Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-11| লড়াই

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-11| লড়াই প্রতিটি অধ্যায়ের উত্তর তালিকায় প্রদান করা হয়েছে যাতে আপনি সহজেই বিভিন্ন অধ্যায় জুড়ে ব্রাউজ করতে পারেন এবং আপনার প্রয়োজন Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-11| লড়াই এমন একটি নির্বাচন করতে পারেন।

SEBA CLASS 9 QUESTION ANSWER (Ass. MEDIUM)

SUBJECTSLink
EnglishClick Here
অসমীয়াClick Here
বাংলাClick Here
বিজ্ঞানClick Here
সমাজ বিজ্ঞানClick Here
हिंदी ( Elective )Click Here
ভূগোল (Elective)Click Here
বুৰঞ্জী (Elective)Click Here

Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-11| লড়াই

Also, you can read the SCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of SCERT All Subject Solutions From above Links . Here we have given Class-9 Bangla Question Answer| Chapter-11| লড়াই Solutions for All Subjects, You can practice these here.

পাঠ ১১

 মৃণাল কলিতা

লেখক পরিচয় : ড° মৃণাল কলিতার জন্ম কামরূপ (গ্রাম্য) জেলার বামুন্দি অঞ্চলে। গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং নিবন্ধকার হিসাবে অসমিয়া সাহিত্যে তিনি এক বিশেষ স্থান অধিকার করিয়া আছেন। ছাত্রাবস্থা হইতেই তাহার সাহিত্য চর্চা এবং গল্পকার হিসাবে পরিচিতি। তাহার গল্পের বিষয় বৈচিত্র এবং কলা কৌশল পাঠককে মুগ্ধ করে। তাঁহার রচনায় সমাজ জীবনের বিভিন্ন ছবি এবং ব্যক্তি জীবনের বিভিন্ন সংঘাত ফুটিয়া উঠিয়াছে। বকুল ফুলের মতো’ উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি অসমিয়া সাহিত্যে মূল্যবান অবদান রাখিয়াছেন। তাঁহার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘অনুশীলন’, ‘অযান্ত্রিক, ‘মৃত্যুর সিপারে’, ‘গডফাদারর হাত ও শয়তানের মগজ’, ‘গণিতের বর্ণিল জগৎ’ ইত্যাদি রহিয়াছে। তিনি বর্তমান পাণ্ডু মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় রত।

পাঠটির সংক্ষিপ্তসার : একটি কিশোর যে নেশায় আসক্ত তাহার মানসিক জগতের ছবি ‘লড়াই’ গল্পটিতে ফুটিয়া উঠিয়াছে। কিশোরটির নাম সিদ্ধার্থ। পিতা-মাতার কলহে সে হতাশার বলি হইয়া ড্রাগসের আশ্রয় নিয়াছে। তাহার বন্ধু নির্মলের ভালবাসার স্পর্শ এবং দায়িত্ববোধ সিদ্ধার্থকে জীবনের অন্ধকার হইতে আলোকের পথে উত্তরণ ঘটাইয়াছে। নেশাসক্ত হইতে মুক্তি যেন এক অঘোষিত যুদ্ধ। নিজের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়া মানুষ নেশার কবল হইতে মুক্তি পাইতে পারে।

আলোর পথের দিশারী নির্মলকে লড়াই করিতে হইতেছে নিজের জটিল রোগের বিরুদ্ধে। হার-জিতের কথা না ভাবিয়া লড়াই চালাইয়া যাইতে হইবে, ইহাই লেখকের মূল বক্তব্য। নেশাসক্তের প্রতি সাজের যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রহিয়াছে লেখক তাহার ও ইঙ্গিত গল্পটিতে দিয়াছেন।

প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

(ক) কার ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হয়েছিল?

উত্তর : সহপাঠী প্রশান্তের ব্যাগ হইতে টাকা চুরি হইয়াছিল। 

(খ) সিদ্ধার্থদের ক্লাসের শিক্ষক কে ছিলেন?

উত্তর : মহেন্দ্র মাস্টার

(গ) নির্মল কার খোঁজে দোকানে গিয়েছিল? 

উত্তর : সহপাঠী সিদ্ধার্থর খোঁজে দোকানে গিয়াছিল।

(ঘ) সিদ্ধার্থ তার পেন্সিল-বাক্সে কি সঞ্চয় করে রেখেছিল? 

উত্তর : বাবার দেওয়া চকোলেটের কাগজ সঞ্চয় করিয়া রাখিয়াছিল। 

(ঙ) নির্মলকে কেন বহুদিনের জন্য বাইরে যেতে হয়েছিল? 

উত্তর : জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য। 

প্রশ্ন ২। নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

(ক) সিদ্ধার্থ কেন প্রশান্তের ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করেছিল?

উত্তর : দোকানদার সিদ্ধার্থকে প্রথম প্রথম টাকা ছাড়াই সিগারেট খাইতে দিয়া নেশাসক্ত করিয়াছিল। কিন্তু পরে দোকানি তাহাকে টাকা দিয়া সিগারেট কিনিতে বলায় টাকা হাতে না থাকায় সে বাধ্য হইয়া প্রশান্তর ব্যাগ হইতে টাকা চুরি করিয়া সিগারেট কিনিয়াছিল। 

(খ) কি কি কারণে সিদ্ধার্থ নেশাসক্ত হয়ে পড়েছিল?

উত্তর : সিদ্ধার্থ প্রথমে সকলের সহিত হাসি খেলায় মিলিয়া থাকিত। কিন্তু প্রতিনিয়ত মা-বাবার ঝগড়া ও তীক্ষ্ণ গালি-গালাজ তাহার কোমল হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। বাবার গৃহত্যাগ, মায়ের হাতের কোমল স্পর্শ হইতে বঞ্চিত হওয়া এসকল তাহাকে ক্রমশ রাগী ও বেপরোয়া করিয়া তোলে। নিজের দুঃখ যন্ত্রণা ভুলিতে সিদ্ধার্থর মন যখন কাহার ও স্নেহস্পর্শের জন্য কাঙাল হইয়া উঠিয়াছিল ঠিক সেই সময় দোকানি যেন তাহার সহকর্মী হইয়া তাহার হাতে নেশার বস্তু তুলিয়া দেয়। এই সমস্ত কারণে অনবধানে (অজান্তে) সে নেশাগ্রস্ত হইয়া পড়ে।

(গ) নির্মল সিদ্ধার্থকে খুঁজে কেন পানদোকানে গিয়েছিল?

উত্তর : সিদ্ধার্থ মহেন্দ্র মাস্টারের সহিত রূঢ় আচরণ করিয়াছিল। তাহার বেপরোয়া মনোভাব, স্কুলে মাঝে মাঝে অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি চারিত্রিক পরিবর্তন নির্মলকে আশ্চর্যান্বিত করিয়াছিল। তদুপরি পানদোকানে প্রায়ই সিদ্ধার্থকে দেখা পাওয়া নির্মলের মনে একধারে কৌতূহল ও সন্দেহের সৃষ্টি করিয়াছিল। কারণ দোকানিকে নির্মলের ভাল ব্যক্তি বলিয়া মনে হয় নাই। রহস্যময় দোকানটিতে সিদ্ধার্থের সঘন উপস্থিতি নির্মলকে এক জটিল ধাঁধার মধ্যে ফেলিয়া দেয়। রহস্যের গোলোক ধাঁধায় বন্ধুকে হারাইতে চায়না। তাই সিদ্ধার্থের সহিত কঠিন সত্যর মুখামুখি হইবার জন্য পানদোকানে গিয়াছিল কারণ নির্মল সন্দেহ করিয়াছিল দোকানদারের সহিত সিদ্ধার্থের কোন না কোন সম্পর্ক আছে।

(ঘ) সিদ্ধার্থ কেন প্রথমে নির্মলের মুখোমুখি হতে চায়নি ?

উত্তর : স্নেহ কাঙাল, আপন জনের করস্পর্শ হইতে বঞ্চিত সিদ্ধার্থের হৃদয় যখন বেপরোয়া, অনৈতিক কার্যে লিপ্ত তখন নির্মলের কর্তৃত্বজাত নির্দেশ ‘তোর কি হয়েছে আমাকে বলতেই হবে’ সিদ্ধার্থকে দুর্বল করিয়া তোলে। আপন জনেরা সকলেই তাহার জীবন হইতে দূরে সরিয়া গিয়াছে। নির্মলের আপনজনের মত আন্তরিকতাপূর্ণ ও কর্তৃত্বের সুর তাহাকে দুর্বল, অভিমানী করে। নির্মলের কথাগুলি যেন প্রবল প্রতিরোধের সঞ্চার করে। তাই সিদ্ধার্থ ভয় পাইয়া নির্মলের মুখামুখি হইতে চায় নাই। 

(ঙ) নির্মলের জটিল রোগের কথা জানতে পেরে সিদ্ধার্থ কি বলেছিল?

উত্তর : নির্মলের জটিল রোগের আকস্মিক খবরের প্রচণ্ড আঘাতে সিদ্ধার্থ নির্বাক নিঃস্পন্দ হইয়া গিয়াছিল। নির্মলের একান্ত অনুরোধ ‘তুই কিন্তু আর ওই পানদোকানে যাবি না’ শুনে সিদ্ধার্থর বুকটা মোচড় দেয়। সে নির্মলের হাত ধরে ঢোক গিলিয়া তাকে আশ্বস্ত করিয়া বলে, ‘আমি নিশ্চয় চেষ্টা করিব। চোখের সামনে না থাকিলেও আমার বুকের ভিতর হইতেই তুই বাধা দিবি, তাহা আমি জানি।’ সিদ্ধার্থর দুই চোখ জলে ভরিয়া উঠিয়াছিল।

প্রশ্ন ৩। ‘একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো।’ ঘটনাটি কী?

উত্তর : বেশ কয়েকদিন ধরিয়া ক্লাসের ছাত্রদের কাহারো না কাহারো ব্যাগ হইতে টাকা চুরি যাইতেছে। 

প্রশ্ন ৪। ‘তোদের পই পই করে বলেছিলাম’ —উক্তিটি কার? তিনি কী বলেছিলেন?

উত্তর : উক্তিটি মহেন্দ্র মাস্টারের। তিনি ছাত্রদিগকে পই পই করিয়া বলিয়া দিয়াছেন তাহারা যেন স্কুলে আসিবার সময় বেশি টাকা লইয়া না আসে। 

প্রশ্ন ৫। স্যার দুটো খাতা কেনার ছিল।’ —উক্তিটি কার? কাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলা হইয়াছে ? 

উত্তর : উক্তিটি প্রশান্ত নামক একটি ছাত্রের। সে মহেন্দ্র মাস্টারের উদ্দেশ্যে এই উক্তি করিয়াছে।

প্রশ্ন ৬। এই স্কুলে চোরের কোনো স্থান নেই।’ —উক্তিটি কার?

উত্তর : মহেন্দ্র মাস্টারের।

প্রশ্ন ৭। স্কুলে টাকা চুরির নালিশ কে করেছিল? তার ফল কী হয়েছিল?

উত্তর : স্কুলে টাকা চুরির নালিশ করিয়াছিল প্রশান্ত। তাহার ব্যাগ হইতে টাকা চুরি হইয়াছিল। তাহার ফলে মহেন্দ্র মাস্টার ক্লাসের সকল ছাত্রের ব্যাগ চেক করিলেন এবং সিদ্ধার্থের ব্যাগে কিছু টাকা তিনি পাইলেন।

প্রশ্ন ৮। ‘এ আমার নিজের টাকা।’ উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছে? এটি কোন পাঠ থেকে লওয়া হইয়াছে ? 

উত্তর : উক্তিটি সিদ্ধার্থের। সে মহেন্দ্র মাস্টারের উদ্দেশ্যে এই উক্তি করিয়াছে। এটি ‘লড়াই’ পাঠ হইতে গৃহীত হইয়াছে।

প্রশ্ন ১। প্রশান্তের টাকা কেন চুরি করেছিলি? -উক্তিটি কে কাকে উদ্দেশ্য করে করেছে? 

উত্তর : নির্মল সিদ্ধার্থকে উদ্দেশ্য করিয়া এই উক্তি করিয়াছে।

প্রশ্ন ১০। টাকা চুরির পর সিদ্ধার্থ কত দিন স্কুলে যায়নি?

উত্তর : এক সপ্তাহ। 

প্রশ্ন ১১। সিদ্ধার্থের বাবা কতদিন হ’ল তাদের ছেড়ে গেছেন?

উত্তর : দুইবছর।

প্রশ্ন ১২। ‘ওই বজ্জাতটা আজও স্কুলে আসেনি।’ —উক্তিটি কে কাকে উদ্দেশ্য করে করেছে?

উত্তর : উক্তিটি মহেন্দ্র মাস্টার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে করিয়াছে। 

প্রশ্ন ১৩। ‘এইগুলোর অনেক দাম।’ কে কাকে এই কথা বলেছে? এখানে কীসের দামের কথা বলা হইয়াছে? 

উত্তর : পান দোকানি সিদ্ধার্থকে এই কথা বলেছে। এখানে সিগারেটের দামের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ১৪। ‘সবাই হতবাক হয়ে চেয়ে রইল।’ –এখানে কাদের কথা বলা হইয়াছে? তারা এমন আচরণ করার কারণ কী?

উত্তর : এখানে ছাত্রদের কথা বলা হইয়াছে। ছাত্রদের ক্লাসে প্রায় ব্যাগ হইতে টাকা চুরি হয়। প্রশান্তের ব্যাগ হইতে টাকা চুরি হইলে সে মহেন্দ্র মাস্টারের কাছে নালিশ করিল। মহেন্দ্র মাস্টার ব্যাগ চেক করিয়া সিদ্ধার্থের ব্যাগে টাকা পাইলেন। সিদ্ধার্থ এই ব্যাপারে মাস্টারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হইলে সবাই হতবাক হইয়া পড়িয়াছিল।

প্রশ্ন ১৫। ‘প্রথমবার দেখে সে থতমত খেয়ে গেছিল।’ —এখানে কার কথা বলা হইয়াছে? সে কেন থতমত খেয়ে গেছিল ?

উত্তর : এখানে নির্মাণের কথা বলা হইয়াছে। প্রথমবার নির্মল সিদ্ধার্থকে দোকানের আড়ালে সিগারেট খাইতে দেখিয়া থতমত খাইয়াছিল।

প্রশ্ন ১৬। ‘দোকানদারকে নির্মলের কেন জানি মোটেই ভাল লাগে না।’ – এটি কোন পাঠ থেকে নেওয়া হইয়াছে? নির্মলের কেন দোকানদারকে ভালো লাগে না ?

উত্তর : এইটি ‘লড়াই’ পাঠ হইতে লওয়া হইয়াছে। নির্মল দোকানদারকে পছন্দ করিত না। কারণ দোকানদার সকল ছাত্রকে পর্যবেক্ষণ করে অকারণে তাহাদের মা-বাবা-বোনের সম্পর্কে নানা কথা জানিতে চায়। সেইসব কথায় দোকানদারের কোনো আন্তরিকতা থাকে না। অন্যের হাঁড়ির খবর জানিতে চাহিত বলিয়া নির্মল দোকানদারকে পছন্দ করিত না।

প্রশ্ন ১৭। নির্মল সিদ্ধার্থকে এড়িয়ে চলতো কেন?

উত্তর : সিদ্ধার্থের বেপরোয়া স্বভাবের জন্যই নির্মল তাহাকে এড়াইয়া চলিত।

প্রশ্ন ১৮। নির্মল সিদ্ধার্থের মধ্যে কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করিয়াছিল ?

উত্তর : নির্মল লক্ষ্য করিল সিদ্ধার্থ কয়মাস ধরিয়া গম্ভীর, খিটখিটে এবং বেপরোয়া হইয়া উঠিয়াছে। বন্ধুদের কাছ হইতে পালাইয়া বেড়াইতেছে। ক্লাসের পিছনের বেঞ্চিতে বসিতেছে। শিক্ষকদের দেওয়া হোমটাস্ক প্রায়ই করিতেছে না। মাঝে মাঝে স্কুল কামাই করিতেছে। এইসব পরিবর্তন নির্মল সিদ্ধার্থের মধ্যে লক্ষ্য করিয়াছে। 

দীর্ঘ উত্তর লেখো

প্রশ্ন ১। ‘তোর কি হয়েছে আমাকে বলতেই হবে সিদ্ধার্থ – নির্মণের এই কথাগুলি সিদ্ধার্থকে কিভাবে প্রভাবিত করেছিল?

উত্তর : ‘তোর কি হয়েছে আমাকে বলতেই হবে’। এরূপ অপ্রত্যাশিত কর্তৃত্বজাত নির্দেশ সিদ্ধার্থকে দুর্বল করিয়া এক অস্বস্তিকর পরিবেশে দাঁড় করাইয়া দেয়। তাহার আত্মবিশ্বাসের ভিত টলিয়া উঠে। সে যেন চুরি করিয়া ধরা পরিবার ভয়ে ভীত হইয়াছে। নির্মলের কথাগুলি যেন ভীতির ভাব প্রবল আকার ধারণ করিয়া তাহাকে গ্রাস করিবার জন্য অহরহ তাড়া করিতেছে। তাহার মত বেপরোয়া দুরন্ত ছেলে ভিতরে ভিতরে অস্থির হইয়া পড়িয়াছে। নির্মলের কথার মধ্যে সে অভিভাবকত্বের সুর কিংবা আন্তরিকতাপূর্ণ বন্ধুত্বের সুর দেখিতে পাইয়াছে যাহা তাহার পিপাসিত জীবন হইতে দূরে সরিয়া গিয়াছে? নির্মলের কথার সদুত্তর দিতে না পারার অক্ষমতা তাহার বুকের মধ্যে সঞ্চিত হইয়া নির্জন, নিসঙ্গ জীবনকে যেন চৌচির করিয়া ফেলে। নির্মলের মুখামুখি না হইবার জন্য সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করিয়া দেয় এমন কি তার আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু পানদোকানে যাওয়াও বন্ধ করিয়া দেয়।

প্রশ্ন ২। সিদ্ধার্থ কেন নিঃসঙ্গতায় ভুগছিল বুঝিয়ে লেখো। 

উত্তর : সিদ্ধার্থ শৈশব কাল হইতে মা-বাবার স্নেহস্পর্শ হইতে বঞ্চিত। দুজনের মধ্যে ঝগড়া, মা-বাবার স্নেহস্পর্শ, মমতাময় মুখের বদলে কঠিন পাথরের মত মুখ দেখিতে পাইত। সকল শিশু গল্প শুনিতে ভালবাসে, রাজকুমারের গল্প, পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়িয়া মেঘের দেশে ঘুরিয়া বেড়ানোর গল্প শুনিয়া তাহাদের কল্পনার জগৎ প্রসারিত হয়। কিন্তু সিদ্ধার্থ সে সকল হইতে বঞ্চিত হইয়া কেবল মা-বাবার তুমুল কলহে চোখের জল বিনিদ্র রাত্রি কাটাইয়াছে। তাহার আদুল মনটি ধীরে ধীরে অভিমানী হইয়া পড়ে। এর মধ্যে বাবা তাহাদের খড়িয়া গৃহত্যাগ করেন। ইহাতে তাহার দুঃখ, যন্ত্রণা বাড়িতেই থাকে। মা তাহার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া থাকেন। তাহার ভাল লাগা-মন্দ লাগা, স্কুলে যাওয়া না যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে তাহার যেন কোন মাথাব্যথা নাই। একাকীত্ব তাহার সর্বক্ষণের সহচর হইয়া উঠিল। তাহার একান্ত আপনজন বলিতে কেহ নাই। ধীরে ধীরে সে নিঃসঙ্গ ও হতাশাগ্রস্ত হইয়া পড়ে।

প্রশ্ন ৩। নির্মল কিভাবে সিদ্ধার্থকে ভুল পথ থেকে টেনে এনেছিল বিস্তারিত বর্ণনা করো।

উত্তর : সহপাঠী সিদ্ধার্থের আচরণে কয়েকমাস ধরিয়া যে পরিবর্তন দেখা দিয়াছে তাহা নির্মলের নিকট অস্বাভাবিক মনে হইয়াছে। রাগী, বেপরোয়া ও টিনিটে স্বভাবের হই সিদ্ধার্থ পড়াশুনায় মন দেয় না, ক্লাসে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে।

সিদ্ধার্থের এইরূপ আচরণ দেখিয়া নির্মল ইহার কারণ অনুসন্ধান করিল। পানদোকানে তাহার সঘন উপস্থিতি এবং দোকানের আড়ালে লুকাইয়া সিগারেট খাওয়া সে লক্ষ করিয়াছে। 

সিদ্ধার্থের খোঁজে দোকানটিতে উপস্থিত হইলে দোকানি ক্ষোভের সহিত বলিল, সে আসে নাই। নির্মল বাহিরে আসিতেই বাইকের পিছনে বসা একটি ছেলে অতর্কিতে তাহার মুখে ঘুষি মারিল। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রক্তাপ্লুত অবস্থায় সে পথেই বসিয়া পড়িল।

নাকের রক্তে নির্মলের দুই হাত লাল, সুতীব্র যন্ত্রণায় কাতর হইয়াও সে বলিল তুই যাস বলেই তো যেতেই হল”। কতখানি আন্তরিকতাপূর্ণ আপনজন হইলে এই কথাগুলি বলা যায়। নির্মলের নিকট যাইবার জন্য সিদ্ধার্থর মন ব্যাকুল হইয়া উঠিল। নির্মলের আশ্রয়ে, অবলম্বনে সিদ্ধার্থ আবেগ তাড়িত হইয়া মা-বাবার বিচ্ছেদ হইতে আরম্ভ করিয়া ড্রাগস আসক্ত হইবার করুণ কাহিনি অবলীলায় বলিতে পারিল। 

“তোকে এইসব ছাড়তে হবে’ – নির্মলের এই কথার মধ্যে সিদ্ধার্থর মনে হইল কেবল অনুরোধ নয় যেন ভালাবাসা, শাসনের মিলিত মিশ্রণ। ড্রাগস গ্রহণে অকাল মৃত্যু এবং অপরাধ জগতে মানুষ জড়াইয়া যায় শুনিয়া সিদ্ধার্থ ভাঙিয়া পড়ে। বন্ধু নির্মলের ভালবাসা এবং দায়িত্ববোধ সিদ্ধার্থকে আলোর পথে টানিয়া আনিয়াছিল ।

প্রশ্ন ৪। ‘তার মতো ছেলের কথার উত্তর দিতে না পেরে অস্বস্তিকর মৌনতায় কেবল ছটপটানোই সার’ –কথাগুলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : মানুষ চিরকাল স্নেহ, ভালবাসার কাঙাল। কিন্তু যখন সে কিশোর বয়স হইতে স্নেহ ভালবাসা হইতে বঞ্চিত হয় তখন সে অভিমানী হইয়া উঠে। স্তরে স্তরে অভিমান জমিয়া একদিন সে প্রতিবাদী হইয়া সকলের বিরুদ্ধাচরণ করিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। কিন্তু এক দরদী মন যখন কর্তৃত্ব, শাসন, ভালবাসার মিলিত মিশ্রণে সেই প্রতিবাদীকে তাহার কৃতকর্মের কৈফিয়ৎ চায় তখন সমস্ত ঔদ্ধত্য যেন শামুকের মত গুটাইয়া যায়। নির্মলের প্রশ্নের মধ্যে সিদ্ধার্থ অনুভব করিয়াছিল শাসনের সুর, কর্তৃত্ববোধ এবং ভালবাসার প্রশ্ন, তাই তাহার পক্ষে প্রত্যুত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না। নির্মলের কথায় কোমলতা আন্তরিকতার সুর অনুভব করিয়া সিদ্ধার্থ কর্কশ কঠোর কথা না বলিয়া অস্বস্তিকর মৌনতায় ছটপটাইতে লাগিল।

প্রশ্ন ৫। ‘হাসা যায় না, খেলা যায় না, ঘুমোনো যায় না, এতটাই তীব্র সেই শূন্যতার তার – দুঃখের দহন।’ কথাগুলি কার সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে বুঝিয়ে বলো। 

উত্তর : কথাগুলি সিদ্ধার্থর সম্পর্কে বলা হইয়াছে।

সিদ্ধার্থর বাবা যখন গৃহত্যাগ করিলেন তখন বাবার বিচ্ছেদ-বেদনা তাহার বুকে ভীষণ ভাবে বাজিল। নিজের সন্তানকে দুঃখ যন্ত্রণার পারাপারহীন অতল সাগরে কেন নিক্ষেপ করিলেন? কি এমন সমাধানহীন বিষয় যাহা লইয়া মা-বাবার মধ্যে তুমুল বিবাদ? এই প্রশ্নগুলি তাহাকে অস্থির করিয়া তুলিয়াছিল। গৃহত্যাগ করিবার কিছুদিন পর হইতে বাবা বিভিন্ন রকমের চকোলেট লইয়া স্কুল ছুটির পর দেখা করিতে আসিতেন। চকোলেট খাইতে গিয়া তাহার দুইচোখে জল পূর্ণ হইয়া যাইত। মাতৃস্নেহ, পিতৃস্নেহের সান্নিধ্য হইতে বঞ্চিত কিশোরের বুকে যে ব্যথা সজ্জিত হইয়াছে তাহার দুর্বিষহ যন্ত্রণায় সে কেবলই ছটপট করিতে থাকে। একবুক অসহনীয় শূন্যতায় তাহার জীবন হইতে হারাইয়া যায় হাসা, খেলা এবং ঘুমানো। চকোলেটের মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করিবার মানসিকতা যেন দুঃখের দহনে দগ্ধ হইতে হইতে অসীম শূন্যতায় বিলীন হইয়া গিয়াছে। 

প্রশ্ন ৬। সিদ্ধার্থ কিসের তাড়নায় মায়ের সোনার বালা চুরি করেছিল এবং পরে কেন তার অন্তর্ভুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছিল বুঝিয়ে বলো।

উত্তর : দোকানদারের দেওয়া সিগারেটগুলিতে তামাকের সহিত নিষিদ্ধ ড্রাগস মিশ্রিত ছিল। সিদ্ধার্থ বুঝিয়াছিল সে নেশাগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে। দোকানদার তাহাকে বলিল এখন হইতে পয়সা দিয়া তাহাকে সিগারেট কিনিতে হইবে। উপায় না পাইয়া সে মায়ের সোনার বালা চুরি করিয়া দোকানিকে দিয়া সিগারেট লইয়াছিল।

যখন সোনার বালা চুরির দায়ে পুলিশ আসিয়া তাহাদের বাড়ির কাজের মেয়েকে তুলিয়া নিয়া লক আপে পুরিয়া দেয় তখন তার অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হইয়াছিল। তাহার কৃতকর্মের পাপ একটি সরল সাধারণ নিষ্পাপ মেয়েকে অকারণে ভোগ করিতে হইতেছে। মেয়েটির করুণ মুখ বার বার সিদ্ধার্থের চোখের সামনে ভাসিতে লাগিল। সে যে চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন করিয়াছে ইহা ভাবিয়া তাহার মন অনুতাপের অনলে (আগুনে) দগ্ধ হইল। সমস্ত রাত্রি ঘুমাইতে পারিল না। তাহার ও একদিন কোমল সুন্দর মন ছিল। ভাল-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ বিচার করিবার বোধ ছিল। কিন্তু নেশার প্রতি তীব্র আসক্তিতে তাহার বোধবুদ্ধি তাহার চেতনা বিলীন হইয়া গিয়াছে।

প্রশ্ন ৭। ‘আসলে মন চাইলেই সুখী হওয়া যায় জানিস। —নির্মল কোন প্রসঙ্গে সিদ্ধার্থকে এই কথাগুলো বলেছিল? 

উত্তর : সিদ্ধার্থর অপরাধ জনিত কার্য এবং ড্রাগস আসক্তির কারণ হিসাবে পারিবারিক কারণই যে মূল সেই কথা প্রসঙ্গে নির্মল সিদ্ধার্থকে এই কথাগুলি বলিয়াছিল।

ড্রাগস সেবন করিয়া মানুষ নিজের দুঃখ-যন্ত্রণা সাময়িক ভাবে ভুলিয়া যায়। কিন্তু ইহার পরিণাম খুবই ভয়ংকর। মানুষের জীবনে অকাল মৃত্যু ঘটায় এবং ধীরে ধীরে তাহার অপরাধ জগতের দিকে টানিয়া আনে। দুঃখ-যন্ত্রণা মানুষের জীবনে থাকে। ইহাকে অতিক্রম করিবার জন্য জগতের ভাল জিনিষের মধ্যে নিজেকে মগ্ন রাখিতে হয়। যেমন ভাল বই পড়া, ভাল গান শোনা, ভাল কবিতা পাঠ, এইগুলি মনকে সুখী করে। দুঃখ-ব্যথা ভুলাইয়া দেয়, সুখী হওয়া সম্পূর্ণভাবে মনের উপর নির্ভর করে। যে কাজে নিমগ্ন থাকিলে মনে আনন্দ আসে তাহাই মানুষকে সুখী হইতে সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে সুখ-দুঃখের বাসভূমি আপন মনেই। পৃথিবীতে কত সুন্দর সৃষ্টি ছড়াইয়া আছে যেমন নদীর নিরন্তর বহমানতা। শ্যামল পর্বতের উচ্চতা, সীমাহীন আকাশের বিস্তার, চাঁদের স্নিগ্ধতার সঙ্গে সৌন্দর্য। এইগুলিকে ভালবাসিলে এবং অমূল্য জীবনকে ভালবাসিলে মনে আনন্দ আসে এবং তখনই সুখী হওয়া যায়। আনন্দ এবং সুখ একে অপরের পরিপূরক। 

প্রশ্ন ৮। লড়াই গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর : কোন বস্তুর লেবেল দেখিয়া যেমন বস্তুটি সম্পর্কে ধারণা জন্মে, তেমন কোন গল্পের নামকরণে সেই গল্পটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে পাঠকের মনে ধারণা জন্মে। আমাদের আলোচ্য গল্পটির নামকরণ করা হইয়াছে লড়াই। স্বাভাবিক ভাবেই গল্পটি পাঠ করিবার পূর্বে লড়াই যে গল্পটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় সে সম্বন্ধে আমাদের মনে ধারণার সৃষ্টি হয়।

আক্ষরিক অর্থে লড়াই হইতেছে যুদ্ধ। পাঠটিতে দেখা যায় কিশোর সিন্ধার্থ নেশাসক হইয়াছে। নির্মলের আদেশ, অনুরোধ ও উৎসাহের ফলে সে নেশাসক্ত হইতে মুক্ত হইবার জন্য, লড়াই করিবার জন্য মানসিক প্রস্তুতি লইতেছে। নিজের বিরুদ্ধে লড়াই করিতে পারিলে মানুষ নেশার কবল হইতে মুক্তি পাইতে পারে। 

গল্পটির মধ্যে আর একটি চরিত্র নির্মল। নির্মল জটিল রোগে আক্রান্ত। তাহাকে ও লড়াই করিতে হইতেছে জটিল রোগের সহিত তবে তাহার লড়াইটা স্বতন্ত্র। আমরা সকলেই জীবন যুদ্ধের এক একজন সৈনিক। জীবনে সুস্থভাবে বাঁচিয়া থাকিবার জন্য প্রত্যেককে লড়াই করিতে হয় তবে তাহার প্রেক্ষাপট বিভিন্ন। সিদ্ধার্থের লড়াই নেশামুক্ত হইবার এবং নির্মলের লড়াই রোগমুক্ত হইবার জন্য। লড়াই করিলে জয় কিংবা পরাজয় অবধারিত। কিন্তু পরাজয়ের কথা না ভাবিয়া লড়াই করিতেই হইবে।

গল্পটির দুইটি চরিত্র সিদ্ধার্থ এবং নির্মল। দুইজনেই লড়াইয়ে রত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যাইতে পারে যে গল্পটির নামকরণ যথার্থ এবং সার্থক হইয়াছে।

ক্লাস 9 বাংলা প্রশ্নের উত্তর

S.L. No.Group A সূচীপত্র
পাঠ ১গৌরাঙ্গের বাল্যলীলা
পাঠ ২খাই খাই
পাঠ ৩ধূলামন্দির
পাঠ ৪কবর
পাঠ ৫মনসামঙ্গল
পাঠ ৬প্রত্যুপকার
পাঠ ৭ছুটি
পাঠ ৮ডাইনী
পাঠ ৯পিপলান্ত্ৰি গ্ৰাম
পাঠ ১০অ্যান্টিবায়ােটিক ও পেনিসিলিনের কথা
পাঠ ১১লড়াই
পাঠ ১২আমরা
পাঠ ১৩আগামী
পাঠ ১৪আত্মকথা
পাঠ ১৫ভারতবর্ষ
পাঠ ১৬ব্যাকরণ
পাঠ ১৭রচনা
S.L. No.Group B সূচীপত্র
বৈচিত্রপূর্ণ আসাম
পাঠ ১আহােমগণ
পাঠ ২কাছাড়ের জনগােষ্ঠী
পাঠ ৩কারবিগণ
পাঠ ৪কোচ রাজবংশীগণ
পাঠ ৫গড়িয়া, মরিয়া ও দেশীগণ
পাঠ ৬গারােগণ
পাঠ ৭সাঁওতালগণ
পাঠ ৮চা জনগােষ্ঠী
পাঠ ৯চুটিয়াগণ
পাঠ ১০ঠেঙাল কছারিগণ
পাঠ ১১ডিমাসাগণ

Leave a Reply