মাঠ ভরা ধোঁয়ার মধ্যে ঝিকিমিকি কি একটা ছুটিয়া চলিয়াছে। একটা ফুৎকার যদি সে দেয় তাহা হইলে মাঠের ধুলার রাশি উড়িয়া আকাশময় হইয়া যাইবে। ওই ধোঁয়ার মধ্যে সাদার মতো কি একটা নড়িতেছে যেন। সে কি মানুষ? মানুষটাকে ফু দিয়া ধুলা সহকারে উড়াইয়া দিবে? না, ওই দিকে সে আর চাহিবে না। এমনই অভিশপ্ত ছিল ডাকিনীর জীবন।

প্রশ্ন ২২। ডাকিনীর মাতৃসুলভ মমতার পরিচয় দাও।

উত্তর : একবার এক ঝড়ের দিনের ঘটনা। একটি যুবতী শুষ্ক পাণ্ডুর মুখে আসিয়া উপস্থিত। তাহার বুকে কি একটা বস্তু কাপড়ের আবরণে ঢাকা রহিয়াছে। সে ডাকিনীর কাছে একটুখানি জল চাহিল। মমতায় বৃদ্ধা ডাকিনীর মন গলিয়া গেল। এই ভীষণ রোদে রাক্ষুসি মাঠের পথে বাহির হইয়াছে বলিয়া যুবতীকে মৃদু বকুনি দিল। দেখিল মেয়েটির পাশে একটি শিশু রহিয়াছে। গরম জল সিদ্ধ শাকের মতো তাহার দেহ নেতাইয়া পড়িয়াছে। তাহা দেখিয়া ডাকিনী ব্যাকুল হইয়া উঠিল।

প্রশ্ন ২৩। ‘পালা পালা, তুই ছেলে নিয়ে পালা বলছি’— উক্তিটি কে কাহাকে বলিয়াছে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করিয়া ইহার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উক্তিটি ডাকিনী এক যুবতি মেয়েকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছিল।

একদিন গ্রীষ্মের ঝড়ো দুপুরে এক যুবতী কোলে শিশু সন্তান লইয়া ডাকিনীর দুয়ারে উপস্থিত হইয়াছে। যুবতীটি তাহার কাছে জল চাহিল, কেন না তৃষ্ণায় তাহার ছাতি ফাটিয়া যাইতেছে। যুবতীর কোলের শিশুটিও গরমে প্রায় সিদ্ধ হইয়া গিয়াছে। ভাই শিশুটিকে জল দিয়া মুছাইয়া দেওয়া হইয়াছে। শিশুটির পুষ্ট দেহ দেখিয়া ডাকিনীর চোখ গেল তাহার উপর। আর অমনি শিশুটির শরীর দিয়া অবিরত ঘাম ঝরিতে লাগিল। ডাকিনী বুঝিতে পারিল হয়তো তাহার নজর লাগিয়া থাকিবে। তাই যুবতীকে এই চত্বর ছাড়িয়া শিগগির পালাইয়া যাইতে বলিল।

প্রশ্ন ২৪। ডাকিনী গ্রাম ত্যাগ করিয়াছিল কেন? 

উত্তর ঃ ডাকিনী তাহারই বয়সি সাবিত্রীর সুন্দর চকচকে ছেলেটিকে দেখিতে গিয়াছিল।

ইহাতে শাশুড়ি হাঁ হাঁ করিয়া ছুটিয়া আসিলেন। ডাকিনীর চোখ দেখিয়া শাশুড়ি তাহাকে দূর-ছাড় করিয়া বাড়ি হইতে তাড়াইয়া দিলেন। সেদিন ডাকিনী ভগবানের নিকট প্রার্থনা করিয়া বলিয়াছিল, ভগবান ইহার বিচার করিবেন। সাবিত্রীর ছেলেকে ডাকিনী যথার্থ ভালো বাসিত। কিন্তু তাহার প্রার্থনা মিথ্যা হইল। কারণ সাবিত্রীর ছেলেটি সেইদিন বিকাল হইতে অসুস্থ হইয়া মরিয়া গেল। ডাকিনীর বিষময়ী দৃষ্টি ক্ষুধার কলঙ্ক সত্য বলিয়া প্রমাণিত হইল এবং সেই কথা সর্বত্র জানাজানি হইয়া গেল। এই লজ্জায় সে গ্রাম ত্যাগ করিতে বাধ্য হইয়াছিল। কতবার ডাকিনী তারা মায়ের কাছে প্রার্থনা করিয়াছে তাহাকে ডাইনী হইতে মানুষ করিয়া দিবার জন্য, কিন্তু তারা মা তাহার প্রার্থনা শুনেন নাই। এই কারণে ডাকিনী গ্রাম ত্যাগ করিয়াছিল।

প্রশ্ন ২৫। ‘তুমি আমার ছেলেকে নজর দিয়েছ? —উক্তিটি কার? কে কার ছেলেকে নজর দিয়েছে? নজর দেওয়ার ফল কি হইয়াছিল?

উত্তর : উক্তিটি হারু সরকারের।

বৃদ্ধা ডাইনি হারু সরকারের ছেলেকে নজর দিয়াছে। হারু সরকারের ছেলে আম মাখিয়া মুড়ি খাইতেছিল। তাহা ডাইনি দেখিয়াছে। ইহাতে তাহারও আম মুড়ি খাইবার লোভ হইয়াছিল।

হারু সরকার মনে ডাইনি নজর দিবার ফলে তাহার ছেলে অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছে। পেট

বেদনায় ছেলে কাতরাইতেছে।

প্রশ্ন ২৬। ‘দূর-রো, ফ্যাচকাদুনে মেয়ে কোথাকার। ভাগ।’ উক্তিটি কাহার ? কাহার উদ্দেশ্যে সে এই উক্তিটি করিয়াছিল। এই ঘটনার প্রসঙ্গ নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর : উক্তিটি এক অপরিচিত জোয়ান পুরুষের। সাবিত্রীর ছেলে মরিয়া যাইবার পর ডাইনি তাহার গ্রাম ত্যাগ করিয়া বোলপুরে আসিয়াছিল। সেখানে দোকানের একটি আয়নায় ডাইনি তাহার নিজের ছবি দেখিতেছিল একমনে। এমন সময় একজন পুরুষ আসিয়া তাহাকে কোথায় হইতে আসিয়াছে।

জোয়ান পুরুষটি ডাইনির উদ্দেশ্যে এই উক্তি করিয়াছে।

সন্ধেবেলা রেললাইনের ধারে বসিয়া ডাইনি মুড়ি খাইতেছিল। সেখানে আসিয়া পুরুষটি উপস্থিত। ডাইনি তাহার সঙ্গে কথা বলিতে নারাজ। তাই পুরুষটি তাহাকে ধমকাইয়া ছিল। এমনকি তাহাকে পুকুরের পাঁকে পুঁতিয়া ফেলিবে বলিয়া ভয় দেখাইল। ইহাতে ডাইনি ভয় পাইয়া কাদিয়া ফেলিয়াছিল।

জোয়ান পুরুষটি পরদিন তাহার জন্য ঠোঙায় করিয়া মুড়ি লইয়া আসিল এবং তাহাকে বিবাহ করিয়া সংসার পাতিবার ইচ্ছা প্রকাশ করিল। ডাইনি লোকটির ব্যবহার দেখিয়া চমকিয়া গেল। তাহার মতো ডাইনিকে কেহ বিবাহ করিতে পারে এই কথা তাহার বিশ্বাস হইল না ।

Leave a Reply