Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-6| প্রত্যুপকার

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-6| প্রত্যুপকার প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-6| প্রত্যুপকার এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (Ass. MEDIUM)

SUBJECTSLink
EnglishClick Here
অসমীয়াClick Here
বাংলাClick Here
বিজ্ঞানClick Here
সমাজ বিজ্ঞানClick Here
हिंदी ( Elective )Click Here
ভূগোল (Elective)Click Here
বুৰঞ্জী (Elective)Click Here

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-6| প্রত্যুপকার

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-6| প্রত্যুপকার Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ ৬

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

প্রশ্ন ১। সঠিক উত্তর নির্বাচন করো :

(ক) ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি কোন পুরুষে লেখা ?

(a) প্রথম পুরুষ 

(b) মধ্যম পুরুষ 

(c) উত্তম পুরুষ

(d) তৃতীয় পুরুষ

উত্তর : উত্তম পুরুষে লেখা।

(খ) হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির নিবাস কোথায় ?

(a) বাগদাদ

(b) ডেমাস্কস্

(c) গ্রিস

(d) প্যারিস

উত্তর : ডেমাক্সস।

(গ) আলি ইবন আবৃস কোন দেশের লোক?

(a) বাগদাদ

(b) লাহোর

(c) আফগানিস্থান

(d) ডেমাস্কস্

উত্তর : বাগদাদ।

(ঘ) খলিফার নাম কি ?

(a) জসীমউদ্দীন 

(b) আলি ইবুন আবুস 

(c) মামুন

(d) শহীদুল্লাহ

উত্তর : মামুন।

প্রশ্ন ২। সত্য ও অসত্য বেছে নাও। 

(ক) আবুস খলিফার বিরাগ ভাজন ছিলেন।

উত্তর : অসত্য।

(খ) খলিফা মহামতি ও অতি উন্নতচিত্ত পুরুষ ছিলেন।

উত্তর : সত্য।

(গ) পরদিন অপরাহ্নে আবুস খলিফার নিকট উপস্থিত হইলেন।

উত্তর : অসত্য।

(ঘ) এই পৃথিবীতে যত স্থান আছে ডেমাস্কস্ আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়।

উত্তর : সত্য।

প্রশ্ন ৩। পাঠ অবলম্বনে শূন্য স্থান পূর্ণ করো :

(ক) তিনি বলিলেন আমার জন্মস্থান। 

উত্তর : ডেমাস্কস।

(খ) আপনি কৃপা করিয়া আমার করুন।

উত্তর : প্রাণরক্ষা।

(গ) সদাশয় আশ্রয়দাতা আমার হস্তে একটি থলি দিলেন।

উত্তর : স্বর্ণমুদ্রার। 

(খ) তিনি ডাকাইয়া প্রস্তুত হইতে আদেশ দিলেন।

উত্তর : ঘাতককে।

(ঙ) এক্ষণে আপনার যেরূপ

উত্তর : অভিরুচি।

প্রশ্ন ৪। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) বাংলা গদ্যের জনক কাকে বলা হয় ?

উত্তর : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে।

(খ) আবৃস প্রাণরক্ষা করার জন্য আশ্রয়দাতার বাড়িতে কতদিন ছিলেন? 

উত্তর : একমাস।

(গ) “তোমা হইতেই তাঁ♥হার প্রাণরক্ষা হইল।” –বক্তা কে?

উত্তর : খলিফা।

(ঘ) আপনকার নিবাস কোথায় ? – আপনকার’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তিকে।

(ঙ) ‘প্রত্যুপকার’ পাঠের লেখক কে?

উত্তর : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

(চ) ‘প্রত্যুপকার’ পাঠে কে, কার প্রত্যুপকার করেছে?

উত্তর : আলি ইবন আব্বস, ডেমাস্কস্বাসী বন্দীর।

প্রশ্ন ৫। ৩/৪টি বাক্যে উত্তর দাও : 

(ক) “পৃথিবীতে যত স্থান আছে ঐ স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়।” —— – উক্তিটির যথার্থ বুঝিয়ে বলো।

উত্তর : ডেমাস্কসের পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণে বক্তা প্রাণরক্ষার্থে তথাকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন। গৃহস্বামী তাহাকে কেবল একমাস পর্যন্ত

নির্ভয়েই রাখেন নাই উপরক্ত নিরাপদে তাহার বাড়ি ফিরিবার ব্যবস্থাসহ পাথেয় ও যথেষ্ট উপহার সামগ্রী প্রদান করিয়াছিলেন। সেইজন্য বক্তা ডেমাণ্ডস্ নগর সম্বন্ধে এইরূপ অভিমত পোষণ করিয়াছেন।

(খ) “আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে।” কে, কাকে, কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছিলেন?

উত্তর : ডেমাস্কসবাস, বিচারাধীন বন্দী, আলি ইবন আনুসকে বলিয়াছেন। আলি ইবন আরস যখন আক্ষেপ করিয়া তাহাকে বলিতেছিলেন যে, ডেমাস্কাসের আশ্রয়দাতার কোনো খবর যদি তিনি পাইতেন তবে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করিতে পারিলে মৃত্যুকালে তাহার মনে কোন ক্ষোভ থাকিতনা এই প্রসঙ্গে বক্তা উপরোক্ত উক্তি করিয়াছেন।

(গ) লৌহশৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবার পর বন্দী কিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন? 

উত্তর : কতিপয় অসৎ ব্যক্তির আক্রোশের ফলে তিনি বন্দী হইয়াছেন। স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের সহিত দেখা করিবারও সুযোগ ঘটে নাই। মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায়, ভীত, সন্ত্রস্ত হইয়া মুক্তিদাতার নিকট বিনীত প্রার্থনা জানাইলেন যে পরিবারের নিকট যেন তাঁহার সংবাদ প্রেরণ করেন। 

(ঘ) বন্দীকে মুক্ত করার পর আবুস তাঁকে কি বলেছিলেন?

উত্তর : বন্দীকে মুক্ত করিয়া আবুস তাহার হস্তে সহস্র স্বর্ণমুদ্রার থলি প্রদান করিয়া অবিলম্বে প্রস্থান করিয়া পরিবারের সহিত মিলিত হইতে বলিলেন। ইহার ফলে হয়তো আবুসকে খলিফার রোষের সন্মুখীন হইতে হইবে। কিন্তু তাহাতে তিনি বিন্দুমাত্র দুঃখিত হইবেন না।

(ঙ) আবূসের প্রস্তাবে তিনি সম্মত হন নি কেন ?

উত্তর : প্রকৃতপক্ষে তিনি পরোপকারী, দয়াশীল ব্যক্তি। তাঁহার বিবেচনায় একদিন আশ্রয় প্রদান করিয়া যে প্রাণকে তিনি রক্ষা করিয়াছেন এখন নিজের প্রাণ রক্ষার্থে স্বার্থপরের মত সেই প্রাণের বিনাশ ঘটাইবার কারণ হইতে পারিবেন না। সেইজন্য তিনি আবৃসের প্রস্তাবে সম্মত হন নাই।

(চ) খলিফা যে উন্নতচিত্তের পুরুষ কিভাবে তার প্রমাণ পাওয়া যায়? 

উত্তর : বন্দীর মানবিকতাবোধ সম্বন্ধে সবিশেষ জ্ঞাত হইয়া খলিফা অত্যন্ত প্রীত হইয়া তাহাকে প্রাণদণ্ড হইতে অব্যাহতি দিলেন। কেবল তাহাই নয়। তাঁহাকে মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশটি অশ্ব, দশটি খচ্চর, দশটি উষ্ট্র এবং ডেমাস্কসের রাজপ্রতিনিধির নামে একটি অনুরোধপত্র ও পাথেয়স্বরূপ বহু অর্থ প্রদান করিয়া সসম্মানে নিজ আলয়ে প্রেরণ করিলেন। ইহা হইতে প্রমাণিত হয় যে খলিফা উন্নতচিত্তের পুরুষ ছিলেন।

প্রশ্ন ৬। মামুন খলিফার প্রিয় পাত্র কে ছিলেন? 

উত্তর : আলি ইবন্‌ আব্বস্।

প্রশ্ন ৭। ‘তুমি এ ব্যক্তিকে আপন আনয়ে লইয়া গিয়া, রুদ্ধ করিয়া রাখিবে’—উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছেন? 

উত্তর : উক্তিটি খলিফা তাঁর প্রিয়পাত্র আলি ইবন্ আব্বসের উদ্দেশ্যে করিয়াছেন।

প্রশ্ন ৮। ‘খলিফা, আমার প্রতি এই আস্থা করিলেন’ খলিফার কার প্রতি কী আদেশ করেছেন?

উত্তর : খলিফা তাহার প্রিয়পাত্র আলি ইবন্ আব্বসকে আদেশ করিয়াছেন। হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে তাহার নিজের বাড়িতে রুদ্ধ করিয়া রাখিবার আদেশ করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ৯। ‘আমার খলিফার কোপে পতিত হইতে হইবে।’ — কে কেন খলিফার কোপে পড়তেন? 

উত্তর : আলি ইবন্ আব্বসকে খলিফার কোপে পড়িতে হইত, যদি হাত-পা বাঁধা লোকটি তাঁহার বাড়ি হইতে পলাইয়া যাইত। 

প্রশ্ন ১০। ‘আপনকার নিবাস কোথায় ?” – উক্তিটি কে কাকে করেছেন?

উত্তর : উক্তিটি খলিফার প্রিয়পাত্র আলি ইবন্ আব্বস্ তাঁহার এক বন্দীকে করিয়াছেন।

প্রশ্ন ১১। ‘এক সময় আমার প্রাণদান নিয়াছিলেন।’ উক্তিটি কার? কে তাকে প্রাণদান দিয়েছিলেন। 

উত্তর : উক্তিটি আলি ইবন্ আব্বাসের। ডেমাস্কাস নিবাসী এক ব্যক্তি তাহাকে প্রাণদান দিয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ১২। আলি ইবন্ আব্বস কীভাবে বিপদে পড়েছিলেন ?

উত্তর : আলি ইবন্ আব্বস্ একবার ডেমাস্কাসের এক শাসনকর্তার সঙ্গে সেখানে যান। হঠাৎ একদিন ডেমাস্কাসের পূর্ব পদচ্যুত শাসনকর্তা সৈন্যসামন্ত লইয়া ডেমাস্কাস আক্রমণ করেন। তখন আলি ইবন্ আব্বস্ বিপদে পড়িয়াছিলেন। 

প্রশ্ন ১৩। আশ্রয়দাতা গৃহস্বামীর বাড়িতে আলি ইবন্ আব্বস্ কতদিন অতিবাহিত করেছিলেন?

উত্তর : একমাস।

প্রশ্ন ১৪। আলি ইবন্ আব্বসের স্বদেশ কোথায় ?

উত্তর : বাগদাদ।

প্রশ্ন ১৫। ‘প্রস্থান দিবসে তাহা দেখিয়া আমি বিস্ময়াপন্ন হইলাম।’ —উক্তিটি কার ? তিনি কেন বিস্মিত হইয়াছিলেন?

উত্তর : উক্তিটি আলি ইবন্ আব্বাসের। ডেমাস্কাস থেকে তাঁহার স্বদেশে বাগদাদে ফিরিবার সময় আলি ইবন্ আব্বসের হাতে টাকাকড়ি ছিল না। লজ্জায় তিনি গৃহস্বামীর নিকট কিছু চাহিতেও পারিলেন না। কিন্তু প্রস্থান করিবার সময় তাঁহাকে প্রদেয় উপহার দেখিয়া আলি ইবন্ আব্বস বিস্ময়াভিভূত হইয় পড়িলেন। তিনি দেখিলেন একটি ঘোড়ার পিঠে খাদ্যসামগ্রী বাঁধা রহিয়াছে। পথের সঙ্গী হিসাবে একটি ভৃত্যও যাইতে প্রস্তুত হইয়াছে। যাইবার সময় গৃহকর্তা তাঁহাকে একটি সোনার থলি উপহার দিলেন। 

প্রশ্ন ১৬। ‘পৃথিবী যত স্থান আছে, ওই স্থান আমার সর্বপেক্ষা প্রিয়’ —উক্তিটি কার ? এখানে কোন স্থানের কথা বলা হইয়াছে? সেই স্থান প্রিয় হবার কারণ কী ?

উত্তর : উক্তিটি আলি ইবন্ আব্বসের। এখানে ডেমাস্কাসের মসজিদের নিকট এক স্থানের কথা বলা হইয়াছে। সেই স্থান আলি ইবন্ আব্বসের অতি প্রিয়, কারণ সেইখানকার এক ব্যক্তি এক বিপদ কালে তাঁহাকে প্রাণদান করিয়াছেন।

প্রশ্ন ১৭। ‘আপনাকার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে।’ —উক্তিটি কার? এখানে মনস্কাম পূর্ণ হওয়ার কথা বলা হইয়াছে? তার মনস্কাম কী ছিল?

উত্তর : উক্তিটি ডেমাস্কাসের এক বন্দীর, যিনি আলি ইবন্ আব্বসের গৃহে বন্দী আছেন। এখানে আলি ইবন্ আব্বসের মনস্কামনার কথা বলা হইয়াছে। আলি ইবন্ আব্বস্ একবার ডেমাস্কাস গিয়া বিপদে পড়িয়াছিলেন। সেইসময় একজন গৃহস্বামী তাঁহার প্রাণদান করিয়াছেন। তাঁহার মনস্কামনা ছিল তিনি জীবনে কখনো ওই ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাইলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিবেন। আব্বাসের গৃহে বন্দী ব্যক্তিটিই সেই ব্যক্তি যিনি একদিন তাঁহার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন। তাই তাঁহার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে বলা যায়।

প্রশ্ন ১৮। ডেমাস্কাস নিবাসী কেন খলিফার কোপে পতিত হইয়াছিলেন? 

উত্তর ঃ কয়েকজন নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্যাবলত শত্রুতা করিয়া খলিফার নিকট তাঁহার দোষারোপ করিয়াছে। সেইজন্য খলিফা আদেশ দিয়াছেন তাঁহাকে বন্দী করিতে।

প্রশ্ন ১৯। ডেমাস্কাস নিবাসী বন্দী তাঁর পরিবারের কাছে কী সংবাদ পাঠাতে চেয়েছিলেন এবং কার মাধ্যমে ?

উত্তর : ডেমাস্কাস নিবাসী বন্ধী আলি ইবন্ আব্বাসের মাধ্যমে পরিবারের নিকট খবর পাঠাইতে চাহিয়াছিলেন। খলিফার রোষে পড়িয়া তাঁহার প্রাণদণ্ড হইতে পারে এই খবর যেন পরিবারের লোককে জানাইয়া দেওয়া হয় এই অনুরোধ করিলেন।

প্রশ্ন ২০। ‘এই মুহূর্ত হইতে স্বাধীন হইলেন’ —উক্তিটি কার? তিনি কাকে উদ্দেশ্য করিয়া এই উক্তি করিয়াছেন? এই উক্তির তাৎপর্য কী?

উত্তর : উক্তিটি আলি ইবন্ আব্বাসের। তিনি ডেমাস্কাস নিবাসী এক বন্দীর উদ্দেশ্যে এই উক্তি করিয়াছেন। আলি ইবন্ আব্বস্ তাঁহার গৃহবন্দী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়া জানিতে পারিলেন যে এই লোক একবার তাঁহার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন এবং বহু ধন উপহার স্বদেশে ফিরিয়া আসিতে সাহায্য করিয়াছিলেন।

তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁহাকে শৃঙ্খলমুক্ত করিয়া দিলেন এবং বলিলেন যে আপনি এখন হইতে স্বাধীন। আপনি আপনার পরিবারের নিকট ফিরিয়া গিয়া শান্তিতে সংসার করুন।

প্রশ্ন ২১। তিনি কখনোই দুরাচার নহেন।’ —উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে বলিয়াছেন? এখানে কার চরিত্রের কথা বলা হইয়াছে, তাঁর চরিত্র বর্ণনা করো।

উত্তর : উক্তিটি আলি ইবন্ আব্বস্ খলিফার উদ্দেশ্যে করিয়াছেন। এখানে ডেমাস্কাস নিবাসী বন্দীর চরিত্রের কথা বলা হইয়াছে। তাঁহার চরিত্র সদাচারী, সৎ, পরোপকারী। তিনি দয়াশীল, ন্যায়পরায়ণ এবং সদ্বিবেচক তিনি কখনো দুরাচার নহেন। 

প্রশ্ন ২২। খলিফার চরিত্র কেমন ছিল বর্ণনা করো।

উত্তর : খলিফা মহামতি। উন্নত মনের মানুষ ছিলেন। তিনি অকারণে কাহারও ক্ষতিসাধন করিতেন না। তিনি দয়ালু ও পরোপকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ মানুষ। তাই ডেমাস্কাস বাসী বন্দীকে মুক্ত করিয়া দিয়াছেন, কেননা সে কোনো দোষ করে নাই।

প্রশ্ন ২৩। ডেমাস্কাস নিবাসী বন্দীকে খলিফা কী উপহার দিয়েছিলেন?

উত্তর : ডেমাস্কাস নিবাসীকে খলিফা উপহার স্বরূপ বহু মূল্যবান জিনিস দিয়াছিলেন। মহামূল্য পোষাক, সুসজ্জিত দশটি ঘোড়া, দশটি খচ্চর, দশটি উট উপহার দিলেন এবং বহুসংখ্যক অর্থও তিনি দান করিলেন।

প্রশ্ন ২৪। ‘অকারণে তোমার প্রাণদণ্ড করিতে উদ্যত হইয়াছিলাম’ —উক্তিটি কে কাকে কোন প্রসঙ্গে করিয়াছেন?

উত্তর : উক্তিটি খলিফা ডেমাস্কাস নিবাসী বন্দীকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন। খলিফা দুষ্টমতি দুরাচারদিগের বাক্য বিশ্বাস করিয়া তাহার, প্রাণদণ্ড করিতে উদ্যত হইয়াছিলেন। যখন আলি ইবন্ আব্বসের নিকট তাহার সৎগুণের কথা জানিতে পারিলেন তখন খলিফা এই উক্তি করিয়াছেন।

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ২৫। ‘প্রত্যুপকার’ পাঠে কে, কিভাবে প্রত্যুপকার করেছে আলোচনা করো। 

উত্তর : কোন ব্যক্তির নিকট হইতে পাইবার পর সুযোগ মত যে উপকার প্রদর্শন করা হয় তাহাই প্রত্যুপকার। আলোচ্য পাঠে দেখা যায় আলি ইবন আবস্ নামে এক ব্যক্তি ডেমাস্কস্বাসী এক বন্দীর প্রত্যুপকার করিয়াছেন। আলি ইবন আব্বস খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফা তাঁহার দরবারে আনীত বিচারাধীন বন্দীকে আব্বসের গৃহে সেই রাত্রের জন্য রুদ্ধ করিয়া রাখিতে নির্দেশ দিলেন।

আপন গৃহে বন্দীর নিবাস সম্বন্ধে আলাপ করিয়া তিনি জানিতে পারিলেন বন্দীর বাস ডেমাস্কাসে। ডেমাস্কস নগরের এক ব্যক্তি একসময় তাঁহার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন। ডেমাস্কস্ নগরের পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণে তিনি প্রাণরক্ষার্থে সেই নগরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হইলে গৃহস্বামী তাঁহাকে নির্ভয়ে আশ্রয় প্রদান করেন। একমাস কাল সেখানে থাকিবার পর আশ্রয়দাতার সহযোগিতায় নিরাপদে তিনি নিজ গৃহে ফিরিয়া আসিলেন। পাথেয় হিসাবে একটি স্বর্ণমুদ্রার থলি, অশ্বপৃষ্ঠে খাদ্যসামগ্রী এবং পথে পরিচর্যা করিবার জন্য একটি ভৃত্য এবং একটি সুসজ্জতি অশ্ব উপহার হিসাবে প্রদান করিয়া যাত্রীদের সহিত পরিচয় করাইয়া দিলেন। সেই দয়াশীল আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করিলেন।

যখন আবুস জানিতে পারিলেন বন্দীই সেই আশ্রয়দাতা তখন তিনি সবিশেষ আনন্দিত হইয়া নিজের বিপদ তুচ্ছ করিয়া বন্দীকে মুক্ত করিয়া সহস্র স্বর্ণমুদ্রার থলি প্রদান করিয়া আপন পরিবারের সহিত মিলিত হইবার জন্য অনুরোধ করিলেন। কিন্তু পরোপকারী বন্দী ইহাতে সম্মত হইলেন না। আবুস তখন খলিফার নিকট সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিয়া জানাইলেন যে ব্যক্তি একদিন তাঁহার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন, যে ব্যক্তিকে মুক্ত করিয়া দিলেও আব্বসের প্রাণ সংশয়ের কথা চিন্তা করিয়া মুক্ত হইতে চাহেন না তিনি কখনই দুরাচার নহেন। তিনি

প্রকৃতপক্ষে পরোপকারী, দয়াশীল, ন্যায়পরায়ণ এবং সদ্বিবেচক। তিনি অসৎ ব্যক্তিদের চক্রান্তের শিকার হইয়াছেন। খলিফার বিবেচনায় বন্দী নির্দোষ সাব্যস্ত হইয়া গৃহে ফিরিয়া গেলেন। এইভাবে আবৃস আশ্রয়দাতার প্রত্যুপকার করিয়াছেন।

প্রশ্ন ২৬। প্রত্যুপকার নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো। 

উত্তর : সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করিয়া থাকে। নামকরণের মধ্য দিয়াই রচনার মূল বিষয়কে উপভোগ করা যায়। নামকরণ হইল দর্পণের মত যাহার মধ্য দিয়া মূল ভাববস্তু প্রতিবিম্বিত হয়। বাংলা গদ্যের জনক যিনি তাঁহার গল্পের নামকরণ যে যথার্থ সার্থক হইবে তাহা স্বাভাবিক।

গল্পটির মূল বৃত্তে রহিয়াছে পরোপকার প্রবৃত্তি। আলি ইবন আবুস এবং বিচারাধীন বন্দীর প্রত্যুপকারের কাহিনিকে অধিক ছন্দময় করিয়া প্রাণসঞ্চার করিয়াছে পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা মামুন খলিফা।

আলি ইবন আবুস প্রাণরক্ষার্থে ছুটিয়া গেলেন ডেমাস্কস্ নগরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে। গৃহস্বামী যথার্থই দয়াশীল, পরোপকারী। অজ্ঞাতকুলশীল ব্যক্তিকে আশ্রয়দানে কুণ্ঠিত হন নাই। পরিস্থিতি অনুকূলে আসিলে যথাযোগ্য সন্মান সহকারে আশ্রয়প্রার্থীকে আপন গৃহে প্রেরণ করিলেন। অপরদিকে সেই আশ্রয়দাতা তথা গৃহস্বামী দুষ্টলোকের চক্রান্তের শিকার হইয়া বন্দী অবস্থায় আনীত হইলেন একদা আশ্রয়প্রার্থীর নিকট। আলাপচারীতার মাধ্যমে উভয়ে উভয়ের পরিচয় জানিতে পারিয়া আবুস প্রত্যুপকারের সুযোগ গ্রহণ করিলেন। খলিফার নিকট বন্দীর চরিত্রের গুণাবলী ব্যক্ত করিয়া তাঁহাকে নির্দোষ বলিয়া প্রমাণ করিতে সচেষ্ট হইলেন। খলিফাও উন্নতচিত্তের পুরুষ ছিলেন। সমস্ত ঘটনা বিবেচনা করিয়া বন্দীকে উপহার সামগ্রী প্রদান করিয়া সসম্মানে তাঁহাকে নিজগৃহে প্রেরণ করিলেন।

সমস্ত গল্পটি জুড়িয়া রহিয়াছে উপকার করিবার মত মানবিক গুণ। সেইজন্য নিঃসন্দেহে বলা যায় প্রত্যুপকার নামটি যথার্থই সার্থক হইয়াছে। 

প্রশ্ন ২৭। ‘প্রত্যুপকার’ পাঠে কোন চরিত্রটি তোমার ভাল লাগে এবং কেন তা তোমার ভাষায় বুঝিয়ে দাও।

উত্তর : প্রত্যুপকার পাঠটিতে তিনটি চরিত্র রহিয়াছে। মামুন খলিফা, আলি ইবন আবুস এবং ডেমাস্কাসী বিচারাধীন বন্দী। তাঁহাদের মধ্যে বিচারাধীন বন্দীর চরিত্র আমার সর্বাপেক্ষা ভাল লাগে।

চরিত্রগুলি বিশ্লেষণ করিয়া দেখা যায় ডেমাস্কস্বাসী বন্দী ব্যক্তি যথার্থই সজ্জন। নির্দোষ হইয়াও দুষ্ট, অসৎ প্রকৃতির লোকের চক্রান্তে তিনি বন্দী। নীচ ও হীন ব্যক্তিদের অপকর্মের অন্ধকারে মানবিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তি নির্যাতিত হইয়া এইভাবে গুমরাইয়া মরিতেছে। তিনি তেমনই এক ব্যক্তি যিনি প্রকৃতপক্ষে দয়াশীল, পরোপকারী তিনি কখনই অপরকে দয়া করিবার সময় তাহার গুণ, মান বিচার করেন না। সেইজন্য অজ্ঞাতকুলশীল আলি ইবন আত্মসকে আশ্রয় দান করিয়া তাঁহার প্রাণ রক্ষা করিতে দ্বিধা বোধ করেন নাই। প্রত্যুপকারের সুযোগ পাইয়া আবুস যখন তাঁহাকে বন্দীদশা হইতে মুক্ত করিয়া আপন গৃহে গমন করিবার প্রস্তাব দিলেন তখনও দেখা যায় তাঁর মহত্ত্ব। ইহার ফলে আবুসের জীবন বিপন্ন হইতে পারে বিবেচনা করিয়া তিনি তাঁহার প্রস্তাবে সম্মত হইলেন না।

সাধারণত মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে উপকারীর উপকার স্বীকার করে বা সুযোগমত প্রত্যুপকার করিতে চেষ্টা করে যেরূপ আলি ইবন আবুস করিয়াছেন। কিন্তু তাঁহার মহত্ত্ব অধিক প্রকাশিত হয় যখন আবসকে প্রত্যুপকারের সুযোগ দিয়া বলিলেন খলিফার ক্রোধ যাহাতে প্রশমিত হয় সেই বিষয়ে যথোপযুক্ত চেষ্টা করিলে তাহার প্রতি প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হইবে।

পরিবার, সন্তান হইতে বিচ্যুত হইয়া বন্দী জীবনে যখন তিনি মুক্তি পাইলেন তখন তাঁহার উক্ত “একদিন যে প্রাণ রক্ষা করিয়াছি, আপন প্রাণরক্ষার্থে, সেই প্রাণের বিনাশের কারণ কখনই হইব না।” মহৎ মানুষের কীর্তিতেই তাঁহার পরিচয় বহন করে। সেই হেতু তাহার চরিত্র আমাকে সর্বাপেক্ষা আকর্ষণ করে।

ক্লাস 9 বাংলা প্রশ্নের উত্তর

S.L. No.Group A সূচীপত্র
পাঠ ১গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
পাঠ ২খাই খাই
পাঠ ৩ধূলামন্দির
পাঠ ৪কবর
পাঠ ৫মনসামঙ্গল
পাঠ ৬প্রত্যুপকার
পাঠ ৭ছুটি
পাঠ ৮ডাইনী
পাঠ ৯পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম
পাঠ ১০অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা
পাঠ ১১লড়াই
পাঠ ১২আমরা
পাঠ ১৩আগামী
পাঠ ১৪আত্মকথা
পাঠ ১৫ভারতবর্ষ
পাঠ ১৬ব্যাকরণ
পাঠ ১৭রচনা
S.L. No.Group B সূচীপত্র
বৈচিত্রপূর্ণ আসাম
পাঠ ১আহােমগণ
পাঠ ২কাছাড়ের জনগােষ্ঠী
পাঠ ৩কারবিগণ
পাঠ ৪কোচ রাজবংশীগণ
পাঠ ৫গড়িয়া, মরিয়া ও দেশীগণ
পাঠ ৬গারােগণ
পাঠ ৭সাঁওতালগণ
পাঠ ৮চা জনগােষ্ঠী
পাঠ ৯চুটিয়াগণ
পাঠ ১০ঠেঙাল কছারিগণ
পাঠ ১১ডিমাসাগণ

প্রশ্ন ২৮। আলি ইবন আবুসের আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার যথার্থ কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ডেমাস্কস্ নগরের পদচ্যুত শাসনকর্তা বহুসংখ্যক সৈন্য লইয়া সেই নগরের শাসনকর্তা এবং আলি ইবন আবসের উপর আক্রমণ করিলেন। তখন তিনি প্রাণভয়ে ভীত হইয়া সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত লোকের নিকট প্রাণরক্ষার আবেদন জানাইলেন।

গৃহস্বামী সদাশয়, পরোপকারী ব্যক্তি ছিলেন বলিয়া অজ্ঞাতকুলশীল আবুসকে তাহার গৃহে আশ্রয় প্রদান করিলেন। নিরাপদে একমাস রাখিবার পর সুযোগ বুঝিয়া তাঁহাকে স্বদেশে পাঠাইবার ব্যবস্থা করিলেন। কপর্দকহীন আবুসের প্রতি তাঁহার যে সহানুভূতি কত গভীর তাহা আবুসকে বিস্মিত করিল। বিপদে রক্ষা করাই শুধু নয় বিপদ কাটিয়া গেলেও নিরাপদে বাড়ি ফিরিবার সুব্যবস্থা দেখিয়া তাহার প্রতি শ্রদ্ধায় মস্তক অবনত হয়। সুসজ্জিত অশ্ব, অশ্বপৃষ্ঠে খাদ্য সামগ্রী, পথে পরিচর্যা করিবার জন্য ভৃত্য এবং পাথেয় হিসাবে স্বর্ণমুদ্রার থলি প্রদানই নয়, অন্যান্য যাত্রীদের সহিত আলাপ করাইয়া নিরাপদে পৌছাইবার

সাধ্যানুসারে সুব্যবস্থা করিয়াছিলেন। মানুষ মানুষকে বিপদে সাহায্য করে ইহাই ধর্ম। কিন্তু সাময়িক বিপদ কাটিয়া গেলেও তাহার যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। আশ্রয়দাতার আন্তরিকতায় আবুস মুগ্ধ। জীবনে চলার পথে এমন মানুষের সাহায্য পাইয়া তিনি ধন্য। এই সমস্ত কারণে তিনি আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন ২৯। ডেমাস্কস্বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আবুস খলিফাকে যে সব যুক্তি দেখাইয়াছিল তা উল্লেখ করো।

উত্তর : ডেমাস্কস্বাসী বন্দী যে প্রকৃত পরোপকারী, বিবেচক এবং ন্যায়পরায়ণ তাহা আবুস জানিতে পারিলেন। সেইজন্য প্রত্যুপকার করিবার সুবর্ণ সুযোগ তিনি হাতছাড়া করিতে চাইলেন না। বন্দী যে নিরপরাধ, সম্পূর্ণ নির্দোষ তাহা খলিফার নিকট প্রমাণ করিবার জন্য তিনি কাতর বচনে বলিলেন—

বন্দী সৎ ব্যক্তি, পরোপকারী। ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণ হইতে বাঁচাইবার জন্য তাহাকে আশ্রয় দান করিয়া মাসাবধি তাঁহার গৃহে সফরে রাখিয়াছিলেন। এমন কি স্বগৃহে নিরাপদে পৌঁছিবার জন্য সুবন্দোবস্ত করিয়াছিলেন। যথার্থ সৎ এবং পরোপকারী না হইলে অজ্ঞাতকুলশীল ব্যক্তির প্রতি এমন সহযোগিতা কেহই করেনা।

সেই আশ্রয়দাতা আজ বন্দী। সেইহেতু তাহার প্রকৃত পরিচয় জানিয়া আবুস যখন তাঁহাকে মুক্ত করিয়া বাড়ি যাইবার প্রস্তাব দিলেন তখন তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মত হইলেন না।

ইহার ফলে আরসের প্রাণদণ্ড হইতে পারে বিবেচনা করিয়া একদিন যে প্রাণকে রক্ষা করিয়াছিলেন সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হওয়া তাহার পক্ষে সম্ভব নয় নির্দ্বিধায় জানাইলেন। প্রকৃত মহৎ না হইলে এরূপ উক্তি করা সম্ভব হইত না।

যে ব্যক্তির হৃদয় অপরের দুঃখে কাতর হয় তিনি কখনই দুরাচার হইতে পারেন না।

এরূপ মহৎ ব্যক্তির পক্ষে কখনই প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হইবার মত জঘন্য অপরাধ করা সম্ভব নয়। নীচ প্রকৃতি দুরাত্মাদের চক্রান্তের শিকার হইয়াছেন তিনি। এই সমস্ত যুক্তি প্রদর্শন করিয়া তিনি খলিফার উপর প্রকৃত বিচার করিবার দায়িত্ব অর্পণ করিলেন। 

প্রশ্ন ৩০। ‘আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে’ —উক্তিটি কে কোন প্রসঙ্গে করেছিল, কিভাবে তাঁর মনস্কাম পূর্ণ হয়েছিল?

উত্তর : ডেমাস্কসবাস, বিচারাধীন বন্দী, আলি ইবন আবুসকে বলিয়াছেন। আলি ইবন আবুস যখন আক্ষেপ করিয়া তাহাকে বলিতেছিলেন যে, ডেমাস্কসের আশ্রয়দাতার কোনো খবর যদি তিনি পাইতেন তবে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করিতে পারিলে মৃত্যুকালে তাহার মনে কোন ক্ষোভ থাকিতনা এই প্রসঙ্গে বক্তা উপরোক্ত উক্তি করিয়াছেন।

যখন ইবন আববা জানিতে পারিলেন বন্দীই সেই আশ্রয়দাতা তখন তিনি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করিবার সুযোগ পাইলেন। নিজের বিপদ তুচ্ছ করিয়া বন্দীরে মুক্ত করিয়া সহজ স্বর্ণমুদ্রার থলি প্রদান করিয়া আপন পরিবারের সহিত মিলিত হইবার জন্য অনুরোধ করিলেন। কিন্তু বন্দী সেই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় তাঁহাকে নিরপরাধ প্রমাণ করিবার জন্য খলিফার দরবারে প্রকৃত সত্য বিষয় প্রকাশ করিলেন। যে ব্যক্তি একদিন তাঁহার প্রাণ রক্ষা করিয়াছিলেন, যে ব্যক্তিকে মুক্ত করিয়া দিলেও তাঁহার (আববসের) প্রাণ সংশয়ের কথা চিন্তা করিয়া মুক্ত হইতে চাহেন নাই তিনি কখনই দুরাচারী নহেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে পরোপকারী, দয়াশীল, ন্যায়পরায়ণ এবং সদ্বিবেচক। তিনি অসৎ ব্যক্তিদের চক্রান্তের শিকার হইয়াছেন। আবাসের এইসকল মুক্তির যথার্থতা বিচার করিয়া খলিফা বন্দীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করিলেন। আশ্রয়দাতাকে মুক্ত করিয়া আব্বস কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করিলেন। এইভাবে তাঁহার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছিল।

প্রশ্ন ৩১। সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো :

(ক) গৃহস্বামী আমায় অভয় প্রদান করিলেন। 

উত্তর : উদ্ধৃতি : আলোচ্য অংশটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত বিদ্যাসাগর রচনাবলীর অন্তর্গত ‘প্রত্যুপকার’ পাঠ হইতে উদ্ধৃত হইয়াছে।

প্রসঙ্গ : আলি ইবন আবুস যখন প্রাণভয়ে ভীত হইয়া প্রাণরক্ষার জন্য গৃহস্বামীর নিকট আবেদন জানাইলেন তখন গৃহস্বামী তাঁহার প্রতি অভয়হস্ত প্রসারিত করিয়া দিলেন। 

ব্যাখ্যা ঃ আলি ইবন আবুস নামে এক ব্যক্তি ডেমাস্কাসের শাসনকর্তার সহিত সেই স্থানে গিয়াছিলেন। সেখানে ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণের সম্মুখীন হইয়াছিলেন। প্রাণ রক্ষার তাগিদে পলায়ন করিয়া তিনি এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে উপস্থিত হন। গৃহস্বামীর নিকট কাতর বচনে প্রাণরক্ষার আবেদন জানান। গৃহস্বামী তাঁহাকে অভয় প্রদান করিয়া প্রাণ রক্ষা করিলেন এবং আশ্রয় প্রদান করিয়া বিপদমুক্ত করিলেন।

(খ) যদি তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের অবসর পাই, তাহা হইলে মৃত্যুকালে আমার কোনও ক্ষোভ থাকে না। 

উত্তর : আলোচ্য অংশকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত বিদ্যাসাগর রচনাবলীর অন্তর্গত ‘প্রত্যুপকার’ নামক পাঠ হইতে লওয়া হইয়াছে।

প্রসঙ্গ : বন্দীর নিবাস ডেমাস্কাসে জানিতে পারিয়া আবুস সেখানকার যে ব্যক্তি একদিন তাঁহার উপকার করিয়াছিলেন তাহার সম্বন্ধে আক্ষেপ করিয়া উদ্ধৃত উক্তি করিয়াছিলেন। 

ব্যাখ্যা : আলি ইবন আবুস ডেমাস্কস্বাসী আশ্রয়দাতার নিকট যে উপকার পাইয়াছিলেন তাহা কখনই ভুলিতে পারেন নাই। সেইজন্য ডেমাস্কস্ তাহার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় স্থান।

বন্দী সেই নগরের ব্যক্তি জানিতে পারিয়া আক্ষেপ করিয়া বলিয়াছেন সেই উপকারী ব্যক্তির প্রতি যদি কখনও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ পান তাহা হইলে মৃত্যুকালে তাঁহার কোন ক্ষোভ থাকিবে না। 

(গ) আমি এত নীচাশয় ও স্বার্থপর নহি যে, যে প্রাণের রক্ষা করিয়াছি, আপন প্রাণরক্ষার্থে, সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হইব। 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত বিদ্যাসাগর রচনাবলীর অন্তর্গত ‘প্রত্যুপকার’ নামক পাঠ হইতে লওয়া হইয়াছে।

প্রসঙ্গ : আলি ইবন আবুস যখন আপন প্রাণ বিপন্ন জানিয়াও বন্দীকে মুক্ত করিয়া নিজগৃহে ফিরিয়া যাইতে অনুরোধ করিলেন তখন বন্দী উপরোক্ত উক্তি করিয়াছিলেন। 

ব্যাখ্যা : বন্দীকে মুক্ত করিয়া দিলে আরসের জীবন বিপন্ন হইতে পারে। তথাপি আবুস বন্দীকে মুক্ত করিয়া সহস্র স্বর্ণমুদ্রার থলি প্রদান করিয়া অবিলম্বে আপন পরিবারের সহিত মিলিত হইবার অনুরোধ জানাইলেন তখন বন্দী তাহাতে সন্মত হইলেন না। বন্দী সৎ এবং পরোপকারী। তাই তাঁহার বিবেচনায় একদিন যে প্রাণকে রক্ষা করিয়াছিলেন এখন নিজের প্রাণ রক্ষা করিতে গিয়া সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হওয়া তাঁহার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। পরোপকারী বলিয়া, মহৎ প্রাণের অধিকারী বলিয়া আপন স্বার্থরক্ষার্থে আপন আদর্শ হইতে বিচ্যুত হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব।

(ঘ) যে ব্যক্তি এমন দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক, তিনি কখনই দুরাচার নহেন।

উত্তর : আলোচ্য অংশটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত বিদ্যাসাগর রচনাবলির অন্তর্গত ‘প্রত্যুপকার’ পাঠ হইতে গৃহিত।

প্রসঙ্গ : বন্দী নিরাপরাধ, নির্দোষ ইহা প্রমাণ করিবার জন্য আবস উপরোক্ত মন্তব্যের অবতারণা করিয়াছিলেন।

ব্যাখ্যা : বন্দীর প্রকৃত পরিচয় জানিতে পারিয়া খলিফার দরবারে তাঁহাকে নিরপরাধ প্রমাণ করিবার জন্য আব্বস প্রকৃত সত্য বিষয় প্রকাশ করিলেন। সেই ব্যক্তি কিভাবে আশ্রয় প্রদান করিয়া প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন এবং যথাযথ সম্মানের সহিত নিজ নগরে ফিরিয়া যাইবার সুব্যবস্থা তাহা নিবেদন করিলে। বন্দীকে যখন তিনি মুক্ত করিয়া গৃহে ফিরিয়া যাইবার প্রস্তাব জানাইলেন তখন মুক্তিদাতার প্রাণ সংশয়ের কথা ভাবিয়া তিনি সেই প্রস্তাবে রাজী হইলেন না। এইরূপ দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক ব্যক্তি কখনই দুরাচার হইতে পারেন না। অসৎ, কুপ্রবৃত্তির লোকের চক্রান্তের শিকার হইয়াছেন বন্দী।

প্রশ্ন ৩২। টীকা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (জন্ম ১৮২০ – মৃত্যু ১৮৯১)

উত্তর : ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভগবতী দেবীর সন্তান ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। দারিদ্র্যের মধ্য দিয়া বাল্য ও কৈশোর জীবন অতিবাহিত করিয়াছেন। গ্রামের পাঠশালার পাঠ শেষ করিয়া মাত্র নয় বৎসর বয়সে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন। অধ্যয়নস্পৃহা ও প্রতিভাবলে তিনি ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি লাভ করেন। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটান কলেজ বর্তমানে বিদ্যাসাগর মহাবিদ্যালয় নামে পরিচিত। তাঁহারই প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইন

Leave a Reply