Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-3| ধূলামন্দির

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-3| ধূলামন্দির প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-3| ধূলামন্দির এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (Ass. MEDIUM)

SUBJECTSLink
EnglishClick Here
অসমীয়াClick Here
বাংলাClick Here
বিজ্ঞানClick Here
সমাজ বিজ্ঞানClick Here
हिंदी ( Elective )Click Here
ভূগোল (Elective)Click Here
বুৰঞ্জী (Elective)Click Here

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-3| ধূলামন্দির

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-3| ধূলামন্দির Solutions for All Subjects, You can practice these here.

গোট-৫  খ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

কবির পরিচয় : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতার (কলকাতার) জোড়াসাঁকো অঞ্চলের বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালের ৭ মে তারিখে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহার পিতার নাম ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের মাতার নাম ছিল সারদা দেবী। ভারতীয় মনষী হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। বাংলা সাহিত্যের এমন কোন দিক নাই যে রবীন্দ্র প্রতিভা প্রতিফলিত হয় নাই। প্রথমতঃ তিনি কবি। বিশ্বকবি নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, গান চিত্রকথা প্রতিটি শাখাতেই কবির হাতের ছোঁয়া লাগিয়াছিল।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে ভারতবাসী হিসাবে সাহিত্যে সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার পান। কবির কাব্য গ্রন্থের মধ্যে খেয়া, সোনারতরী, পূরবী, গীতাঞ্জলি, মানসী, গীতালি অন্যতম, কবি ১৯৪১ সালের ৭ আগষ্ট ৮০ বৎসর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 

প্রশ্ন ১। শব্দার্থ লিখ : 

মুক্তি— উদ্ধার। দেবালয়- মন্দির। আরাধনা— উপাসনা। শুচি— ময়লাহীন। ভজন— ভজন করা। প্রভু— ঈশ্বর। ঘর্ম— ঘাম। সংগোপনে — আড়ালে। বসন- কাপড়। বাঁধা— বন্ধন । 

প্রশ্ন ২। শুদ্ধ উত্তরটি বাছিয়া বাহির কর। 

(ক) প্রকৃত পক্ষে দেবতার আবাস কোথায় ?

(১) দেবালয় 

(২) মন্দির 

(৩) সর্বত্র 

(৪) কর্মের মধ্যে। 

উত্তর : সর্বত্র। 

(খ) ঈশ্বর কার কাছে বাঁধা থাকেন? 

(১) জীবের কাছে 

(২) সৃষ্টির কাছে 

(৩) পূজারির কাছে 

(৪) পূজার কাছে। 

উত্তর : সৃষ্টির কাছে।

(গ) কবির মতে প্রকৃত ধর্ম কি?

(১) সাধনা 

(২) পূজার্চনা 

(৩) কর্ম 

(৪) মন্ত্রপাঠ। 

উত্তর : কর্ম। 

(ঘ) ঈশ্বরের দুহাতে কি লেগে থাকে বলে কবি বলেছেন? 

(১) ধুলা 

(২) চন্দন 

(৩) ফুল 

(৪) মাটি।

 উত্তর : ধুলা। 

(ঙ) কবি পূজারিকে কি ছেড়ে ধুলার পরে আসতে বলেছেন? 

(১) ফুলের ডালি 

(২) বস্ত্র 

(৩) ধ্যান 

(৪) শুচিবসন। 

উত্তর : শুচিবসন। 

প্রশ্ন ৩। বাক্য রচনা করো : 

আরাধনা —ভক্ত মন্দিরে মন্দিরে দেবীর আরাধনা করেন।

সৃষ্টি বাধন —প্রভু বা ঈশ্বর সকল সৃষ্টির কাছে সৃষ্টি বাধনে বাঁধা থাকেন।

 ফুলের ডালি – ঈশ্বরের প্রকৃত পূজার জন্য ফুলের ডালির দরকার হয় না।

ধুলাবালি – প্রকৃত পূজারী কর্মে মধ্যে ধুলা-বালি মাৰিয়া থাকে।

প্রশ্ন ৪। শূন্যস্থান পূর্ণ করো :

(ক)_______ দেবালয়ের কোনে কেন আছিস ওরে। 

উত্তর : রুদ্ধদ্বারে। 

(খ) কাহারে তুই পূজি ______।

উত্তর : সংগোপনে।

(গ) তাঁর সাথে এক হয়ে ঘর্ম পড়ুক ঝরে। 

উত্তর : কর্মযোগে।

(ঘ) আপনি প্রভু______প’রে বাঁধা সবার কাছে।

 উত্তর : সৃষ্টিবাঁধন।

(ঙ) ছিডুক বস্ত্ৰ লাগুক_______।

উত্তর : ধুলাবালি। 

প্রশ্ন ৫। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। 

(ক) ধুলামন্দির কবিতার কবি কে? 

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

(খ) কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ? 

উত্তর : ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের। 

(গ) প্রকৃতপক্ষে দেবতার বা ঈশ্বরের বাস কোথায়? 

উত্তর : সর্বত্র। রৌদ্রে, জলে, শশি তারকায় ও তপনে।

(ঘ) ভক্তেরা ভজনা বা পূজার্চনা করেন কেন? 

উত্তর : নিজের মুক্তির জন্য।

(ঙ) প্রকৃত ধর্ম কি? 

উত্তর : কর্ম করিয়া যাওয়া, ফলের আশা না করিয়া।

(চ) কবির মতে দেবতা আসলে কোথায় থাকেন? 

উত্তর ঃ রৌদ্রে জলে, আছেন সবার সাথে। কর্মী মানুষের কাজের মধ্যে আছেন।

(ছ) ঈশ্বর বা প্রভু কাহার নিকট বাঁধা থাকেন? 

উত্তর : সৃষ্টির কাছে।

প্রশ্ন ৬। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) কবিতায় কবি ভগবান বা দেবতাকে কোথায় পাওয়া যেতে পারে বলে প্রকাশ করেছেন? 

উত্তর : কবিতায় ভগবান বা দেবতাকে কোন মন্দির বা দেবালয়ে পাওয়া যায়না বলিয়াছেন। ঈশ্বর বা ভগবান দেবালয় বা মন্দির ছাড়িয়া খাটিয়া খাওয়া মানুষের মধ্যে থাকেন। পাথর ভাঙ্গা মজুরের মত বার মাস রৌদ্রেজলে ঈশ্বর ও থাকেন। খাটিয়া খাওয়া মানুষের মতো তাঁহার দুই হাতেও ধুলা লাগিয়া আছে।

(খ) কবির মতে মুক্তির উপায় কি বর্ণনা কর। 

উত্তর : কবির মতে মুক্তি বলিয়া কোন কিছু নাই, মুক্তি কোথাও পাওয়া যায় না। কারণ দেবতা নিজেই মুক্ত নহেন। প্রভু বা ঈশ্বর নিজেই তাহার সৃষ্টির কাছে বাঁধা পরিয়া আছেন এই তিনি পূজা, ধ্যান ফুলের ডালি ছাড়িয়া শুচিবসন ছাড়িয়া কর্মী মানুষের সহিত কাজের মধ্য দিয়া। ধর্ম কড়াইতে বলিয়াছেন। তাহাতেই মুক্তি আছে বলিয়া কবি অভিমত পোষণ করিয়াছেন।

(গ) কর্মযোগ বলতে কি বুঝায়? কর্মের প্রকৃত অর্থ কি? [M.Q] 

উত্তর : পৃথিবীতে সৃষ্ট সকল প্রকার জীবের, সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মঙ্গল বে কাজের মাধ্যমে সমাধা করা যায় সেই কর্মধারাকেই কর্মযোগ বলা যায়। অপরের মঙ্গ সাধনই মানুষের কর্ম হওয়া উচিত। ধর্মই হইল কর্মের প্রকৃত অর্থ। যে কর্মের মধ্যে সর্বজীবের মঙ্গল সাধন হয় তাহাই প্রকৃত ধর্ম।

(ঘ) রুদ্ধ দেবালয়ে দেবতা থাকেন কি? কেন ? 

উত্তর : রুদ্ধ দেবালয়ের কোনে কবির মতে কোন দেবতা থাকেন না। দেবতা বা ঈশ্বরের প্রকৃত অবস্থান সৃষ্টির মঙ্গল কর্মের মধ্যে। অন্ধকারে দেবালয়ের কোনে সংগোপনে লুকাইয়া পূজা-আরাধনা করার কোন স্বার্থকতা নাই। কারণ কোন দেবালয়ে দেবতা বা ঈশ্বর থাকেন না। কবির মতে মানস চক্ষু দিয়া দেখিলে ঈশ্বরকৈ পাওয়া যায় কর্মী মানুষের কাজের মধ্যে লীন অবস্থায়।

(ঙ) কবির মতে দেবতা প্রাপ্তির প্রকৃত উপায় কি? 

উত্তর : জীবরূপেই শিব। জীবকে পূজা করিলেই দেবতা বা শিব প্রাপ্তি ঘটে। ‘শিব’ শব্দের অর্থ মঙ্গল। কবির মতে দেবতা প্রাপ্তির প্রকৃত উপায় হইবে বিশ্বের সকল জীবের প্রতি দয়া, মায়া এবং সেবাধর্ম পালন করা। শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গেই ঈশ্বর বাস করেন। তাই কর্মই ধর্ম। কোন মানুষ ছোট নহে সকলেই সমান। মানুষকে ঘৃণা করা অমূলক।

প্রশ্ন ৭। ‘ধুলামন্দির’ কবিতায় কবি কী সব পড়ে থাকতে বলছেন এবং কাকে বলছেন? 

উত্তর : ভজন, পূজন, সাধন এবং আরাধনা পড়ে থাকতে বলিতেছেন। মন্দিরের ভক্ত পূজারিকে উদ্দেশ করিয়া কৰি এই কথা বলিয়াছেন। 

প্রশ্ন ৮। ভক্ত কোথায় লুকিয়েছিল? 

উত্তর : দেবালয়ের কোণে। 

প্রশ্ন ৯। ‘অন্ধকারে লুকিয়ে আপন মনে।’ – এখানে যে অন্ধকারে লুকিয়েছিল? এটি কোন কবিতার অংশ?

উত্তর : দেবতার ভক্ত অন্ধকারে লুকাইয়া ছিল। ইহা ‘ধূলামন্দির’ কবিতার অংশ। 

প্রশ্ন ১০। ‘দেবতা নাই ঘরে।’ উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছে? 

উত্তর : উক্তিটি কবি দেবতার ভক্তের উদ্দেশ্যে করিয়াছেন। 

প্রশ্ন ১১। দেবতা নাই ঘরে।’ —উক্তিটি কোন কবিতার অংশ? কবির মতে দেবতা কোথায় গিয়েছেন? এই কবিতার কবি কে ?

 উত্তর : উক্তিটি ‘ধুলামন্দির’ কবিতার অংশ। কবির মত অনুসারে দেবতা মাঠে গিয়াছেন, যেখানে চাষা মাটি ভাঙিয়া চাষ করিতেছে। এই কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

প্রশ্ন ১২। কবির মতে দেবতা আসলে কোথায় থাকেন? 

উত্তর : কবির মত অনুসারে দেবতা রৌদ্রজলে সবার সঙ্গে এক হইয়া বিরাজ করেন।

প্রশ্ন ১৩। প্রভু বা দেবতা বাঁধা পড়েছেন কোথায় ? 

উত্তর : সৃষ্টিবাধন করে দেবতা বাঁধা পড়িয়াছেন। 

প্রশ্ন ১৪। কবি দেবতার ভক্তকে ডাক দিয়ে কী বলেছেন?

 উত্তর : দেবতার ধ্যান, দেবতার পূজার ফুলের ডালি ফেলিয়া ভক্তকে কর্মযোগে সামিল হইতে বলিয়াছেন।

ক্লাস 9 বাংলা প্রশ্নের উত্তর

S.L. No.Group A সূচীপত্র
পাঠ ১গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
পাঠ ২খাই খাই
পাঠ ৩ধূলামন্দির
পাঠ ৪কবর
পাঠ ৫মনসামঙ্গল
পাঠ ৬প্রত্যুপকার
পাঠ ৭ছুটি
পাঠ ৮ডাইনী
পাঠ ৯পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম
পাঠ ১০অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা
পাঠ ১১লড়াই
পাঠ ১২আমরা
পাঠ ১৩আগামী
পাঠ ১৪আত্মকথা
পাঠ ১৫ভারতবর্ষ
পাঠ ১৬ব্যাকরণ
পাঠ ১৭রচনা
S.L. No.Group B সূচীপত্র
বৈচিত্রপূর্ণ আসাম
পাঠ ১আহােমগণ
পাঠ ২কাছাড়ের জনগােষ্ঠী
পাঠ ৩কারবিগণ
পাঠ ৪কোচ রাজবংশীগণ
পাঠ ৫গড়িয়া, মরিয়া ও দেশীগণ
পাঠ ৬গারােগণ
পাঠ ৭সাঁওতালগণ
পাঠ ৮চা জনগােষ্ঠী
পাঠ ৯চুটিয়াগণ
পাঠ ১০ঠেঙাল কছারিগণ
পাঠ ১১ডিমাসাগণ

রচনামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১৫। ধুলা মন্দির কবিতার সারাংশ লিখ। 

উত্তর : আধ্যাত্মবাদী মানুষের মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা আছে যে, মন্দির ও দেবালয়ে দেবতা বাস করেন। তাহাদের উদ্দেশ্য হইল ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করা। এইরূপ মানুষের ঈশ্বর প্রাপ্তির প্রধান উপায় হইল মন্দিরে পূজার মাধ্যমে দেবতার ভজন, পূজার্চনা করা এবং আরাধনা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ঈশ্বর সবত্রই বিরাজমান। সকল বস্তুতেই ঈশ্বর বর্তমান আছেন। ঈশ্বর কোন গণ্ডীর মধ্যে বাধা থাকেন না। তাহার ব্যপ্তি আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য, জল, স্থল সকলের মধ্যে। সকল খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে, সর্বজীবে তিনি অবস্থান করেন। তাই তাহার দুইহাতে কর্মের চিহ্ন বর্তমান আছে। রুদ্ধদ্বার দেবালয়ে ফুল, চন্দন- ধুপ দিয়া পূজার কোন যৌক্তিকতা নাই। কারণ ঈশ্বর নিজেই নিজের সৃষ্টির নিকট বাধা পড়িয়া আছেন। দেবালয়ের অন্ধকার কোঠায় দেবতার সন্ধান করা নিষ্ফল। শ্রমজীবী মানুষের কাজের মধ্যে ঈশ্বর লীন হইয়া আছেন। কবি অন্তদৃষ্টি দিয়া অনুভব করিয়াছেন যে কর্মই ধর্ম, কর্ম করিয়া ঘর্ম ঝরাইতে পারিলেই ঈশ্বরের কৃপা লাভ করা সম্ভব।

প্রশ্ন ১৬। কর্মের মধ্যে দিয়ে দেবতার সান্নিধ্য পাওয়া যায়— কথাটির মূল ভাব আলোচনা কর। 

উত্তর : জগৎ কর্মময়। জগতের সকলেই কিছু না কিছু কর্মে লিপ্ত আছে। দেবতা নিজেও খাঁটিয়া খাওয়া মানুষের সহিত কাজে ব্যস্ত। কারণ তাহার দুই হাতে কাজের চিহ্ন বর্তমান। তাঁহার দুইহাতে ধুলা বালি লাগিয়া আছে। কবির মতে শূন্য দেবালয়ের কোনে ভজন পূজন, আরাধনা লইয়া ব্যস্ত থাকা নিরর্থক। কারণ অন্তদৃষ্টি নিয়া অনুভব করিলে দেখা যায়, দেবতা দেবালয়ে থাকেন না। তিনি আছেন যেথায় মাটি চরিয়া চাষা চাষ করিতেছে, পাথর ভাঙ্গিয়া শ্রমিকেরা বারমাস রৌদ্রে জলে থাকিয়া সকলের সহিত কাজে ব্যস্ত হইয়া আছেন তাহার দুই হাতে ধুলাবালি লাগিয়া আছে। তাই বুঝা যায় কর্মের মধ্যেই দেবতার সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। দেবালয়ে পূজা করিলে ধর্ম হয় না। কৰ্মই হইল ধর্ম। 

প্রশ্ন ১৭। ‘ধুলামন্দির’ কবিতার মূলভাব ব্যক্ত করো। [M.Q.] 

উত্তর : বুদ্ধিহীন মানুষের ধারণা ভগবান বা দেবাতার বাসস্থান দেবালয় মন্দির। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দেবালয়ে দেবতা থাকেন না। তিনি আছেন রাস্তায় গায়ে ধুলাবালি মাখা শরীরে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে। তাঁহার দুই হাতে ধুলাবালি মাখিয়া আছে। তিনি রৌদ্রে পুড়িয়া জলে ভিজিয়া যাহারা সারা বৎসর মাটি চাষ করিয়া রাস্তার পাথর ভাঙ্গিয়া অনবরত

কাজ করিয়া চলিয়াছে তাহাদের মাঝে। পূজারি দেবালয়ে অবসন পড়িয়া ফুলের ডাল হাতে লইয়া রুদ্ধদ্বারে পূজায় ব্যস্ত। কিন্তু কবি পূজারিকে দেবালয়ে না থাকিয়া লোকালয়ে বাহির হইয়া আসিতে আহবান জানাইয়াছেন। ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান। তিনি মন্দিরের চারি দেওয়ালে আবদ্ধ থাকেন না। কবি দেবালয়ে পূজার মাধ্যমে মুক্তি চাহেন না তিনি চান কর্মের মধ্য দিয়া মুক্তি। ধুলিমাখা হাতে কর্মযোগে ধর্ম ঝরানোর মাধ্যমেই ঈশ্বর প্রাপ্তি সম্ভব। অন্ধকারে দেবালয়ের কোনে দেবতার সন্ধান করা নিষ্ফল। ভগবানের ব্যাপ্তি পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুর মধ্যে। প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে ভগবানের মহিমা পরিব্যাপ্ত।

প্রশ্ন ১৮। ‘দুলামন্দির’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। 

উত্তর : ধুলা মন্দির কথার অর্থ হইল পৃথিবীতে সহস্র সহস্র শ্রমজীবী মানুষের ধুলিময় কর্ম মন্দির, চাষিরা মাটি চাষ করে। মাটিতেই তাহাদের কাজ। সর্বদা তাহাদের হাতে ধূলাবালি, ময়লা লাগিয়া থাকে। পথের মজুর পাথর ভাঙ্গিয়া রাস্তা তৈরীর কাজ করে তাহাদেরও শরীর ধুলাবালিতে পূর্ণ। ঈশ্বর প্রকৃতই বুঝিতে পারেন যে কর্মের মধ্য দিয়া যাহারা মানুষের সেবা করে ভগবানের সৃষ্টিকে সেবা করে তাহারাই ধন্য। মন্দির, দেবালয়ে শুচিবসন পড়িয়া যাহারা রুদ্ধদ্বারে ফুলমালা চন্দন দিয়া দেবতার পূজা করেন তাহার মধ্যে মানব সেবার গন্ধমাত্র নাই। তাহা কেবল নিজ কল্যাণের জন্যই করেন। কারণ মন্দির দেবালয়ে ভগবান থাকেন না। তিনি থাকেন মানুষের মধ্যে কর্মের আদর্শে। ভগবানের হাতেও ধুলাবালি লাগিয়া থাকে। মানুষের জন্ম ধুলাতেই আবার মৃত্যুর পরও তাহাদের দেহ ধুলায় মিলিয়া যায়। এই দিক দিয়া বিচার করিলে কবিতাটি নামকরণ ‘বুলামন্দির’ সার্থক হইয়াছে।

 প্রশ্ন ১৯। ব্যাখ্যা লিখ : 

(ক) রৌদ্রে জলে আছেন সবার সাথে, ধুলা তাহার লেগেছে দুই হাতে- 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি কবি রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘ধুলামন্দির’ নামক কবিতার অংশ বিশেষ। উদ্ধৃত অংশে কবি ঈশ্বরের অবস্থান কোথায় তাহাই বিশেষভাবে ব্যক্ত করা হইয়াছে। কবির মতে ঈশ্বর বা দেবতা কোন মন্দির-মসজিদে থাকেন না তিনি থাকেন তাহার সৃষ্টির মধ্যে। কিছু বিভ্রান্ত মানুষ মন্দির বা দেবালয়ে দেবতার সন্ধান করিয়া থাকেন। দেবালয়ের অন্ধকোঠার মধ্যে ভগবানের পূজা করার কোন যৌক্তিকতা নাই। মন্দিরের অন্ধকার কুঠরিতে দেবতার সন্ধান করা নিষ্ফল। কারণ দেবতা আছেন আপামর খাটিয়া খাওয়া মানুষের অক্লান্ত কর্মের মধ্যে। কবির মতে ভগবান তাঁহার সৃষ্টির অর্থাৎ মানুষের সারাদিনের কর্মের মধ্যে তিনি বিরাজ করিতেছেন। মানুষ চক্ষু দিয়া দেখিলে দেখা যায় ঈশ্বরের হাতেও তাহার কর্মের চিহ্ন দৃশ্যমান। তাহার দুইহাতে ধুলাবালি লাগিয়া আছে।

(খ) “নয়ন মেলে দেখ দেখি তুই চেয়ে— দেবতা নাই ঘরে।”

 উত্তর : উদ্ধৃত অংশটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ধুলামন্দির’ কবিতা হইতে সংকলিত হইয়াছে। এই অংশে কবি বলিতে চাহিয়াছেন যে অন্তদৃষ্টি দিয়া অনুভব করিলে দেখা যায় ঈশ্বর দেবমন্দিরে থাকেন না, তিনি থাকেন সাত সহ্যা খাটিয়া যাওয়া দিন মজুর, শ্রমিক চাষিদের কাজের মধ্যে ভগবান বিরাজ করেন। কিন্তু ভক্ত পূজারী মন্দির, নির্মাণ করাইয়া ভজন-পূজন ও আরাধনার মধ্যে ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করিয়া প্রসাদ লাভ করিতে চাহেন। তাহাদের এই ধারণা অযৌক্তিক কারণ মন্দির দেবালয়ে, প্রকৃত দেবতা থাকেন না ঈশ্বর সর্বত্রই বিদ্যমান। কর্মযোগে কর্ম ঝরাণোর মধ্যেই ভগবান প্রাপ্তি সম্ভব। মানুষের মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা যে দেবতা বা ঈশ্বর দেবালয় বা মন্দিরে বাস করেন। কিন্তু সত্যিকারের অন্তদৃষ্টি দিয়া চাহিলে দেখা যায় ভগবান বা ঈশ্বর কোন ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে মন্দিরের চারি দেওয়ালে আবদ্ধ হইয়া থাকেন না। তিনি সর্বত্রই ব্যাপ্ত। মানুষের মাঝেই তাহার বাস। ইহাতে কোন সংশয় নাই। মানুষের দৈনন্দিন কর্মের মধ্যে তিনি আবদ্ধ হইয়া আছেন।

(গ) “আপনি প্রভু সৃষ্টির্বাধন পরে বাঁধা সবার কাছে।” 

উত্তর : আলোচ্য কবিতাংশটি বিশ্বকবি রচিত ‘ধুলামন্দির’ নামক কবিতা হইতে উৎকলিত হইয়াছে। উদ্ধৃত অংশটিতে কবি বলিতেছেন যে এই বিশ্ব প্রকৃতি এক আশ্চর্য নিয়মে বাঁধা পড়িয়া আছে। সৃষ্টি কর্তা যাহাই সৃষ্টি করিয়াছেন, তাঁহার সৃষ্টির মধ্যে তিনি মনে প্রাণে আবদ্ধ হইয়া আছেন। সৃষ্টি কর্তা তাহার সৃষ্টি হইতে দূরে না। তাহার সৃষ্টির পাশে পাশে থাকিয়া তাহাদের রক্ষা করিয়া চলিয়াছেন। প্রভু পৃথিবীতে শ্রমজীবী মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন। তাহার বিশেষ প্রয়োজনে। এই প্রয়োজন সিন্ধ করার জন্য সৃষ্টি কর্তা তাহার সৃষ্টির মধ্যে বিলীন হইয়া আছেন। প্রভু কখনও তাহার সৃষ্টি হইতে ছিন্ন হইতে পারেন না। তাহার সৃষ্টির মধ্যেই তিনি মুর্খ হইয়া আছেন। তাই বলা যায় যে যাহা জীব তাহাতেই শিব, সুন্দর। 

(ঘ) ‘রাখোরে ধ্যান, থাকরে ফুলের ডালি, ছিডুক বন্ধ নাকে ধুলাবালি।’ 

উত্তর : আলোচ্য অংশটি কবি রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘খুলামন্দির’ কবিতা হইতে চয়ন করা হইয়াছে। উদ্ধৃত অংশে কবি মন্দিরের চারি দেওয়ালে আবদ্ধ পূজার্চনায় রত পূজারিকে তাহার শুচিবস্ত্র ছাড়িয়া ত্যাগ করিয়া ধুলার পরে চলিয়া আসিতে বলিয়াছেন। কোন মন্দিরে দেবালয়ে ভজন, পূজন আরাধনায় দেবতা কখনও সন্তুষ্ট হন না। তাই বিভ্রান্ত পূজারি তাহার ধ্যান ছাড়িয়া তাহার পূজার ফুলের ডালি ত্যাগ করিয়া বাস্তবে ধুলামাখা কর্মযোগী শ্রমিকদের সহিত আসিয়া মিশিতে বলিয়াছেন। কারণ দেবতা মন্দিরে থাকেন না। প্রকৃত দৃষ্টি ভক্তি দিয়া লক্ষ্য করিলে দেখা যায় দেবতা বা প্রাণের ঠাকুর রাস্তায় পাথর ভাঙ্গিয়া। যে শ্রমিক রৌদ্রে পুড়িয়া বৃষ্টিতে ভিজিয়া বারোমাস কাজ করিতেছে এবং সারা বৎসর চাষিরা তাহাদের চাষের কাছে মাটিতে কাজ করিয়া ধুলাবালি মাখিয়া আছেন ঠিক কর্মযোগী মানুষের মত ঈশ্বরের দুই হাতে মুলাবালি লাগিয়া আছে। পূজারী যেন তাহার শুচিবস্ত্র ত্যাগ করিয়া ধুলিমাখা ছিন্নবস্ত্র পরিধান করিয়া ধুলিমাঝে চলিয়া আসেন।

প্রশ্ন ২০। তাৎপর্য লেখো : 

(ক) ধুলা তাঁহার লেগেছে দুই হাতে। 

উত্তর : ভগবান জীব সৃষ্টি করিয়াছে তাহার মহান উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। প্রতিটি জীবের মধ্যে ভগবান বিরাজমান। ঈশ্বর তাহার সৃষ্টির মধ্যে মূর্খ হইয়া আছেন। কোন মন্দির-মসজিদে দেবতা থাকেন না। কোন বিভ্রান্ত মানুষ তাহাকে মন্দির দেবালয়ে পূজার্চনার মাধ্যমে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করিতে চাহেন কিন্তু তাহার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা নাই। ঈশ্বর তাহার সৃষ্টির মধ্যে কর্মযোগী খাটিয়া খাওয়া মানুষের মধ্যে ধুলিমাখা হাতে মিশিয়া আছেন। কর্মই জগতের মহান ধর্ম। তাই ঈশ্বরও কর্মযোগী মানুষের সহিত কাজ করিয়া চলিয়াছেন। তাই তঁাহার দুই হাতে ধুলা-মাটি বালি লাগিয়া আছে।

 (খ) মুক্তি? ওরে মুক্তি কোথায় পাবি, মুক্তি কোথায় আছে?

 উত্তর : এই পৃথিবীতে জীবের মুক্তি নাই। প্রতিটি জীবকে চক্রেণর মতো ঘুরিয়া ঘুরিয়া পৃথিবীতে কর্মফল অনুসারে পুনরায় জন্মলাভ করিতে হয়। এই জীব মুক্ত নহে, প্রভু বা ঈশ্বর নিজেই মুক্ত নহে। তিনি তাহার সৃষ্টির নিকট বাঁধা পরিয়া আছেন। কোন মন্দির, দেবালয়ে ভজন, পূজন এবং আরাধনার দ্বারা পূজারী মুক্তি পাইতে পারেন না। প্রভু নিজেই মুক্ত নহেন। মুক্তি কামনা এক ভ্রম মাত্র বুদ্ধিমান মানুষের উচিত তাঁহাদের মনের ভ্রম ছিন্ন করিয়া বাস্তব জীবনে পদার্পণ করা। প্রতিটি জীব সেবা ধর্মের মধ্য দিয়া মনের . তৃপ্তি পাইতে পারেন। কারণ কর্মই ধৰ্ম।

 (গ) পাথর ভেঙ্গে কাটছে যেথায় পথ, খাটছে বারো মাস। 

উত্তর : প্রতিটি শ্রমজীবী কর্ম প্রবণ মানুষই প্রকারন্তরে ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করিতে পারে, কারণ কর্ম যে ধর্ম। শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস। ঈশ্বর কখনও মন্দির দেবালয়ে পূজা পাইতে চাহেন না। তিনি চান কর্মের মধ্য দিয়া তাঁহার আরাধনা। কারণ ঈশ্বর নিজেও কর্মী মানুষের সহিত লীন হইয়া আছেন। তাহার হাতে কাজের চিহ্ন বর্তমান। তাহার দুই হাতে ধূলিবালি লাগিয়া আছে। পাখর ভাঙ্গিয়া যাহারা বৌদ্রে, পুড়িয়া জলে ভিজিয়া বারোমাস খাটিতেছে তাহারাই কর্মযোগী। তাহাদের কর্মই ধর্ম। মন্দিরের পূজা উপাসনা কোন ধর্ম নহে।

প্রশ্ন ২১। টীকা লিখ : 

(ক) মন্দির :পূজার্চনা এবং ঈশ্বরের আরাধনার নিমিত্ত ইট-কাঠ-পাথর দ্বারা তৈরি ঘরকে মন্দির বা দেবালয় বলে। ভক্তপ্রাণ পূজারি মুক্তি লাভের আশায় মন্দিরে, ফুল- মানা-চন্দন, ধান-দূর্বা, তিল-তুলসি পাতা সহকারে দেবালয়ে নিত্য আরাধনা করেন। পূজারীর পূজার উপকরণ ছাড়াও বাদ্যযন্ত্র হিসাবে শঙ্খ, ঘণ্টা, করতাল, কাঁসার তৈরী বাদ্য যন্ত্র ব্যবহার করিয়া থাকেন। কিন্তু অন্তদৃষ্টি দিয়া দেখিলে কোন দেবতা বা ঈশ্বর মন্দিরে বা দেবালয়ে থাকেন না কারণ তিনি নিজেই সৃষ্টির কাছে নিজেই বাঁধা পরিয়া আছেন। 

(খ) মুক্তি : মুক্তি শব্দের অর্থ হইল উদ্ধার বা সিদ্ধি লাভ। প্রকৃতপক্ষে মুক্তি বলিয়া জগতে কিছুই নাই। স্বয়ং ভগবানও মুক্ত নহেন। জীব তাহার কামনা বাসনার চক্রে পরিয়া বারবার পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন। হিন্দুধর্মে জন্মান্তর বাদ মানিয়া লইয়াছে। তাই মানুষ মুক্তির জন্য যতই চেষ্টা করে না কেন তাহার মুক্তি নাই। পরম আত্মার মুক্তি নাই। ঈশ্বর তাঁহার সৃষ্টির কাছে সর্বদা বাঁধা থাকেন।

 (গ) কর্মযোগ : এই পৃথিবীতে কর্মই ধর্ম। শ্রীশ্রীগীতায় তাহাই বর্ণনা করা হইয়াছে। মানুষ কর্মের মধ্য দিয়া বাঁচিয়া থাকে। মানুষ জীবনে তাহার কর্মের ফল ভোগ করিয়া থাকে। ভাল কর্মের ভাল ফল, খারাপ কর্মের খারাপ ফল প্রাপ্তি হয়। প্রকৃতকর্মী তাহারাই যাহারা পরের উপকারার্থে বা পরের মঙ্গলের জন্য রৌদ্রে, জলে সারাবৎসর কাজ করেন। শ্রমজীবী মানুষই প্রকৃত কর্মী তাহাদের শ্রমেই ইহজগত উপকৃত। স্বয়ং ঈশ্বরও কোন মন্দির দেবালয়ে থাকেন না, তিনি স্বয়ং শ্রমজীবী খাটিয়া খাওয়া মানুষের সহিত কর্মে ব্যস্ত। তাহাতে কর্মের চিহ্ন বিদ্যমান। তাঁহার দুই হাতে ধুলাবালি লাগিয়া থাকে। যদিও ইহা অনুভবের বস্তু। পূজারী মন্দিরে যে পূজা করেন, তাহা তাহার আত্মতৃপ্তি নিজের লাভের জন্য করেন। তাই ভগবান মন্দিরে মসজিদে থাকেন না। তিনি সকলকে সকল শুচি বসন ছাড়িয়া, ফুলের ডালা ত্যাগ করিয়া মানুষের সহিত কর্মযোগে ধর্ম করার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানাইয়াছেন।

Leave a Reply